কুমিল্লা নগরীতে সন্ত্রাস ও মাদকবিরোধী মানববন্ধন কর্মসূচি শেষে বাড়ি ফেরার পথে হামলা ও গুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে ১৩ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রসহ অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। আহতদের কয়েকজনকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহত স্কুলছাত্র প্রেমকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরীর কাটাবিল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই পুলিশ ও র্যাব অভিযান শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার। স্থানীয়দের ভাষ্য, গত দুই দিন ধরে কাটাবিল ও তেলিকোনা এলাকায় প্রকাশ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কিশোর গ্যাং ও মাদক কারবারিদের মহড়া চলছিল। এর প্রতিবাদ এবং এলাকা মাদকমুক্ত করার দাবিতে বৃহস্পতিবার সচেতন নাগরিকদের উদ্যোগে কাটাবিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা বাড়ি ফেরার সময় তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। এ সময় প্রেমসহ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ ও আহত হন। ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “প্রেমের বয়স মাত্র ১৩ থেকে ১৫ বছর হবে। মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া শিশুটি হামলার শিকার হয়েছে। এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক ঘটনা। আমরা চাই, জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক।” নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তাদের নিয়ন্ত্রণেই কিশোর গ্যাংগুলো পরিচালিত হয়। স্থানীয় বাসিন্দা আনোয়ার বলেন, “প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা ও অস্ত্রের মহড়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় এই হামলা হয়েছে। সাধারণ মানুষ এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। আমরা দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।” কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযান শুরু করে। তবে ঘটনার পরই অভিযুক্তরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছে। তাদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।” ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে কাজ করছে।
কর্মস্থলে যাওয়ার পথে এক ভয়াবহ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মরত কুমিল্লার সন্তান শাহ আলম ভুঁইয়া (৫০)। বুধবার স্থানীয় সময় ভোর ৬টায় দেশটির দিব্বা আল-ফুজাইরাহ এলাকায় আকাশ থেকে পড়া একটি ড্রোনের ধ্বংসাবশেষের আঘাতে তার মৃত্যু হয়। নিহত শাহ আলম কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার সাহেবাবাদ ইউনিয়নের জিরুইন গ্রামের হানিফ ভুঁইয়ার মেজো ছেলে। তার আকস্মিক মৃত্যুর সংবাদে গ্রামের বাড়িতে এখন শোকের মাতম চলছে। পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার ভোরে দিব্বা আল-ফুজাইরাহ এলাকায় যখন বিপদসংকেত বা সাইরেন বেজে ওঠে, তখন সাধারণ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটছিলেন। শাহ আলম সে সময় নিজের কর্মস্থলের দিকে যাচ্ছিলেন। দুর্ভাগ্যবশত, একটি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্বারা প্রতিহত করা ড্রোনের অংশবিশেষ সরাসরি তার ওপর এসে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি প্রাণ হারান। স্থানীয়দের ধারণা, ইরান থেকে ছোড়া একটি ড্রোন লক্ষ্যভ্রষ্ট বা ধ্বংস করার পর এর অবশিষ্টাংশ জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এসে পড়েছিল। বর্তমানে নিহতের মরদেহ স্থানীয় হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। শোকে পাথর হয়ে যাওয়া পরিবার ও গ্রামবাসী সরকারের কাছে দ্রুত মরদেহটি দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে এক মুদি দোকানে ২০০ টাকা লিটারে পেট্রোল বিক্রির দায়ে দোকানিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করেন চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নুরুল আমিন। শুক্রবার (২৭ মার্চ) চিওড়া বাজারে অভিযানটি চালানো হয়। ইউএনও নুরুল আমিন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দোকানটিতে অভিযান চালানো হয়। সেখানে ২০০ থেকে ২১০ টাকায় পেট্রোল বিক্রি এবং তেল কম দেওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় দোকানির মালিক আবু রায়হান জুয়েলকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ভবিষ্যতের জন্য তাকে সতর্ক করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, বিভিন্ন ডিলার ও সিন্ডিকেটের মাধ্যমে খোলা বাজারে তেল বিক্রি করা হচ্ছে। কারা ফিলিং স্টেশন থেকে তেল নিয়ে অবৈধভাবে বাজারে বিক্রি করছে, তা নজরদারিতে রাখা হচ্ছে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ঘটে গেল এক হৃদয়বিদারক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা। কুমিল্লার বুড়িচংয়ে স্টার লাইন পরিবহনের একটি বাসের চাপায় একই পরিবারের পাঁচজন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মহাসড়কের পাশে একটি রেস্তোরাঁয় খাওয়া শেষ করে রাস্তা পার হওয়ার সময় এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, নিহতরা সবাই নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী থেকে একটি প্রাইভেট কারে করে ঢাকা যাচ্ছিলেন। যাত্রাপথে বুড়িচং এলাকায় বিরতি নিয়ে তারা একটি রেস্তোরাঁয় রাতের খাবার সেরে রাস্তা পার হচ্ছিলেন। ঠিক তখনই ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী স্টার লাইন পরিবহনের একটি বাস তাদের ওপর উঠে যায়। বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. লুৎফুর রহমান বিবিসি বাংলাকে জানান, প্রাইভেট কারটিতে চালকসহ মোট ছয়জন যাত্রী ছিলেন। নিহতদের মধ্যে দুইজন নারী ও দুইটি শিশু রয়েছে। মর্মান্তিক এই ঘটনায় ১৩ বছর বয়সী একটি শিশু প্রাণে বেঁচে গেলেও গুরুতর আহত অবস্থায় সে এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। দুর্ঘটনার পর ঘাতক বাসটিকে পুলিশ জব্দ করতে পারলেও চালক পলাতক রয়েছে। ঘটনার জেরে মহাসড়কে কিছু সময় যান চলাচল ব্যাহত হলেও বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। একই পরিবারের এতগুলো মানুষের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক সড়ক ও রেল দুর্ঘটনায় নিহতদের প্রতি গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পাঠানো এক বার্তায় জানানো হয়, বিশেষ করে কুমিল্লা-য় রেলক্রসিংয়ে বাসের সঙ্গে ট্রেনের সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনায় তিনি গভীরভাবে মর্মাহত। সরকারি সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি বগুড়া-য় ট্রেন দুর্ঘটনার পর শনিবার দিবাগত রাতে কুমিল্লায় এই ভয়াবহ সংঘর্ষে বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটে। এসব দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ দ্রুত উদ্ঘাটনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেছেন। একই সঙ্গে আহতদের দ্রুত ও যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এদিকে কুমিল্লার দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এবং একটি করেছে জেলা প্রশাসন। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এসব কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। ইতোমধ্যে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে কয়েকজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং তদন্তের ভিত্তিতে আরও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া ফেনী, হবিগঞ্জ ও জামালপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনায় নিহতদের প্রতিও শোক জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সহায়তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পবিত্র ঈদের আনন্দঘন সময়ে এসব দুর্ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। প্রতিটি প্রাণই মূল্যবান এবং প্রতিটি মৃত্যু অপূরণীয় ক্ষতি। তিনি নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। তিনি আরও বলেন, জনগণের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। রেলক্রসিং ব্যবস্থাপনা, সেতুর নিরাপত্তা এবং সামগ্রিক পরিবহন খাতের দুর্বলতা চিহ্নিত করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে সংঘটিত ভয়াবহ বাস ও ট্রেন দুর্ঘটনার প্রেক্ষিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছে সরকার। দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে ১ লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদানের ঘোষণা দিয়েছেন। রোববার (২২ মার্চ) দুপুরে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে প্রতিমন্ত্রী জানান, রেল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এই ১ লাখ টাকার পাশাপাশি জেলা প্রশাসন থেকেও তাৎক্ষণিক সহায়তা দেওয়া হবে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিটি মৃত ব্যক্তির পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা এবং আহতদের প্রত্যেককে ১৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। এছাড়া আহতদের চিকিৎসার যাবতীয় ব্যয়ভার সরকার বহন করবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন। প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেন, "প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে সার্বক্ষণিক এই পরিস্থিতির তদারকি করছেন। গুরুতর আহতদের প্রয়োজনে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।" দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দেন যে, কোনো ধরনের গাফিলতি প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এরই মধ্যে প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে দুইজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে অরক্ষিত রেলক্রসিংগুলোতে ওভারপাস বা আন্ডারপাস নির্মাণের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার কথাও তিনি উল্লেখ করেন। এর আগে সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ। তিনি প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে জানান, রেলগেট খোলা থাকায় বাসটি লাইনের ওপর উঠে যায় এবং মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনা ঘটে। তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন।
এক বীভৎস ভোরের সাক্ষী হলো কুমিল্লার পদুয়ার বাজার। গভীর রাতে রেলক্রসিং পার হওয়ার সময় ঢাকাগামী মেইল ট্রেনের ধাক্কায় দুমড়ে-মুচড়ে গেছে 'মামুন পরিবহন' নামের একটি যাত্রীবাহী বাস। এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত নারী ও শিশুসহ ১২ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। শনিবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে ঘটে যাওয়া এই সংঘর্ষ এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, ঘাতক ট্রেনটি যাত্রীবাহী বাসটিকে প্রায় আধা কিলোমিটার পথ ছেঁচড়ে নিয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান বেশ কয়েকজন, পরবর্তীতে উদ্ধার অভিযান চলাকালীন নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১২ জনে দাঁড়ায়। নিহতদের মধ্যে ৭ জন পুরুষ, ৩ জন নারী এবং ২ জন শিশু রয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পরিচয় জানা যায়নি। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার অজয় ভৌমিক আজ রোববার সকালে এই হৃদয়বিদারক তথ্য নিশ্চিত করেছেন। দুর্ঘটনার পর থেকেই চট্টগ্রামের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে দুটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও ট্রেন সরাতে আখাউড়া থেকে রিলিফ ট্রেন তলব করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রেলওয়ের চট্টগ্রাম বিভাগের ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।