অর্থনীতি

১১৮ বিলিয়ন ডলার হারিয়ে ‘ট্রিলিয়নিয়ার’ মর্যাদা হারালেন ইলন মাস্ক?

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৩, ২০২৬ ২৩:৩০
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি ইলন মাস্কের সম্পদে বড় ধাক্কা লেগেছে। মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের শেয়ারের দর ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ার পর মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে তাঁর সম্পদ থেকে উধাও হয়েছে প্রায় ১১৮ বিলিয়ন ডলার। ফলে বিশ্বের প্রথম ‘ট্রিলিয়নিয়ার’ হিসেবে পাওয়া মর্যাদা হারিয়েছেন কি না, তা নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।

 

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি মাসের শুরুতে স্পেসএক্সের ঐতিহাসিক শেয়ারবাজারে অভিষেকের পর ইলন মাস্কের সম্পদের পরিমাণ এক ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়। সে সময় প্রতিষ্ঠানটির বাজারমূল্য প্রায় ৩ ট্রিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছিল।

তবে প্রযুক্তি খাতজুড়ে সাম্প্রতিক বিক্রির চাপ এবং বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগের কারণে স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম দ্রুত কমতে শুরু করে। মাত্র তিনটি লেনদেন সেশনে প্রতিষ্ঠানটির বাজারমূল্য ৬০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি কমে যায়।

 

এর সরাসরি প্রভাব পড়ে মাস্কের ব্যক্তিগত সম্পদের ওপর। ব্লুমবার্গ বিলিয়নিয়ার্স সূচক অনুযায়ী, বর্তমানে তাঁর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৯৫৭ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। অর্থাৎ কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর সম্পদ কমেছে প্রায় ১১৮ বিলিয়ন ডলার।

তুলনা করলে দেখা যায়, ভারতের অন্যতম শীর্ষ ধনী ব্যক্তি গৌতম আদানির মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১১৭ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ মাস্ক যে অর্থ হারিয়েছেন, তা বিশ্বের অনেক শীর্ষ ধনীর পুরো সম্পদের সমান।

 

যদিও ব্লুমবার্গের হিসাবে মাস্কের সম্পদ এক ট্রিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে গেছে, ফোর্বস এখনও তাঁর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলার বলে উল্লেখ করছে। ফলে তিনি এখনও ট্রিলিয়নিয়ার কি না, তা নির্ভর করছে কোন সম্পদ-তালিকা বিবেচনা করা হচ্ছে তার ওপর।

মাস্কের সম্পদের সবচেয়ে বড় অংশ স্পেসএক্সে। তিনি প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ৩৮ শতাংশ মালিকানা ধরে রেখেছেন। ব্লুমবার্গের হিসাবে স্পেসএক্সে তাঁর অংশীদারির মূল্য বর্তমানে প্রায় ৭৪৪ বিলিয়ন ডলার, যা তাঁর মোট সম্পদের প্রায় ৮০ শতাংশ।

 

স্পেসএক্সের মূল্য কমার পেছনে কয়েকটি কারণ কাজ করছে। কোম্পানিটি মহাকাশভিত্তিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অবকাঠামো গড়ে তোলার উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এ জন্য আগামী বছরগুলোতে বিপুল বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। সম্প্রতি ঘোষিত বন্ড বিক্রির একটি অংশও এই প্রকল্পে ব্যয় করা হবে।

 

শুধু স্পেসএক্স নয়, মাস্কের আরেক প্রতিষ্ঠান টেসলাও চাপের মুখে রয়েছে। মঙ্গলবার টেসলার শেয়ারের দাম প্রায় ৫ শতাংশ কমে যায়।

এর পেছনে যুক্তরাষ্ট্রে শুরু হওয়া নতুন নিরাপত্তা তদন্তকে বড় কারণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। গত ১৯ জুন টেক্সাসে একটি টেসলা মডেল-৩ গাড়ি একটি বাড়িতে আঘাত করলে ৭৬ বছর বয়সী এক নারীর মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার সময় গাড়িটির উন্নত চালক-সহায়ক প্রযুক্তি সক্রিয় ছিল বলে প্রাথমিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপরই বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।

 

তবে বিপুল সম্পদ হারানোর পরও বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি হিসেবে মাস্কের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি। তাঁর বর্তমান সম্পদের পরিমাণ এখনও বিশ্বের দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ ধনী ব্যক্তির সম্মিলিত সম্পদের চেয়েও বেশি।

ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের দ্বিতীয় ধনী ব্যক্তি গুগলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজের সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২৯৭ বিলিয়ন ডলার। সেই তুলনায় মাস্ক এখনও অনেক এগিয়ে রয়েছেন।

 

