দেশের জনগণের শান্তি–নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও সক্ষমতা নিয়ে দায়িত্ব পালনের জন্য পুলিশ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই পুলিশের প্রধান দায়িত্ব এবং এ দায়িত্ব পালনে পেশাদারি ও মানবিক আচরণ নিশ্চিত করতে হবে। রোববার সকালে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনস মাঠে ‘পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তারেক রহমান বলেন, “দেশের জনগণের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের ভূমিকার ওপরই সবচেয়ে বেশি নির্ভরশীল। আপনারা জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাধ্য ও সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে কাজ করবেন। এটাই আপনাদের কাছে সরকারের প্রত্যাশা।” পুলিশ সদস্যদের নতুন শপথে অঙ্গীকারবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “শুধু স্মরণের মধ্য দিয়েই আপনাদের-আমাদের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের জন্য যেসব শহীদ পুলিশ ভাইয়েরা আত্মত্যাগ করেছিলেন, যেকোনো মূল্যে সেই স্বাধীনতা রক্ষা করা আমাদের পবিত্র দায়িত্ব।” তিনি আরও বলেন, “এই বাংলাদেশে আর কোনো ফ্যাসিবাদ-স্বৈরাচার যেন পুলিশ সদস্যদের দেশ ও জনগণের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে না পারে। স্বাধীনতার প্রথম প্রহরেই পুলিশের রক্তে রঞ্জিত এই মাটিতে দাঁড়িয়ে আসুন, আজ আমরা আবারও নতুন শপথে অঙ্গীকারবদ্ধ হই।” প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে চলা ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেছে বর্তমান সরকারের মাধ্যমে। তিনি বলেন, বছরের পর বছর ধরে নির্যাতন, নিপীড়ন ও অধিকারহীনতার শিকার মানুষ এখন শান্তি ও নিরাপত্তা চায়। মুক্তিযুদ্ধে শহীদ পুলিশ সদস্যদের স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, “এই সেই ঐতিহাসিক রাজারবাগ পুলিশ লাইনস, যেখানে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে হানাদার বাহিনী অপারেশন সার্চলাইটের নামে বর্বর হামলা চালিয়ে শত শত ঘুমন্ত পুলিশ সদস্যকে হত্যা করেছিল। আমি আজকের অনুষ্ঠানে প্রথমেই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে শহীদ সব পুলিশ সদস্যকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি।” ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালনের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই নির্বাচন প্রমাণ করেছে, বাংলাদেশ পুলিশ দক্ষতা ও পেশাদারির সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম।” জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও মানবাধিকার সুরক্ষায় বাংলাদেশের পুলিশ সদস্যরা সাহসিকতা ও মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। নারী পুলিশ সদস্যদের ভূমিকাও আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “উত্তাল মার্চে যখন স্বাধীনতাকামী মানুষের মনে টান টান উত্তেজনা বিরাজ করছিল এবং পশ্চিম পাকিস্তান থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার সৈন্য ঢাকায় আনা হচ্ছিল, তখন সব পুলিশ সদস্যকে রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে একসঙ্গে জড়ো করে রাখার পেছনে তৎকালীন রাজনৈতিক নেতৃত্বের কী কৌশল বা যুক্তি ছিল, তা এখনো গবেষণার বিষয় হতে পারে।” বক্তব্যের শেষে প্যারেডে অংশ নেওয়া পুলিশ ও র্যাব সদস্যদের অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে ‘পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬’-এর সার্বিক সাফল্য কামনা করেন তিনি। এর আগে সকালে ‘আমার পুলিশ, আমার দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬-এর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
