মার্কিন সেনা

১৫ দিনে ২০০ মার্কিন সেনা হত্যার দাবি ইরানের
১৫ দিনে ২০০ মার্কিন সেনা হত্যার দাবি ইরানের

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস  দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ১৫ দিনের সংঘাতে তাদের পাল্টা হামলায় ২০০ জনের বেশি মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত এই দাবি স্বীকার করেনি এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমও ইরানের উপস্থাপিত হতাহতের সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।    ইরানের আধা-সরকারি তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেবি বলেন, ‘অপারেশন ভিক্টরি–২’-এর সময় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি ওয়াশিংটনের প্রকাশিত সংখ্যার তুলনায় অনেক বেশি। তার দাবি, নিহত মার্কিন সেনার সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়েছে এবং আহতের সংখ্যা আরও অনেক বেশি।    মোহেবি অভিযোগ করেন, পেন্টাগন প্রকৃত হতাহতের তথ্য গোপন করছে। তিনি বলেন, যেসব মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরান হামলা চালিয়েছে, সেখানে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলে প্রকৃত পরিস্থিতি স্পষ্ট হবে।    আইআরজিসির দাবি, ‘অপারেশন ভিক্টরি–২’-এর আওতায় মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের আটটি সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব হামলায় একটি ঘাঁটির ২০টি স্থাপনা ও বিমান হ্যাঙ্গারে আঘাত হানে ক্ষেপণাস্ত্র। পাশাপাশি ১১টি যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার, ১৭টি গোয়েন্দা ও অপারেশনাল ড্রোন, একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান, একটি পি-৮ সামুদ্রিক টহল বিমান, একটি সি-১৭ পরিবহন বিমান এবং আটটি আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান ধ্বংস হয়েছে বলেও দাবি করেছে আইআরজিসি। তবে এসব দাবির স্বাধীন কোনো যাচাই পাওয়া যায়নি।    অন্যদিকে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি হতাহতের সংখ্যা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। পেন্টাগনের অনলাইন তথ্যভান্ডারে এক পর্যায়ে নিহত মার্কিন সেনার সংখ্যা ১৮ দেখানো হলেও পরে সেটি ১৪-এ নেমে আসে। এ পরিবর্তন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে সমালোচনা শুরু হয়। পেন্টাগনের পক্ষ থেকে পরে বলা হয়, এটি তথ্য হালনাগাদের সাময়িক ত্রুটির কারণে ঘটেছে।    এদিকে রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার তথ্য প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে শত শত সেনা আহত হওয়ার কথাও জানিয়েছে। তবে আইআরজিসির দাবি করা ২০০ জনের বেশি নিহত কিংবা ব্যাপক সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংসের তথ্যের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।    যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর আইআরজিসির সর্বশেষ দাবির বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। ফলে সংঘাতে হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে বড় ধরনের পার্থক্য থেকেই গেছে।

নীলুফা নিশাত জুলাই ২৫, ২০২৬ ১৪:০
ইরানের হামলায় আহত মার্কিন সেনাদের নতুন তথ্য প্রকাশ করেছে পেন্টাগন। ছবি: সংগৃহীত
ইরানের হামলায় দুই সপ্তাহে আহত প্রায় ১০০ মার্কিন সেনা, চাপের মুখে পেন্টাগন

