আমেরিকা

৭৫ দেশের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা পজ: সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে যা বললেন অ্যাটর্নি মইন চৌধুরী

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৭, ২০২৬ ১৫:১৭
ইমিগ্রেশন অ্যাটর্নি মোহন চৌধুরী । ছবি: সংগৃহীত
ইমিগ্রেশন অ্যাটর্নি মোহন চৌধুরী । ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার ছয় মাসের বেশি সময় পরও আবেদনকারীদের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগ রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে বিভিন্ন দাবি ও ব্যাখ্যা ছড়িয়ে পড়ার মধ্যে আবেদনকারীদের সরকারি নির্দেশনা ও নির্ভরযোগ্য তথ্য যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ইমিগ্রেশন অ্যাটর্নি মইন চৌধুরী।

 

যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করে। মূলত আবেদনকারী ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন কি না, অর্থাৎ পাবলিক চার্জ সংক্রান্ত যাচাই পদ্ধতি পুনর্মূল্যায়নের অংশ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

 

এই পজ নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এটি সব ধরনের মার্কিন ভিসার ওপর নিষেধাজ্ঞা নয়। স্টেট ডিপার্টমেন্টের নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যবস্থা মূলত ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যুর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ট্যুরিস্ট, স্টুডেন্টসহ সাধারণ নন ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এই নির্দিষ্ট পজের আওতায় পড়ে না।

 

পজের আওতাভুক্ত দেশের আবেদনকারীদের ইমিগ্র্যান্ট ভিসার আবেদন জমা দেওয়া বা নির্ধারিত কনস্যুলার ইন্টারভিউতে অংশ নেওয়া বন্ধ হয়নি। ইন্টারভিউ নির্ধারণও চলতে পারে। তবে পজের আওতায় থাকা আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে ভিসা ইস্যু স্থগিত রয়েছে। তালিকার বাইরে থাকা দেশের বৈধ পাসপোর্ট ব্যবহার করে আবেদনকারী ডুয়াল ন্যাশনালদের জন্যও ব্যতিক্রম রয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট এক্সসেপশন প্রযোজ্য হতে পারে।

 

এমন পরিস্থিতিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অসমর্থিত তথ্যের বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন অ্যাটর্নি মইন চৌধুরী।

 

তিনি বলেন, “সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই অনুমানের ভিত্তিতে বিভিন্ন তথ্য দিয়ে থাকেন। বাস্তবে সেগুলো অনেক সময় শুধুই অনুমান। এসব তথ্যের ওপর ভিত্তি করে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ বা পরিকল্পনা করবেন না।”

 

তার মতে, ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত নীতি ও আইনি পরিস্থিতি পরিবর্তনশীল হওয়ায় আবেদনকারীদের সর্বশেষ সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করা জরুরি। কোনো আদালতের আদেশ বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে খবর প্রকাশিত হলে সেটি কাদের ক্ষেত্রে এবং কতটা প্রযোজ্য, তা যাচাই না করে নিজের মামলার ক্ষেত্রেও একই সুবিধা পাওয়া যাবে বলে ধরে নেওয়া উচিত নয়।

 

ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইন্টারভিউয়ের প্রস্তুতির ক্ষেত্রেও আবেদনকারীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন মইন চৌধুরী। তার ভাষ্য, আবেদনকারীর নিজের কেস, পারিবারিক ও আর্থিক পরিস্থিতি এবং জমা দেওয়া নথিপত্র সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা প্রয়োজন। কনস্যুলার কর্মকর্তার প্রশ্নের উত্তরও সঠিক ও সত্য তথ্যের ভিত্তিতে দিতে হবে।

 

তিনি বলেন, “আইন জানুন, আইন মানুন। কোনো ইউএস এম্বাসিতে কখনো মিথ্যা তথ্য দেবেন না এবং মিথ্যা বা জাল ডকুমেন্ট জমা দেবেন না।”

 

