ঢাকা থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকার আজকের শিরোনামগুলোতে উঠে এসেছে রাজনৈতিক জবাবদিহি, জ্বালানি সংকট, মানবিক বিপর্যয়, স্বাস্থ্যসেবার অব্যবস্থাপনা এবং অর্থনৈতিক অনিয়মের চিত্র। নিচে আজকের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি পত্রিকার প্রধান সংবাদ বিস্তারিত তুলে ধরা হলো- বণিক বার্তা: ‘জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় আত্মবিশ্বাসী সরকার, মাঠের পরিস্থিতি ভিন্ন’ মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিলেও বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সরকার স্পট মার্কেট থেকে উচ্চমূল্যে এলএনজি আমদানি করছে এবং এপ্রিল মাসের জন্য প্রয়োজনীয় কার্গো সংগ্রহের চেষ্টা করছে। তবে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মতে, আমদানিনির্ভরতার কারণে বাংলাদেশ জ্বালানি খাতে বড় ঝুঁকির মুখে রয়েছে। যুগান্তর: ‘বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠক: একাধিক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী জবাবদিহির মুখে’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকার গঠনের এক মাসের মাথায়ই বিএনপির একাধিক মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীকে জবাবদিহির মুখে পড়তে হয়েছে। শনিবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সংসদীয় দলের বৈঠকে তাদের কাছে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান–এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে অন্তত ছয়জন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর কাছে তাদের দায়িত্ব পালনের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়। বৈঠকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান পরিস্থিতি, সরবরাহ ঘাটতি এবং তা মোকাবিলার পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাশাপাশি ঈদযাত্রায় দুর্ঘটনায় প্রাণহানি নিয়েও সড়ক ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। পররাষ্ট্র খাত নিয়েও আলোচনা হয়, যেখানে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও কূটনৈতিক অবস্থান নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জানতে চাওয়া হয়। বৈঠকে মন্ত্রীদের ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নিয়ে দিকনির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। মানবজমিন: ‘পুরনো পোশাকই ফিরছে পুলিশে’ ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর পরিবর্তন আনা পুলিশের পোশাক আবারও পরিবর্তনের পথে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন নির্ধারিত আয়রন গ্রে রঙের পোশাক নিয়ে বাহিনীর মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা থেকে শুরু করে কনস্টেবল পর্যন্ত অনেকেই নতুন পোশাকের রং ও মান নিয়ে আপত্তি জানান। এ নিয়ে বাংলাদেশ পুলিশ–এর সদস্যদের মধ্যে জরিপ চালানো হয়। জরিপের ভিত্তিতে আবার আগের গাঢ় নীল রঙ এবং মেট্রোপলিটন এলাকায় হালকা সবুজ রঙের পোশাক ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সমকাল: ‘ইউরোপে যাওয়ার পথে সাগরে সুনামগঞ্জের ১০ জনের মৃত্যু’ উত্তর আফ্রিকার লিবিয়া থেকে সাগরপথে ইউরোপে যাওয়ার পথে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ে অন্তত ২২ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে সুনামগঞ্জের ১০ জন রয়েছেন। স্বজনদের বরাতে জানা গেছে, দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রায় খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে অসুস্থ হয়ে পড়েন যাত্রীরা। পরে অনেকেই মারা যান এবং পাচারকারীরা মৃতদেহ সাগরে ফেলে দেয়। নিহতদের মধ্যে দিরাই, দোয়ারাবাজার ও জগন্নাথপুর উপজেলার বাসিন্দারা রয়েছেন। কালের কণ্ঠ: ‘রামেক হাসপাতালে আইসিইউ অব্যবস্থাপনা: ১৮ দিনে ৫১ শিশুর মৃত্যু’ রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউ সংকটের কারণে ১৮ দিনে ৫১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এই শিশুরা সবাই আইসিইউ শয্যার অপেক্ষমাণ তালিকায় ছিল। চিকিৎসকরা জরুরি ভিত্তিতে আইসিইউতে নেওয়ার সুপারিশ করলেও শয্যার অভাবে তা সম্ভব হয়নি। অধিকাংশ শিশু সাধারণ ওয়ার্ডেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়, যা দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাকে সামনে নিয়ে এসেছে। প্রথম আলো: ‘ঋণখেলাপি ছিলেন, এখন সংসদে’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঋণখেলাপি থাকা সত্ত্বেও অনেকে এবারের নির্বাচনে অংশ নিয়ে সংসদ সদস্য হয়েছেন। আইন অনুযায়ী ঋণখেলাপিদের প্রার্থী হওয়ার কথা না থাকলেও, আদালতের স্থগিতাদেশ ও ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগ নিয়ে অনেকেই নির্বাচনে অংশ নেন। নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর ব্যাংকের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে অনেকেই ঋণ সমস্যার সমাধান করে ফেলেন, যা আইন প্রয়োগের দুর্বলতা নির্দেশ করে। নিউ এইজ: ‘পেট্রল পাম্পে ট্যাগ অফিসার, ডিপোতে বিজিবি মোতায়েন’ জ্বালানি তেল মজুত ঠেকাতে সরকার পেট্রল পাম্পে ‘ট্যাগ অফিসার’ নিয়োগ এবং ডিপোগুলোতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেশজুড়ে জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় নজরদারি বাড়াতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরসহ সারাদেশে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হবে। দ্য ডেইলি স্টার: ‘ভুল চালানে ১০ বছরে বাংলাদেশের ক্ষতি ৬৮ বিলিয়ন ডলার’ ওয়াশিংটনভিত্তিক সংস্থা গ্লোবাল ফিনান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৩ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে ভুল চালান বা মিসইনভয়েসিংয়ের কারণে বাংলাদেশ প্রায় ৬৮ বিলিয়ন ডলার হারিয়েছে। প্রতিবছর গড়ে প্রায় ৬.৮ বিলিয়ন ডলার এভাবে দেশ থেকে বেরিয়ে গেছে, যা মোট বাণিজ্যের উল্লেখযোগ্য অংশ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রবণতা দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
আজকের পত্রিকার শিরোনামগুলোতে যুদ্ধের প্রভাব, বাণিজ্য, বিচারব্যবস্থা ও নিরাপত্তা ইস্যু ঢাকা থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকার আজকের শিরোনামগুলোতে উঠে এসেছে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাব, ফ্লাইট বাতিল, আদালতে টাকা চাওয়ার অভিযোগ, কঙ্কাল চোরাচালান, পোশাক রফতানিতে চাপ, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি, আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্সে অনিয়ম এবং ভুয়া পাইলটের মতো নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নিচে আজকের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি পত্রিকার প্রধান সংবাদ তুলে ধরা হলো- নয়া দিগন্ত পত্রিকা: ‘জুলাই সনদ ও রাষ্ট্রপতির ভাষণ ঘিরে উত্তপ্ত হতে পারে সংসদ’ জুলাই–আগস্ট গণ–অভ্যুত্থানের পর নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় বৃহস্পতিবার শুরু হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। তবে শুরু থেকেই অধিবেশন উত্তপ্ত হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। গণভোটে পাস হওয়া জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন ও রাষ্ট্রপতির ভাষণকে কেন্দ্র করে সংসদে ওয়াকআউটও করতে পারেন জামায়াত–এনসিপি জোটের সংসদ সদস্যরা। সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে, প্রথম অধিবেশনে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন, স্পিকার প্যানেল গঠন এবং রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হবে। ডেপুটি স্পিকার পদে প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর একজনকে মনোনয়নের প্রস্তাব দিয়েছে সরকারদলীয় বিএনপি। তবে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকারের অবস্থান দেখে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছে দলটি। এবারের অধিবেশনকে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের প্রশ্ন। গণভোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নতুন সংসদকে প্রথম ছয় মাস সংবিধান সংস্কার পরিষদ হিসেবেও কাজ করার কথা রয়েছে। এ নিয়ে শপথ গ্রহণকে ঘিরে ইতোমধ্যেই রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে, কারণ বিএনপি জোটের সংসদ সদস্যরা এখনো সংস্কার পরিষদের শপথ নেননি, যদিও জামায়াত জোটের সদস্যরা দুই ধরনের শপথই গ্রহণ করেছেন। সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রথম দিনের পর সাপ্তাহিক ছুটির কারণে কার্যক্রম ১৫ ও ১৬ মার্চ চলবে। এরপর ঈদুল ফিতর উপলক্ষে অধিবেশন প্রায় ১৩ দিনের জন্য মুলতবি থাকতে পারে এবং ২৯ মার্চ আবার অধিবেশন শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যুগান্তর পত্রিকা: ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি- বছরে ১৩২৭ কোটি টাকা হারানোর শঙ্কা: সিপিডি’ বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর হলে বছরে প্রায় ১ হাজার ৩২৭ কোটি টাকার আমদানি শুল্ক রাজস্ব হারানোর আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। মঙ্গলবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে সিপিডির কার্যালয়ে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেট নিয়ে আয়োজিত এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। ব্রিফিংয়ে সিপিডির বিশেষ ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বক্তব্য দেন এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড’ চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা প্রায় সাড়ে চার হাজার পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা দিতে হবে। পাশাপাশি আগামী পাঁচ থেকে দশ বছরের মধ্যে আরও ২ হাজার ২১০টি পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সিপিডির মতে, এসব পণ্য থেকে বর্তমানে সরকারের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব আসে। ফলে চুক্তি কার্যকর হলে এই আয় কমে যেতে পারে। এছাড়া একতরফাভাবে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেওয়া বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) নীতিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে এবং এতে অন্য দেশগুলোকেও একই সুবিধা দেওয়ার চাপ তৈরি হতে পারে। মানবজমিন পত্রিকা: ‘যুদ্ধের জেরে ৩৬৭ ফ্লাইট বাতিল’ মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাবে আন্তর্জাতিক আকাশপথে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের ৩৬৭টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। ১০ মার্চ একদিনেই অন্তত ৩২টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে রয়েছে কুয়েত এয়ারওয়েজ, এয়ার অ্যারাবিয়া, গালফ এয়ার, কাতার এয়ারওয়েজ, এমিরেটস, জাজিরা, ফ্লাই দুবাই, বিমান বাংলাদেশ ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট। তবে একই সময়ে মোট ৩২৫টি ফ্লাইট পরিচালনা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির কারণে অনেক প্রবাসী বাংলাদেশি ভিসা জটিলতা ও যাতায়াত অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশে ফিরতে পারবেন কি না, তা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন অনেকেই। প্রথম আলো পত্রিকা: ‘টাকা চাওয়ার অভিযোগে তদন্ত শুরু’ জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের এক মামলার আসামিকে জামিন পাইয়ে দেওয়ার জন্য এক কোটি টাকা দাবি করার অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন দল। এ ঘটনায় চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি তথ্যানুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রথম আলো ও নেত্র নিউজের এক যৌথ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, মামলার এক আসামিকে জামিন পাইয়ে দিতে একজন প্রসিকিউটর এক কোটি টাকা দাবি করেছেন। প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হলে তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিশ্লেষকদের মতে, জামিনের জন্য টাকা চাওয়ার মতো অভিযোগ বিচারব্যবস্থার ওপর জনসাধারণের আস্থায় প্রভাব ফেলতে পারে। তাই এ বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি। নিউ এইজ পত্রিকা: ‘কবরস্থান থেকে কঙ্কাল বিক্রি—ডেন্টাল শিক্ষার্থীসহ ৪ জন গ্রেপ্তার’ ঢাকায় কবরস্থান থেকে মানুষের কঙ্কাল সংগ্রহ করে অনলাইনে বিক্রির অভিযোগে দুই ডেন্টাল শিক্ষার্থীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযানে তাদের কাছ থেকে ৪৭টি মানব খুলি ও বিপুল পরিমাণ মানব অস্থি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ ইবনে মিজান জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে মনিপুরি পাড়া ও উত্তরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। তদন্তকারীদের মতে, তারা দেশজুড়ে সক্রিয় একটি সংগঠিত কঙ্কাল পাচার চক্রের সদস্য। বণিক বার্তা পত্রিকা: ‘মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে ইউরোপে পোশাক রফতানিতে চাপ’ মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে লোহিত সাগর ও সুয়েজ খালসহ গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুটে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় বাংলাদেশের রফতানিমুখী শিল্প, বিশেষ করে পোশাক খাতের ওপর চাপ বাড়ছে। খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, অনেক ক্ষেত্রে জরুরি সরবরাহের জন্য পোশাক আকাশপথে ইউরোপে পাঠানো হয়। কিন্তু সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের বেশিরভাগ আকাশসীমা বন্ধ থাকায় সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন তৈরি হয়েছে। আজকের পত্রিকা: ‘৮ হাজার আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স স্বরাষ্ট্রের সম্মতি ছাড়াই’ ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনাপত্তিপত্র ছাড়াই অন্তত ৮ হাজার ১৭৩টি আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। এসব লাইসেন্সের অধিকাংশই রাজনৈতিক নেতা–কর্মী ও তাদের স্বজনদের নামে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। দ্য ডেইলি স্টার পত্রিকা: ‘জ্বালানির বিকল্প উৎস খুঁজছে সরকার’ মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্নের আশঙ্কা মাথায় রেখে বিকল্প জ্বালানি উৎস খুঁজছে সরকার। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, মার্চ মাসের জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে এবং এপ্রিল–মে মাসের জন্যও প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। কালের কণ্ঠ পত্রিকা: ‘বিমানে চার ‘ভুয়া’ পাইলটের অভিযোগ’ জাতীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে চারজন পাইলটের বিরুদ্ধে যোগ্যতা জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। অভ্যন্তরীণ তদন্তে দেখা গেছে, কেউ প্রয়োজনীয় উড়ানঘণ্টা পূরণ না করেই লাইসেন্স পেয়েছেন, আবার কেউ লগবুকে একই উড়ান সময় দুইবার দেখিয়ে ঘণ্টা বাড়িয়েছেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আন্তর্জাতিক এভিয়েশন সংস্থাগুলোর নজরদারি বা নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ঢাকা থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় আজকের প্রধান সংবাদগুলোতে উঠে এসেছে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি, জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা, ওমরাহ যাত্রীদের দুর্ভোগ এবং দেশের রাজনৈতিক প্রস্তুতির নানা দিক। নিচে আজকের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি দৈনিক পত্রিকার প্রধান সংবাদ তুলে ধরা হলো- ‘তেল-গ্যাস নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়ছে জাহাজ’ — আজকের পত্রিকা খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরুর আগে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে আসা জ্বালানিবাহী ১০টি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়তে শুরু করেছে। এর মধ্যে সাতটি জাহাজ ইতোমধ্যে বন্দরের ভেতরে প্রবেশ করেছে। বাকি তিনটির একটি আজ সোমবার এবং দুটি আগামী বুধবার ও শনিবার বন্দরে পৌঁছাবে বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। এসব জাহাজে মোট সাড়ে চার লাখ টন এলপিজি, এলএনজি ও জ্বালানি তেল রয়েছে। বন্দর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জাহাজগুলো মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন বন্দর থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশে যুদ্ধ শুরুর আগেই রওনা হয়েছিল। ফলে সেগুলো কোনো বাধা ছাড়াই হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে পেরেছে। বর্তমানে জাহাজগুলো ধাপে ধাপে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাচ্ছে এবং সেখান থেকে পণ্য খালাসের কার্যক্রম চলছে। বন্দর সূত্র জানায়, ১০টি জাহাজের মধ্যে পাঁচটিতে রয়েছে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এবং তিনটিতে রয়েছে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি)। এই আটটি জাহাজে মোট সাড়ে তিন লাখ টন এলএনজি ও এলপিজি রয়েছে। বাকি দুটি জাহাজে প্রায় এক লাখ টন জ্বালানি তেল রয়েছে। 