রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিজিবির পক্ষ থেকে পাঠানো এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। বিজিবি জানিয়েছে, রাজধানীর ধানমন্ডি, শাহবাগ, আবরার ফাহাদ অ্যাভিনিউ, বাংলামোটর, কারওয়ান বাজার, শেরেবাংলা নগর ও মহাখালীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই মোতায়েন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, সাম্প্রতিক বিভিন্ন কর্মসূচি ও সম্ভাব্য সমাবেশকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ কারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট সমন্বিতভাবে কাজ করছে। এর আগে নিরাপত্তা জোরদারের অংশ হিসেবে সরকার সেনাবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্তও নেয়। সোমবার (২২ জুন) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠানো হয়। সেখানে উল্লেখ করা হয়, নিষিদ্ধ ঘোষিত বিভিন্ন সংগঠনের সম্ভাব্য বেআইনি মিছিল, শোডাউন ও অন্যান্য কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে নাশকতা বা বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও গাজীপুর মহানগরসহ কয়েকটি এলাকায় ২২ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত সেনাসদস্য মোতায়েনের অনুরোধ জানানো হয়েছে। সরকারি সূত্রগুলো বলছে, নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর এই মোতায়েন মূলত জনশৃঙ্খলা বজায় রাখা, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি প্রতিরোধের লক্ষ্যে করা হয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাড়তি উপস্থিতির কারণে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তারা নাগরিকদের গুজবে কান না দিয়ে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন। নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় আগামী কয়েক দিন রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিজিবি, পুলিশ এবং অন্যান্য বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত থাকতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
মৌলভীবাজারের বড়লেখা সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) টহল দলের ওপর হামলার চেষ্টাকালে আত্মরক্ষার্থে বিজিবির ছোড়া গুলিতে এক ভারতীয় চোরাকারবারি আহত হয়েছেন। শনিবার (১৩ জুন) রাত পৌনে ৯টার দিকে সীমান্ত এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। বিজিবির এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ভারতীয় চোরাকারবারিদের দমনে বিজিবির পক্ষ থেকে প্রাণঘাতী অস্ত্র বা গুলি ব্যবহারের ঘটনা এটিই প্রথম। বিজিবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জেলার বড়লেখা সীমান্ত এলাকায় শনিবার রাতে বিজিবির একটি দল তাদের নিয়মিত টহল কার্যক্রম পরিচালনা করছিল। টহল চলাকালে সন্দেহভাজন দুই ভারতীয় চোরাকারবারির গতিবিধি লক্ষ্য করে বিজিবি সদস্যরা তাদের চ্যালেঞ্জ করেন। এ সময় ওই চোরাকারবারিরা আত্মসমর্পণ না করে উল্টো ধারালো অস্ত্র নিয়ে টহল দলের ওপর আক্রমণের চেষ্টা চালায়। নিজেদের জীবন বাঁচাতে এবং পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে বিজিবি সদস্যরা তখন আত্মরক্ষার্থে গুলি চালাতে বাধ্য হন। বিজিবির ছোড়া গুলিতে ঘটনাস্থলেই এক চোরাকারবারি আহত হন। তবে গুলিবিদ্ধ অবস্থাতেই ওই ব্যক্তিসহ তার অপর সঙ্গী দ্রুত সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের ভূখণ্ডে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। এই ঘটনার পর ওই সীমান্ত এলাকায় সতর্কতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ঘটনার পর প্রয়োজনীয় গোয়েন্দা অনুসন্ধান ও অন্যান্য আইনানুগ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় যেকোনো ধরনের চোরাচালান কঠোর হাতে দমন করতে এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় বিজিবি সর্বদা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। এর