স্টেট ডিপার্টমেন্টের নির্দেশনা অনুযায়ী, ৭৫ দেশের এই পজের কারণে আগে ইস্যু করা বৈধ ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়নি। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে থাকা ব্যক্তিদের গ্রিন কার্ডের জন্য অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস প্রক্রিয়াও এই নির্দিষ্ট স্টেট ডিপার্টমেন্টের কনস্যুলার ভিসা পজের আওতায় পড়ে না।

 

বাংলাদেশ এই ৭৫ দেশের তালিকায় থাকায় বাংলাদেশে অবস্থানরত পরিবারভিত্তিক ও অন্যান্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা আবেদনকারীদের ওপর সিদ্ধান্তটির সরাসরি প্রভাব পড়ছে। তবে প্রত্যেক আবেদনকারীর পরিস্থিতি ও ভিসা ক্যাটাগরি আলাদা হতে পারে। এ কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট বা অন্য কারও অভিজ্ঞতাকে নিজের মামলার চূড়ান্ত নির্দেশনা হিসেবে না নিয়ে স্টেট ডিপার্টমেন্টের সর্বশেষ সরকারি তথ্য এবং প্রয়োজন হলে যোগ্য ইমিগ্রেশন আইনজীবীর পরামর্শ অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছেন অ্যাটর্নি মইন চৌধুরী।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Advertisement

আমেরিকা

View more
বয়স্ক দম্পতি। ছবি: সংগৃহীত
এক সময় অবসরের স্বর্গ, এখন ব্যয়ের চাপে ফ্লোরিডা ছাড়ছেন অবসরপ্রাপ্তদের একাংশ

