সংসদ

ছবি: সংগৃহীত
জুলাই সনদ রাষ্ট্র ও মানবতার বিরুদ্ধে: মোমিন মেহেদী

‘জুলাই সনদ’কে ধর্ম, মানবতা ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে একটি অপচেষ্টা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন নতুনধারা বাংলাদেশ এনডিবির চেয়ারম্যান মোমিন মেহেদী।   স্বাধীন বাংলাদেশের সরকার গঠন দিবস উপলক্ষে রাজধানীর তোপখানা রোডের বিজয় মিলনায়তনে আয়োজিত ‘একাত্তরকে মুছে দিতে কি জুলাই?’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।   মোমিন মেহেদী অভিযোগ করেন, স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি ও তাদের সমর্থকেরা ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাষ্ট্রবিরোধী একটি রাজনৈতিক কৌশল গ্রহণ করেছে। তিনি আরও বলেন, ‘জনসুরক্ষা আইন’-এর পরিবর্তে ‘জুলাই সুরক্ষা আইন’ নামে একটি বিল পাস করে জনগণের স্বার্থবিরোধী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।   সভায় তিনি দাবি করেন, সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করতে হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।   মোমিন মেহেদী আরও অভিযোগ করেন, কিছু রাজনৈতিক দল ও গোষ্ঠী এই প্রক্রিয়াকে সমর্থন দিয়ে দেশে অস্থিরতা তৈরি করছে। তিনি বলেন, জনগণের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও জ্বালানি সংকটের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো উপেক্ষা করে সংসদে অপ্রাসঙ্গিক ইস্যুতে সময় ব্যয় করা হচ্ছে।   সভায় উপস্থিত নেতৃবৃন্দও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, জ্বালানি সংকট সমাধান এবং জনজীবনের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।   তারা বলেন, দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যকর নীতি গ্রহণের পরিবর্তে রাজনৈতিক বিভাজন বাড়ানো হলে তা দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর হবে।

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ১২, ২০২৬ ১৪:০ 0
সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) আইন, ২০২৬ অধ্যাদেশের বিল জাতীয় সংসদে পাস
সন্ত্রাসবিরোধী আইন পাস: নিষিদ্ধই থাকছে আওয়ামী লীগের সব ধরনের কার্যক্রম

জাতীয় সংসদে ‘সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ বিলসহ মোট পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস হয়েছে। এই সংশোধনী পাসের ফলে রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকার বিষয়টি আইনিভাবে চূড়ান্ত হলো। বিগত অন্তর্বর্তী সরকার ২০০৯ সালের মূল সন্ত্রাসবিরোধী আইন সংশোধন করে একটি অধ্যাদেশ জারি করেছিল, যার মূল লক্ষ্য ছিল আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা।  আজ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সেই অধ্যাদেশটি বিল আকারে উত্থাপিত হলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। এর ফলে দলটির সকল কর্মকাণ্ডের ওপর নিষেধাজ্ঞার আইনি বৈধতা অব্যাহত রইল। এদিন সংসদে আরও চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস হয়েছে। সেগুলো হলো— ‘সরকারি হিসাব নিরীক্ষা আইন, ২০২৬’, ‘প্রোটেকশন অ্যান্ড কনসারভেশন অব ফিস (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬’, ‘শেখ হাসিনা পল্লী উন্নয়ন একাডেমি জামালপুর (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ এবং ‘পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাষণ কর্তৃপক্ষ (সংশোধন) আইন, ২০২৬’। মূলত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা অধ্যাদেশগুলোকে স্থায়ী আইনে রূপ দিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ৭, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
১১ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণ বর্তমান সংসদ সদস্যদের; অর্থমন্ত্রী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বর্তমান সংসদ সদস্যদের ঋণের পাহাড় নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সোমবার (৬ এপ্রিল) সংসদের প্রথম অধিবেশনের নবম দিনে তিনি জানান, বর্তমান সংসদ সদস্যদের মোট ঋণের পরিমাণ ১১ হাজার ১১৭ কোটি ৩১ লাখ টাকা। এর মধ্যে ৩ হাজার ৩৩০ কোটি ৮ লাখ টাকা খেলাপি ঋণ হওয়ার কথা থাকলেও আদালতের নির্দেশনার কারণে তা খেলাপি হিসেবে দেখানো হয়নি।   কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল হাসনাতের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এই তথ্য সংসদে উপস্থাপন করেন। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে মন্ত্রী জানান, বর্তমান সংসদ সদস্য এবং তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর নামে বিভিন্ন ব্যাংক ও ফাইন্যান্স কোম্পানিতে এই বিশাল অঙ্কের ঋণ রয়েছে।   অর্থমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে আরও স্পষ্ট করেন যে, মোট ঋণের একটি বড় অংশ অর্থাৎ ৩ হাজার ৩৩০ কোটি ৮ লাখ টাকা প্রকৃত অর্থে খেলাপি। তবে উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ বা বিশেষ নির্দেশনার কারণে বর্তমানে এগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘খেলাপি’ হিসেবে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। এই আইনি মারপ্যাঁচের কারণে বিশাল অঙ্কের অনাদায়ী ঋণ থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট সদস্যরা তাদের পদ ও সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারছেন।   সংসদে অর্থমন্ত্রীর এই তথ্য প্রদানের পর রাজনৈতিক ও সচেতন মহলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে যেখানে সাধারণ মানুষ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা সামান্য ঋণের দায়ে হয়রানির শিকার হন, সেখানে জনপ্রতিনিধিদের হাজার হাজার কোটি টাকার ঋণ এবং আইনি প্রক্রিয়ায় খেলাপি তকমা এড়িয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় বইছে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ এপ্রিল ৫, ২০২৬ ১৪:০ 0
সাড়ে পাঁচ বছর হয়নি হামের বিশেষ টিকা ক্যাম্পেইন: সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রী