অর্থনীতিবিদ পিটার শিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে মন্তব্য করে বলেন, স্পেসএক্সের শেয়ার দরপতনে কাগজে-কলমে মাস্কের যে ক্ষতি হয়েছে, তা ওয়ারেন বাফেটের পুরো সম্পদের চেয়েও বেশি। তবে তাতেও বিশ্বের শীর্ষ ধনী হিসেবে তাঁর অবস্থান অটুট রয়েছে।

 

বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তি খাতের অস্থিরতা এবং শেয়ারবাজারের ওঠানামা মাস্কের সম্পদে বড় প্রভাব ফেললেও তাঁর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর আকার ও প্রভাব এতটাই বিশাল যে নিকট ভবিষ্যতে বিশ্বের শীর্ষ ধনীর অবস্থান থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া সহজ হবে না।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যুর পর বাবারও মরদেহ উদ্ধার , একসঙ্গে দাফন করা হবে বাবা-মেয়েকে

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা   পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন।   ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন।   এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।   ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের   তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।   ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

Advertisement

অর্থনীতি

View more
ছবি: সংগৃহীত
১১৮ বিলিয়ন ডলার হারিয়ে ‘ট্রিলিয়নিয়ার’ মর্যাদা হারালেন ইলন মাস্ক?

বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি ইলন মাস্কের সম্পদে বড় ধাক্কা লেগেছে। মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের শেয়ারের দর ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ার পর মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে তাঁর সম্পদ থেকে উধাও হয়েছে প্রায় ১১৮ বিলিয়ন ডলার। ফলে বিশ্বের প্রথম ‘ট্রিলিয়নিয়ার’ হিসেবে পাওয়া মর্যাদা হারিয়েছেন কি না, তা নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।   আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি মাসের শুরুতে স্পেসএক্সের ঐতিহাসিক শেয়ারবাজারে অভিষেকের পর ইলন মাস্কের সম্পদের পরিমাণ এক ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়। সে সময় প্রতিষ্ঠানটির বাজারমূল্য প্রায় ৩ ট্রিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছিল। তবে প্রযুক্তি খাতজুড়ে সাম্প্রতিক বিক্রির চাপ এবং বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগের কারণে স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম দ্রুত কমতে শুরু করে। মাত্র তিনটি লেনদেন সেশনে প্রতিষ্ঠানটির বাজারমূল্য ৬০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি কমে যায়।   এর সরাসরি প্রভাব পড়ে মাস্কের ব্যক্তিগত সম্পদের ওপর। ব্লুমবার্গ বিলিয়নিয়ার্স সূচক অনুযায়ী, বর্তমানে তাঁর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৯৫৭ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। অর্থাৎ কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর সম্পদ কমেছে প্রায় ১১৮ বিলিয়ন ডলার। তুলনা করলে দেখা যায়, ভারতের অন্যতম শীর্ষ ধনী ব্যক্তি গৌতম আদানির মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১১৭ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ মাস্ক যে অর্থ হারিয়েছেন, তা বিশ্বের অনেক শীর্ষ ধনীর পুরো সম্পদের সমান।   যদিও ব্লুমবার্গের হিসাবে মাস্কের সম্পদ এক ট্রিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে গেছে, ফোর্বস এখনও তাঁর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলার বলে উল্লেখ করছে। ফলে তিনি এখনও ট্রিলিয়নিয়ার কি না, তা নির্ভর করছে কোন সম্পদ-তালিকা বিবেচনা করা হচ্ছে তার ওপর। মাস্কের সম্পদের সবচেয়ে বড় অংশ স্পেসএক্সে। তিনি প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ৩৮ শতাংশ মালিকানা ধরে রেখেছেন। ব্লুমবার্গের হিসাবে স্পেসএক্সে তাঁর অংশীদারির মূল্য বর্তমানে প্রায় ৭৪৪ বিলিয়ন ডলার, যা তাঁর মোট সম্পদের প্রায় ৮০ শতাংশ।   স্পেসএক্সের মূল্য কমার পেছনে কয়েকটি কারণ কাজ করছে। কোম্পানিটি মহাকাশভিত্তিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অবকাঠামো গড়ে তোলার উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এ জন্য আগামী বছরগুলোতে বিপুল বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। সম্প্রতি ঘোষিত বন্ড বিক্রির একটি অংশও এই প্রকল্পে ব্যয় করা হবে।   শুধু স্পেসএক্স নয়, মাস্কের আরেক প্রতিষ্ঠান টেসলাও চাপের মুখে রয়েছে। মঙ্গলবার টেসলার শেয়ারের দাম প্রায় ৫ শতাংশ কমে যায়। এর পেছনে যুক্তরাষ্ট্রে শুরু হওয়া নতুন নিরাপত্তা তদন্তকে বড় কারণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। গত ১৯ জুন টেক্সাসে একটি টেসলা মডেল-৩ গাড়ি একটি বাড়িতে আঘাত করলে ৭৬ বছর বয়সী এক নারীর মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার সময় গাড়িটির উন্নত চালক-সহায়ক প্রযুক্তি সক্রিয় ছিল বলে প্রাথমিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপরই বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।   তবে বিপুল সম্পদ হারানোর পরও বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি হিসেবে মাস্কের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি। তাঁর বর্তমান সম্পদের পরিমাণ এখনও বিশ্বের দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ ধনী ব্যক্তির সম্মিলিত সম্পদের চেয়েও বেশি। ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের দ্বিতীয় ধনী ব্যক্তি গুগলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজের সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২৯৭ বিলিয়ন ডলার। সেই তুলনায় মাস্ক এখনও অনেক এগিয়ে রয়েছেন।   অর্থনীতিবিদ পিটার শিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে মন্তব্য করে বলেন, স্পেসএক্সের শেয়ার দরপতনে কাগজে-কলমে মাস্কের যে ক্ষতি হয়েছে, তা ওয়ারেন বাফেটের পুরো সম্পদের চেয়েও বেশি। তবে তাতেও বিশ্বের শীর্ষ ধনী হিসেবে তাঁর অবস্থান অটুট রয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তি খাতের অস্থিরতা এবং শেয়ারবাজারের ওঠানামা মাস্কের সম্পদে বড় প্রভাব ফেললেও তাঁর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর আকার ও প্রভাব এতটাই বিশাল যে নিকট ভবিষ্যতে বিশ্বের শীর্ষ ধনীর অবস্থান থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া সহজ হবে না।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৩, ২০২৬ ২৩:৩০
ছবি: সংগৃহীত