যুক্তরাষ্ট্রে অবসরজীবনের জন্য দীর্ঘদিন ধরে সবচেয়ে জনপ্রিয় গন্তব্যগুলোর একটি ফ্লোরিডা। উষ্ণ আবহাওয়া, সমুদ্রসৈকত, অঙ্গরাজ্যের আয়কর না থাকা এবং একসময় তুলনামূলক কম খরচে বাড়ি কেনার সুযোগের কারণে উত্তর ও মধ্য-পশ্চিমাঞ্চল থেকে বহু আমেরিকান অবসরের পর সানশাইন স্টেট হিসেবে পরিচিত ফ্লোরিডায় চলে আসতেন। কিন্তু সেই পুরোনো হিসাব এখন বদলে যাচ্ছে। বাড়ির দাম, বাড়ির বীমা, কনডোর মাসিক ফি এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় অবসরপ্রাপ্তদের একটি অংশ ফ্লোরিডা ছেড়ে তুলনামূলক কম ব্যয়ের অঙ্গরাজ্যে চলে যাচ্ছেন।   এই পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় উদাহরণ মায়ামি। যুক্তরাষ্ট্রের ব্যুরো অব ইকোনমিক অ্যানালাইসিস বা বিইএর সর্বশেষ আঞ্চলিক মূল্যস্তরের তথ্য অনুযায়ী, মায়ামি মহানগর এলাকা এখন দেশের সবচেয়ে ব্যয়বহুল এলাকাগুলোর একটি। সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, সামগ্রিক মূল্যস্তরের হিসাবে মায়ামি নিউইয়র্ক মহানগর এলাকাকেও ছাড়িয়ে গেছে এবং সান ফ্রান্সিসকোর পর দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যয়ের মহানগর এলাকায় উঠে এসেছে।   ২৭ জুলাই প্রকাশিত দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন সাশ্রয়ী অবসরজীবনের গন্তব্য হিসেবে পরিচিত মায়ামির কিছু এলাকায় এখন জীবনযাত্রার ব্যয় নিউইয়র্কের চেয়েও বেশি।   যুক্তরাষ্ট্রের ব্যুরো অব ইকোনমিক অ্যানালাইসিস দেশের বিভিন্ন অঞ্চল ও মহানগর এলাকায় পণ্য, সেবা ও আবাসনসহ সামগ্রিক মূল্যস্তরের পার্থক্য পরিমাপ করে। সর্বশেষ ২০২৪ সালের তথ্য ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশ করা হয়েছে।   ফ্লোরিডার পুরো চিত্র অবশ্য মায়ামির মতো নয়। অঙ্গরাজ্যের অনেক শহর ও ছোট এলাকায় এখনো দক্ষিণ ফ্লোরিডার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম খরচে বসবাস করা সম্ভব। কিন্তু অবসরপ্রাপ্তদের কাছে সবচেয়ে পরিচিত কিছু উপকূলীয় এলাকায় খরচ বৃদ্ধির প্রভাব অনেক বেশি।   সবচেয়ে বড় চাপগুলোর একটি বাড়ির ইন্সুরেন্স। হারিকেন, বন্যা ও অন্যান্য দুর্যোগের ঝুঁকি, বাড়ি পুনর্নির্মাণের ব্যয় এবং ফ্লোরিডার বীমা বাজারের দীর্ঘদিনের অস্থিরতা বাড়ির মালিকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করেছে। বিশেষ করে নির্দিষ্ট মাসিক আয় বা অবসরকালীন সঞ্চয়ের ওপর নির্ভরশীল মানুষের জন্য কয়েক হাজার ডলারের অতিরিক্ত বার্ষিক ব্যয় পুরো অবসরকালীন বাজেট বদলে দিতে পারে।   বাড়ির ঋণ পুরোপুরি পরিশোধ হয়ে গেলেও সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। বাড়ির বীমা, সম্পত্তি কর, বাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ, গাড়ির বীমা এবং অন্যান্য খরচ অব্যাহত থাকে।   কনডো মালিকদের জন্য পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। ২০২১ সালে মায়ামি এলাকার সার্ফসাইডে চ্যামপ্লেইন টাওয়ার্স সাউথ ধসে ৯৮ জন নিহত হওয়ার পর ফ্লোরিডা পুরোনো কনডো ভবনের নিরাপত্তা ও আর্থিক রিজার্ভ নিয়ে কঠোর আইন করে। ভবনের প্রয়োজনীয় মেরামতের অর্থ আগে থেকেই সংরক্ষণ করার নিয়ম অনেক কনডো অ্যাসোসিয়েশনের জন্য বড় অঙ্কের অর্থ সংগ্রহের প্রয়োজন তৈরি করেছে।   ফলে কিছু কনডো মালিকের মাসিক বা বার্ষিক অ্যাসোসিয়েশন ফি বেড়েছে। কোথাও আবার ভবনের বড় ধরনের সংস্কার ও মেরামতের জন্য মালিকদের কাছ থেকে বিশেষ অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হচ্ছে। বহু বছর আগে কম দামে কনডো কিনে অবসর নেওয়া মানুষের জন্য এই অতিরিক্ত ব্যয় নতুন আর্থিক চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।   ফ্লোরিডা থেকে ‘হাফব্যাক’ স্থানান্তর - ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরেকটি আলোচিত প্রবণতা, যাকে বলা হচ্ছে ‘হাফব্যাক’ স্থানান্তর।   দীর্ঘদিনের একটি পরিচিত প্রবণতা ছিল নিউইয়র্ক, নিউ জার্সি, পেনসিলভানিয়া বা মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলের ঠান্ডা অঙ্গরাজ্য থেকে অবসরের পর সরাসরি ফ্লোরিডায় চলে আসা।   এখন তাদের একটি অংশ আবার পুরোপুরি উত্তরে ফিরে না গিয়ে মাঝামাঝি কোনো অঙ্গরাজ্যে চলে যাচ্ছেন। এ কারণেই এই প্রবণতাকে ‘হাফব্যাক’ বলা হচ্ছে।   সাম্প্রতিক রিয়েলটর ডটকমের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই প্রবণতায় নর্থ ক্যারোলাইনা, সাউথ ক্যারোলাইনা, জর্জিয়া ও টেনেসি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে।   এসব অঙ্গরাজ্যের অনেক এলাকায় ফ্লোরিডার তুলনায় বাড়ির দাম ও জীবনযাত্রার ব্যয় কম। একই সঙ্গে তুলনামূলক উষ্ণ আবহাওয়া পাওয়া যায় এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলে থাকা পরিবারের সদস্যদের কাছেও যাতায়াত সহজ।   ফলে একজন অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি ফ্লোরিডার জীবনযাত্রার কিছু সুবিধা ছেড়ে দিলেও তার বিনিময়ে মাসিক ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর সুযোগ পেতে পারেন।   তবে ‘অবসরপ্রাপ্তরা ফ্লোরিডা থেকে পালাচ্ছেন’ এমনভাবে বিষয়টি উপস্থাপন করাও পুরো চিত্র তুলে ধরে না। ফ্লোরিডা এখনো বিপুলসংখ্যক নতুন বাসিন্দাকে আকর্ষণ করছে এবং দেশটির অন্যতম বড় অবসরপ্রাপ্ত জনগোষ্ঠীর আবাসস্থল।   বরং পরিবর্তনটি হচ্ছে অবসরের গন্তব্য নির্বাচনের হিসাবের মধ্যে। একসময় শুধু উষ্ণ আবহাওয়া, সস্তা বাড়ি এবং অঙ্গরাজ্যের আয়কর না থাকার কারণে ফ্লোরিডা অনেকের কাছে প্রায় স্বাভাবিক পছন্দ ছিল। এখন সেখানে যাওয়ার আগে বাড়ির বীমা, কনডো ফি, সম্পত্তি কর, গাড়ির বীমা এবং সামগ্রিক জীবনযাত্রার ব্যয়ও হিসাব করতে হচ্ছে।   ফ্লোরিডার একটি বড় আর্থিক সুবিধা অবশ্য এখনো রয়েছে। এখানে ব্যক্তিগত অঙ্গরাজ্য আয়কর নেই। ফলে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধা, পেনশন, ব্যক্তিগত অবসর হিসাব বা অন্যান্য অবসরকালীন আয়ের ওপর ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের আয়কর দিতে হয় না।   অবসরপ্রাপ্তদের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা। কিন্তু অঙ্গরাজ্যের আয়করে যে অর্থ সাশ্রয় হচ্ছে, বাড়ি ও বীমার বাড়তি খরচ সেই সুবিধার কতটা কমিয়ে দিচ্ছে, সেটি এখন ব্যক্তিভেদে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।   বিশেষ করে মায়ামির মতো এলাকায় শুধু কর বিবেচনা করে অবসরের গন্তব্য নির্বাচন করলে প্রকৃত খরচের পুরো চিত্র পাওয়া যায় না।   ফ্লোরিডার আকর্ষণ কি তাহলে শেষ? এখনই এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।অঙ্গরাজ্যটির আবহাওয়া, সমুদ্রসৈকত, বড় অবসরপ্রাপ্ত জনগোষ্ঠী, স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা এবং অঙ্গরাজ্যের আয়কর না থাকার কারণে ফ্লোরিডা ভবিষ্যতেও বহু মানুষের পছন্দের অবসরকালীন গন্তব্য থাকবে।   একই সঙ্গে ফ্লোরিডার ভেতরেও জীবনযাত্রার ব্যয়ে বিশাল পার্থক্য রয়েছে। মায়ামি বা দক্ষিণ ফ্লোরিডার ব্যয় দিয়ে পুরো অঙ্গরাজ্যের অবস্থা বিচার করা যাবে না। তুলনামূলক সাশ্রয়ী শহর ও ছোট জনপদ এখনো রয়েছে।   তারপরও একটি পরিবর্তন স্পষ্ট। বহু আমেরিকানের কাছে ‘অবসর মানেই ফ্লোরিডা’ এই দীর্ঘদিনের ধারণা এখন আর আগের মতো সরল নয়।   বিশেষ করে নির্দিষ্ট মাসিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল অবসরপ্রাপ্তদের জন্য প্রশ্নটি এখন শুধু কোথায় রোদ, সমুদ্র আর উষ্ণ আবহাওয়া পাওয়া যাবে তা নয়। বরং ১০ বা ২০ বছর পরও সেই জায়গায় বাড়ি, বীমা এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয় বহন করা সম্ভব হবে কি না, সেটিই হয়ে উঠছে অবসর পরিকল্পনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হিসাব।

