বার্নি স্যান্ডার্স

ইসরায়েলে মার্কিন সামরিক সহায়তা বন্ধে বিল পাশ করাচ্ছেন  বার্নি স্যান্ডার্স
ইসরায়েলে মার্কিন সামরিক সহায়তা বন্ধে বিল পাশ করাচ্ছেন বার্নি স্যান্ডার্স

ইসরায়েলে আমেরিকার পক্ষ থেকে দেওয়া সব ধরনের সামরিক সহায়তা অবিলম্বে বন্ধ করার দাবিতে আগামী সপ্তাহে একটি বিশেষ প্রস্তাব পেশ করার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। গত বুধবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক বিশেষ পোস্টে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান এবং একই সাথে ইরান যুদ্ধের জন্য ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কঠোর সমালোচনা করেন। স্যান্ডার্স দাবি করেছেন যে, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু মূলত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে প্ররোচিত করে এই বিপর্যয়কর যুদ্ধে টেনে এনেছেন যা আমেরিকার জাতীয় স্বার্থের জন্য কোনোভাবেই কাম্য ছিল না। তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট করে বলেন যে, ইসরায়েলকে আর কোনোভাবেই আমেরিকার সামরিক ও পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণ করার সুযোগ দেওয়া যায় না এবং যুদ্ধের এই ভয়াবহ পরিস্থিতির দায়ভার তাদেরই নিতে হবে। স্যান্ডার্স তার দীর্ঘদিনের অবস্থানে অনড় থেকে জানান যে, ফিলিস্তিন ও মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্য আমেরিকা আর অন্ধভাবে অস্ত্রের যোগানদাতা হিসেবে কাজ করতে পারে না। তিনি মনে করেন যে, গাজা ও ইরানের এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ফলে বিশ্বজুড়ে আমেরিকার ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হচ্ছে এবং এর জন্য মূলত ওয়াশিংটনের একতরফা অস্ত্র সরবরাহকেই দায়ী করা হচ্ছে। আমেরিকার বেশ কয়েকজন ক্ষমতাধর নীতিনির্ধারক অনেক দিন ধরেই দাবি করে আসছিলেন যে ইসরায়েলে অস্ত্র পাঠানো বন্ধ করা হোক যাতে করে এই ভয়াবহ সংঘাত আর বেশি দীর্ঘস্থায়ী না হয়। বার্নি স্যান্ডার্স অনেক দিন ধরেই আন্তর্জাতিক মঞ্চে ফিলিস্তিনিদের অধিকার রক্ষায় সোচ্চার রয়েছেন এবং বর্তমান ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতিকে তিনি মানবসভ্যতার জন্য এক বড় বিপর্যয় হিসেবে দেখছেন। তিনি আরও বলেন যে, ইসরায়েলের ওপর এই অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা কমাতে না পারলে আমেরিকার সেনাবাহিনী আগামীতে আরও বড় কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত সংকটে পড়তে পারে যা নিয়ন্ত্রণ করা প্রায় অসম্ভব হবে। নেতানিয়াহু সরকার ও ট্রাম্প প্রশাসনের এই যুদ্ধংদেহী মনোভাবের কারণে আমেরিকার সাধারণ করদাতাদের অর্থের বিশাল অপচয় হচ্ছে বলে তিনি তার বিবৃতিতে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন প্রতিটি স্তরে। আগামী সপ্তাহে সিনেটে এই বিশেষ প্রস্তাবটি পেশ করার পর সেখানে বড় ধরনের রাজনৈতিক বিতর্ক হতে পারে বলে অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন কারণ রিপাবলিকানরা এর ঘোর বিরোধী। যদি স্যান্ডার্সের এই প্রস্তাব কোনোভাবে পাস হয় তবে তা মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার দীর্ঘদিনের রণকৌশলকে আমূল বদলে দিতে পারে এবং ইসরায়েলের ওপর এক বিশাল আন্তর্জাতিক চাপ তৈরি করবে। বর্তমানে আমেরিকার রাজনৈতিক মহলে এই বিষয়টি নিয়ে বিশাল মেরুকরণ দেখা দিয়েছে যেখানে সাধারণ মানুষও যুদ্ধের বিরুদ্ধে ধীরে ধীরে রাজপথে নেমে নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করতে শুরু করেছে। স্যান্ডার্স বারবার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন যে, অস্ত্র পাঠানোর মাধ্যমে এই অসম যুদ্ধের অংশীদার হওয়া আমেরিকার জন্য এক ঐতিহাসিক ভুল হিসেবে বিবেচিত হবে যা দ্রুত সংশোধন করা জরুরি। সব মিলিয়ে আগামী সপ্তাহের এই প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে হোয়াইট হাউসের ভেতরে এবং বাইরে এক নতুন ধরনের রাজনৈতিক উত্তেজনা ও সংঘাত তৈরি হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে এখন।  

নীলুফা নিশাত এপ্রিল ৮, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের হুমকিতে বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক, তীব্র প্রতিক্রিয়া বার্নি স্যান্ডার্সের

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এক বক্তব্যকে ঘিরে। সম্প্রতি ট্রাম্প এক মন্তব্যে সতর্ক করে বলেন, “আজ রাতে একটি পুরো সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যেতে পারে,” যা মূলত ইরানকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। তার এই বক্তব্যের পরপরই আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।   এই পরিস্থিতিতে কড়া প্রতিক্রিয়া জানান সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। তিনি বলেন, এ ধরনের বক্তব্য শুধু রাজনৈতিক উত্তেজনাই বাড়ায় না, বরং হাজার হাজার নিরীহ মানুষের প্রাণহানির ঝুঁকি তৈরি করে। স্যান্ডার্সের মতে, সম্ভাব্য সংঘাতে ইরানের সাধারণ জনগণ মারাত্মক মানবিক সংকটে পড়তে পারে যেখানে পানীয় জল, বিদ্যুৎ ও স্বাস্থ্যসেবার মতো মৌলিক সুবিধাও বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে।   তিনি আরও অভিযোগ করেন, এ ধরনের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের শামিল হতে পারে এবং এতে মার্কিন করদাতাদের অর্থ ব্যবহার করে একটি বড় মানবিক বিপর্যয় ডেকে আনা হতে পারে। স্যান্ডার্স দাবি করেন, মার্কিন কংগ্রেসের ভেতরেও অনেকেই ট্রাম্পের এই অবস্থানের সঙ্গে একমত নন। তিনি তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এখনই সময় এই ধরনের নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার।   অন্যদিকে, ট্রাম্প তার বক্তব্যে ইরানে “পূর্ণাঙ্গ শাসন পরিবর্তন” আনার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে বলেন, এতে দেশটির দীর্ঘদিনের সংকটের অবসান হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্য ও পাল্টা বক্তব্য বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ৭, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের হুমকি যুদ্ধাপরাধ: ডেমোক্র্যাটদের তীব্র নিন্দা

ইরানের বেসামরিক স্থাপনায় হামলার হুমকি দিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইস্টার সানডের এক বার্তায় ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও সেতু উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিলে ডেমোক্র্যাট শিবিরের নেতারা একে ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তবে ট্রাম্পের এই আক্রমণাত্মক অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন প্রভাবশালী রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা। গত সোমবার (৬ এপ্রিল) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের পর যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক অশালীন বার্তায় ট্রাম্প বলেন, তেহরান যদি অবিলম্বে হরমুজ প্রণালী খুলে না দেয়, তবে দেশটিকে নরকে পরিণত করা হবে। তিনি মঙ্গলবার দিনটিকে ইরানের জন্য ‘পাওয়ার প্ল্যান্ট ও ব্রিজ ডে’ হিসেবে ঘোষণা করার হুমকি দেন। ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের পর ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা তার মানসিক সুস্থতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ইরানি বংশোদ্ভূত কংগ্রেসওম্যান ইয়াসমিন আনসারি ট্রাম্পকে ‘বিপজ্জনক পাগল’ আখ্যা দিয়ে সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগের মাধ্যমে তাকে ক্ষমতা থেকে সরানোর দাবি জানিয়েছেন। প্রবীণ সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স বলেছেন, “এগুলো একজন মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন ব্যক্তির প্রলাপ। কংগ্রেসের উচিত এখনই এই যুদ্ধ বন্ধ করা।” প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফ্রিজ ট্রাম্পের বার্তাকে ‘ঘৃণ্য ও উন্মাদনামূলক’ বলে বর্ণনা করেছেন। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো স্পষ্ট যুদ্ধাপরাধ। বিপরীত দিকে, রিপাবলিকানরা ট্রাম্পের এই কঠোর অবস্থানের পাশে দাঁড়িয়েছেন। সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম বলেন, ইরান যদি আলোচনায় না আসে, তবে তাদের অবকাঠামো ধ্বংস করে দেওয়াটাই সঠিক সিদ্ধান্ত। কংগ্রেস সদস্য ডন বেকন বলেন, “ইরান দীর্ঘদিন ধরে আমেরিকানদের লক্ষ্যবস্তু করেছে, আতুলাহ ও তার সহযোগীদের এই পরিণতি প্রাপ্য ছিল।” গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই মার্কিন-ইসরায়েল ও ইরান যুদ্ধে এ পর্যন্ত ইরানে অন্তত ২,০০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যাদের বড় একটি অংশ বেসামরিক নাগরিক। হামলার শিকার হয়েছে ইরানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, আবাসিক ভবন ও চিকিৎসাকেন্দ্র। এমনকি একটি বালিকা বিদ্যালয়ে টমাহক মিসাইল হামলায় ১৭০ জন শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার তদন্ত প্রতিবেদনও সামনে এসেছে। তবে আন্তর্জাতিক মহলের এই উদ্বেগকে তোয়াক্কা করছেন না ট্রাম্প। সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, “ইরানের মানুষ নিজেরাই চায় তাদের দেশে বোমা পড়ুক, যাতে তারা মুক্তি পায়।” বেসামরিক স্থাপনায় হামলার হুমকি যুদ্ধাপরাধ কি না—এমন প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, তিনি পারমাণবিক অস্ত্র ঠেকাতেই এই কঠোর অবস্থান নিচ্ছেন। উল্লেখ্য, পাকিস্তান, তুরস্ক ও মিশর বর্তমানে ৪৫ দিনের একটি যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব নিয়ে কাজ করছে, যদিও ইরান এখনো এতে চূড়ান্ত সম্মতি দেয়নি। এ পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের এমন আগ্রাসী মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের সংকটকে আরও ঘনীভূত করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ এপ্রিল ৬, ২০২৬ ১৪:০ 0
সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। ফাইল ছবি: রয়টার্স
ট্রাম্পের ইরান হুঁশিয়ারি বিপজ্জনক ও মানসিক ভারসাম্যহীন: বার্নি স্যান্ডার্স

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ইরান হুঁশিয়ারিকে কেন্দ্র করে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জ্যেষ্ঠ সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ট্রাম্পের পোস্টগুলোকে তিনি ‘বিপজ্জনক এবং মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন ব্যক্তির মতো প্রলাপ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।   স্যান্ডার্স এক্স-এ (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, “ইরানে যুদ্ধ শুরু হওয়ার এক মাস পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে এ ধরনের বিবৃতি আসছে!”   তিনি মার্কিন কংগ্রেসের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে এই সংকটময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। “কংগ্রেসকে এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে। এই যুদ্ধ বন্ধ করুন,” মন্তব্য করেছেন তিনি।   বার্নি স্যান্ডার্সের মন্তব্যটি ট্রাম্পের হরমুজ প্রণালী সংক্রান্ত হুঁশিয়ারি এবং সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এসেছে।

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ৫, ২০২৬ ১৪:০ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

Top week

ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

গ্রিন কার্ড পাওয়া আরো কঠিন হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে নিজ দেশে গিয়ে আবেদন করতে হবে অভিবাসীদের

ইসতিয়াক আহমেদ মে ২২, ২০২৬ ১৪:০ 0