কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে এক মুদি দোকানে ২০০ টাকা লিটারে পেট্রোল বিক্রির দায়ে দোকানিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করেন চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নুরুল আমিন। শুক্রবার (২৭ মার্চ) চিওড়া বাজারে অভিযানটি চালানো হয়। ইউএনও নুরুল আমিন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দোকানটিতে অভিযান চালানো হয়। সেখানে ২০০ থেকে ২১০ টাকায় পেট্রোল বিক্রি এবং তেল কম দেওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় দোকানির মালিক আবু রায়হান জুয়েলকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ভবিষ্যতের জন্য তাকে সতর্ক করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, বিভিন্ন ডিলার ও সিন্ডিকেটের মাধ্যমে খোলা বাজারে তেল বিক্রি করা হচ্ছে। কারা ফিলিং স্টেশন থেকে তেল নিয়ে অবৈধভাবে বাজারে বিক্রি করছে, তা নজরদারিতে রাখা হচ্ছে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ঘটে গেল এক হৃদয়বিদারক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা। কুমিল্লার বুড়িচংয়ে স্টার লাইন পরিবহনের একটি বাসের চাপায় একই পরিবারের পাঁচজন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মহাসড়কের পাশে একটি রেস্তোরাঁয় খাওয়া শেষ করে রাস্তা পার হওয়ার সময় এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, নিহতরা সবাই নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী থেকে একটি প্রাইভেট কারে করে ঢাকা যাচ্ছিলেন। যাত্রাপথে বুড়িচং এলাকায় বিরতি নিয়ে তারা একটি রেস্তোরাঁয় রাতের খাবার সেরে রাস্তা পার হচ্ছিলেন। ঠিক তখনই ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী স্টার লাইন পরিবহনের একটি বাস তাদের ওপর উঠে যায়। বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. লুৎফুর রহমান বিবিসি বাংলাকে জানান, প্রাইভেট কারটিতে চালকসহ মোট ছয়জন যাত্রী ছিলেন। নিহতদের মধ্যে দুইজন নারী ও দুইটি শিশু রয়েছে। মর্মান্তিক এই ঘটনায় ১৩ বছর বয়সী একটি শিশু প্রাণে বেঁচে গেলেও গুরুতর আহত অবস্থায় সে এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। দুর্ঘটনার পর ঘাতক বাসটিকে পুলিশ জব্দ করতে পারলেও চালক পলাতক রয়েছে। ঘটনার জেরে মহাসড়কে কিছু সময় যান চলাচল ব্যাহত হলেও বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। একই পরিবারের এতগুলো মানুষের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক সড়ক ও রেল দুর্ঘটনায় নিহতদের প্রতি গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পাঠানো এক বার্তায় জানানো হয়, বিশেষ করে কুমিল্লা-য় রেলক্রসিংয়ে বাসের সঙ্গে ট্রেনের সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনায় তিনি গভীরভাবে মর্মাহত। সরকারি সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি বগুড়া-য় ট্রেন দুর্ঘটনার পর শনিবার দিবাগত রাতে কুমিল্লায় এই ভয়াবহ সংঘর্ষে বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটে। এসব দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ দ্রুত উদ্ঘাটনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেছেন। একই সঙ্গে আহতদের দ্রুত ও যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এদিকে কুমিল্লার দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এবং একটি করেছে জেলা প্রশাসন। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এসব কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। ইতোমধ্যে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে কয়েকজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং তদন্তের ভিত্তিতে আরও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া ফেনী, হবিগঞ্জ ও জামালপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনায় নিহতদের প্রতিও শোক জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সহায়তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পবিত্র ঈদের আনন্দঘন সময়ে এসব দুর্ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। প্রতিটি প্রাণই মূল্যবান এবং প্রতিটি মৃত্যু অপূরণীয় ক্ষতি। তিনি নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। তিনি আরও বলেন, জনগণের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। রেলক্রসিং ব্যবস্থাপনা, সেতুর নিরাপত্তা এবং সামগ্রিক পরিবহন খাতের দুর্বলতা চিহ্নিত করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে সংঘটিত ভয়াবহ বাস ও ট্রেন দুর্ঘটনার প্রেক্ষিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছে সরকার। দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে ১ লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদানের ঘোষণা দিয়েছেন। রোববার (২২ মার্চ) দুপুরে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে প্রতিমন্ত্রী জানান, রেল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এই ১ লাখ টাকার পাশাপাশি জেলা প্রশাসন থেকেও তাৎক্ষণিক সহায়তা দেওয়া