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: জুলাই ২৭, ২০২৬ ১৬:৪১
ডে'জন হেইস-বার। ছবি;সংগৃহীত

যে কিশোর বাঁচিয়েছিল এক শিশুর প্রাণ, কয়েক মাস পরই গুলিতে ঝরে গেল তার জীবন

ইমিগ্রেশন অ্যাটর্নি মোহন চৌধুরী । ছবি: সংগৃহীত

৭৫ দেশের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা পজ: সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে যা বললেন অ্যাটর্নি মইন চৌধুরী

এরিক বিয়েনিমি এবং তার স্ত্রী মিয়া বিয়েনিমি। ছবি:সংগৃহীত

কানসাস চিফসের সাবেক কোচের স্ত্রী গুলিবিদ্ধ, ভার্জিনিয়ায় হামলার ঘটনায় তদন্ত শুরু

প্রতীকী ছবি:সংগৃহীত
গুগল ম্যাপস থেকে উধাও আইস ডিটেনশন সেন্টারের হাজারো রিভিউ, গবেষণায় উঠল তথ্য গোপনের প্রশ্ন

যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইস পরিচালিত ডিটেনশন সেন্টারগুলো নিয়ে গুগল ম্যাপসে থাকা হাজারো রিভিউ আর দেখা যাচ্ছে না। একই সঙ্গে দেশের অধিকাংশ আইস ডিটেনশন সেন্টারে নতুন রিভিউ দেওয়ার ব্যবস্থাও বন্ধ করে দিয়েছে গুগল। তুলেন ইউনিভার্সিটির এক গবেষকের অনুসন্ধানে এ তথ্য উঠে আসার পর প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটির কনটেন্ট মডারেশন নীতি এবং ডিটেনশন সেন্টারের ভেতরের অভিজ্ঞতা জনসমক্ষে প্রকাশের সুযোগ নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।   তুলেন ইউনিভার্সিটির কমিউনিকেশন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মুইরা ম্যাকক্যামনের গবেষণাটি ২০২৬ সালের জুনে একাডেমিক জার্নাল নিউ মিডিয়া এন্ড সোসাইটিতে প্রকাশিত হয়। গবেষণার অংশ হিসেবে তিনি আইস ডিটেনশন সেন্টারগুলোর গুগল রিভিউ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করেন।   ২০২৫ সালের আগস্টে ম্যাকক্যামন ২৬টি আইস ডিটেনশন সেন্টারের গুগল ম্যাপস পেজ থেকে মোট ১ হাজার ৬৩৬টি রিভিউ সংগ্রহ করেছিলেন। ওই সময় আরও ৯১টি ইমিগ্রেশন ডিটেনশন সেন্টারে রিভিউ দেওয়ার সুবিধা ইতোমধ্যে বন্ধ ছিল।   কিন্তু এক বছরেরও কম সময়ের ব্যবধানে পরিস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বদলে যায়। গবেষকের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি যে রিভিউগুলো সংরক্ষণ করেছিলেন, সেগুলোর প্রায় সবই এখন আর গুগল ম্যাপসে পাওয়া যাচ্ছে না। বর্তমানে মাত্র চারটি আইস স্থাপনায় রিভিউ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।   রিভিউগুলোর একটি অংশে ডিটেনশনে থাকা ব্যক্তি এবং তাদের স্বজনদের অভিজ্ঞতার বর্ণনা ছিল। সেখানে চিকিৎসাসেবা না পাওয়া, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, কর্মীদের আচরণ, অতিরিক্ত ঠান্ডা, ভাষাগত সমস্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগ উঠে এসেছিল। কিছু রিভিউ অবশ্য সরাসরি কোনো ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার পরিবর্তে আইস বা যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন নীতির বিরোধিতা করে লেখা হয়েছিল।   গবেষক ম্যাকক্যামনের মতে, বিষয়টি সাধারণ অনলাইন রেটিং বা রিভিউ হারিয়ে যাওয়ার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ। ডিটেনশন সেন্টারে থাকা মানুষের বাইরের জগতের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ সীমিত হওয়ায় গুগল ম্যাপসের মতো প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত এসব অভিজ্ঞতা অনেক ক্ষেত্রে সেখানকার পরিস্থিতি সম্পর্কে জনসাধারণকে জানার একটি মাধ্যম হয়ে উঠেছিল।   তবে গুগল বলছে, আইস বা ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির অনুরোধে এসব রিভিউ সরানো হয়নি। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এটি তাদের বিদ্যমান কনটেন্ট মডারেশন নীতির প্রয়োগ।   গুগল ২০২৩ সালে তাদের নীতিমালা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জানিয়েছিল, যেসব স্থানে মানুষ সাধারণত নিজের পছন্দে যায় না অথবা নির্দিষ্ট দায়িত্ব বা পরিস্থিতির কারণে যেতে হয়, সেখানে রিভিউ সীমিত করা হতে পারে। উদাহরণ হিসেবে কারাগার ও পুলিশ স্টেশনের কথা উল্লেখ করেছিল প্রতিষ্ঠানটি। গুগলের মতে, এ ধরনের স্থানের রিভিউ অনেক ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সহায়ক নয় এবং সেখানে অপ্রাসঙ্গিক বা ক্ষতিকর কনটেন্ট জমা হওয়ার ঝুঁকিও থাকে।   গুগলের মুখপাত্র জেনেভিভ পার্ক সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, রিভিউ মূলত মানুষকে কোথায় যাবেন সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করার জন্য তৈরি। যেসব স্থানে মানুষ নিজের ইচ্ছায় যায় না, এমন কয়েক ধরনের স্থানে গুগল রিভিউ প্রদর্শন করে না।   ফলে গুগল ট্রাম্প প্রশাসন বা আইস এর নির্দেশে নেতিবাচক রিভিউগুলো মুছে দিয়েছে, এমন দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং গুগল স্পষ্টভাবে বলেছে, সরকারি সংস্থার অনুরোধে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।   তবে ম্যাকক্যামন গুগলের নীতির প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তার গবেষণায় বলা হয়েছে, একটি বেসরকারি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের কনটেন্ট মডারেশন সিদ্ধান্তের কারণে কারাগার ও ডিটেনশন ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং ডিজিটাল রেকর্ড জনসাধারণের নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে।   বিষয়টি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন আইস ডিটেনশন সেন্টারের পরিস্থিতি নিয়ে আদালত, মানবাধিকার সংগঠন এবং আটক ব্যক্তিদের পরিবারের পক্ষ থেকে নানা অভিযোগ উঠছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে কয়েকটি ডিটেনশন সেন্টারে চিকিৎসাসেবা, খাবার এবং আটক শিশুদের পরিস্থিতি নিয়েও আইনি লড়াই হয়েছে। আইস ও ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভিন্ন সময়ে এসব অভিযোগের জবাবে জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসহ নির্ধারিত মান অনুযায়ী সেবা দেওয়া হচ্ছে।   গবেষণাটি এখন আরও বড় একটি প্রশ্ন সামনে এনেছে। কারাগার বা ইমিগ্রেশন ডিটেনশন সেন্টারের মতো জায়গায় সাধারণ গ্রাহক রিভিউ ব্যবস্থা উপযুক্ত কি না, সেটি একদিকে যেমন বিতর্কের বিষয়, অন্যদিকে সেখানে থাকা মানুষ ও তাদের পরিবারের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতের জন্য কোথায় এবং কীভাবে সংরক্ষিত থাকবে, সেই প্রশ্নও ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: জুলাই ২৭, ২০২৬ ১৪:২২
কার্লোস ড্যানিয়েল সুয়ারেজ-কন্ট্রেরাস অভিযুক্ত। ছবি;সংগৃহীত

ফ্লোরিডায় দোকানের সামনে বৃদ্ধা নারী নিহত, পরিবারের দাবি ‘অভিবাসীর’ বিরুদ্ধে কঠোর বিচার

অভিযোক্ত মা বাবা। ছবি : সংগৃহীত

নবজাতক উধাও, ‘মজা করছিলাম’ দাবি বাবা-মায়ের! গোপন প্রসবের পর শিশুকে ঘিরে রহস্য

গত চার মাসের মধ্যে এই কূটনৈতিক মিশনে দ্বিতীয়বার হামলার ঘটনা ঘটায় তদন্তে নেমেছে টরন্টো পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

টরন্টোর মার্কিন কনস্যুলেটের বাইরে গুলি বর্ষণ, তদন্তে কানাডীয় পুলিশ

তুরস্কের কাছে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির বিষয়ে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর আপত্তি নাকচ করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: কোলাজ - আমেরিকা বাংলা
তুরস্ককে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রিতে নেতানিয়াহুর আপত্তি উড়িয়ে দিলেন ট্রাম্প

তুরস্কের কাছে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির সম্ভাব্য সিদ্ধান্তে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর আপত্তি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র কী বিক্রি করবে, সে সিদ্ধান্ত অন্য কোনো দেশের নেতা নির্ধারণ করবেন না। একই সঙ্গে তুরস্ককে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হিসেবে উল্লেখ করেছেন।   সোমবার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কী বিক্রি করবে, তা তাঁকে কেউ বলে দিতে পারে না। তিনি তুরস্ককে একটি গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, সিরিয়াসহ আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয়ে দেশটি ভালো ভূমিকা পালন করেছে।   ট্রাম্প স্বীকার করেন, তুরস্ক ইসরায়েল বা বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ নয়। তবে এ বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে দুর্বল করেনি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।   এর আগে তুরস্কে অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলনে ট্রাম্প বলেছিলেন, তুরস্কের কাছে আবারও এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির বিষয়টি তিনি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবেন। সে সময় তিনি মন্তব্য করেন, তুরস্ক অনেক দেশের তুলনায় বেশি বিশ্বস্ত।   তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানও জানিয়েছেন, তুরস্কের কাছে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান সরবরাহের বিষয়ে ট্রাম্প ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন। এদিকে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, তুরস্কের কাছে যুদ্ধবিমান বিক্রির সম্ভাবনা নিয়ে নেতানিয়াহুর প্রকাশ্য সমালোচনায় ট্রাম্প অসন্তুষ্ট ছিলেন। তাঁর সর্বশেষ মন্তব্য সেই প্রতিবেদনগুলোকেই আরও জোরালো করেছে।   উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে রাশিয়ার এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার কারণে তুরস্ককে এফ-৩৫ কর্মসূচি থেকে বাদ দেয় যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের দাবি ছিল, ওই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তবে তুরস্ক বরাবরই এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে এসেছে এবং বলেছে, দুটি ব্যবস্থার মধ্যে কোনো সংঘাত নেই। পাশাপাশি আঙ্কারার দাবি, এফ-৩৫ কর্মসূচি থেকে তাদের বাদ দেওয়া নিয়মবহির্ভূত ছিল এবং এ যুদ্ধবিমান তুরস্কের পাশাপাশি ন্যাটোকেও আরও শক্তিশালী করবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৭, ২০২৬ ১৩:২৪
বিশেষ সুরক্ষাপ্রাপ্তি হারানো অভিবাসীদের লক্ষ্য করে চলতি সপ্তাহেই বড় অভিযান শুরু করতে পারে দেশটির শুল্ক এনফোর্সমেন্ট সংস্থা। ছবি: সংগৃহীত

সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর হাইতিয়ান অভিবাসীদের ধরতে বড় অভিযানের প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রের

নিজের বাড়িতেই পোষা রটওয়াইলার জাতের কুকুরের ভয়াবহ আক্রমণের শিকার হয়ে প্রাণ হারালেন নারী। ছবি: সংগৃহীত

ম্যাকডোনাল্ডসের খাবার খেয়ে কুকুরগুলোর আচরণে পরিবর্তন, শেষে কুকুরের হামলায় নারীর মৃত্যু

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের উদ্দেশ্যে ওয়াশিংটনের পথে রওনা হয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন নেতানিয়াহু

0 Comments