আগে বাংলাদেশ সীমান্তে ভারতীয় চোরাকারবারিদের বিরুদ্ধে বিজিবি কখনো সরাসরি প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করেনি, ফলে আত্মরক্ষার্থে নেওয়া বিজিবির এই কঠোর পদক্ষেপটি সীমান্ত নিরাপত্তায় একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সীমান্ত হত্যা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস করা এবং অবৈধ, অসতর্ক ও জোরপূর্বক সীমান্ত পারাপার বন্ধের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত দ্বিপাক্ষিক আলোচনা করেছে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লিতে সমাপ্ত হওয়া চার দিনব্যাপী মহাপরিচালক (ডিজি) পর্যায়ের সীমান্ত সমন্বয় সম্মেলনে এসব বিষয়ে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। আজ শুক্রবার (১২ জুন) ভারতের সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনীর (বিএসএফ) পক্ষ থেকে দেওয়া একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। নয়াদিল্লির বিএসএফ সদর দপ্তরে গত ৮ থেকে ১১ জুন পর্যন্ত এই ৫৭তম দ্বিবার্ষিক ডিজি পর্যায়ের সীমান্ত সম্মেলনটি সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিপাক্ষিক এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন সংস্থার মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী। অন্যদিকে, ভারতীয় প্রতিনিধি দলের পক্ষে মূল নেতৃত্বে ছিলেন বিএসএফ মহাপরিচালক প্রবীণ কুমার। বৈঠক শেষে দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে বিএসএফ জানায়, সীমান্ত এলাকায় মাদক, অস্ত্র, জাল মুদ্রা, সোনা ও অন্যান্য চোরাচালান রোধসহ মানব পাচার এবং অবৈধ সীমান্ত পারাপারের মতো সব ধরনের আন্তঃসীমান্ত অপরাধ কার্যকরভাবে প্রতিরোধে উভয় পক্ষ বিস্তারিত আলোচনা করেছে। এ ছাড়া দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা সীমান্ত অবকাঠামো নির্মাণ, সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন, পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধির পদক্ষেপ এবং সীমান্ত এলাকার উদীয়মান নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন। চলতি বছরের শুরুতে বাংলাদেশে নতুন বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নতুন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর—উভয় দেশের সীমান্ত বাহিনীর মধ্যে এটিই প্রথম উচ্চপর্যায়ের বৈঠক। উল্লেখ্য, ভারত-বাংলাদেশের ৪ হাজার ৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ আন্তর্জাতিক সীমান্তের অর্ধেকেরও বেশি (২২১৬ কিলোমিটার) অংশ রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দুই দেশই সীমান্তে শান্তি, শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়ে তাদের সুদৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। আন্তর্জাতিক সীমান্ত এলাকায় অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে লড়াই করতে দুই পক্ষই সমন্বিত যৌথ টহল জোরদার, নজরদারি বৃদ্ধি, রিয়েল-টাইম (তাৎক্ষণিক) তথ্য আদান-প্রদান এবং যৌথ প্রচেষ্টা আরও গতিশীল করতে সম্মত হয়েছে। পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক সীমান্তের পবিত্রতা ও আইনি বাধ্যবাধকতা সম্পর্কে সীমান্ত এলাকার জনগণকে সচেতন করতে এবং অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর বিশেষ জোর দেয় উভয় পক্ষ। বিএসএফ-এর পক্ষ থেকে সামগ্রিক বৈঠকটিকে অত্যন্ত আন্তরিক, ইতিবাচক এবং দূরদর্শী হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তবে সম্মেলন শেষে সব সিদ্ধান্ত সন্তোষজনক হলেও, এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের দীর্ঘ ইতিহাসে এবারই প্রথম একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা ঘটেছে। আলোচনার চূড়ান্ত দিনে যৌথ কার্যবিবরণী স্বাক্ষরের পর ঐতিহ্যগতভাবে দুই বাহিনীর মহাপরিচালকদের যে যৌথ সংবাদ সম্মেলন করার দীর্ঘদিনের প্রথা রয়েছে, তা এবার কোনো অজ্ঞাত কারণে অনুষ্ঠিত হয়নি। আগামী নভেম্বর মাসে এই দ্বিপাক্ষিক সীমান্ত সম্মেলনের পরবর্তী পর্ব অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যার জন্য ভারতীয় বিএসএফ প্রতিনিধি দলটি ঢাকা সফর করবে।
