ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের জিজান ও ইয়ানবু শহরে অবস্থিত রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় সফল হামলার দাবি করেছে। শনিবার (২৫ জুলাই) হুদেইদা বন্দর এবং কামরান দ্বীপে চালানো বিমান হামলার কড়া প্রতিশোধ হিসেবে এই বড় ধরনের আক্রমণ পরিচালনা করা হয়েছে বলে সশস্ত্র গোষ্ঠীটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে হুথি গোষ্ঠী জানায়, এই 'অপরাধমূলক আগ্রাসনের' জবাবে ইয়েমেনি সশস্ত্র বাহিনী দুটি সুনির্দিষ্ট সামরিক অভিযান চালিয়েছে। প্রথম ধাপে জিজানের সংবেদনশীল আরামকো স্থাপনায় ডজনখানেক ব্যালিস্টিক মিসাইল ও ড্রোনের মাধ্যমে আঘাত হানা হয়। পরবর্তীতে ইয়ানবুর আরামকো স্থাপনাকে লক্ষ্য করে একাধিক ব্যালিস্টিক, ক্রুজ মিসাইল এবং ড্রোন নিক্ষেপ করা হয়। একইসঙ্গে, সৌদি আরব কর্তৃক ইয়েমেনে চলমান অবরোধ এবং সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার জবাব হিসেবে বাবাব আল-মান্দেব প্রণালী দিয়ে সৌদি-সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত করারও হুঁশিয়ারি দিয়েছে হুথিরা। উল্লেখ্য, মার্কিন-ইরান উত্তেজনার কারণে হরমুজ প্রণালী দিয়ে পারস্য উপসাগরের বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ায় বর্তমানে বাবাব আল-মান্দেব জলপথটি রিয়াদের তেল রফতানির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি রুটে পরিণত হয়েছে। এদিকে, আরামকো স্থাপনায় এই হামলার পরপরই ইয়েমেনের অভ্যন্তরে পাল্টা জবাব দেওয়া হয়েছে। ইয়েমেন টেলিভিশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির মধ্যবর্তী মারিব এবং উত্তরাঞ্চলীয় আল-জউফ প্রদেশে হুথি বাহিনীর বিভিন্ন সামরিক অবস্থানে তীব্র বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এসব হামলায় বেশ কয়েকজন মিসাইল উৎক্ষেপণ বিশেষজ্ঞসহ একাধিক হুথি সদস্য নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। তবে নিজেদের এই ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে হুথি গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা বিবৃতি প্রদান করা হয়নি।
হুথি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ইয়েমেনে আবারও উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। শুক্রবার গভীর রাতে হুথি-নিয়ন্ত্রিত ইয়েমেনের পশ্চিমাঞ্চলীয় হোদাইদাহ প্রদেশে একাধিক বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। এর জবাবে হামলাকে ‘বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধি’ আখ্যা দিয়ে কঠোর প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি দিয়েছে হুথি-সমর্থিত প্রশাসন। হুথি-সমর্থিত সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, হোদাইদাহকে লক্ষ্য করে চালানো এই হামলার ‘মারাত্মক পরিণতি’ ভোগ করতে হবে সৌদি আরবকে। তাদের ভাষ্য, এই হামলার মাধ্যমে রিয়াদ সংঘাত আরও বাড়ানোর পথ বেছে নিয়েছে এবং এর উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে। হুথিদের ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যম আল মাসিরাহ টিভির দাবি, সৌদি হামলায় হোদাইদাহ শহরের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিযোগাযোগ কর্তৃপক্ষের স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। একই সঙ্গে লোহিত সাগরের কামারান দ্বীপেও হামলার ঘটনা ঘটেছে, যেখানে অন্তত একজন নারী আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এদিকে প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, হোদাইদাহ বন্দরের এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। যদিও সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তারা হোদাইদাহ বন্দরকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়নি। জোটের দাবি, তাদের হামলা ছিল হুথিদের সামরিক স্থাপনা ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য হুমকি হয়ে ওঠা লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে তারা জানিয়েছে, হোদাইদাহ, রাস ইসা ও সালিফ—ইয়েমেনের প্রধান বন্দরগুলো বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি এক বিবৃতিতে বলেন, বাণিজ্যিক নৌপরিবহন ও সৌদি আরবের নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সামরিক ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। হুথিরা যদি তাদের শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যায়, তাহলে তার জবাবও কঠোরভাবে দেওয়া হবে। সংঘাতের এই নতুন পর্যায়ের পেছনে রয়েছে সাম্প্রতিক নৌপথ সংকট। চলতি সপ্তাহে হুথিরা লোহিত সাগরে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণা করে এবং কয়েকটি সৌদি তেলবাহী জাহাজে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করে। তাদের অভিযোগ, ওই জাহাজগুলো ঘোষিত অবরোধ অমান্য করেছিল। এর পর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা দ্রুত বেড়ে যায়। বিশ্লেষকদের মতে, ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতির পর পূর্ণমাত্রার সংঘাতে ফিরতে এতদিন অনাগ্রহী ছিল সৌদি আরব। তবে হুথিদের সাম্প্রতিক নৌ অবরোধ, সৌদি স্থাপনা ও জাহাজে হামলা এবং আঞ্চলিক সংঘাতের বিস্তারের কারণে পরিস্থিতি আবারও বড় ধরনের সামরিক সংঘর্ষের দিকে এগোচ্ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথিরা লোহিত সাগরে দুটি সৌদি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালানোর দাবি করেছে। এর মধ্য দিয়ে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধের হুমকি আরও জোরালো করল গোষ্ঠীটি। ফলে ইরানের যুদ্ধ ঘিরে বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহে নতুন করে সংকট তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। হুথিদের দাবি, তারা ‘এনসেলিয়া’ ও ‘লায়লা’ নামের দুটি তেলবাহী জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। সৌদি রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এসপিএ জানিয়েছে, ‘এনসেলিয়া’ জাহাজে হামলার পর এর সামনের অংশে আগুন ধরে যায়। তবে ‘লায়লা’ জাহাজে হামলার বিষয়টি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, ‘এনসেলিয়া’ জাহাজটি সৌদি আরবের জিজান বন্দরের কাছে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হওয়ার কথা জানিয়ে বিপদসংকেত পাঠিয়েছিল। এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি তেলবাহী জাহাজ বাব আল-মান্দাব প্রণালি এড়িয়ে চলাচলের পথ পরিবর্তন করেছে। মঙ্গলবার সৌদি তেল নিয়ে চীন ও ভারতের দিকে যাওয়া তিনটি ট্যাংকারও গতিপথ ঘুরিয়ে নেয়। বুধবার আরও পাঁচটি ট্যাংকার লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রান্তের এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ এড়িয়ে যায়। বাব আল-মান্দাব প্রণালি লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের সংযোগস্থলে অবস্থিত এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। এই পথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে সৌদি আরবের তেলবাহী জাহাজগুলোকে দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল বিকল্প পথে যেতে হতে পারে। এর আগে ইরানের সঙ্গে সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সৌদি আরবের তেল পরিবহনে লোহিত সাগরের পথও যদি বাধাগ্রস্ত হয়, তাহলে বৈশ্বিক তেল সরবরাহে একসঙ্গে দুটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে সংকট তৈরি হতে পারে। এতে তেলের দাম ও পরিবহন ব্যয় আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকেরা। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের বিরুদ্ধে টানা ১২তম রাতের মতো সামরিক হামলা চালিয়েছে। মার্কিন বাহিনী জানিয়েছে, ইরানের সামরিক সক্ষমতা এবং জাহাজ চলাচলের জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে—এমন অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা অব্যাহত থাকবে। অন্যদিকে ইরান দাবি করেছে, তারা জর্ডান, কুয়েতসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন সামরিক স্থাপনা এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও জ্বালানি সংরক্ষণকেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে। সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কার মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে ইরানের হামলার জবাবে দেশটির অবকাঠামোতে হামলার হুমকি দিয়েছেন। পাল্টা ইরানের সামরিক কমান্ডও হুমকি দিয়েছে, তাদের অবকাঠামোতে হামলা হলে তারা উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও অর্থনৈতিক স্থাপনা লক্ষ্য করতে পারে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, হরমুজ প্রণালির পাশাপাশি বাব আল-মান্দাবেও জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে ইরান যুদ্ধের প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে বৈশ্বিক জ্বালানি ও বাণিজ্য ব্যবস্থায় আরও গভীরভাবে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে বড় হুমকি তৈরি করেছে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী। ইরান-সমর্থিত এই গোষ্ঠী ঘোষণা দিয়েছে, তারা লোহিত সাগর হয়ে সৌদি আরবের বন্দরগুলোতে জাহাজ প্রবেশ বা সেখান থেকে পণ্য পরিবহন করতে দেবে না। এই হুমকি বাস্তবায়িত হলে বিশ্বের তেল সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। হুথিদের দাবি, সৌদি বন্দর লক্ষ্য করে এই পদক্ষেপের মাধ্যমে তারা আঞ্চলিক সংঘাতে চাপ বাড়াবে। এতে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হলে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ৭ শতাংশ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। এ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যদি হুথিরা সত্যিই লোহিত সাগরে নৌ চলাচলে বাধা দেয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। তাঁর ভাষায়, “হুথিদের বিরুদ্ধে আমরা আগেও ব্যবস্থা নিয়েছি, প্রয়োজনে আবারও নেব।” হুথিরা দীর্ঘদিন ধরেই সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা মোকাবিলা করে টিকে আছে। তাদের কাছে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং জাহাজবিধ্বংসী অস্ত্রের সক্ষমতা রয়েছে, যা লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী একই সময়ে ইরান, ইরাক, সিরিয়া, উপসাগরীয় অঞ্চল এবং লোহিত সাগরে সক্রিয় রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে ২০টিরও বেশি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ এবং শত শত সামরিক বিমান মোতায়েন রয়েছে। এর মধ্যেই নতুন করে হুথিদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে হলে যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধবিমান এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও বিস্তৃতভাবে ব্যবহার করতে হতে পারে। লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দাব প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সমুদ্রপথ। ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে বিপুল পরিমাণ পণ্য এবং জ্বালানি এই পথেই পরিবহন হয়। অতীতে হুথিদের হামলার কারণে বিশ্বের বড় বড় শিপিং কোম্পানি এই রুট এড়িয়ে আফ্রিকার কেপ অব গুড হোপ ঘুরে চলাচল করতে বাধ্য হয়েছিল। এতে পরিবহন ব্যয় ও সময়—দুটিই উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। অন্যদিকে, ইরানের ওপর চলমান অবরোধের কারণে হুথিদের অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহও আগের তুলনায় সীমিত হয়ে পড়তে পারে। তবুও হুথিদের এই নতুন হুমকি মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে আরও বিস্তৃত করার আশঙ্কা তৈরি করেছে। একই সঙ্গে বিশ্ব জ্বালানি বাজার, আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির জন্যও এটি নতুন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে এবার লোহিত সাগরের প্রবেশপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালি ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এবং ইয়েমেনের হুথি-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দাবি করেছে, পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত করার পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো ইরান, ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী বা সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এমন কোনো পদক্ষেপ কার্যকর হওয়ার স্বাধীন নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠীর একাধিক নেতা সতর্ক করে বলেছেন, সৌদি আরবের সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকলে বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সীমিত বা ব্যাহত করার বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, বাব আল-মান্দেব প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ। লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে সংযুক্ত করা এই প্রণালি দিয়ে ইউরোপ, এশিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল ও পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করে। ফলে এ পথের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়তে পারে। ইরানের প্রেস টিভির এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইয়েমেনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ২০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে। তবে এটি একটি পূর্বাভাস বা দাবি, কোনো নিশ্চিত অর্থনৈতিক মূল্যায়ন নয়। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, হুথি-সংশ্লিষ্ট আনসারুল্লাহ আন্দোলনের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য মোহাম্মদ আল-ফারাহ অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবকে ইয়েমেনে সামরিক পদক্ষেপে উৎসাহিত করছে। তার দাবি, সংঘাত আরও তীব্র হলে হরমুজ প্রণালি ও বাব আল-মান্দেব, উভয় সামুদ্রিক পথেই জাহাজ চলাচল ব্যাহত হতে পারে। এদিকে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি ও বাব আল-মান্দেব উভয়ই বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই দুটি পথের যেকোনো একটিতে দীর্ঘমেয়াদি বিঘ্ন ঘটলেও আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার, বীমা ব্যয় এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত বাব আল-মান্দেব প্রণালি আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করা হয়েছে বা সেখানে সব ধরনের জাহাজ চলাচল বন্ধ রয়েছে, এমন কোনো তথ্য আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট সরকারি সূত্র নিশ্চিত করেনি। মধ্যপ্রাচ্যের দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির কারণে বিশ্লেষকদের পরামর্শ, এ ধরনের সামরিক দাবি ও পাল্টা দাবির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এবং স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্যের ওপর গুরুত্ব দেওয়া উচিত। সূত্র: প্রেস টিভি, সময়ের কণ্ঠস্বর এবং সংশ্লিষ্ট প্রকাশিত প্রতিবেদন।
ইয়েমেনের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ এবং বাজেট ঘাটতি মোকাবিলায় নতুন করে ৫ কোটি ৯৭ লাখ বা প্রায় ৬০ মিলিয়ন ডলার (২২ কোটি ৪০ লাখ সৌদি রিয়াল) আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে সৌদি আরব। শুক্রবার (১৯ জুন) ইয়েমেনে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আল-জাবের এই তথ্য নিশ্চিত করেন। সৌদি নেতৃত্বের প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে 'সৌদি প্রোগ্রাম ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রিকনস্ট্রাকশন অব ইয়েমেন'-এর (এসপিডিআরওয়াই) মাধ্যমে এই বিপুল পরিমাণ তহবিল ছাড় করা হয়েছে। রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আল-জাবের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় জানান, মূলত ইয়েমেন সরকারের আর্থিক বাজেট ঘাটতি কমানো এবং রাষ্ট্রের সব পর্যায়ের কর্মচারীদের বেতন প্রদান নিরবচ্ছিন্ন রাখার লক্ষ্যেই এই সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই অর্থ ইয়েমেন সরকারের আর্থিক প্রবাহের ধারাবাহিকতা রক্ষা করার পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য সংকট দূর করতে সরাসরি সাহায্য করবে। একই সঙ্গে ইয়েমেনি রিয়ালের মান স্থিতিশীল রাখা, সাধারণ জনগণের জন্য মৌলিক পরিষেবাগুলো নিশ্চিত করা এবং সার্বিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারে এই তহবিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক এই অনুদানের ঘোষণার আগে, ইয়েমেনের বিভিন্ন প্রদেশের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে জ্বালানি সরবরাহের জন্য সৌদি আরব এবং ইয়েমেনের মধ্যে ১৫ কোটি বা ১৫০ মিলিয়ন ডলারের একটি বড় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এসপিডিআরওয়াই-এর অর্থায়নে এবং ইয়েমেনের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় বাস্তবায়িত ওই চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা পৌঁছে দেওয়া। উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের অন্যতম প্রধান মিত্র ও সমর্থক হিসেবে সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরেই যুদ্ধবিধ্বস্ত এই দেশটিতে অর্থনৈতিক সংস্কার, বিভিন্ন মেগা উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং মানবিক সহায়তায় ব্যাপক ভূমিকা পালন করে আসছে।
কোনো ধরনের নিরাপত্তা সরঞ্জাম বা রশি ছাড়া বিপজ্জনকভাবে পাহাড়ে চড়ার জন্য ‘ইয়েমেনের স্পাইডার-ম্যান’ নামে পরিচিত ৩০ বছর বয়সী ফ্রিল্যান্স ক্লাইম্বার আল-কাকা ইবনে আনতার এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। গত শুক্রবার দক্ষিণ ইয়েমেনের দামত শহরের কাছে হারদাহ বাঁধ সংলগ্ন প্রায় ৪০০ ফুট গভীর একটি নিষ্ক্রিয় আগ্নেয়গিরির খাদে নিজের ক্লাইম্বিং কৌশল প্রদর্শনের সময় নিচে পড়ে গিয়ে তাঁর এই আকস্মিক মৃত্যু হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও ক্লিপে দেখা যায়, আনতার কোনো রকম সেফটি গিয়ার ছাড়াই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণভাবে আগ্নেয়গিরির খাদের খাড়া পাথুরে দেওয়ালে ঝুলে ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এর আগেও তিনি এই একই স্থানে বহুবার এমন দুঃসাহসিক কসরত দেখিয়েছেন। তবে গত শুক্রবারের প্রদর্শনী চলাকালে দুর্ভাগ্যবশত হঠাৎ করেই দেওয়াল থেকে তাঁর হাতের গ্রিপ বা মুঠো ফসকে যায় এবং তিনি সরাসরি ৪০০ ফুট গভীর খাদের তলদেশে আছড়ে পড়েন। শনিবার ইয়েমেনের সিভিল ডিফেন্স অথরিটি এক বিবৃতিতে জানায়, খাদের তলদেশে থাকা একটি গভীর হ্রদ থেকে দীর্ঘ চার ঘণ্টার এক অত্যন্ত জটিল ও বিপজ্জনক উদ্ধার অভিযান চালিয়ে আনতারের মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। উদ্ধারকারী দল জানায়, হ্রদের পানির প্রায় ৬৫ ফুট গভীর থেকে তাঁর লাশটি ওপরে তোলা হয়। সালফার সমৃদ্ধ ওই হ্রদের পানির তাপমাত্রা ছিল প্রায় ৩৮ থেকে ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা উদ্ধারকাজে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। সিভিল ডিফেন্স কর্মীরা আরও জানান, খাদের তলদেশ থেকে অনবরত তীব্র ও বিষাক্ত গ্যাস নির্গত হওয়ার কারণে পুরো এলাকাটি উদ্ধারকারী দলের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেও ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কর্মীরা আধুনিক যন্ত্রপাতির সাহায্যে লাশটি উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর ইয়েমেনের সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ দেশের সাধারণ নাগরিক ও পর্যটকদের জন্য বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে। পেশাদার এই ক্লাইম্বারের মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাজার হাজার মানুষ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তবে অনেকে সামাজিক মাধ্যমে জনপ্রিয়তা পাওয়ার জন্য তাঁর এমন অতিরিক্ত ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঝুঁকি নেওয়ার তীব্র সমালোচনাও করেছেন। এর জবাবে আনতারের অনুসারী ও সমর্থকেরা জানান, চরম অর্থনৈতিক দারিদ্র্য থেকে মুক্তি পেতে এবং সোশ্যাল মিডিয়া থেকে আয়ের আশায় নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি নিয়মিত এমন রোমাঞ্চকর ভিডিও তৈরি করতেন। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ইয়েমেনের প্রশাসন দেশের সমস্ত দর্শনীয় স্থানে ভ্রমণের সময় পর্যটকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষ করে আগ্নেয়গিরির খাদের কিনারা, খাড়া পাহাড়ের ঢাল এবং ঝুঁকিপূর্ণ উপত্যকা থেকে সবাইকে দূরে থাকার এবং সাধারণ নিরাপত্তা নির্দেশিকা কঠোরভাবে মেনে চলার জন্য সরকারি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ফ্রি ক্লাইম্বিং স্পোর্টসটি বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় হলেও যথাযথ সুরক্ষা ছাড়া এমন প্রচেষ্টা জীবনের জন্য মারাত্মক হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী সোমবার জানিয়েছে, তারা ইয়েমেন থেকে নিক্ষিপ্ত একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। এপ্রিলের পর এটি প্রথম এমন ঘটনা হিসেবে রিপোর্ট করা হয়েছে। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে আবারও আলোচনায় এসেছে ইয়েমেনভিত্তিক হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠী, যাদের ইরান-সমর্থিত শক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কারা এই হুথি গোষ্ঠী হুথি আন্দোলন, যা ‘আনসার আল্লাহ’ (ঈশ্বরের সমর্থক) নামেও পরিচিত, ইয়েমেনের দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধের অন্যতম প্রধান পক্ষ। ১৯৯০-এর দশকে ‘বিলিভিং ইয়ুথ’ নামের একটি ধর্মীয় পুনর্জাগরণ আন্দোলনের মাধ্যমে এই গোষ্ঠীর যাত্রা শুরু হয়। আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন হুসেইন আল-হুথি, যিনি জাইদি শিয়া ইসলামের অনুসারীদের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় প্রতিনিধিত্বের দাবি তোলেন। জাইদি সম্প্রদায় ইয়েমেনে শতাব্দীর পর শতাব্দী শাসন করলেও ১৯৬২ সালের পর প্রতিষ্ঠিত সুন্নি-নেতৃত্বাধীন শাসনব্যবস্থার অধীনে তারা প্রান্তিক অবস্থানে চলে যায়। এই প্রেক্ষাপটেই হুথি আন্দোলনের উত্থান ঘটে, যা মূলত তাদের রাজনৈতিক অধিকার ও ধর্মীয় প্রতিনিধিত্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে গড়ে ওঠে। ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ ২০১৪ সালে হুথি বাহিনী রাজধানী সানা দখল করে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এবং সৌদি-সমর্থিত সরকারকে উৎখাত করলে ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। পরবর্তী বছর সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট হুথিদের বিরুদ্ধে হস্তক্ষেপ করলে সংঘাত আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করে। ২০২২ সালে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও ছয় মাস পর সেটির মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। এরপর পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ আর শুরু না হলেও দেশটিতে সীমিত পর্যায়ের সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ২০১৪ সাল থেকে ইরান হুথিদের প্রতি সহায়তা বাড়াতে শুরু করে। বিশেষ করে গৃহযুদ্ধ তীব্র হওয়ার পর এবং সৌদি আরবের সঙ্গে আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা বৃদ্ধি পাওয়ার পর এই সহযোগিতা আরও দৃশ্যমান হয়। হুথিরা ইরানের নেতৃত্বাধীন তথাকথিত ‘অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স’ জোটের অংশ, যা মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-সমর্থিত বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সমন্বয়ে গঠিত একটি রাজনৈতিক ও সামরিক নেটওয়ার্ক হিসেবে পরিচিত। এই জোট ইসরায়েল ও পশ্চিমা প্রভাবের বিরোধিতায় অবস্থান নেয়।
ইরান, ইয়েমেন এবং লেবানন—এই তিন দিক থেকে ধেয়ে আসা ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে ইসরায়েলের বিভিন্ন এলাকা। বৃহস্পতিবার রাতে দেশটির রাজধানী তেল আবিব, জেরুজালেম এবং মৃত সাগর (ডেড সি) সংলগ্ন অঞ্চলে তিন দফায় এই সমন্বিত হামলা চালানো হয়। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘ইয়েদিওথ আহরোনথ’ জানিয়েছে, ইরানের একটি শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র তেল আবিবের নিকটবর্তী পেতাহ তিকভা শহরে সরাসরি আঘাত হেনেছে, যাতে ওই এলাকার আবাসন ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতি জানিয়েছে, তারা ইরানের সাথে সমন্বয় করে তেল আবিবের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে একঝাঁক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। অন্যদিকে, লেবাননের হিজবুল্লাহ বাহিনী গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তর ইসরায়েলের বিভিন্ন বসতি ও সামরিক যান লক্ষ্য করে অন্তত ৫৫টি হামলা চালিয়েছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি অনুযায়ী, এই হামলায় অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুজন সেনাসদস্য রয়েছেন। তবে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত তথ্য ও নিহতের সংখ্যা নিয়ে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ কঠোর সেন্সরশিপ আরোপ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। হামলার সময় তেল আবিব ও জেরুজালেমসহ প্রধান শহরগুলোতে বিপৎসংকেত বা সাইরেন বেজে উঠলে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিশ্লেষকদের মতে, তিন দিক থেকে চালানো এই অভূতপূর্ব সমন্বিত আক্রমণ ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার (আয়রন ডোম) ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের এই নতুন মোড় মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও ভয়াবহ করে তুলেছে।
লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরে পণ্যবাহী বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা বাণিজ্যিক জাহাজে পুনরায় বড় ধরনের হামলা শুরু করতে পারে—এমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ইয়েমেন জলসীমা এড়িয়ে চলার জন্য জরুরি সতর্কতা জারি করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা। শনিবার ইসরায়েল অভিমুখে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ এবং ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ হামলার হুমকির প্রেক্ষাপটে এই বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়। বিবিসির প্রধান আন্তর্জাতিক সংবাদদাতা লিজ ডুসেট জানিয়েছেন, উত্তর-পশ্চিম ইয়েমেন নিয়ন্ত্রণকারী হুথিরা এখন পর্যন্ত তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী কৌশলগত অস্ত্র ‘বাব আল-মান্দাব’ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করেনি। তবে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি যেকোনো সময় অবরুদ্ধ হওয়ার উচ্চঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেভাল ফোর্স ‘অ্যাসপাইডস’ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের মালিকানাধীন অথবা তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোর জন্য ইয়েমেন উপকূল এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইসরায়েলি সংশ্লিষ্টতা আছে এমন জাহাজের ক্ষেত্রে হুমকির মাত্রা এখন ‘সর্বোচ্চ’। অন্যদিকে, অন্যান্য সাধারণ বাণিজ্যিক জাহাজের ক্ষেত্রে এই হুমকির মাত্রা ‘মাঝারি’ পর্যায়ে রয়েছে। উল্লেখ্য, গত ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে লোহিত সাগরে ইসরায়েলগামী ও পশ্চিমা জাহাজে একের পর এক হামলা চালিয়ে আসছে হুথি বিদ্রোহীরা। বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য রুটটি নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট এলাকা এড়িয়ে চলতে নাবিক ও জাহাজ কোম্পানিগুলোকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংকটে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সরাসরি জড়িত হওয়ার কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেল রপ্তানি ও সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহণ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। গত এক মাস ধরে হরমুজ প্রণালি প্রায় বন্ধ থাকায় বিশ্ব বাণিজ্যে স্থবিরতা দেখা দিয়েছিল, আর হুথিদের অংশগ্রহণের ফলে এখন লোহিত সাগর ও ভারত মহাসাগরকে সংযুক্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘বাব আল-মান্দাব’ প্রণালিও হুমকির মুখে পড়েছে। দুর্গম এই নৌপথটি মাত্র ২৯ কিলোমিটার চওড়া, যা বিশ্বের সমুদ্রপথে চলাচল করা মোট তেলের ১২ শতাংশ এবং বিপুল পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাস ও কন্টেইনার পরিবহন নিশ্চিত করে। গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের প্রতিবাদ হিসেবে অক্টোবর থেকে হুথি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে। নভেম্বরের মধ্যে তাদের হামলায় অন্তত ১০০টি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার ফলে বহু নৌযান দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল বিকল্প পথ ধরে চলাচল করতে বাধ্য হয়েছে। সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হুথিদের তথ্য মন্ত্রণালয়ের আন্ডারসেক্রেটারি মোহাম্মদ মনসুর জানিয়েছেন, এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি পুরোপুরি বন্ধ করা এখন তাদের জন্য কার্যকর একটি বিকল্প। ইরান সরকারের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, মার্কিন বাহিনী হরমুজ প্রণালি জোরপূর্বক খুলে দেওয়ার চেষ্টা করলে তাদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে। তারা পরিস্থিতি আরও জোরালো করার জন্য সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত। হরমুজ প্রণালিতে যান চলাচল সীমিত হওয়ায় সৌদি আরব লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরের ওপর নির্ভর করছে। তবে হুথিদের হামলা অব্যাহত থাকায় এবং সেখানে ট্যাংকারের সংখ্যা বেড়েছে, ফলে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। সূত্র: CNN
ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরাইলি যৌথ আগ্রাসন বন্ধ না হলে সরাসরি যুদ্ধে নামার চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী। শুক্রবার (২৭ মার্চ) এক বিশেষ বিবৃতিতে ইয়েমেনি সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, "আমাদের হাত এখন ট্রিগারেই রয়েছে।" গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ধারাবাহিক হামলার এক মাস পূর্ণ হওয়ার মুখে এই কড়া বার্তা দিলো সানা। ইয়েমেনের দাবি, লোহিত সাগর ব্যবহার করে কোনো মুসলিম দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র বা আগ্রাসন চালানো হলে তারা আর হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না। জেনারেল সারি আরও উল্লেখ করেন, এই যুদ্ধ মূলত 'বৃহত্তর ইসরাইল' প্রতিষ্ঠার একটি নীল নকশা। এর প্রতিরোধ করাকে ধর্মীয় ও নৈতিক দায়িত্ব বলে মনে করে ইয়েমেন। এরই মধ্যে শনিবার সকালে দক্ষিণ ইসরাইল লক্ষ্য করে একটি শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে হুতিরা। যদিও ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দাবি করেছে, তারা ক্ষেপণাস্ত্রটি ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে, তবে এই হামলার জেরে বিয়ারশেবাসহ সংলগ্ন এলাকাগুলোতে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়লে ইরানের সমর্থনে সরাসরি যুদ্ধে যোগ দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইয়েমেনের ইরান-পন্থী হুথি বিদ্রোহীরা। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যদি তাদের হামলার মাত্রা বাড়ায়, তবে হুথিরাও এই লড়াইয়ে অংশ নেবে বলে সিএনএন-কে জানিয়েছেন গোষ্ঠীটির একজন দ্বায়িত্বশীল কর্মকর্তা। এর আগে লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দাব প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়ে বিশ্ব বাণিজ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছিল হুথিরা। বিশ্লেষকদের ধারণা ছিল তারা শুরুতেই এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে, তবে গোষ্ঠীটি এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে ইরানের পক্ষে সরাসরি যুদ্ধে নামেনি। হুথি সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের আন্ডারসেক্রেটারি মোহাম্মদ মনসুর সিএনএন-কে পাঠানো এক বার্তায় বলেন, 'আনসারুল্লাহর (হুথিদের সাংগঠনিক নাম) নেতৃত্বে ইয়েমেন ইরানকে সমর্থন দিতে প্রস্তুত। এটি আমাদের ধর্মীয়, নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব।' তিনি আরও জানান যে, যুদ্ধে নামার সময়টি নির্ভর করছে তাদের সশস্ত্র বাহিনীর মূল্যায়ন এবং তেহরান ও মিত্রদের সঙ্গে আলোচনার ওপর। মনসুর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, 'ওয়াশিংটন এবং তাদের মিত্ররা যদি ইরানের বিরুদ্ধে উত্তেজনা বাড়াতে চায়, তবে ইয়েমেন তাদের আগেই পাল্টা পদক্ষেপ নেবে।' তিনি আরও জানান, লোহিত সাগরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ 'বাব এল-মান্দেব' প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া তাদের জন্য একটি কার্যকর বিকল্প। এর ফলে উদ্ভূত পরিস্থিতির দায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকেই নিতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৯০০-এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এই সংঘাতের ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২০ হাজার মানুষ। 'ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেড ক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজ' (আইএফআরসি)-এর মারিয়া মার্টিনেজ এই হতাহতের তথ্য জানিয়েছেন। মার্টিনেজ বলেন, চলমান সংঘাত ক্রমশ বাড়তে থাকার এই কঠিন পরিস্থিতিতেও একমাত্র দেশব্যাপী মানবিক সংস্থা হিসেবে পুরো ইরান জুড়ে ত্রাণ ও চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে 'ইরানি রেড ক্রিসেন্ট'।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।