'পেট্রল-অকটেনের বড় অংশ দেশেই উৎপাদন' — কালের কণ্ঠ খবরে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধকে ঘিরে দেশে জ্বালানি তেলের সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলো বলছে, বর্তমানে দেশে জ্বালানি তেলের মজুদ ও সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতির অনিশ্চয়তা বিবেচনায় সরকার তেল ব্যবহারে রেশনিং ব্যবস্থা চালু রেখেছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দেশে জ্বালানি তেলের মজুদ ও সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে অতিরিক্ত চাহিদা তৈরি হওয়ায় সাময়িক চাপ দেখা দিয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেলে ব্যবহৃত পেট্রলের প্রায় পুরোটাই এবং অকটেনের বড় অংশ দেশেই উৎপাদিত হয়। বাংলাদেশের গ্যাসক্ষেত্র থেকে পাওয়া উপজাত কনডেনসেট প্রক্রিয়াজাত করে পেট্রল উৎপাদন করা হয়। পরে আমদানি করা অকটেন বুস্টারের সঙ্গে মিশিয়ে অকটেন তৈরি করা হয়। দেশে সরকারি প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) এবং কয়েকটি বেসরকারি রিফাইনারি কনডেনসেট থেকে পেট্রল, অকটেনসহ প্রায় ৪০ ধরনের পেট্রোলিয়াম পণ্য উৎপাদন করে। এসব প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত উৎপাদন ক্ষমতা বছরে প্রায় ১৬ লাখ টন, যেখানে দেশের পেট্রল ও অকটেনের বার্ষিক চাহিদা আট থেকে সাড়ে আট লাখ টন। ‘TECH-FACILITATED VIOLENCE: Women survivors forced to navigate a flawed system’ — দ্য ডেইলি স্টার খবরে বলা হয়েছে, প্রযুক্তির অপব্যবহার করে নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনা বাড়ছে এবং অনেক ভুক্তভোগী ত্রুটিপূর্ণ বিচারব্যবস্থার কারণে ন্যায়বিচার পেতে বাধার মুখে পড়ছেন। প্রতিবেদনে বাগেরহাটের এক নারী উদ্যোক্তার ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে। তিনি একটি দর্জির দোকান পরিচালনা করতেন। এক ব্যক্তি গোপনে তার ব্যক্তিগত ভিডিও ধারণ করে পরে ব্ল্যাকমেইলের চেষ্টা করেন। এ ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধের ঘটনা বাড়লেও পর্যাপ্ত সাইবার আদালত ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অভাবে অনেক ক্ষেত্রে এসব ঘটনার তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ‘ENERGY AUSTERITY: Univs, English schools to go on Eid holiday today’ — নিউ এইজ খবরে বলা হয়েছে, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে ঈদুল ফিতরের ছুটি এগিয়ে এনে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় আজ সোমবার (৯ মার্চ) থেকে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় গতকাল এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করেছে। একই সঙ্গে বিদেশি কারিকুলামে পরিচালিত ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলোতেও ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছাড়া বাংলা মিডিয়াম ও ইংলিশ মিডিয়ামসহ সব ধরনের কোচিং সেন্টারের কার্যক্রমও এই সময়ে বন্ধ থাকবে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয় করা অত্যন্ত জরুরি। এ লক্ষ্যে পবিত্র রমজান উপলক্ষে আগামী ৯ মার্চ থেকে ঈদুল ফিতরের জন্য একাডেমিক ক্যালেন্ডারে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত সব সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকবে। 'স্থানীয় নির্বাচনের প্রস্তুতিতে জামায়াত, নজর ১২ সিটিতে' — প্রথম আলো খবরে বলা হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নজর দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটি এই নির্বাচনকে ‘দ্বিতীয় লড়াই’ হিসেবে দেখছে। এ লক্ষ্যে জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এবং পৌরসভার মেয়র নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এর মধ্যে সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে জামায়াত। এ জন্য দেশের ১২টি সিটি করপোরেশনেই সাংগঠনিক প্রস্তুতি জোরদার করা হচ্ছে। আইন অনুযায়ী, মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্ববর্তী ১৮০ দিনের মধ্যে সিটি করপোরেশন নির্বাচন আয়োজনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০২৫ সালের জুনের প্রথম সপ্তাহে। নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ পহেলা মার্চ নির্বাচন ভবনে এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, ঈদুল ফিতরের পর থেকে সারা বছর ধরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশনের এমন পরিকল্পনা সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামীও প্রস্তুতি শুরু করেছে। এর মধ্যে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নিয়ে বাড়তি নজর রয়েছে বলে জানা গেছে। জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ‘দ্বিতীয় লড়াই’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ‘মক্কা-মদিনায় আটকা ৩৫০০ বাংলাদেশি’— সমকাল খবরে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের মক্কায় বাংলাদেশ হজ মিশনে দেখা হয় দুই বাংলাদেশি মুতামির (ওমরাহ পালনকারী) সঙ্গে। একজন রাজশাহীর মো. আজাদ, অন্যজন মুন্সীগঞ্জের রিয়াজুল হায়দার। দুজনেরই দেশে ফেরার কথা ছিল শনিবার। কিন্তু এয়ার অ্যারাবিয়ার ফ্লাইট বাতিল হয়ে যাওয়ায় তারা দেশে ফিরতে পারেননি। এখন তাদের হাতে টাকা নেই, দেশে ফেরার টিকিটও নেই। থাকা-খাওয়া নিয়েও সংকটে পড়েছেন। নতুন করে টিকিট কাটতে এজেন্সি মালিক ৫০–৬০ হাজার টাকা দাবি করছেন। এ বিষয়ে সাহায্য পেতে তারা হজ মিশনে যান এবং মিশনপ্রধান কনসাল কামরুল ইসলামের সঙ্গে দেখা করেন। তাদের সমস্যা ও অভিযোগ শুনে হজ কর্মকর্তা ট্রাভেল এজেন্সি মালিক মাজেদুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলেন এবং দরিদ্র মুতামিরদের কিছু টাকা ভর্তুকি দিতে অনুরোধ করেন। মক্কার বাংলাদেশ হজ মিশনের প্রধান কনসাল কামরুল ইসলাম বলেন, যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের অধিকাংশ এয়ারলাইন্স হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশ থেকে ওমরাহ করতে আসা সাড়ে তিন হাজারের বেশি যাত্রী আটকা পড়েছেন। তাদের কেউ মক্কায়, কেউ মদিনায় অবস্থান করছেন। অনেক মুতামিরের টিকিট বাতিল হয়েছে এবং ট্রাভেল এজেন্সিগুলো নতুন করে টিকিট কাটতে বলছে। ‘পাল্টা আঘাত চালিয়ে যাচ্ছে তেহরান’ — নয়াদিগন্ত খবরে বলা হয়েছে, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সমন্বিত সামরিক অভিযানের নবম দিনে সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। শনিবার রাতে প্রথমবারের মতো দেশটির তেল সংরক্ষণাগার ও পরিশোধনাগারকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। এর ফলে সংঘাতের অর্থনৈতিক প্রভাবও সামনে এসেছে এবং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। একই সঙ্গে যুদ্ধের প্রভাব দ্রুত পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়ছে। ইরান পাল্টা হিসেবে ইসরাইলের পাশাপাশি কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটির দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ৩৩২ জন নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। নিহতদের বড় অংশই বেসামরিক নাগরিক বলে দাবি করেছে তেহরান। ‘এভিয়েশন-শ্রম বাজার, যুদ্ধের জেরে বিপর্যস্ত’ — মানবজমিন খবরে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দেশের এভিয়েশন খাতে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। একই সঙ্গে বিপর্যস্ত হয়েছে শ্রমবাজার। যুদ্ধের কারণে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগে ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে বাংলাদেশ থেকে একের পর এক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত প্রায় ৩২০টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এতে হাজার হাজার যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন। এ পরিস্থিতিতে ট্রাভেল এজেন্সি, এয়ারলাইন্স, হোটেল-মোটেলসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন মধ্যপ্রাচ্যগামী শ্রমিকেরা। ‘চার বছরে ১ লাখ ৫২ হাজার কোটি টাকার নিট মুনাফা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের’ — বণিক বার্তা খবরে বলা হয়েছে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে গত কয়েক বছর ধরে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি অনুসরণ করে আসছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে এর ফলে বেসরকারি খাতের ওপর চাপ বেড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২১-২২ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত চার বছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মোট ১ লাখ ৫২ হাজার ১৯৯ কোটি টাকা নিট মুনাফা করেছে। এই মুনাফার একটি বড় অংশ এসেছে সুদ আয় এবং টাকার অবমূল্যায়নের কারণে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন থেকে। অর্জিত মুনাফা থেকে সরকারি কোষাগারে প্রায় ৫১ হাজার ৫১২ কোটি টাকা জমা দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews