মিয়ানমার

মিয়ানমারের নতুন প্রেসিডেন্ট সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইং | ছবি: সংগৃহীত
প্রেসিডেন্ট হিসাবে অভিষিক্ত হলেন জান্তা প্রধান, মিয়ানমারে আরও পাকাপোক্ত হলো সামরিক শাসন

দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এক রাজনৈতিক নাটকীয়তার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে মিয়ানমারের নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হলেন জান্তা প্রধান সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইং। শুক্রবার দেশটির সংসদীয় প্রক্রিয়ায় এই নির্বাচনের মাধ্যমে মূলত ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতা দখলকারী এই সেনাপ্রধানের কর্তৃত্বই রাষ্ট্রীয়ভাবে আরও সুসংহত হলো। রাজধানী নেপিডোয় দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট পার্লামেন্টের যৌথ অধিবেশনে ৫৬৬ সদস্যের মধ্যে ৪২৯ ভোট পেয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন ৬৯ বছর বয়সী মিন অং হ্লাইং। উল্লেখ্য, গত সোমবারই তিনি সেনাপ্রধানের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন। মিয়ানমারের ২০০৮ সালের সামরিক-প্রণীত সংবিধান অনুযায়ী, কোনো চাকুরীরত সরকারি কর্মকর্তা বা সেনাপ্রধান প্রেসিডেন্ট হতে পারেন না—আর সেই আইনি বাধা দূর করতেই তার এই পদত্যাগ। এই নির্বাচনে জান্তা প্রধানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও সাবেক জেনারেল নিও সও দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া কায়িন স্টেট অ্যাসেম্বলির সদস্য নান নি নি আয়ে তৃতীয় সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পেয়েছেন। নির্বাচনটি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনা রয়েছে। জান্তা সরকার আয়োজিত গত ডিসেম্বর ও জানুয়ারির সাধারণ নির্বাচনে সামরিক বাহিনীর মদদপুষ্ট ইউএসডিপি (USDP) দল নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। পার্লামেন্টের প্রায় ৮৬ শতাংশ আসনই এখন জান্তা সমর্থিত ও অনির্বাচিত সামরিক প্রতিনিধিদের দখলে। ফলে বিরোধী দল এবং পশ্চিমা দেশগুলো এই পুরো প্রক্রিয়াকে একটি 'প্রহসন' হিসেবে অভিহিত করেছে। অন্যদিকে, ক্ষমতাচ্যুত নেত্রী অং সান সু চি এবং তার সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তারা এখনো বন্দি রয়েছেন। সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসিকে (NLD) আগেই বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে জান্তা। আগামী সপ্তাহেই নতুন প্রেসিডেন্ট তার মন্ত্রিসভা গঠন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে এবং ১০ এপ্রিলের মধ্যে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা গ্রহণ করবেন।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ৩, ২০২৬ 0
জেনারেল মিন অং লাইং
পোশাক বদলালেও বদলাচ্ছে না ভাগ্য: মিয়ানমারের মসনদে নির্মম গৃহযুদ্ধের সূচনাকারী সেই জেনারেল

মিয়ানমারের রক্তাক্ত ইতিহাসের পাতায় এক নতুন কিন্তু অনুমিত অধ্যায় যুক্ত হলো। ২০২১ সালের ১লা ফেব্রুয়ারি যে রক্তক্ষয়ী সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করেছিলেন জেনারেল মিন অং লাইং, পাঁচ বছর পর সেই তিনিই এবার দেশটির 'বেসামরিক' রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন।   তবে সেনাবাহিনীর উর্দি ছেড়ে রাষ্ট্রপতির স্যুট পরলেও, দেশটির শাসন ব্যবস্থায় সামরিক একনায়কতন্ত্রের সুতীব্র নিয়ন্ত্রণ বিন্দুমাত্র কমছে না। পূর্বনির্ধারিত এক ‘নির্বাচন’ ও ক্ষমতার পালাবদল আজ মিয়ানমারের নবনির্বাচিত সংসদ মিন অং লাইং-কে পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে বেছে নেবে। যদিও একে নির্বাচন না বলে 'অভিষেক' বলাই শ্রেয়। কারণ, সংসদের ২৫ শতাংশ আসন আগে থেকেই সেনাবাহিনীর জন্য সংরক্ষিত ছিল এবং বাকি আসনগুলোর সিংহভাগ জিতেছে সামরিক মদদপুষ্ট দল ইউএসডিপি। মিন অং লাইং ইতিমধ্যেই সেনাপ্রধানের পদ ছেড়েছেন, আর সেই পদে স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন তার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও কঠোরপন্থী হিসেবে পরিচিত জেনারেল ইয়ে উইন উ। অভ্যুত্থানের পর এক বছরের মধ্যে গণতন্ত্রে ফেরার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এই জেনারেল। কিন্তু সেই এক বছর পার হতে সময় লাগল পাঁচ বছর। এই দীর্ঘ সময়ে মিয়ানমার পরিণত হয়েছে এক ধ্বংসস্তূপে। দেশজুড়ে শুরু হওয়া গৃহযুদ্ধে প্রাণ হারিয়েছেন হাজার হাজার মানুষ, বাস্তুচ্যুত হয়েছেন লক্ষাধিক। জান্তা বাহিনীর ‘পোড়ামাটি’ নীতিতে ধ্বংস হয়েছে স্কুল, হাসপাতাল ও জনপদ। তরুণ অ্যাক্টিভিস্ট কিয়াও উইনের মতো অসংখ্য মানুষ জেল-জুলুম ও অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। রাষ্ট্রপতি হলেও মিন অং লাইং নিজেকে নিরাপদ রাখতে গঠন করেছেন একটি শক্তিশালী 'পরামর্শদাতা পরিষদ'। এই পরিষদের হাতেই থাকবে সামরিক ও বেসামরিক সব বিষয়ের চূড়ান্ত ক্ষমতা। বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল ক্ষমতার রূপান্তর, কোনো পরিবর্তন নয়। প্রতিরোধ বাহিনীগুলো এখনো দেশের বড় একটি অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে, যার ফলে গৃহযুদ্ধ থামার কোনো লক্ষণ নেই। মিয়ানমারের অর্থনীতি এখন খাদের কিনারায়। আকাশচুম্বী মূল্যস্ফীতি আর তীব্র জ্বালানি সংকটে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। ইয়াঙ্গুনের সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক বিশ্লেষক—সবার কণ্ঠেই একই সুর: এই নির্বাচন কোনো সমাধান নয়। কারাবন্দী নেত্রী অং সান সু চির মুক্তি এবং প্রকৃত সংলাপ ছাড়া মিয়ানমারের শান্তি ফেরানো অসম্ভব বলেই মনে করছেন বোদ্ধারা।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ঈদে নিজ দেশে ফেরার বদলে ১৫ মাসে নতুন করে আশ্রয় নিয়েছে ১ লাখ ৪৪ হাজার রোহিঙ্গা

নিজ দেশে নিপীড়িত জাতি রোহিঙ্গা সম্প্রদায়। নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার প্রত্যাশা থাকলেও বাস্তবে তা সম্ভব হয়নি- বরং নতুন করে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার সংখ্যা বাড়ছে রোহিঙ্গাদের মধ্যে। গত প্রায় ১৫ মাসে বাংলাদেশে নতুন করে আশ্রয় নিয়েছে ১ লাখ ৪৪ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা।   জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) প্রকাশিত সর্বশেষ মাসিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নতুন আগত নিবন্ধিত রোহিঙ্গার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪৪ হাজার ৪৫৬ জন। জানুয়ারির তুলনায় এ সংখ্যা কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে।   বর্তমানে কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরগুলোতে মোট ১১ লাখ ৮৪ হাজার ৮৬৪ জন রোহিঙ্গা অবস্থান করছেন। তাদের বড় একটি অংশ ২০১৭ সালের পর মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাখাইন রাজ্যে চলমান সহিংসতা ও নির্যাতনের কারণে নতুন করে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে প্রবেশ অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে ২০২৪ সাল থেকে নতুন শরণার্থীদের ঢল লক্ষ্য করা গেছে এবং তাদের বায়োমেট্রিক নিবন্ধন কার্যক্রম চলছে।   ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের মধ্যে প্রায় ৭৮ শতাংশই নারী ও শিশু। পাশাপাশি উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষ প্রতিবন্ধী, গুরুতর অসুস্থ, একক অভিভাবক বা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এসব মানুষের আইনি ও শারীরিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৭, ২০২৬ 0
সীমান্ত এলাকা
বান্দরবান সীমান্তে আরাকান আর্মির ৩ সদস্য গ্রেপ্তার

মিয়ানমারের অস্থির পরিস্থিতির আঁচ এবার সরাসরি বাংলাদেশের সীমান্তে। নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টাকালে বিজিবির হাতে ধরা পড়ল সশস্ত্র গোষ্ঠী 'আরাকান আর্মি'র তিন সদস্য। উদ্ধার করা হয়েছে বিদেশি মুদ্রাও।    আমতলী সীমান্ত এলাকা থেকে সন্দেহভাজনদের আটকের পর পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা নিজেদের আরাকান আর্মির সদস্য বলে স্বীকার করেছে। ঘটনার পর থেকে ঘুমধুম ও তৎসংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় টহল বৃদ্ধি ও সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।   বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম সীমান্তে সোমবার সন্ধ্যায় এই আটকের ঘটনা ঘটে। নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ওসি আব্দুল বাতেন মৃধা খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বিজিবি সদস্যরা তাদের আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন। আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে মিয়ানমারের মুদ্রা উদ্ধার করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।   উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী জানিয়েছেন, সীমান্ত এলাকায় যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ রোধে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং বিজিবির টহল কয়েকগুণ বাড়ানো হয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬ 0
মিয়ানমারের শীর্ষস্থানীয় সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নেতা
বিশ্বের নজর এড়িয়ে ভয়াবহ বিমান হামলা চালাচ্ছে জান্তা

মিয়ানমারে জান্তা সরকারের ক্রমবর্ধমান বিমান হামলায় শত শত বেসামরিক মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন, অথচ বিশ্ব সম্প্রদায় এই ভয়াবহতার দিকে নজর দিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন দেশটির একটি শীর্ষস্থানীয় সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নেতা। রয়টার্সের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের সামরিক জান্তা বর্তমানে তাদের নিয়ন্ত্রণ হারানো এলাকাগুলো পুনরুদ্ধারে মরিয়া হয়ে বিমান শক্তির ওপর নির্ভর করছে। বিশেষ করে রাখাইন রাজ্য এবং সাগাইং অঞ্চলে এই হামলার তীব্রতা সবচেয়ে বেশি। সশস্ত্র গোষ্ঠীর ওই নেতা জানান, জান্তা বাহিনী এখন শুধু সম্মুখ যুদ্ধে লড়ছে না, বরং সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত করতে স্কুল, হাসপাতাল এবং ধর্মীয় উপাসনালয় লক্ষ্য করে নির্বিচারে বোমা বর্ষণ করছে।   তিনি বলেন, "বিশ্বের অন্যান্য সংঘাত নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যতটা সোচ্চার, মিয়ানমারের ক্ষেত্রে তারা ততটাই উদাসীন। আমাদের সাধারণ মানুষ প্রতিদিন আকাশের দিকে তাকিয়ে মৃত্যুভয়ে দিন কাটাচ্ছে, কিন্তু এই রক্তপাত বন্ধে কার্যকর কোনো বৈশ্বিক পদক্ষেপ নেই।"   জাতিসংঘের তথ্যানুযায়ী, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বিমান হামলায় নিহতের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। গত ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারির মধ্যেই অন্তত ১৭০ জন বেসামরিক লোক নিহত হয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, জান্তা বাহিনী কিছু ক্ষেত্রে উন্নত ড্রোন এবং বিদেশি জ্বালানি ব্যবহার করে এই হামলাগুলো পরিচালনা করছে।   বিশ্লেষকরা বলছেন, স্থল যুদ্ধে বিদ্রোহীদের কাছে একের পর এক ঘাঁটি হারানোর পর জান্তা সরকার এখন আকাশপথকে তাদের প্রধান অস্ত্র হিসেবে বেছে নিয়েছে। বিমান হামলা চালিয়ে তারা বিদ্রোহীদের রসদ ধ্বংস করার পাশাপাশি বেসামরিক জনগোষ্ঠীকে বাস্তুচ্যুত করে দিচ্ছে, যাতে তারা প্রতিরোধ যোদ্ধাদের সমর্থন করতে না পারে।   মানবাধিকার সংস্থাগুলো সতর্ক করে বলেছে, যদি এখনই আন্তর্জাতিক মহল থেকে মিয়ানমারের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা এবং বিমান জ্বালানি সরবরাহে বাধা সৃষ্টি না করা হয়, তবে এই মানবিক বিপর্যয় আরও ভয়াবহ রূপ নেবে। সূত্র: রয়টার্স।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬ 0
একই পরিবারের ১১ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে চীন। ছবি: সংগৃহীত
একই পরিবারের ১১ জনের ফাঁসি কার্যকর করল চীন

মিয়ানমারের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্ত শহর লাউককাইং দাপিয়ে বেড়ানো কুখ্যাত ‘মিং’ পরিবারের ১১ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড দ্রুততার সঙ্গে কার্যকর করেছে চীন।    গত সেপ্টেম্বরে আদালতের রায়ের পর এই সাজা কার্যকর করা হয়। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, চীন বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় বেশি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করলেও মিং পরিবারের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ ও নজিরবিহীন।   ২০০৯ সাল থেকে মিয়ানমারের শান রাজ্যের রিমোট বর্ডার টাউন লাউককাইং শাসন করে আসছিল মিং, বাউ, ওয়েই এবং লিউ নামের চারটি প্রভাবশালী পরিবার। বর্তমান সামরিক জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইংয়ের আশীর্বাদে তারা ক্ষমতায় আসে।    একসময় আফিম ও মেথামফেটামিন উৎপাদনের ওপর নির্ভরশীল থাকলেও পরবর্তীতে তারা ক্যাসিনো এবং অনলাইন প্রতারণার (অনলাইন স্ক্যাম) এক বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তোলে। তাদের এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর পরোক্ষ সমর্থন ছিল এবং পরিবারের অনেক সদস্য জান্তা সমর্থিত দলের হয়ে নির্বাচনেও অংশ নিয়েছিলেন।   লাউককাইংয়ের এই স্ক্যাম সেন্টারগুলো এশিয়ার অন্য যেকোনো জায়গার চেয়ে বেশি নৃশংস ছিল। বিশেষ করে মিং পরিবারের পরিচালিত ‘ক্রাউচিং টাইগার ভিলা’ ছিল যমপুরীর মতো। হাজার হাজার চীনা নাগরিককে ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে সেখানে বন্দি করে রাখা হতো এবং তাদের দিয়ে ‘পিগ-বাচারিং’ এর মতো ভয়াবহ অনলাইন জালিয়াতি করানো হতো। সেখানে শারীরিক নির্যাতন ছিল নিত্যনৈমিত্তিক বিষয়। ২০২৩ সালের অক্টোবরে সেখান থেকে পালানোর চেষ্টার সময় রক্ষীরা বেশ কয়েকজন চীনা নাগরিককে হত্যা করলে বেইজিং কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়।   মিয়ানমারে চলমান গৃহযুদ্ধের সুযোগে বিদ্রোহী গোষ্ঠী এমএনডিএএ লাউককাইং দখল করে নেয় এবং এই চার পরিবারের প্রধানদের আটক করে চীনের পুলিশের হাতে তুলে দেয়। মিং পরিবারের প্রধান মিং সুয়েচ্যাং ধরা পড়ার পর আত্মহত্যা করেন বলে জানা যায়।    জিজ্ঞাসাবাদে এই পরিবারের এক সদস্য স্বীকার করেছেন যে নিজের ক্ষমতা প্রদর্শনের জন্য তিনি র্যান্ডমলি বা উদ্দেশ্যহীনভাবে একজনকে হত্যা করেছিলেন। চীন এই নৃশংসতার বিস্তারিত তথ্য জনসমক্ষে এনেছে যাতে তাদের এই কঠোর শাস্তিকে বিশ্ববাসীর কাছে যৌক্তিক হিসেবে তুলে ধরা যায়।   মিং পরিবারের ১১ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলেও অন্যান্য পরিবারের বিচার এখনো চলমান। বাউ পরিবারের পাঁচজন বর্তমানে মৃত্যুদণ্ডের অপেক্ষায় আছেন এবং ওয়েই ও লিউ পরিবারের বিচারকাজ এখনো শেষ হয়নি। শুধু মিয়ানমার নয়, থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া থেকেও অনলাইন স্ক্যাম সাম্রাজ্যের হোতাদের হস্তান্তরের জন্য চাপ দিচ্ছে চীন।    তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, বড় বড় কেন্দ্রগুলো বন্ধ হয়ে গেলেও এই অনলাইন প্রতারণার ব্যবসা এখন মিয়ানমারের নতুন নতুন দুর্গম এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে, যা দমানো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।   সূত্র: বিবিসি।

ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ৩০, ২০২৬ 0
ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী/ছবি: সংগৃহীত
মিয়ানমারের পরিস্থিতি জটিল, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনেই অগ্রাধিকার

মিয়ানমারের পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল ও বহুপাক্ষিক জিওপলিটিক্যাল বাস্তবতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী। তিনি বলেন, দেশটিতে একাধিক শক্তি ও পক্ষ সক্রিয় থাকায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইস্যুটি সহজ নয়, তবে বাংলাদেশের কূটনৈতিক অগ্রাধিকার স্পষ্ট—রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসন।   মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাজধানীর বেইলি রোডে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের অগ্রগতি সম্পর্কে গণমাধ্যম কর্মীর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।   লুৎফে সিদ্দিকী বলেন, বর্তমানে মিয়ানমারে সামরিক সরকার, রাখাইনে সক্রিয় আরাকান আর্মি, বিভিন্ন জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং রাজনৈতিক পক্ষ একসঙ্গে সক্রিয় রয়েছে। ফলে দেশটির অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল হয়ে উঠেছে।   তিনি বলেন, মিয়ানমারে গণতন্ত্র আছে কি নেই, অং সান সু চি জেল থেকে বের হচ্ছেন কি না—এগুলো আমাদের কাছে মুখ্য বিষয় নয়। যেই সরকারই থাকুক, রোহিঙ্গা বিষয়ে তাদের অবস্থান মোটামুটি একই রকম ছিল।   মানবিক সংকট ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা ঝুঁকি লুৎফে সিদ্দিকী বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যু এখন বাংলাদেশের জন্য একটি বড় মানবিক সংকটে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় শরণার্থী ক্যাম্পের ভার বহন করছে।   একই সঙ্গে তিনি মিয়ানমারকে ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের অন্যতম বড় উৎস হিসেবে উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, মিয়ানমার থেকে এখন সাইবার ক্রাইম, মানবপাচার, মাদক ও সংঘবদ্ধ অপরাধের এক্সপোর্ট হচ্ছে। এটি শুধু বাংলাদেশের সমস্যা নয় বরং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি।   আন্তর্জাতিক অঙ্গণে অগ্রগতি রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক মনোযোগ বাড়াতে বাংলাদেশের কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলেও জানান তিনি। প্রধান উপদেষ্টার এক বছর আগের অনুরোধের পর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উদ্যোগে একটি হাই-লেভেল কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেন।   লুৎফে সিদ্দিকী বলেন, বাংলাদেশ এখন এই ইস্যুতে আরও স্পটলাইট চাইছে। এ ক্ষেত্রে ইতিমধ্যে ভালো অগ্রগতি হয়েছে।   সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত জানান, রোহিঙ্গা বিষয়ক সরকারের উচ্চ প্রতিনিধি খলিলুর রহমান সব পক্ষের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রেখে কাজ করছেন। এমনকি যেসব তৃতীয় পক্ষ সরাসরি সংশ্লিষ্ট নয়, তাদের সঙ্গেও আলোচনা চলছে।   লুৎফে সিদ্দিকী বলেন, ডিপ্লোমেটিকভাবে বিষয়টি অত্যন্ত জটিল। তবে সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত আছে এবং এই প্রক্রিয়ায় তিনি সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন।   ধারাবাহিক কূটনৈতিক উদ্যোগ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে ভবিষ্যতে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়ে একটি বাস্তবসম্মত অগ্রগতি সম্ভব হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন লুৎফে সিদ্দিকী।  

ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ২৭, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

Top week

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ৩, ২০২৬ 0