- প্রচ্ছদ
- Topic
ইয়েমেন
সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের উচ্চাভিলাষী রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনা এখন একাধিক চ্যালেঞ্জের মুখে। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে নতুন করে তীব্র হওয়া সংঘাত, আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা—সব মিলিয়ে তাঁর নেতৃত্বাধীন সৌদি আরবের সামনে তৈরি হয়েছে কঠিন পরিস্থিতি। আন্তর্জাতিক সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্ট-এর ২০ অক্টোবর প্রকাশিত বিশ্লেষণেও যুবরাজের প্রধান কৌশলগুলোর ওপর চাপের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। সৌদি যুবরাজের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো ইয়েমেনের হুথি আন্দোলনকে ঘিরে সংঘাত। ২০১৫ সালে ইয়েমেনে সামরিক অভিযান শুরু করে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই সংঘাতে হুথিদের পুরোপুরি পরাজিত করা সম্ভব হয়নি। ২০২২ সালে যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ নেওয়া হলেও ২০২৬ সালে আঞ্চলিক সংঘাতের বিস্তারের সঙ্গে পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। দ্য ইকোনমিস্ট-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুথিদের হামলা ঠেকাতে সৌদি আরবের সামরিক সক্ষমতা ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও বিমান চলাচল ঘিরে নিরাপত্তা উদ্বেগ বেড়ে যায়। রয়টার্সের ২০ অক্টোবরের প্রতিবেদনে বলা হয়, হুথিরা সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা ও বিমানবন্দর লক্ষ্য করে হামলার দাবি করেছে। তবে এসব দাবির সবকিছু সৌদি কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেনি এবং রয়টার্সও স্বাধীনভাবে সেগুলো যাচাই করতে পারেনি। এদিকে আঞ্চলিক সংঘাতের কারণে সৌদি আরবের বিমান চলাচল ব্যাহত হয়েছে এবং দেশটির গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ সম্মেলন পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সৌদি নেতৃত্বের সামনে কঠিন সিদ্ধান্তের প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। সামরিক অভিযান আরও জোরদার করলে সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। অন্যদিকে, আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করলে হুথিদের সঙ্গে কী ধরনের সমঝোতা হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাগত জটিলতা দেখা দিতে পারে। ফলে শুধু সামরিক শক্তি দিয়ে সমস্যার সমাধান করা কতটা সম্ভব, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। মোহাম্মদ বিন সালমানের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো সৌদি আরবের অর্থনীতিকে তেলের ওপর নির্ভরশীলতা থেকে বের করে আনা। এ উদ্দেশ্যে চালু করা হয়েছে ‘ভিশন ২০৩০’ কর্মসূচি। এর আওতায় পর্যটন, প্রযুক্তি, বিনোদন, পরিবহন, আবাসন ও আন্তর্জাতিক ব্যবসায় বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। সৌদি আরবকে বৈশ্বিক পর্যটন ও ব্যবসার কেন্দ্রে পরিণত করাও এই কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য। তবে সাম্প্রতিক নিরাপত্তা সংকটের পাশাপাশি অর্থায়ন ও প্রকল্প বাস্তবায়নের সমস্যাও পরিকল্পনাটিকে চাপে ফেলেছে। রয়টার্সের আগের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে সৌদি আরব কিছু বড় প্রকল্পের পরিধি ও সময়সূচি পুনর্বিবেচনা করছে। জানুয়ারিতে রিয়াদের নিউ মুরাব্বা প্রকল্পের কেন্দ্রীয় আকৃতির বিশাল ভবন ‘মুকাব’-এর নির্মাণকাজও স্থগিত রাখার খবর প্রকাশিত হয়েছিল। নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হলে এই অর্থনৈতিক পরিকল্পনার ওপর আরও চাপ তৈরি হতে পারে। কারণ বিদেশি বিনিয়োগকারীরা কোনো দেশে অর্থ বিনিয়োগের আগে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা এবং ব্যবসার পরিবেশ বিবেচনা করেন। সৌদি আরবের বিমানবন্দর, জ্বালানি স্থাপনা কিংবা বড় আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠান ঝুঁকির মুখে পড়লে দেশটির বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্য অর্জন কঠিন হতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে ভিশন ২০৩০ পুরোপুরি ব্যর্থ হয়ে গেছে। পরিস্থিতির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নির্ভর করবে সংঘাত কত দিন স্থায়ী হয় এবং সরকার কীভাবে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারে, তার ওপর। সৌদি আরবের নিরাপত্তা কৌশলে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। উন্নত অস্ত্র, গোয়েন্দা সহযোগিতা এবং সামরিক অংশীদারত্বের ক্ষেত্রে ওয়াশিংটন রিয়াদের অন্যতম প্রধান সহযোগী। কিন্তু সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনা সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। দ্য ইকোনমিস্ট-এর বিশ্লেষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর সৌদি যুবরাজের নির্ভরতার বিষয়টিও উঠে এসেছে। সৌদি আরব আশা করেছিল, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আঞ্চলিক সংকটে দেশটির অবস্থানকে শক্তিশালী করবে। কিন্তু নিরাপত্তা পরিস্থিতি জটিল হওয়ায় শুধু যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করে সব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব কি না, সেই প্রশ্ন সামনে এসেছে।
ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শাবওয়া প্রদেশের আল-আলম সামরিক ঘাঁটিতে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ৫৩ জন সেনা নিহত হয়েছেন। সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে নতুন রিক্রুট হওয়া তরুণ সেনাদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ চলাকালে আকস্মিকভাবে এই ধ্বংসাত্মক হামলা চালানো হয়। হামলার পরপরই পুরো প্রশিক্ষণ মাঠ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। স্থানীয় প্রশাসনের বরাতে জানা গেছে, প্রাথমিক তথ্যে হতাহতের সংখ্যা কম মনে হলেও উদ্ধারকাজের পর নিশ্চিত হওয়া গেছে যে নিহতের সংখ্যা অর্ধশত ছাড়িয়েছে এবং এতে আহত হয়েছেন আরও প্রায় দুই শতাধিক সেনাসদস্য। এই বর্বরোচিত হামলার পর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ইয়েমেন সরকার। ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট লিডারশিপ কাউন্সিলের প্রধান রাশাদ আল-আলিমী হুথিদের এমন কাপুরুষোচিত কর্মকাণ্ডের কঠোর নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সম্মুখসমরে টিকতে না পেরে এখন অবুঝ তরুণ প্রশিক্ষণার্থীদের ওপর নিশানা বানাচ্ছে বিদ্রোহীরা। তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, এই ভয়াবহ হামলার দাঁতভাঙা ও কঠোর জবাব দেওয়া হবে। অন্যদিকে, রাখঢাক না রেখেই আনুষ্ঠানিকভাবে এই হামলার সম্পূর্ণ দায় স্বীকার করেছে হুথি বিদ্রোহীরা। রাজধানী সানা থেকে তাদের সামরিক মুখপাত্র ঘোষণা দেন যে, ইয়েমেনের মাটিতে সৌদি-সমর্থিত সব সেনাক্যাম্প গুঁড়িয়ে দেওয়াই এখন তাঁদের মূল লক্ষ্য। এদিকে লোহিত সাগরে সংঘাতের পর ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ নতুন রূপ ধারণ করেছে। সরকারি বাহিনীর হারানো অঞ্চল উদ্ধারে শুরু হওয়া ‘ডন অব ইয়েমেন’ অভিযানের মুখে পাল্টাপাল্টি হামলায় পুরো অঞ্চলজুড়ে চরম উত্তেজনা ও রক্তক্ষয় ছড়িয়ে পড়েছে।
ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ধামার প্রদেশে আবাসিক বাড়িতে বিমান হামলায় তিন শিশু নিহত হয়েছে। হামলায় আরও এক ডজনের বেশি মানুষ আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে হুতি-নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। শনিবার, ১৭ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলাটি আগের দিন শুক্রবার ধামার প্রদেশের ধুরান আনিস জেলার আল-আর গ্রামে আঘাত হানে। নিহত শিশুদের মধ্যে একজনের বয়স আট বছর এবং অন্য দুজনের বয়স ১০ বছর। তারা একই পরিবারের সদস্য বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। হুতি বিদ্রোহীরা এই হামলার জন্য সৌদি আরবকে দায়ী করেছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, হামলায় আবাসিক বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং নারী ও শিশুসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে হামলার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। ফলে হামলার দায়, ব্যবহৃত অস্ত্র এবং ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ বিবরণ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। এই ঘটনা এমন সময় ঘটল, যখন ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠী এবং সৌদি আরব-সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনীর মধ্যে সংঘাত আবারও তীব্র হচ্ছে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকার ও হুতিদের মধ্যে দীর্ঘদিনের সংঘাত দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে নিরাপত্তাহীনতা, বাস্তুচ্যুতি এবং মানবিক সংকট বাড়িয়েছে। নতুন করে লড়াই ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষের জীবন ও জরুরি পরিষেবার ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে। হুতি-নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি, সেপ্টেম্বর থেকে তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় সংঘাতের ঘটনায় ১২৪ জন নিহত হয়েছেন। এই সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি এবং এটি ইয়েমেনের পুরো দেশের মোট হতাহতের হিসাব নয়। সংঘাতের দুই পক্ষের বক্তব্য এবং স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য আলাদা করে বিবেচনা করা জরুরি। ইয়েমেনের সাম্প্রতিক সংঘাত শুধু দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার বিষয় নয়; এর প্রভাব পুরো মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার ওপরও পড়তে পারে। একই সময়ে পারস্য উপসাগরে দুটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার খবর এবং হরমুজ প্রণালিতে একটি তেলবাহী জাহাজ মাইনে আঘাত পাওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছে। এসব ঘটনার মধ্যে সরাসরি যোগসূত্র নিশ্চিত না হলেও, উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তাঝুঁকি বাড়লে আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহন ও বাণিজ্য বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। আবাসিক এলাকায় শিশুদের প্রাণহানি আবারও যুদ্ধের সময় বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষার প্রশ্ন সামনে এনেছে। আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী, সংঘাতের সব পক্ষকে বেসামরিক মানুষ ও সামরিক লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে পার্থক্য করতে হবে এবং বেসামরিক নাগরিকদের ক্ষতি এড়াতে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। এই নির্দিষ্ট হামলায় আইন লঙ্ঘন হয়েছে কি না, তা নির্ধারণ করতে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন তদন্ত প্রয়োজন।
ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর এডেনে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ কমপ্লেক্সে হুতিদের হামলায় অন্তত পাঁচজন নি হ ত এবং ১৬ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনার পর দেশটিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। একই সময়ে সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগও সামনে এসেছে। এর ফলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এডেনের আল-মাশিক প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ কমপ্লেক্সে হামলার সময় ইয়েমেনের প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যরা নিরাপদে ছিলেন বলে জানানো হয়েছে। হুতিদের এক মুখপাত্র দাবি করেছেন, সৌদি আরবের সামরিক অভিযান পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সদর দপ্তরকে লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়েছে। তবে হামলার বিষয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে। ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থনকারী সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, সৌদি আরবের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার হুমকি বেড়েছে। জোটের দাবি, চলতি মাসে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে প্রায় ২০টি হামলা চালানো হয়েছে। এসব ঘটনায় ১৭ জন নি হ ত এবং ৩৩৩ জন আহত হয়েছেন বলে জোটের এক মুখপাত্র দাবি করেছেন। সৌদি আরবের আবহা বিমানবন্দরেও হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানানো হয়েছে। এসব ঘটনায় তিনজন নি হ ত এবং ২৮ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে জোট। তবে এসব হামলার প্রতিটি ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ এবং হতাহতের তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট আরও দাবি করেছে, সামরিক অভিযানে হুতিদের ১২৭টি অস্ত্রের গুদাম ও হামলা চালানোর জন্য ব্যবহৃত স্থাপনা ধ্বংস করা হয়েছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, এসব অভিযানের লক্ষ্য ছিল সৌদি আরবের নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করা সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা। অন্যদিকে, হুতিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছে। সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের খামিস মুশাইত শহরের কাছে ড্রোন প্রতিহত করার ঘটনাও সামনে এসেছে। পাশাপাশি নাজরান ও জিজান এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এসব এলাকা ইয়েমেনের সীমান্তের কাছাকাছি হওয়ায় সেখানে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ঝুঁকিতে পড়লে এর প্রভাব শুধু দেশটির নিরাপত্তায় সীমাবদ্ধ থাকবে না। বিমান চলাচল, জ্বালানি সরবরাহ এবং আঞ্চলিক বাণিজ্যেও এর প্রভাব পড়তে পারে। এ কারণে সম্ভাব্য হামলার হুমকি মোকাবিলায় নিরাপত্তা জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। হুতিদের সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। সৌদি আরব ও তার মিত্ররা অভিযোগ করে আসছে, ইরান হুতিদের সামরিক সহায়তা দেয়। তবে তেহরান হুতিদের অস্ত্র সরবরাহের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। ইয়েমেনের সংঘাতের সঙ্গে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সম্পৃক্ততা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হয় ২০১৪ সালে, যখন হুতিরা রাজধানী সানা দখল করে। পরের বছর, ২০১৫ সালে, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে পুনর্বহাল করার লক্ষ্যে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট সামরিক অভিযান শুরু করে। দীর্ঘ সংঘাতে দেশটির অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং লাখো মানুষ মানবিক সংকটের মুখে পড়েছেন। ২০২২ সালে যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে সংঘাত কিছুটা কমলেও স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান হয়নি। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন এলাকায় আবারও লড়াই ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। ইয়েমেনের ভৌগোলিক অবস্থানও এই সংঘাতকে আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। দেশটির কাছেই বাব আল-মান্দেব প্রণালি, যা আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ। এডেনে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে হামলা এবং সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার অভিযোগ—দুটি ঘটনাই আঞ্চলিক উত্তেজনার বিস্তারের আশঙ্কা বাড়িয়েছে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের প্রভাব প্রতিবেশী দেশগুলোর নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।
ইয়েমেনের হুতিদের ধারাবাহিক হা মলার মধ্যে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে কঠোর নিরাপত্তায় বাংকার সুবিধাসম্পন্ন বিভিন্ন রাজপ্রাসাদে পর্যায়ক্রমে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। যুবরাজের চলাচল সম্পর্কে অবগত কর্মকর্তাদের বরাতে সংবাদমাধ্যমটি বলেছে, বিশেষভাবে বাছাই করা নিরাপত্তা দল তাঁর সুরক্ষার দায়িত্বে রয়েছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্য উদ্ধৃত করে দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের ১২ অক্টোবরের প্রতিবেদনে বলা হয়, ৬ অক্টোবর একটি জাতীয় রক্তদান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পর যুবরাজকে তখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। তাঁর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে মন্তব্য জানতে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল সংবাদমাধ্যমটি। গত ১০ অক্টোবর রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হা মলায় অন্তত ১৩ জন নি হত এবং ৩০০ জনের বেশি আ হত হন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস দুই আঞ্চলিক কর্মকর্তার বরাতে জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের ওই হা মলা ঠেকাতে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা কেন ব্যর্থ হয়েছিল, তা তদন্ত করছে সৌদি আরব। কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক অনুসন্ধানে আগে ড্রোন এবং পরে ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে। ধারাবাহিক হা মলায় রিয়াদের বিমান চলাচলেও বিঘ্ন ঘটেছে। আগের পাঁচ দিনে কিং খালিদ বিমানবন্দরে চারবার হা মলা হয়। উড়োজাহাজ চলাচলবিষয়ক তথ্যপ্রতিষ্ঠান সিরিয়ামের হিসাবে, সোমবার বিমানবন্দরটির নির্ধারিত ফ্লাইটের প্রায় ৬০ শতাংশ বাতিল হওয়ার আশঙ্কা ছিল। হা মলা প্রতিহত করতে গিয়ে সৌদি আরবের ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতও কমে আসছে বলে জানিয়েছেন আঞ্চলিক কর্মকর্তারা। গত মাসে এপিকে তাঁরা বলেন, আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদারে ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, পাকিস্তান ও মিসরের কাছে সহায়তা চেয়েছে রিয়াদ। এদিকে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সভাপতিত্বে সৌদি মন্ত্রিসভা হুতিদের ধারাবাহিক হা মলার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানায়। একই রাতে ধাহরানে সৌদি আরামকোর একটি প্রশাসনিক ভবনে হা মলার পর সীমিত অগ্নিকাণ্ড ঘটে। বুধবার সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ওই ঘটনায় কেউ হতা হত হননি। উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক যোগাযোগও অব্যাহত রয়েছে। গত রোববার সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির মধ্যে ফোনালাপ হয়। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরব ও ইয়েমেনের মধ্যে সংলাপ এগিয়ে নিতে সহায়তার প্রস্তুতি থাকার কথা জানিয়েছেন আরাগচি। ২০১৫ সালে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের পক্ষে সৌদি আরব সামরিক হস্তক্ষেপ করার পর হুতিদের সঙ্গে সংঘাত তীব্র হয়। ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতির পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও সাম্প্রতিক হা মলা ও পাল্টা সামরিক অভিযানে দুই পক্ষের উত্তেজনা আবার বেড়েছে।
ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের অব্যাহত হামলার মুখে থাকা সৌদি আরবকে সহায়তা করতে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানকে অনুরোধ করার কথা ভাবছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প জানান, হুথিদের আচরণ অত্যন্ত আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে তিনি হয়তো এরদোয়ানকে সংঘাতে হস্তক্ষেপ করে সৌদি আরবের স্বার্থ রক্ষায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানাবেন। ট্রাম্প আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে অনুরোধ করলে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান হয়তো এই সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেবেন। এর আগে মক্কায় স্বাক্ষরিত একটি ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় তুরস্ক ও পাকিস্তান ইতোমধ্যে সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়ে রেখেছে। এ ছাড়া হুথিদের সঙ্গে চলমান সংঘাত ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গেও তার আলোচনা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। অন্যদিকে চলমান ইরান যুদ্ধ প্রসঙ্গে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র শিগগিরই তেহরানের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান পাকাপোক্ত করতে এবং সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সামরিক সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছিলেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান সেই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। একটি কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় নেতানিয়াহু এই প্রস্তাব পাঠিয়েছিলেন, যার মূল লক্ষ্য ছিল হুথিদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের মাধ্যমে রিয়াদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক স্থাপনের পথ সুগম করা। কিন্তু যুবরাজ সালমান আশঙ্কা করেছেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের প্রকাশ্য সহায়তা গ্রহণ করলে সৌদি আরবের সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও জনঅসন্তোষের সৃষ্টি হতে পারে। মূলত অভ্যন্তরীণ জনমতের কথা বিবেচনা করেই ইসরায়েলি প্রস্তাবটি ফিরিয়ে দিয়েছে রিয়াদ।
আফ্রিকার দেশ জিবুতি থেকে ইয়েমেন যাওয়ার পথে প্রায় ৩৫০ জন অভিবাসী নিয়ে একটি নৌকা ডুবে অন্তত ১০৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১৫ শিশু রয়েছে। এ ঘটনায় এখনো ১১৬ জনের বেশি নিখোঁজ রয়েছেন। দুর্ঘটনার পর ৮০ জনের বেশি মানুষকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার (১১ অক্টোবর) জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা জানিয়েছে, নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে জিবুতির কর্তৃপক্ষ উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইনডিপেনডেন্টের ১১ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় জিবুতির ওবক বন্দর শহরের উত্তরে গুহেরে এলাকার কাছে নৌকাটি ডুবে যায়। নৌকাটিতে থাকা অভিবাসীরা জিবুতি থেকে সমুদ্রপথে ইয়েমেনের উদ্দেশে যাত্রা করেছিলেন। বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দুর্ঘটনার প্রাথমিক বিবরণ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত উদ্ধার করা ১০৯টি মরদেহের মধ্যে ৫২ জন পুরুষ, ৪২ জন নারী এবং ১৫ শিশু রয়েছে। নিহত শিশুদের মধ্যে নয়জন মেয়ে ও ছয়জন ছেলে। তবে নিহতদের সবার পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। দুর্ঘটনার পর জিবুতির স্থানীয় কর্তৃপক্ষ অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান শুরু করে। সমুদ্রে নিখোঁজ ব্যক্তিদের খুঁজে বের করতে উদ্ধারকর্মীরা কাজ করছেন। তবে নিখোঁজদের সবাইকে জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ কোনো নিশ্চিত তথ্য জানায়নি। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা জানিয়েছে, নৌকাডুবি থেকে বেঁচে যাওয়া ৮০ জনের বেশি মানুষ ইথিওপিয়ার নাগরিক। তাঁদের মধ্যে ৬৪ জনকে জিবুতির ওবক এলাকায় অবস্থিত অভিবাসী সহায়তা কেন্দ্রে জরুরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের প্রাথমিক সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে সংস্থাটি। দুর্ঘটনায় স্বজন হারানো পরিবারগুলোর জন্যও ঘটনাটি গভীর মানবিক সংকট তৈরি করেছে। জিবুতিতে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার মিশনপ্রধান আলেক্সান্দ্রে কোয়াসাক এই নৌকাডুবিকে প্রাণহানির একটি ভয়াবহ ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং নিখোঁজ স্বজনদের খবরের অপেক্ষায় থাকা পরিবারগুলোর প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেছেন। কোয়াসাক জানান, সংস্থাটির কর্মীরা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘটনাস্থলে জরুরি সহায়তা কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছেন। তাঁর মতে, অর্থনৈতিক সুযোগের সন্ধানে ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথে যাত্রা করা অভিবাসীরা কতটা বিপদের মুখে পড়তে পারেন, এই দুর্ঘটনা আবারও সেই বাস্তবতা সামনে এনেছে। তবে নৌকাটি ঠিক কী কারণে ডুবে গেছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। দুর্ঘটনার সময় সমুদ্রের আবহাওয়া, নৌকার অবস্থা কিংবা অন্য কোনো কারণ ভূমিকা রেখেছিল কি না, তা প্রকাশিত প্রাথমিক প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই। জিবুতি ও ইয়েমেনের মধ্যবর্তী সমুদ্রপথ দীর্ঘদিন ধরে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে আসা অভিবাসীদের যাতায়াতের একটি পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। অর্থনৈতিক সুযোগের সন্ধানে অনেকে এই পথ দিয়ে ইয়েমেনে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন। তবে বর্তমানে ইয়েমেনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। সৌদি আরবসমর্থিত সরকারি বাহিনী এবং ইরানসমর্থিত হুথি গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘাত সাম্প্রতিক সময়ে তীব্র হয়েছে। ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতির পর সীমান্ত অতিক্রম করে হামলার ঘটনা অনেকাংশে কমে এসেছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সংঘাতকে সেই সময়ের পর সবচেয়ে গুরুতর উত্তেজনা হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে। নতুন সংঘাতের কারণে ইয়েমেনের বিভিন্ন এলাকায় মানুষের বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঘটনাও বেড়েছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার গত সপ্তাহে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ের ৭৬ হাজার থেকে বেড়ে দুই লাখে পৌঁছেছে। একই সময়ে ইয়েমেন ছেড়ে সমুদ্রপথে জিবুতিতে যাওয়া মানুষের সংখ্যাও বেড়েছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহ পর্যন্ত তিন হাজার ৭০০ জনের বেশি মানুষ ইয়েমেন থেকে সমুদ্রপথে জিবুতিতে আশ্রয় নিয়েছেন। একদিকে সংঘাতের কারণে ইয়েমেন থেকে মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে অন্যত্র চলে যাচ্ছেন, অন্যদিকে অর্থনৈতিক সুযোগের আশায় আফ্রিকা থেকে অভিবাসীরা দেশটিতে প্রবেশের চেষ্টা করছেন। এই পরিস্থিতিতে জিবুতি ও ইয়েমেনের মধ্যবর্তী সমুদ্রপথে মানুষের চলাচল অব্যাহত রয়েছে। এদিকে গত মাসে ইথিওপিয়াতেও নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। দেশটির টাইগ্রে যুদ্ধের পর এটিকে অন্যতম বড় সংঘাত বৃদ্ধির ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তবে সর্বশেষ নৌকাডুবির সঙ্গে ইথিওপিয়ার এই সংঘাতের সরাসরি কোনো সম্পর্ক রয়েছে বলে নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিরা সবাই ইথিওপিয়ার নাগরিক বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা। তবে নৌকায় থাকা সব যাত্রীর জাতীয়তা সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। নৌকাটিতে প্রায় ৩৫০ জন যাত্রী থাকার তথ্য বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের বর্ণনার ভিত্তিতে প্রকাশ করা হয়েছে। ফলে যাত্রীর প্রকৃত সংখ্যা এবং নিখোঁজ ব্যক্তিদের চূড়ান্ত হিসাব পরবর্তী উদ্ধার কার্যক্রমে পরিবর্তিত হতে পারে। এখন পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে ১০৯ জনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। একই সঙ্গে ১১৬ জনের বেশি নিখোঁজ থাকার তথ্য জানানো হয়েছে। উদ্ধার অভিযান চলমান থাকায় মৃত ও জীবিত উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের সংখ্যা সম্পর্কে নতুন তথ্য আসতে পারে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা জানিয়েছে, স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে জরুরি সহায়তা অব্যাহত রাখা হচ্ছে। নিখোঁজদের সন্ধান এবং বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়াই এখন অগ্রাধিকার। জিবুতি উপকূলে এই নৌকাডুবিতে শিশু ও নারীসহ বিপুলসংখ্যক মানুষের মৃত্যু অভিবাসীদের ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রযাত্রার বিষয়টি আবারও সামনে এনেছে। নিখোঁজ শতাধিক মানুষের ভাগ্য এখনো অনিশ্চিত। তাঁদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ইয়েমেনে সং ঘা ত তীব্র হয়ে ওঠার মধ্যেই সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এর প্রেক্ষাপটে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের সমন্বয়ে গঠিত মক্কা প্রতিরক্ষা জোট দ্রুত সক্রিয় হওয়ার পথে এগোচ্ছে। ৫ অক্টোবর রিয়াদে অনুষ্ঠিত জরুরি বৈঠকে তিন দেশ সম্মিলিত প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে সৌদি আরবে প্রয়োজনীয় সামরিক বাহিনী ও সক্ষমতা দ্রুত মোতায়েনের ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের চুক্তি সই হয়েছিল চলতি বছরের ৭ আগস্ট। চুক্তির মূল বিষয় হলো, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র আ ক্র ম ণকে তিন দেশের ওপর আ ক্র ম ণ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। ন্যাটোর সম্মিলিত প্রতিরক্ষা নীতির সঙ্গে এর কিছুটা মিল রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক বৈঠকের পরও জোটটিকে পুরোপুরি কার্যকর সামরিক জোট হিসেবে বিবেচনা করার মতো সব কাঠামো এখনো তৈরি হয়নি। বরং সদস্য দেশগুলো এখন সেই কাঠামো বাস্তবায়নের দিকে এগোচ্ছে। ৫ অক্টোবরের বৈঠকে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের পাশাপাশি শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারাও অংশ নেন। বৈঠকে সৌদি আরবের নিরাপত্তার জন্য সম্মত সামরিক বাহিনী ও সক্ষমতা দ্রুত মোতায়েনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তবে ঠিক কত সেনা, কী ধরনের সরঞ্জাম বা কোন কোন ইউনিট সৌদি আরবে পাঠানো হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। বৈঠকে জোটের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরির কাজও এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। পাকিস্তানের অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল নোমান মাহমুদকে মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের প্রথম মহাসচিব নিয়োগ করা হয়েছে। তিনি তিন বছরের জন্য দায়িত্ব পালন করবেন। নতুন এই সচিবালয়ের মাধ্যমে তিন দেশের সামরিক সমন্বয়, প্রস্তুতি ও যৌথ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই উদ্যোগের পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ ইয়েমেনের দ্রুত অবনতিশীল পরিস্থিতি। ইরান-সমর্থিত হুথি বাহিনী ও সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে লড়াই আবার তীব্র হয়েছে। বিশেষ করে লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রান্তে কৌশলগত বাব আল-মান্দাব প্রণালি এবং এর আশপাশের অঞ্চল নিয়ে দুই পক্ষের লড়াই নতুন মাত্রা পেয়েছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের নিরাপত্তা নিয়ে তাই আঞ্চলিক উদ্বেগও বাড়ছে। ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের বাহিনী সম্প্রতি হুথিদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা পুনর্দখলের জন্য ‘ডন অব ইয়েমেন’ নামে অভিযান শুরু করেছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট এই অভিযানে বিমান সহায়তা দিচ্ছে। জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুরকি আল-মালিকি জানিয়েছেন, অভিযানের প্রথম পর্যায়ে প্রায় ১০০টি যুদ্ধবিমান অংশ নিয়েছে এবং স্থলবাহিনীকে নিয়মিত বিমান সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। সরকারি বাহিনী বাব আল-মান্দাব প্রণালির আশপাশে এবং মক্কা বন্দরের কাছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান পুনর্দখলের দাবি করেছে। ধুবাব বিমানবন্দর ও আশপাশের এলাকাতেও তাদের অগ্রগতির কথা জানানো হয়েছে। তবে হুথিরা সরকারি বাহিনীর সব দাবির সঙ্গে একমত নয়। একই সময়ে দক্ষিণ-পশ্চিম ইয়েমেনের তায়েজের দিকে হুথিদের অগ্রসর হওয়ার খবরও পাওয়া যাচ্ছে। ফলে সামরিক পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত অনিশ্চিত। ইয়েমেনের লড়াইয়ের প্রভাব এখন সৌদি আরবের ভূখণ্ডেও পড়ছে। সাম্প্রতিক সময়ে হুথিরা সৌদি শহর, বিমানবন্দর ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ক্ষে প ণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসব হা ম লার কয়েকটি লক্ষ্যবস্তু ছিল গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও জ্বালানি স্থাপনা। ৫ অক্টোবরের মক্কা জোটের বৈঠকেও সৌদি শহর ও বেসামরিক এবং অর্থনৈতিক স্থাপনায় হা ম লার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষভাবে পবিত্র মক্কা ও মদিনাকে ঘিরে যেকোনো নিরাপত্তা হুমকিকে অত্যন্ত গুরুতর হিসেবে দেখছে তিন দেশ। জরুরি বৈঠকের পর দেওয়া যৌথ বিবৃতিতে মক্কা ও মদিনাকে লক্ষ্য করার চেষ্টার নিন্দা জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সৌদি আরবের শহর এবং বেসামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনায় চলমান হা ম লার বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান ঘোষণা করা হয়েছে। তুরস্ক ইতোমধ্যে সৌদি আরবকে প্রযুক্তিগত ও প্রতিরক্ষামূলক সহায়তা দেওয়ার পথে এগিয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, তুরস্কের সহায়তার মধ্যে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ড্রোন পরিচালনায় সহায়তা, গোয়েন্দা তথ্য ও সামরিক সরঞ্জাম রয়েছে। পাকিস্তানও সৌদি আরবে আগে থেকেই সামরিক উপস্থিতি বজায় রেখেছে। তবে মক্কা চুক্তির আওতায় এই সহায়তা ভবিষ্যতে কতটা বিস্তৃত হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ জানিয়েছেন, পাকিস্তান ও তুরস্ক বর্তমানে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, গোয়েন্দা নজরদারি ও অন্যান্য সহায়তায় দুই দেশ যুক্ত থাকলেও ইয়েমেনের ভেতরে সরাসরি স্থল লড়াইয়ে সৌদি বাহিনীই প্রধান ভূমিকা পালন করছে। এতে পাকিস্তান ও তুরস্ক কতদিন সরাসরি লড়াইয়ের বাইরে থাকতে পারবে, তা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের সামনে এখন মূল চ্যালেঞ্জ হলো সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অথচ ইয়েমেনের সংঘাতে সরাসরি বড় ধরনের সামরিক জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি এড়িয়ে চলা। কারণ ইয়েমেনের ভূখণ্ডে সংঘাত যত দীর্ঘ হবে, সৌদি আরবের শহর, জ্বালানি অবকাঠামো ও গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথের ওপর চাপ তত বাড়তে পারে। সব মিলিয়ে, মাত্র কয়েক মাস আগে গঠিত মক্কা প্রতিরক্ষা জোট এখন রাজনৈতিক ঘোষণা থেকে বাস্তব নিরাপত্তা সহযোগিতার দিকে এগোচ্ছে। তবে জোটটি কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে তিন দেশের সামরিক সমন্বয়, বাহিনী মোতায়েনের পরিধি এবং ইয়েমেনের চলমান সং ঘা ত কতটা বিস্তৃত হয় তার ওপর। আপাতত সৌদি আরবের নিরাপত্তা হুমকি এই নতুন জোটের জন্য প্রথম বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক ড্রোন ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলায় সৌদি আরবের যুদ্ধবিমানে আকাশে জ্বালানি সরবরাহের সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাজ্য। রিয়াদের আনুষ্ঠানিক অনুরোধের পর সাইপ্রাসে অবস্থিত ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি থেকে রয়্যাল এয়ার ফোর্সের (আরএএফ) ‘ভয়েজার’ সামরিক বিমান মোতায়েন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী লুক পোলার্ড। বিবিসি রেডিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করেছেন, এই সামরিক সহায়তা সম্পূর্ণ ‘আত্মরক্ষামূলক’ অভিযানের জন্য বরাদ্দ থাকবে এবং এটি কয়েক সপ্তাহের মতো একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য পরিচালিত হবে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সৌদি রাজধানী রিয়াদ এবং লোহিত সাগর উপকূলের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনা লক্ষ্য করে হুথিরা দফায় দফায় হামলা চালানোর প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত এল। লন্ডনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আরএএফ ভয়েজার বিমানের মাধ্যমে আকাশে জ্বালানি ভরার এই ব্যবস্থার ফলে সৌদি যুদ্ধবিমানগুলো দীর্ঘ সময় আকাশে অবস্থান করে হুথিদের নিক্ষিপ্ত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করতে পারবে। এই পদক্ষেপকে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে যুক্ত করে দেখা হচ্ছে। বিশ্বের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক রুট লোহিত সাগরের কৌশলগত মোখা বন্দর ও পেরিম দ্বীপ সম্প্রতি হুথিরা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ এবং সমুদ্রপথে বাণিজ্যে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। যুক্তরাজ্যের কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন, লোহিত সাগরে সংঘাত বৃদ্ধি পেলে তা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের মূল্যস্ফীতি আরও উসকে দিতে পারে, যা নিয়ন্ত্রণে রাখতেই মিত্রদেশকে এই প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এদিকে ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুত্তেও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে সৌদি আরবকে ইউরোপীয় মিত্রদের সহায়তা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ব্রিটিশ বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, প্রতীকী অর্থে একটিমাত্র জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান পাঠানো হলেও দীর্ঘমেয়াদে এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাজ্যকে মধ্যপ্রাচ্যের একটি জটিল ও দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের গভীরে টেনে নিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এর আগে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথভাবে ইয়েমেনে হুথি লক্ষ্যবস্তুতে একাধিক বিমান হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাজ্য।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শেষ মুহূর্তে হা মলার পরিকল্পনা বাতিল করার পর ইয়েমেনে আরও বড় ধরনের সাম রিক অগ্রযাত্রা শুরু করেছে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রো হীরা। কৌশলগত উচ্চভূমি দখলের পাশাপাশি সৌদি আরব-সমর্থিত বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকাগুলোকে লোহিত সাগরের উপকূল থেকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করছে তারা। প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার হুতিদের বিরুদ্ধে বিমান হা মলা চালানোর প্রস্তুতি নিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, সৌদি যুবরাজের নতুন করে সাম রিক সহায়তার অনুরোধ পাওয়ার পর ট্রাম্প প্রশাসন এ প্রস্তুতি নেয়। এমনকি হা মলার জন্য বিমানগুলোতে বো মা তোলার কাজও শুরু হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে শেষ মুহূর্তে ট্রাম্প ওই বিমান হা মলা বাতিল করেন বলে দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। হা মলা কেন বন্ধ করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো কারণ প্রকাশ করা হয়নি। এর মধ্যেই হুতিরা ইয়েমেনের কৌশলগত এলাকাগুলোতে দ্রুত অগ্রসর হতে থাকে। রয়টার্স জানিয়েছে, ইয়েমেনের সৌদি-সমর্থিত এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের প্রেসিডেন্ট রশিদ আল-আলিমি রোববার ফোনে ট্রাম্পের কাছে মার্কিন সাম রিক সহায়তা চেয়েছেন। চারটি সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থাটি। এর আগে শনিবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদেও বি স্ফো রণের শব্দ শোনা যায় এবং বিমানবন্দরের কাছে ধোঁয়া দেখা যায়। হুতিরা দাবি করেছে, তারা রিয়াদ লক্ষ্য করে ক্ষে পণা স্ত্র ছুড়েছে। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কের পথে রয়েছেন। এর কয়েক দিন আগেই ট্রাম্প ইরানকে উদ্দেশ করে দেশটির বিরুদ্ধে কঠোর হু মকি দিয়েছিলেন। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তে জনার মধ্যে ইয়েমেনে হুতিদের নতুন অগ্রযাত্রা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী এবং সৌদি আরবের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে তুরস্ক ও পাকিস্তানকে কড়া হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। ইয়েমেন সংঘাতে সৌদি আরবের পক্ষে কোনো ধরনের সামরিক হস্তক্ষেপে যুক্ত হলে এই দুই দেশকে কঠোর ও নির্মম জবাব দেওয়ার হুমকি দিয়েছে হুথি গোষ্ঠী। ইরাকি টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘অ্যানাদার রিডিং’-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই কড়া বার্তা দেন হুথিদের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য ও ধামার প্রদেশের গভর্নর মোহাম্মদ আল-বুখাইতি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, তুরস্ক ও পাকিস্তান যদি এই সংঘাতে সামরিকভাবে জড়ায়, তবে তাদের ওপর কঠোর আঘাত হানা হবে এবং উচিত শিক্ষা দেওয়া হবে। তবে তিনি এ-ও উল্লেখ করেন যে, এই দেশগুলোর সাধারণ মানুষের মনে ইয়েমেনের প্রতি গভীর সহানুভূতি রয়েছে, তাই এই হুঁশিয়ারি মূলত দেশগুলোর সরকারের উদ্দেশে দেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনায় হুথিদের ধারাবাহিক হামলার পর রিয়াদ, ইসলামাবাদ ও আঙ্কারার মধ্যকার ত্রিপক্ষীয় যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে। গত ৭ আগস্ট এই তিন দেশের মধ্যে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যার মূল লক্ষ্য সম্মিলিত প্রতিরক্ষা শক্তি বৃদ্ধি করা। এই চুক্তির আওতায় কোনো একটি অংশীদার দেশের ওপর হামলা হলে তা সবার ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করার নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। হুথিদের হুমকির প্রেক্ষিতে তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান জানিয়েছেন, সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা বর্তমানে গুরুতর হুমকির মুখে রয়েছে এবং জোটের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তুরস্ক রিয়াদের পাশে দাঁড়াতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি আরও জানান, সামরিক সহযোগিতার প্রয়োজনে তুরস্ক পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনা করে রিয়াদকে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দিতে প্রস্তুত। অন্যদিকে, ইয়েমেন সংঘাতের শুরু থেকেই হুথিদের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে আসছে পাকিস্তান। বিশেষ করে পবিত্র মক্কার কাছাকাছি হামলার খবরের পর থেকে পাকিস্তানের অবস্থান আরও কঠোর হয়েছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ জানিয়েছেন, মক্কা ও মদিনার সুরক্ষা নিশ্চিত করা পাকিস্তানের জন্য একটি চিরন্তন ও ধর্মীয় দায়িত্ব। তিনি জোর দিয়ে বলেন, পবিত্র কাবা বা মহানবীর জন্মস্থানে হামলা হলে কোনো চুক্তির অপেক্ষা না করেই তা রক্ষা করা প্রতিটি মুসলিমের অবশ্য কর্তব্য। এর সঙ্গে সুর মিলিয়ে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর আন্তঃসেবা জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) মহাপরিচালকও জানিয়েছেন যে, হারামাইন শরিফাইনের সুরক্ষায় পাকিস্তান যেকোনো সীমা অতিক্রম করতে প্রস্তুত রয়েছে। ২০১৪ সালে হুথিরা সানা দখল করার পর থেকে শুরু হওয়া এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত বর্তমানে ত্রিপক্ষীয় জোটের হস্তক্ষেপে নতুন মাত্রা পেয়েছে, যা গোটা মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে এক জটিল সমীকরণের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
ইয়েমেনের কৌশলগত বন্দরনগরী মোখায় হুথি যোদ্ধাদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পর স্বাভাবিক জীবন অনেকটাই থেমে গেছে। দোকানপাট বন্ধ, স্কুলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নেই এবং নিরাপত্তার আশঙ্কায় বহু পরিবার ঘর থেকে বের হচ্ছে না। গত সপ্তাহে হুথিরা শহরটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। শহরের বাসিন্দাদের একটি বড় অংশ ইতোমধ্যে মোখা ছেড়ে পালিয়েছে। অনেকেই দক্ষিণের সরকারি নিয়ন্ত্রিত শহর এডেনের দিকে যাচ্ছেন। তবে অর্থের সংকটে বহু পরিবার শহরেই আটকে আছে। এডেনে যাওয়ার বাসভাড়াও বেড়ে যাওয়ায় তাদের জন্য শহর ছাড়ার সিদ্ধান্ত আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। মোখার বাসিন্দা মাহমুদ জানান, তিনি প্রায় এক সপ্তাহ ধরে কাজে যেতে পারেননি। প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হচ্ছেন না। আগে সন্ধ্যা পর্যন্ত খোলা থাকা দোকানগুলো এখন অনেক আগেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। শহরে বিদ্যুৎ থাকলেও রাত ৮টার দিকে পুরো এলাকা অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে বলে তিনি জানান। শিক্ষা কার্যক্রমও প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। অনেক অভিভাবক নিরাপত্তার কারণে সন্তানদের স্কুলে পাঠাচ্ছেন না। স্থানীয় এক শিক্ষক জানান, মোখায় মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও স্থায়ী আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। শিশুদের ওপর হুথিদের প্রভাব বিস্তার বা নিয়োগের আশঙ্কাও কিছু পরিবারের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলছে বলে স্থানীয় বিশ্লেষকেরা জানিয়েছেন। মোখা ছেড়ে পালানো মানুষের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। একই সময়ে ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলজুড়ে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় হাজার হাজার মানুষ দক্ষিণের দিকে সরে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক লড়াইয়ে দেশটিতে ১ লাখ ১৫ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। মোখার গুরুত্ব শুধু স্থানীয় পর্যায়ে নয়। লোহিত সাগরের উপকূলে অবস্থিত শহরটি বাব আল-মান্দেব প্রণালির কাছাকাছি। এই সামুদ্রিক পথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ পরিচালিত হয়। ফলে মোখা ও আশপাশের এলাকায় হুথিদের সাম্প্রতিক অগ্রযাত্রা আঞ্চলিক নিরাপত্তার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক নৌ-বাণিজ্য নিয়েও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। মোখায় এখন সাধারণ মানুষের সবচেয়ে বড় সংকট নিরাপত্তাহীনতা, চলাচলে বাধা এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রার স্থবিরতা। শহর ছেড়ে পালানোর সামর্থ্য যাদের নেই, তাদের অনেকেই ঘরেই অবস্থান করছেন। একই সময়ে ইয়েমেনের অন্যান্য এলাকায়ও সংঘাত ও বাস্তুচ্যুতি বাড়তে থাকায় দেশটির দীর্ঘস্থায়ী মানবিক সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। Source: আরব নিউজ, রয়টার্স
ইয়েমেনের হুতি বাহিনী সৌদি আরবের একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে। হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বলেন, মারিব প্রদেশের আকাশে সামরিক অভিযান চালানোর সময় স্থানীয়ভাবে তৈরি ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে বিমানটি ভূপাতিত করা হয়েছে। তবে সৌদি আরব এখনো যুদ্ধবিমান হারানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। হুতিদের প্রকাশ করা ভিডিওতে আকাশে আলো ও মাটিতে জ্বলতে থাকা ধ্বংসাবশেষ দেখা যায়। ধ্বংসাবশেষের একটি অংশে সৌদি পতাকার চিহ্ন রয়েছে বলে রয়টার্সের পর্যালোচনায় দেখা গেছে। তবে ভিডিওটি কোথায় ও কখন ধারণ করা হয়েছে, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। ব্যাপক ক্ষতির কারণে ধ্বংসাবশেষ দেখে বিমানটির মডেলও নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। হুতিদের দাবি অনুযায়ী, বিমানটি মারিবে সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর সামরিক তৎপরতায় সহায়তা করছিল। গোষ্ঠীটি আরও দাবি করেছে, গত এক সপ্তাহে সৌদি বাহিনী ইয়েমেনে কয়েকশ বিমান হামলা চালিয়েছে। এই সংখ্যাটি হুতিদের দাবি এবং স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। এর মধ্যেই সৌদি আরব জানিয়েছে, মক্কার দক্ষিণে একটি হুতি ড্রোন তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভূপাতিত করেছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র তুরকি আল-মালিকি বলেন, ড্রোনটি মক্কার নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই ধ্বংস করা হয়। তিনি পবিত্র দুই মসজিদ ও হাজিদের নিরাপত্তাকে ‘রেড লাইন’ হিসেবে উল্লেখ করে হুতিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন। তবে হুতিরা মক্কাকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের বক্তব্য, সৌদি আরবের তেল স্থাপনা ও সামরিক ঘাঁটিই তাদের হামলার লক্ষ্য, পবিত্র স্থান নয়। সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে নতুন করে সংঘাত বাড়ার মধ্যে ইয়েমেনে সৌদি বিমান হামলা এবং সৌদি ভূখণ্ডে হুতিদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটছে। একই সময়ে সৌদি আরবের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ইন্টারসেপ্টরের মজুত কমে আসছে বলে আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের বরাতে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে। দেশটি এ বিষয়ে ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, পাকিস্তান ও মিসরের সহায়তা চেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে এফ-১৫ ভূপাতিতের দাবি সত্য হলে তা সংঘাতের সামরিক ভারসাম্য নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। তবে এ মুহূর্তে ঘটনাটি হুতিদের দাবি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে এবং সৌদি পক্ষের আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। সোর্স: রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস
লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথ ‘বাবেল-মানদেব প্রণালি’ অবরুদ্ধ করার লক্ষ্যে ইয়েমেনে নিজেদের বিশেষ সামরিক বাহিনী আইআরজিসি-এর (IRGC) শত শত কর্মকর্তা পাঠিয়েছে ইরান। মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে জানা গেছে, বর্তমানে সেখানে অবস্থানরত হুথি বিদ্রোহীদের সামরিক অভিযানে সরাসরি মাঠপর্যায়ে সহায়তা করছে এই ইরানি বাহিনী। টানা সংঘর্ষের পর ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর হাত থেকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘মোখা’ বন্দরটি পুরোপুরি দখল করে নিয়েছে হুথিরা। এই বন্দরটি বাবেল-মানদেব প্রণালির খুব কাছে অবস্থিত হওয়ায় পুরো সমুদ্রপথটি এখন হুথি ও ইরানি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণের মুখে পড়েছে। এমন উদ্বেগজনক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে জাতিসংঘ সতর্ক করেছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত অত্যন্ত বিপজ্জনক মোড় নিয়েছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সামরিক উত্তেজনার কারণে আগে থেকেই ‘হরমুজ প্রণালি’ দিয়ে জাহাজ চলাচল থমকে আছে। এর ওপর বাবেল-মানদেব প্রণালিও যদি বন্ধ হয়ে যায়, তবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মক ধাক্কা খাবে। এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে চলাচলকারী পণ্যবাহী জাহাজগুলোকে তখন সুয়েজ খালের সংক্ষিপ্ত পথ ছেড়ে পুরো আফ্রিকা মহাদেশ ঘুরে যাতায়াত করতে হবে। এর ফলে যাতায়াতের সময় ও খরচ বহুগুণ বেড়ে যাবে। যদিও ইরান বরাবরের মতো এবারও হুথিদের সরাসরি পরিচালনার কথা অস্বীকার করেছে, তবে মাঠপর্যায়ে ইরানি সৈন্যদের উপস্থিতির প্রমাণ মিলছে। গুরুত্বপূর্ণ দুটি নৌপথ অচল হয়ে পড়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে ইতোমধ্যে অপরিশোধিত তেলের দাম এক লাফে ব্যারেলপ্রতি ১০৭ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
সৌদি আরবের জিজান প্রদেশে রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর একটি তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলার দায় স্বীকার করেছে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী। রোববার (৯ আগস্ট) ভোরে হামলার পর ওই স্থাপনায় আগুন ধরে যায়। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। হুথি নিয়ন্ত্রিত আল মাসিরাহ টেলিভিশনে দেওয়া এক বিবৃতিতে গোষ্ঠীটি জানায়, ইয়েমেনের সাদা ও হাজ্জাহ প্রদেশে সৌদি হামলার প্রতিশোধ হিসেবে তারা জিজানের আরামকো স্থাপনায় ড্রোন হামলা চালিয়েছে। সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জিজান শহরের আরামকো স্থাপনায় ভোরে আগুন লাগার খবর পাওয়া যায়। খবর পাওয়ার পর দমকলকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে হামলার কারণে স্থাপনাটির কার্যক্রম বা জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের কোনো বিঘ্ন ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। জিজান সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ইয়েমেন সীমান্তের কাছে লোহিত সাগরের তীরে অবস্থিত। অঞ্চলটি সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোর একটি কেন্দ্র। জিজানে আরামকোর বড় তেল পরিশোধনাগার ও জ্বালানি স্থাপনা রয়েছে। হুথিদের সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘাতের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট হস্তক্ষেপ করার পর থেকে হুথিরা বিভিন্ন সময়ে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে সৌদি আরবের সামরিক ও জ্বালানি স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে আসছে। জিজানও অতীতে একাধিকবার এসব হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। সাম্প্রতিক হামলাটি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ঘটল। সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার ঘটনা আঞ্চলিক নিরাপত্তার পাশাপাশি তেল সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার নিয়েও উদ্বেগ তৈরি করতে পারে। তবে এবারের ঘটনায় উৎপাদন বা সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
একটি দেশের অর্থনীতি গড়ে উঠতে লাগে বছরের পর বছর পরিকল্পনা, বিনিয়োগ ও স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ। কিন্তু রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান ভেঙে পড়া এবং দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত সেই অর্জনকে খুব অল্প সময়েই ধ্বংস করে দিতে পারে। ইয়েমেন তার অন্যতম কঠিন উদাহরণ। ২০১৪ সালে হুথি বিদ্রোহীদের রাজধানী সানা দখল এবং পরের বছর পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর পর এক দশকের বেশি সময় ধরে দেশটির অর্থনীতি ও উন্নয়নব্যবস্থা গভীর সংকটে পড়ে আছে। জাতিসংঘের সাম্প্রতিক হিসাব বলছে, সংঘাত শুরুর পর থেকে ইয়েমেনের অর্থনীতি ৫০ শতাংশের বেশি সংকুচিত হয়েছে এবং মাথাপিছু জিডিপি অর্ধেকেরও বেশি কমেছে। ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে হুথিরা সানা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর রাজনৈতিক সংকট দ্রুত সামরিক সংঘাতে রূপ নেয়। ২০১৫ সালের মার্চে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন একটি আঞ্চলিক জোট আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন দিতে সামরিক অভিযান শুরু করলে যুদ্ধ আরও বিস্তৃত হয়। সংঘাতের প্রভাবে তেল ও গ্যাস উৎপাদন, বাণিজ্য, অবকাঠামো এবং সরকারি সেবাব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, শুধু ২০১৫ সালেই ইয়েমেনের জিডিপি প্রায় ২৮ শতাংশ কমে যায় এবং বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিক থেকে তেল ও গ্যাস রপ্তানি কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। যুদ্ধের প্রভাব শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে সীমাবদ্ধ থাকেনি। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি বা ইউএনডিপির এক গবেষণায় দেখা যায়, ২০১৫ সাল থেকে যুদ্ধের কারণে ইয়েমেনের প্রায় ৮৯ বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড হারিয়েছে। সংঘাত বাজার ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করেছে, ধ্বংস করেছে সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো এবং বাড়িয়েছে দারিদ্র্য ও বৈষম্য। বর্তমানে ইয়েমেনের অর্থনীতি কার্যত বিভক্ত। বিভিন্ন অঞ্চলে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান, মুদ্রা ও প্রশাসনিক কাঠামোর কারণে একটি অভিন্ন অর্থনৈতিক নীতি বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়েছে। তেল রপ্তানি বন্ধ থাকা, বৈদেশিক মুদ্রার সংকট, মূল্যস্ফীতি, দুর্বল রাজস্ব এবং আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়া পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। বিশ্বব্যাংক বলছে, ২০২৫ সালে দেশটির প্রকৃত জিডিপি আরও ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে এবং ২০২৬ সালেও আরও শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ সংকোচনের পূর্বাভাস রয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের জীবনে। জাতিসংঘের ২০২৬ সালের হিসাবে, ইয়েমেনে ২ কোটি ১০ লাখের বেশি মানুষের মানবিক সহায়তা প্রয়োজন হতে পারে। প্রায় ১ কোটি ৮৩ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মুখে রয়েছে এবং পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রায় ২২ লাখ শিশু তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছে। খাদ্য পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি এবং ইউনিসেফের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, শুধু সরকার নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতেই ২০২৬ সালের জুন থেকে সেপ্টেম্বর সময়ে প্রায় ৫৪ লাখ মানুষ খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার সংকটে পড়তে পারে। অর্থনৈতিক সংকটের সঙ্গে ভেঙে পড়েছে মৌলিক সেবাও। জাতিসংঘের হিসাবে, ইয়েমেনের স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর মাত্র প্রায় ৫৯ শতাংশ পুরোপুরি কার্যকর রয়েছে। দেশটি খাদ্যের প্রায় ৯০ শতাংশ আমদানির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় বৈশ্বিক বাজারের মূল্যবৃদ্ধি, জ্বালানি সংকট ও সরবরাহব্যবস্থার যেকোনো বিঘ্ন সরাসরি সাধারণ মানুষের ওপর চাপ তৈরি করে। ইয়েমেনের এই সংকট দেখিয়ে দিচ্ছে, যুদ্ধ শেষ হলেও অর্থনীতিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া সহজ হবে না। ইউএনডিপির বিশ্লেষণে বলা হয়েছিল, সংঘাতের কারণে ইয়েমেনের মানব উন্নয়ন বহু বছর পিছিয়ে গেছে এবং শান্তি ফিরে এলেও যুদ্ধের আগের উন্নয়নস্তরে ফিরতে কয়েক দশক সময় লাগতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ইয়েমেনের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য শুধু যুদ্ধ বন্ধ করাই যথেষ্ট নয়। কার্যকর সরকারি প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন, ব্যাংকিং ও মুদ্রাব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা আনা, তেল ও অন্যান্য রপ্তানি পুনরায় চালু করা, অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ এবং মানুষের কর্মসংস্থান ও মৌলিক সেবা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বিশ্বব্যাংকের মতে, স্থায়ী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য শান্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক স্থিতিশীলতার পাশাপাশি কার্যকর সংস্কার এবং আন্তর্জাতিক সহায়তা জরুরি।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার প্রভাবে ইয়েমেনে নতুন করে মানবিক সংকট গভীর হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থা ও বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, জ্বালানি ও খাদ্যবাহী জাহাজের চলাচলে বাধা অব্যাহত থাকলে বিশ্বের অন্যতম দরিদ্র দেশ ইয়েমেনে খাদ্য সংকট আরও তীব্র হতে পারে এবং লাখো মানুষ ক্ষুধার ঝুঁকিতে পড়বেন। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ। এ পথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল, জ্বালানি এবং বিভিন্ন পণ্য পরিবহন করা হয়। সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে এই নৌপথে জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ায় জ্বালানি পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে খাদ্য পরিবহন, পরিবহন ব্যয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দামের ওপর। মানবিক সংস্থাগুলোর আশঙ্কা, ইয়েমেনের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। দেশটিতে আগে থেকেই লাখো মানুষ খাদ্য সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। জ্বালানি সংকট ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে গেলে খাদ্যের দাম আরও বাড়বে, যা সাধারণ মানুষের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবার কেনা কঠিন করে তুলবে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি এবং বাব আল-মান্দাব হয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এতে মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি ও পণ্য পরিবহনে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ত্রাণ সংস্থাগুলো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের মতে, সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহন স্বাভাবিক না হলে শুধু ইয়েমেন নয়, খাদ্য সহায়তার ওপর নির্ভরশীল আরও কয়েকটি সংকটাপন্ন দেশও বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে।
ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠী আনসারুল্লাহর নেতা সাইয়্যেদ আবদুল মালেক আল-হুথি অভিযোগ করেছেন, সৌদি আরব তাদের ‘সর্বশক্তি প্রয়োগ করে’ ইসরাইলকে রক্ষা করার চেষ্টা করছে। সম্প্রতি এক ভাষণে তিনি আরব বিশ্বের অনেক শাসককে সরাসরি ইসরাইলি শাসকগোষ্ঠীর সেবাদাস হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তার দাবি, ইয়েমেন থেকে ইসরাইলকে লক্ষ্য করে নিক্ষেপ করা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সৌদি আরব নিজস্ব আকাশসীমায় প্রতিহত করে তেল আবিবকে সুরক্ষা দিচ্ছে। ইয়েমেন রিয়াদকে আগেই আশ্বস্ত করেছিল যে তাদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের গতিপথ সৌদি আকাশসীমার বাইরে থাকবে, যেন রিয়াদ হামলার কোনো অজুহাত না পায়। তা সত্ত্বেও, সৌদি আরব ইচ্ছাকৃতভাবে ইয়েমেনের বেশ কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। ইরানি সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে জানা যায়, ওই ভাষণে হুথি নেতা ইরাকের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের অতীতের আগ্রাসনের তীব্র নিন্দা জানান এবং ইরাকি জনগণ, নিরাপত্তা বাহিনী ও শহীদ পরিবারের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেন। আল-হুথি বলেন, শত্রুপক্ষ মুসলিম উম্মাহকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে ‘মধ্যপ্রাচ্য পুনর্গঠন’ এবং ‘বৃহত্তর ইসরাইল’ প্রতিষ্ঠার মতো সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই পরিকল্পনার মাধ্যমে মূলত ঐশী মূল্যবোধকে ধ্বংস করার পাঁয়তারা চলছে। বর্তমানে শত্রুরা মুসলিম বিশ্বের বিরুদ্ধে আগের চেয়ে আরও কঠোর সামরিক ও মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে এবং দুর্ভাগ্যজনকভাবে বহু আরব সরকার এখন প্রকাশ্যে ইসরাইলপন্থী নীতির দিকে ঝুঁকে পড়েছে। আনসারুল্লাহ নেতা আরও অভিযোগ করেন, ইরান, লেবানন, ফিলিস্তিনসহ এই অঞ্চলের স্বাধীনতাকামী দেশগুলোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আগ্রাসনের মূল উদ্দেশ্য হলো তাদের পথের কাঁটাগুলো চিরতরে সরিয়ে দেওয়া। যুক্তরাষ্ট্রকে একটি ‘লোভী শত্রু’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, তারা হাজার মাইল দূর থেকে এই অঞ্চলে এসেছে দখলদারিত্ব, হত্যা, লুটপাট, জনগণের স্বাধীনতা হরণ এবং আধিপত্য বিস্তারের উদ্দেশ্যে। মার্কিন ও ইসরাইলি এই আগ্রাসী নীতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।
ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের জিজান ও ইয়ানবু শহরে অবস্থিত রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় সফল হামলার দাবি করেছে। শনিবার (২৫ জুলাই) হুদেইদা বন্দর এবং কামরান দ্বীপে চালানো বিমান হামলার কড়া প্রতিশোধ হিসেবে এই বড় ধরনের আক্রমণ পরিচালনা করা হয়েছে বলে সশস্ত্র গোষ্ঠীটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে হুথি গোষ্ঠী জানায়, এই 'অপরাধমূলক আগ্রাসনের' জবাবে ইয়েমেনি সশস্ত্র বাহিনী দুটি সুনির্দিষ্ট সামরিক অভিযান চালিয়েছে। প্রথম ধাপে জিজানের সংবেদনশীল আরামকো স্থাপনায় ডজনখানেক ব্যালিস্টিক মিসাইল ও ড্রোনের মাধ্যমে আঘাত হানা হয়। পরবর্তীতে ইয়ানবুর আরামকো স্থাপনাকে লক্ষ্য করে একাধিক ব্যালিস্টিক, ক্রুজ মিসাইল এবং ড্রোন নিক্ষেপ করা হয়। একইসঙ্গে, সৌদি আরব কর্তৃক ইয়েমেনে চলমান অবরোধ এবং সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার জবাব হিসেবে বাবাব আল-মান্দেব প্রণালী দিয়ে সৌদি-সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত করারও হুঁশিয়ারি দিয়েছে হুথিরা। উল্লেখ্য, মার্কিন-ইরান উত্তেজনার কারণে হরমুজ প্রণালী দিয়ে পারস্য উপসাগরের বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ায় বর্তমানে বাবাব আল-মান্দেব জলপথটি রিয়াদের তেল রফতানির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি রুটে পরিণত হয়েছে। এদিকে, আরামকো স্থাপনায় এই হামলার পরপরই ইয়েমেনের অভ্যন্তরে পাল্টা জবাব দেওয়া হয়েছে। ইয়েমেন টেলিভিশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির মধ্যবর্তী মারিব এবং উত্তরাঞ্চলীয় আল-জউফ প্রদেশে হুথি বাহিনীর বিভিন্ন সামরিক অবস্থানে তীব্র বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এসব হামলায় বেশ কয়েকজন মিসাইল উৎক্ষেপণ বিশেষজ্ঞসহ একাধিক হুথি সদস্য নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। তবে নিজেদের এই ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে হুথি গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা বিবৃতি প্রদান করা হয়নি।
হুথি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ইয়েমেনে আবারও উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। শুক্রবার গভীর রাতে হুথি-নিয়ন্ত্রিত ইয়েমেনের পশ্চিমাঞ্চলীয় হোদাইদাহ প্রদেশে একাধিক বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। এর জবাবে হামলাকে ‘বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধি’ আখ্যা দিয়ে কঠোর প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি দিয়েছে হুথি-সমর্থিত প্রশাসন। হুথি-সমর্থিত সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, হোদাইদাহকে লক্ষ্য করে চালানো এই হামলার ‘মারাত্মক পরিণতি’ ভোগ করতে হবে সৌদি আরবকে। তাদের ভাষ্য, এই হামলার মাধ্যমে রিয়াদ সংঘাত আরও বাড়ানোর পথ বেছে নিয়েছে এবং এর উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে। হুথিদের ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যম আল মাসিরাহ টিভির দাবি, সৌদি হামলায় হোদাইদাহ শহরের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিযোগাযোগ কর্তৃপক্ষের স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। একই সঙ্গে লোহিত সাগরের কামারান দ্বীপেও হামলার ঘটনা ঘটেছে, যেখানে অন্তত একজন নারী আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এদিকে প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, হোদাইদাহ বন্দরের এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। যদিও সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তারা হোদাইদাহ বন্দরকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়নি। জোটের দাবি, তাদের হামলা ছিল হুথিদের সামরিক স্থাপনা ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য হুমকি হয়ে ওঠা লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে তারা জানিয়েছে, হোদাইদাহ, রাস ইসা ও সালিফ—ইয়েমেনের প্রধান বন্দরগুলো বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি এক বিবৃতিতে বলেন, বাণিজ্যিক নৌপরিবহন ও সৌদি আরবের নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সামরিক ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। হুথিরা যদি তাদের শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যায়, তাহলে তার জবাবও কঠোরভাবে দেওয়া হবে। সংঘাতের এই নতুন পর্যায়ের পেছনে রয়েছে সাম্প্রতিক নৌপথ সংকট। চলতি সপ্তাহে হুথিরা লোহিত সাগরে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণা করে এবং কয়েকটি সৌদি তেলবাহী জাহাজে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করে। তাদের অভিযোগ, ওই জাহাজগুলো ঘোষিত অবরোধ অমান্য করেছিল। এর পর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা দ্রুত বেড়ে যায়। বিশ্লেষকদের মতে, ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতির পর পূর্ণমাত্রার সংঘাতে ফিরতে এতদিন অনাগ্রহী ছিল সৌদি আরব। তবে হুথিদের সাম্প্রতিক নৌ অবরোধ, সৌদি স্থাপনা ও জাহাজে হামলা এবং আঞ্চলিক সংঘাতের বিস্তারের কারণে পরিস্থিতি আবারও বড় ধরনের সামরিক সংঘর্ষের দিকে এগোচ্ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথিরা লোহিত সাগরে দুটি সৌদি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালানোর দাবি করেছে। এর মধ্য দিয়ে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধের হুমকি আরও জোরালো করল গোষ্ঠীটি। ফলে ইরানের যুদ্ধ ঘিরে বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহে নতুন করে সংকট তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। হুথিদের দাবি, তারা ‘এনসেলিয়া’ ও ‘লায়লা’ নামের দুটি তেলবাহী জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। সৌদি রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এসপিএ জানিয়েছে, ‘এনসেলিয়া’ জাহাজে হামলার পর এর সামনের অংশে আগুন ধরে যায়। তবে ‘লায়লা’ জাহাজে হামলার বিষয়টি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, ‘এনসেলিয়া’ জাহাজটি সৌদি আরবের জিজান বন্দরের কাছে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হওয়ার কথা জানিয়ে বিপদসংকেত পাঠিয়েছিল। এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি তেলবাহী জাহাজ বাব আল-মান্দাব প্রণালি এড়িয়ে চলাচলের পথ পরিবর্তন করেছে। মঙ্গলবার সৌদি তেল নিয়ে চীন ও ভারতের দিকে যাওয়া তিনটি ট্যাংকারও গতিপথ ঘুরিয়ে নেয়। বুধবার আরও পাঁচটি ট্যাংকার লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রান্তের এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ এড়িয়ে যায়। বাব আল-মান্দাব প্রণালি লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের সংযোগস্থলে অবস্থিত এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। এই পথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে সৌদি আরবের তেলবাহী জাহাজগুলোকে দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল বিকল্প পথে যেতে হতে পারে। এর আগে ইরানের সঙ্গে সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সৌদি আরবের তেল পরিবহনে লোহিত সাগরের পথও যদি বাধাগ্রস্ত হয়, তাহলে বৈশ্বিক তেল সরবরাহে একসঙ্গে দুটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে সংকট তৈরি হতে পারে। এতে তেলের দাম ও পরিবহন ব্যয় আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকেরা। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের বিরুদ্ধে টানা ১২তম রাতের মতো সামরিক হামলা চালিয়েছে। মার্কিন বাহিনী জানিয়েছে, ইরানের সামরিক সক্ষমতা এবং জাহাজ চলাচলের জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে—এমন অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা অব্যাহত থাকবে। অন্যদিকে ইরান দাবি করেছে, তারা জর্ডান, কুয়েতসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন সামরিক স্থাপনা এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও জ্বালানি সংরক্ষণকেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে। সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কার মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে ইরানের হামলার জবাবে দেশটির অবকাঠামোতে হামলার হুমকি দিয়েছেন। পাল্টা ইরানের সামরিক কমান্ডও হুমকি দিয়েছে, তাদের অবকাঠামোতে হামলা হলে তারা উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও অর্থনৈতিক স্থাপনা লক্ষ্য করতে পারে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, হরমুজ প্রণালির পাশাপাশি বাব আল-মান্দাবেও জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে ইরান যুদ্ধের প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে বৈশ্বিক জ্বালানি ও বাণিজ্য ব্যবস্থায় আরও গভীরভাবে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।