শাহরুখের প্রথম ছবি ছাড়লেন বিজয়ের বাবা, মাঝপথে সরে গেলেন নায়ক: যেভাবে তৈরি হয়েছিল ‘দিওয়ানা’
১৯৯২ সালে মুক্তি পাওয়া ‘দিওয়ানা’ শুধু একটি ব্যবসাসফল চলচ্চিত্রই ছিল না, এটি ছিল বলিউডে শাহরুখ খানের প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা। ছবিটি সেই বছরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আয় করা হিন্দি চলচ্চিত্রে পরিণত হয় এবং শাহরুখকে প্রথম সারির নায়কের আসনে বসিয়ে দেয়। তবে এই ছবি তৈরির পেছনে ছিল একের পর এক নাটকীয় ঘটনা।
সম্প্রতি ইউটিউব চ্যানেল স্টোরিজ বাই শেখর-এ প্রকাশিত এক ভিডিওতে উঠে এসেছে ‘দিওয়ানা’ নির্মাণের নেপথ্যের নানা অজানা তথ্য। সেখানে পরিচালক পরিবর্তন, নায়কের সরে দাঁড়ানো এবং শেষ মুহূর্তে শাহরুখের যুক্ত হওয়ার মতো ঘটনাগুলো তুলে ধরা হয়েছে।
১৯৮৯ সালে প্রযোজক গুড্ডু ধানোয়ার একটি ছবি বক্স অফিসে ব্যর্থ হওয়ার পর তিনি নতুন গল্পের খোঁজে চেন্নাই যান। সেখানে একটি তামিল ছবি দেখে সেটির হিন্দি রিমেক করার সিদ্ধান্ত নেন। পরবর্তীতে সেই ছবিই ‘দিওয়ানা’ নামে নির্মিত হয়। মূল তামিল ছবির পরিচালক ছিলেন দক্ষিণ ভারতীয় অভিনেতা বিজয়ের বাবা এস. এ. চন্দ্রশেখর। ছবিটির প্রযোজক ছিলেন বিজয়ের মা শোভা চন্দ্রশেখর।
প্রথমে নায়িকার চরিত্রে মাধুরী দীক্ষিতকে নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু সময়সূচির জটিলতায় তিনি ছবিটি করতে পারেননি। পরে সেই চরিত্রে চূড়ান্ত হন দিব্যা ভারতী। অন্যদিকে রবির চরিত্রে নেওয়া হয় ঋষি কাপুরকে এবং দ্বিতীয় নায়ক হিসেবে চুক্তিবদ্ধ হন আরমান কোহলি। ছবির সংগীত পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয় জনপ্রিয় সুরকার জুটি নাদিম-শ্রাবণকে। পরে ছবির গানই এর সবচেয়ে বড় শক্তিতে পরিণত হয়।
শুটিং শুরুর আগেই বড় ধাক্কা আসে। অন্য কাজের ব্যস্ততার কারণে পরিচালক এস. এ. চন্দ্রশেখর প্রকল্প থেকে সরে দাঁড়ান। এরপর পরিচালনার দায়িত্ব পান রাজ কানওয়ার, যিনি তখন স্বাধীন পরিচালক হিসেবে নিজের প্রথম কাজের অপেক্ষায় ছিলেন।
এর কিছুদিন পর আরও বড় সংকট তৈরি হয়। প্রযোজনা-সংক্রান্ত বিরোধের কারণে আরমান কোহলি ছবি ছেড়ে দেন। ফলে দ্বিতীয় নায়কের চরিত্রের জন্য নতুন মুখ খুঁজতে শুরু করেন নির্মাতারা। এই সময় পরিচালক শেখর কাপুর গুড্ডু ধানোয়াকে এক তরুণ টেলিভিশন অভিনেতার নাম প্রস্তাব করেন। ‘ফৌজি’ ও ‘সার্কাস’ ধারাবাহিকের মাধ্যমে পরিচিত সেই অভিনেতাই ছিলেন শাহরুখ খান।
গুড্ডু ধানোয়া ও রাজ কানওয়ার দিল্লিতে গিয়ে শাহরুখের সঙ্গে দেখা করেন। তখন তিনি ইতোমধ্যে পাঁচটি ছবিতে চুক্তিবদ্ধ ছিলেন—‘দিল আশনা হ্যায়’, ‘কিং আঙ্কল’, ‘কভি হাঁ কভি না’, ‘রাজু বান গয়া জেন্টলম্যান’ ও ‘চমৎকার’
ব্যস্ততার কারণে প্রথমে তিনি ‘দিওয়ানা’র প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন। পরে অন্য একটি ছবির শুটিং পিছিয়ে যাওয়ায় তার হাতে সময় তৈরি হয়। তখন চিত্রনাট্য শুনে চরিত্রটির বিদ্রোহী স্বভাব এবং বিধবা বিবাহকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা গল্প তাকে আকৃষ্ট করে। এরপরই ছবিতে অভিনয়ে সম্মতি দেন।
যদিও শাহরুখ আগে আরও পাঁচটি ছবিতে চুক্তি করেছিলেন, মুক্তির দিক থেকে ‘দিওয়ানা’ই ছিল তার প্রথম সিনেমা।১৯৯২ সালের ২৫ জুন মুক্তি পাওয়া ছবিটি সে বছর ‘বেটা’র পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আয় করা হিন্দি চলচ্চিত্রে পরিণত হয়।
‘তেরি উমিদ তেরা ইন্তেজার’, ‘সোচেঙ্গে তুমহে পেয়ার করেঁ কি নাহি’ এবং ‘অ্যায়সি দিওয়ানগি’ গানগুলো ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। নাদিম-শ্রাবণ সেরা সংগীত পরিচালকের স্বীকৃতি পান এবং ‘সোচেঙ্গে তুমহে’ গানের জন্য কুমার শানু জিতে নেন সেরা পুরুষ কণ্ঠশিল্পীর পুরস্কার।
প্রযোজক গুড্ডু ধানোয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, সিনেমা হলে শাহরুখের মোটরসাইকেলে প্রবেশের দৃশ্য দেখেই দর্শক উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন। অনেকে আনন্দে পর্দার দিকে খুচরা টাকা ছুড়ে উদযাপন করেন। সেই মুহূর্তেই যেন বলিউড নতুন এক সুপারস্টারের আগমনের সাক্ষী হয়। এই ছবির জন্য শাহরুখ ফিল্মফেয়ার সেরা নবাগত অভিনেতার পুরস্কারও জিতে নেন।
ছবি মুক্তির আগে পরিবেশক মনমোহন দেশাই পরামর্শ দিয়েছিলেন, শেষ পর্যন্ত নায়িকা যেন শাহরুখের চরিত্রের বদলে ঋষি কাপুরের চরিত্রের কাছেই ফিরে যান। এমনকি শাহরুখের চরিত্রকে শেষ পর্যন্ত মারা যাওয়ারও প্রস্তাব দিয়েছিলেন তিনি।
তবে প্রযোজক গুড্ডু ধানোয়া ও পরিচালক রাজ কানওয়ার সেই পরামর্শ গ্রহণ করেননি। তাদের মতে, এতে বিধবা বিবাহকে কেন্দ্র করে ছবির মূল বার্তা নষ্ট হয়ে যেত।
শেষ পর্যন্ত মূল চিত্রনাট্য অপরিবর্তিত রেখেই মুক্তি পায় ‘দিওয়ানা’। তিন দশকেরও বেশি সময় পরও ছবিটি শুধু শাহরুখ খানের ক্যারিয়ারের সূচনা নয়, বলিউডের ইতিহাসে অন্যতম স্মরণীয় আত্মপ্রকাশের গল্প হিসেবেই বিবেচিত হয়।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিনোদন
View moreমিস ইউনিভার্স ইন্ডিয়া ২০২৬ খেতাব জয়ের পর শৈশবের শহর আবুধাবিতে ফিরেছেন কাজিয়াহ লিজ মেজো। ভারতের জয়পুরে গত ২৩ আগস্ট মুকুট জেতার পর বন্ধু ও শিক্ষকদের কাছে দেওয়া কথা রেখেই তাঁর এই সফর। ১৯ বছর বয়সী কাজিয়াহ আবুধাবিতেই বড় হয়েছেন। মুকুট জয়ের পর গালফ নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, বন্ধু, স্কুল ও শিক্ষকদের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মুকুট নিয়ে সেখানে ফিরবেন। ফেরার পর মা-বাবাকে সঙ্গে নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সহনশীলতা ও সহাবস্থানবিষয়ক মন্ত্রী শেখ নাহিয়ান বিন মুবারক আল নাহিয়ানের সঙ্গে দেখা করেছেন এই আইন শিক্ষার্থী। সাক্ষাতের ভিডিওতে তাঁকে মুকুট ও প্রতিযোগিতার পরিচয়ফিতা পরা অবস্থায় দেখা যায়। ভারতের কেরালার সঙ্গে পারিবারিক শিকড় থাকা কাজিয়াহ বলেছেন, আবুধাবিতে নানা দেশের মানুষের সঙ্গে বেড়ে ওঠার অভিজ্ঞতা তাঁকে ভিন্ন সংস্কৃতি বুঝতে সাহায্য করেছে। একই সঙ্গে ভারতের সঙ্গে নিজের সম্পর্কও ধরে রাখতে পেরেছেন তিনি। মিস ইউনিভার্স ইন্ডিয়া খেতাব জয়ের সুবাদে এবার আন্তর্জাতিক মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতায় ভারতের প্রতিনিধিত্ব করবেন কাজিয়াহ। তাঁর আবুধাবি সফরটি তাই নতুন প্রতিযোগিতায় নামার আগে বেড়ে ওঠার শহরে ফিরে যাওয়ারও একটি মুহূর্ত।
অশি ক্ষি ত, চাঁ দা বা জ দিয়ে দেশটা ভরে গেছে, ক্ষুব্ধ সাদিয়া আয়মান
লিপস্টিকের মান পরীক্ষায় চু মু র দাগে ভরে যায় লোকটির মুখ, তার একমাত্র কাজই ছিল চু মু খাওয়া
অস্ট্রেলিয়ার পর্দায় বাংলাদেশের ‘মাস্টার’, এবার হাইকমিশনের পোস্টেও প্রশংসা
মুম্বাইয়ে আম্বানি পরিবারের গণেশোৎসবের আয়োজনে অংশ নিয়ে ভারতীয় সাজে নজর কেড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়ে টিফানি ট্রাম্প। ১৪ সেপ্টেম্বর মুম্বাইয়ের অ্যান্টিলিয়ায় অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে তিনি স্বামী মাইকেল বুলোসের সঙ্গে উপস্থিত হন। অনুষ্ঠানের জন্য টিফানি পরেছিলেন প্যাস্টেল পিস্তাচিও-সবুজ রঙের লেহেঙ্গা, সঙ্গে ছিল গোলাপি ওড়না ও ঐতিহ্যবাহী গয়না। টিফানির লেহেঙ্গাটি ডিজাইন করেছেন ভারতীয় ফ্যাশন ডিজাইনার মনীশ মালহোত্রা। পোশাকের স্কার্টে ছিল সাদা ও রুপালি ফুলের কারুকাজ, মুক্তার কাজ এবং সূক্ষ্ম নকশা। এর সঙ্গে থাকা ছোট ব্লাউজেও ছিল মুক্তা, ক্রিস্টাল ও সূচিকর্মের অলংকরণ। গোলাপি ওড়নাটি সবুজ পোশাকের সঙ্গে আলাদা রঙের সমন্বয় তৈরি করে। পোশাকের সঙ্গে টিফানি বেছে নেন ঐতিহ্যবাহী পোলকি গয়না। তার পরনে ছিল ভারী নেকলেস, ঝাড়বাতির মতো দুল ও মাঙ্গটিকা। হাতে ছিল অলংকৃত চুড়ি এবং সাজের সঙ্গে মানানসই ছোট ধাতব ব্যাগ। পুরো সাজে ভারতীয় ঐতিহ্য ও আধুনিক ফ্যাশনের সমন্বয় দেখা যায়। অনুষ্ঠানে টিফানির সঙ্গে ছিলেন তার স্বামী মাইকেল বুলোস। তিনিও ভারতীয় পোশাকে হাজির হন। মাইকেলের পরনে ছিল কমলা-সাফরন রঙের নকশা করা শেরওয়ানি, যা টিফানির উৎসবের সাজের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। টিফানি পরে নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ভারত সফরের ছবি প্রকাশ করেন। ছবির ক্যারোসেলের সঙ্গে তিনি লেখেন, ‘India, with love’। এসব ছবিতে তাকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা যায়। তার মা মারলা ম্যাপলসও এই ভারত সফরে ছিলেন। আম্বানি পরিবারের গণেশোৎসবের এই আয়োজনে বলিউডের একাধিক তারকাও উপস্থিত ছিলেন। টিফানির সঙ্গে অভিনেতা সঞ্জয় দত্তের ছবিও প্রকাশ্যে আসে। মুম্বাইয়ের অ্যান্টিলিয়ায় অনুষ্ঠিত আয়োজনে সালমান খান, রণবীর সিং, ক্যাটরিনা কাইফ, ভিকি কৌশল, কারিনা কাপুর, সাইফ আলী খানসহ আরও অনেক তারকা অংশ নেন। এর আগে ২০২৬ সালের মে মাসেও স্বামী মাইকেল বুলোসকে সঙ্গে নিয়ে ভারত সফর করেছিলেন টিফানি। সেই সফরে তারা দিল্লির অক্ষরধাম, আগ্রার তাজমহল ও রাজস্থানের জয়সালমের ঘুরে দেখেন। কয়েক মাসের ব্যবধানে আবার ভারত সফরে এসে এবার তিনি আম্বানি পরিবারের গণেশোৎসবে অংশ নিলেন। টিফানির এবারের ভারতীয় সাজ প্রকাশের পর তা নিয়ে ফ্যাশন ও বিনোদনভিত্তিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে প্যাস্টেল রঙের লেহেঙ্গা, গোলাপি ওড়না এবং ঐতিহ্যবাহী পোলকি গয়নার সমন্বয়টি তার এবারের উপস্থিতির অন্যতম আলোচিত দিক হয়ে উঠেছে।
আগুন-ভূমিকম্পের ভয়, ১০০ মিলিয়ন ডলারের বাড়ি ছাড়ছেন হলিউড অভিনেতা পিয়ার্স ব্রসনান
মা হলেন লেডি গাগা, বাগদত্তা মাইকেল পোলানস্কির সঙ্গে প্রথম সন্তানের আগমন
২০ বছর পর ফিরছে ‘থ্রি ইডিয়টস’! একই চরিত্রে আমির-মাধবন-শারমান
পর্তুগিজ ফুটবল তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর স্ত্রী জর্জিনা রদ্রিগেজের হাতে দেখা গেছে প্রায় ২ লাখ ডলার মূল্যের বিরল একটি বার্কিন ব্যাগ। ৩ সেপ্টেম্বর ইতালির ভেনিসে যাওয়ার সময় তার হাতে ছিল হার্মেসের কুমিরের চামড়ায় তৈরি হিমালয়া বার্কিন ২৫। বিরল এই ব্যাগটি ঘিরে তার সাজসজ্জার পাশাপাশি এর বিপুল মূল্যও আলোচনায় এসেছে। ৩২ বছর বয়সী জর্জিনা এদিন বাদামি রঙের সাটিনের শার্ট ও সাদা ঢিলেঢালা জিনস পরেছিলেন। শার্টের কয়েকটি বোতাম খোলা ছিল, যার মধ্য দিয়ে তার পরনের লেসের অন্তর্বাসও দেখা যাচ্ছিল। পোশাকের সঙ্গে তিনি পরেছিলেন হালকা রঙের উঁচু হিলের জুতা ও কালো রোদচশমা। সাজ সম্পূর্ণ করতে ছিল তারকা আকৃতির গয়না, বড় গোলাপি সোনার ঘড়ি এবং হাতে সেই বিরল বার্কিন ব্যাগ। হার্মেসের হিমালয়া সিরিজের ব্যাগগুলো প্রতিষ্ঠানটির সবচেয়ে বিরল ও আকাঙ্ক্ষিত নকশার মধ্যে অন্যতম হিসেবে পরিচিত। কুমিরের চামড়া ব্যবহার করে এগুলো তৈরি করা হয় এবং ব্যাগের স্বতন্ত্র ধূসর-সাদা রঙের ধাপ তৈরি করতে হাতে রং করা হয়। জর্জিনার হাতে থাকা হিমালয়া বার্কিন ২৫-এর পুনর্বিক্রয়মূল্য প্রায় ২ লাখ ডলার বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই একই ধরনের ব্যাগের মালিক তারকা কিম কার্দাশিয়ানও। তার ব্যাগটিতে হীরাখচিত সোনার ধাতব অংশ রয়েছে, যার কারণে সেটির মূল্য আরও বেশি। কাইলি জেনারও একই ধরনের হিমালয়া কেলি ব্যাগ ব্যবহার করেন, যেটিতেও একই ধরনের বিশেষ অলংকরণ রয়েছে। হীরাখচিত হিমালয়া ব্যাগের মূল্য ৪ লাখ ৫০ হাজার ডলারেরও বেশি হতে পারে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। জর্জিনার ভেনিস সফরের এই উপস্থিতি আসে তার দীর্ঘদিনের সঙ্গী রোনালদোর সঙ্গে বিয়ের পরপরই। গত ১১ আগস্ট পর্তুগালে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের অনুষ্ঠানে জর্জিনা ২৫০ ক্যারেটের চোপার্ড হীরা পরেছিলেন। তার বিয়ের গয়নার মোট মূল্য ছিল প্রায় ৫ কোটি ডলার বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিয়ের গয়নার মধ্যে ছিল গার্ডেন অব কালাহারি নেকলেস। এই নেকলেসে ছিল ৫০ ক্যারেটের একটি উজ্জ্বল হীরা এবং আরও ১৪৬ ক্যারেটের ছোট ছোট পাথর। ২০২৬ সালের মে মাসে অনুষ্ঠিত মেট গালায় একই নেকলেস পরেছিলেন মার্কিন সংগীতশিল্পী বিয়ন্সে। ওই অনুষ্ঠানেই অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জর্জিনাও। এ ছাড়া বিয়ের সাজে জর্জিনা ২৫ ক্যারেটের নাশপাতি আকৃতির একটি হীরা এবং ২৬ ক্যারেটের হৃদয় আকৃতির একটি পাথর কানের দুল হিসেবে পরেছিলেন। দীর্ঘদিনের সম্পর্কের পর রোনালদো ও জর্জিনা পর্তুগালে একটি বেসামরিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিয়ে করেন। বিয়ের অনুষ্ঠানের একটি মুহূর্তও জর্জিনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেছিলেন। সেখানে তাদের দুজনের হাত পাশাপাশি রাখা অবস্থায় দেখা যায় এবং হাতে ছিল সোনার বিয়ের আংটি। দীর্ঘদিনের সম্পর্কের পর বিয়ের পরপরই ভেনিসে জর্জিনার এই উপস্থিতিতে আবারও তার পোশাক, গয়না ও বিলাসবহুল সামগ্রী আলোচনায় এসেছে।
‘পা হারিয়ে ১০০ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি!’ রিয়েলিটি শো প্রযোজকদের বিরুদ্ধে মামলা
অভিনয় থেকে বিরতি নিয়ে চাষাবাদে বরুণ ধাওয়ান, নতুন খেতে ধান রোপণে ব্যস্ত