সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আন্তর্জাতিক

রশি ছাড়াই পাহাড়ে চড়তে গিয়ে ‘ইয়েমেনের স্পাইডার-ম্যানের’ মৃত্যু

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: জুন ১৫, ২০২৬ ১২:৩৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

কোনো ধরনের নিরাপত্তা সরঞ্জাম বা রশি ছাড়া বিপজ্জনকভাবে পাহাড়ে চড়ার জন্য ‘ইয়েমেনের স্পাইডার-ম্যান’ নামে পরিচিত ৩০ বছর বয়সী ফ্রিল্যান্স ক্লাইম্বার আল-কাকা ইবনে আনতার এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। গত শুক্রবার দক্ষিণ ইয়েমেনের দামত শহরের কাছে হারদাহ বাঁধ সংলগ্ন প্রায় ৪০০ ফুট গভীর একটি নিষ্ক্রিয় আগ্নেয়গিরির খাদে নিজের ক্লাইম্বিং কৌশল প্রদর্শনের সময় নিচে পড়ে গিয়ে তাঁর এই আকস্মিক মৃত্যু হয়।

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও ক্লিপে দেখা যায়, আনতার কোনো রকম সেফটি গিয়ার ছাড়াই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণভাবে আগ্নেয়গিরির খাদের খাড়া পাথুরে দেওয়ালে ঝুলে ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এর আগেও তিনি এই একই স্থানে বহুবার এমন দুঃসাহসিক কসরত দেখিয়েছেন। তবে গত শুক্রবারের প্রদর্শনী চলাকালে দুর্ভাগ্যবশত হঠাৎ করেই দেওয়াল থেকে তাঁর হাতের গ্রিপ বা মুঠো ফসকে যায় এবং তিনি সরাসরি ৪০০ ফুট গভীর খাদের তলদেশে আছড়ে পড়েন।

 

শনিবার ইয়েমেনের সিভিল ডিফেন্স অথরিটি এক বিবৃতিতে জানায়, খাদের তলদেশে থাকা একটি গভীর হ্রদ থেকে দীর্ঘ চার ঘণ্টার এক অত্যন্ত জটিল ও বিপজ্জনক উদ্ধার অভিযান চালিয়ে আনতারের মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। উদ্ধারকারী দল জানায়, হ্রদের পানির প্রায় ৬৫ ফুট গভীর থেকে তাঁর লাশটি ওপরে তোলা হয়। সালফার সমৃদ্ধ ওই হ্রদের পানির তাপমাত্রা ছিল প্রায় ৩৮ থেকে ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা উদ্ধারকাজে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

 

সিভিল ডিফেন্স কর্মীরা আরও জানান, খাদের তলদেশ থেকে অনবরত তীব্র ও বিষাক্ত গ্যাস নির্গত হওয়ার কারণে পুরো এলাকাটি উদ্ধারকারী দলের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেও ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কর্মীরা আধুনিক যন্ত্রপাতির সাহায্যে লাশটি উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর ইয়েমেনের সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ দেশের সাধারণ নাগরিক ও পর্যটকদের জন্য বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে।

 

পেশাদার এই ক্লাইম্বারের মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাজার হাজার মানুষ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তবে অনেকে সামাজিক মাধ্যমে জনপ্রিয়তা পাওয়ার জন্য তাঁর এমন অতিরিক্ত ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঝুঁকি নেওয়ার তীব্র সমালোচনাও করেছেন। এর জবাবে আনতারের অনুসারী ও সমর্থকেরা জানান, চরম অর্থনৈতিক দারিদ্র্য থেকে মুক্তি পেতে এবং সোশ্যাল মিডিয়া থেকে আয়ের আশায় নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি নিয়মিত এমন রোমাঞ্চকর ভিডিও তৈরি করতেন।

 

