মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। একই সঙ্গে এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মী ও আশপাশের বাসিন্দাদের দ্রুত এলাকা ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কোম্পানিগুলোকে হামলার জন্য দায়ী হিসেবে চিহ্নিত করছে আইআরজিসি। তাদের দাবি, লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ ও নজরদারিতে এসব প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে Google, Apple, Meta, Tesla এবং Boeing-সহ অন্তত ১৫টি মার্কিন প্রতিষ্ঠানকে ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। আইআরজিসি জানিয়েছে, স্থানীয় সময় আগামীকাল রাত ৮টার পর এসব প্রতিষ্ঠানের স্থাপনায় হামলা চালানো হতে পারে। সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকি এড়াতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় অবস্থানরত কর্মী ও সাধারণ মানুষকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেই এ ধরনের হুঁশিয়ারি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। এতে শুধু সামরিক নয়, প্রযুক্তি ও বাণিজ্যিক ক্ষেত্রেও সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা কেবল আঞ্চলিক নিরাপত্তার প্রশ্ন নয়—বরং বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য, সামরিক কৌশল এবং আন্তর্জাতিক অর্থনীতির ওপর গভীর প্রভাব ফেলছে। সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে স্পষ্ট হয়ে উঠছে, বিশ্ব একটি নতুন ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার দিকে এগোচ্ছে, যেখানে প্রচলিত শক্তির আধিপত্য আর নিশ্চিত নয়। ইসরায়েলের বহুস্তর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত সামরিক কৌশলের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে। এটি দেখিয়েছে, আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে কেবল প্রতিরক্ষামূলক প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা যথেষ্ট নয়; বরং বহুমাত্রিক ও অভিযোজিত কৌশলই হয়ে উঠছে নতুন বাস্তবতা। যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত সংকট বর্তমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র কার্যত একক অবস্থানে রয়েছে। ন্যাটো কিংবা আঞ্চলিক মিত্রদের সরাসরি সমর্থনের অভাব মার্কিন নেতৃত্বের প্রতি আস্থার সংকটকে সামনে এনেছে। বিশেষ করে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও বাহরাইনের মতো দেশগুলো মনে করছে, তাদের ভূখণ্ডে হামলার ঝুঁকি বেড়েছে মূলত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির কারণে। এ অবস্থায় মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অবস্থান আরও দুর্বল হয়ে পড়ছে এবং আঞ্চলিক রাজনীতিতে তাদের প্রভাব প্রশ্নের মুখে পড়ছে। ইরানের সামরিক সক্ষমতা ও নতুন কৌশল ইরান দীর্ঘদিন ধরে একটি বিকেন্দ্রীভূত ও প্রযুক্তিনির্ভর সামরিক কাঠামো গড়ে তুলেছে, যা ‘মোজাইক ডকট্রিন’ নামে পরিচিত। ছোট ইউনিট, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং সমন্বিত হামলার মাধ্যমে এই কৌশল প্রচলিত যুদ্ধনীতিকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। ইরানের ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় মার্কিন ঘাঁটির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চাপে পড়েছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখে ইরান বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তাকেও ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। সংঘাতের বিস্তার ও বৈশ্বিক প্রভাব হিজবুল্লাহ, হুতি ও ইরাকি মিলিশিয়াদের সম্পৃক্ততায় সংঘাত আঞ্চলিক সীমা ছাড়িয়ে বৈশ্বিক মাত্রা পাচ্ছে। বাব আল-মান্দেব প্রণালি বা সাবমেরিন কেবল অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও যোগাযোগব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। দিয়েগো গার্সিয়া: নিরাপত্তার নতুন প্রশ্ন ইরানের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা প্রদর্শনের অংশ হিসেবে দিয়েগো গার্সিয়াকে লক্ষ্য করে হামলার প্রচেষ্টা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা কাঠামোর জন্য বড় ধরনের সতর্কবার্তা। দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যের এই ঘাঁটিকে নিরাপদ কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হলেও সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো সেই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করেছে। এতে স্পষ্ট হচ্ছে, ইরানের সামরিক সক্ষমতা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, ইউরোপসহ বিস্তৃত অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হয়ে উঠছে। ‘এসকালেশন ট্র্যাপ’-এ যুক্তরাষ্ট্র বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র একটি জটিল কৌশলগত ফাঁদে পড়েছে। পিছু হটলে কৌশলগত পরাজয়ের আশঙ্কা, আর এগোলে বৃহত্তর সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি। এই বাস্তবতা আঞ্চলিক যুদ্ধকে বৈশ্বিক সংঘাতে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনাকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। কূটনৈতিক পথ ও পাকিস্তানের উদ্যোগ এই সংকটে পাকিস্তানের উদ্যোগকে একটি প্রাথমিক কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা যেতে পারে। ইরানের সঙ্গে তাদের যোগাযোগের সক্ষমতা সংলাপের একটি সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য প্রয়োজন বহুপাক্ষিক উদ্যোগ। বিষয়টি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে তোলা হলে বৃহত্তর আন্তর্জাতিক ঐকমত্য গঠনের সুযোগ তৈরি হতে পারে, যা একক শক্তির ওপর নির্ভরতা কমাবে। অনিশ্চয়তার নতুন বিশ্ব ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত এখন আর শুধু একটি আঞ্চলিক ইস্যু নয়; এটি বৈশ্বিক শক্তির পুনর্বিন্যাসের সূচনা। সামরিক কৌশলের পরিবর্তন, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং বহুমেরু বিশ্বব্যবস্থার উত্থান—সব মিলিয়ে একটি নতুন বাস্তবতা তৈরি হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক সংলাপ, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক ঐক্য ছাড়া স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। অন্যথায় বিশ্ব আরও গভীর সংকটের দিকে এগিয়ে যেতে পারে।
ইরানের মধ্যাঞ্চলীয় ইয়াজদে অবস্থিত একটি ইউরেনিয়াম উত্তোলন কেন্দ্রে হামলার ঘটনা নিশ্চিত করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানায়, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হওয়ায় এ ধরনের স্থাপনায় হামলা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। দীর্ঘদিন ধরেই এ ইস্যুতে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে টানাপোড়েন চলছে। তবে ইরানের পারমাণবিক শক্তি সংস্থা জানিয়েছে, হামলার ফলে কোনো তেজস্ক্রিয় পদার্থ ছড়িয়ে পড়েনি এবং পরিবেশে তাৎক্ষণিক কোনো ক্ষতিকর প্রভাব পড়েনি। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা, যারা আশঙ্কা করছেন—এই হামলার জেরে অঞ্চলজুড়ে সংঘাত আরও বিস্তৃত হতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্য ও মুসলিম বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ চার দেশ—তুরস্ক, সৌদি আরব, মিসর ও পাকিস্তান—প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারে বৈঠক করেছে। সৌদি রাজধানী রিয়াদ-এ একটি সম্মেলনের ফাঁকে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে দেশগুলোর সক্ষমতা একীভূত করার উপায় নিয়ে আলোচনা হয়। সূত্রগুলোর মতে, এ উদ্যোগের লক্ষ্য কোনো সামরিক জোট গঠন নয়; বরং প্রতিরক্ষা শিল্প, প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা খাতে সমন্বিত সহযোগিতা গড়ে তোলা। তুরস্ক গত বছর থেকেই এ ধরনের একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরির প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছে এবং এতে মিসরকে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করছে। বৈঠক শেষে হাকান ফিদান বলেন, “অঞ্চলের প্রভাবশালী দেশগুলো কীভাবে নিজেদের শক্তি একত্র করে সমস্যার সমাধান করতে পারে, তা আমরা পর্যালোচনা করছি।” তিনি আরও বলেন, আঞ্চলিক সমস্যার সমাধানে নিজেদের উদ্যোগেই এগিয়ে আসা জরুরি, নতুবা বাইরের শক্তি তাদের স্বার্থ অনুযায়ী সমাধান চাপিয়ে দিতে পারে। আলোচনায় ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা, বিশেষ করে ইরান-এ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে পাল্টা হামলার বিষয়ও উঠে আসে। যৌথ বিবৃতিতে উপসাগরীয় অঞ্চলে হামলার সমালোচনা করা হলেও, ইসরায়েলের ভূমিকা সীমিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো নির্দিষ্ট ইস্যুতে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেয়। বিশ্লেষকদের মতে, তুরস্কের উন্নত প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, পাকিস্তানের কৌশলগত সক্ষমতা, সৌদি আরবের অর্থনৈতিক শক্তি এবং মিসরের সামরিক উপস্থিতি—এই চার দেশের সমন্বয় ভবিষ্যতে একটি প্রভাবশালী আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো তৈরি করতে পারে।
ইরানের কাছে যুক্তরাজ্য লক্ষ্যবস্তু করে আঘাত হানতে সক্ষম দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে—এমন ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী-এর দাবি নাকচ করেছে যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ হাউজিং সেক্রেটারি স্টিভ রিড বলেন, ইরান যুক্তরাজ্যকে লক্ষ্যবস্তু করছে বা তাদের তা করতে সক্ষম—এমন কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য আমাদের কাছে নেই। এই মন্তব্য আসে গত শুক্রবার রাতের ঘটনায়, যখন ইরান ভারত মহাসাগরের চাগোস দ্বীপপুঞ্জে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের যৌথ সামরিক ঘাঁটিতে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। ওই ঘাঁটির দূরত্ব ইরান থেকে প্রায় ৩,৮০০ কিলোমিটার। ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর মধ্যে একটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে মাঝপথে পড়ে যায়, অপরটি প্রতিহত করা হয়। তবে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ব্রিটিশ ভূখণ্ডের কতটা কাছাকাছি পৌঁছেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই হামলার মাধ্যমে ইরানের দূরপাল্লার সামরিক সক্ষমতার ধারাবর্ধিত প্রমাণ মিলেছে। তবুও লন্ডন বা যুক্তরাজ্যের অন্যান্য অঞ্চলের উপর সরাসরি হুমকি হিসেবে এ মুহূর্তে ব্রিটিশ সরকার তা দেখছে না।
ইরানের কাছে লন্ডন পর্যন্ত আঘাত হানতে সক্ষম দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে—ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)-এর এমন দাবি নাকচ করে দিয়েছে যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি লন্ডনে পৌঁছাতে পারে—এমন কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য তাদের কাছে নেই। এ বিষয়ে দেশটির ক্যাবিনেট মন্ত্রী স্টিভ রিড বলেন, ইরান যুক্তরাজ্যকে লক্ষ্যবস্তু করছে বা তা করার সক্ষমতা রাখে—এমন সুনির্দিষ্ট মূল্যায়ন আমাদের কাছে নেই। এর আগে আইডিএফ দাবি করেছিল, তেহরান-এর হাতে এমন ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, যা প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। এদিকে সাম্প্রতিক এক ঘটনায় ইরান ভারত মহাসাগরে অবস্থিত যুক্তরাজ্য-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক ঘাঁটি দিয়েগো গার্সিয়া লক্ষ্য করে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এই ঘাঁটির দূরত্ব প্রায় ৩ হাজার ৮০০ কিলোমিটার। স্টিভ রিড জানান, নিক্ষেপ করা দুটি ক্ষেপণাস্ত্রের একটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয় এবং অন্যটি মাঝ আকাশে ধ্বংস করা হয়। তবে এগুলো ব্রিটিশ ভূখণ্ডের কতটা কাছাকাছি পৌঁছেছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, প্রায় ৩,৮০০ কিলোমিটার দূরে আঘাত হানার সক্ষমতা ইরানের সামরিক শক্তি বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়। তবে লন্ডন যেহেতু ইরান থেকে প্রায় ৪,৪০০ কিলোমিটার দূরে, তাই ব্রিটিশ সরকার এখনই এটিকে সরাসরি হুমকি হিসেবে বিবেচনা করছে না। তবে ইসরায়েল বারবার সতর্ক করে বলছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ক্রমেই বাড়ছে, যা ভবিষ্যতে ইউরোপের নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে।
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাত শুরুর পর থেকে ইরান ইসরায়েলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ৪০০টির বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী। রোববার দেওয়া এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। সংস্থাটির মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাদাভ শোশানি বলেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর পর থেকে ধারাবাহিকভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে ইসরায়েল। তিনি দাবি করেন, তাদের প্রতিরোধের সফলতার হার প্রায় ৯২ শতাংশ। তবে সব হামলা প্রতিহত করা সম্ভব হয়নি। শনিবার দক্ষিণ ইসরায়েল-এর দুটি শহরে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এতে অন্তত ১৮০ জনের চিকিৎসা সহায়তার প্রয়োজন হয়। এই পরিস্থিতির মধ্যে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি যুদ্ধে সরাসরি সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, ইরান কেবল ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্র-এর জন্য নয়, বরং ইউরোপসহ বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্যও হুমকি তৈরি করছে। রোববার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে নেতানিয়াহু বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে আরও দেশকে এই অভিযানে যুক্ত হওয়া প্রয়োজন। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথ অভিযান শুরু করার পর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে।
পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে গঠিত জোটে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন যোগ দিয়েছে। এতে মোট ২২টি দেশ এই উদ্যোগে সমর্থন জানিয়েছে। খবরটি জানিয়েছে ইউরঅ্যাক্টিভ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের প্রায় এক-চতুর্থাংশ তেল এবং সমুদ্রপথে পরিবাহিত গ্যাসের এক-পঞ্চমাংশ এই সংকীর্ণ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। তিন সপ্তাহ আগে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরান প্রণালিটি কার্যত বন্ধ করে দিলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়। প্রথমে বৃহস্পতিবার ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, ইতালি, নেদারল্যান্ডস ও জাপান যৌথ বিবৃতি দেয়, যেখানে ইরানের হরমুজ প্রণালি ‘কার্যত বন্ধ’ করে দেওয়ার নিন্দা করা হয়। পরবর্তীতে কানাডা, দক্ষিণ কোরিয়া, নিউজিল্যান্ড, ডেনমার্ক, লাটভিয়া, স্লোভেনিয়া, এস্তোনিয়া, নরওয়ে, সুইডেন, ফিনল্যান্ড, চেক প্রজাতন্ত্র, রোমানিয়া, লিথুয়ানিয়া ও অস্ট্রেলিয়া এ বিবৃতিতে সমর্থন জানায়। যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, উপসাগরে নিরস্ত্র বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের সাম্প্রতিক হামলার তীব্র নিন্দা জানাই। দেশগুলো মনে করিয়ে দিয়েছে, ইরানের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি এবং এর প্রভাব বিশ্বজুড়ে পড়বে। তারা নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে যথাযথ উদ্যোগে অংশ নেবে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান বিষয়ে সরাসরি কিছু বলা হয়নি। সব পক্ষকে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার আহ্বানও জানানো হয়েছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ন্যাটো মিত্রদের সমালোচনা করে বলেন, তারা সেনা পাঠাতে অনাগ্রহ দেখিয়ে ‘ভীরুতা’ প্রদর্শন করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের লক্ষ্য অর্জনের খুব কাছাকাছি এবং সামরিক অভিযান ধীরে ধীরে গুটিয়ে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী অন্যান্য দেশগুলোকেই এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে-যুক্তরাষ্ট্র নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পই একমাত্র ব্যক্তি যিনি বিশ্বজুড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারেন বলে মন্তব্য করেছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে ট্রাম্পের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি করেন। তাকাইচি বলেন, সমগ্র বিশ্ব বর্তমানে ভয়াবহ নিরাপত্তা সংকটের মধ্যে রয়েছে। বিশ্ব অর্থনীতি বড় ধরনের আঘাতের মুখে পড়ছে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, কেবল ট্রাম্পই সারা বিশ্বে শান্তি ফিরিয়ে আনতে সক্ষম। তিনি আরও উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে এই বার্তা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে পৌঁছে দিতে তিনি ওয়াশিংটনে এসেছেন। এ সময় জাপানি প্রধানমন্ত্রী ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখার বিষয়ও উল্লেখ করেন এবং পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোতে ইরানের হামলা ও হরমুজ প্রণালিতে বিঘ্ন ঘটানোর নিন্দা জানান।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার তৃতীয় সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক রূপ নেয়। ইরানের বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্রে হামলা চালায় ইসরায়েল, জবাবে তেহরান ও মধ্যপ্রাচ্যের চার দেশে সাতটি জ্বালানি স্থাপনায় পাল্টা হামলা করে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে ব্যারেল প্রতি প্রায় ১১৫ ডলারে পৌঁছেছে। ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, পুনরায় হামলা হলে যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদের জ্বালানি স্থাপনাগুলো সম্পূর্ণ ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত আক্রমণ চলবে। সৌদি আরব ও কাতারও পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছে। কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুলরহমান ইরানের হামলাকে ‘মারাত্মক উসকানিমূলক’ বলে উল্লেখ করেছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদের সঙ্গে ফোনে আলোচনা করেছেন। একইভাবে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ও কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানি যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় করেছেন। ইসরায়েলি হামলার পর গত ২৪ ঘণ্টায় বিভিন্ন স্থানে আহত হয়েছে অন্তত ১৭৭ জন। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় হাইফার তেল শোধনাগার, তেল আবিবের বহুতল ভবন এবং আমিরাতের হাবশান ও বাব তেলক্ষেত্রে ক্ষতি হয়েছে। আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কাতার ও বাহরাইন হামলা প্রতিহত করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাউথ পার্স ও কাতারের নর্থ ডোম গ্যাসক্ষেত্র বিশ্ব জ্বালানি চাহিদার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। হামলার ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়বে। বিশ্লেষক হামিদ রেজা আজিজি বলেছেন, “ইরান শুধুমাত্র সামরিক লক্ষ্যবস্তু নয়, অর্থনীতির মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত স্থাপনা লক্ষ্য করছে। এর অর্থনৈতিক প্রভাব বহু বছর ধরে পড়বে।” মার্কিন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও ভারতের এলএনজি সরবরাহের বড় অংশ কাতারের রাস লাফান স্থাপনার ওপর নির্ভরশীল। ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরে আসতে অনেক সময় লাগতে পারে। ফলে দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সতর্ক করে বলেছেন, “যুদ্ধ এখনই বন্ধ করার উপযুক্ত সময়। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের উচিত এই সংঘাত থামানো।”
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত তৃতীয় সপ্তাহে গড়াতেই নতুন মাত্রা পেয়েছে। ইরানের শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল—যা অঞ্চলটিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলছে। সর্বশেষ বুধবার ইরানের গোয়েন্দামন্ত্রী ইসমাইল খতিব নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত হয়েছে। এর আগে পরপর হামলায় দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নিহত হন। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ এসব হামলাকে তাদের ‘টার্গেটেড অপারেশন’-এর অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলাগুলোর লক্ষ্য ইরানের নেতৃত্ব কাঠামোকে দুর্বল করা। তবে তেহরান বলছে, এতে রাষ্ট্রের কার্যক্রমে কোনো প্রভাব পড়বে না। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর কারণে নেতৃত্বের পরিবর্তন ইরানকে দুর্বল করতে পারবে না। এদিকে এসব হামলার জবাবে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে পাল্টা আঘাত জোরদার করেছে ইরান। ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি বিভিন্ন উপসাগরীয় দেশে মার্কিন স্থাপনাও হামলার ঝুঁকিতে পড়েছে। ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন একাধিক দেশে প্রতিহত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো জানিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বজুড়ে তাদের দূতাবাস ও কূটনৈতিক মিশনে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ দিয়েছে। সংঘাতের প্রভাব পড়েছে জ্বালানি বাজারেও। হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল হয়ে পড়ায় বৈশ্বিক তেল পরিবহনে বিঘ্ন ঘটছে এবং দাম বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক মিত্রদের সহযোগিতা চাইলেও প্রত্যাশিত সাড়া পাচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্লেষকদের ধারণা, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে ইরান ভবিষ্যৎ আলোচনায় কৌশলগত সুবিধা নিতে পারে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও এ যুদ্ধ নিয়ে মতবিরোধ বাড়ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