ইরানের সঙ্গে চলমান সামরিক সংঘাতে গত দুই সপ্তাহে প্রায় ১০০ মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন)। সোমবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পার্নেল জানান, ৭ জুলাই থেকে বিভিন্ন হামলায় আহত এসব সেনার মধ্যে প্রায় ৯৬ শতাংশ ইতোমধ্যেই চিকিৎসা শেষে আবার দায়িত্বে ফিরেছেন।   শন পার্নেল বলেন, আহত সেনাদের অধিকাংশেরই হালকা ধরনের ট্রমাটিক ব্রেইন ইনজুরি (টিবিআই) বা বিস্ফোরণের অভিঘাতে মস্তিষ্কে আঘাত লেগেছে। তিনি জানান, সেনারা দ্রুত সুস্থ হয়ে আবারও দায়িত্ব পালনে ফিরে আসছেন এবং আহতদের তথ্য ধাপে ধাপে পেন্টাগনের সরকারি তথ্যভান্ডারে হালনাগাদ করা হবে।   এই তথ্য প্রকাশের আগে ট্রাম্প প্রশাসন কয়েক দিন ধরে সাম্প্রতিক হামলায় আহত মার্কিন সেনাদের সংখ্যা প্রকাশে অনাগ্রহ দেখিয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যম ও কংগ্রেসের সদস্যদের প্রশ্নের মুখে পড়ে পেন্টাগন। পরে ইরানের হামলায় নিহত দুই মার্কিন সেনার পরিচয় নিশ্চিত করার পর আহত সেনাদের সংখ্যাও প্রকাশ করা হয়।   পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, চলমান সংঘাতে মার্কিন বাহিনীর হতাহতের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। এক পর্যায়ে প্রতিরক্ষা দপ্তরের অনলাইন ডেটাবেসে নিহত সেনার সংখ্যা ১৮ এবং আহতের সংখ্যা ৪৪৭ দেখানো হলেও পরে সেটি কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই আগের তথ্য অনুযায়ী সংশোধন করা হয়। এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।   মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থাপনায় একাধিক হামলা চালিয়েছে ইরান। এছাড়া শনিবার ইরাকে আরও এক মার্কিন সেনার মৃত্যু হয়েছে। এসব ঘটনার ফলে অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।   অন্যদিকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা সোমবার কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। আইআরজিসির ভাষ্য অনুযায়ী, কুয়েতের আলি আল-সালেম বিমানঘাঁটি, ক্যাম্প আরিফজান এবং বাহরাইনের সালমান বন্দর ও সাখির বিমানঘাঁটি লক্ষ্যবস্তু ছিল। তবে এসব হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।   এদিকে বাহরাইনের প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, সোমবার একাধিক দফায় চালানো আকাশপথের হামলা সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে। তবে হামলার প্রকৃতি বা সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।   বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাত যত দীর্ঘায়িত হচ্ছে, ততই মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের ওপর ঝুঁকি বাড়ছে। একই সঙ্গে জ্বালানি সরবরাহ, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথেও এর প্রভাব পড়ছে।   সূত্র: ওয়াশিংটন পোস্ট, সিবিএস নিউজ, পেন্টাগন।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২০, ২০২৬ ১৪:০
ড্রোন। ছবি: সংগৃহীত
ইরাকে ভূপাতিত ইরানি ড্রোন নিষ্ক্রিয় করতে গিয়ে নিহত মার্কিন সেনা, আহত আরও একজন

উত্তর ইরাকে ভূপাতিত একটি ইরানি ড্রোনের অবিস্ফোরিত অংশ নিয়ন্ত্রিতভাবে নিষ্ক্রিয় করার সময় এক মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও একজন সেনা সামান্য আহত হয়েছেন। রোববার (স্থানীয় সময়) এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।   সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৮ জুলাই উত্তর ইরাকে এই ঘটনা ঘটে। ভূপাতিত ইরানি একমুখী হামলাকারী ড্রোনের (ওয়ান-ওয়ে অ্যাটাক ড্রোন) অবিস্ফোরিত অংশ নিরাপদে ধ্বংস করার জন্য নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ পরিচালনার সময় ওই সেনা নিহত হন। একই ঘটনায় আরেক মার্কিন সেনা সামান্য আহত হন এবং তিনি চিকিৎসা নিচ্ছেন। নিহত সেনার পরিবারের সদস্যদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো না হওয়া পর্যন্ত তার পরিচয় প্রকাশ করা হবে না বলে জানিয়েছে সেন্টকম।   এর আগে গত শুক্রবার জর্ডানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহত হন এবং একজন নিখোঁজ হন। পরে ঘটনাস্থল থেকে কিছু অজ্ঞাত দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সেন্টকম। উদ্ধার হওয়া দেহাবশেষ নিখোঁজ সেনার কি না, তা নিশ্চিত করতে পরীক্ষার কাজ চলছে।   সব মিলিয়ে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ১৭ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। মার্কিন বাহিনী টানা নবম রাতের মতো ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছে। ওয়াশিংটনের দাবি, এসব হামলায় ইরানের সামরিক অবকাঠামো, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এবং হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের জন্য হুমকি সৃষ্টি করতে পারে এমন স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।   অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে ইরানও উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে কুয়েত, জর্ডান ও বাহরাইনসহ কয়েকটি দেশ তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করেছে।   বিশ্লেষকদের মতে, এক মাস আগে হওয়া অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে যাওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে সংঘাত দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে। বিশেষ করে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে চলমান উত্তেজনা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১৯, ২০২৬ ১৪:০
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে মার্কিন সেনারা। ছবি: সংগৃহীত
ইরানে বাড়ছে হামলা, মধ্যপ্রাচ্যে ৫০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক সংঘাত আরও তীব্র আকার নিয়েছে। টানা সপ্তম রাতের মতো উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যে অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, ইরানের সামরিক সক্ষমতা লক্ষ্য করে নতুন দফায় বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে ইরান দাবি করেছে, কুয়েত ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে তারা ড্রোন হামলা চালিয়েছে।    যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) শনিবার এক বিবৃতিতে জানায়, যুদ্ধবিমান, ড্রোন, যুদ্ধজাহাজ ও অন্যান্য সামরিক সক্ষমতা ব্যবহার করে ইরানের নজরদারি কেন্দ্র, সামরিক লজিস্টিক অবকাঠামো, ভূগর্ভস্থ অস্ত্রাগার এবং সামুদ্রিক সামরিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্টের নির্দেশে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়।    মার্কিন সামরিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ৫০ হাজারেরও বেশি মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। চলমান সংঘাতের কারণে তাদের সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।  এদিকে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের হরমোজগান প্রদেশে নতুন হামলার আশঙ্কায় স্থানীয় প্রশাসন বাসিন্দাদের অপ্রয়োজনীয় চলাচল এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছে। দেশটির তাসনিম সংবাদ সংস্থার বরাতে জানানো হয়েছে, সাম্প্রতিক হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামোর অবস্থা মূল্যায়নের কাজ চলছে এবং বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা চালুর চেষ্টা করা হচ্ছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দাবি, সর্বশেষ হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন।    উপসাগরীয় দেশ বাহরাইনেও নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো বিমান হামলার সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হলে বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সময়ে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, কুয়েতের ক্যাম্প উদাইরি ও আলী আল সালেম ঘাঁটির বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা এবং জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি (আল আজরাক) বিমানঘাঁটির জ্বালানি সংরক্ষণাগার লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এসব দাবির স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।    চলমান সংঘাতের মধ্যে শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড আরও জানায়, জর্ডানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন এবং একজন নিখোঁজ রয়েছেন। এই ঘটনার পর অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।    যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১৮, ২০২৬ ১৪:০
ইরানি হামলার মুখে বাহরাইনের ঘাঁটি খালি করে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার
ইরানি হামলার মুখে বাহরাইনের ঘাঁটি খালি করে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার

যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সাময়িকভাবে সংঘাত থেকে সরে এসে আলোচনার পথে ফিরলেও সাম্প্রতিক যুদ্ধের প্রভাব এখনো স্পষ্ট। বিশেষ করে বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিতে ইরানের ধারাবাহিক হামলা মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।   বাহরাইনের ‘নেভাল সাপোর্ট অ্যাক্টিভিটি’ নামে পরিচিত এই ঘাঁটিটি মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর হিসেবে কাজ করে। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌ-অভিযানের প্রধান নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র হওয়ায় এটি যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের বাইরে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি হিসেবে বিবেচিত।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ফেব্রুয়ারির শেষভাগ থেকে জুন পর্যন্ত এই ঘাঁটিতে একাধিক দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় ইরান। শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকলেও সব হামলা প্রতিহত করা সম্ভব হয়নি। কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যূহ ভেদ করে ঘাঁটির ভেতরে আঘাত হানে।   এই হামলায় ঘাঁটির মূল কমান্ড হেডকোয়ার্টারসহ এক ডজনের বেশি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি মার্কিন বাহিনীর ব্যবহৃত দুটি স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থাও আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন এখনো ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ প্রকাশ করেনি।   মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামলা তীব্র হওয়ার আগেই অধিকাংশ সেনা ও কর্মকর্তাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। ফলে বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স বলেন, স্থাপনা নয়, মানুষের জীবন রক্ষা করাই ছিল তাদের প্রধান অগ্রাধিকার।   তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই কৌশল কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। ইরান সংঘাতের সময় ৮ হাজারের বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করলেও পুরো সময়জুড়ে মাত্র দুটি হামলায় মার্কিন সেনাদের প্রাণহানি ঘটেছে।   তবে এই হামলা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পরিকল্পনাকারীদের জন্য বড় ধরনের সতর্কবার্তা হিসেবে এসেছে। কারণ এতে স্পষ্ট হয়েছে, অত্যন্ত সুরক্ষিত বলে বিবেচিত ঘাঁটিও পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত নয়। বিশেষ করে তুলনামূলক কম খরচে তৈরি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে ইরান যে ধরনের ক্ষতি করতে পেরেছে, তা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।   ফলে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত বড় ও স্থায়ী সামরিক ঘাঁটিগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠেছে। মার্কিন কর্মকর্তারা মনে করছেন, একটি স্থানে বিপুল সেনা ও সরঞ্জাম কেন্দ্রীভূত করে রাখার কৌশল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। এর পরিবর্তে বাহিনীকে বিভিন্ন ঘাঁটিতে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা বিবেচনা করা হচ্ছে।   একই সঙ্গে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা মোকাবিলায় নতুন প্রযুক্তি ও কৌশল উন্নয়নের দিকেও জোর দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তন মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির ধরনেই বড় ধরনের রূপান্তর আনতে পারে।

নীলুফা নিশাত জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০
পেন্টাগনের সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ (বাঁয়ে) ও জেনারেল ড্যান কেইনি। ১৯ মার্চ ২০২৬। ছবি: এএফপি
ইরানে সম্ভাব্য স্থল অভিযানের খবরে মার্কিন কংগ্রেসে তীব্র প্রতিক্রিয়া

ইরানে সীমিত স্থল অভিযান পরিচালনার পেন্টাগনের পরিকল্পনা প্রকাশ হতেই মার্কিন আইনপ্রণেতাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে হাজারো মার্কিন সেনা মোতায়েনের মধ্যে এই পরিকল্পনার তথ্য প্রকাশ্যে আসায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।   সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, সম্ভাব্য অভিযান পূর্ণমাত্রার হবে না। এতে বিশেষ বাহিনী ও পদাতিক সৈন্যদের সমন্বয় থাকবে, তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কখন অনুমোদন দেবেন তা এখনও নিশ্চিত নয়।   রিপাবলিকান সিনেটর জেমস ল্যাঙ্কফোর্ড বলেছেন, “সেনাদের উদ্দেশ্য এবং কার্যক্রম আমাদের স্পষ্টভাবে জানা প্রয়োজন। যদি এটি শুধু সীমিত লক্ষ্য অর্জনের জন্য হয়, তা দীর্ঘস্থায়ী দখলের চেয়ে ভিন্ন।” তিনি আরও যোগ করেছেন, অসমাপ্ত যুদ্ধের ঝুঁকি সবচেয়ে বড় সমস্যা।   হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, পেন্টাগনের কাজ হলো সর্বোচ্চ বিকল্পের জন্য প্রস্তুত থাকা। এর মানে এই নয় যে প্রেসিডেন্ট ইতিমধ্যেই কোনো সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।   রোববার মধ্যপ্রাচ্যে ৩ হাজার ৫০০ মার্কিন সেনা পৌঁছেছে, যার মধ্যে মেরিন বাহিনীও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের রণতরী ইউএসএস ত্রিপোলি নেতৃত্বে এই ইউনিটের সাথে আক্রমণ ও পরিবহন সরঞ্জামও মোতায়েন করা হয়েছে। সেনা সমাবেশের কারণে হরমুজ প্রণালিসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সুরক্ষার পাশাপাশি ইরানের তেল ও ইউরেনিয়াম স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে।   মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের নেতা স্টিভ স্ক্যালিস বলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মকাণ্ড বিশ্বজুড়ে বিপদ তৈরি করছে। এই পরিস্থিতির মোকাবিলা শুধু ইসরায়েল নয়, প্রতিবেশী আরব দেশগুলোকেও একত্রিত করেছে।   ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা এই পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক। নিউ জার্সির সিনেটর কোরি বুকার বলেছেন, কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়া প্রেসিডেন্ট এমন সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন, যেখানে বের হওয়ার দৃশ্যমান পথ নেই। এটি আফগানিস্তানের পর সবচেয়ে বড় সামরিক সম্পৃক্ততা।   মেরিল্যান্ডের সিনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেন আশা প্রকাশ করেছেন, পেন্টাগনের অতিরিক্ত বরাদ্দ কংগ্রেসে অনুমোদিত হবে না। তিনি বলেন, এ যুদ্ধ মার্কিন নাগরিকদের নিরাপত্তা নয়, বরং বিপদ বাড়াচ্ছে। প্রতিদিন কোটি কোটি ডলার ব্যয় হচ্ছে এবং জ্বালানি খরচও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

Unknown মার্চ ২৯, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের হামলায় মার্কিন ‘ই-৩ সেন্ট্রি’ উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত, ১২ সেনা আহত

প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি ‘ই-৩ সেন্ট্রি’ (E-3 Sentry) উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ১২ মার্কিন সেনা, যাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর। আল–জাজিরা জানিয়েছে, আহত সেনার সংখ্যা ১৫ পর্যন্ত হতে পারে।   ‘ই-৩ সেন্ট্রি’ মূলত আওয়াকস (Airborne Warning and Control System) হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এই উড়োজাহাজ দূরপাল্লার রাডার ও সেন্সর ব্যবহার করে শত শত মাইল দূরে ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও যুদ্ধবিমান শনাক্ত করতে সক্ষম। এছাড়া এটি যুদ্ধক্ষেত্রে বিমান ও সমুদ্রবাহিনী নিয়ন্ত্রণ, কমান্ড ও কন্ট্রোল এবং মিত্রবাহিনীকে নির্দেশনা প্রদানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।   হামলায় আরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দুটি ‘KC-135’ রিফুয়েলিং উড়োজাহাজ। এরা মাঝ আকাশে যুদ্ধবিমান, বোমারু বিমান ও নজরদারি উড়োজাহাজে জ্বালানি সরবরাহের জন্য ব্যবহৃত হয়। এর আগের হামলায়ও একই ঘাঁটিতে পাঁচটি রিফুয়েলিং উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, যদিও তা পুরোপুরি ধ্বংস হয়নি।   যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) নিশ্চিত করেছে, আহত উড়োজাহাজগুলি শত্রুপক্ষ বা মিত্রপক্ষের সরাসরি আঘাতের কারণে বিধ্বস্ত হয়নি। তবে ইরাকের ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স’ নামের একটি গোষ্ঠী দাবি করেছে, তারা একটি উড়োজাহাজ ভূপাতিত করেছে।   ন্যাটোও ‘ই-৩এ’ আওয়াকস উড়োজাহাজ ব্যবহার করে। এই বিমানগুলো আকাশপথে নজরদারি, যুদ্ধক্ষেত্র ব্যবস্থাপনা, কমান্ড ও কন্ট্রোল এবং মিত্রবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় রক্ষায় ব্যবহৃত হয়। বোয়িং–৭০৭-এর এই সংস্করণে গম্বুজাকৃতির রাডার ডোম বসানো থাকে, যা উড়োজাহাজকে দূরপাল্লায় লক্ষ্য শনাক্তে সক্ষম করে।

Unknown মার্চ ২৮, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের জন্য নির্ধারিত ক্যাটাগরিতে এসেছে বড় অগ্রগতি। ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

তাবাস্সুম জুলাই ২০, ২০২৬ ১৪:০