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ইয়েমেনের প্রশাসন দেশের সমস্ত দর্শনীয় স্থানে ভ্রমণের সময় পর্যটকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষ করে আগ্নেয়গিরির খাদের কিনারা, খাড়া পাহাড়ের ঢাল এবং ঝুঁকিপূর্ণ উপত্যকা থেকে সবাইকে দূরে থাকার এবং সাধারণ নিরাপত্তা নির্দেশিকা কঠোরভাবে মেনে চলার জন্য সরকারি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ফ্রি ক্লাইম্বিং স্পোর্টসটি বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় হলেও যথাযথ সুরক্ষা ছাড়া এমন প্রচেষ্টা জীবনের জন্য মারাত্মক হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
স্ত্রীর স্মৃতি ধরে রাখতে জীবনাকৃতির অবয়ব
স্ত্রীকে হারানোর শোক ভুলতে পারেননি, কবর থেকে দেহাবশেষ এনে তৈরি করলেন জীবনাকৃতির অবয়ব

ভিয়েতনামে স্ত্রীর মৃ ত্যুর শোক কাটিয়ে উঠতে পারেননি এক ব্যক্তি। প্রায় ৩০ বছরের দাম্পত্য জীবনের সঙ্গীকে হারানোর পর তাঁর অনুপস্থিতি মেনে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে স্ত্রীর কবরের পাশে রাত কাটাতে শুরু করেন তিনি। পরে ২০০৪ সালে কবর থেকে স্ত্রীর দেহাবশেষ বাড়িতে নিয়ে এসে প্লাস্টার ও মাটির মতো উপকরণ দিয়ে তৈরি করেন তাঁর জীবনাকৃতির একটি অবয়ব। এরপর বছরের পর বছর সেটিকেই স্ত্রীর স্মৃতি হিসেবে নিজের কাছে আগলে রেখেছেন।   ওই ব্যক্তির নাম লে ভ্যান। ১৯৭০-এর দশকে ফাম থি সাংকে বিয়ে করেন তিনি। তাঁদের সংসারে জন্ম নেয় সাত সন্তান। দীর্ঘ প্রায় তিন দশক তাঁরা একসঙ্গে সংসার করেছেন। কিন্তু ২০০৩ সালের শুরুর দিকে স্ত্রীর মৃ ত্যু হলে ভ্যানের জীবনে নেমে আসে গভীর শোক। স্ত্রীকে হারানোর পর স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারছিলেন না তিনি। তাঁর অনুপস্থিতি এতটাই কষ্ট দিত যে রাতে বাড়িতে থাকতে পারতেন না। একপর্যায়ে স্ত্রীর কবরের কাছেই রাত কাটানো শুরু করেন। দিনের পর দিন এভাবে চলতে থাকায় তাঁর সন্তানদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। বাবাকে এই পরিস্থিতি থেকে বের করে আনতে তাঁরা নানা চেষ্টা করেন। কিন্তু স্ত্রীর বিচ্ছেদ মেনে নেওয়া তাঁর জন্য সহজ ছিল না। ২০০৪ সালে ভ্যান স্ত্রীর দেহাবশেষ বাড়িতে নিয়ে আসেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর প্লাস্টার, মাটি ও অন্যান্য উপকরণ ব্যবহার করে স্ত্রীর আদলে তৈরি করেন একটি পূর্ণাঙ্গ অবয়ব। সেটিকে নিজের কাছেই রাখতেন তিনি। তাঁর কাছে এটি ছিল একসঙ্গে কাটানো জীবনের স্মৃতি ধরে রাখার একটি উপায়। পরবর্তী বছরগুলোতে অবয়বটির প্রতি বিশেষ যত্ন নিতেন ভ্যান। স্ত্রীর মতো করে পোশাক পরাতেন, মুখে মেকআপ লাগাতেন। এমনকি সেটির সঙ্গে কথাও বলতেন। এভাবেই স্ত্রীর স্মৃতিকে প্রতিদিনের জীবনের অংশ করে রেখেছিলেন তিনি। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভ্যানের শারীরিক অবস্থারও অবনতি ঘটে। নানা স্বাস্থ্যগত সমস্যার মুখোমুখি হলেও অবয়বটির যত্ন নেওয়া বন্ধ করেননি তিনি। দীর্ঘ সময় ধরে এই অস্বাভাবিক অভ্যাস বজায় রাখেন। ভ্যানের ঘটনাটি বিভিন্ন সময়ে মানুষের মধ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই এটিকে স্ত্রীর প্রতি গভীর ভালোবাসা ও বিচ্ছেদের অসহনীয় কষ্টের প্রকাশ হিসেবে দেখেছেন। আবার কেউ কেউ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, প্রিয়জনকে হারানোর শোক তাঁর জীবনে কতটা গভীর প্রভাব ফেলেছিল তা নিয়ে। প্রিয়জনের মৃ ত্যুর পর শোক কাটিয়ে ওঠার অভিজ্ঞতা একেকজনের ক্ষেত্রে একেক রকম। কারও পক্ষে দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফেরা সম্ভব হয়, আবার কারও জন্য সেই শূন্যতা দীর্ঘদিন থেকে যায়। ভ্যানের ঘটনা সেই গভীর শোকেরই এক ব্যতিক্রমী ও আলোচিত উদাহরণ। তবে ঘটনাটি নিয়ে প্রকাশিত বিবরণে সব তথ্যের স্বাধীন যাচাই পাওয়া যায় না। তাই তাঁর ব্যক্তিগত অনুভূতি বা মানসিক অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।