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধির পেছনে দীর্ঘদিন বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি বন্ধ থাকার বিষয়টি সামনে এসেছে। জাতীয় সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, হাম-রুবেলার বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন সর্বশেষ ২০২০ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এরপর সাড়ে পাঁচ বছর ধরে এমন কোনো কর্মসূচি হয়নি, যদিও নিয়ম অনুযায়ী প্রতি চার বছর পরপর এটি আয়োজনের কথা।   সোমবার সংসদে এনসিপির এমপি আখতার হোসেন-এর নোটিশের জবাবে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন। এ সময় দেশে হামের বিস্তার ও তা মোকাবিলায় নেওয়া পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা হয়।   আখতার হোসেন তার বক্তব্যে জানান, গত তিন সপ্তাহে সন্দেহজনক হামে মৃত্যুর সংখ্যা ১১৫ ছাড়িয়েছে এবং নিশ্চিতভাবে মারা গেছেন অন্তত ২০ জন। হাজার হাজার শিশু আক্রান্ত হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে হাসপাতালগুলোতে আইসোলেশন সুবিধা ও আইসিইউ সংকটের বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি।   জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের দুর্বল ব্যবস্থাপনা ও পরিকল্পনার ঘাটতির কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। টিকা সংগ্রহে অদূরদর্শী সিদ্ধান্তের ফলে শুধু হাম নয়, আরও কয়েক ধরনের টিকার ঘাটতি দেখা দিয়েছে।   তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ৫ এপ্রিল থেকে ১৮টি জেলা ও ৩০টি ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলায় জরুরি টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এতে ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের টিকার আওতায় আনা হচ্ছে। প্রথম ধাপে ১২ লাখ শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। কর্মসূচির প্রথম দিনেই ৭৬ হাজার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৭৩ হাজার শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে।   পরবর্তী ধাপে ১২ এপ্রিল থেকে ঢাকা, ময়মনসিংহ ও বরিশাল সিটি কর্পোরেশন এলাকায় এবং ৩ মে থেকে সারাদেশে টিকাদান কার্যক্রম বিস্তৃত করা হবে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি শিশুদের জন্য ভিটামিন-এ ক্যাপসুল বিতরণ কার্যক্রমও শুরু হয়েছে।   স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামো প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। বিশেষ করে রাজশাহী অঞ্চলে অতিরিক্ত ২৫০টি আইসোলেশন বেড প্রস্তুতের কাজ চলছে। আইসিইউ ও ভেন্টিলেটর সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি আইসিডিডিআর-বি-এর উদ্ভাবিত স্বল্পমূল্যের অক্সিজেন সরবরাহ প্রযুক্তিও ব্যবহৃত হচ্ছে।   তিনি আরও জানান, অতিরিক্ত টিকা সংগ্রহে ইউনিসেফ-এর সহায়তা নেওয়া হচ্ছে এবং হাম মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ৫, ২০২৬ ১৪:০ 0
অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী । ফাইল ছবি
দেশে খেলাপি ঋণ ৫ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা ছাড়াল: অর্থমন্ত্রী

