যুক্তরাষ্ট্রে ৪ দিনের কর্মসপ্তাহ প্রস্তাব, বেতন অপরিবর্তিত রাখার পরিকল্পনা
যুক্তরাষ্ট্রে কর্মঘণ্টা কমিয়ে চার দিনের কর্মসপ্তাহ চালুর উদ্যোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। দেশটির সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স ‘থার্টি-টু আওয়ার ওয়ার্কউইক অ্যাক্ট’ নামে একটি বিল উত্থাপন করেছেন, যেখানে সপ্তাহে ৪০ ঘণ্টার পরিবর্তে ৩২ ঘণ্টা কাজের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে কর্মীদের বেতন ও অন্যান্য সুবিধা অপরিবর্তিত রাখার কথাই বলা হয়েছে এতে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, হঠাৎ করে নয়—ধাপে ধাপে তিন বছরের মধ্যে এই পরিবর্তন বাস্তবায়ন করা হবে। অর্থাৎ, বর্তমানে প্রচলিত কর্মঘণ্টা ধীরে ধীরে কমিয়ে নতুন কাঠামোয় আনা হবে, যাতে শ্রমবাজারে বড় ধরনের ধাক্কা না লাগে।
বার্নি স্যান্ডার্সের যুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির বিস্তারের ফলে আধুনিক কর্মক্ষেত্রে উৎপাদনশীলতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। কিন্তু এই বাড়তি উৎপাদনের সুফল মূলত করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর মুনাফায় প্রতিফলিত হচ্ছে, সাধারণ কর্মীরা তার ন্যায্য অংশ পাচ্ছেন না। তাই কর্মঘণ্টা কমিয়ে সেই ভারসাম্য আনার সময় এসেছে।
প্রস্তাবের সমর্থকেরা বলছেন, ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পরীক্ষামূলকভাবে কম কর্মঘণ্টার যে অভিজ্ঞতা পাওয়া গেছে, তাতে কর্মীদের মানসিক চাপ কমেছে, কাজের প্রতি মনোযোগ বেড়েছে এবং উৎপাদনশীলতাও ধরে রাখা সম্ভব হয়েছে—কখনো কখনো তা বেড়েছে বলেও দেখা গেছে। তাদের মতে, কর্মজীবন ও ব্যক্তিজীবনের ভারসাম্য রক্ষায় এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে বিষয়টি নিয়ে ভিন্নমতও কম নয়। স্বাস্থ্যসেবা, খুচরা বিক্রয়, উৎপাদন ও পরিবহন খাতের মতো শ্রমনির্ভর শিল্পগুলো এই প্রস্তাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, কর্মঘণ্টা কমে গেলে শ্রমিক সংকট তৈরি হতে পারে, অতিরিক্ত সময় কাজের জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে বেশি পারিশ্রমিক দিতে হবে, যা শেষ পর্যন্ত পণ্যের দাম বাড়িয়ে ভোক্তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রস্তাব কেবল অর্থনৈতিক হিসাব-নিকাশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বরং এটি ভবিষ্যতের কর্মসংস্কৃতি, কাজের মূল্যবোধ এবং প্রযুক্তিনির্ভর সমাজে মানুষের ভূমিকা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলছে। কর্মক্ষেত্রে মানুষের অবদান ও জীবনের মান উন্নয়নে কীভাবে ভারসাম্য আনা যায়—তা নিয়েও নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
