মাত্র ১৫০ ডলার দিয়ে কলেজজীবনে শুরু করা একটি ছোট কুকির ব্যবসাই দুই দশক পর বছরে ২০ কোটি ডলারের বেশি আয়ের প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। সেই প্রতিষ্ঠানের নাম ‘ইনসমনিয়া কুকিজ’। এর সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী সেথ বারকোভিটজ জানান, রাতের বেলায় গরম কুকির চাহিদা থেকেই তিনি এই উদ্যোগ শুরু করেছিলেন। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির ২৬০টির বেশি শাখা রয়েছে এবং গত বছর এর আয় ২০ কোটি ডলারের বেশি হয়েছে।
সেথ বারকোভিটজ ২০০২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় মাত্র ১৫০ ডলার খরচ করে নিজের ছাত্রাবাসের ছোট রান্নাঘরে কুকি তৈরি শুরু করেন। রাতে সহপাঠীদের অর্ডার নিয়ে নিজেই কুকি পৌঁছে দিতেন। এক সেমিস্টারেই তিনি প্রায় ১০ হাজার ডলার মুনাফা করেন।
২০০৪ সালে পড়াশোনা শেষ করার পর তিনি নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের সিরাকিউসে প্রথম স্থায়ী দোকান চালু করেন। পরে আরও কয়েকটি কলেজ শহরে ব্যবসা সম্প্রসারণ করা হয়। শুরুতে প্রচারণা খুব একটা সফল না হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশের পর অর্ডারের সংখ্যা দ্রুত বেড়ে যায়। এরপর তিনি একজন অংশীদার ও কয়েকজন কর্মী নিয়ে ব্যবসা সম্প্রসারণ শুরু করেন।
তবে ব্যবসা বড় করার পথে নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়। কর্মী নিয়োগ, জায়গা ভাড়া এবং নতুন শাখা চালুর কারণে লাভ কমে যায়। ব্যবসাকে টিকিয়ে রাখতে তিনি বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ নেন এবং বিনিয়োগকারীদের অর্থায়নের সহায়তায় কার্যক্রম চালিয়ে যান। একসময় প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক আয় ১০ লাখ ডলার ছাড়ালেও তখনও তা লাভজনক ছিল না।
২০০৯ সালে ব্যয় কমাতে তিনি প্রতিষ্ঠানের কেন্দ্রীয় দলে বড় ধরনের পরিবর্তন আনেন। অনেক কাজ নিজেই করতে শুরু করেন। বিভিন্ন শহরে নিজে গাড়ি চালিয়ে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পৌঁছে দেওয়া থেকে শুরু করে নতুন শাখার সম্ভাব্য স্থান খুঁজে বের করার কাজও তিনি নিজেই করতেন। তাঁর ভাষায়, ব্যবসাকে এগিয়ে নিতে সেই সময়ে নিজের সর্বোচ্চ শ্রম দিতে হয়েছিল।
দীর্ঘ পরীক্ষানিরীক্ষার পর তিনি আবার স্থায়ী দোকানকেন্দ্রিক ব্যবসায় গুরুত্ব দেন। দ্রুত সরবরাহ ব্যবস্থা ও সহজ অর্ডার প্রক্রিয়া প্রতিষ্ঠানটির প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ২০১২ সালে নিজেদের আয় থেকেই নতুন শাখা খোলার সক্ষমতা অর্জন করে প্রতিষ্ঠানটি। পরবর্তী কয়েক বছরে দ্রুত শাখা বাড়তে থাকে।
২০১৮ সালে একটি বড় খাদ্য প্রতিষ্ঠান ইনসমনিয়া কুকিজের ৭৪ দশমিক ৫ শতাংশ মালিকানা প্রায় ১৩ কোটি ৯৫ লাখ ডলারে কিনে নেয়। এরপরও সেথ বারকোভিটজ প্রতিষ্ঠানটির নেতৃত্বে রয়েছেন। বর্তমানে সম্ভাব্য মালিকানা পরিবর্তনের আলোচনা চললেও তিনি ব্যবসা সম্প্রসারণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন এবং নতুন শাখা খোলার পরিকল্পনা অব্যাহত রেখেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ হ্যাম্পশায়ারের এক দম্পতি জীবনের দুটি সবচেয়ে আনন্দের মুহূর্ত মাত্র ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে উদযাপন করেছেন। বিয়ের দুই দিনেরও কম সময় আগে তাদের প্রথম সন্তানের জন্ম হয়। জটিল শারীরিক অবস্থার কারণে কনে হাসপাতালে ভর্তি থাকলেও সেখান থেকেই ভার্চুয়ালি বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশ নেন। ডোভার শহরের এরিয়েল ভাইল্যানকোর্ট ও অ্যান্ড্রু লাভোয়ের বিয়ের আর মাত্র দুই দিনের মতো সময় বাকি ছিল। ঠিক তখনই চিকিৎসকেরা জানান, প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়া নামের জটিলতার কারণে নির্ধারিত সময়ের প্রায় ১০ সপ্তাহ আগেই তাদের সন্তানের জন্ম দিতে হবে। পরে তাকে ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং সেখানেই জন্ম নেয় তাদের ছেলে কনর। অপ্রত্যাশিত এই পরিস্থিতির কারণে বিয়ের পরিকল্পনা বদলে গেলেও অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়নি। ওই রাতেই ছিল বিয়ের মহড়ার আয়োজন এবং দূরদূরান্ত থেকে অতিথিরা এসে পৌঁছেছিলেন। এরিয়েল চান, তিনি উপস্থিত থাকতে না পারলেও অ্যান্ড্রু যেন অতিথিদের স্বাগত জানান এবং নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী অনুষ্ঠান এগিয়ে নেন। বিয়ের দিন অ্যান্ড্রু অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকলেও এরিয়েল হাসপাতালের কক্ষ থেকে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে অংশ নেন। হাসপাতালের নার্সরা দিনটিকে বিশেষ করে তুলতে তার জন্য ফুলের তোড়া তৈরি করেন, কক্ষ সাজিয়ে দেন এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিতেও সহায়তা করেন। অন্যদিকে নবজাতক কনরের দেখাশোনায় থাকা নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের নার্সরাও তার জন্য বিশেষ পোশাকের ব্যবস্থা করেন এবং পরিবারের জন্য স্মরণীয় কিছু মুহূর্ত সংরক্ষণে সহায়তা করেন। দম্পতি জানান, পুরো ঘটনায় চিকিৎসক, নার্স ও হাসপাতালের কর্মীদের আন্তরিক সহযোগিতা তাদের কঠিন সময়কে অনেকটাই সহজ করে দিয়েছে। অ্যান্ড্রু বলেন, সেই মুহূর্তে বিয়ের চেয়ে মা ও সন্তানের সুস্থতাই ছিল তার সবচেয়ে বড় চিন্তা। আর এরিয়েল বলেন, কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও পরিবারের সবাই যেন আনন্দ ভাগ করে নিতে পারেন, সেটিই তিনি চেয়েছিলেন। এই দম্পতির ভাষায়, জীবনে অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি এলেও আশা হারানো উচিত নয়। তাদের বিশ্বাস, কঠিন সময়েও কৃতজ্ঞতা ধরে রাখতে পারলে অনেক অসম্ভব ঘটনাও স্মরণীয় অভিজ্ঞতায় পরিণত হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলিনাভিত্তিক বিখ্যাত নৌকা নির্মাতা প্রতিষ্ঠান গ্র্যাডি-হোয়াইট বোটসের মালিক এডি স্মিথ জুনিয়র নিজের কোম্পানি বিক্রি করে প্রায় ৪০ কোটি ডলার পাওয়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও সেটি দান করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ভবিষ্যতে কোম্পানির মুনাফা বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় হবে, এমন একটি কাঠামো তৈরি করে তিনি প্রতিষ্ঠানের মালিকানা একটি ‘পারপাস ট্রাস্ট’-এর কাছে হস্তান্তর করেছেন। ৮৩ বছর বয়সী এডি স্মিথ ১৯৬৮ সালে আর্থিক সংকটে থাকা গ্র্যাডি-হোয়াইট বোটস কিনেছিলেন। দীর্ঘ কয়েক দশকে তিনি প্রতিষ্ঠানটিকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম স্বনামধন্য উচ্চমানের মাছ ধরার নৌকা প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কোম্পানিটি বিক্রির জন্য শত শত মিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব এলেও তিনি তা গ্রহণ করেননি। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এডি স্মিথের একমাত্র ছেলে ক্রিস স্মিথ কয়েক বছর আগে মারা যাওয়ার পর কোম্পানির ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি নতুন করে ভাবতে শুরু করেন। পরে আউটডোর পোশাক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান প্যাটাগোনিয়ার প্রতিষ্ঠাতা ইভন শুইনার্ডের দাতব্য মালিকানা কাঠামো থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে একই ধরনের উদ্যোগ নেন। নতুন ব্যবস্থায় কোম্পানিটি ব্যক্তিগত মালিকানায়ই পরিচালিত হবে। ব্যবসার প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ বাদ দিয়ে যে মুনাফা থাকবে, তা একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণ, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও অন্যান্য জনকল্যাণমূলক খাতে ব্যয় করা হবে। একই সঙ্গে কোম্পানির কর্মীদের বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা, লাভের অংশীদারিত্ব এবং প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘদিনের সংস্কৃতি অক্ষুণ্ন থাকবে। এডি স্মিথ বলেন, জীবনে তিনি যে সফলতা অর্জন করেছেন, তা সমাজের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়াই তার বিশ্বাস। তিনি বিলাসবহুল জীবনযাপনের পরিবর্তে নিজের সম্পদের বড় অংশ জনকল্যাণে কাজে লাগাতে চান। বিশ্লেষকদের মতে, বড় কোনো প্রতিষ্ঠানের মালিকের এভাবে বিক্রির বিপুল অর্থ ছেড়ে দিয়ে কোম্পানিকে স্থায়ীভাবে জনকল্যাণের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করার ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে এখনও খুবই বিরল। প্যাটাগোনিয়ার পর গ্র্যাডি-হোয়াইট বোটস এ ধরনের মালিকানা কাঠামো গ্রহণ করা অন্যতম বড় বেসরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে সালমোনেলা সংক্রমণের একটি বহুরাজ্যব্যাপী প্রাদুর্ভাবে অন্তত ১৭টি অঙ্গরাজ্যে ৯৮ জন অসুস্থ হয়েছেন। এ ঘটনায় ২৬ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে, যদিও এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। প্রাদুর্ভাবের সঙ্গে টেক্সাসে উৎপাদিত প্রত্যাহারকৃত ডিমের যোগসূত্র পাওয়ার পর তদন্ত চালাচ্ছে মার্কিন খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন এবং রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র । তদন্তে দেখা গেছে, টেক্সাসের দুটি খামারে উৎপাদিত সাদা ও বাদামি খোলার ডিমে সালমোনেলা এন্টারিটিডিস ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। এসব ডিম ৬ জুন থেকে ৩ জুলাইয়ের মধ্যে উৎপাদন ও বাজারজাত করা হয় এবং পরে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নামে বিক্রি হয়। পরিস্থিতি নিশ্চিত হওয়ার পর উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান মিডওয়েস্ট পোলট্রি সার্ভিসেস স্বেচ্ছায় বিপুল পরিমাণ ডিম বাজার থেকে প্রত্যাহার করেছে। এফডিএ জানিয়েছে, প্রত্যাহার করা ডিমগুলো টেক্সাস, ওকলাহোমা, লুইজিয়ানা, আরকানসাস, নিউ মেক্সিকো ও মিসিসিপির বিভিন্ন খুচরা বিক্রেতা ও খাদ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করা হয়েছিল। ভোক্তাদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, এসব ডিম ফ্রিজে থাকলে তা খাওয়া থেকে বিরত থাকতে এবং ফেলে দিতে অথবা কেনা প্রতিষ্ঠানে ফেরত দিয়ে অর্থ ফেরত নিতে। একই সঙ্গে যেসব পাত্র বা স্থান এসব ডিমের সংস্পর্শে এসেছে, সেগুলো ভালোভাবে পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানান, সাধারণত দূষিত খাবার খাওয়ার ১২ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সালমোনেলা সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে ডায়রিয়া, জ্বর, পেটব্যথা, বমি ও বমিভাব অন্যতম। অধিকাংশ মানুষ কয়েক দিনের মধ্যে সুস্থ হয়ে উঠলেও শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং দুর্বল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন মানুষের ক্ষেত্রে সংক্রমণ গুরুতর আকার ধারণ করতে পারে। এফডিএ জানিয়েছে, আক্রান্তদের মধ্যে অনেকে অসুস্থ হওয়ার আগে ডিম খাওয়ার তথ্য দিয়েছেন। তদন্তকারীরা মনে করছেন, প্রত্যাহার করা ডিম এই প্রাদুর্ভাবের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হলেও সব সংক্রমণের জন্য একই উৎস দায়ী কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।