ইরাকের রাজধানী বাগদাদে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস প্রাঙ্গণে ড্রোন হামলা হয়েছে। শনিবার এক নিরাপত্তা কর্মকর্তার বরাতে এ তথ্য জানায় মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন। প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার দূতাবাস প্রাঙ্গণে দুটি ড্রোন আঘাত হানে। এর আগে প্রাথমিকভাবে সেখানে মিসাইল (ক্ষেপণাস্ত্র) হামলার খবর পাওয়া গিয়েছিল। হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বা কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। ঘটনার পর নিরাপত্তা বাহিনী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। সূত্র: আল–জাজিরা
যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় দেশটির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক করেছে ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় ইরান প্রতিশোধমূলক হামলার চেষ্টা করতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকে এই সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। এফবিআইয়ের পক্ষ থেকে রাজ্য ও স্থানীয় পর্যায়ের নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ধারণা করা হচ্ছে, ইরান সমুদ্রপথ ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূলের দিকে আক্রমণাত্মক ড্রোন পাঠানোর পরিকল্পনা বিবেচনা করতে পারে। বিশেষ করে ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সম্ভাব্য হামলার নির্দিষ্ট সময়, লক্ষ্যবস্তু বা স্থান সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। মূলত নিরাপত্তা জোরদার ও সম্ভাব্য পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার অংশ হিসেবেই এই সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, সামরিক ঘাঁটি এবং কূটনৈতিক ভবনগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে বড় শহর ও উপকূলীয় এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে বড় ধরনের হামলা চালানো জটিল হলেও সীমিত পরিসরে প্রতিশোধমূলক হামলার সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সূত্র: এবিসি নিউজ
কানাডার টরন্টো শহরের ডাউনটাউনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলেট ভবনে গুলির ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় পুলিশ। মঙ্গলবার ভোরে এই ঘটনা ঘটে এবং বিষয়টি তদন্ত করছে কানাডার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পুলিশ জানিয়েছে, ভোরের দিকে কনস্যুলেট ভবনের দিকে গুলি ছোড়ার খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে ভবনের বাইরে গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে, তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। কানাডিয়ান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনাটি পরিকল্পিত হামলা নাকি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা—তা নিশ্চিত হতে তদন্ত চলছে। নিরাপত্তার স্বার্থে কনস্যুলেটের আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের টরন্টো কনস্যুলেটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কর্মী ও সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক উত্তেজনার মধ্যে এই ঘটনা ঘটায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং হামলার পেছনে কোনো রাজনৈতিক বা আন্তর্জাতিক কারণ রয়েছে কি না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ইরানের ব্যবহৃত ড্রোন মোকাবিলা এবং ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার (বৈদ্যুতিক যুদ্ধকৌশল) সক্ষমতা বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রসহ মোট ১১টি দেশ ইউক্রেনের কাছে সহায়তা চেয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। সোমবার ইউক্রেনের শীর্ষ সামরিক ও সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জেলেনস্কি এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ইরানের তৈরি ‘শাহেদ’ ড্রোন এবং এ ধরনের অন্যান্য হুমকি মোকাবিলায় নিরাপত্তা সহযোগিতার জন্য বিভিন্ন দেশ ইউক্রেনের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে। জেলেনস্কির ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের প্রতিবেশী কয়েকটি দেশ ছাড়াও ইউরোপের কিছু দেশ এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে এসব অনুরোধ এসেছে। তিনি জানান, প্রাপ্ত অনুরোধগুলো ইউক্রেন সরকার বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করেছে। তিনি আরও বলেন, ইউক্রেনের জনগণের জীবন ও দেশের স্বাধীনতা রক্ষায় যেসব দেশ সহযোগিতা করছে, তাদের অনুরোধে ইতিবাচকভাবে সাড়া দিতে কিয়েভ প্রস্তুত। ইউক্রেনের ধারণা, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা তাদের আন্তর্জাতিক মিত্রদের সঙ্গে দর–কষাকষির অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। কিয়েভ চাইছে, রাশিয়ার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের যুদ্ধে অর্জিত অভিজ্ঞতা ও দক্ষতাকে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সহযোগিতার অংশ হিসেবে তুলে ধরতে। জেলেনস্কি বলেন, ড্রোন প্রতিরোধে ইউক্রেনের বিশেষ অভিজ্ঞতা রয়েছে। রাশিয়ার বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে ইরানের তৈরি বিভিন্ন ড্রোনের মুখোমুখি হয়ে সেগুলো প্রতিরোধের কার্যকর পদ্ধতি ইতোমধ্যে অর্জন করেছে ইউক্রেন। তিনি আরও জানান, কিছু দেশের অনুরোধের ক্ষেত্রে ইতোমধ্যে ‘সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত’ নেওয়া হয়েছে এবং বিশেষ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেননি তিনি। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধে জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটির নিরাপত্তা জোরদারে ইউক্রেন একটি ড্রোন ধ্বংসকারী ব্যবস্থা এবং বিশেষজ্ঞ দল পাঠিয়েছে বলে নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেছিলেন জেলেনস্কি। ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার কী সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার বা ইডব্লিউ হলো এমন একটি প্রযুক্তি ও কৌশলগত ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে শত্রুপক্ষের যোগাযোগ, রাডার ও সিগন্যাল ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটানো হয়। এ ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ‘জ্যামিং’। এতে রেডিও বা রাডার সিগন্যালকে বাধাগ্রস্ত করে যোগাযোগ ব্যবস্থা অকার্যকর করা হয়। উদাহরণ হিসেবে রাশিয়ার আর–৩৩০ জেডএইচ জিটেল জ্যামারকে উল্লেখ করা হয়, যা নির্দিষ্ট দূরত্বের মধ্যে জিপিএস, স্যাটেলাইট যোগাযোগ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দিতে সক্ষম। এ ছাড়া শত্রুপক্ষকে বিভ্রান্ত করতে ভুয়া সিগন্যাল পাঠানোও ইলেকট্রনিক আক্রমণের একটি কৌশল। পূর্ব ইউক্রেনে সংঘাত চলাকালে রাশিয়ার বাহিনী বিশেষ ইলেকট্রনিক সিস্টেম ব্যবহার করে স্থানীয় মোবাইল নেটওয়ার্কে ভুয়া বার্তা প্রচারের ঘটনাও ঘটেছে।
ইরানে চলমান সামরিক অভিযানের সময় যুক্তরাষ্ট্রের মোট ১১টি উন্নতমানের ড্রোন ভূপাতিত হয়েছে বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। সর্বশেষ অভিযানে আরও দুটি ড্রোন হারানোর পর এ সংখ্যা ১১–তে পৌঁছেছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানায়, ভূপাতিত হওয়া ড্রোনগুলো এমকিউ–৯ রিপার মডেলের, যা যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম আধুনিক মানববিহীন আকাশযান হিসেবে পরিচিত। এ ধরনের ড্রোন মূলত গোয়েন্দা নজরদারি, তথ্য সংগ্রহ এবং নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত হামলার জন্য ব্যবহৃত হয়। সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান ও সীমিত সংঘাতপূর্ণ এলাকায় এগুলো কার্যকর হলেও শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাসম্পন্ন দেশের বিরুদ্ধে এগুলো তুলনামূলক বেশি ঝুঁকির মুখে পড়ে। প্রতিটি এমকিউ–৯ রিপার ড্রোনের মূল্য কয়েক কোটি মার্কিন ডলার। সে হিসেবে ১১টি ড্রোন হারানোর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩৩০ মিলিয়ন ডলার বলে ধারণা করা হচ্ছে। সামরিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, রিপার ড্রোনের সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় প্রায় ৩০০ মাইল, যা আধুনিক যুদ্ধবিমানের তুলনায় অনেক কম। এ কারণে উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ও শক্তিশালী বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকা অঞ্চলে এগুলো সহজেই প্রতিপক্ষের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে। তাদের মতে, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মুখোমুখি হলে এমন ড্রোন ব্যবহারে ঝুঁকি বাড়ে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews