জাতীয়

সাড়ে পাঁচ বছর হয়নি হামের বিশেষ টিকা ক্যাম্পেইন: সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রী

Unknown প্রকাশ: এপ্রিল ৫, ২০২৬ ২০:৩৮

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধির পেছনে দীর্ঘদিন বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি বন্ধ থাকার বিষয়টি সামনে এসেছে। জাতীয় সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, হাম-রুবেলার বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন সর্বশেষ ২০২০ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এরপর সাড়ে পাঁচ বছর ধরে এমন কোনো কর্মসূচি হয়নি, যদিও নিয়ম অনুযায়ী প্রতি চার বছর পরপর এটি আয়োজনের কথা।

 

সোমবার সংসদে এনসিপির এমপি আখতার হোসেন-এর নোটিশের জবাবে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন। এ সময় দেশে হামের বিস্তার ও তা মোকাবিলায় নেওয়া পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা হয়।

 

আখতার হোসেন তার বক্তব্যে জানান, গত তিন সপ্তাহে সন্দেহজনক হামে মৃত্যুর সংখ্যা ১১৫ ছাড়িয়েছে এবং নিশ্চিতভাবে মারা গেছেন অন্তত ২০ জন। হাজার হাজার শিশু আক্রান্ত হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে হাসপাতালগুলোতে আইসোলেশন সুবিধা ও আইসিইউ সংকটের বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি।

 

জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের দুর্বল ব্যবস্থাপনা ও পরিকল্পনার ঘাটতির কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। টিকা সংগ্রহে অদূরদর্শী সিদ্ধান্তের ফলে শুধু হাম নয়, আরও কয়েক ধরনের টিকার ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

 

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ৫ এপ্রিল থেকে ১৮টি জেলা ও ৩০টি ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলায় জরুরি টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এতে ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের টিকার আওতায় আনা হচ্ছে। প্রথম ধাপে ১২ লাখ শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। কর্মসূচির প্রথম দিনেই ৭৬ হাজার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৭৩ হাজার শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে।

 

পরবর্তী ধাপে ১২ এপ্রিল থেকে ঢাকা, ময়মনসিংহ ও বরিশাল সিটি কর্পোরেশন এলাকায় এবং ৩ মে থেকে সারাদেশে টিকাদান কার্যক্রম বিস্তৃত করা হবে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি শিশুদের জন্য ভিটামিন-এ ক্যাপসুল বিতরণ কার্যক্রমও শুরু হয়েছে।

 

স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামো প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। বিশেষ করে রাজশাহী অঞ্চলে অতিরিক্ত ২৫০টি আইসোলেশন বেড প্রস্তুতের কাজ চলছে। আইসিইউ ও ভেন্টিলেটর সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি আইসিডিডিআর-বি-এর উদ্ভাবিত স্বল্পমূল্যের অক্সিজেন সরবরাহ প্রযুক্তিও ব্যবহৃত হচ্ছে।

 

তিনি আরও জানান, অতিরিক্ত টিকা সংগ্রহে ইউনিসেফ-এর সহায়তা নেওয়া হচ্ছে এবং হাম মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Advertisement

জাতীয়

View more
প্রেসিডেন্ট মুইজ্জুর সঙ্গে বৈঠকে সার্ককে ফের সচল করতে একমত পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত
সার্ককে ফের সচল করতে একমত বাংলাদেশ ও মালদ্বীপ

দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থাকে (সার্ক) দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে ফের কার্যকর ও গতিশীল করার বিষয়ে একমত হয়েছে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপ। আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, বাণিজ্যের নতুন সম্ভাবনা উন্মোচন এবং ভূরাজনৈতিক নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আঞ্চলিক এই সংস্থাকে পুনরুজ্জীবিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে দেশ দুটি।   সম্প্রতি মালদ্বীপের ৬১তম স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগ দিতে মালে সফর করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। সেখানে দেশটির প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ে প্রেসিডেন্ট ড. মোহাম্মদ মুইজ্জুর সঙ্গে এক সৌজন্য বৈঠকে মিলিত হন তিনি। এই বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি আঞ্চলিক সহযোগিতার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।   সাক্ষাৎকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বাংলাদেশের সরকারপ্রধানের শুভেচ্ছা প্রেসিডেন্ট মুইজ্জুর কাছে পৌঁছে দেন। গত ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিতি এবং জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতাকে সমর্থন দেওয়ায় মালদ্বীপের প্রেসিডেন্টকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সরকার পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহযোগিতার ভিত্তিতে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ বা সবার আগে বাংলাদেশ নীতি অনুসরণ করে সব দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।   বৈঠকে দুই দেশের চমৎকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে সন্তোষ প্রকাশ করে তা আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। পাশাপাশি বর্তমান আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে সার্ককে নতুন করে সচল করার তাগিদ দেন দুই নেতা। এছাড়া মালদ্বীপে কর্মরত বাংলাদেশি অভিবাসী ও পেশাজীবীদের ভূমিকার প্রশংসা করেন প্রেসিডেন্ট মুইজ্জু এবং দেশটির অর্থনীতিতে তাদের অবদানের কথা স্বীকার করেন।   উক্ত বৈঠকে মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনারসহ উভয় দেশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরে সফররত পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সম্মানে আয়োজিত প্রীতি চা-চক্র ও কূটনৈতিক অনুষ্ঠানে মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্ট, ক্যাবিনেট মন্ত্রী এবং বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা অংশ নেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৬, ২০২৬ ১১:৩৮
শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে নিজেই পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। ছবি: সংগৃহীত

রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেছেন

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি:সংগৃহীত

ঢাকার সড়ক থেকে ফিটনেসবিহীন যানবাহন অপসারণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ছবি: সংগৃহীত

চাপে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি, প্রতিযোগিতায় এগিয়ে ভারত-ভিয়েতনাম।

শেখ হাসিনা আত্মসমর্পণ করলে তাকে আগে জেলে যেতে হবে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। ছবি: সংগৃহীত
হাসিনা দেশে ফিরলে কারাগারে যেতে হবে :পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

ভারতে স্বেচ্ছানির্বাসনে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাকে আইন অনুযায়ী কারাগারে যেতে হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। শেখ হাসিনা সম্প্রতি রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডিসেম্বর মাসে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনার কথা জানানোর পর সরকারের পক্ষ থেকে এ মন্তব্য এলো।   সোমবার (১৩ জুলাই) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, “শেখ হাসিনা একজন দণ্ডিত আসামি। তিনি আত্মসমর্পণ করলে বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাকে কারাগারে যেতে হবে এবং এরপর আইন অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম চলবে।” রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।    শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে ভারতে অবস্থান করছেন। গত সপ্তাহে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ডিসেম্বর মাসে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন। একই সঙ্গে বিদেশে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের আরও কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতাও দেশে ফিরে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হবেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।    সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, তার দলের প্রায় সব নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং অনেকে আত্মগোপনে রয়েছেন। তিনি দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের মাধ্যমে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথা জানান।    রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গত নভেম্বরে ২০২৪ সালের ছাত্র-নেতৃত্বাধীন আন্দোলন দমনে প্রাণঘাতী অভিযান পরিচালনার অভিযোগে শেখ হাসিনাকে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেন। তিনি শুরু থেকেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।   বর্তমানে বাংলাদেশ সরকার ভারতের কাছে শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানিয়েছে। ভারত জানিয়েছে, তারা ওই অনুরোধ পর্যালোচনা করছে এবং একই সঙ্গে বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের সঙ্গে গঠনমূলক সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী।    শেখ হাসিনার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন ও আত্মসমর্পণের ঘোষণা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। তবে তার বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলোর নিষ্পত্তি এবং ভবিষ্যৎ আইনি প্রক্রিয়া আদালতের সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১৩, ২০২৬ ১২:০
তুরস্কের কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতায় বগুড়ায় একটি আধুনিক ড্রোন তৈরির কারখানা স্থাপন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ছবি কোলাজ - আমেরিকা বাংলা

তুরস্কের কারিগরি সহায়তায় বগুড়ায় নির্মিত হচ্ছে আধুনিক ড্রোন কারখানা

জাতীয় সংসদে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন

জাতীয় সংসদে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন, জোর দেওয়া হলো সম্পর্ক জোরদারে

অবহেলা-দুর্নীতিতে বদলি নয়, চাকরিচ্যুতি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

অবহেলা-দুর্নীতিতে বদলি নয়, চাকরিচ্যুতি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত ইউসেফ এস ওয়াই রামাদানের সৌজন্য সাক্ষাৎ | ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশে পড়তে আসা ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীদের অন-অ্যারাইভাল ভিসার নির্দেশ দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষা নিতে আসা ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ও ভিসা প্রক্রিয়া আরও সহজ করতে অন অ্যারাইভাল ভিসা চালুর অনুরোধ জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত ইউসেফ এস ওয়াই রামাদান। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এ অনুরোধ জানান। পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বৈঠকের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হয়। রাষ্ট্রদূত ইউসেফ এস ওয়াই রামাদান বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছেন। তাদের বাংলাদেশে আসার ক্ষেত্রে ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করতে অন অ্যারাইভাল ভিসার ব্যবস্থা চালু করা হলে শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবেন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার জন্য তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন। বৈঠকেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে তিনি রাষ্ট্রদূতকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানোর অনুরোধ জানান, যাতে বিষয়টি নিয়মতান্ত্রিকভাবে পরবর্তী প্রক্রিয়ায় এগিয়ে নেওয়া যায়। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশ ও ফিলিস্তিনের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এর মধ্যে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা, ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা ইস্যু সহজীকরণ এবং দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয় গুরুত্ব পায়। বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবির প্রতি বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে নীতিগত ও ঐতিহাসিকভাবে সমর্থন জানিয়ে আসছে। তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান আন্তর্জাতিক পরিসরে ফিলিস্তিনের পক্ষে জনমত গঠন ও কূটনৈতিক সমর্থন আদায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। ফিলিস্তিনের প্রতি বাংলাদেশের এই নৈতিক ও রাজনৈতিক সমর্থন ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এ সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাংলাদেশকে নিয়ে অপপ্রচারের বিষয়ও তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি প্রগতিশীল ও উদারপন্থী মুসলিম রাষ্ট্র। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেকোনো ধরনের বিভ্রান্তিকর প্রচারণা বা অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তিনি আরও বলেন, সাইবার অপরাধ ও অপপ্রচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা হবে। বাংলাদেশ ও ফিলিস্তিনের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে ফিলিস্তিনের পক্ষে অবস্থান নিয়ে এসেছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রতিবছর ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাচ্ছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, ভিসা প্রক্রিয়া সহজ হলে দুই দেশের শিক্ষা সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত হতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৩, ২০২৬ ০:৪৭
ছবি: সংগৃহীত

খামেনির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যোগ দিতে তেহরান যাচ্ছেন বাংলাদেশের স্পিকার

ছবি: দ্য ডিসেন্ট

বসুন্ধরা গ্রুপের সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে বিএনপিবিরোধী প্রচারের অভিযোগ, দাবি দ্য ডিসেন্টের

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া ও চীন সফর নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিং | ছবি: সংগৃহীত

আসিয়ানে অন্তর্ভুক্তিতে সমর্থন দেবে মালয়েশিয়া, তিস্তা প্রকল্পে পাশে থাকবে চীন

0 Comments