২৫ মার্চের ‘গণহত্যা দিবস’ উপলক্ষ্যে দেওয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দেওয়া এই বাণীতে তিনি ১৯৭১ সালের সেই ভয়াল কালরাতে পাকিস্তানি বাহিনীর ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর নৃশংসতার কথা স্মরণ করেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, ২৫ মার্চের গণহত্যায় পুরো জাতি যখন বাকরুদ্ধ ও স্তব্ধ হয়ে পড়েছিল, ঠিক সেই মুহূর্তে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে তৎকালীন মেজর জিয়ার স্বাধীনতার ঘোষণা বিভ্রান্ত ও দ্বিধাগ্রস্ত জাতিকে ঐক্যবদ্ধ এবং সশস্ত্র যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে উজ্জীবিত করেছিল। বাণীতে রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, রাজারবাগ পুলিশ লাইনস, তৎকালীন ইপিআর এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিরস্ত্র মানুষের ওপর চালানো সেই বর্বরোচিত হামলা প্রতিরোধে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের বিদ্রোহ ও সশস্ত্র প্রতিরোধ ছিল ঐতিহাসিক। দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর অর্জিত গৌরবের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শহীদদের স্বপ্ন ছিল একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ে তোলা। যেখানে দুর্নীতি, অন্যায় ও অবিচারের কোনো স্থান থাকবে না। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আরও বলেন, বহু বছর পর একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা পেয়েছে এবং দেশে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তিনি একটি মানবিক ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ বিনির্মাণে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। পরিশেষে তিনি ২৫ মার্চসহ মহান মুক্তিযুদ্ধে সকল শহীদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশবাসীসহ বিশ্বের সব মুসলমানকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ঈদ মোবারক জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার (২০ মার্চ) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বাণীতে তিনি এই উৎসবের মাধ্যমে জাতীয় ঐক্য, পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সহমর্মিতার বন্ধন আরও সুদৃঢ় হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে উল্লেখ করেন, মাসব্যাপী সিয়াম সাধনা ও সংযমের পর পবিত্র ঈদুল ফিতর আমাদের জীবনে আনন্দ, শান্তি ও ভ্রাতৃত্বের বার্তা নিয়ে আসে। রমজান মাস আমাদের আত্মশুদ্ধি, ত্যাগ ও অন্যের কষ্ট অনুভব করার যে শিক্ষা দেয়, তা ব্যক্তি, পরিবার ও রাষ্ট্রীয় জীবনে প্রতিফলিত করাই ঈদের প্রকৃত তাৎপর্য। তিনি ধনী-দরিদ্রের ভেদাভেদ ভুলে পারস্পরিক ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। তারেক রহমান আরও বলেন, ঈদের এই আনন্দের দিনে সমাজের অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সবার সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়াই হোক আমাদের অঙ্গীকার। তিনি ঈদের মহান আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে একটি মানবিক, উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান এবং দেশ ও জাতির শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।
ঢাকা থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় আজকের প্রধান সংবাদগুলোতে উঠে এসেছে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি, জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা, ওমরাহ যাত্রীদের দুর্ভোগ এবং দেশের রাজনৈতিক প্রস্তুতির নানা দিক। নিচে আজকের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি দৈনিক পত্রিকার প্রধান সংবাদ তুলে ধরা হলো- ‘তেল-গ্যাস নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়ছে জাহাজ’ — আজকের পত্রিকা খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরুর আগে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে আসা জ্বালানিবাহী ১০টি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়তে শুরু করেছে। এর মধ্যে সাতটি জাহাজ ইতোমধ্যে বন্দরের ভেতরে প্রবেশ করেছে। বাকি তিনটির একটি আজ সোমবার এবং দুটি আগামী বুধবার ও শনিবার বন্দরে পৌঁছাবে বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। এসব জাহাজে মোট সাড়ে চার লাখ টন এলপিজি, এলএনজি ও জ্বালানি তেল রয়েছে। বন্দর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জাহাজগুলো মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন বন্দর থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশে যুদ্ধ শুরুর আগেই রওনা হয়েছিল। ফলে সেগুলো কোনো বাধা ছাড়াই হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে পেরেছে। বর্তমানে জাহাজগুলো ধাপে ধাপে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাচ্ছে এবং সেখান থেকে পণ্য খালাসের কার্যক্রম চলছে। বন্দর সূত্র জানায়, ১০টি জাহাজের মধ্যে পাঁচটিতে রয়েছে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এবং তিনটিতে রয়েছে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি)। এই আটটি জাহাজে মোট সাড়ে তিন লাখ টন এলএনজি ও এলপিজি রয়েছে। বাকি দুটি জাহাজে প্রায় এক লাখ টন জ্বালানি তেল রয়েছে। 'পেট্রল-অকটেনের বড় অংশ দেশেই উৎপাদন' — কালের কণ্ঠ খবরে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধকে ঘিরে দেশে জ্বালানি তেলের সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলো বলছে, বর্তমানে দেশে জ্বালানি তেলের মজুদ ও সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতির অনিশ্চয়তা বিবেচনায় সরকার তেল ব্যবহারে রেশনিং ব্যবস্থা চালু রেখেছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দেশে জ্বালানি তেলের মজুদ ও সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে অতিরিক্ত চাহিদা তৈরি হওয়ায় সাময়িক চাপ দেখা দিয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেলে ব্যবহৃত পেট্রলের প্রায় পুরোটাই এবং অকটেনের বড় অংশ দেশেই উৎপাদিত হয়। বাংলাদেশের গ্যাসক্ষেত্র থেকে পাওয়া উপজাত কনডেনসেট প্রক্রিয়াজাত করে পেট্রল উৎপাদন করা হয়। পরে আমদানি করা অকটেন বুস্টারের সঙ্গে মিশিয়ে অকটেন তৈরি করা হয়। দেশে সরকারি প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) এবং কয়েকটি বেসরকারি রিফাইনারি কনডেনসেট থেকে পেট্রল, অকটেনসহ প্রায় ৪০ ধরনের পেট্রোলিয়াম পণ্য উৎপাদন করে। এসব প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত উৎপাদন ক্ষমতা বছরে প্রায় ১৬ লাখ টন, যেখানে দেশের পেট্রল ও অকটেনের বার্ষিক চাহিদা আট থেকে সাড়ে আট লাখ টন। ‘TECH-FACILITATED VIOLENCE: Women survivors forced to navigate a flawed system’ — দ্য ডেইলি স্টার খবরে বলা হয়েছে, প্রযুক্তির অপব্যবহার করে নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনা বাড়ছে এবং অনেক ভুক্তভোগী ত্রুটিপূর্ণ বিচারব্যবস্থার কারণে ন্যায়বিচার পেতে বাধার মুখে পড়ছেন। প্রতিবেদনে বাগেরহাটের এক নারী উদ্যোক্তার ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে। তিনি একটি দর্জির দোকান পরিচালনা করতেন। এক ব্যক্তি গোপনে তার ব্যক্তিগত ভিডিও ধারণ করে পরে ব্ল্যাকমেইলের চেষ্টা করেন। এ ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধের ঘটনা বাড়লেও পর্যাপ্ত সাইবার আদালত ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অভাবে অনেক ক্ষেত্রে এসব ঘটনার তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ‘ENERGY AUSTERITY: Univs, English schools to go on Eid holiday today’ — নিউ এইজ খবরে বলা হয়েছে, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে ঈদুল ফিতরের ছুটি এগিয়ে এনে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় আজ সোমবার (৯ মার্চ) থেকে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় গতকাল এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করেছে। একই সঙ্গে বিদেশি কারিকুলামে পরিচালিত ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলোতেও ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছাড়া বাংলা মিডিয়াম ও ইংলিশ মিডিয়ামসহ সব ধরনের কোচিং সেন্টারের কার্যক্রমও এই সময়ে বন্ধ থাকবে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয় করা অত্যন্ত জরুরি। এ লক্ষ্যে পবিত্র রমজান উপলক্ষে আগামী ৯ মার্চ থেকে ঈদুল ফিতরের জন্য একাডেমিক ক্যালেন্ডারে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত সব সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকবে। 