মাসুদ পেজেশকিয়ান

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ছবি: রয়টার্স
কাতারে আটকে থাকা ৬ বিলিয়ন ডলার ফেরত পাচ্ছে ইরান: পেজেশকিয়ান

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, কাতারে আটকে থাকা ইরানের ১২ বিলিয়ন ডলারের তহবিলের মধ্যে ৬ বিলিয়ন ডলার অবমুক্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে শান্তিচুক্তির আওতায় দেশটির জ্বালানি তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল খাতের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। এই অর্জনকে তিনি ইরানি জনগণের জন্য ‘বড় বিজয়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।   সোমবার কোম শহর সফরে গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ শুবেইরি জানজানির সঙ্গে সাক্ষাতের সময় এসব কথা বলেন পেজেশকিয়ান। তিনি জানান, কাতারে ইরানের মোট ১২ বিলিয়ন ডলারের তহবিল রয়েছে। এর মধ্যে ৬ বিলিয়ন ডলার ফেরত আসছে এবং বাকি অর্থ অবমুক্তির প্রক্রিয়াও চলছে।   সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত বৈঠক এবং সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) আওতায় এই অর্থ ছাড় ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। যুদ্ধের সময় ইরানি জনগণের ভূমিকার প্রশংসা করে প্রেসিডেন্ট বলেন, শীর্ষ নেতা, মন্ত্রী, সামরিক কমান্ডার এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের পাশাপাশি স্কুলশিক্ষার্থীরাও নিহত হয়েছেন।   তবে দেশ রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনী, সরকার ও সাধারণ মানুষ ঐক্যবদ্ধ ছিল। পেজেশকিয়ানের ভাষ্য, ইরানকে অস্থিতিশীল করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়েছিল। তারা ধারণা করেছিল অর্থনৈতিক চাপে ইরান ভেঙে পড়বে, কিন্তু জনগণের প্রতিরোধে সেই হিসাব ভুল প্রমাণিত হয়েছে।   পারমাণবিক কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, ইরান কোনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে চায় না। এটি দেশটির সর্বোচ্চ নেতৃত্বের দীর্ঘদিনের নীতি এবং এখনো বহাল রয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্দেশে তিনি বলেন, ইরানের সব কার্যক্রম দেশের প্রয়োজন ও ঘোষিত নীতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।   পেজেশকিয়ান আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত ইসরায়েলকে এই সমঝোতায় রাজি হতে বাধ্য করেছে। তবে ইসরায়েল এবং কিছু বিরোধী গোষ্ঠী এখনো এর বাস্তবায়নের বিরোধিতা করছে।   তিনি জানান, তার সরকার ইতোমধ্যে দেশ পুনর্গঠনের পরিকল্পনা শুরু করেছে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জন্য বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে।

Unknown জুন ২৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
‘ক্ষেপণাস্ত্র না থাকলে ইরানের পরিণতি গাজার মতো হতো’

ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা ও কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে তেহরান। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, দেশের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা না থাকলে ইরানও গাজার মতো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হতে পারত। একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে জানিয়েছেন, জাতীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে কোনো দেশের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা বা সমঝোতায় যাবে না ইরান।   মঙ্গলবার পাকিস্তান সফরকালে দেওয়া বক্তব্যে পেজেশকিয়ান বলেন, ইরানের প্রতিরক্ষা শক্তি দেশটির নিরাপত্তার প্রধান ভিত্তি। তাঁর দাবি, এই সক্ষমতার কারণেই দেশটি সম্ভাব্য বড় ধরনের হামলা ও ধ্বংসযজ্ঞ থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পেরেছে। ইরানি প্রেসিডেন্ট বলেন, “যদি আমাদের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা না থাকত, তাহলে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র গাজার মতোই ইরানকে ধ্বংস করে দিত। তারা শিশু, নারী কিংবা বয়স্ক কাউকেই রেহাই দিত না।” তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে তেহরানের অবস্থান অপরিবর্তিত থাকবে।   পেজেশকিয়ানের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ-পরবর্তী সমঝোতা এবং উত্তেজনা কমানোর লক্ষ্যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় পাকিস্তানকে গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দেখা হচ্ছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ সম্প্রতি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং মধ্যস্থতাকারীদের মধ্যে হওয়া প্রাথমিক সমঝোতায় ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।   চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর ইরানকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ওই সংঘাতের সময় ইরানও পাল্টা জবাব হিসেবে ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ও বিপুলসংখ্যক ড্রোন নিক্ষেপ করে। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সংঘাতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা দেশটির প্রতিরক্ষা কৌশলের কেন্দ্রীয় উপাদান হিসেবে আবারও সামনে এসেছে।   ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির ইতিহাসও বেশ পুরোনো। ১৯৮০-এর দশকে ইরাকের সঙ্গে দীর্ঘ ও রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের সময় আকাশ প্রতিরক্ষার সীমাবদ্ধতা উপলব্ধি করে তেহরান। এরপর থেকেই দেশটি নিজস্ব ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি গড়ে তোলার দিকে গুরুত্ব দেয়। বছরের পর বছর ধরে সেই কর্মসূচির আওতায় ইরান ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা, নির্ভুলতা এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়িয়েছে। বর্তমানে ইরানের কিছু ক্ষেপণাস্ত্র মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে আঘাত হানার সক্ষমতা রাখে বলে পশ্চিমা দেশগুলোর দাবি।   ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের এই কর্মসূচিকে নিজেদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অন্যতম বড় হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে আসছে। তেল আবিবের মতে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার এবং আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতা বাড়ায়। অন্যদিকে তেহরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক এবং এটি কোনো দেশের বিরুদ্ধে আগ্রাসনের উদ্দেশ্যে নয়।   যুদ্ধ শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং তেহরানের মিত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থনের বিষয়টিও আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করতে চেয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এ বিষয়ে কিছুটা নমনীয় অবস্থান দেখা গেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যে। গত সপ্তাহে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে তিনি বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের কাছে যখন ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা রয়েছে, তখন ইরানকে সীমিত মাত্রায় এমন সক্ষমতা থেকে পুরোপুরি বঞ্চিত করা ন্যায্য হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।   তবে ইরানের সর্বশেষ অবস্থান থেকে স্পষ্ট, দেশটির নেতৃত্ব ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে জাতীয় নিরাপত্তার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দেখছে এবং ভবিষ্যৎ আলোচনায় এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে না।   সূত্র: আল আরাবিয়া

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ২৩, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান, কাতারে অবরুদ্ধ ৬ বিলিয়ন ডলার ফেরত পাচ্ছে ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একটি প্রাথমিক চুক্তির অংশ হিসেবে কাতারে দীর্ঘদিন ধরে অবরুদ্ধ থাকা ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিপুল সম্পদ অবশেষে ফেরত পেতে যাচ্ছে ইরান। রোববার (২১ জুন) দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম আইআরআইবি-এর সংবাদে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক রাজনীতির প্রেক্ষাপটে এই ঘটনাকে একটি তাৎপর্যপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।   প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান তাঁর বক্তব্যে জানিয়েছেন, আজ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এই আলোচনা শুরু হওয়ার সাথে সাথেই কাতারে আটকে থাকা ইরানের এই ৬ বিলিয়ন ডলার অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত হবে এবং তা তেহরানে ফেরত আসবে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে দীর্ঘদিন ধরে এই অর্থ আটকে থাকায় ইরানের অর্থনীতিতে এর প্রভাব পড়ছিল, তাই এই অর্থ ফেরত পাওয়া তেহরানের জন্য একটি বড় স্বস্তির খবর।   তবে অবরুদ্ধ অর্থ ফেরত পাওয়ার এই সমঝোতার মধ্যেও নিজেদের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে তেহরানের কঠোর ও নীতিগত অবস্থান পুনরায় স্পষ্ট করেছেন পেজেশকিয়ান। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে জানান, ইরান কখনোই নিজেদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার ত্যাগ করবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, অপর পক্ষকে অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের এই বাস্তব সত্যটি মেনে নিতেই হবে।   ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে ওয়াশিংটনসহ পশ্চিমা বিশ্বের দীর্ঘদিনের উদ্বেগের বিষয়েও সরাসরি কথা বলেছেন প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান। তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় স্পষ্ট করে জানান, পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা এর উন্নয়নের কোনো উদ্দেশ্য বা পরিকল্পনা ইরানের নেই। এটি কোনো নতুন বা আকস্মিক সিদ্ধান্ত নয় উল্লেখ করে তিনি জানান, বিগত বহু বছর ধরেই ইসলামিক বিপ্লবের শহীদ নেতারা পারমাণবিক অস্ত্রের বিরুদ্ধে ইরানের এই নীতিগত অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্টভাবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে তুলে ধরেছেন।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ২০, ২০২৬ ১৪:০
ছবি : সংগৃহীত
সমঝোতায় পৌঁছাতে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘কর্তৃত্ববাদী’ মনোভাব ছাড়ার আহ্বান পেজেশকিয়ানের

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান উত্তেজনা নিরসনে আলোচনার প্রেক্ষাপটে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রকে ‘কর্তৃত্ববাদী’ মনোভাব পরিহারের আহ্বান জানিয়েছেন।   সোমবার (১৩ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন।   পেজেশকিয়ান তাঁর পোস্টে বলেন, মার্কিন সরকার যদি তাদের কর্তৃত্ববাদী অবস্থান থেকে সরে এসে ইরানি জনগণের অধিকারকে সম্মান করে, তাহলে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতায় পৌঁছানোর পথ তৈরি হতে পারে।   এ সময় তিনি ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ও আলোচনাকারী দলের প্রধান মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ-এর প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, আলোচনাকারী দলের সদস্যদের প্রচেষ্টা প্রশংসনীয় এবং তাদের জন্য শুভকামনা জানান।   পেজেশকিয়ানের মতে, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সমতা ও ন্যায্যতার ভিত্তিতেই দীর্ঘদিনের এই দ্বন্দ্বের টেকসই সমাধান সম্ভব।   রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, বর্তমান কূটনৈতিক অচলাবস্থা কাটাতে হলে উভয় পক্ষকেই নমনীয় অবস্থান নিতে হবে। অন্যথায় উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে এবং সমঝোতার পথ কঠিন হয়ে উঠবে।

Unknown এপ্রিল ১২, ২০২৬ ১৪:০
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান | ছবি: সংগৃহীত
আমাদের আঙুল এখনো ট্রিগারে: লেবানন ইস্যুতে ইসরায়েলকে ইরানের কড়া বার্তা

লেবাননে বুধবার ও বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি বাহিনীর চালানো ভয়াবহ হামলাকে "প্রাথমিক যুদ্ধবিরতি চুক্তির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন" হিসেবে অভিহিত করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই কড়া প্রতিক্রিয়া জানান।   প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান ইসরায়েলি এই আগ্রাসনকে "প্রতারণা এবং সম্ভাব্য চুক্তিগুলো না মানার একটি বিপজ্জনক লক্ষণ" বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইসরায়েলের এ ধরনের কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলে চলমান শান্তি আলোচনা সম্পূর্ণ অর্থহীন হয়ে পড়বে। লেবাননের জনগণের প্রতি তেহরানের অবিচল সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি স্পষ্ট জানান, "ইরান তার লেবানিজ ভাই-বোনদের কখনোই একা ফেলে যাবে না।"   একইসাথে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়ে ইরানি প্রেসিডেন্ট বলেন, "আমাদের হাত এখনো (বন্দুকের) ট্রিগারেই আছে।" বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আগামী শনিবার ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া দ্বিপাক্ষিক শান্তি আলোচনার প্রাক্কালে পেজেশকিয়ানের এই বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি পরিস্থিতিকে নতুন করে চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিল।   উল্লেখ্য, বুধবার বৈরুতসহ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ২০০ জন নিহত হয়েছেন, যা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।

তাবাস্সুম এপ্রিল ৮, ২০২৬ ১৪:০
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
ট্রাম্পকে নিজের ঘর সামলানোর পরামর্শ পেজেশকিয়ানের: মার্কিন অস্থিরতা নিয়ে খোঁচা

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ওয়াশিংটনকে কড়া বার্তা দিয়ে বলেছেন, ভিনদেশে আগ্রাসন চালানোর চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উচিত নিজেদের অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা দমনে বেশি মনোযোগী হওয়া। রোববার (২৯ মার্চ) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইসরায়েলঘেঁষা নীতির কারণে খোদ আমেরিকার সাধারণ মানুষের মধ্যেই চরম অসন্তোষ ও বিক্ষোভ দানা বাঁধছে।   পেজেশকিয়ান তাঁর পোস্টে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে আলোচিত ‘নো কিংস’ (No Kings) বিক্ষোভের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তাঁর মতে, এই আন্দোলনই প্রমাণ করে যে মার্কিন জনগণের একটি বড় অংশ তাদের দেশের নীতিনির্ধারণে বিদেশি প্রভাব নিয়ে বিরক্ত ও ক্ষুব্ধ। তিনি আরও যোগ করেন, মার্কিন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিশেষজ্ঞদের উচিত ট্রাম্পকে এই সত্য জানানো যে, সাধারণ আমেরিকানরা নিজেদের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে ইসরায়েলকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নীতি আর মেনে নিতে পারছে না।   উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে এক ভয়াবহ যুদ্ধ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার মৃত্যুর পর ইরানও পাল্টা হামলা চালিয়েছে। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত থামাতে মিশর, সৌদি আরব ও তুরস্কের মতো দেশগুলো মধ্যস্থতার চেষ্টা করলেও, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি চরম অবিশ্বাসের কারণে ইরান এখনো আলোচনার টেবিলে বসতে রাজি হয়নি।   সূত্র: তাসনিম নিউজ

তাবাস্সুম মার্চ ২৯, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
হুমকির জবাবে ‘রণক্ষেত্রে প্রস্তুত’ ইরান: প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান

মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, যেকোনো হুমকি ও সন্ত্রাস মোকাবিলায় ইরান রণক্ষেত্রে প্রস্তুত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর সাম্প্রতিক হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে তিনি এ মন্তব্য করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে পেজেশকিয়ান বলেন, “ইরানের বিরুদ্ধে এ ধরনের হুমকি আমাদের আরও ঐক্যবদ্ধ করছে। যেকোনো কাণ্ডজ্ঞানহীন বা প্রলাপপূর্ণ হুমকির বিরুদ্ধে আমরা দৃঢ় প্রতিরোধ গড়ে তুলব।”   হরমুজ প্রণালি প্রসঙ্গে তিনি জানান, ইরানের সার্বভৌমত্ব বা ভৌগোলিক অখণ্ডতা লঙ্ঘন না হলে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। তবে কোনো ধরনের আগ্রাসন সহ্য করা হবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন।বিশ্লেষকদের মতে, পেজেশকিয়ানের এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, তেহরান তাদের জ্বালানি অবকাঠামো ও কৌশলগত স্বার্থ রক্ষায় কোনো আপস করতে রাজি নয়।   উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবে বিবেচিত, যা ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক উত্তেজনা বিরাজ করছে।

Unknown মার্চ ২২, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের জন্য নির্ধারিত ক্যাটাগরিতে এসেছে বড় অগ্রগতি। ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

তাবাস্সুম জুলাই ২০, ২০২৬ ১৪:০