শেয়ারবাজারে এক সপ্তাহে ৩৫০ বিলিয়ন ডলার হারালেন ইলন মাস্ক

গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

বাজেটের প্রতি ১০০ টাকায় কোন খাতে কত ব্যয়, এক নজরে দেখুন বরাদ্দের হিসাব

জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনে বক্তব্য রাখছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী

অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৈষম্যহীন অর্থনীতি গঠনে সরকারের ১০টি অগ্রাধিকার ঘোষণা

ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত অস্ট্রেলিয়ান বিলিয়নিয়ারের ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত অস্ট্রেলিয়ান বিলিয়নিয়ার রবিন খুদার প্রতিষ্ঠান এয়ারট্রাঙ্কের ভারতে বিশাল বিনিয়োগ পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনের পাশাপাশি বাংলাদেশেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি আগামী কয়েক বছরে ভারতে প্রায় ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করতে যাচ্ছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় সাড়ে তিন লাখ কোটি টাকার বেশি।   জানা গেছে, এই বিনিয়োগ মূলত ভারতের ডাটা সেন্টার ও ডিজিটাল অবকাঠামো খাতে ব্যয় করা হবে। প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ক্লাউড সেবা এবং অনলাইনভিত্তিক বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। এর ফলে ডাটা সংরক্ষণ ও পরিচালনার জন্য বড় আকারের অবকাঠামোর চাহিদাও বাড়ছে বিশ্বজুড়ে। সেই চাহিদাকে সামনে রেখেই ভারত এখন আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি বিনিয়োগকারীদের অন্যতম বড় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে।   রবিন খুদা বাংলাদেশের বংশোদ্ভূত। দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও তার পড়াশোনার অভিজ্ঞতা রয়েছে। পরবর্তীতে অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে প্রযুক্তি খাতে ব্যবসা শুরু করেন তিনি। বর্তমানে তার প্রতিষ্ঠিত এয়ারট্রাঙ্ক এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের অন্যতম পরিচিত ডাটা সেন্টার কোম্পানি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।   তবে এই বিনিয়োগ পরিকল্পনা বাংলাদেশেও নানা ধরনের আলোচনা তৈরি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক থাকা একজন সফল উদ্যোক্তা কেন এত বড় বিনিয়োগ ভারতের মতো দেশে করলেন, বাংলাদেশে নয়। অনেকে মনে করছেন, প্রযুক্তি ও অবকাঠামো খাতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ আকর্ষণে বাংলাদেশ এখনো কাঙ্ক্ষিত পরিবেশ পুরোপুরি তৈরি করতে পারেনি।   অর্থনীতি বিশ্লেষকদের মতে, ৩০ বিলিয়ন ডলারের এই বিনিয়োগের পরিমাণ বাংলাদেশের জাতীয় বাজেটের বড় একটি অংশের সমপরিমাণ। যদিও বাজেট ও ডলার বিনিময় হার অনুযায়ী এ হিসাব কিছুটা ভিন্ন হতে পারে, তবুও দক্ষিণ এশিয়ার প্রযুক্তি খাতে ভারতের বর্তমান অবস্থান এবং বিনিয়োগ সক্ষমতা এই ঘোষণার মাধ্যমে আবারও সামনে এসেছে।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামী দিনের অর্থনীতিতে ডাটা সেন্টার ও ডিজিটাল অবকাঠামো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তাই এই খাতে যে দেশ যত বেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে পারবে, প্রযুক্তি অর্থনীতিতে তাদের অবস্থান তত শক্তিশালী হবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ৮, ২০২৬ ১৬:৪৩
হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে আজাদ। ছবি: সংগৃহীত

এআই ব্যবহারে ১০ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের ইঙ্গিত, বলেছেন এ কে আজাদ

ছবি: সংগৃহীত

ঈদে এটিএম বুথে টাকা তোলায় বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা

ছবি: সংগৃহীত

ঈদের আগে ১৯ দিনে প্রবাসী আয় প্রায় আড়াই বিলিয়ন ডলার

ছবি: সংগৃহীত
বাজারে এলো নতুন ডিজাইনের পাঁচ টাকার নোট

‘বাংলাদেশের ঐতিহাসিক এবং প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপত্য’ শীর্ষক নতুন ডিজাইন ও সিরিজের পাঁচ টাকা মূল্যমানের কারেন্সি নোট বাজারে এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।   মঙ্গলবার (১৯ মে) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে   নতুন নোটটির সম্মুখভাগের বাম পাশে ঢাকার ঐতিহ্যবাহী তারা মসজিদের ছবি এবং মাঝখানে ব্যাকগ্রাউন্ডে পাতা ও কলিসহ প্রস্ফুটিত জাতীয় ফুল শাপলার ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। নোটের পিছনভাগে স্থান পেয়েছে ‘গ্রাফিতি-২০২৪’-এর ছবি।   অর্থ সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার স্বাক্ষরিত এই পাঁচ টাকার নোটের আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ১১৭ মিলিমিটার × ৬০ মিলিমিটার।   নোটটির নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যের মধ্যে রয়েছে জলছাপ হিসেবে ‘রয়েল বেঙ্গল টাইগারের মুখ’ এবং তার নিচে উজ্জ্বল ইলেকট্রোটাইপ জলছাপ ‘5’। পাশাপাশি ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মনোগ্রাম’ও সংযুক্ত করা হয়েছে।   এছাড়া নোটটিতে হালকা গোলাপি রঙের আধিক্য রাখা হয়েছে। নোটের বাম পাশে দুই মিলিমিটার প্রশস্ত নিরাপত্তা সুতা সংযোজন করা হয়েছে, যা কাগজের ভেতরে প্রবিষ্ট এবং আলোর বিপরীতে ধরলে দুই পাশ থেকেই দেখা যায়। নোটের সম্মুখভাগের নিচের অংশে গ্লিউইশ প্যাটার্নের ওপর মাইক্রো পয়েন্ট আকারে অসংখ্য ‘BANGLADESH’ শব্দও মুদ্রিত রয়েছে।   সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মঙ্গলবার থেকেই প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল অফিস থেকে নতুন নোটটি ইস্যু করা হবে। পরে বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্যান্য অফিস থেকেও এটি পাওয়া যাবে।   একই সঙ্গে বর্তমানে প্রচলিত সব কাগুজে নোট ও ধাতব মুদ্রা আগের মতোই চালু থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।   মুদ্রা সংগ্রাহকদের জন্য নিয়মিত নোটের পাশাপাশি পাঁচ টাকা মূল্যমানের নমুনা (Specimen) নোটও মুদ্রণ করা হয়েছে। বিনিময় অযোগ্য এই নোট বাংলাদেশ ব্যাংক কারেন্সি মিউজিয়াম, মিরপুর থেকে নির্ধারিত মূল্যে সংগ্রহ করা যাবে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: মে ১৮, ২০২৬ ২৩:৪৯
ছবি: সংগৃহীত

ডলারের বাজারমূল্য ধরে রাখতে আরও ১০ কোটি ডলার কিনল বাংলাদেশ ব্যাংক

ছবি: সংগৃহীত

ক্যাপিটাল ওয়ান গ্রাহকদের জন্য ৪২৫ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণ: জেনে নিন আপনি এই অর্থ পাবেন কি না

ছবি - সংগৃহিত

ইইউ ও যুক্তরাষ্ট্রে ডেনিম রপ্তানিতে শীর্ষে বাংলাদেশ, প্রবৃদ্ধিও অব্যাহত

0 Comments