বর্তমানে বিলটি নিয়ে কংগ্রেসে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এটি পাস হলে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্কৃতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির একটি স্কুল ডিস্ট্রিক্ট শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে কাচ ও ধাতব পানির বোতলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। বোতলগুলোকে মারামারি বা বিবাদের সময় অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে স্কুল কর্তৃপক্ষের এমন পদক্ষেপে ক্ষুব্ধ হয়েছেন অভিভাবকেরা। তাদের দাবি, এর ফলে শিশুদের বাধ্য হয়ে অস্বাস্থ্যকর প্লাস্টিকের বোতল ব্যবহার করতে হবে, যা স্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। হাওয়েল টাউনশিপ পাবলিক স্কুলস নামের ওই স্কুল ডিস্ট্রিক্ট কর্তৃপক্ষ গত বুধবার অভিভাবকদের কাছে চিঠি পাঠিয়ে ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য এই নিষেধাজ্ঞার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়। এরপরই ক্রিস্টিন বাস্টার্ডি নামের এক ক্ষুব্ধ অভিভাবক ‘চেঞ্জ ডট অর্গ’ ওয়েবসাইটে এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে একটি পিটিশন চালু করেন। ইতোমধ্যে এক হাজারেরও বেশি মানুষ এই পিটিশনে স্বাক্ষর করেছেন। বাস্টার্ডি তার পিটিশনে উল্লেখ করেছেন, প্লাস্টিকের বোতল থেকে পানিতে বিসফেনল এ (বিপিএ)-এর মতো ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ মিশে যেতে পারে, যা শিশুদের হরমোনের ভারসাম্যহীনতা ও বিকাশজনিত সমস্যা তৈরি করে। পরিবেশের ওপর প্লাস্টিকের নেতিবাচক প্রভাবের কথা তুলে ধরে তিনি আরও জানান, ধাতব ও কাচের বোতলগুলো পুনর্ব্যবহারযোগ্য হওয়ায় তা কার্বন ফুটপ্রিন্ট কমাতে সাহায্য করে। অন্যদিকে প্লাস্টিকের বোতল পরিবেশ দূষণ বাড়ায় এবং সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যকে হুমকির মুখে ফেলে। স্কুলের বোর্ড অব এডুকেশনের সভাপতি জেনিফার ওকারসন ও সুপারিনটেনডেন্ট জোসেফ আইসোলার স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে নিষেধাজ্ঞার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, ধাতব ও কাচের বোতলগুলো ভারী ও শক্ত হওয়ায় কোনো বিবাদের সময় এগুলো ছুড়ে মারলে মারাত্মক আঘাত লাগার আশঙ্কা থাকে। এ ধরনের পাত্র ব্যবহার করে অতীতে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ ও আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তাই শিক্ষার্থী ও কর্মীদের সুরক্ষায় বাড়তি সতর্কতা হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। চিঠিতে আরও সতর্ক করা হয়, কোনো শিক্ষার্থীর কাছে এমন বোতল পাওয়া গেলে তা বাজেয়াপ্ত করে স্কুল অফিসে জমা রাখা হবে এবং পরে অভিভাবকদের তা এসে নিয়ে যেতে হবে। প্রি-কিন্ডারগার্টেন থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠদানকারী এই স্কুল ডিস্ট্রিক্টের নিরাপত্তা উদ্বেগের সমাধানে বাস্টার্ডি তার পিটিশনে বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছেন। ঢালাওভাবে বোতল নিষিদ্ধ করার বদলে নির্দিষ্ট মানদণ্ড যাচাই করে নিরাপদ ধাতব ও কাচের বোতল ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই অভ্যাসের গুরুত্ব নিয়ে সচেতনতামূলক শিক্ষামূলক কর্মসূচি চালুরও দাবি জানিয়েছেন এই অভিভাবক।
আটলান্টায় কিশোর অপরাধ কমাতে ৫০ হাজার ডলারে ‘দ্য স্পট’ নামে আড্ডাকেন্দ্র বানাচ্ছে দুই শিক্ষার্থী
গাজা পরিকল্পনা নিয়ে মতপার্থক্য মেটাতে ইসরাইল সফর করবেন ট্রাম্পের জামাতা কুশনার
জর্জিয়ার জঙ্গলে ব্যাগে ফেলে দেয়া হয় নবজাতকে, চার বছর পর ডিএনএ টেস্টে শনাক্ত মা
মিসিসিপির শহর বেনোয়ার মিউনিসিপ্যাল কোর্টে বিচারক হিসেবে নিয়োগ পেয়ে আলোচনায় এসেছেন ইয়েমেনি বংশোদ্ভূত মুসলিম নারী আইনজীবী আসমা আলী। বিচারকের দায়িত্ব নেওয়ার পর তার মুসলিম পরিচয় ও হিজাবকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা এবং বিদ্বেষপূর্ণ মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ার খবরও সামনে এসেছে। তবে তার পেশাগত পরিচয় নতুন নয়। ইমিগ্রেশন আইনজীবী হিসেবে প্রায় এক দশকের অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। আসমা আলী ইয়েমেনি অভিবাসী পরিবারের সন্তান। তার নিজের আইন প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, তার বাবা-মা ১৯৭০-এর দশকে উন্নত ভবিষ্যতের আশায় ইয়েমেন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। যুক্তরাষ্ট্রেই বেড়ে ওঠা আসমা পরবর্তী সময়ে আইন পেশায় নিজের অবস্থান তৈরি করেন। আইনজীবী হিসেবে আসমার মূল কাজ ইমিগ্রেশন আইন নিয়ে। অ্যাসাইলাম, ডিপোর্টেশন প্রতিরোধ, গ্রিন কার্ড, নাগরিকত্ব, ফ্যামিলি ইমিগ্রেশন, ইমিগ্রেশন বন্ডসহ বিভিন্ন বিষয়ে তিনি মামলা পরিচালনা করেছেন। ইমিগ্রেশন কোর্ট, ইউএসসিআইএস এবং আইসিইর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মামলাতেও তিনি ক্লায়েন্টদের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। শিক্ষাজীবনেও তার পথচলা ছিল আইনকেন্দ্রিক। তিনি ২০১০ সালে বেকার্সফিল্ড কলেজ থেকে অ্যাসোসিয়েট ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি, বেকার্সফিল্ড থেকে ২০১৩ সালে ক্রিমিনাল জাস্টিসে ব্যাচেলর ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। পরে মিসিসিপি কলেজ স্কুল অব ল থেকে ২০১৭ সালে জুরিস ডক্টর ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০১৭ সালে মিসিসিপি বারে আইনজীবী হিসেবে ভর্তি হওয়ার পর আসমা ইমিগ্রেশন আইনকে পেশার প্রধান ক্ষেত্র হিসেবে বেছে নেন। বর্তমানে তিনি রিজল্যান্ড, মিসিসিপিভিত্তিক আলী অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটসের প্রতিষ্ঠাতা ইমিগ্রেশন অ্যাটর্নি। তার প্রতিষ্ঠান জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ইমিগ্রেশন মামলায় তিনি ক্লায়েন্টদের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। আইন পেশায় কাজের স্বীকৃতিও পেয়েছেন আসমা। মিসিসিপি বারের নেতৃত্ব উন্নয়ন কর্মসূচির সাবেক অংশগ্রহণকারী তিনি। তার পেশাগত প্রোফাইলে টপ ৪০ আন্ডার ৪০, আরব আমেরিকান ফাউন্ডেশনের টপ ৩০ আন্ডার ৩০ এবং মিসিসিপির ইমিগ্রেশন আইনজীবী হিসেবে বিভিন্ন পুরস্কার ও স্বীকৃতির তথ্য রয়েছে। ২০২৬ সালেও তিনি মিসিসিপির আইনি অঙ্গনে বিভিন্ন পেশাগত স্বীকৃতি পেয়েছেন। মুসলিম আইনজীবীদের সংগঠন ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব মুসলিম ল’য়ার্সের সঙ্গেও আসমা যুক্ত। একই সঙ্গে তিনি মিসিসিপি বার, আমেরিকান বার অ্যাসোসিয়েশন এবং আমেরিকান ইমিগ্রেশন ল’য়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য। বিচারক হিসেবে তার নিয়োগের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তার বড় অংশই তার ধর্মীয় পরিচয় ও হিজাবকে ঘিরে। অনলাইনে তার নিয়োগ নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য ছড়িয়ে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে সমর্থন করা ব্যক্তিরাও তার পেশাগত যোগ্যতা ও দীর্ঘ আইনজীবী জীবনের কথা তুলে ধরেছেন। তবে আসমা আলীর পেশাগত পথচলার দিকে তাকালে দেখা যায়, বিচারকের আসনে বসার আগেই তিনি মিসিসিপির আইন অঙ্গনে নিজের অবস্থান তৈরি করেছিলেন। মিসিসিপি বারের নথিতেও তার পেশাগত কর্মকাণ্ডের উপস্থিতি রয়েছে এবং ২০২৩ সালে তিনি লিডারশিপ মিসিসিপি বার কর্মসূচির অংশগ্রহণকারী ছিলেন। ইমিগ্রেশন আইনজীবী থেকে মিউনিসিপ্যাল বিচারকের বেঞ্চে আসা আসমা আলীর গল্প তাই শুধু একটি নতুন পদে নিয়োগের ঘটনা নয়। ইয়েমেনি অভিবাসী পরিবারের সন্তান হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে বেড়ে ওঠা, ক্রিমিনাল জাস্টিসে পড়াশোনা, আইন ডিগ্রি অর্জন, ইমিগ্রেশন আইনজীবী হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ এবং শেষ পর্যন্ত হিজাব পরেই বিচারকের দায়িত্ব গ্রহণ তার পেশাগত জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে উঠেছে।
২০ হাজারের লক্ষ্য, সংগ্রহ হলো ৯৩ হাজারের বেশি খাবার, ক্ষুধার্ত মানুষের পাশে যুক্তরাষ্ট্রের তরুণ স্কাউটরা
ভার্জিনিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটিতে ভোর সকালে বন্দুক হামলা, আহত পাঁচজন
জুমে ৯০০ কর্মীকে ছাঁটাই করা সেই সিইও এবার নিজেই বরখাস্ত, পদ ফিরে পেতে লড়াই
যুক্তরাষ্ট্রে ফ্যামিলি স্পন্সরশিপের নিয়ম নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। একদিকে ২০২৫ সালের ১ আগস্ট থেকে ইউএসসিআইএস ফ্যামিলি-বেসড ইমিগ্র্যান্ট পিটিশন যাচাইয়ে নতুন নির্দেশনা কার্যকর করেছে, অন্যদিকে কংগ্রেসে উত্থাপিত একটি বিল পাস হলে বাবা-মা, ভাই-বোন ও প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের স্পন্সর করার বর্তমান সুযোগের বড় অংশই বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রস্তাবিত সেই বিল এখনো আইন হয়নি। বর্তমানে প্রচলিত ফ্যামিলি স্পন্সরশিপ আইনই বহাল রয়েছে। ইউএসসিআইএস ২০২৫ সালের ১ আগস্ট ফ্যামিলি-বেসড ইমিগ্রেশন নিয়ে পলিসি ম্যানুয়ালে নতুন নির্দেশনা যোগ করে। এটি ওই তারিখে নতুন করে জমা দেওয়া আবেদনের পাশাপাশি তখন পেন্ডিং থাকা পিটিশনের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়। নতুন নির্দেশনায় ইউএসসিআইএস স্পষ্ট করেছে, ফ্যামিলি-বেসড গ্রিন কার্ডের ভিত্তি যে পারিবারিক সম্পর্ক, সেটি সত্য ও আইনসম্মত কি না তা যাচাইয়ে প্রয়োজনীয় প্রমাণ পরীক্ষা করা হবে। বিশেষ করে বিয়ের ভিত্তিতে করা পিটিশনে বৈবাহিক সম্পর্কের বৈধতা এবং আবেদনকারী সংশ্লিষ্ট ইমিগ্রেশন সুবিধা পাওয়ার যোগ্য কি না, তা গুরুত্বপূর্ণ। ইউএসসিআইএস কর্মকর্তারা প্রয়োজন মনে করলে পিটিশনার ও বেনিফিশিয়ারিকে ইন্টারভিউতে ডাকতে পারেন। ফলে নতুন নিয়মকে সব ফ্যামিলি পিটিশনের জন্য বাধ্যতামূলক ইন-পারসন ইন্টারভিউ হিসেবে ব্যাখ্যা করা ঠিক নয়। বরং কোন পরিস্থিতিতে ইন্টারভিউ প্রয়োজন হতে পারে, সে বিষয়ে ইউএসসিআইএস তার কর্মকর্তাদের নির্দেশনা আরও স্পষ্ট করেছে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে নোটিস টু অ্যাপিয়ার বা এনটিএ। শুধু আই-১৩০ পিটিশন অনুমোদিত হওয়া যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাসের নিশ্চয়তা দেয় না। ইউএসসিআইএসের নীতিতে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি আইন অনুযায়ী রিমুভেবল হলে প্রযোজ্য পরিস্থিতিতে এনটিএ ইস্যু করা হতে পারে। এনটিএ হচ্ছে ইমিগ্রেশন কোর্টে রিমুভাল প্রসিডিংস শুরু করার আনুষ্ঠানিক নোটিস। এর মধ্যেই ফ্যামিলি ইমিগ্রেশনের কাঠামো আরও বড়ভাবে পরিবর্তনের প্রস্তাব এসেছে কংগ্রেসে। রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান ব্যারি মুর ২০২৬ সালের ২৯ এপ্রিল এইচআর ৮৫৮৬ বা ‘আমেরিকানস ফার্স্ট ইমিগ্রেশন অ্যাক্ট’ প্রতিনিধি পরিষদে উত্থাপন করেন। পরদিন তার কার্যালয় আনুষ্ঠানিকভাবে বিলটির বিস্তারিত প্রকাশ করে। বিলটি বর্তমান অবস্থায় পাস হলে ফ্যামিলি-বেসড ইমিগ্রেশনের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হবে স্পন্সর করার যোগ্য আত্মীয়ের তালিকায়। প্রস্তাবে মার্কিন নাগরিকদের ‘ইমিডিয়েট রিলেটিভ’ ক্যাটাগরি থেকে বাবা-মাকে বাদ দিয়ে মূলত স্বামী বা স্ত্রী এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানকে রাখার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে বর্তমান আইনের এক্সটেন্ডেড ফ্যামিলি প্রেফারেন্স ক্যাটাগরিগুলোর বড় অংশ বাতিল করার প্রস্তাব রয়েছে। বর্তমান আইনে মার্কিন নাগরিকরা নির্দিষ্ট শর্তে স্বামী বা স্ত্রী, সন্তান, বাবা-মা এবং ভাই-বোনের জন্য পিটিশন করতে পারেন। গ্রিন কার্ডধারীরাও নির্দিষ্ট ক্যাটাগরিতে স্বামী বা স্ত্রী এবং অবিবাহিত সন্তানের জন্য আবেদন করতে পারেন। কাজেই এখনই বাবা-মা বা ভাই-বোনের স্পন্সরশিপ বন্ধ হয়ে গেছে এমন দাবি সঠিক নয়। আমেরিকানস ফার্স্ট ইমিগ্রেশন অ্যাক্টে ডাইভারসিটি ভিসা বা ডিভি লটারি আইনগতভাবে বাতিল করার প্রস্তাবও রয়েছে। পাশাপাশি বর্তমান এমপ্লয়মেন্ট-বেসড গ্রিন কার্ড কাঠামোর পরিবর্তে পয়েন্টভিত্তিক মেরিট সিস্টেম চালুর কথা বলা হয়েছে। সেখানে শিক্ষা, ইংরেজিতে দক্ষতা, উচ্চ বেতনের চাকরির অফারসহ বিভিন্ন যোগ্যতার ভিত্তিতে পয়েন্ট দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ডিভি লটারি নিয়ে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। ডিভি প্রোগ্রাম আইন থেকে বিলুপ্ত হয়নি। ২০২৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর স্টেট ডিপার্টমেন্ট ডাইভারসিটি ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয় এবং স্ক্রিনিং ও ভেটিং ব্যবস্থা পর্যালোচনার কথা জানায়। অর্থাৎ প্রশাসনিকভাবে ভিসা ইস্যু স্থগিত রাখা এবং কংগ্রেসের মাধ্যমে ডিভি প্রোগ্রাম পুরোপুরি বাতিল করা এক বিষয় নয়। বাংলাদেশিদের জন্য বর্তমান পরিস্থিতিতে আরও বড় একটি বিষয় রয়েছে। স্টেট ডিপার্টমেন্টের ২০২৬ সালের ২ ফেব্রুয়ারির নির্দেশনা অনুযায়ী, বাংলাদেশসহ বেশ কয়েকটি দেশের নাগরিকদের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু ২১ জানুয়ারি থেকে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে, যখন সংশ্লিষ্ট স্ক্রিনিং ও পাবলিক বেনিফিটস নীতি পর্যালোচনা চলছে। ফলে বাংলাদেশ থেকে ফ্যামিলি-বেসড ইমিগ্র্যান্ট ভিসার প্রক্রিয়ায় থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে শুধু আই-১৩০ নিয়ম নয়, এই আলাদা ভিসা-ইস্যু নীতিটিও গুরুত্বপূর্ণ। এদিকে অ্যাফিডেভিট অব সাপোর্ট বা আই-৮৬৪ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্রেডিট স্কোর, তিন বছরের সার্টিফায়েড ট্যাক্স রিটার্ন এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য বাধ্যতামূলক হয়ে গেছে বলে যেসব দাবি ছড়াচ্ছে, সেগুলোকে বর্তমান কার্যকর নিয়ম হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত নয়। কোনো প্রস্তাবিত পরিবর্তন এবং বর্তমানে কার্যকর আইনের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। নতুন কোনো বিধি কার্যকর হলে তার কার্যকর হওয়ার তারিখ ও চূড়ান্ত শর্ত সরকারি ঘোষণায় নির্ধারিত হয়। তবে আই-৮৬৪ সই করার পর স্পন্সরের আর্থিক দায় দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে। শুধু ডিভোর্স হয়ে গেলেই সাধারণভাবে সেই দায় শেষ হয়ে যায় না। আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট ঘটনা ঘটলে স্পন্সরের দায়িত্ব শেষ হতে পারে। সব মিলিয়ে এখন ফ্যামিলি স্পন্সরশিপ বন্ধ হয়নি এবং বাবা-মা বা ভাই-বোনকে স্পন্সর করার বর্তমান আইনও বাতিল হয়নি। কিন্তু ইউএসসিআইএসের যাচাই ও ভেটিং নীতি আগের তুলনায় কঠোর হয়েছে এবং কংগ্রেসে এমন একটি বিল রয়েছে, যা ভবিষ্যতে আইন হলে পুরো ফ্যামিলি ইমিগ্রেশন ব্যবস্থাই উল্লেখযোগ্যভাবে বদলে দিতে পারে। তাই আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত না নিয়ে নিজের ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস ও পারিবারিক পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করা এবং জটিল ক্ষেত্রে লাইসেন্সপ্রাপ্ত ইমিগ্রেশন অ্যাটর্নির পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
নিজের জমির বিচার পেতে ১৬ বছর আইন শিখলেন কৃষক, আদালতে পেলেন জয়
প্রধানমন্ত্রীর খালাতো ভাইয়ের পাম্পের ছিনতাইকৃত ১ কোটি ২১ লাখ টাকার ১২ লাখ টাকা উদ্ধার, জড়িত ৮