গ্রিনকার্ড

যুক্তরাষ্ট্রে পুরোনো গ্রিনকার্ড যাচাইয়ে কড়াকড়ি — উদ্বেগে লাখো অভিবাসী
যুক্তরাষ্ট্রে পুরোনো গ্রিনকার্ড যাচাইয়ে কড়াকড়ি — উদ্বেগে লাখো অভিবাসী

যুক্তরাষ্ট্রে পুরোনো গ্রিনকার্ডধারীদের নথিপত্র পুনরায় যাচাই করা হতে পারে—এমন খবরে অভিবাসী সমাজে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা ইউএস সিটিজেনশিপ আন্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস কিছু পুরোনো অনুমোদিত গ্রিনকার্ড ও স্থায়ী বসবাসের কেস পুনরায় পর্যালোচনার উদ্যোগ নিতে পারে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, যেসব আবেদনপত্রে ভুল তথ্য, জাল কাগজপত্র, প্রতারণা, পরিচয় গোপন করা কিংবা নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট ঝুঁকির অভিযোগ রয়েছে, সেসব কেস নতুন করে খতিয়ে দেখা হতে পারে। কর্মকর্তাদের ভাষ্য, অভিবাসন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করতেই এ ধরনের পদক্ষেপ বিবেচনা করা হচ্ছে।   তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাধারণ নিয়ম মেনে বৈধভাবে গ্রিনকার্ড পাওয়া ব্যক্তিদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। এটি সব গ্রিনকার্ডধারীদের বিরুদ্ধে গণতদন্ত নয়। বরং যেসব কেসে আগে থেকেই প্রশ্ন রয়েছে বা অসঙ্গতির অভিযোগ আছে, মূলত সেগুলোই পুনরায় যাচাইয়ের আওতায় আসতে পারে।   অভিবাসন আইনজীবীদের মতে, যদি কেউ সঠিক তথ্য দিয়ে গ্রিনকার্ড পেয়ে থাকেন, নিয়মিত কর পরিশোধ করেন, গুরুতর অপরাধে জড়িত না থাকেন এবং আইন মেনে চলেন, তাহলে উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই।   অন্যদিকে, আবেদনপত্রে মিথ্যা তথ্য দেওয়া, জাল নথি ব্যবহার, ভুয়া বিবাহ দেখিয়ে সুবিধা নেওয়া, দীর্ঘ সময় ঠিকানা গোপন রাখা বা গুরুতর অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার মতো ঘটনা থাকলে জটিলতা তৈরি হতে পারে। এমন ক্ষেত্রে সরকার গ্রিনকার্ড বাতিল বা আইনি পদক্ষেপও নিতে পারে।   এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত দক্ষিণ এশীয়সহ বিভিন্ন অভিবাসী কমিউনিটিতে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। দীর্ঘদিন ধরে গ্রিনকার্ডধারী অনেকেই জানতে চাইছেন, পুরোনো ফাইল কি সত্যিই আবার খোলা হবে?   বিশ্লেষকদের মতে, অভিবাসন নীতিতে কড়াকড়ি বাড়ানোর রাজনৈতিক আলোচনা চললেও এখন পর্যন্ত সব পুরোনো গ্রিনকার্ডধারীর বিরুদ্ধে ব্যাপক যাচাই অভিযান শুরুর কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো অতিরঞ্জিত খবর দেখে আতঙ্কিত না হয়ে সরকারি সূত্রের তথ্য অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।   গ্রিনকার্ডধারীদের জন্য পরামর্শ * সব গুরুত্বপূর্ণ নথি সংরক্ষণ করুন * নিয়মিত কর পরিশোধ ও রেকর্ড রাখুন * ঠিকানা পরিবর্তন হলে দ্রুত আপডেট করুন * দীর্ঘ সময় যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকলে আইনগত পরামর্শ নিন * কোনো সরকারি নোটিশ পেলে দ্রুত বিশেষজ্ঞের সঙ্গে যোগাযোগ করুন   অভিবাসী সমাজের অনেকে বলছেন, “আইন মেনে চললে ভয় নেই, তবে সচেতন থাকা জরুরি।”

নীলুফা নিশাত এপ্রিল ২৩, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন, গ্রিন কার্ডধারীদের যা জানা জরুরি

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন ও কড়াকড়ি আরোপ করতে যাচ্ছে মার্কিন প্রশাসন। বিশেষ করে রাজনৈতিক আশ্রয় (অ্যাসাইলাম) এবং বিবাহ-ভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনের ক্ষেত্রে জালিয়াতি রোধে নজিরবিহীন তদন্ত শুরু হয়েছে।  সাম্প্রতিক এক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, প্রায় ২১ হাজার গ্রিন কার্ড মামলার মধ্যে ৬০ শতাংশই ভুয়া বা জালিয়াতির মাধ্যমে করা। এর ফলে বর্তমানে ঝুলে থাকা হাজার হাজার আবেদন পুনর্মূল্যায়ন করা হচ্ছে। মার্কিন অভিবাসন কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে জানা গেছে, যারা ইতিমধ্যে গ্রিন কার্ড পেয়েছেন বা আবেদনের প্রক্রিয়ায় আছেন, তাদের নথিপত্রে সামান্যতম অমিল পাওয়া গেলে বা পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে কঠোর আইনি ব্যবস্থার সম্মুখীন হতে হবে। বিশেষ করে ইবি-৩ (EB-3) ভিসা এবং বিবাহের মাধ্যমে যারা গ্রিন কার্ড নিয়েছেন, তাদের তথ্য পুনরায় যাচাই করা হচ্ছে। জালিয়াতি প্রমাণিত হলে গ্রিন কার্ড বাতিলসহ দেশান্তরের ঝুঁকিও রয়েছে। অভিবাসীদের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা হলো সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার। মার্কিন তদন্তকারী সংস্থাগুলো এখন আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যকলাপ এবং মন্তব্য নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রদান করলে অভিবাসন সুবিধা চিরতরে হারানোর সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি নাগরিকত্ব পরীক্ষার ক্ষেত্রেও নতুন নিয়ম কার্যকর হচ্ছে। আবেদনকারীদের এখন ১২৮টি প্রশ্নের তালিকা থেকে প্রস্তুতি নিতে হবে এবং অন্তত ২০টির মধ্যে ১২টি সঠিক উত্তর দিতে হবে। একই সাথে ইংরেজি বলা, পড়া এবং লেখার দক্ষতায় উত্তীর্ণ হওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, গ্রিন কার্ড নবায়ন বা স্ট্যাটাস অ্যাডজাস্টমেন্টের সময় পাসপোর্টে যথাযথ স্ট্যাম্প নিশ্চিত করতে এবং যেকোনো আইনি জটিলতায় সরাসরি সরকারি দপ্তরের সাথে যোগাযোগ করতে। পরিচয় চুরি এবং নিয়োগকর্তাদের মাধ্যমে আর্থিক প্রতারণা থেকে বাঁচতেও অভিবাসীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ২০, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত।
মার্কিন ভিসা বুলেটিন প্রকাশ: অগ্রাধিকার তারিখে ভারত থেকে এগিয়ে বাংলাদেশ

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন প্রত্যাশীদের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত ২০২৬ সালের মে মাসের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে দেশটির স্টেট ডিপার্টমেন্ট। এবারের বুলেটিনে ভারতীয় নাগরিকদের জন্য গ্রিন কার্ড প্রাপ্তির ক্ষেত্রে কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির খবর মেলেনি, যা হাজার হাজার আবেদনকারীর মধ্যে হতাশা তৈরি করেছে। বিশেষ করে কর্মসংস্থান-ভিত্তিক (EB-2 এবং EB-3) ক্যাটাগরিতে ভারতীয়দের অপেক্ষার তালিকায় কোনো নড়চড় হয়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতীয় পেশাদারদের জন্য অগ্রাধিকার তারিখ (Priority Date) গত কয়েক মাসের মতোই স্থবির হয়ে আছে। বর্তমান গতিধারা বজায় থাকলে গ্রিন কার্ডের জন্য তাদের কয়েক দশক পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন। অন্যদিকে, এবার বিনিয়োগকারী কোটা বা ইবি-৫ (EB-5) ভিসা ক্যাটাগরি নিয়ে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। যারা এই ক্যাটাগরিতে আবেদন করতে ইচ্ছুক বা যাদের আবেদন প্রক্রিয়াধীন, তাদের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা এবং আইনি বাধ্যবাধকতার বিষয়ে সচেতন করা হয়েছে। বিনিয়োগের মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে নিয়মনীতির কঠোরতা আরও বাড়তে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য সুখবর হলো, ফ্যামিলি স্পনসরড এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক কিছু ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশের অগ্রাধিকার তারিখ ভারতের তুলনায় অনেক এগিয়ে রয়েছে। তবে বৈশ্বিক চাহিদার চাপে সব দেশেই ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রসেসিং সময় কিছুটা দীর্ঘায়িত হচ্ছে। মার্কিন অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী যারা আবেদন করতে যাচ্ছেন, তাদের অবশ্যই প্রতিটি ধাপ অত্যন্ত সতর্কতার সাথে সম্পন্ন করতে হবে। বিশেষ করে ইবি-৫ আবেদনকারীদের জন্য আইনি পরামর্শ গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ১৪, ২০২৬ ১৪:০ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

Top week

ছবি: সংগৃহীত
খেলাধুলা

ইউটিউবে বিনামূল্যে সরাসরি দেখা যাবে বিশ্বকাপের সব ম্যাচ, যেভাবে দেখবেন

তাবাস্সুম মোহাম্মদ মে ২৯, ২০২৬ ১৪:০ 0