প্রকাশ: অক্টোবর ৩০, ২০২৬ ৬:৪৫
সৌদি আরবে বেসরকারি খাতে কর্মরত সৌদি নাগরিকদের জন্য বেতনসংক্রান্ত নতুন নীতিমালা ঘোষণা করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরবে ন্যূনতম বেতনের নতুন ঘোষণা, সর্বোচ্চ ৬ হাজার রিয়াল

ভারতের গুজরাটে গরু জবাই ও মাংস বিক্রির চেষ্টার মামলায় তিন মুসলিম ব্যক্তিকে সশ্রম যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

'গরু আমাদের মা' ভারতে গরু জবাইয়ের দায়ে ৩ মুসলমানের যাবজ্জীবন, রায়ে ধর্মগ্রন্থের উল্লেখ বিচারকের

হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ২৮ মিনিট হৃদস্পন্দন বন্ধ থাকার পর অলৌকিকভাবে বেঁচে ফিরেছেন ফিল জাইবেল। ছবি: সংগৃহীত

২৮ মিনিট হার্টবিট বন্ধ থাকার পর বেঁচে ফেরেন তিনি, জানান মৃত্যুর সময় যা যা দেখেছেন

খাবারের অপচয় রোধ ও খাদ্যসহায়তায় বিশেষ অবদানের জন্য প্রাইড অব ব্রিটেন অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন রাইহানা আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাজ্যে সপ্তাহে ৬০০ মানুষের মানবসেবায় প্রাইড অব ব্রিটেন অ্যাওয়ার্ড পেলেন রাইহানা আহমেদ

যুক্তরাজ্যে খাবারের অপচয় রোধ এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর স্বীকৃতি হিসেবে মর্যাদাপূর্ণ প্রাইড অব ব্রিটেন অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন ব্রিটিশ মুসলিম নারী রাইহানা আহমেদ। তিনি ২০২০ সালে সেন্ট অ্যালবানসে একটি কমিউনিটি ফুড প্যান্ট্রি প্রতিষ্ঠা করেন। স্বেচ্ছাসেবীদের সহযোগিতায় পরিচালিত এই উদ্যোগের মাধ্যমে বর্তমানে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ৬০০ মানুষ খাদ্যসহায়তা পাচ্ছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম আইটিভির প্রতিবেদনে তাঁর এই অর্জন ও মানবিক কার্যক্রমের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে।   রাইহানা আহমেদের প্রতিষ্ঠিত সেন্ট অ্যালবানস কমিউনিটি প্যান্ট্রির মূল লক্ষ্য খাবারের অপচয় কমিয়ে তা প্রয়োজনীয় মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। ব্যবহারযোগ্য খাবার নষ্ট হওয়ার আগেই সংগ্রহ করে বিতরণের ব্যবস্থা করে প্রতিষ্ঠানটি। একই সঙ্গে যাঁরা অসুস্থতা, বয়স কিংবা অন্যান্য কারণে বাইরে যেতে পারেন না, তাঁদের বাড়িতেও প্রয়োজনীয় খাবার ও সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়। এ ছাড়া স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য কমিউনিটি মিলের আয়োজন করা হয়, যেখানে মানুষ একসঙ্গে খাবার খাওয়ার সুযোগ পান।   ২০২০ সালে উদ্যোগটি শুরু করার পর ধীরে ধীরে এর কার্যক্রম বিস্তৃত হয়েছে। বর্তমানে স্বেচ্ছাসেবীদের একটি দল নিয়মিতভাবে খাবার সংগ্রহ, বাছাই, বিতরণ এবং অসহায় মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কাজ করছেন। তাঁদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রতি সপ্তাহে প্রায় ৬০০ মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে। খাদ্যসহায়তার পাশাপাশি পরিবেশের ওপর খাবারের অপচয়ের নেতিবাচক প্রভাব কমানোর বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে এই উদ্যোগে।   প্রাইড অব ব্রিটেন অ্যাওয়ার্ড পাওয়ার পর রাইহানা আহমেদ এই অর্জনের কৃতিত্ব তাঁর স্বেচ্ছাসেবী দলকে দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, সবার সহযোগিতা ছাড়া এত মানুষের পাশে দাঁড়ানো সম্ভব হতো না। আইটিভিকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি জানান, তাঁর ইসলামি বিশ্বাস মানুষের কল্যাণে কাজ করতে এবং পরিবেশ রক্ষায় ভূমিকা রাখতে অনুপ্রাণিত করে। ধর্মীয় মূল্যবোধ থেকেই অন্যের প্রতি দায়িত্ববোধ ও মানবসেবার প্রেরণা পান তিনি।   রাইহানার উদ্যোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো খাদ্যসহায়তা ও পরিবেশ সংরক্ষণকে একই কার্যক্রমের আওতায় নিয়ে আসা। একদিকে উদ্বৃত্ত খাবার নষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা করা হচ্ছে, অন্যদিকে সেই খাবার পৌঁছে যাচ্ছে প্রয়োজনীয় মানুষের কাছে। এতে খাদ্য অপচয় কমানোর পাশাপাশি আর্থিকভাবে সংকটে থাকা পরিবারগুলোও উপকৃত হচ্ছে। কমিউনিটির মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে এ ধরনের উদ্যোগ কীভাবে পরিচালিত হতে পারে, সেন্ট অ্যালবানস কমিউনিটি প্যান্ট্রি তার একটি উদাহরণ।   যুক্তরাজ্যের প্রাইড অব ব্রিটেন অ্যাওয়ার্ড এমন ব্যক্তিদের সম্মাননা জানায়, যাঁরা সাহসিকতা, মানবসেবা কিংবা সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার মাধ্যমে বিশেষ অবদান রাখেন। সমাজের সাধারণ মানুষের অসাধারণ উদ্যোগকে জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরাই এই সম্মাননার অন্যতম উদ্দেশ্য। রাইহানা আহমেদের ক্ষেত্রে খাদ্য অপচয় রোধ এবং বিপদগ্রস্ত মানুষের জন্য নিয়মিত সহায়তার ব্যবস্থা করার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।   এই স্বীকৃতির পরও রাইহানা আহমেদ তাঁর কাজকে ব্যক্তিগত অর্জনের পরিবর্তে সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল হিসেবে দেখছেন। স্বেচ্ছাসেবীদের অবদানকে সামনে রেখে তিনি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত কমিউনিটি প্যান্ট্রি এখন শুধু খাবার বিতরণের উদ্যোগ নয়, বরং স্থানীয় মানুষের পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সামাজিক দায়িত্ববোধের একটি কার্যকর উদাহরণ।