বাংলাদেশ-ভারতের জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার ধানুয়া কামালপুর-রামরামপুর সীমান্তে আন্তর্জাতিক সীমানার শূন্যরেখায় কয়েকদিন ধরে আটকা পড়ে আছেন এক ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধ। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) তাকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ওই চেষ্টা প্রতিহত করার পর থেকে তিনি দুই দেশের সীমান্তের মাঝামাঝি এলাকায় অবস্থান করছেন। একদিকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) বন্দুকের নল, অন্যদিকে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিজিবির কড়া নজরদারি—এই দুইয়ের মাঝে পড়ে প্রখর রোদ আর বৈরী আবহাওয়ায় অনাহারে দিন কাটছে তার। বাঁচার তাগিদে তিনি যেদিকেই একটু পা বাড়াচ্ছেন, সেদিক থেকেই তাকে তাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। সাথে রয়েছে বাংলাদেশের উচ্ছুক জনতা। তিনি এখন ও দুই দেশের সীমান্তের মাঝামাঝি এলাকায় অবস্থান করছেন। স্থানীয় সূত্র জানা যায়, গত শনিবার ভোররাতে সীমান্তের ১০৮২ নম্বর আন্তর্জাতিক পিলারের পাশ দিয়ে সাতজন ব্যক্তিকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে বিএসএফ। তবে বিজিবি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের বাধার মুখে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। এ সময় পুশইনের শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে ছয়জন অন্ধকারের সুযোগে ভারতীয় ভূখণ্ডে ফিরে যেতে সক্ষম হলেও ওই বৃদ্ধ শূন্যরেখা এলাকায় থেকে যান। আটকে পড়া ওই ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়দের ধারণা, তিনি বাংলাদেশের নাগরিক এবং কাজের সন্ধানে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মেঘালয় ও ত্রিপুরায় গিয়েছিলেন। তবে তার পরিচয় ও জাতীয়তা সম্পর্কে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মঙ্গলবার গভীর রাত থেকে বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তাকে সীমান্তের শূন্যরেখায় ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে। সীমান্ত পরিস্থিতির কারণে তিনি বাংলাদেশ কিংবা ভারতের কোনো অংশেই প্রবেশ করতে পারছেন না বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এদিকে মানবিক বিবেচনায় সীমান্তবর্তী এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা তাকে পানি ও শুকনো খাবার পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। স্থানীয় বাসিন্দা হোসেন বুলাল বলেন, বৃদ্ধ ব্যক্তি কয়েকদিন ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। তার অবস্থা দেখে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে নতুন রাজ্য সরকার ক্ষমতায় আসার পর, অবৈধ অনুপ্রবেশকারী আখ্যা দিয়ে সাধারণ ও মুসলিম মানিুষদের জোরপূর্বক পুশ-ইন করার চেষ্টা করছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বাংলাদেশের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে একাধিক ব্যক্তিকে পুশইনের অভিযোগ উঠেছে। বিজিবির দাবি, এসব ব্যক্তির বেশিরভাগই বাংলাদেশি নাগরিক, যারা জীবিকা নির্বাহের জন্য ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে অবস্থান করছিলেন। তবে প্রতিটি ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাইয়ের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ। এদিকে পশ্চিমবঙ্গে অবৈধভাবে বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিকদের বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এক বক্তব্যে তিনি বলেন, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর কার্যক্রম চলমান রয়েছে। শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে বিশেষ ‘হোল্ডিং স্টেশন’ স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে সন্দেহভাজন অনুপ্রবেশকারীদের সাময়িকভাবে রাখা হচ্ছে। সেখান থেকে ধাপে ধাপে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। তিনি বলেন, “বর্ডার জেলারগুলোতে হোল্ডিং স্টেশন তৈরি করা হয়েছে। সেখান থেকে এখন পর্যন্ত ৪ হাজার ৮০০ জনকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে আরও ৮৩৬ জন হোল্ডিং সেন্টারে রয়েছেন। তাদেরও দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।” সীমান্তের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে বুধবার সকালে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে একটি জরুরি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে আটকে থাকা বৃদ্ধের বিষয়েও আলোচনা হয়। তবে দীর্ঘ আলোচনার পরও কোনো সমাধান হয়নি বলে জানা গেছে। জামালপুর ৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান বলেন, বিএসএফ একজন ব্যক্তিকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করেছিল। বিজিবি তা প্রতিহত করেছে। তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এখনো শূন্যরেখা এলাকায় অবস্থান করছেন এবং সীমান্ত পরিস্থিতি বিজিবির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বিএসএফের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের মাধ্যমে নারী, শিশুসহ বিভিন্ন ব্যক্তিকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর অভিযোগের প্রেক্ষাপটে দেশের সীমান্ত এলাকায় নজরদারি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সীমান্তে সম্ভাব্য পুশ ইন প্রতিরোধে দেশের ২৬ জেলার বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় ৬০ হাজার বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, একসঙ্গে এত বিপুলসংখ্যক সদস্যকে সীমান্ত পাহারায় নিয়োজিত করার ঘটনা অতীতে খুব কমই দেখা গেছে। বিজিবি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, মোতায়েন করা সদস্যরা চারটি পালায় বিভক্ত হয়ে ২৪ ঘণ্টা সীমান্ত এলাকায় টহল ও নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছেন। সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দারাও বিভিন্ন তথ্য দিয়ে বাহিনীকে সহযোগিতা করছেন। পাশাপাশি সাদাপোশাকে গোয়েন্দা তৎপরতাও বাড়ানো হয়েছে, যাতে সম্ভাব্য অনুপ্রবেশের চেষ্টা আগেই শনাক্ত করা যায়। এদিকে গত বুধবার থেকে শনিবার পর্যন্ত মাত্র চার দিনের ব্যবধানে ২১টি পৃথক পুশ ইন প্রচেষ্টা প্রতিহত করেছে বিজিবি। এসব ঘটনায় দুই শতাধিক ব্যক্তিকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা হয়েছিল বলে জানা গেছে। সীমান্তে বাড়তি সতর্কতার কারণে এসব প্রচেষ্টা সফল হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। প্রথম আলোর বরাত দিয়ে জানা গেছে, ভারতের পাঁচটি রাজ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রায় ৪ হাজার ৪৮৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তজুড়ে টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলো চিহ্নিত করে সেখানে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। যেসব জেলার সীমান্তে বিশেষ নজরদারি বাড়ানো হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, যশোর, সাতক্ষীরা, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, ফেনী, মৌলভীবাজার, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, খাগড়াছড়ি, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, জয়পুরহাট, কুমিল্লা, সিলেট, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, নীলফামারী, পঞ্চগড়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও শেরপুর। সীমান্ত পরিস্থিতির এই প্রেক্ষাপটে আগামী ৮ থেকে ১১ জুন ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে ৫৭তম মহাপরিচালক পর্যায়ের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। চার দিনব্যাপী এ বৈঠকে সীমান্তে অনুপ্রবেশের ঘটনা, অবৈধ পুশ ইন, সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হওয়ার বিষয় এবং সামগ্রিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হবে বলে জানিয়েছে বিজিবি। সীমান্ত নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে পুশ ইন ইস্যু দুই দেশের সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়ে পরিণত হয়েছে। ফলে আসন্ন বিজিবি-বিএসএফ সম্মেলনে বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে পুশইন, সীমান্ত হত্যা এবং আকাশসীমা লঙ্ঘনের অভিযোগের মধ্যে নয়াদিল্লিতে শুরু হচ্ছে বিজিবি ও বিএসএফের মহাপরিচালক পর্যায়ের ৫৭তম সীমান্ত সম্মেলন। চার দিনব্যাপী এ বৈঠকে ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু তুলে ধরবে বাংলাদেশ। বিজিবি সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকের প্রথম এজেন্ডাতেই থাকবে সীমান্ত হত্যা এবং পুশইন বন্ধের দাবি। বাংলাদেশের অভিযোগ, গত দুই বছরে ২ হাজার ২০০-এর বেশি মানুষকে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানো হয়েছে। এদের মধ্যে রোহিঙ্গা ও ভারতীয় নাগরিকও রয়েছেন। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে আরও শতাধিক মানুষকে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলে দাবি করছে বিজিবি। এবারের বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে সীমান্তে ভারতীয় ড্রোন ও হেলিকপ্টারের চলাচল। বিজিবির দাবি, সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় ভারতীয় ড্রোন এবং কিছু ক্ষেত্রে হেলিকপ্টার বাংলাদেশের আকাশসীমায় প্রবেশ করেছে। এসব ঘটনা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য ভারতের প্রতি আহ্বান জানানো হবে। এ ছাড়া সীমান্তবর্তী নদী ও খালের মাধ্যমে ত্রিপুরা থেকে আসা শিল্পবর্জ্যের কারণে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পরিবেশ ও কৃষিজমির ক্ষতির বিষয়টিও আলোচনায় উঠবে। বাংলাদেশ এ সমস্যার সমাধানে বর্জ্য শোধনাগার স্থাপনের প্রস্তাব দিতে পারে বলে জানা গেছে। প্রথমবারের মতো সীমান্তসংক্রান্ত তথ্য নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত বিভ্রান্তিকর ও উসকানিমূলক তথ্যের বিষয়টিও বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে রাখা হয়েছে। বিজিবির মতে, এসব প্রচারণা সীমান্ত এলাকার মানুষের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। অন্যদিকে বিএসএফ সীমান্তে কথিত হামলা, আন্তঃসীমান্ত অপরাধ, সীমান্ত বেড়া নির্মাণ এবং নিরাপত্তা সহযোগিতাসহ বিভিন্ন বিষয় আলোচনায় তুলতে পারে বলে ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। চার দিনব্যাপী এ বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী। ভারতীয় প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন বিএসএফ প্রধান প্রবীণ কুমার।
কক্সবাজারের উখিয়া সীমান্তে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে পুঁতে রাখা ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে এক রোহিঙ্গা যুবকের বাঁ পায়ের গোড়ালি উড়ে গেছে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বালুখালী সীমান্তের মিয়ানমার অংশে ‘নারিকেল বাগান’ নামক স্থানে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। আহত যুবকের নাম মো. সাদেক (২৫), তিনি উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্প-১০-এর বাসিন্দা। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সূত্রে জানা গেছে, জীবিকার তাগিদে সাদেকসহ একদল জেলে মাছ ধরতে মিয়ানমার সীমান্তে প্রবেশ করেছিলেন। ফেরার পথে শূন্যরেখা থেকে প্রায় ১৫০ মিটার মিয়ানমারের অভ্যন্তরে মাইন বিস্ফোরণের কবলে পড়েন তিনি। এতে তার বাঁ পা বিচ্ছিন্ন হওয়ার পাশাপাশি ডান পা-ও গুরুতর জখম হয়। বিস্ফোরণের শব্দ শুনে বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলের কাছাকাছি পৌঁছালে দেখা যায়, সাদেকের সঙ্গীরা তাকে উদ্ধার করে বাংলাদেশের দিকে নিয়ে আসছেন। তাকে দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে উখিয়ার কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতালে এবং পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। উখিয়া ব্যাটালিয়নের (৬৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণের এই ঘটনা স্থানীয় বাসিন্দা ও রোহিঙ্গাদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
বিশ্ববাজারে অস্থিতিশীলতা আর মধ্যপ্রাচ্য সংকটের জেরে দেশে জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট ও অবৈধ মজুত ঠেকাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। জ্বালানি তেলের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে এবং বিপণন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে দেশের ১৯টি গুরুত্বপূর্ণ ডিপোতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। শনিবার (২৮ মার্চ) বিজিবি সদর দফতরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে গত ২৫ মার্চ সকাল থেকেই ঢাকা, রাজশাহী, সিলেট ও রংপুরসহ দেশের মোট ৯টি জেলার ১৯টি ডিপোতে বিজিবি সদস্যরা তাদের দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ডিপোগুলোর নিরাপত্তা এবং মজুতদারদের অপতৎপরতা রুখতে বিজিবি সদর দফতরের সরাসরি তত্ত্বাবধানে এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। দায়িত্বরত সদস্যরা নিজস্ব ইউনিট থেকে দূরে হওয়ায় সুবিধাজনক স্থানে অস্থায়ী 'বেইজ ক্যাম্প' স্থাপন করে অভিযান ও তদারকি চালাচ্ছেন। একজন কর্মকর্তার নেতৃত্বে এসব ক্যাম্পে নিয়মিত প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। যেসব এলাকায় মোতায়েন রয়েছে বিজিবি: রংপুর বিভাগ: রংপুর (৩টি), কুড়িগ্রাম (২টি)। রাজশাহী বিভাগ: রাজশাহী (৩টি)। সিলেট বিভাগ: সিলেট (২টি), মৌলভীবাজার (৩টি), সুনামগঞ্জ (১টি)। চট্টগ্রাম ও ঢাকা: কুমিল্লা (৩টি), ব্রাহ্মণবাড়িয়া (১টি) এবং ঢাকা (১টি)। ডিপোর পাশাপাশি সীমান্ত দিয়ে জ্বালানি তেল পাচার রোধে বিজিবি জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত টহল, নৌ-টহল এবং চেকপোস্টে তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী আইসিপি ও এলসিপিগুলোতে আমদানি-রপ্তানি কাজে ব্যবহৃত ট্রাক ও লরিতে নিয়মিত তল্লাশি চালানো হচ্ছে। যেকোনো ধরনের নাশকতা বা অবৈধ মজুত ঠেকাতে বিজিবির গোয়েন্দা নজরদারি এখন তুঙ্গে। ডিপো কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান এবং জনমনে আস্থা ফেরাতে বিজিবির এই সক্রিয় উপস্থিতি জ্বালানি খাতের শৃঙ্খলা রক্ষায় বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার চান্দুরা এলাকা থেকে বিশেষ অভিযান চালিয়ে বালুর নিচে লুকানো ৪ হাজার ৯৫০ কেজি ভারতীয় জিরা জব্দ করেছে সরাইল ব্যাটালিয়ন (২৫ বিজিবি)। এ সময় একটি বড় ট্রাকও আটক করা হয়। জব্দকৃত জিরার আনুমানিক বাজারমূল্য ১ কোটি ২৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা। সোমবার (২৩ মার্চ) ভোর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ট্রানজিট ক্যাম্পের বিশেষ টহলদল এ অভিযান পরিচালনা করে এবং অবৈধ চালানটি আটক করে। সরাইল ব্যাটালিয়নের (২৫ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল জাব্বার আহমেদ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, বিজয়নগর উপজেলার সীমান্ত এলাকা থেকে সোয়া কোটি টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ ভারতীয় অবৈধ জিরা ও একটি বড় ট্রাক জব্দ করা হয়েছে। জব্দকৃত মালামালসহ ট্রাক আখাউড়া কাস্টমস অফিসে জমা দেওয়ার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।