পুলিশ সদস্যদের মধ্যে অসন্তোষের প্রেক্ষাপটে আবারও পুলিশের ইউনিফর্ম পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নতুন রঙ নির্ধারণ করে ‘পুলিশ ড্রেস রুলস-২০২৫’ সংশোধনের জন্য ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। পুলিশ সদর দপ্তরের লজিস্টিক বিভাগের ডিআইজি সারোয়ার মুর্শেদ শামীম জানান, ইউনিফর্ম পরিবর্তনে সরকারের অতিরিক্ত কোনো আর্থিক ব্যয় হবে না। নিয়ম অনুযায়ী পুলিশ সদস্যদের বাৎসরিক প্রাপ্যতার ভিত্তিতে ইউনিফর্ম সরবরাহ করা হয়। নতুন প্রজ্ঞাপন জারি হলে পরবর্তী সরবরাহ থেকেই নতুন রঙের পোশাক দেওয়া হবে। প্রস্তাব অনুযায়ী, মেট্রোপলিটন পুলিশের শার্টের রং হবে লাইট অলিভ এবং জেলা ও অন্যান্য ইউনিটের শার্ট হবে ডিপ ব্লু। সব ইউনিটের প্যান্টের রং রাখা হচ্ছে খাকি। তবে এ পরিবর্তনের বাইরে থাকবে এপিবিএন, এসপিবিএন, স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি), সিআইডি এবং র্যাব। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান ‘লৌহ’ রঙের শার্ট ও ‘কফি’ রঙের প্যান্ট চালুর পর থেকেই মাঠ পর্যায়ের সদস্যদের মধ্যে অস্বস্তি ও বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রল ও ব্যঙ্গের শিকার হওয়ায় অনেক সদস্য পেশাগতভাবে হীনম্মন্যতায় ভুগছিলেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে অতিরিক্ত ডিআইজি মো. সারোয়ার জাহান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে সংশ্লিষ্ট বিধিমালা সংশোধনের অনুরোধ জানানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি হলে দ্রুত সময়ের মধ্যেই নতুন ইউনিফর্ম চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, বর্তমান পোশাকের সঙ্গে অন্যান্য সংস্থার ইউনিফর্মের মিল থাকায় সাধারণ মানুষের কাছে পুলিশকে আলাদা করে চিহ্নিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে। তাদের মতে, ২০০৩-২০০৪ সালে চালু থাকা খাকি ও নীল রঙের ইউনিফর্ম দেশের আবহাওয়া ও জনগণের সঙ্গে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। এ ছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে পুলিশ সদস্যদের মতামত যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে। নতুন এই উদ্যোগের মাধ্যমে সেই ঘাটতি কাটিয়ে ঐতিহ্য ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে বড় ধরনের জনবল নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে পুলিশে চার হাজার সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) পদ সৃজনের প্রস্তাব নিয়ে বৈঠক ডেকেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ বিষয়ে একটি পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। রোববার (৮ মার্চ) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত একটি নোটিশ জারি করেছে। নোটিশে বলা হয়েছে, পুলিশ অধিদপ্তর থেকে প্রাপ্ত প্রস্তাব অনুযায়ী বাংলাদেশ পুলিশের সাংগঠনিক কাঠামোভুক্ত বিভিন্ন ইউনিটে চার হাজার এসআই (গ্রেড-১০) (নিরস্ত্র) পদ সৃজনের বিষয়টি সভায় আলোচনা করা হবে। সকাল ১০টায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে (ভবন নম্বর-৮, কক্ষ নম্বর-২০৮, তৃতীয় তলা) সভাটি অনুষ্ঠিত হবে এবং এতে সভাপতিত্ব করবেন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব। এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ে জনবল সংকটের বিষয়টি সামনে আনেন সালাহউদ্দিন আহমদ। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি অধীনস্থ বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি দ্রুত শূন্য পদ পূরণের তাগিদ দেন। ওই বৈঠক শেষে তিনি জানান, পুলিশের সব স্তরেই জনবলের ঘাটতি রয়েছে। এর প্রেক্ষিতে আপাতত ২ হাজার ৭০১টি কনস্টেবলের শূন্য পদ জরুরি ভিত্তিতে পূরণের নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি গত ২৬ ফেব্রুয়ারি পুলিশ সার্জেন্টের ১৮০টি শূন্য পদেও দ্রুত নিয়োগের ঘোষণা দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
ডিএমপি সদর দপ্তর: সাধারণ মানুষের বিচারিক ভোগান্তি কমাতে এবং আইনি সেবা আরও গতিশীল করতে দেশের প্রতিটি থানায় জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ পুলিশ। সোমবার সকালে ডিএমপির সেন্ট্রাল কমান্ড সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নবনিযুক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির এই যুগান্তকারী উদ্যোগের কথা জানান। তিনি বলেন, এই ব্যবস্থা কার্যকর হলে জমি দখল, মারামারি এবং মাদকের মতো মামলাগুলোর দ্রুত সমাধান সম্ভব হবে, যা বিচারপ্রার্থীদের দীর্ঘসূত্রতা থেকে মুক্তি দেবে। আইজিপি তাঁর বক্তব্যে একটি জনবান্ধব ও প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশ বাহিনী গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি ঘোষণা দেন যে, প্রতিটি জেলার সদর থানাকে ‘জিরো কমপ্লেইন’ থানায় রূপান্তর করা হবে, যেখানে নাগরিকরা কোনো হয়রানি ছাড়াই নির্বিঘ্নে সেবা নিতে পারবেন। পুলিশের ‘রিঅ্যাকশন টাইম’ বা সাড়া দেওয়ার সময় কমিয়ে আনার পাশাপাশি পুলিশি সেবাকে এমন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি, যাতে সাধারণ মানুষ হাসিমুখে থানা থেকে ফিরতে পারে। অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে আইজিপি বলেন, চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে যেকোনো অপরাধীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা এবং গণধর্ষণের মতো ঘৃণ্য অপরাধের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। সিআইডি-কে আরও আধুনিকায়ন করে তদন্তের গুণগত মান বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন পুলিশ প্রধান। আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর নিয়ে পুলিশের বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন মো. আলী হোসেন ফকির। মহাসড়কে ডাকাতি ও চাঁদাবাজি রোধে হাইওয়ে পুলিশের পাশাপাশি জেলা পুলিশ ও র্যাব সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করবে। এছাড়া পোশাক শিল্পে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা নিয়ে যাতে কোনো অসন্তোষ তৈরি না হয়, সেজন্য মালিকপক্ষ ও শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় শুরু করেছে পুলিশ। ঈদ মৌসুমে উগ্র মৌলবাদের উত্থান ঠেকাতে কঠোর নজরদারির পাশাপাশি একটি দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক পুলিশি ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে জনগণের সুচিন্তিত মতামত ও সহযোগিতাও কামনা করেন নবনিযুক্ত আইজিপি।
বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) পদমর্যাদার ৫৩ জন কর্মকর্তাকে বিভিন্ন স্থানে বদলি করা হয়েছে। রোববার (৮ মার্চ) এ সংক্রান্ত পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপন জারি করে বাংলাদেশ পুলিশ। প্রজ্ঞাপন দুটিতে স্বাক্ষর করেন মো. আলী হোসেন ফকির, যিনি বর্তমানে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রথম প্রজ্ঞাপনে ৪০ জন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে নতুন কর্মস্থলে বদলি করা হয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়, সহকারী পুলিশ সুপার থেকে পদোন্নতিপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদমর্যাদার এসব কর্মকর্তাকে জনস্বার্থে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাদের নামের পাশে উল্লেখিত পদে দায়িত্ব পালন করতে হবে। অন্য একটি প্রজ্ঞাপনে আরও ১৩ জন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে দেশের বিভিন্ন জেলার সার্কেলে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ পুলিশের অধিকাংশ সদস্য আগের গাঢ় নীল রঙের (নেভি ব্লু