প্রকাশ: অক্টোবর ৩০, ২০২৬ ১:২৬
লন্ডনে ১৩ বছর বয়সী কিশোরীকে ধর্ষণের ঘটনায় তদন্তের স্বার্থে দুই বাংলাদেশি নাগরিককে খুঁজছে মেট্রোপলিটন পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

লন্ডনে কিশোরী ধর্ষণে ২ বাংলাদেশিকে খুঁজছে পুলিশ, ১০ হাজার পাউন্ড পুরস্কার

নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ার ক্ষোভে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবমাননাকর মন্তব্যের অভিনব জবাব দিয়েছে নরওয়ের পর্যটন সংস্থা। ছবি: সংগৃহীত

নোবেল পুরস্কার না পেয়ে ট্রাম্পের ক্ষোভ, টয়লেটের সাথে তুলনা করে নরওয়ের পাল্টা জবাব

ব্রিটেনে নাপিতের দোকানে ইমিগ্রেশন অভিযান, পালাতে গিয়ে ভারতীয় নাগরিক গ্রেপ্তার

ব্রিটেনে নাপিতের দোকানে ইমিগ্রেশন অভিযান, পালাতে গিয়ে ভারতীয় নাগরিক গ্রেপ্তার

দুই বাংলাদেশি
১৩ বছরের কিশোরীকে ধ র্ষ ণের ঘটনায় দুই বাংলাদেশির খোঁজে লন্ডন পুলিশ