হবে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিটি মৃত ব্যক্তির পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা এবং আহতদের প্রত্যেককে ১৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। এছাড়া আহতদের চিকিৎসার যাবতীয় ব্যয়ভার সরকার বহন করবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন। প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেন, "প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে সার্বক্ষণিক এই পরিস্থিতির তদারকি করছেন। গুরুতর আহতদের প্রয়োজনে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।" দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দেন যে, কোনো ধরনের গাফিলতি প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এরই মধ্যে প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে দুইজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে অরক্ষিত রেলক্রসিংগুলোতে ওভারপাস বা আন্ডারপাস নির্মাণের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার কথাও তিনি উল্লেখ করেন। এর আগে সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ। তিনি প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে জানান, রেলগেট খোলা থাকায় বাসটি লাইনের ওপর উঠে যায় এবং মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনা ঘটে। তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন।
এক বীভৎস ভোরের সাক্ষী হলো কুমিল্লার পদুয়ার বাজার। গভীর রাতে রেলক্রসিং পার হওয়ার সময় ঢাকাগামী মেইল ট্রেনের ধাক্কায় দুমড়ে-মুচড়ে গেছে 'মামুন পরিবহন' নামের একটি যাত্রীবাহী বাস। এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত নারী ও শিশুসহ ১২ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। শনিবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে ঘটে যাওয়া এই সংঘর্ষ এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, ঘাতক ট্রেনটি যাত্রীবাহী বাসটিকে প্রায় আধা কিলোমিটার পথ ছেঁচড়ে নিয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান বেশ কয়েকজন, পরবর্তীতে উদ্ধার অভিযান চলাকালীন নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১২ জনে দাঁড়ায়। নিহতদের মধ্যে ৭ জন পুরুষ, ৩ জন নারী এবং ২ জন শিশু রয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পরিচয় জানা যায়নি। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার অজয় ভৌমিক আজ রোববার সকালে এই হৃদয়বিদারক তথ্য নিশ্চিত করেছেন। দুর্ঘটনার পর থেকেই চট্টগ্রামের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে দুটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও ট্রেন সরাতে আখাউড়া থেকে রিলিফ ট্রেন তলব করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রেলওয়ের চট্টগ্রাম বিভাগের ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান।
কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম প্রবাসী নাসির উদ্দিনের পরিবারকে ডাকাতির ঘটনায় মূল আসামিদের ধরিয়ে দিতে ৫০ হাজার টাকা পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ডাকাতদের ধরা পড়ার সময় আহত হলে তাদের চিকিৎসা ব্যয়ও তিনি বহন করবেন। শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাতে মনোহরগঞ্জ উপজেলার ভাউপুর গ্রামে নাসির উদ্দিনের বাড়ি পরিদর্শনকালে এই ঘোষণা দেন সংসদ সদস্য। এসময় উপস্থিত ছিলেন দলের স্থানীয় নেতাকর্মীরা। স্থানীয় সূত্র ও মামলার তথ্য অনুযায়ী, ৮ মার্চ রাত ১০টার দিকে নাসির উদ্দিন তার শ্বশুরবাড়ি কিসমত গ্রামে যাওয়ার জন্য অটোরিকশায় চলছিলেন। ভাউপুর গ্রামের আলী মিয়ার বাড়ির সামনে পৌঁছালে মোটরসাইকেলে আসা সৈয়দ আহমেদের ছেলে সাদ্দাম হোসেন ও রুহুল আমিনের ছেলে ইলিয়াস তার অটোরিকশা আটকিয়ে নাসিরকে গলায় ছুরি ধরে নামিয়ে নেন। এরপর তাঁকে ভাউপুর দক্ষিণপাড়া নুরানি মাদ্রাসার ছাদে নিয়ে গিয়ে মারধর এবং টাকা-পয়সা আছে কিনা জানতে চেষ্টা করা হয়। অত্যাচারে হতাশ হয়ে নাসির জানান, টাকা তার শ্বশুরবাড়িতে আছে। রাত পৌনে ১১টার দিকে সাদ্দাম ও ইলিয়াস নাসিরকে জিম্মি করে শ্বশুর হাজি হাশেমের বাড়িতে নিয়ে যান। পরে একই গ্রামের আরও তিনজন—শাহ আলম (শামসুল হকের ছেলে), মো. রাসেল (রোয়াব মিয়ার ছেলে) ও কামাল হোসেন (মৃত ছাদেকের ছেলে)—সাথে যোগ দিয়ে পুরো পরিবারকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করেন। ডাকাতির সময় নাসিরের এক বছর বয়সী ছেলের গলায় ছুরি ধরে হুমকি দেওয়া হয় এবং ৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা ও স্ত্রী ব্যবহৃত প্রায় চার ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুট করা হয়। পরবর্তী দিন গ্রামবাসী একত্র হয়ে সন্ত্রাসীদের বিচারের দাবি জানালে সংসদ সদস্য আবুল কালাম মনোহরগঞ্জ থানার ওসিকে তৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। ৯ মার্চ নাসির উদ্দিন থানায় ৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। পুলিশ অভিযান চালিয়ে সাদ্দাম হোসেন ও শাহ আলম (সালাউদ্দিন)কে গ্রেফতার করে। উদ্ধার করা হয় চার ভরি স্বর্ণ ও এক লাখ ৫৫ হাজার টাকা। মনোহরগঞ্জ থানার ওসি শাহিনুর ইসলাম জানিয়েছেন, বাকিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ করে স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল মতিন খানের পক্ষে প্রচার-প্রচারণায় অংশ নেওয়ার অভিযোগে কুমিল্লার তিতাস উপজেলার সদর কড়িকান্দি ইউনিয়ন বিএনপির তিন নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কৃত নেতারা হলেন, সদর কড়িকান্দি ইউনিয়ন বিএনপির ২নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান ভূঁইয়া, ৫নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক সুরুজ মিয়া এবং ৫নং ওয়ার্ড সদস্য জুয়েল শিকদার। এ বিষয়ে তিতাস উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মেহেদি হাসান সেলিম ভূঁইয়া বলেন, দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে তারা দলের ক্ষতি করেছেন। তিনি জানান, তারা বিএনপি প্রার্থী অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে কাজ করেছেন। এ কারণেই তাদের বিরুদ্ধে এই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সৌদি আরবের পক্ষ থেকে উপহার হিসেবে পাওয়া ১২ হাজার ৫০০ কার্টন খেজুর দেশের বিভিন্ন জেলায় বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। এর মধ্যে কুমিল্লা জেলার জন্য ৫২০ কার্টন খেজুর বরাদ্দ দেয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। তবে জেলার ১৭টি উপজেলায় মোট ৫০০ কার্টন খেজুর বণ্টন করা হয়েছে। ফলে বাকি ২০ কার্টনের কোনো হিসেব পাওয়া যাচ্ছে না। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট সূত্রে জানা যায়, সৌদি যুবরাজের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে ১২ হাজার ৫০০ কার্টন খেজুর উপহার আসে। গত ১ মার্চ এসব খেজুর জেলাভিত্তিক বণ্টনের জন্য সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের কাছে পাঠায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর। ওই তালিকা অনুযায়ী কুমিল্লা জেলায় ৫২০ কার্টন খেজুর পাঠানো হয়েছে বলে ওয়েবসাইটে উল্লেখ রয়েছে। তবে জেলার ১৭টি উপজেলায় মোট ৫০০ কার্টন খেজুর বিতরণ করা হয়েছে। বাকি ২০ কার্টনের বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। যদিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে সংখ্যাগত ভুল বলে দাবি করেছে। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আবেদ আলী বলেন, তাদের কাছে ৫০০ কার্টন খেজুরই এসেছিল এবং সেগুলোই বিতরণ করা হয়েছে। পরে অধিদপ্তর বিষয়টি সংশোধন করে ৫০০ কার্টন দেখিয়েছে বলেও জানান তিনি। তালিকা সংশোধন করা হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, তালিকা নয়, বরাদ্দই ৫০০ কার্টন ছিল এবং সেটিই সংশোধন করা হয়েছে। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে কুমিল্লা জেলায় ৫২০ কার্টন খেজুর বরাদ্দের তথ্যই দেখা যাচ্ছে। এ বিষয়ে কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সাইফুল ইসলামকে ফোন করা হলেও তারা ফোন রিসিভ না করায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাতে ফেসবুকে লাইভে এসে নিজ এলাকার বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের হিসাব তুলে ধরেন কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। ওই লাইভে দেবিদ্বারে ৩৯ কার্টন খেজুর পাওয়ার বিষয়টি তিনি উল্লেখ করেন। তার এই তথ্য প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
কৃষি, খাদ্য, মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রী হাজী আমিন উর রশীদ ইয়াছিন বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহে কিছুটা চাপ তৈরি হলেও বাংলাদেশে এখনো কোনো সংকট দেখা দেয়নি। শনিবার (৭ মার্চ) কুমিল্লা স্টেডিয়াম জিমনেসিয়ামে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি কুমিল্লা জেলা শাখার পরিচিতি সভা, ইফতার ও দোয়ার অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী জানান, দেশে আগামী এক মাসের চাহিদা পূরণ করার মতো জ্বালানি তেলের মজুত রয়েছে। পাশাপাশি পরবর্তী চালানবাহী জাহাজ ইতোমধ্যে বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। এ কারণে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন। ঈদ উপলক্ষে মার্কেটগুলোতে অতিরিক্ত আলোকসজ্জা না করার জন্য ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিশ্ব এখন কঠিন সময় পার করছে। তাই বিদ্যুতের অপচয় কমিয়ে সবাইকে হিসাব করে চলতে হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিদ্যুতের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং অপচয় রোধে সচেতন হওয়া জরুরি। মন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়েছেন। দেশের মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব তিনি পেয়েছেন। এই দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে তিনি সবার দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন, যাতে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে কুমিল্লার মানুষের মুখ উজ্জ্বল করতে পারেন। কুমিল্লা দোকান মালিক সমিতির সভাপতি সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (কুমিল্লা বিভাগ) মো. মোস্তাক মিয়া, বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন, সংগঠনের মহাসচিব মো. জহিরুল হক ভূঁইয়া এবং কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা টিপু। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন কুমিল্লা দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জামাল খন্দকার। এছাড়া সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম ও সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মঞ্জুরুল আলম ভূইয়া মঞ্জুরের পরিচালনায় কুমিল্লার বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন। আলোচনা শেষে দোকান মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি হেলাল উদ্দিন কুমিল্লা জেলার নবগঠিত কমিটির নেতাদের পরিচয় করিয়ে দেন।
পাহাড়ি জেলা বান্দরবানের লামা ও আলীকদম উপজেলায় আকস্মিক সফরে গিয়েছেন কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও এনসিপির শীর্ষ সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে তাকে বিভিন্ন স্থানে দেখা গেলে স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, তিনি প্রথমে লামা উপজেলা–র ইয়াংছা চেকপোস্ট সংলগ্ন একটি মসজিদে জোহরের নামাজ আদায় করেন। পরে তাকে লামা বাজার ও আলীকদম উপজেলা–র বিভিন্ন এলাকায় ঘুরতে দেখা যায়। এ সময় তার সঙ্গে অল্পসংখ্যক সঙ্গী ছিলেন এবং তিনি সাধারণ পোশাকে চলাফেরা করেন। জনপ্রিয় এ নেতার আকস্মিক সফরের উদ্দেশ্য নিয়ে স্থানীয়ভাবে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। এটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নাকি ব্যক্তিগত ভ্রমণ—তা স্পষ্ট নয়। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক সূত্র এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য জানাতে পারেনি। এ বিষয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)–র লামা উপজেলা সমন্বয়কারী মো. নাজমুল হোসেন জানান, সফরটি সম্পর্কে আগে থেকে সাংগঠনিকভাবে অবহিত করা হয়নি। তিনি এটিকে ব্যক্তিগত সফর বলেই উল্লেখ করেন। হঠাৎ এ সফরের পেছনে কোনো রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট রয়েছে কি না, তা নিয়ে স্থানীয় জনপদ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা চলছে।
কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও এনসিপির প্রধান সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, দলটির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম—তিন নেতার ফেসবুক স্ট্যাটাস নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) তারা প্রত্যেকে নিজ নিজ ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে আলাদা পোস্ট দেন। প্রকাশের পরপরই সেগুলো দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং নেটিজেনদের মধ্যে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। ইফতারের কিছুক্ষণ পর সন্ধ্যা ৬টা ১৬ মিনিটে হাসনাত আবদুল্লাহ একটি সংক্ষিপ্ত স্ট্যাটাস দেন। সেখানে তিনি লেখেন, “ইনকিলাব জিন্দাবাদ।” মাত্র দুটি শব্দের এই পোস্ট মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। সমর্থকরা যেমন সমর্থন জানান, তেমনি সমালোচকরাও বিভিন্ন মন্তব্য করেন। এরপর সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নিজের ফেসবুক আইডিতে লেখেন, “ইনকিলাব জিন্দাবাদ! ✊ চাঁদাবাজ মুর্দাবাদ! 🚫।” পোস্টটি প্রকাশের পর ব্যাপক সাড়া পড়ে। এতে আড়াই লাখেরও বেশি প্রতিক্রিয়া, ২১ হাজারের বেশি মন্তব্য এবং প্রায় ৮ হাজার শেয়ার হয়েছে। একই দিন রাত ৮টা ১০ মিনিটের দিকে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলমও একটি স্ট্যাটাস দেন। তিনি লেখেন, “যে স্লোগান স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছে, সেই স্লোগান তাদের উত্তরসূরিদের জন্য ভয়ের কারণ হবেই।” তার পোস্টেও বিপুল সাড়া পাওয়া যায়। এতে দেড় লাখের কাছাকাছি প্রতিক্রিয়া, ১৬ হাজারের বেশি মন্তব্য এবং প্রায় আড়াই হাজার শেয়ার হয়েছে। তিন নেতার ধারাবাহিক এই পোস্ট সামাজিক মাধ্যমে নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
কুমিল্লা জেলার হোমনা উপজেলার ঘারমোড়া ইউনিয়নের মনিপুর গ্রামে এক প্রবাসীর স্ত্রী ও তার দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে প্রতিবেশীরা দীর্ঘ সময় ধরে ঘর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে খোঁজ নিতে যান। পরে জানালা দিয়ে ভেতরে তাকিয়ে তিনজনকে নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে তারা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহগুলো উদ্ধার করে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে হোমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোরশেদুল আলম চৌধুরী জানান, প্রাথমিক তদন্ত শেষে মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ঘটনার পেছনের কারণ উদঘাটনে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভের পর এক দিনও সময় নষ্ট না করে নিজ নিজ এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা ফেরাতে এবং ‘চাঁদাবাজি’র সংস্কৃতি চিরতরে নির্মূল করতে ব্যতিক্রমী সব উদ্যোগ নিয়েছেন নবনির্বাচিত দুই সংসদ সদস্য। ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও) এবং কুমিল্লা-১০ (নাঙ্গলকোট ও লালমাই) আসনে শুরু হওয়া এই কার্যক্রম ইতোমধ্যেই সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক আশার সঞ্চার করেছে। গফরগাঁওয়ে মাইকিং ও কঠোর হুশিয়ারি: ময়মনসিংহ-১০ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামানের পক্ষ থেকে পুরো উপজেলায় মাইকিং করা হয়েছে। ব্যবসায়ীদের অভয় দিয়ে বলা হয়েছে, কেউ যদি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা কোনো ব্যক্তির কাছে চাঁদা দাবি করে, তবে তাকে তৎক্ষণাৎ ধরে পুলিশের হাতে তুলে দিতে হবে। আক্তারুজ্জামান তাঁর ফেসবুক বার্তায় স্পষ্ট করেছেন, “বিশৃঙ্খলা ও অপরাধে জড়িতরা কোনোভাবেই দলের লোক হতে পারে না। অপরাধীর একমাত্র পরিচয় সে অপরাধী।” তিনি ‘দেশ আগে, দল পরে’ নীতিতে বিশ্বাসী হয়ে এলাকার উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। নাঙ্গলকোটে এমপির ‘অভিযোগ বাক্স’: এদিকে কুমিল্লা-১০ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া চাঁদাবাজি ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড রুখতে এক অভিনব পদক্ষেপ নিয়েছেন। তিনি নাঙ্গলকোট বাজারের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে বিশেষ ‘অভিযোগ বাক্স’ স্থাপন করেছেন। এই বাক্সে বিএনপির কোনো নেতাকর্মীর বিরুদ্ধেও যদি চাঁদাবাজির অভিযোগ থাকে, তবে যে কেউ পরিচয় গোপন রেখে তা জমা দিতে পারবেন। বিশেষভাবে তৈরি করা এই স্টিলের বাক্সগুলোর চাবি থাকবে সরাসরি সংসদ সদস্যের হাতে। তিনি নিজেই সেগুলো নিয়মিত পরীক্ষা করবেন এবং প্রাপ্ত অভিযোগের ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে ব্যবস্থা নেবেন। মোবাশ্বের আলম বলেন, “জনগণ আমাকে পাহারাদার হিসেবে নির্বাচিত করেছে। আমার দলের কেউ অপরাধ করলে আমি তার প্রতি আরও বেশি কঠোর হব। সন্ত্রাস ও মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’।” নতুন বাংলাদেশের এই বদলে যাওয়া রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাঁরা মনে করছেন, নেতাদের এমন দায়িত্বশীল ভূমিকা ও স্বচ্ছতা বজায় থাকলে দেশ থেকে অপরাজনীতি দূর করা সম্ভব হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লায় এক নতুন রাজনৈতিক যুগের সূচনা হয়েছে। প্রথাগত রাজনীতির হেভিওয়েটদের ভিড়ে প্রথমবারের মতো নির্বাচনে অংশ নিয়েই বাজিমাত করেছেন কুমিল্লার ৫ জন তরুণ ও মেধাবী নেতা। জেলার ১১টি সংসদীয় আসনের মধ্যে যে আটটিতে বিএনপি, একটিতে জামায়াত, একটিতে এনসিপি এবং একটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন, তার মধ্যে এই ৫ জনের সরাসরি সংসদে অভিষেক দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সংসদে যাওয়া কুমিল্লার সেই ৫ নতুন মুখ হলেন: ১. কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস): বিএনপির কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া। ২. কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার): জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। ৩. কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া): দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ও ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি জসিম উদ্দিন। ৪. কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা): স্বতন্ত্র প্রার্থী আতিকুল আলম। ৫. কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ): বিএনপির শিল্পবিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম। সবচেয়ে আলোচিত বিজয়টি এসেছে কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে। ১১ দলীয় জোটের শরিক এনসিপির প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ তাঁর ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে প্রায় তিনগুণ বেশি ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। বিজয়ী হওয়ার পর এক ভিডিও বার্তায় হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “আমি ৮০ শতাংশ ভোট পেয়েছি। যারা আমাকে ভোট দেননি, তাদেরও মন জয় করে আমি সবার প্রতিনিধি হতে চাই। সমাজকে এমনভাবে সাজাবো যেখানে আমার কট্টর শত্রুর প্রতিও কেউ অবিচার করতে পারবে না।” অন্যদিকে, কুমিল্লা-৫ আসনের নবনির্বাচিত এমপি জসিম উদ্দিন এক অনন্য রাজনৈতিক শিষ্টাচারের উদাহরণ দিয়েছেন। তিনি জানান, নির্বাচনের পর তাঁর এলাকায় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ জামায়াতে ইসলামীর কোনো নেতাকর্মী বা তাঁদের ঘরবাড়িতে কোনো ধরণের হামলা বা প্রতিহিংসামূলক আচরণ করা হয়নি। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “শান্তি ও সহনশীলতাই আমাদের মূল অঙ্গীকার। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ড ঘটলে আইন কঠোর ব্যবস্থা নেবে।” কুমিল্লা-২ আসনের অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া জানিয়েছেন, তাঁর মূল লক্ষ্য হবে নির্বাচনি এলাকার মানুষের প্রত্যাশা পূরণ এবং সংসদে বলিষ্ঠ কণ্ঠে কুমিল্লার সমস্যার কথা তুলে ধরা। স্থানীয় ভোটারদের মনে এখন নতুন এক আশার সঞ্চার হয়েছে। বিশেষ করে ‘কুমিল্লা বিভাগ’ করার দীর্ঘদিনের দাবি এবার সংসদে নতুন জোরালো ভূমিকা পাবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। প্রবীণদের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি এই ৫ নতুনের উদ্যম কুমিল্লার ভাগ্যোন্নয়নে কতটা প্রভাব ফেলে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার জগন্নাথদীঘি ইউনিয়নের আতাকরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে সকাল থেকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছিল। কুমিল্লা-১১ আসনের এই কেন্দ্রে শুরু থেকেই ভোটারদের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। তবে বৃহস্পতিবার দুপুর প্রায় ১২টার দিকে কেন্দ্রের আশপাশে একাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে উপস্থিত ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং তারা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটোছুটি শুরু করেন। ঘটনার সময় কেন্দ্র থেকে আনুমানিক ৩০০ মিটার দূরে সেনাবাহিনী ও বিজিবির সদস্যরা অবস্থান করছিলেন। বিস্ফোরণের খবর পেয়ে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অন্তত সাতটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। কেন্দ্রটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ হাজার ৯০৬ জন। প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আতিকুল ইসলাম জানান, দুপুর ১২টা পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ভোট পড়েছে। ঘটনার পর রাজনৈতিক মহলে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ওঠে। বিএনপি প্রার্থীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, সুষ্ঠু ভোটের পরিবেশ ব্যাহত করতে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা এই বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। অন্যদিকে জামায়াত প্রার্থীর পক্ষের নেতারা অভিযোগটি অস্বীকার করে বলেন, তাদের কেউ এতে জড়িত নয়; বরং এটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার। প্রিসাইডিং কর্মকর্তা বলেন, শুরু থেকেই কেন্দ্রের পরিবেশ শান্ত ছিল। একটি পক্ষ পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে এমন ঘটনা ঘটিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপে ভোটগ্রহণ পুনরায় স্বাভাবিকভাবে চালু হয়। কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনকারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও জানান, বিস্ফোরণের শব্দ শোনার পরপরই নিরাপত্তা জোরদার করা হয় এবং ভোটারদের আশ্বস্ত করা হয়। বর্তমানে কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্বাভাবিক রয়েছে।
এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক এবং কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, কালো টাকার সরবরাহ প্রতিহত করা হবে। তারা বাংলাদেশটাকে আবার বিক্রি করে দিতে চায়। তাদের ভুলের কারণে আমাদের তরুণ প্রজন্মকে বছরের পর বছর খেসারত দিতে হয়েছে। রাজপথে রক্ত দিতে হয়েছে। তারা টাকা নিয়ে বের হলে বেঁধে রাখতে হবে। তাদের কোনোভাবে স্পেস দেওয়া যাবে না। অর্থসহ যেখানে দেখা যাবে তাদের গাছের সঙ্গে বেঁধে প্রশাসনকে খবর দিতে হবে। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকালে কুমিল্লার দেবিদ্বার থেকে ফেসবুক লাইভে তিনি এসব কথা বলেন। হাসনাত বলেন, যারা কালো টাকা নিয়ে ঢুকেছেন তাদের প্রত্যেকের চূড়ান্ত পরিণতি দেখে নেওয়া হবে। এটা আমার শেষ ওয়ার্নিং। প্রত্যেকটা মোড়ে মোড়ে প্রত্যেকটা কেন্দ্রে, প্রত্যেকটা গলিতে গলিতে, প্রত্যেকটা পাড়ায়-পাড়ায় আপনারা অবস্থান নেন। ভোটের ফলাফল না পাওয়া পর্যন্ত অবস্থান নেন। তিনি বলেন, কালোটাকা দেখলে আপনারা এনসিপির কন্ট্রোল রুমে ইনফর্ম করবেন। আর আমি এখন থেকে মাঠে থাকছি। যেখান থেকে খবর আসবে আমি সেখানে যাব। আমি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সহায়তা চাই। কালোটাকা প্রতিরোধ করতে হবে। ভোট আমাদের পবিত্র আমানত। অর্থ দিয়ে ভোট বিক্রি করা যাবে না। কালো টাকার ছড়াছড়ি আমরা কোনোভাবেই হতে দেব না। আমরা নিজেরা মাঠে থেকে এটা প্রতিরোধ করব। এখন থেকে এই মুহূর্ত থেকে একদম ভোট না দেওয়া পর্যন্ত আমরা পাহারা দেব। ফলাফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত মাঠে থাকবেন উল্লেখ করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, বিশেষ করে কয়েকটা এলাকায় এখন অর্থ ঢুকছে। জাফরগঞ্জ ও বরকামতায় অর্থ নিয়ে ঢুকেছে। এটা প্রতিরোধ করা হবে। সুলতানপুর এবং রাজামেহার এলাকায় অর্থের ছড়াছড়ি শুরু হয়েছে। ফাতেহাবাদ ইউনিয়নেও অর্থের ছড়াছড়ি শুরু হয়েছে। যেখানে অর্থসহ কাউকে দেখা হবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে তাদের প্রতিহত করা হবে। তিনি বলেন, আপনারা যারা অর্থ নিয়ে মাঠে নেমেছেন তাদের কারোর অস্তিত্ব থাকবে না দেবিদ্বারে। আমি আবারও বলছি যেভাবে টাকা নিয়ে আসছেন ঠিক সেভাবেই আবার চলে যান। যদি কেউ একজন ধরা পড়েন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আপনাদের অস্তিত্ব রাখবে না। প্রশাসন পুলিশ যথেষ্ট পরিমাণে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এতদিন আমরা একটা উৎসবমুখর ভোটের জন্য অপেক্ষা করেছি। নির্বিঘ্নে মানুষ ভোট দেবেন। হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, মানুষ ভোট যাকে খুশি তাকে দেবে। আপনি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দিচ্ছেন আপনার বিরুদ্ধে ভোট দিলে বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেবেন। কাউকে থাকতে দেবেন না। সবাইকে ধ্বংস করে দেবেন। এ ধরনের পরিবেশ দেবিদ্বারে হতে দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, যারা অর্থ নিয়ে নেমেছেন প্রমাণসহ প্রত্যেকের নাম জাতির সামনে প্রকাশ করব। রাজনীতিতে বাংলাদেশের মানুষ চিরতরে আপনাদের প্রত্যাখ্যান করবে। দেবিদ্বারের মানুষ আপনারা সবাই সচেতন থাকেন। আপনাদের বাড়ির সামনে যারা টাকা নিয়ে আসবে তাদের বেঁধে রাখবেন। আপনারা সবাই বাড়ির সামনে অবস্থান নেন। একটা সুষ্ঠু নিরপেক্ষ ভোট হতে যাচ্ছে। সেখানে যারা বাধা দিবে তাদের প্রতিহত করুন। প্রত্যেকটা কেন্দ্রে আপনারা পাহারা বসান। স্থানীয় মসজিদে ইমাম-মোয়াজ্জিনদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে হাসনাত বলেন, যারা কালোটাকা দিতে আসে তাদের প্রতিহত করার আহ্বান জানাবেন। তারা পাঁচ বছরের জন্য জনগণকে গোলাম বানাতে আসে। আপনার অধিকার হরণ করার জন্য আসে। বাংলাদেশটাকে পিছিয়ে দিতে আসে। ভোট যাকে ইচ্ছা তাকেই দেবে; কিন্তু টাকা দিয়ে পেশিশক্তি দেখিয়ে ভয়-ভীতি দেখিয়ে যারা ভোট কিনতে আসছে তাদের প্রতিহত করতেই হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের একদম শেষ মুহূর্তে এসে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ভোটারদের প্রভাবিত করতে নগদ অর্থ বিতরণের এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার গুনবতী ইউনিয়নের খাটরা গ্রামে ভোটার স্লিপের সঙ্গে টাকা বিতরণের সময় ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নানসহ দুইজনকে হাতেনাতে আটক করে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা। স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আব্দুল মান্নান ও একই গ্রামের বাসিন্দা ফকির মেম্বার খাটরা গ্রামে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার স্লিপ বিতরণ করছিলেন। অভিযোগ উঠেছে, এ সময় তারা স্লিপের সঙ্গে ভোটারদের হাতে নগদ টাকাও তুলে দিচ্ছিলেন। বিষয়টি স্থানীয় জামায়াত-শিবিরের কর্মীদের নজরে আসলে তারা ওই দুইজনকে ঘিরে ধরেন। তল্লাশি চালিয়ে তাদের কাছ থেকে ২০০ টাকা নোটের দুটি বান্ডিল জব্দ করা হয়। উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর কর্মপরিষদ সদস্য ডা. মনজুর আহমমদ শাকি সংবাদমাধ্যমকে জানান, আটকের পর অভিযুক্তরা তাদের অপরাধ স্বীকার করেছেন। ভবিষ্যতে আর এ ধরনের অনৈতিক কাজে জড়াবেন না মর্মে অঙ্গীকার করলে মানবিক কারণে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে এই পুরো ঘটনাটিকে ‘সুপরিকল্পিত নাটক’ ও ‘সাজানো ষড়যন্ত্র’ হিসেবে দাবি করেছে স্থানীয় বিএনপি। গুনবতী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন বলেন, “আটককৃত দুইজন সকালে একটি চা দোকানে বসে ছিলেন। সেখান থেকেই জামায়াত-শিবিরের লোকজন জোরপূর্বক তাদের তুলে নিয়ে যায় এবং ভিডিও করে মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে। তারা কোথাও কোনো টাকা নিয়ে ভোট কিনতে যাননি।” ভোটের ঠিক আগের দিন কুমিল্লার এই ঘটনাটি পুরো এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সাধারণ ভোটারদের মধ্যে নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। নির্বাচনি এলাকায় প্রশাসনের নজরদারি ও টহল আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় নির্বাচনী উত্তাপের মধ্যেই টাকা বিতরণের অভিযোগে হাবিবুর রহমান হেলালী নামে এক জামায়াত নেতাকে আটক করেছে স্থানীয় জনতা। আজ বুধবার সকালে উপজেলার ছালিয়াকান্দি ইউনিয়নের নেয়ামতকান্দি এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। আটক হাবিবুর রহমান হেলালী ধামঘর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। উদ্ধারকৃত অর্থ ও প্রশাসনের ভূমিকা: ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত সেখানে পৌঁছায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। প্রশাসন জানিয়েছে, আটকের সময় হেলালীর কাছ থেকে নগদ দুই লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলার স্বার্থে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে থানা হেফাজতে নিয়ে যাওয়া হয়। জামায়াতের দাবি: তবে এই অভিযোগকে পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছে স্থানীয় জামায়াত নেতৃবৃন্দ। তাদের দাবি, এটি একটি সুপরিকল্পিত 'ষড়যন্ত্র'। নির্বাচনী পরিবেশকে প্রভাবিত করতে এবং তাদের প্রার্থীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতেই এই নাটক সাজানো হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন। মুরাদনগর থানা পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছে। বর্তমানে ওই এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
এনসিপির মুখ্য সংগঠক এবং কুমিল্লা-৪ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, অতীতে জোরজবরদস্তি জনগণের ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছে। ডিসি এসপিদের সহযোগিতায় তারা নির্বাচিত হয়েছে। ফ্যাসিবাদ চক্র জনগণের ভোটের অধিকারে বিশ্বাস করেনি। একদিকে ভোট লুটেছে, অন্যদিকে মানুষের অর্থ সম্পদ লুট করেছে। এবার ভোট চুরি করতে এলে সেনাবাহিনী চামড়া লাল করে দিবে। আমরা প্রশাসনকে সহায়তা করব। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিকালে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার এলাহাবাদ এলাকায় উঠান বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। হাসনাত বলেন, পুরোনো কায়দায় ভোটারদের কেউ কেউ হুমকি ভয় ভীতি দেখিয়ে ভোট নেওয়ার চেষ্টা করছে। এটা তাদের এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে না। তিনি বলেন, জনগণ রাষ্ট্রের মালিক, তাদের কাছে ভোট ভিক্ষা চাইতে কোনো লজ্জা নেই। আমরা আসছি ভোট ভিক্ষা চাইতে। চাঁদাবাজি করার চাইতে ভোট ভিক্ষা চাওয়া সম্মানের। যারা এই রাষ্ট্রের বৈধতা দেয়, ট্যাক্স দিয়ে রাষ্ট্রের অর্থনীতির চাকা সচল রাখে, তাদের কাছে মাথা নত করে ভোট ভিক্ষা চাইলে সম্মান বাড়ে। অথচ যুগের পর যুগ এই জনগণকে রাষ্ট্র এবং সরকার, বিভিন্নভাবে অবমূল্যায়ন করেছে। ফ্যাসিবাদ আমলে জনগণের কোনো মূল্যায়ন ছিল না। তারা জনগণের ভোটে নয়, টাকার শক্তিতে নির্বাচিত হতো। প্রশাসনের সহযোগিতায় নির্বাচিত হতো। ডিসি এসপির সহযোগিতা নির্বাচিত হতো। হাসনাত বলেন, সময় এসেছে আপনাদের ভোটের অধিকার প্রয়োগ করার। আপনারা নিজে ভোট প্রয়োগ করে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করুন। টাকার বিনিময়ে কারো কাছে ভোট বিক্রি করবেন না। তাহলে দেখবেন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা আপনাদের কাছে দায়বদ্ধ থাকবে। পাশাপাশি রাষ্ট্রের প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরাও আপনাদের সেবায় যথাযথ দায়িত্ব পালন করবে। আমরা সামাজিক নিরাপত্তা এবং জনগণের প্রত্যাশার বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে চাই। এ সময় জামায়াত এবং এনসিপি নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এদিন তিনি উপজেলার এলাহাবাদ পৌর এলাকার ছোট আলমপুরসহ আশপাশের এলাকায় গণসংযোগ এবং উঠান বৈঠক করেন।
কুমিল্লা নামেই বিভাগ হবে এবং এটি বাস্তবায়নে জামায়াতে ইসলামী বদ্ধপরিকর। এমনকি অন্য কোনো দল সরকার গঠন করলেও এই দাবি আদায়ে তাঁদের বাধ্য করা হবে—এমনই সাহসী ও চূড়ান্ত ঘোষণা দিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। শুক্রবার রাতে কুমিল্লার ঐতিহাসিক টাউন হল মাঠে ১১ দলীয় জোটের এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় তিনি এই প্রতিশ্রুতি দেন। কেবল প্রশাসনিক সংস্কার নয়, বরং নারী শিক্ষা এবং পরমতসহিষ্ণু রাজনীতির এক নতুন রূপরেখা তুলে ধরেছেন তিনি। কুমিল্লাবাসীর স্বপ্ন ও উন্নয়ন: জনসভায় ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশে বিভাগের সংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ে কোনো আপত্তি নেই, তবে কুমিল্লা বিভাগকে অবশ্যই তার নিজস্ব নামে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এটি এখন তাঁর দলের জন্য একটি ‘পবিত্র দায়িত্ব’। পাশাপাশি কুমিল্লার ঝিমিয়ে পড়া বিমানবন্দরকে সচল করা এবং স্থানীয় ইপিজেডকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার মাধ্যমে এলাকার অর্থনৈতিক চিত্র বদলে দেওয়ার অঙ্গীকার করেন তিনি। প্রতিশোধ নয়, নীতির রাজত্ব: বিগত সরকারের সমালোচনা করে জামায়াত আমীর বলেন, “আমরা প্রতিশোধের রাজনীতি করি না, বরং একে ‘হারাম’ মনে করি। দীর্ঘ দেড় দশকে জামায়াতে ইসলামীর ওপর যে অবর্ণনীয় জুলুম হয়েছে, নেতাদের ফাঁসি দেওয়া হয়েছে, ঘরবাড়ি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে—এতকিছুর পরেও আমরা আইন হাতে তুলে নেব না। আমরা নীতির রাজ কায়েম করতে চাই, যেখানে একজন সাধারণ নাগরিকও মিথ্যা মামলায় হয়রানির শিকার হবে না।” শিক্ষা ও সমাজ সংস্কার: নারী শিক্ষার প্রসারে এক বৈপ্লবিক ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী সরকার গঠন করলে এ দেশের মেয়েরা সরকারি খরচে মাস্টার্স পর্যন্ত পড়াশোনা করতে পারবে। তিনি প্রশাসনকে কোনো দলের আনুকূল্য না করে জনগণের সেবক হওয়ার এবং গণমাধ্যমকে ‘জাতির বিবেক’ হিসেবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান। শহীদ পরিবারের প্রতি সংহতি: চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের বীর শহীদদের স্মরণ করে তিনি বলেন, শহীদদের রক্তের বিনিময়ে আজ জাতি কথা বলার অধিকার ফিরে পেয়েছে। জামায়াত প্রতিটি শহীদ পরিবারের পাশে সদস্য হিসেবে দাঁড়িয়েছে এবং ইনসাফ কায়েমের মাধ্যমে তাঁদের রক্তের ঋণ শোধ করতে চায়। বক্তব্য শেষে তিনি কুমিল্লার ১১টি সংসদীয় আসনে ১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থীদের হাতে নির্বাচনি প্রতীক তুলে দিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রচারণার জোয়ার সৃষ্টি করেন। জনসভায় জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ছাড়াও এনসিপি ও ডাকসু’র প্রতিনিধিরা সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।