ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ওয়াশিংটনকে কড়া বার্তা দিয়ে বলেছেন, ভিনদেশে আগ্রাসন চালানোর চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উচিত নিজেদের অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা দমনে বেশি মনোযোগী হওয়া। রোববার (২৯ মার্চ) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইসরায়েলঘেঁষা নীতির কারণে খোদ আমেরিকার সাধারণ মানুষের মধ্যেই চরম অসন্তোষ ও বিক্ষোভ দানা বাঁধছে। পেজেশকিয়ান তাঁর পোস্টে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে আলোচিত ‘নো কিংস’ (No Kings) বিক্ষোভের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তাঁর মতে, এই আন্দোলনই প্রমাণ করে যে মার্কিন জনগণের একটি বড় অংশ তাদের দেশের নীতিনির্ধারণে বিদেশি প্রভাব নিয়ে বিরক্ত ও ক্ষুব্ধ। তিনি আরও যোগ করেন, মার্কিন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিশেষজ্ঞদের উচিত ট্রাম্পকে এই সত্য জানানো যে, সাধারণ আমেরিকানরা নিজেদের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে ইসরায়েলকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নীতি আর মেনে নিতে পারছে না। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে এক ভয়াবহ যুদ্ধ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার মৃত্যুর পর ইরানও পাল্টা হামলা চালিয়েছে। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত থামাতে মিশর, সৌদি আরব ও তুরস্কের মতো দেশগুলো মধ্যস্থতার চেষ্টা করলেও, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি চরম অবিশ্বাসের কারণে ইরান এখনো আলোচনার টেবিলে বসতে রাজি হয়নি। সূত্র: তাসনিম নিউজ
মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, যেকোনো হুমকি ও সন্ত্রাস মোকাবিলায় ইরান রণক্ষেত্রে প্রস্তুত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর সাম্প্রতিক হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে তিনি এ মন্তব্য করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে পেজেশকিয়ান বলেন, “ইরানের বিরুদ্ধে এ ধরনের হুমকি আমাদের আরও ঐক্যবদ্ধ করছে। যেকোনো কাণ্ডজ্ঞানহীন বা প্রলাপপূর্ণ হুমকির বিরুদ্ধে আমরা দৃঢ় প্রতিরোধ গড়ে তুলব।” হরমুজ প্রণালি প্রসঙ্গে তিনি জানান, ইরানের সার্বভৌমত্ব বা ভৌগোলিক অখণ্ডতা লঙ্ঘন না হলে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। তবে কোনো ধরনের আগ্রাসন সহ্য করা হবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন।বিশ্লেষকদের মতে, পেজেশকিয়ানের এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, তেহরান তাদের জ্বালানি অবকাঠামো ও কৌশলগত স্বার্থ রক্ষায় কোনো আপস করতে রাজি নয়। উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবে বিবেচিত, যা ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক উত্তেজনা বিরাজ করছে।
দখলদার ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ বন্ধ করার জন্য তিনটি শর্ত জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। বুধবার মাইক্রো ব্লগিং সাইট এক্সে এক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, এই বিষয়ে তার সঙ্গে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। পেজেশকিয়ান বলেন, যুদ্ধ বন্ধ করতে হলে ইরানে চালানো সামরিক হামলার ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, ইরানের ন্যায্য অধিকারগুলোকে স্বীকৃতি দিতে হবে এবং ভবিষ্যতে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র কোনো আগ্রাসন চালাবে না, তা আন্তর্জাতিকভাবে গ্যারান্টি দিতে হবে। মাইক্রো ব্লগিং সাইটে তিনি লিখেছেন, ইহুদিবাদী (ইসরায়েল) ও যুক্তরাষ্ট্রের উসকানিতে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ থামানোর একমাত্র পথ হলো—ইরানের ন্যায্য অধিকার স্বীকৃতি, ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং ভবিষ্যতে আর কোনো হামলা হবে না বলে আন্তর্জাতিকভাবে শক্তিশালী গ্যারান্টি দেওয়া। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই শর্তগুলো মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা কমাতে এবং রাজনৈতিক সমঝোতা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত রণক্ষেত্রে যখন বারুদের গন্ধ তীব্রতর হচ্ছে, ঠিক তখনই সরাসরি শত্রুপক্ষকে কড়া বার্তা দিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান চরম উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক বিশেষ ভাষণে তিনি দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ইস্পাতকঠিন সংকল্পের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত এই ভাষণে পেজেশকিয়ান স্পষ্ট ঘোষণা করেন যে, মাতৃভূমির এক ইঞ্চি জমিও শত্রুর দখলে যেতে দেওয়া হবে না। আঞ্চলিক রাজনীতির মারপ্যাঁচ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইরান সবসময় প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়, কিন্তু বাইরের শক্তিগুলো এই অঞ্চলে বিভেদ সৃষ্টির ষড়যন্ত্র করছে। এই মুহূর্তে দেশের মাটি ও জলসীমা রক্ষা করা প্রতিটি নাগরিকের পবিত্র দায়িত্ব বলে তিনি অভিহিত করেন। ভাষণে প্রেসিডেন্ট আরও উল্লেখ করেন, বর্তমানে ইরান যেসব পাল্টা হামলা চালাচ্ছে তা মূলত আত্মরক্ষার অনিবার্য অংশ। অন্য কোনো দেশের ভূখণ্ড থেকে আসা আগ্রাসনের জবাব দিতে তেহরান বাধ্য হচ্ছে, তবে এর অর্থ এই নয় যে সেই নির্দিষ্ট দেশের জনগণের সঙ্গে ইরানের কোনো বিরোধ রয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যারাই ইরানকে আঘাত করার দুঃসাহস দেখাবে, তাদের অত্যন্ত জোরালো ও দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে। আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলমান সংকটে সামরিক বাহিনীর মনোবল বাড়ানো এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে দেশপ্রেমের জোয়ার আনতেই এই জরুরি ভাষণ। ভাষণের শেষভাগে তিনি জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার এবং প্রয়োজনে রাজপথে নেমে শত্রুর মোকাবিলা করার আহ্বান জানান। প্রেসিডেন্টের এই হার্ডলাইন অবস্থান বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন এবং শক্তিশালী মাত্রা যোগ করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনীর পক্ষ থেকে বেসামরিক স্থাপনা, বিশেষ করে স্কুল ও হাসপাতালে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এ ধরনের বর্বরোচিত হামলার মুখেও ইরান কোনোভাবেই মাথা নত করবে না। সোমবার (২ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “হাসপাতালে হামলা মানে জীবনের ওপর আঘাত, আর স্কুলে হামলা মানে একটি জাতির ভবিষ্যতের ওপর আঘাত।” অসুস্থ রোগী এবং শিশুদের লক্ষ্যবস্তু করাকে আন্তর্জাতিক মানবিক নীতিমালার চরম লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেন তিনি। প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান এই অপরাধের বিরুদ্ধে বিশ্ববাসীকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, পুরো বিশ্বের উচিত এই বর্বরোচিত কাজের নিন্দা জানানো। ইরান এই ধরনের অপরাধের মুখে চুপ থাকবে না। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে শিক্ষা ও চিকিৎসা সেবাকেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করায় ইরানের পক্ষ থেকে এই কড়া হুঁশিয়ারি এলো। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বেসামরিক স্থাপনায় হামলার এই ঘটনা আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে এবং সংঘাতকে আরও উসকে দিতে পারে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি হত্যাকাণ্ডকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন বলে মন্তব্য করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। রোববার এক বিবৃতিতে তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান–এর কাছে গভীর শোক ও সমবেদনা জানান। রুশ রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা তাস নিউজ এজেন্সি–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুতিন খামেনির মৃত্যুকে ‘নৃশংস হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, এ ঘটনা মানবিক নৈতিকতার সব আদর্শ এবং আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। অন্যদিকে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এই হত্যাকাণ্ডকে ‘মুসলিম বিশ্বের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে প্রচারিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষ ও বিশ্বজুড়ে শিয়া সম্প্রদায়ের একজন শীর্ষ নেতাকে এভাবে হত্যা করা মুসলিমদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য আগ্রাসন হিসেবে বিবেচিত হবে। তিনি আরও বলেন, এই ঘটনার পরিকল্পনাকারী ও বাস্তবায়নকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়া ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বৈধ অধিকার ও দায়িত্ব। একইসঙ্গে তিনি দেশের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। খামেনির মৃত্যুকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। আন্তর্জাতিক মহলেও এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উদ্বেগ বাড়ছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের উদ্দেশে কঠোর বার্তা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। রোববার (১ মার্চ) সকালে প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে খামেনির হত্যাকে ‘গুরুতর অপরাধ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয় এবং এর কঠোর প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, “এই গুরুতর অপরাধ কখনোই অপ্রতিক্রিয়ায় থাকবে না। এটি ইসলামি বিশ্ব ও শিয়াবাদের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। এই মহান নেতার বিশুদ্ধ রক্ত এক উন্মত্ত স্রোতের মতো প্রবাহিত হয়ে মার্কিন-জায়োনিস্টদের শোষণ ও অপরাধ নির্মূল করবে।” আরও বলা হয়, “আমরা আমাদের সর্বশক্তি ও দৃঢ়তা নিয়ে, ইসলামি জাতি এবং বিশ্বের মুক্ত মানুষদের সমর্থনসহ, এই অপরাধের পরিকল্পনাকারী ও দায়ীদের অনুতপ্ত করব।” প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণার পাশাপাশি সাত দিনের সরকারি ছুটিও ঘোষণা করেন। এর আগে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল জানায়, শনিবার ভোরে রাজধানী তেহরানে নিজ কার্যালয়ে খামেনিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত স্যাটেলাইট ছবিতে ভবনটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র দেখা গেছে, যা বড় ধরনের বিস্ফোরণের ইঙ্গিত দেয়। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ জানায়, দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় নিজ কার্যালয়েই খামেনি নিহত হন। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের মাধ্যমে রেজা শাহ পাহলভীর রাজতন্ত্র উৎখাতের পর ইরানে ধর্মীয় প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয় এবং সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার শাসনব্যবস্থা চালু হয়। এরপর দেশটি দুজন সর্বোচ্চ নেতা পেয়েছে, যাঁরা ‘আয়াতুল্লাহ’ উপাধি ধারণ করেন। সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে খামেনি ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ডার-ইন-চিফ ছিলেন।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।