দেশে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৫ লাখ ৪৪ হাজার ৮৩১ কোটি ৮৮ লাখ টাকায় পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।   আজ সোমবার (৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন। ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী এ তথ্য জানানো হয়।   ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে এনসিপির সংসদ সদস্য আবুল হাসনাত (হাসনাত আবদুল্লাহ)-এর প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সংসদ সদস্য ও তাঁদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১১ হাজার ১১৭ কোটি ৩১ লাখ টাকা।   মন্ত্রী আরও জানান, আদালতের নির্দেশনার কারণে এই ঋণের মধ্যে ৩ হাজার ৩৩০ কোটি ৮ লাখ টাকা খেলাপি হিসেবে বিবেচিত হয়নি।   সংসদে অর্থমন্ত্রী শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের তালিকাও উপস্থাপন করেন। তালিকায় রয়েছে এস আলম সুপার এডিবল অয়েল, এস আলম ভেজিটেবল অয়েল, এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ, বাংলাদেশ এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট কোম্পানি লিমিটেড, গ্লোবাল ট্রেডিং করপোরেশন, কেয়া কসমেটিকস, দেশবন্ধু সুগার মিলস, বেক্সিমকো কমিউনিকেশনসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান।

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ৫, ২০২৬ ১৪:০ 0
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত
সংবিধান সংস্কার নয়, সংশোধন হবে: জুলাই সনদ অন্তর্ভুক্তির ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

জুলাই ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের চেতনা ও 'জুলাই সনদ'কে সংবিধানে স্থায়ী রূপ দিতে সংস্কার নয় বরং প্রয়োজনীয় সংশোধনীর উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। রোববার (৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে জুলাই জাতীয় সনদ ও সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ এই ঘোষণা দেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তব্যে স্পষ্ট করেন যে, চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের অভিপ্রায়কে সম্মান জানিয়ে 'জুলাই ঘোষণা'র মূল নির্যাসকে সংবিধানের চতুর্থ তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতার ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও উচ্চতা অন্য কিছুর সাথে তুলনীয় নয়। সালাউদ্দিন আহমেদ অভিযোগ করেন, সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বিগত সরকার বড় ধরনের 'লেজিসলেটিভ ফ্রড' বা আইনি প্রতারণা করেছে। তিনি বলেন, হাইকোর্ট ইতিমধ্যে ওই সংশোধনীর কিছু অংশ অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছে। এখন এই সার্বভৌম সংসদ ৫, ৬ ও ৭ নম্বর তফসিলে চাপিয়ে দেওয়া ভুল ইতিহাস ও তথাকথিত স্বাধীনতার ঘোষণা বাতিল করে প্রকৃত ইতিহাস পুনঃপ্রতিষ্ঠা করবে।  স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানই ২৬শে মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা দেন এবং ২৭শে মার্চ কালুরঘাট থেকে 'প্রোভিশনাল হেড অফ স্টেট' হিসেবে তা প্রচার করেন—এটিই প্রকৃত ইতিহাস। সংবিধানের মূলনীতি প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রবর্তিত 'মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস' নীতিটি সংবিধানে পুনর্বহাল করতে সরকার বদ্ধপরিকর। এছাড়া তিনি জানান, রাষ্ট্রক্ষমতায় জনগণের প্রকৃত মালিকানা নিশ্চিত করতে ১০০ সদস্য বিশিষ্ট একটি 'উচ্চকক্ষ' প্রবর্তনের ম্যান্ডেট রয়েছে, যেখানে রাজনৈতিক দলগুলো আনুপাতিক হারে প্রতিনিধিত্ব করবে। সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে সকল দলের সমন্বয়ে একটি ‘বিশেষ সংসদীয় কমিটি’ গঠনের প্রস্তাব দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "সংবিধান কীভাবে সংশোধিত হবে তা এই সংসদেই নির্ধারিত হবে। বাইরে থেকে আমদানি করা কোনো প্রেসক্রিপশনে দেশ চলবে না।" তিনি সরকারি, বিরোধী ও স্বতন্ত্র সদস্যদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের সংবিধানকে যুগোপযোগী করার আহ্বান জানান।

