ইরানে প্রবেশের চেষ্টা করলে মার্কিন সেনাদের উপসাগরের হাঙরের খাবারে পরিণত হতে হবে—এমন কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইব্রাহিম জোলফাগারি, খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র। রোববার (২৯ মার্চ) তিনি এক বিবৃতিতে অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জেনেশুনেই মার্কিন সৈন্যদের চরম ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিচ্ছেন। জোলফাগারি ট্রাম্পকে ‘অস্থির ও মিথ্যাবাদী নেতা’ আখ্যা দিয়ে বলেন, তিনি বিশ্বজুড়ে ক্ষতি ডেকে এনেছেন এবং বর্তমানে নেতানিয়াহুর হাতের ‘পুতুলে’ পরিণত হয়েছেন। তিনি একই সঙ্গে মার্কিন সামরিক কমান্ডের প্রতি আহ্বান জানান, প্রেসিডেন্টকে সন্তুষ্ট করতে গিয়ে যেন সাধারণ সৈনিকদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে না ফেলা হয়। অন্যদিকে, ইরানের নৌবাহিনী প্রধান শাহরাম ইরানি সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের রণতরী ‘আব্রাহাম লিংকন’ যদি তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের আওতায় আসে, তবে সেটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে। পারস্য উপসাগর ও কৌশলগত হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে, এবং যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সীমিত স্থল অভিযানের খবর পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। যদিও ওয়াশিংটন এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি, তেহরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র একদিকে আলোচনার কথা বললেও অন্যদিকে গোপনে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই দ্বিমুখী অবস্থানের কারণে পুরো অঞ্চলে সরাসরি সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা ক্রমেই বাড়ছে। সূত্র: রিপাবলিক ওয়ার্ল্ড
ইরান ও মার্কিন-ইসরাইল সংঘাতের ৩০তম দিনে এসে তেহরানের পক্ষ থেকে নজিরবিহীন এক কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছে। ইরানের ‘খাতাম আল-আনবিয়া’ সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাগারি আজ রোববার (২৯ মার্চ) এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, মার্কিন সেনারা যদি ইরানি ভূখণ্ডে প্রবেশের দুঃসাহস দেখায়, তবে তাদের 'পারস্য উপসাগরের হাঙরের খাবারে' পরিণত হতে হবে। বিবৃতিতে জোলফাগারি অভিযোগ করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জেনেশুনেই মার্কিন সৈন্যদের চরম বিপদের মুখে ঠেলে দিচ্ছেন। তিনি ট্রাম্পকে একজন 'অস্থির ও মিথ্যাবাদী' নেতা হিসেবে আখ্যায়িত করে দাবি করেন যে, ট্রাম্প বর্তমানে নেতানিয়াহুর হাতের 'পুতুলে' পরিণত হয়েছেন। মার্কিন সামরিক কমান্ডের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কেবল প্রেসিডেন্টকে সন্তুষ্ট করতে গিয়ে যেন সাধারণ সৈনিকদের মৃত্যু বা বন্দিত্বের মুখে ঠেলে দেওয়া না হয়। একই সময়ে ইরানের নৌবাহিনী প্রধান শাহরাম ইরানি সতর্ক করে দিয়েছেন যে, মার্কিন রণতরী 'আব্রাহাম লিঙ্কন' যদি তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের নাগালে আসে, তবে সেটিকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করা হবে। ওয়াশিংটন মুখে আলোচনার কথা বললেও গোপনে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে দাবি তেহরানের। পারস্য উপসাগর ও কৌশলগত হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে এই উত্তেজনা পুরো অঞ্চলে এক সরাসরি ও ভয়াবহ সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি করেছে। সূত্র: ইরানি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ও আল জাজিরা
পারস্য উপসাগর উপকূলীয় আকাশসীমায় একটি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরান। দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা ইউনিট জানিয়েছে, অনুপ্রবেশকারী ড্রোনটি শনাক্ত করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়েছে। ইরানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় বিমান প্রতিরক্ষা সদর দপ্তরের এক বিবৃতিতে বলা হয়, আকাশসীমায় প্রবেশ করা একটি মানববিহীন আক্রমণ ব্যবস্থা শনাক্ত করা হয়। পরে সেটিকে লক্ষ্য করে ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে সেটি ধ্বংস করা হয়। এর আগে গত ১৯ মার্চ ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করেছিল, তারা একটি মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান আঘাত করতে সক্ষম হয়েছে। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রও একটি যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে। ইরানের দাবি অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সংঘাতের পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ছয়টি শত্রু যুদ্ধবিমান এবং ১২৭টি ড্রোন ভূপাতিত বা প্রতিহত করা হয়েছে। তবে এসব দাবির বিষয়ে স্বাধীনভাবে তাৎক্ষণিক কোনো যাচাই পাওয়া যায়নি। সূত্র: প্রেস টিভি
মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্র এখন এক ভয়াবহ পরিণতির দিকে ধাবিত হচ্ছে। ইরানের প্রতিরক্ষা কাউন্সিল এক কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, দেশটির উপকূল বা দ্বীপপুঞ্জে কোনো ধরনের হামলা চালানো হলে তারা পুরো পারস্য উপসাগর জুড়ে মাইন বিছিয়ে সব ধরনের নৌ-চলাচল চিরতরে বন্ধ করে দেবে। ফার্স নিউজ এজেন্সির বরাতে জানা গেছে, সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের চেষ্টা করা হলে সামরিক কৌশল অনুযায়ী পারস্য উপসাগরের সমস্ত প্রবেশপথ এবং যোগাযোগ লাইনে বিভিন্ন ধরনের নৌ-মাইন ও উপকূলীয় ভাসমান মাইন ছড়িয়ে দেওয়া হবে। এতে দীর্ঘ সময়ের জন্য পুরো পারস্য উপসাগরই অবরুদ্ধ হয়ে পড়বে। বর্তমানে ইরান চীন, ভারত ও পাকিস্তানের মতো বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর জাহাজের জন্য নিরাপদ যাতায়াতের অনুমতি দিলেও অন্যদের জন্য এই জলপথ কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে। এই অচলাবস্থার কারণে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে ইতোমধ্যে বড় ধরনের সংকট দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং তেহরানকে জলপথ খুলে দিতে বাধ্য করতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘খারগ দ্বীপ’ দখল বা অবরোধ করার পরিকল্পনা বিবেচনা করছে। এটি বাস্তবায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল বনাম ইরান যুদ্ধ এক প্রলয়ঙ্করী রূপ নিতে পারে। এদিকে, বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশচুম্বী হওয়ায় অভ্যন্তরীণ চাপে থাকা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার (২১ মার্চ) গভীর রাতে এক চরম আল্টিমেটাম দিয়েছেন। তিনি তার ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে জানিয়েছেন, সোমবার (২৩ মার্চ) গ্রিনিচ মান সময় ২৩:৪৪ মিনিটের মধ্যে (৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা) হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া না হলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো ‘নিশ্চিহ্ন’ করে দেবে। ট্রাম্পের এই হুমকির মুখে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখন খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে আছে এবং বিশ্ববাসী এক চরম অনিশ্চয়তার প্রহর গুনছে।
মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম সৌদি আরবের তীব্র সমালোচনা করেছেন, যিনি ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে অংশ না নেওয়ায় রিয়াদসহ পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোকে সতর্ক করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অভিযানে যদি সৌদি আরব অংশ না নেয়, তাহলে তাদের ‘পরিণাম’ ভোগ করতে হতে পারে। গ্রাহাম বলেন, এই অঞ্চলে সন্ত্রাস ছড়ানো ও সাতজন মার্কিন সেনার নিহত হওয়ার জন্য দায়ী ইরানি সরকারকে মোকাবিলা করতে সৌদি আরব তাদের সামরিক শক্তি ব্যবহার করতে অস্বীকার করেছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, পারস্পরিক স্বার্থের লড়াইয়ে যদি কোনো দেশ অংশ নিতে অনিচ্ছুক হয়, তাহলে তাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা চুক্তি থাকা উচিত কি না। উল্লেখ্য, ১ মার্চ সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানি হামলায় আহত একজন সেনা মারা যান, ফলে নিহত মার্কিন সেনার সংখ্যা সাতজন পৌঁছায়। হামলা লক্ষ্য ছিল সৌদি প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটি এবং রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসের সিআইএ অংশ। গ্রাহাম আগেও সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে এই যুদ্ধে রাজি করানোর জন্য রিয়াদ সফর করেছিলেন। তিনি যুদ্ধক্ষেত্রে উপসাগরীয় দেশগুলোকে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, উপসাগরীয় দেশগুলো এমন এক যুদ্ধে জড়াতে চাইছে না যেখানে মার্কিন জয় নিশ্চিত নয়। সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিনিধি জানিয়েছেন, দেশটি বারবার সংলাপ ও উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়ে এসেছে এবং তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে কোনো হামলা চালানো হবে না। তবু ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্যবস্তুতে তারা পরিণত হচ্ছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাশিত গণঅভ্যুত্থান ইরানে দেখা যাচ্ছে না, বরং আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। পরিস্থিতি বিশ্লেষকরা ‘কাল্পনিক বাস্তবতা’ হিসেবে বর্ণনা করছেন, যেখানে উপসাগরীয় শাসক ও গোয়েন্দা সংস্থা আগেই সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করেছিল।
পারস্য উপসাগরের উত্তরাঞ্চলে একটি মার্কিন তেলবাহী ট্যাঙ্কারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌ শাখা। আইআরজিসি নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার ভোরে এ হামলা চালানো হয়। হামলার পর লক্ষ্যবস্তু হওয়া মার্কিন ট্যাঙ্কারটিতে আগুন জ্বলছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। এক বিবৃতিতে আইআরজিসি তাদের আগের সতর্কবার্তার কথা উল্লেখ করে জানায়, আন্তর্জাতিক আইন ও নীতিমালা অনুযায়ী যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালীর মধ্য দিয়ে নৌ-চলাচলের অধিকার সম্পূর্ণভাবে ইরান সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল, ইউরোপীয় দেশসমূহ এবং তাদের সমর্থকদের কোনো সামরিক বা বাণিজ্যিক জাহাজকে এই প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করতে দেওয়া হবে না। এছাড়া হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন, ইসরায়েলি বা ইউরোপীয় কোনো জাহাজের উপস্থিতি শনাক্ত হলেই সেটিতে হামলা চালানো হবে বলে চূড়ান্ত সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
ব্র্যাড কুপার যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল। তিনি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক অভিযানের বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য প্রকাশ করেছেন। তার দাবি অনুযায়ী, ইরান–এ প্রায় দুই হাজার লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। এই অভিযানে ইরানের একটি সাবমেরিনসহ অন্তত ১৭টি গুরুত্বপূর্ণ রণতরী ধ্বংস হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ হাজারের বেশি সেনা সদস্য, প্রায় ২০০ যুদ্ধবিমান, দুটি বিমানবাহী রণতরী এবং একাধিক বোমারু বিমান অংশ নিচ্ছে। সামরিক সক্ষমতা আরও বাড়ানোর কাজ অব্যাহত রয়েছে বলেও তিনি জানান। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড প্রধান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ওপর আঘাত হানার ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা দিন দিন কমছে। একই সঙ্গে মার্কিন সামরিক শক্তি বৃদ্ধি পাচ্ছে। তার ভাষ্যমতে, ধারাবাহিক হামলার মাধ্যমে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল করা হয়েছে। শত শত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা এবং ড্রোন ঘাঁটি ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ইরান প্রতিশোধ নিতে এখন পর্যন্ত পাঁচ শতাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং দুই হাজারের বেশি ড্রোন ব্যবহার করেছে। তবে বর্তমানে তাদের নতুন ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ সক্ষমতা সংকটের মুখে পড়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা এখনো অব্যাহত রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদি এসব সামরিক দাবি সত্য হয়, তাহলে ইরানের নৌ ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতায় বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। এখন আন্তর্জাতিক মহলের নজর ইরানের পরবর্তী কৌশলের দিকে।
পারস্য উপসাগর ও ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান হামলা চালিয়েছে। ইরানের সেনাবাহিনীর কমান্ডার ইন চিফ আমির হাতামি ইরান নিউজ নেটওয়ার্ককে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এক বিবৃতিতে ইরানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, কয়েকটি ধাপে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তবে অভিযানের বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। এদিকে আজ রোববার সকালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই, কাতারের দোহা এবং ইসরাইলের তেলআবিব শহরে নতুন করে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। দুবাইয়ে কয়েকটি বিকট বিস্ফোরণের আওয়াজ পাওয়া গেছে। দোহার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সেখানে অন্তত ১১টি বিস্ফোরণ ঘটেছে। এর আগে কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ইরানের হামলায় দেশটিতে আরও আটজন আহত হয়েছেন। হামলা শুরুর পর থেকে কাতারে মোট আহতের সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি দেশটির বিভিন্ন এলাকায় সীমিত পরিসরে ক্ষয়ক্ষতির ঘটনাও ঘটেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews