কুমিল্লায় ভয়াবহ ট্রেন-বাস সংঘর্ষ: নারী ও শিশুসহ নিহত ১২
এক বীভৎস ভোরের সাক্ষী হলো কুমিল্লার পদুয়ার বাজার। গভীর রাতে রেলক্রসিং পার হওয়ার সময় ঢাকাগামী মেইল ট্রেনের ধাক্কায় দুমড়ে-মুচড়ে গেছে 'মামুন পরিবহন' নামের একটি যাত্রীবাহী বাস। এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত নারী ও শিশুসহ ১২ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে।
শনিবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে ঘটে যাওয়া এই সংঘর্ষ এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, ঘাতক ট্রেনটি যাত্রীবাহী বাসটিকে প্রায় আধা কিলোমিটার পথ ছেঁচড়ে নিয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান বেশ কয়েকজন, পরবর্তীতে উদ্ধার অভিযান চলাকালীন নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১২ জনে দাঁড়ায়। নিহতদের মধ্যে ৭ জন পুরুষ, ৩ জন নারী এবং ২ জন শিশু রয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পরিচয় জানা যায়নি।
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার অজয় ভৌমিক আজ রোববার সকালে এই হৃদয়বিদারক তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
দুর্ঘটনার পর থেকেই চট্টগ্রামের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে দুটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও ট্রেন সরাতে আখাউড়া থেকে রিলিফ ট্রেন তলব করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রেলওয়ের চট্টগ্রাম বিভাগের ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশ
View moreশহীদ আবু সাঈদের বাড়িতে নতুন ঘর নির্মাণ, তাঁর মা-বাবার থাকার ব্যবস্থা এবং কবরস্থানের সৌন্দর্যবর্ধনে প্রাথমিকভাবে এক কোটি টাকা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। মঙ্গলবার সকালে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বাবনপুর গ্রামে আবু সাঈদের বাড়ি পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এ ঘোষণা দেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে এই অর্থ দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে। উন্নয়নকাজ জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে। এ জন্য রংপুরের জেলা প্রশাসককে নকশা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। আবু সাঈদের স্মৃতি সংরক্ষণের কথা উল্লেখ করে মীর শাহে আলম বলেন, গণঅভ্যুত্থানে তাঁর ভূমিকা ও স্মৃতি আরও বিস্তৃতভাবে তুলে ধরতে সরকার কাজ করতে চায়। এ সময় রংপুর স্টেডিয়াম আবু সাঈদের নামে করার আগ্রহের কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী। তবে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সিদ্ধান্তে রংপুর জেলা স্টেডিয়ামের নাম ইতোমধ্যে ‘শহীদ আবু সাঈদ স্টেডিয়াম’ করা হয়েছে।
মাগুরায় ২৩৫ ইউনিট ব্যবহারে, নারীর নামে ৫০৬ কোটি টাকার বিদ্যুৎ বিল!
বোয়িংয়ের পর এবার এয়ারবাস, ১০ উড়োজাহাজে আকাশপথে বড় বিস্তারের পথে বাংলাদেশ
রূপপুরের জ্বালানি আনতে গিয়ে পাকিস্তানের আকাশসীমায় বাধাপ্রাপ্ত রুশ বিমান
নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার যোগেন্দ্রনগর গ্রামের আব্বাস প্রামানিকের বয়স ১২৩ বছর। জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য অনুযায়ী তাঁর জন্ম ১৯০৩ সালে। বয়সের ভারে শরীর দুর্বল হয়ে পড়েছে, চলাফেরায় এখন লাঠির প্রয়োজন হয়, কমেছে শ্রবণশক্তিও। তবে এই বয়সেও তাঁর দৃষ্টিশক্তি ভালো থাকার বিষয়টি পরিবারের কাছে বিস্ময়ের। পরিবারের সদস্যদের দাবি, আব্বাস প্রামানিক এখনো চশমা ছাড়াই কোরআন শরিফ পড়তে পারেন। নিয়মিত নামাজ আদায় ও কোরআন তিলাওয়াত তাঁর দৈনন্দিন জীবনের অংশ। তাঁর এই অভ্যাস দীর্ঘদিনের। দীর্ঘ জীবনে আব্বাস প্রামানিক ব্রিটিশ শাসনের শেষ সময়, পাকিস্তান আমল, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার সময় দেখেছেন। কর্মজীবনে তিনি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। একসময় মাত্র ৬০ টাকা বেতনে শিক্ষকতা করেছেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি এলাকার শিশুদের বিনা পারিশ্রমিকে কোরআন শিক্ষা দেওয়ারও অভ্যাস ছিল তাঁর। পরিবারের সদস্যরা জানান, ছোটবেলা থেকেই আব্বাস সাদাসিধে জীবনযাপন করতেন। বিলাসিতা তাঁর পছন্দ ছিল না। জীবনের বড় একটি সময় তিনি হেঁটেই চলাফেরা করেছেন। বর্তমানে বয়সের কারণে স্বাভাবিক চলাফেরা কঠিন হলেও নিজের কাজ নিজে করার চেষ্টা করেন। আব্বাস প্রামানিকের দুই মেয়ে ও ছয় ছেলে। স্ত্রী মরিয়ম আক্তার প্রায় ৫০ বছর আগে মারা গেছেন। এখন সন্তান ও নাতি-নাতনিরাই নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী তাঁর দেখাশোনা করেন। তাঁর পছন্দের খাবারের মধ্যে রয়েছে বাতাসা, গরুর দুধ ও মসুর ডাল। তবে বয়সের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর জীবনযাত্রাও কঠিন হয়েছে। বাড়ির অবস্থাও ভালো নয়। চলাচলের সুবিধার জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাড়ির সামনে সিঁড়ি করে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রবীণ সেবা কেন্দ্র তাঁর চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছে বলেও উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে। জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য অনুযায়ী ১২৩ বছরের আব্বাস প্রামানিকের জীবন বাংলাদেশের এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের পরিবর্তনের সাক্ষী। বয়সের ভারে শরীর দুর্বল হলেও কোরআন পড়ার অভ্যাস এখনো অটুট রয়েছে।
বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বিক্রি, বন্ধ করা হলো দ্য ইউনিভার্সিটি প্রেস
রাষ্ট্রপতির স্ত্রীও পাবে ফ্যামিলি কার্ড! চার বছরের মধ্যে সবার কাছেই পৌঁছাবে: প্রতিমন্ত্রী
সংবিধান সংশোধন কমিটির বৈঠকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেওয়ার প্রস্তাব কালবেলা সম্পাদক সন্তোষ শর্মার
বরিশালের উজিরপুরে খুঁটির সঙ্গে বাঁধা বাবাকে চা ও রুটি খাওয়ানোর হৃদয়স্পর্শী দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর আলোচনায় আসা সেই শিশুকন্যা তুবা বিনতে অরণির পাশে দাঁড়িয়েছে উপজেলা প্রশাসন। তার পড়াশোনার পুরো দায়িত্ব ব্যক্তিগতভাবে বহনের কথা জানিয়েছেন উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলী সুজা। একই সঙ্গে তুবার বাবা অনিক সরদারকে চিকিৎসার জন্য মাদক নিরাময় কেন্দ্রে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বামরাইল বাজারে। গত ২৬ সেপ্টেম্বর ভোররাতে একটি দোকানে চুরির চেষ্টার অভিযোগে স্থানীয় কয়েকজন অনিক সরদারকে আটক করেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। পরে তাকে বাজারের একটি খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা হয় এবং মারধরের অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি জানতে পেরে তার ৯ বছরের মেয়ে তুবা ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। বাবাকে খুঁটির সঙ্গে বাঁধা অবস্থায় দেখে কান্নায় ভেঙে পড়ে তুবা। একপর্যায়ে পাশের দোকান থেকে চা ও রুটি কিনে এনে নিজের হাতে বাবাকে খাওয়াতে শুরু করে সে। চায়ের মধ্যে রুটি ভিজিয়ে বাবার মুখে তুলে দেওয়ার পাশাপাশি মারধরের কারণে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ব্যথা পেয়েছেন কি না, সেটিও জানতে চায় শিশুটি। এই দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হলে অল্প সময়ের মধ্যেই ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। তুবা বামরাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী। তার বাবা অনিকের পরিবারে আরও একটি ছোট মেয়ে রয়েছে। পরিবারের আর্থিক ও সামাজিক সংকটের মধ্যেও তুবার বাবার প্রতি মমতার দৃশ্যটি মানুষের মধ্যে ব্যাপক আবেগ তৈরি করে। পরে বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনও পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করে। ঘটনার পর রোববার উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলী সুজা ও থানার কর্মকর্তারা অনিকের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অনিকের কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানানো হয়। তাকে অটোভ্যান দেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে। তিনি নিজে তা চালাতে না পারলে তার স্ত্রীর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার কথাও জানিয়েছেন ইউএনও। অন্যদিকে অনিকের চিকিৎসার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখছে প্রশাসন। ২৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা তাকে বামরাইল এলাকার বাড়ি থেকে একটি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে নিয়ে যান বলে সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, তার চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে। তুবার পড়াশোনা নিয়েও প্রশাসন সরাসরি উদ্যোগ নিয়েছে। ইউএনও মো. আলী সুজা জানিয়েছেন, তুবার লেখাপড়ার পুরো খরচ তিনি ব্যক্তিগতভাবে বহন করবেন। ফলে বাবার চিকিৎসার পাশাপাশি শিশুটির শিক্ষাজীবন যেন থেমে না যায়, সেই বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে ঘটনাটির মূল অভিযোগ নিয়ে ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া গেছে। স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, অনিকের বিরুদ্ধে চুরির চেষ্টা করার অভিযোগ ছিল। উজিরপুর থানার এক পুলিশ কর্মকর্তার বক্তব্যেও তার বিরুদ্ধে অতীতে ছোটখাটো চুরির অভিযোগ ও মাদকাসক্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে অনিক নিজে চুরির অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে চুরির অপবাদ দেওয়া হয়েছে এবং ঘটনার পেছনে জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে। এসব দাবির স্বাধীন আইনি নিষ্পত্তি হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সময় স্থানীয়রা অনিককে আটক করে রাখলেও পুলিশ পৌঁছানোর আগেই তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ হয়নি বলে উজিরপুর মডেল থানার ওসি মো. রকিবুল ইসলাম জানিয়েছেন। ফলে চুরির অভিযোগের সত্যতা নিয়ে কোনো আদালত বা তদন্ত সংস্থার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। এদিকে সোমবার বাবাকে তিন মাসের জন্য চিকিৎসার উদ্দেশ্যে বিদায় জানান তুবা। এ সময় সে কান্নায় ভেঙে পড়ে এবং বাবাকে ভালো হয়ে ফিরে আসার প্রত্যাশা জানায়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে শিশুটির বক্তব্য হিসেবে এসেছে, সে তার বাবাকে ভালো মানুষ বলে মনে করে এবং তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হয়েছে বলে মনে করে। ঘটনাটি শুধু একটি পরিবারের সংকটের চিত্রই সামনে আনেনি, বরং আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া, শিশুর সামনে একজন অভিভাবককে মারধর করা এবং সামাজিকভাবে বিপর্যস্ত একটি পরিবারের পাশে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। সবশেষে তুবার গল্পটি মানুষের কাছে যে কারণে এতটা নাড়া দিয়েছে, তার কেন্দ্রে রয়েছে একজন শিশুর বাবার প্রতি নিঃশর্ত ভালোবাসা। কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও বাবাকে না ছেড়ে চা ও রুটি নিয়ে তার পাশে দাঁড়ানো ছোট্ট তুবার সেই দৃশ্য এখন প্রশাসনের হস্তক্ষেপে একটি নতুন আশার গল্পে পরিণত হয়েছে।
এমআইটির হ্যাকাথনে স্পেসএক্সএআই চ্যালেঞ্জ জিতলেন দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী
বোরকা পরে ভূমি অফিসে ঢাকার ডিসি ফরিদা, চাইলেন সেবা