যুক্তরাজ্যের লন্ডনে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীকে পার্কে নিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনার তদন্তে দুই বাংলাদেশি নাগরিককে খুঁজছে পুলিশ। তাঁদের পরিচয় ও ছবি প্রকাশ করে অবস্থান সম্পর্কে তথ্য চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও দোষী সাব্যস্ত করতে সহায়ক তথ্যের জন্য সর্বোচ্চ ১০ হাজার পাউন্ড পুরস্কার ঘোষণা করেছে ব্রিটিশ দাতব্য সংস্থা ক্রাইমস্টপার্স। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশ নতুন করে এ আবেদন জানিয়েছে। তবে ওই দুই ব্যক্তিকে এখনো গ্রেপ্তার করা হয়নি এবং তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি।    পুলিশ যে দুই ব্যক্তিকে খুঁজছে, তাঁরা হলেন ৩১ বছর বয়সী শওকত আহমেদ এবং ৩৪ বছর বয়সী জাহিদুল হাসান জায়গীরদার। দুজনই বাংলাদেশি নাগরিক বলে নিশ্চিত করেছে মেট্রোপলিটন পুলিশ। তদন্তকারীদের ধারণা, শওকত এখনো যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন এবং পূর্ব লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস এলাকার সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ রয়েছে। অন্যদিকে জাহিদুলেরও একই এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ থাকলেও তিনি বাংলাদেশে চলে গিয়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তাঁদের বর্তমান অবস্থান নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।   মেট্রোপলিটন পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটে ২০২৪ সালের ১ আগস্ট রাতে পূর্ব লন্ডনের বেথনাল গ্রিন এলাকায়। স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১১টার দিকে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ পায় পুলিশ। ভুক্তভোগীর বর্ণনা অনুযায়ী, হোয়াইটচ্যাপেল রোডে দুই ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর দেখা হয়। পরে তাঁরা তাঁকে সেখান থেকে উইভার্স ফিল্ডস নামের একটি পার্কে নিয়ে যান। কিশোরীর অভিযোগ, ওই পার্কেই তাঁকে ধর্ষণ করা হয়।   ঘটনার পর এক পথচারী কিশোরীটিকে দেখতে পেয়ে সাহায্য করেন। পরে বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে এবং তদন্ত শুরু হয়। মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর থেকে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ, ফরেনসিক পরীক্ষা এবং সম্ভাব্য সাক্ষীদের সঙ্গে কথা বলাসহ ব্যাপক তদন্ত চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিশোরীটির পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে।   দীর্ঘ তদন্তের পর গত ১৮ সেপ্টেম্বর পুলিশ প্রথমবারের মতো জনসাধারণের সহায়তা চেয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। সে সময় তদন্তের স্বার্থে দুই ব্যক্তির ছবি প্রকাশ করা হলেও তাঁদের নাম জানানো হয়নি। পুলিশের আহ্বানে সাড়া দিয়ে কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন। তদন্তকারীদের মতে, সেই তথ্য পরবর্তী অনুসন্ধানে অগ্রগতি আনতে সহায়তা করেছে। এর ভিত্তিতেই বৃহস্পতিবার শওকত আহমেদ ও জাহিদুল হাসান জায়গীরদারের নাম প্রকাশ করে তাঁদের অবস্থান শনাক্তে নতুন করে সহায়তা চাওয়া হয়েছে।   পুলিশের ধারণা, গত ১৮ সেপ্টেম্বর প্রথম প্রকাশ্য আবেদন জানানোর সময়েই দুই ব্যক্তি আত্মগোপনে চলে যান। এরপর তাঁদের খুঁজে বের করতে বিভিন্নভাবে চেষ্টা চালানো হচ্ছে। শওকত যুক্তরাজ্যের ভেতরে কোথাও অবস্থান করতে পারেন বলে তদন্তকারীদের ধারণা। আর জাহিদুল বাংলাদেশে ফিরে গিয়ে থাকতে পারেন। তবে তিনি বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন, এমন কোনো নিশ্চিত অভিবাসন নথি প্রকাশ করা হয়নি। তাঁদের বাংলাদেশের স্থায়ী ঠিকানা সম্পর্কেও নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।   মামলার তদন্তের দায়িত্বে থাকা ডিটেকটিভ চিফ ইন্সপেক্টর আনা ডেইটন জানিয়েছেন, ২০২৪ সালে অভিযোগ পাওয়ার পর থেকেই পুলিশ ব্যাপক অনুসন্ধান চালাচ্ছে। সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত আবেদনের পর সাধারণ মানুষের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি এনেছে। এখন দুই ব্যক্তির অবস্থান শনাক্ত করে তাঁদের সঙ্গে কথা বলা প্রয়োজন। তিনি শওকত ও জাহিদুলকেও পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানিয়েছেন।   অন্যদিকে ক্রাইমস্টপার্সের লন্ডন অঞ্চলের ব্যবস্থাপক অ্যালেক্সা লুকাস বলেছেন, কিশোরীটি অত্যন্ত গুরুতর ও মানসিকভাবে বিপর্যয়কর ঘটনার শিকার হয়েছে। তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুই ব্যক্তিকে শনাক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হলেও তাঁদের অবস্থান জানা এখন সবচেয়ে জরুরি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ছোট কোনো তথ্যও তদন্তে সহায়ক হতে পারে। তাই কারও কাছে তাঁদের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য থাকলে তা গোপনীয়ভাবে জানাতে অনুরোধ করেছেন তিনি।   ক্রাইমস্টপার্স জানিয়েছে, অপরাধীদের গ্রেপ্তার এবং আদালতে দোষী সাব্যস্ত করতে সহায়ক তথ্যের জন্য সর্বোচ্চ ১০ হাজার পাউন্ড পুরস্কার দেওয়া হবে। তবে শুধু কারও অবস্থান জানালেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই অর্থ পাওয়া যাবে, এমন নয়। পুরস্কারের ক্ষেত্রে সংস্থাটির নির্ধারিত শর্ত প্রযোজ্য। তথ্যদাতারা নিজেদের পরিচয় প্রকাশ না করেও সংস্থাটির সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন। এ জন্য ০৮০০ ৫৫ ১১১ নম্বরে ফোন অথবা ক্রাইমস্টপার্সের ওয়েবসাইট ব্যবহার করা যাবে।   এ ছাড়া মেট্রোপলিটন পুলিশ সরাসরি তথ্য দিতে আগ্রহীদের ১০১ নম্বরে যোগাযোগ করতে বলেছে। যোগাযোগের সময় মামলার রেফারেন্স নম্বর 01/668295/24 উল্লেখ করতে হবে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে কারও কাছে সামান্য তথ্য থাকলেও তা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে দুই ব্যক্তির সাম্প্রতিক অবস্থান, যোগাযোগ বা চলাচল সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য পেলে তদন্তকারীদের সহায়তা করা সম্ভব হবে।   লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস এলাকায় উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মানুষের বসবাস রয়েছে। ফলে তদন্তে খোঁজা দুই ব্যক্তির সঙ্গে ওই এলাকার যোগাযোগ থাকার বিষয়টি স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্যও প্রাসঙ্গিক। তবে দুই ব্যক্তির পরিচয় বাংলাদেশি হওয়ায় পুরো কমিউনিটিকে এই ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত করার সুযোগ নেই। পুলিশ নির্দিষ্ট দুই ব্যক্তিকে খুঁজছে এবং তাঁদের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য চেয়েছে।   এই ঘটনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি পার্থক্য রয়েছে। মেট্রোপলিটন পুলিশ শওকত ও জাহিদুলকে তদন্তের স্বার্থে খুঁজছে এবং তাঁদের সঙ্গে কথা বলতে চায়। কিন্তু প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে তাঁদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক ফৌজদারি অভিযোগ গঠন কিংবা আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার তথ্য দেওয়া হয়নি। তাই তাঁদের সরাসরি ধর্ষণের অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা যাবে না। একইভাবে দুই ব্যক্তির ছবি প্রকাশের অর্থও তাঁদের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়।   ২০২৪ সালের আগস্টে সংঘটিত এই ঘটনার তদন্ত দুই বছরের বেশি সময় ধরে চলছে। সেপ্টেম্বরে প্রথম প্রকাশ্য আবেদন জানানোর পর পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের নাম সামনে এনেছে লন্ডন পুলিশ। তাঁদের একজন যুক্তরাজ্যে এবং অন্যজন বাংলাদেশে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এখন তাঁদের অবস্থান শনাক্ত এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত সম্পন্ন করতে জনসাধারণের সহায়তা চাইছে মেট্রোপলিটন পুলিশ।   সূত্র: লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশ,দ্য স্ট্যান্ডার্ড,দ্য সান।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৯, ২০২৬ ১৭:৫১
ইরানের বুশেহর পারমাণবিক কেন্দ্রে আরও ৫০৮ বিশেষজ্ঞ পাঠাচ্ছে রাশিয়া

ইরানের বুশেহর পারমাণবিক কেন্দ্রে আরও ৫০৮ বিশেষজ্ঞ পাঠাচ্ছে রাশিয়া

গাজার যু দ্ধাহত শিশুদের চিকিৎসায় ১ লাখ পাউন্ডের বেশি তহবিল সংগ্রহ হামজার

গাজার যু দ্ধাহত শিশুদের চিকিৎসায় ১ লাখ পাউন্ডের বেশি তহবিল সংগ্রহ হামজার

ইসরায়েলের নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন ও হাস্যকর’, কাতারের কড়া জবাব

ইসরায়েলের নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন ও হাস্যকর’, কাতারের কড়া জবাব

0 Comments