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ৪, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত।
সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩২: জাতীয় সংসদে বিল পাস

দেশের শিক্ষিত বেকার যুবকদের দীর্ঘদিনের দাবি ও আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়ে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩২ বছর নির্ধারণ করে জাতীয় সংসদে বিল পাস হয়েছে। এর মাধ্যমে সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থাসহ সব ধরনের সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে নতুন এই বয়সসীমা স্থায়ী আইনি রূপ পেল। রোববার বিকেলে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী সংসদে ‘সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ, পাবলিক নন-ফাইন্যান্সিয়াল কর্পোরেশনসহ স্ব-শাসিত সংস্থাগুলোতে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা নির্ধারণ বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করেন। পরে বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়। বিলের মূল দিকসমূহ: সর্বজনীন প্রয়োগ: বিসিএস (ক্যাডার) এবং বিসিএস বহির্ভূত সব পর্যায়ের সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়স এখন থেকে ৩২ বছর। অস্পষ্টতা নিরসন: পূর্বে জারিকৃত অধ্যাদেশের কারণে কিছু বিশেষায়িত পদের ক্ষেত্রে তৈরি হওয়া জটিলতা দূর করা হয়েছে। যেসব পদে আগে থেকেই বয়সসীমা ৩২ বছরের বেশি ছিল, সেই নিয়মগুলো অপরিবর্তিত থাকবে। আইনি ভিত্তি: ২০২৪ ও ২০২৫ সালে জারি করা দুটি অধ্যাদেশ রহিত করে বিষয়টিকে একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্থায়ী আইনে রূপ দেওয়া হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী জানান, শিক্ষিত তরুণ সমাজকে দেশ গঠনে অধিকতর সম্পৃক্ত করা এবং শ্রমবাজারে ইতিবাচক গতিশীলতা আনাই এই বিলের প্রধান উদ্দেশ্য। এই সিদ্ধান্তের ফলে লাখো চাকরিপ্রার্থীর কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও প্রসারিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ এপ্রিল ৪, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
১৩৩টি অধ্যাদেশ নিয়ে সংসদে বিস্তারিত আলোচনার প্রস্তাব বিরোধীদলীয় নেতার

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান রোববার (৫ এপ্রিল) ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করার প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন। তিনি জানান, এসব অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই করতে একটি বিশেষ কমিটি গঠিত হয়েছিল।   ওই কমিটির রিপোর্ট স্পিকার অনুমোদন করেছেন, যেখানে কিছু অধ্যাদেশ ‘ল্যাপস’ (বিলুপ্ত) করার প্রস্তাব ছিল। বিরোধীদলীয় নেতা উল্লেখ করেন, ল্যাপসের তালিকাভুক্ত অধ্যাদেশগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং ‘জুলাই স্পিরিটের’ সঙ্গে সম্পৃক্ত।   অধিবেশনের প্রথম কার্যসূচির পর তিনি স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, সংসদে এই বিষয়টি আলোচনা করার সুযোগ তৈরি করা হোক। তিনি বলেন, সম্প্রতি ‘সম্পূরক কার্যসূচি’ নামে যে পাতা এসেছে, সেখানে কিছু বিল আনা হয়েছে, যা যদি অধ্যাদেশকে কেন্দ্র করে থাকে, তবে তা নিয়ে আলোচনা প্রয়োজন।   আইনমন্ত্রী প্রাথমিকভাবে বলেন, যে দুটি বিলের বিষয়ে বিরোধীদলীয় নেতা কথা বলেছেন, সেগুলো নতুন (ফ্রেশ) বিল, এবং ১৩৩টি অধ্যাদেশের অন্তর্ভুক্ত নয়। তবে, পরে আইনমন্ত্রী ছোট সংশোধন করে জানান, ওই দুটি বিল আসলে ওই ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যেই ছিল।   বিরোধীদলীয় নেতা পুনরায় বলেন, ল্যাপসের তালিকাভুক্ত অধ্যাদেশগুলো জনগণের অধিকার সংরক্ষণের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং এগুলোকে সংসদে উত্থাপন করে আলোচনা করা প্রয়োজন। আইনমন্ত্রী নিশ্চিত করেন, প্রত্যেকটি অধ্যাদেশ সংসদে উত্থাপিত হবে, ফার্স্ট ও সেকেন্ড রিডিংয়ের সময় আলোচনা করা যাবে।   স্পিকার সংসদ সদস্যদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, আগামী ৯ তারিখের মধ্যে প্রায় ৯৩টি বিল পাস করতে হবে এবং এতে সব বক্তব্য পর্যালোচনা করা হবে।

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ৪, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
সংবিধান সংস্কার নিয়ে বিরোধী দলের ওয়াকআউটে উত্তপ্ত সংসদ

জাতীয় সংসদে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের প্রস্তাবনা নিয়ে বুধবার (১ এপ্রিল) উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। সংসদ অধিবেশনে বিরোধী দল দ্রুত পরিষদের অধিবেশন আহ্বানের দাবি জানালেও দীর্ঘ আলোচনার পর স্পষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত না আসায় জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে সদস্যরা একযোগে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছেন।   ওয়াকআউটের আগে বিরোধী দলীয় নেতারা বলেন, সংবিধান সংস্কারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সরকারের স্পষ্ট অবস্থান না থাকা দুঃখজনক। তারা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য আহ্বান জানান।   সরকারপক্ষের সদস্যরা জানান, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে এবং শিগগিরই একটি গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হবে।

শাহারিয়া নয়ন মার্চ ৩১, ২০২৬ ১৪:০ 0
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশন। ফাইল ছবি
সংবিধান সংস্কার ইস্যুতে সংসদে তুমুল বিতর্ক, হট্টগোলের পর মঙ্গলবার আলোচনার সিদ্ধান্ত

জাতীয় সংসদে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকা নিয়ে বিরোধীদলীয় প্রস্তাব ঘিরে তুমুল বিতর্ক, হট্টগোল ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে স্পিকার আগামী মঙ্গলবার এ বিষয়ে দুই ঘণ্টা আলোচনার সময় নির্ধারণ করেন। রোববার সংসদের অধিবেশনে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বানের দাবিতে একটি মুলতবি প্রস্তাব উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, গণভোটে জনগণের সমর্থন পাওয়ার পরও এই পরিষদ গঠন না হওয়া জাতির প্রত্যাশার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।   তবে সরকারি দলের পক্ষ থেকে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম বলেন, সংসদের নির্ধারিত কার্যপ্রণালি অনুসরণ করেই এ ধরনের প্রস্তাব আলোচনায় আনা উচিত। প্রশ্নোত্তর ও বিধি-৭১–এর আলোচনার পরেই এ বিষয়ে কথা বলা যেতে পারে। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ প্রস্তাবটির প্রক্রিয়াগত বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলের সদস্যরা দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানান, যা দ্রুত হট্টগোলে রূপ নেয়। সংসদকক্ষে উভয় পক্ষের সদস্যদের মধ্যে কয়েক দফা উত্তেজনা দেখা যায়।   আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান প্রস্তাবটিকে সময়োপযোগী উল্লেখ করে বলেন, বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ এবং আলোচনার দাবি রাখে। তবে তিনি বলেন, এ ধরনের আলোচনার আগে প্রয়োজনীয় নথি ও প্রস্তুতি থাকা জরুরি। বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, সংসদের কার্যক্রমে গণভোটের বিষয়টি উপেক্ষা করা হচ্ছে, যা জনগণের প্রত্যাশার পরিপন্থী।   পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল ঘোষণা দেন, আগামী ৩১ মার্চ মঙ্গলবার দিনের শেষ কার্যসূচি হিসেবে এই মুলতবি প্রস্তাব নিয়ে দুই ঘণ্টা আলোচনা হবে। এর পরও কিছু সময় হট্টগোল চলতে থাকে। পরে স্পিকার রুলিং দিয়ে পরবর্তী কার্যসূচিতে যাওয়ার নির্দেশ দেন এবং রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনা শুরু হয়।

শাহারিয়া নয়ন মার্চ ২৮, ২০২৬ ১৪:০ 0
বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান
সংসদকে ইনসাফের কেন্দ্রবিন্দু করার আহ্বান বিরোধীদলীয় নেতার

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জাতীয় সংসদকে যদি ইনসাফ বা ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে পরিচালনা করা যায়, তবেই সারাদেশে পূর্ণাঙ্গ ইনসাফ কায়েম করা সম্ভব হবে। আজ রোববার (২৯ মার্চ) বিকেলে নবনির্বাচিত ডেপুটি স্পিকারকে আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। সংসদে দেওয়া বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, "আপনি ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হওয়ায় আপনাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি। আজ আপনার বক্তব্যে যে মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে, বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ ঠিক সেটাই প্রত্যাশা করে। আমরা চাই, এই সংসদই হোক দেশের সকল কর্মকাণ্ডের মূল কেন্দ্রবিন্দু।" ডেপুটি স্পিকারের পদের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, এই চেয়ারটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ এবং ন্যায়বিচারের প্রতীক। আপনি ইনসাফের যে বার্তা দিয়েছেন, তা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। আমরা আশা করি, আপনি প্রতিটি বিষয় নিরপেক্ষভাবে বিবেচনা করবেন এবং সংসদীয় কার্যক্রমে প্রত্যেকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করবেন। বিরোধীদলীয় নেতা ডেপুটি স্পিকারকে আশ্বস্ত করে বলেন, দায়িত্ব পালনকালে সংসদীয় রীতি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সব ধরণের সহযোগিতা প্রদান করা হবে।

ইসমাইল হোসাইন মার্চ ২৮, ২০২৬ ১৪:০ 0
চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম।
সংসদের শব্দযন্ত্রে গোলযোগ কি স্যাবোটাজ? তদন্তে নামছে বিশেষজ্ঞরা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই সাউন্ড সিস্টেমে সৃষ্ট নজিরবিহীন গোলযোগের নেপথ্যে কোনো ‘ইচ্ছাকৃত অন্তর্ঘাত’ বা স্যাবোটাজ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। শনিবার সংসদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম। তদন্তের গুরুত্ব বিবেচনা করে এই প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) বিশেষজ্ঞদের কারিগরি পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে। চিফ হুইপ জানান, আগামী ৩রা এপ্রিলের মধ্যে কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, "আমাদের ধারণা এখানে একটি স্যাবোটাজ হয়ে থাকতে পারে। তাই দুটি বিষয়কে আমরা অগ্রাধিকার দিচ্ছি—প্রথমত এটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কি না, আর দ্বিতীয়ত কারিগরি ত্রুটি থাকলে তার স্থায়ী সমাধান কী?" উল্লেখ্য, গত ১২ই মার্চ সংসদের প্রথম অধিবেশনের শুরুতেই শব্দযন্ত্রের চরম বিভ্রাটে বিঘ্নিত হয় কার্যক্রম, যার ফলে বেশ কিছুক্ষণ অধিবেশন স্থগিত রাখতে হয়েছিল। পরবর্তী কার্যদিবসেও একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি ঘটলে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। সাউন্ড সিস্টেমের পাশাপাশি সংসদ সদস্যদের আবাসন নিয়েও কথা বলেন চিফ হুইপ। যানজট এড়ানো এবং সংসদীয় কাজে গতিশীলতা আনতেই সকল সংসদ সদস্যকে সংসদ ভবনের কাছাকাছি আবাসন সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে তিনি জানান।

ইসমাইল হোসাইন মার্চ ২৭, ২০২৬ ১৪:০ 0
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। মঙ্গলবার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। ছবি: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সৌজন্যে
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি: বাস্তবায়নের আগে সংসদে আলোচনা হবে—পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত বাণিজ্যচুক্তি বাস্তবায়নের আগে তা জাতীয় সংসদে এবং সংসদের বাইরে আলোচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী Shama Obaed Islam। প্রয়োজনে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও পুনরায় আলোচনা হতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মঙ্গলবার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের একাধিক বাণিজ্য ও অন্যান্য চুক্তি রয়েছে, যা দেশের অর্থনীতি ও জনগণের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে বেসরকারি খাত এসব চুক্তির প্রভাবে বেশি প্রভাবিত হয়। তাই প্রতিটি চুক্তি বাস্তবায়নের আগে দেশের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে যথাযথ আলোচনা করা হবে।   গত বছরের এপ্রিলে Donald Trump প্রশাসন বাংলাদেশের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেয়। পরবর্তীতে আলোচনার মাধ্যমে তা কমিয়ে ২০ শতাংশে আনা হয়। আগে থেকেই বিদ্যমান ১৫ শতাংশ শুল্ক যুক্ত হওয়ায় মোট শুল্কহার দাঁড়ায় ৩৫ শতাংশ। পরে দীর্ঘ প্রায় ৯ মাস আলোচনার পর দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক শুল্ক বিষয়ে একটি চুক্তি হয়, যার ফলে শুল্কহার সামান্য কমে ১৯ শতাংশ নির্ধারিত হয়।   তবে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার মাত্র তিন দিন আগে এই চুক্তি সম্পাদিত হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা রয়েছে। চুক্তি নিয়ে আলোচনায় বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা Khalilur Rahman। এদিকে চুক্তি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও বিতর্ক দেখা দিয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, চুক্তির আগে বিএনপি ও জামায়াতের সম্মতি ছিল। তবে জামায়াতে ইসলামীর আমির Shafiqur Rahman এ দাবি নাকচ করে জানিয়েছেন, তাদের সঙ্গে এ বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।   অন্যদিকে, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে ইরানে অবস্থানরত প্রায় দুই হাজার বাংলাদেশি নাগরিক নিরাপদে রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিক্ষার্থী রয়েছে। পরিস্থিতি অবনতি হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। এ ছাড়া জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী Sheikh Hasina-এর প্রত্যর্পণ ইস্যুতে ভারতের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলেও জানান তিনি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ফেরত আনার বিষয়েও কনস্যুলার পর্যায়ে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে এবং এ বিষয়ে অগ্রগতি আশা করছে সরকার।

শাহারিয়া নয়ন মার্চ ২৪, ২০২৬ ১৪:০ 0
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
১৩৩ অধ্যাদেশের বিষয়ে সংসদীয় কমিটি: ‘জুলাই যোদ্ধাদের’ জন্য আসছে দায়মুক্তি অধ্যাদেশ

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শাসনামলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে পর্যালোচনার ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) জাতীয় সংসদে বিশেষ কমিটির বৈঠকের আগে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এই পর্যালোচনা প্রক্রিয়ায় বিশেষ গুরুত্ব পাবে জুলাই অভ্যুত্থানের বিপ্লবীদের আইনি সুরক্ষা। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, "জুলাই যোদ্ধাদের ইনডেমনিটি (দায়মুক্তি) দেওয়া হয়েছে, সেটি আমরা গ্রহণ করব।" এছাড়া বিগত সরকারের আমলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের যে নামকরণ করা হয়েছিল, সেগুলো পরিবর্তনের বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এর আগে গত ১৫ মার্চ স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে এই বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান সংসদে যে ১৩৩টি অধ্যাদেশ উত্থাপন করেছিলেন, ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে সেগুলোর উপযোগিতা যাচাই করে কোনটি বহাল থাকবে আর কোনটি বাতিল হবে, তা নির্ধারণ করবে এই কমিটি। এদিকে জামায়াতে ইসলামীর সিনিয়র নায়েব আমির মুজিবুর রহমান এ বিষয়ে তাঁর দলের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। তিনি জানান, সংবিধান ও জন-আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থি কোনো অধ্যাদেশের পক্ষে তাঁর দল সুপারিশ করবে না। সংসদের এই বিশেষ কমিটিকে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত প্রভাবশালী ও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নীলুফা নিশাত মার্চ ২৩, ২০২৬ ১৪:০ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

Top week

ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

গ্রিন কার্ড পাওয়া আরো কঠিন হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে নিজ দেশে গিয়ে আবেদন করতে হবে অভিবাসীদের

ইসতিয়াক আহমেদ মে ২২, ২০২৬ ১৪:০ 0