শার্ট-প্যান্ট) পোশাকে ফিরতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মতামত দেওয়া সদস্যদের মধ্যে ১ লাখ ৪ হাজার ৯১৩ জন আগের পোশাকের পক্ষে মত দিয়েছেন। অন্যদিকে বর্তমানে ব্যবহৃত লৌহ (আয়রন) রঙের শার্ট ও কফি (শেল) রঙের প্যান্টের পক্ষে মত দিয়েছেন মাত্র ৯১১ জন সদস্য। বুধবার (৪ মার্চ) পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, বাংলাদেশ পুলিশে বর্তমানে প্রায় ২ লাখ ১২ হাজার সদস্য কর্মরত আছেন। গত সোম ও মঙ্গলবার দেশের ৬৪ জেলায় পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে কল্যাণ প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলা পুলিশ, রেঞ্জ পুলিশ ও পুলিশ সদর দপ্তরের সদস্যসহ মোট ১ লাখ ৮ হাজার ৬৪১ জন পুলিশ সদস্য অংশ নেন। প্যারেডে অংশ নেওয়া সদস্যদের কাছে লিখিত ফর্মের মাধ্যমে পোশাক নিয়ে মতামত চাওয়া হয়। সেই মতামতের হিসাব অনুযায়ী দেখা গেছে, প্রায় ৯৬ দশমিক ৫৭ শতাংশ সদস্য আগের নেভি ব্লু শার্ট-প্যান্ট এবং মহানগর এলাকায় সবুজ শার্ট ও গাঢ় রঙের প্যান্টের পক্ষে মত দিয়েছেন। অন্যদিকে ২ হাজার ৮১৭ জন সদস্য ভিন্ন রঙের পোশাক চান, যা মোট মতামতের প্রায় ২ দশমিক ৫৯ শতাংশ। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করার পর পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের বিষয়টি আবার আলোচনায় আসে। এদিন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) সদর দপ্তরে পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের বিষয়ে পুলিশ বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে তিনি পাল্টা প্রশ্ন রেখে জানতে চান, পোশাক পরিবর্তন করলে পুলিশের মানসিকতার পরিবর্তন হবে কি না। এর আগে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন এক বিবৃতিতে জানায়, ২০০৪ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি প্রজ্ঞাপন এবং ১০ ফেব্রুয়ারি গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে দীর্ঘ যাচাই-বাছাই শেষে তৎকালীন সরকার পুলিশের আগের পোশাক নির্ধারণ করেছিল। তখন আবহাওয়া, দায়িত্ব পালনের সুবিধা, দৃশ্যমানতা এবং অন্যান্য বাহিনীর পোশাকের সঙ্গে সাদৃশ্য না থাকার বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হয়েছিল। বিবৃতিতে আরও অভিযোগ করা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের নির্ধারিত নতুন পোশাক নির্বাচন করার সময় পুলিশ সদস্যদের মতামত, আবহাওয়া ও অন্যান্য বাস্তবতা যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি। ফলে মাঠপর্যায়ে অন্যান্য ইউনিফর্মধারী বাহিনীর সঙ্গে পোশাকের সাদৃশ্য তৈরি হয়েছে, যা অনেক ক্ষেত্রে পুলিশ সদস্যদের চিহ্নিত করতে সমস্যা তৈরি করছে। এ কারণে পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
বাংলাদেশ পুলিশের উচ্চপর্যায়ের তিন কর্মকর্তা নতুন কর্মস্থলে বদলি করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের প্রজ্ঞাপনে এই রদবদলের তথ্য জানা গেছে। রাষ্ট্রপতির আদেশে প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব তৌফিক আহমেদ। প্রজ্ঞাপনের অনুযায়ী, বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি মো. মঞ্জুর মোর্শেদ আলমকে টুরিস্ট পুলিশের দায়িত্বে বদলি করা হয়েছে। তার স্থলে পুলিশ অধিদপ্তরের ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমানকে বরিশাল রেঞ্জের নতুন ডিআইজি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, ৫ এপিবিএনের অধিনায়ক (অতিরিক্ত ডিআইজি) মোহাম্মদ হারুন-অর-রশিদকে রাজশাহীর বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি (বিপিএ), সারদায় বদলি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, জনস্বার্থে এই রদবদল অবিলম্বে কার্যকর হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।