'স্থানীয় নির্বাচনের প্রস্তুতিতে জামায়াত, নজর ১২ সিটিতে' — প্রথম আলো খবরে বলা হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নজর দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটি এই নির্বাচনকে ‘দ্বিতীয় লড়াই’ হিসেবে দেখছে। এ লক্ষ্যে জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এবং পৌরসভার মেয়র নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এর মধ্যে সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে জামায়াত। এ জন্য দেশের ১২টি সিটি করপোরেশনেই সাংগঠনিক প্রস্তুতি জোরদার করা হচ্ছে। আইন অনুযায়ী, মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্ববর্তী ১৮০ দিনের মধ্যে সিটি করপোরেশন নির্বাচন আয়োজনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০২৫ সালের জুনের প্রথম সপ্তাহে। নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ পহেলা মার্চ নির্বাচন ভবনে এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, ঈদুল ফিতরের পর থেকে সারা বছর ধরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশনের এমন পরিকল্পনা সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামীও প্রস্তুতি শুরু করেছে। এর মধ্যে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নিয়ে বাড়তি নজর রয়েছে বলে জানা গেছে। জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ‘দ্বিতীয় লড়াই’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ‘মক্কা-মদিনায় আটকা ৩৫০০ বাংলাদেশি’— সমকাল খবরে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের মক্কায় বাংলাদেশ হজ মিশনে দেখা হয় দুই বাংলাদেশি মুতামির (ওমরাহ পালনকারী) সঙ্গে। একজন রাজশাহীর মো. আজাদ, অন্যজন মুন্সীগঞ্জের রিয়াজুল হায়দার। দুজনেরই দেশে ফেরার কথা ছিল শনিবার। কিন্তু এয়ার অ্যারাবিয়ার ফ্লাইট বাতিল হয়ে যাওয়ায় তারা দেশে ফিরতে পারেননি। এখন তাদের হাতে টাকা নেই, দেশে ফেরার টিকিটও নেই। থাকা-খাওয়া নিয়েও সংকটে পড়েছেন। নতুন করে টিকিট কাটতে এজেন্সি মালিক ৫০–৬০ হাজার টাকা দাবি করছেন। এ বিষয়ে সাহায্য পেতে তারা হজ মিশনে যান এবং মিশনপ্রধান কনসাল কামরুল ইসলামের সঙ্গে দেখা করেন। তাদের সমস্যা ও অভিযোগ শুনে হজ কর্মকর্তা ট্রাভেল এজেন্সি মালিক মাজেদুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলেন এবং দরিদ্র মুতামিরদের কিছু টাকা ভর্তুকি দিতে অনুরোধ করেন। মক্কার বাংলাদেশ হজ মিশনের প্রধান কনসাল কামরুল ইসলাম বলেন, যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের অধিকাংশ এয়ারলাইন্স হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশ থেকে ওমরাহ করতে আসা সাড়ে তিন হাজারের বেশি যাত্রী আটকা পড়েছেন। তাদের কেউ মক্কায়, কেউ মদিনায় অবস্থান করছেন। অনেক মুতামিরের টিকিট বাতিল হয়েছে এবং ট্রাভেল এজেন্সিগুলো নতুন করে টিকিট কাটতে বলছে। ‘পাল্টা আঘাত চালিয়ে যাচ্ছে তেহরান’ — নয়াদিগন্ত খবরে বলা হয়েছে, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সমন্বিত সামরিক অভিযানের নবম দিনে সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। শনিবার রাতে প্রথমবারের মতো দেশটির তেল সংরক্ষণাগার ও পরিশোধনাগারকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। এর ফলে সংঘাতের অর্থনৈতিক প্রভাবও সামনে এসেছে এবং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। একই সঙ্গে যুদ্ধের প্রভাব দ্রুত পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়ছে। ইরান পাল্টা হিসেবে ইসরাইলের পাশাপাশি কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটির দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ৩৩২ জন নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। নিহতদের বড় অংশই বেসামরিক নাগরিক বলে দাবি করেছে তেহরান। ‘এভিয়েশন-শ্রম বাজার, যুদ্ধের জেরে বিপর্যস্ত’ — মানবজমিন খবরে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দেশের এভিয়েশন খাতে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। একই সঙ্গে বিপর্যস্ত হয়েছে শ্রমবাজার। যুদ্ধের কারণে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগে ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে বাংলাদেশ থেকে একের পর এক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত প্রায় ৩২০টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এতে হাজার হাজার যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন। এ পরিস্থিতিতে ট্রাভেল এজেন্সি, এয়ারলাইন্স, হোটেল-মোটেলসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন মধ্যপ্রাচ্যগামী শ্রমিকেরা। ‘চার বছরে ১ লাখ ৫২ হাজার কোটি টাকার নিট মুনাফা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের’ — বণিক বার্তা খবরে বলা হয়েছে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে গত কয়েক বছর ধরে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি অনুসরণ করে আসছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে এর ফলে বেসরকারি খাতের ওপর চাপ বেড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২১-২২ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত চার বছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মোট ১ লাখ ৫২ হাজার ১৯৯ কোটি টাকা নিট মুনাফা করেছে। এই মুনাফার একটি বড় অংশ এসেছে সুদ আয় এবং টাকার অবমূল্যায়নের কারণে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন থেকে। অর্জিত মুনাফা থেকে সরকারি কোষাগারে প্রায় ৫১ হাজার ৫১২ কোটি টাকা জমা দেওয়া হয়েছে।
ঢাকা থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় আজকের প্রধান সংবাদগুলোতে উঠে এসেছে নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নিচে আজকের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি দৈনিক পত্রিকার প্রধান সংবাদ তুলে ধরা হলো- যুগান্তর: এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশে তেলের মজুত সর্বনিম্ন। খবরে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এবং তেল বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান পদ্মা, মেঘনা ও যমুনার অদক্ষতা ও পরিকল্পনার ঘাটতির কারণে দেশে জ্বালানি তেলের সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ২০২০ সালে অন্তত ৬০ দিনের তেল মজুত সক্ষমতা তৈরির সিদ্ধান্ত থাকলেও বর্তমানে দেশের মজুত ক্ষমতা মাত্র ৩০–৩৫ দিনের, যার মধ্যে ডিজেলের মজুত রয়েছে প্রায় ১০–১১ দিনের। আন্তর্জাতিক তুলনায় বাংলাদেশের মজুত সক্ষমতা অনেক কম। ভারতে তেলের মজুত রয়েছে প্রায় ৭৪ দিনের, ভিয়েতনামে ৪৫ দিন, থাইল্যান্ডে ৬১ দিন এবং জাপানে প্রায় ২৫০ দিনের সমপরিমাণ। জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের বর্তমান মজুত আসলে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য যথেষ্ট নয়; বরং এটি কেবল স্বাভাবিক পরিচালনার জন্য রাখা মজুত। বিশেষজ্ঞরা আরও অভিযোগ করেছেন, তেল বিতরণকারী কোম্পানিগুলো মজুত অবকাঠামো বাড়ানোর পরিবর্তে ব্যাংকে অর্থ জমা রেখে সুদ অর্জনের দিকেই বেশি আগ্রহী। এ পরিস্থিতিকে অদক্ষ ব্যবস্থাপনার উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে তারা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। প্রথম আলো: এক বছরে ধর্ষণের ঘটনা বেড়েছে ২৭ শতাংশ। আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে করা এ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালগুলোতে ভুক্তভোগী নারী ও তাদের পরিবারের ভিড় থেকেই বোঝা যায় বিচারপ্রার্থীদের মানসিক যন্ত্রণা কতটা গভীর। আদালতের কক্ষের ভেতরে জায়গা না থাকায় অনেকেই বারান্দায় অপেক্ষা করেন। মামলার শুনানির সময় অনেক ক্ষেত্রে নির্যাতনের বেদনাদায়ক বর্ণনাও শোনা যায়। এসব আদালতে ধর্ষণসহ বিভিন্ন নির্যাতনের মামলায় ভুক্তভোগীরা বিচার পাওয়ার আশায় হাজির হন। তবে দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া ও মানসিক চাপ তাঁদের ওপর বড় প্রভাব ফেলছে। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলার সংখ্যা প্রায় ২৫ শতাংশ বেড়েছে এবং ধর্ষণের মামলা বেড়েছে ২৭ শতাংশের বেশি। গত বছরে নারী নির্যাতনের মোট মামলার প্রায় এক-তৃতীয়াংশই ছিল ধর্ষণের অভিযোগ। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) জানিয়েছে, ২০১৬ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে করা ধর্ষণের অভিযোগের ১১ হাজারের বেশি মামলার তদন্তে প্রায় ৪৪ শতাংশ অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বণিক বার্তা: পাকিস্তানে ৭০ শতাংশ পেট্রল পাম্প বন্ধ হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। খবরে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রভাব পাকিস্তানেও পড়তে শুরু করেছে। সম্ভাব্য জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় করাচির বিভিন্ন পেট্রল পাম্পে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে এবং কিছু পাম্প সাময়িকভাবে বন্ধও রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে সারা দেশে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা প্রকাশ করে সতর্কবার্তা জারি করেছেন পেট্রোলিয়াম ডিলাররা। যদিও পাকিস্তান সরকার বলছে দেশে পেট্রল ও ডিজেলের কোনো ঘাটতি নেই, তবে নতুন জ্বালানি মূল্যের ঘোষণা কার্যকর হওয়ার আগেই অনেক নাগরিক তড়িঘড়ি করে জ্বালানি কিনতে পাম্পে ভিড় করছেন। খাইবার পাখতুনখোয়া পেট্রোলিয়াম ডিলারস অ্যান্ড কটেজ কন্ট্রাক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য সচিব নাজিবুল্লাহ জানিয়েছেন, বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে বিপণন কোম্পানিগুলো ডিলারদের কাছে পেট্রল ও ডিজেল সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে অনেক এলাকার পাম্প ইতোমধ্যে জ্বালানিশূন্য হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, এ অবস্থা চলতে থাকলে আগামী সোমবারের মধ্যে দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ পেট্রল পাম্পের মজুত শেষ হয়ে যেতে পারে। মানবজমিন: জ্বালানি তেল নিয়ে ‘তেলেসমাতি’। খবরে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে, যার প্রভাব পড়েছে দেশীয় বাজারেও। এ মুহূর্তে বড় ধরনের সংকট না থাকলেও ভবিষ্যৎ সংকটের আশঙ্কায় বাড়তি জ্বালানি মজুতের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এ কারণে সরকার জ্বালানি তেল বিক্রির সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে। সরকার বলছে দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে এবং আমদানির পাইপলাইনে তেল রয়েছে। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী তেল কিনতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। তবে অনেকেই এই আহ্বান উপেক্ষা করে বাড়তি তেল সংগ্রহ করতে পাম্পে ভিড় করছেন। এতে কিছু এলাকায় কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে এবং কোথাও কোথাও পাম্প বন্ধ রাখতে হয়েছে। সংকটের সুযোগে পাম্প মালিকরা বাড়তি সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছেন এমন অভিযোগও উঠেছে। এমনকি পুলিশ পাহারায় জ্বালানি তেল বিক্রির ঘটনাও ঘটেছে। নিউ এইজ: Women's affairs reforms still on paper-অর্থাৎ নারী বিষয়ক সংস্কারের কথা এখনো কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ। খবরে বলা হয়েছে, জুলাই অভ্যুত্থানের পরও বাংলাদেশে নারীদের প্রতি বৈষম্য দূর করা, সম্পত্তির অধিকার নিশ্চিত করা এবং রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়ানোর ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যায়নি। নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের সুপারিশগুলোর বেশিরভাগই এখনো বাস্তবায়নের বাইরে রয়েছে। ২০২৫ সালের ১৯ এপ্রিল অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশন মোট ৪৩৩টি সুপারিশ জমা দেয়। এসব সুপারিশের মধ্যে নারীদের সমান সম্পত্তির অধিকার, একটি ইউনিফর্ম ফ্যামিলি কোড প্রণয়ন এবং একটি স্থায়ী ও স্বাধীন নারী বিষয়ক কমিশন গঠনের প্রস্তাব ছিল। এদিকে ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার জানিয়েছে, তারা কমিশনের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করবে। নারী ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন বলেছেন, বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে। আজকের পত্রিকা: শুল্ক কমানোর সুফল নেই এলপি গ্যাসের দামে। খবরে বলা হয়েছে, সরকার এলপি গ্যাসের আমদানি শুল্ক কমালেও বাজারে এর সুফল পাচ্ছেন না ভোক্তারা। সরকার নির্ধারিত ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১,৩৪১ টাকা হলেও রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় তা প্রায় ১,৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এর ফলে প্রতি কেজি গ্যাসে ভোক্তাদের অন্তত ৩০ টাকা বেশি গুনতে হচ্ছে। দেশের দৈনিক প্রায় ৫ হাজার টন গ্যাসের চাহিদা বিবেচনায় প্রতিদিন প্রায় ১৫ কোটি টাকা অতিরিক্ত আদায় করা হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, তারা প্ল্যান্ট ও ডিস্ট্রিবিউটরদের কাছ থেকেই বেশি দামে সিলিন্ডার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে নির্ধারিত দামে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। ডিস্ট্রিবিউটরদের মতে, সীমিত সরবরাহ, পরিবহন ব্যয় ও অপেক্ষার সময় বাড়ায় প্রান্তিক পর্যায়ে দাম বেড়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মতে, আমদানিকারকেরা প্রকৃত দামের চেয়ে বেশি মূল্যে গ্যাস সরবরাহ করছে। সরকারি ইনভয়েস ও বাস্তব বিক্রয়মূল্যের মধ্যে পার্থক্যের প্রমাণও পাওয়া গেছে, যার ফলে সরবরাহ ব্যবস্থায় অসাধু ব্যবসায়ীরা বাড়তি মুনাফা করছে। দ্য ডেইলি স্টার: Family Card pilot to cover 40,000 households-অর্থাৎ পরীক্ষামূলকভাবে ৪০ হাজার পরিবার পাবে ফ্যামিলি কার্ড। সরকার পরীক্ষামূলকভাবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি চালু করতে যাচ্ছে। এ কর্মসূচির আওতায় আগামী চার মাসে ৪০ হাজার পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। আগামী ১০ মার্চ থেকে প্রতি মাসে ১০ হাজার পরিবারকে এই কার্ড দেওয়া হবে এবং প্রতিটি পরিবার মাসে ২,৫০০ টাকা করে ভাতা পাবে। এই কর্মসূচির জন্য সংশোধিত বাজেটের ব্লক বরাদ্দ থেকে প্রায় ৩৯ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২৫ দশমিক ১৫ কোটি টাকা ভাতা হিসেবে ব্যয় হবে এবং বাকি অর্থ উপকারভোগী নির্বাচন ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে ব্যয় করা হবে। প্রথম ধাপে ১৪টি ওয়ার্ডের প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজার পরিবারের ৫০ ধরনের তথ্য সংগ্রহ করা হবে যোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য। এ কাজে ৫৬০ জন সুপারভাইজার নিয়োগ দেওয়া হবে এবং প্রত্যেকে ৫,০০০ টাকা করে ভাতা পাবেন। জুনের মধ্যে তথ্য সংগ্রহ শেষ করে ৪০ হাজার উপকারভোগী নির্বাচন করা হবে। নয়া দিগন্ত: সংসদে নিজেদের সক্রিয় উপস্থিতি নিশ্চিত করতে প্রস্তুতি নিচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলো। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর শুরু হতে যাচ্ছে জাতীয় সংসদের নতুন অধিবেশন। এই অধিবেশনকে কেন্দ্র করে সরকারি দল ও বিরোধী দল উভয়ই জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন দল তাদের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের জন্য প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করেছে। কারণ এবারের সংসদের অধিকাংশ সদস্যই নতুন। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তারা সংসদে নিজেদের সক্ষমতা ও উপস্থিতি তুলে ধরতে চান। সংসদে সম্ভাব্য তর্ক-বিতর্ক ও রাজনৈতিক মোকাবেলার প্রস্তুতিও নিচ্ছে বিভিন্ন দল। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি সব দলই নিজেদের সংসদ সদস্যদের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষ করেছে বলে জানা গেছে। আগামী ১২ মার্চ শুরু হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। সেই অধিবেশনেই বোঝা যাবে নতুন সংসদ সদস্যদের প্রস্তুতি সংসদের আলোচনায় কতটা প্রতিফলিত হয়। দেশ রূপান্তর: দুবাই থেকে পুঁজি সরানোর পথ খুঁজছেন এশিয়ার ধনী ব্যক্তিরা। ইরান-ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রভাবে উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এর ফলে দুবাইয়ে বসবাসকারী অনেক এশীয় ধনী ব্যক্তি ও উদ্যোক্তা তাদের সম্পদ অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার কথা ভাবছেন। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর দুবাইয়ে বসবাসকারী ভারতীয় দুই উদ্যোক্তা তাদের সম্পদ নিয়ে উদ্বেগে পড়েন। তারা স্থানীয় ব্যাংক হিসাব থেকে কিছু অর্থ সিঙ্গাপুরে স্থানান্তরের চেষ্টা করেন। প্রথমে প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে তাদের পরিকল্পনা ব্যর্থ হলেও পরে তাদের একজন বিকল্প পদ্ধতিতে সিঙ্গাপুরের একটি ব্যাংক হিসাবে অর্থ পাঠাতে সক্ষম হন। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত উপসাগরীয় অঞ্চলকে নিরাপদ বিনিয়োগ কেন্দ্র হিসেবে যে সুনাম ছিল, তা প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। কালের কণ্ঠ: হামলার শঙ্কায় নির্ঘুম রাত কাটছে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে। ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় পুরো মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থা তৈরি হয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, জঙ্গিবিমান ও ড্রোনের তৎপরতায় অঞ্চলজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সতর্ক করে বলেছেন, ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে বড় ধরনের হামলার ঘোষণা দিলে জবাবে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেন, ইরান কোনো হুমকির কাছে মাথা নত করবে না এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলোর ওপর নজর রাখছে। এদিকে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের পণ্যবাহী জাহাজের জন্য কার্যত বন্ধ রয়েছে। ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশও মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক শক্তি জড়ো করছে, ফলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, হাজারো মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে এসেছে। শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হলে জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে আরও অগ্রগতি অর্জন করতে হবে এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বনির্ভর জাতি গঠন করতে হবে। শুক্রবার (৬ মার্চ) সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন–এ জাতীয় পাট দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি পাটচাষিদের উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে উচ্চ ফলনশীল চাষ পদ্ধতি অনুসরণ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, পাট উৎপাদন বাড়াতে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির প্রয়োগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বাজারের চাহিদা অনুযায়ী পাটজাত নতুন স্বাস্থ্যসম্মত ও মানসম্মত পণ্য উদ্ভাবনে এগিয়ে আসতে হবে। কম খরচে পাটের ব্যাগ উৎপাদন ও বিপণনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। এ ছাড়া তরুণ প্রজন্মকে স্টার্টআপ ও উদ্ভাবনী উদ্যোগের মাধ্যমে ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ডিং শক্তিশালী করার আহ্বান জানানো হয়। রাষ্ট্রপতি বলেন, বৈশ্বিক ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হয়ে দেশের পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে দিতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews