- প্রচ্ছদ
- Topic
যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্রের উটাহ অঙ্গরাজ্যে প্রায় ৭০০ ফুট উঁচু পাহাড় থেকে উইংসুট পরে লাফিয়ে গ্যাব রেইলি নামের ২৭ বছর বয়সী এক দমকলকর্মীর মৃত্যু হয়েছে। রোববার সকালে ক্যাশ কাউন্টির লিথামস হলো এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ক্যাশ কাউন্টি শেরিফের অফিসের তথ্য অনুযায়ী, মিলভিল ক্যানিয়নের পূর্বে আট থেকে দশজনের একটি দলের সঙ্গে বেস জাম্পিং করছিলেন রেইলি। লাফ দেওয়ার পর তাঁর উইংসুট থেকে পর্যাপ্ত উড্ডয়নশক্তি তৈরি হয়নি। দ্রুতগতিতে মাটিতে আঘাত লাগলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ জানানো হয়নি। দুর্গম এলাকায় উদ্ধারকর্মীদের সহায়তায় হেলিকপ্টার পাঠানো হয়। পরে সল্ট লেক সিটি ফায়ার ডিপার্টমেন্ট রেইলির পরিচয় নিশ্চিত করে। বিভাগটি জানিয়েছে, তিনি চার বছর ধরে সেখানে দমকলকর্মী হিসেবে কাজ করছিলেন। বেস জাম্পিংয়ে পাহাড়, সেতু বা ভবনের মতো স্থির উঁচু স্থান থেকে লাফ দেওয়া হয়। শেরিফের অফিস জানিয়েছে, রেইলি এ ধরনের জাম্পিংয়ে অভিজ্ঞ ছিলেন।
চীনের মাধ্যমে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কাজে ব্যবহৃত সংবেদনশীল প্রযুক্তির যন্ত্রাংশ পাঠানোর ঘটনায় ৪৪ বছর বয়সী এক ইরানি নাগরিককে ১৮ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত। রেজা দিনদার, যিনি রেন্দা দিনদার নামেও পরিচিত, যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ ও ইরানের ওপর আরোপিত বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের অভিযোগে দোষ স্বীকারের পর এই সাজা পেয়েছেন। ওয়াশিংটনের পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলার ফেডারেল আদালতে ২৫ সেপ্টেম্বর বিচারক রিকার্ডো এস. মার্টিনেজ এই সাজা ঘোষণা করেন। আদালতের নথি ও মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, দিনদারকে ১০ হাজার ডলার জরিমানাও করা হয়েছে। কারাদণ্ড শেষ হওয়ার পর আরও তিন বছর তাকে আদালতের তত্ত্বাবধানে থাকতে হবে। তিনি একটি নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত দেশে পণ্য রপ্তানি এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্য পাচারের দুটি করে অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। মামলাটির কার্যক্রম শুরু হয়েছিল এক দশকেরও বেশি আগে, তবে অভিযুক্তকে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতের সামনে আনতে দীর্ঘ সময় লেগেছে। মামলার সূত্রপাত ২০১১ ও ২০১২ সালের একটি বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড থেকে। মার্কিন বিচার বিভাগের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় দিনদার ও তার সহযোগীরা ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের একটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে তিনটি সামরিক সোনার ব্যবস্থায় ব্যবহারের জন্য যন্ত্রাংশ সংগ্রহ করেন। তারা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে জানিয়েছিলেন, এসব সরঞ্জাম চীনের একটি কোম্পানি ব্যবহার করবে। কিন্তু প্রকৃত পরিকল্পনা ছিল চীনের মাধ্যমে যন্ত্রাংশগুলো ইরানে পাঠানো। দিনদার ২০১০ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত চীনের শিয়ান শহরে নিউ পোর্ট সোর্সিং সলিউশন্স নামে একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতেন। মার্কিন আদালতের নথি অনুযায়ী, ওই কোম্পানির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্য সংগ্রহের প্রকৃত গন্তব্য গোপন করা হয়েছিল। মার্কিন সরবরাহকারীকে চীনকে চূড়ান্ত গন্তব্য হিসেবে জানানো হলেও পণ্যগুলো শেষ পর্যন্ত ইরানে পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল। এই কৌশলের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে প্রসিকিউটররা জানান। মার্কিন আইন অনুযায়ী, ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার আওতায় অনুমোদন ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইরানে পণ্য, প্রযুক্তি বা সেবা রপ্তানি কিংবা পুনরায় রপ্তানি করা নিষিদ্ধ। এমনকি তৃতীয় কোনো দেশের মাধ্যমে পণ্য পাঠানোর ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হতে পারে, যদি সংশ্লিষ্ট পক্ষ জানে বা জানার যথেষ্ট কারণ থাকে যে পণ্যটি শেষ পর্যন্ত ইরানে যাবে। এই মামলায় চীনকে মধ্যবর্তী গন্তব্য হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ রয়েছে। মামলায় দিনদারের বিরুদ্ধে প্রথমবার অভিযোগ গঠন করা হয় ২০১৪ সালের আগস্টে। এরপর এক দশকেরও বেশি সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের হেফাজতের বাইরে ছিলেন। মার্কিন কর্তৃপক্ষের অনুরোধে পানামা ২০২৫ সালের জুলাইয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে ২০২৬ সালের এপ্রিলে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর প্রায় ছয় সপ্তাহ পর তিনি আদালতে দোষ স্বীকার করেন। সাজার শুনানিতে বিচারক মার্টিনেজ উল্লেখ করেন, সংশ্লিষ্ট অপরাধের ঘটনা এক দশকেরও বেশি আগে ঘটেছিল এবং দিনদার পানামার কারাগারে উল্লেখযোগ্য সময় কাটিয়েছেন। এই বিষয়টিও সাজা নির্ধারণের সময় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। তবে সরকারি কৌঁসুলিরা ১৮ মাসের কারাদণ্ডের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং এ ধরনের লঙ্ঘন ঠেকাতে শাস্তির মাধ্যমে কার্যকর প্রতিরোধ তৈরি করা প্রয়োজন। মামলাটি তদন্ত করেছে মার্কিন বাণিজ্য বিভাগের শিল্প ও নিরাপত্তা ব্যুরোর রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ প্রয়োগকারী দপ্তর এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস। দিনদারকে গ্রেপ্তার ও যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণের প্রক্রিয়ায় মার্কিন বিচার বিভাগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক দপ্তর পানামা সরকারের সঙ্গে কাজ করেছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কূটনৈতিক নিরাপত্তা বিভাগও এ প্রক্রিয়ায় সহায়তা করেছে। মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, মামলাটি দেখিয়েছে তৃতীয় কোনো দেশের মাধ্যমে পণ্য পাঠালেও যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আইন প্রযোজ্য হতে পারে, যদি পণ্যের প্রকৃত গন্তব্য নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা দেশ হয়। বিশেষ করে সামরিক কাজে ব্যবহারযোগ্য সংবেদনশীল প্রযুক্তির ক্ষেত্রে এসব নিয়ন্ত্রণকে যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় নিরাপত্তার অংশ হিসেবে বিবেচনা করে। দিনদারের সাজা সেই দীর্ঘদিনের মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ার সমাপ্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে এসেছে। সূত্র: মার্কিন বিচার বিভাগ (U.S. Department of Justice), ওয়েস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব ওয়াশিংটন
যুক্তরাষ্ট্রের কানেটিকাটের চার বছর বয়সী শিশু এলেনা। সাধারণ শিশুর মতোই খেলাধুলা আর পরিবারের সঙ্গে পাহাড়ের ট্রেইলে হেঁটে আনন্দময় শৈশব কাটছিল তার। কিন্তু হঠাৎই নিচের মাড়ির বাঁ পাশে দাঁতব্যথা ও ফোলাভাব দেখা দিলে পরিস্থিতি পাল্টাতে শুরু করে। মা সারাহ লাপোস্তাতো শুরুতে ভেবেছিলেন হয়তো নতুন দাঁত উঠছে কিংবা খাবারের কণা আটকে সাধারণ সংক্রমণ হয়েছে। তাৎক্ষণিক দন্তচিকিৎসক ও ওরাল সার্জনের শরণাপন্ন হলে এক্স-রে রিপোর্টেও তেমন আশঙ্কাজনক কিছু মেলেনি; মাড়িতে খাবারের টুকরো আটকে থাকা বা সাধারণ সিস্ট ধারণা করে ছয় সপ্তাহ পর্যবেক্ষণে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু ব্যথা কমার বদলে পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যায়। ফুটবল খেলে বেড়ানো দুরন্ত শিশুটি একপর্যায়ে তীব্র ক্লান্তিতে বিছানা থেকেই উঠতে পারছিল না। এর মধ্যে চোখের চারপাশে অচেনা কালশিটে দাগ দেখা দিলে মা সারাহ দেরি না করে এলেনাকে জরুরি ভিত্তিতে শিশু বিশেষজ্ঞের কাছে নিয়ে যান। রক্ত পরীক্ষায় অস্বাভাবিকতার লক্ষণ ধরা পড়ার পর দ্রুত পাঠানো হয় হাসপাতালের জরুরি বিভাগে। সেখানে নিবিড় পরীক্ষার পর চিকিৎসকদের দেওয়া তথ্য স্তব্ধ করে দেয় বাবা-মাকে—এলেনার পেটে সফটবলের সমান আকারের একটি টিউমার ধরা পড়েছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে নিশ্চিত হওয়া যায়, সে নিউরোব্লাস্টোমা নামের একটি বিরল ও মারাত্মক ক্যানসারে আক্রান্ত। রোগ শনাক্তের সময় এলেনার শরীরে ক্যানসার ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল। চিকিৎসা পরিভাষায় যার তীব্রতা মাপার 'কুরি স্কোর' ছিল ৩০-এর মধ্যে ২৫। পরবর্তী এক বছর এই ছোট্ট শিশুর ওপর দিয়ে চলে চিকিৎসার এক কঠিন ঝড়। একাধিক জটিল অস্ত্রোপচার, পাঁচ দফা কেমোথেরাপি, ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের আওতায় চার দফা ইমিউনোথেরাপি, পেট থেকে টিউমার অপসারণ, দুটি স্টেম সেল ট্রান্সপ্ল্যান্ট এবং ১২ দিনের রেডিয়েশন থেরাপি সহ্য করতে হয় তাকে। চিকিৎসার চরম সংকটময় সময়ে দুই দফা নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রেও (আইসিইউ) লড়তে হয়েছে তাকে। চিকিৎসার ব্যয়ভার ও স্বাস্থ্যবীমা সচল রাখতে মা-বাবা উভয়েই পুরো সময় চাকরি ধরে রাখেন। হাসপাতালের লম্বা সময় আর ঘরের বড় মেয়ের দেখভালের দায়িত্ব ভাগ করে নিয়ে এক নতুন বাস্তবতার সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যান তারা। দীর্ঘ ও অবিরাম চিকিৎসার সুফল মিলতে শুরু করেছে এলেনার শরীরে; রেডিয়েশন শেষ হওয়ার পর তার কুরি স্কোর ২৫ থেকে নাটকীয়ভাবে নেমে এসেছে মাত্র ১-এ। বর্তমানে সে চিকিৎসার তৃতীয় ধাপে ইমিউনোথেরাপি নিচ্ছে এবং সামনের এমআইবিজি স্ক্যানে এই স্কোর শূন্যে নেমে আসবে—এমন আশাতেই বুক বাঁধছেন চিকিৎসকরা।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের বিখ্যাত কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৪ সালে সংঘটিত একটি সংঘবদ্ধ ধর্ষণের (গ্যাং রেপ) অভিযোগের তদন্ত পুনরায় শুরু করেছেন প্রসিকিউটররা। সম্প্রতি ভুক্তভোগী নারী নতুন করে একটি দেওয়ানি (সিভিল) মামলা দায়ের করলে ঘটনাটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও আলোচনা শুরু হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতেই সোমবার টম্পকিন্স কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি ম্যাথিউ ভ্যান হাউটেন নতুন করে তদন্ত শুরুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এক দীর্ঘ বিবৃতিতে তিনি জানান, তার কার্যালয় সাতজন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য অভিযোগ গঠনের জন্য মামলাটি গ্র্যান্ড জুরির কাছে উপস্থাপন করবে। দুই বছর আগে কেন এই ঘটনার ফৌজদারি তদন্ত এগোয়নি—তার ব্যাখ্যায় ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি জানান, ওই সময় ক্যাম্পাসের পুলিশের কাছে দেওয়া ভুক্তভোগীর প্রাথমিক জবানবন্দির সঙ্গে বর্তমান মামলার অভিযোগের বেশ পার্থক্য রয়েছে। সে সময় ভুক্তভোগী তার মাদক গ্রহণ ও শারীরিক সম্পর্ককে 'স্বেচ্ছায় এবং সম্মতিসূচক' বলে উল্লেখ করেছিলেন। তবে ভুক্তভোগীর আইনজীবী থমাস জিউফ্রা সিএনএনকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানান, পুলিশ রিপোর্টের সঙ্গে বর্তমান দাবির কোনো মৌলিক পার্থক্য নেই। শুরুতে যথাযথভাবে ও গভীরভাবে তদন্ত না করার জন্য তিনি উলটো ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তীব্র সমালোচনা করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়টির 'চি ফি' (Chi Phi) ফ্র্যাটার্নিটির সাত সদস্য এবং কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে দায়ের করা এই মামলায় দাবি করা হয়েছে, ঘটনার সময় ২০ বছর বয়সী ওই ছাত্রীকে অতিরিক্ত মদ ও মাদক পান করিয়ে বেসামাল করে তোলা হয়েছিল। তিনি যখন সম্মতি দেওয়ার মতো শারীরিক ও মানসিক অবস্থায় ছিলেন না, ঠিক তখনই তাকে যৌন নির্যাতন করা হয়। এমনকি স্ন্যাপচ্যাটের একটি গ্রুপ চ্যাটের মাধ্যমে অন্যান্য সদস্যদেরও এই পাশবিকতায় অংশ নিতে উৎসাহিত করা হয়েছিল বলে মামলায় প্রমাণসহ উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে, কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখপাত্র কাইল কিম্বল জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির তদন্ত শুরুর সিদ্ধান্তকে পূর্ণ সমর্থন করে। তিনি আরও জানান, ২০২৪ সাল থেকেই অভিযুক্ত ফ্র্যাটার্নিটি সংগঠনটিকে ক্যাম্পাস থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সে সময় নিজস্ব তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্তদের আজীবনের জন্য বহিষ্কার ও সাময়িক বরখাস্তসহ কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল। অন্যদিকে, অভিযুক্তদের একজনের আইনজীবী জেরেমি স্যালান্ড দাবি করেছেন, তার মক্কেল কেবল স্ন্যাপচ্যাট গ্রুপে একটি অপরিণত মন্তব্য করেছিলেন, এর বাইরে তিনি কোনো অপরাধে জড়িত নন। তাই তারা যেকোনো সুষ্ঠু তদন্তকে স্বাগত জানাচ্ছেন। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রে ফ্র্যাটার্নিটি হলো মূলত বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরুষ শিক্ষার্থীদের আবাসন সুবিধাসহ বিশেষ ক্লাব।
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ওয়ারেন শহরে মেয়েকে গাড়ি চালানো শেখাতে গিয়ে তারই চালানো গাড়ির ধাক্কায় ৬২ বছর বয়সী বাংলাদেশি বাবা মোহাম্মদ আব্দুর রহিমের মৃত্যু হয়েছে। রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর বিকেল প্রায় ৪টার দিকে ওয়ার্নার অ্যাভিনিউয়ের ২৪ হাজার ব্লকের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ওয়ারেন পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় আব্দুর রহিম তার ১৮ বছর বয়সী মেয়েকে গাড়ি চালানো শেখাচ্ছিলেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ক্লিকঅনডেট্রয়েট জানিয়েছে, মেয়েটি তখন গাড়ি পার্ক করার অনুশীলন করছিল। একপর্যায়ে গাড়িটি তার বাবাকে ধাক্কা দেয় এবং থামার আগে তাকে অল্প দূর পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায়। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও জরুরি বিভাগের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। গুরুতর আহত অবস্থায় আব্দুর রহিমকে কাছের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর ১৮ বছর বয়সী মেয়েটি ঘটনাস্থলেই ছিলেন এবং তদন্তকারীদের সঙ্গে সহযোগিতা করছেন। প্রাথমিকভাবে পাওয়া আলামত মেয়েটির দেওয়া ঘটনার বিবরণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলেও জানিয়েছে পুলিশ। দুর্ঘটনায় মাদক বা অ্যালকোহলের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে এখন পর্যন্ত কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি তদন্ত করছে ওয়ারেন পুলিশ বিভাগের ট্রাফিক ক্র্যাশ রিকনস্ট্রাকশন ইউনিট। দুর্ঘটনা সম্পর্কে তথ্য থাকলে তদন্তকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য প্রত্যক্ষদর্শীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ। ওয়ারেন পুলিশ এখনো নিহত ব্যক্তির নাম বা পারিবারিক পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি। তবে আমেরিকা বাংলার কমিউনিটি সূত্রে নিহত ব্যক্তির নাম মোহাম্মদ আব্দুর রহিম এবং তার বাংলাদেশি পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। পরিবার ও কমিউনিটি সূত্রে জানা গেছে, প্রায় সাত বছর আগে বড় মেয়ের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন আব্দুর রহিম। তিনি দুই মেয়ে ও এক ছেলের বাবা ছিলেন। তার ছেলে বর্তমানে বাংলাদেশে রয়েছেন বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে। ঢাকার ধানমন্ডিতে তাদের পারিবারিক বাড়ি রয়েছে বলেও জানা গেছে। মিশিগানের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে আব্দুর রহিমের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোক। যে বাবা মেয়েকে গাড়ি চালানো শেখাতে পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, সেই ড্রাইভিং শেখানোর সময়ই ঘটে গেল তার জীবনের শেষ দুর্ঘটনা। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মোহাম্মদ আব্দুর রহিমের জানাজা ও দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের ডাবলিনে নিউইয়র্ক টাইমসের গেমস বিভাগের এক শীর্ষ কর্মকর্তাকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। নিহত জোনাথন ম্যাককিনসে (৪০) প্রতিষ্ঠানটির ইঞ্জিনিয়ারিং ডিরেক্টর হিসেবে কর্মরত ছিলেন। শনিবার বিকেলে ডাবলিন স্পোর্টস গ্রাউন্ডের পার্কিং লটে এই ভয়ংকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই হত্যায় জড়িত থাকার সন্দেহে নিহতের শ্বশুর ও শাশুড়িকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে ম্যাককিনসে নিউইয়র্ক টাইমসে কর্মরত ছিলেন বলে প্রতিষ্ঠানটির এক মুখপাত্র নিশ্চিত করেছেন। ডাবলিন পুলিশ সার্ভিস জানায়, শনিবার স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা ৮ মিনিটের দিকে স্পোর্টস কমপ্লেক্সের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় টহলরত এক পুলিশ সার্জেন্ট পার্কিং লটে এক ব্যক্তিকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। ঠিক একই সময়ে জরুরি সেবা নম্বর ৯১১-এ একাধিক কল আসতে শুরু করে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ ম্যাককিনসের একাধিক গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করে এবং স্পটেই তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। এ সময় প্রত্যক্ষদর্শীদের সহায়তায় ঘটনাস্থলে থাকা সন্দেহভাজন দুজনকে দ্রুত আটক করে পুলিশ। পরে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়—তারা হলেন ম্যাককিনসের শ্বশুর শৌয়ং ঝাং (৭৭) এবং শাশুড়ি শিলিং চেন (৭৭)। তারা দুজনই ডাবলিনের বাসিন্দা। তাদের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ এনে সান্তা রিটা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আগামী বুধবার ইস্ট কাউন্টি হল অব জাস্টিসে তাদের হাজির করার কথা রয়েছে। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল উদ্দেশ্য এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি পুলিশ। তবে তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই ঘটনায় নতুন করে কোনো সন্দেহভাজন নেই এবং জননিরাপত্তার জন্য আর কোনো হুমকি নেই। এদিকে, মার্কিন গণমাধ্যম ফক্স নিউজের হাতে আসা আদালতের নথিপত্র থেকে জানা গেছে, নিহত ম্যাককিনসে বেশ কয়েকটি আইনি জটিলতার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলেন। ২০২৫ সালের অক্টোবরে তার বিরুদ্ধে শিশু নির্যাতনের অভিযোগে একটি মামলা হয়েছিল, যার প্রাক-শুনানি গত ১০ সেপ্টেম্বর হওয়ার কথা ছিল। এছাড়া ম্যাককিনসে এবং তার স্ত্রী ক্যান্ডিস জ্যাং উভয়ের বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা ও সন্তানের হেফাজত নিয়ে পাল্টাপাল্টি মামলা ছিল। এমনকি ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তিনি বিবাহবিচ্ছেদেরও আবেদন করেছিলেন, যার শুনানি আগামী ১০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।
খুন, চাঁদাবাজি এবং মাদক ব্যবসার মতো গুরুতর কেন্দ্রীয় অপরাধে অভিযুক্ত সতীন্দরজিৎ সিং ওরফে গোল্ডি ব্রারকে নিজেদের শীর্ষ ১০ পলাতক আসামির (টেন মোস্ট ওয়ান্টেড) তালিকায় যুক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)। কুখ্যাত লরেন্স বিষ্ণোই অর্গানাইজড ক্রাইম গ্রুপের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে তাকে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়াসহ যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডাজুড়ে খুন, গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বকে টার্গেট কিলিং, অপহরণ, চাঁদাবাজি এবং অস্ত্র ও মাদক পাচারের মতো অসংখ্য সহিংস অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে এই গ্যাংস্টারের বিরুদ্ধে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত গোল্ডি ব্রারকে উত্তর আমেরিকায় লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের প্রধান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। লস অ্যাঞ্জেলেসের কেন্দ্রীয় আদালতে তার বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ অপরাধ, চাঁদাবাজির মাধ্যমে বাণিজ্যে হস্তক্ষেপ এবং অবৈধ মাদক মজুত ও বিতরণের ষড়যন্ত্রসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। এফবিআইয়ের সহকারী পরিচালক গ্র্যান্ডি জানিয়েছেন, গোল্ডি ব্রার একজন অত্যন্ত বিপজ্জনক ব্যক্তি এবং তাকে গ্রেপ্তার করা এফবিআই ও তাদের সহযোগী সংস্থাগুলোর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এ কারণেই তাকে মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় যুক্ত করে তার সন্ধানে ১০ লাখ (১ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। বিশ্বজুড়ে প্রতিটি এফবিআই-অধিভুক্ত ওয়েবসাইট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ফোনে তার ছবি ও তথ্য প্রচার করা হবে বলে জানান তিনি। ১৯৫০ সালে এফবিআইয়ের 'টেন মোস্ট ওয়ান্টেড' তালিকা চালুর পর থেকে গোল্ডি ব্রার এই তালিকার ৫৪৩তম পলাতক আসামি। লস অ্যাঞ্জেলেস অঞ্চলে অপরাধ সংঘটনের দায়ে এ পর্যন্ত ২৮ জনকে এই তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে, দেশের অন্যান্য প্রান্তে অপরাধ করে লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে গ্রেপ্তার হয়েছেন ৩৬ জন আসামি। এফবিআইয়ের তথ্যমতে, গোল্ডি ব্রার চরম সহিংস এবং সবসময় সশস্ত্র থাকেন। তিনি মূলত ক্যালিফোর্নিয়া এবং কানাডার বিভিন্ন অঞ্চলে আত্মগোপন করে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তার সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা থাকলে এফবিআইয়ের টোল-ফ্রি নম্বর (১-৮০০-২২৫-৫৩২৪), স্থানীয় এফবিআই কার্যালয়, নিকটস্থ মার্কিন দূতাবাস অথবা তাদের ওয়েবসাইটে যোগাযোগের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম মেগাসিটি নিউইয়র্কে গৃহহীন মানুষের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। নিউইয়র্ক স্টেট কম্পট্রোলারের সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৬ সালে শহরটিতে রাস্তা, পার্ক বা সাবওয়ের মতো উন্মুক্ত স্থানে বসবাসকারী গৃহহীনের সংখ্যা প্রায় পাঁচ হাজারে পৌঁছেছে। তবে সরকারি ও বিভিন্ন অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষদের হিসাব ধরলে নিউইয়র্ক সিটির মোট গৃহহীন জনসংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার। গত ১০ মার্চ রাতে পরিচালিত ‘হোমলেস আউটরিচ পপুলেশন এস্টিমেট’ বা হোপ জরিপে উন্মুক্ত স্থানে থাকা ৪ হাজার ৯৯১ জনকে শনাক্ত করা হয়, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ১১ শতাংশ বেশি। তীব্র শীতের কারণে এবার নির্ধারিত সময়ের বদলে মার্চ মাসে এই জরিপটি চালানো হয়েছিল। স্টেট কম্পট্রোলার থমাস ডিনাপোলির কার্যালয়ের প্রতিবেদন বলছে, ২০১৯ সালের তুলনায় শহরে মোট গৃহহীনের সংখ্যা প্রায় ৭৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমান অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, মোট গৃহহীন জনসংখ্যার ৯৭ শতাংশই কোনো না কোনো ধরনের আশ্রয়কেন্দ্রের সহায়তা পাচ্ছেন। রাস্তার গৃহহীনদের সংখ্যা কয়েক হাজার হলেও, সামগ্রিক গৃহহীন জনসংখ্যার তুলনায় তা তুলনামূলক কম। পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৯ সালে উন্মুক্ত স্থানে থাকা গৃহহীনের সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৫৮৮ জন, যা ২০২৫ অর্থবছরে বেড়ে ৪ হাজার ৫০৪ জন এবং ২০২৬ সালের জরিপে প্রায় পাঁচ হাজারে উন্নীত হয়েছে। নিউইয়র্ক স্টেটের সার্বিক চিত্রও বেশ হতাশাজনক। যুক্তরাষ্ট্রের হাউজিং অ্যান্ড আরবান ডেভেলপমেন্ট বিভাগের সর্বশেষ তথ্যমতে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত পুরো স্টেটে গৃহহীন মানুষের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৪৫ হাজার ৫৬০ জন। যদিও ২০২৪ সালের তুলনায় মোট সংখ্যা ৭ দশমিক ৯ শতাংশ কমেছে, তবে স্টেটের ২৫টি গৃহহীনতা-সেবা অঞ্চলের মধ্যে ১৭টিতেই এই সমস্যা আরও প্রকট হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষসহ বিশাল এই গৃহহীন জনগোষ্ঠী প্রমাণ করে যে, সাশ্রয়ী মূল্যের বাসস্থানের অভাব এবং দীর্ঘমেয়াদি আবাসন সংকট নিউইয়র্ক সিটি তথা পুরো স্টেটের জন্যই এখন অন্যতম প্রধান এক চ্যালেঞ্জ।
অভিবাসী পরিচয়কে শক্তিতে রূপান্তর করে যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার রাজনীতিতে নিজের বলিষ্ঠ অবস্থান তৈরি করেছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান তরুণ সংগঠক তাহমিদ চৌধুরী। কমিউনিটির ক্ষমতায়ন, তৃণমূলের মানুষকে সংগঠিত করা এবং তরুণ প্রজন্মকে জনসেবামূলক কাজে উজ্জীবিত করার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি অর্জন করেছেন মিশিগান ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সম্মানজনক ‘বেস্ট অব দ্য ওয়েস্ট ইয়ুথ লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড’। মিশিগান ডেমোক্র্যাটিক পার্টির জমকালো এক আয়োজনে তাহমিদের হাতে এই পুরস্কার তুলে দেন রাজ্যের লেফটেন্যান্ট গভর্নর গারলিন গিলক্রিস্ট এবং ওয়াশটেনো কাউন্টির প্রসিকিউটর এলি সাভিত। মঞ্চে সে সময় ইলিনয়ের গভর্নর জে বি প্রিটজকার, মিশিগান ডেমোক্র্যাটিক পার্টির চেয়ারম্যান কার্টিস হার্টেল, মার্কিন কংগ্রেসওম্যান হিলারি স্কলটেন এবং মিশিগান সিনেটের মেজরিটি লিডার উইনি ব্রিংকসের মতো শীর্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন। ম্যাকম্ব কাউন্টি ও মিশিগানের ১০ম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্টে তৃণমূল পর্যায়ে নাগরিক অধিকার এবং তরুণদের সামাজিক সম্পৃক্ততা বাড়াতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছেন এই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তরুণ। এমন বড় স্বীকৃতির মুহূর্তেও তৃণমূলের সহযোদ্ধাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তাহমিদ চৌধুরী। নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, এই সম্মাননা তার একার কোনো ব্যক্তিগত অর্জন নয়; বরং এর পেছনে রয়েছে তার শিক্ষক, মেন্টর, সহযোগী সংগঠক এবং নিরলস স্বেচ্ছাসেবকদের সম্মিলিত শ্রম ও ভালোবাসা। তরুণদের সাথে নিয়েই আগামী দিনে জনকল্যাণমূলক কাজ আরও বড় পরিসরে ছড়িয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব মিশিগানের সভাপতি জাবেদ চৌধুরী ও উপদেষ্টা সুমন কবিরসহ বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে তাকে অনুপ্রাণিত করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টে (এনওয়াইপিডি) বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের অভাবনীয় উত্থান ঘটেছে। কয়েক দশক আগে এই বাহিনীতে বাংলাদেশিদের উপস্থিতি হাতেগোনা থাকলেও, বর্তমানে চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। এনওয়াইপিডি-র প্রায় ৩৩ হাজার ইউনিফর্মধারী সদস্যের মধ্যে এখন এক হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি-আমেরিকান কর্মকর্তা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। এর পাশাপাশি পুলিশ বিভাগের বিভিন্ন বেসামরিক পদেও কাজ করছেন আরও প্রায় দেড় হাজার বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কর্মী। নিউইয়র্কে বাংলাদেশি অভিবাসী সম্প্রদায়ের আকার বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ বিভাগেও তাদের এই সম্মানজনক বিস্তৃতি ঘটেছে। বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ কর্মকর্তাদের সংগঠনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা শামসুল হক ২০০৪ সালে যখন এনওয়াইপিডিতে যোগ দেন, তখন সেখানে বাংলাদেশিদের সংখ্যা ছিল খুবই নগণ্য। তার মতে, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের মর্মান্তিক সন্ত্রাসী হামলার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশি ও মুসলিম তরুণদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়। ১৯৯১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানো শামসুল হকের সামনে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবসায় প্রশাসনে পড়াশোনা শেষে বেসরকারি খাতে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ ছিল। কিন্তু ৯/১১-এর হামলার পর পরিবারের সংশয়কে পেছনে ফেলে তিনি পুলিশ একাডেমিতে ভর্তির সাহসী সিদ্ধান্ত নেন। নিজ একাগ্রতার জোরে তিনি চলতি বছরের শুরুতে অবসরে যাওয়ার আগে নিউইয়র্ক পুলিশের ইতিহাসে প্রথম দক্ষিণ এশীয় এবং প্রথম মুসলিম লেফটেন্যান্ট কমান্ডার হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে ইতিহাস গড়েন। নতুন অভিবাসী বাংলাদেশিদের জন্য নিউইয়র্ক পুলিশে প্রবেশের একটি দারুণ কার্যকর ধাপ হলো বাহিনীর বেসামরিক পদগুলো। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব না থাকলেও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, স্কুল নিরাপত্তা কিংবা জরুরি সেবা নম্বরের অপারেটর হিসেবে কাজ করার সুযোগ পান অভিবাসীরা। পরবর্তীতে নাগরিকত্ব পাওয়ার পর এই পূর্ব-অভিজ্ঞতার আলোকে তারা সহজেই পুলিশ একাডেমিতে আবেদন করে ইউনিফর্মধারী কর্মকর্তা হওয়ার সুযোগ পান। শামসুল হকের হিসাব অনুযায়ী, নিউইয়র্ক পুলিশের প্রায় ৬০ শতাংশ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ইউনিফর্মধারী কর্মকর্তা এই পথ অনুসরণ করেই মূল বাহিনীতে এসেছেন। এর মাধ্যমে তারা আগে থেকেই পুলিশের কর্মপরিবেশ ও দায়িত্বের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পান, যা তাদের পেশাগত জীবনে দারুণ সহায়ক হয়। কেবল সংখ্যাতেই নয়, যোগ্যতার ভিত্তিতে নিউইয়র্ক পুলিশের নানা গুরুত্বপূর্ণ পদেও নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশিরা। বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ কর্মকর্তাদের সংগঠনের বর্তমান সভাপতি সার্জেন্ট এরশাদুর সিদ্দিকের দেওয়া তথ্যমতে, বর্তমানে নিউইয়র্ক পুলিশে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ১০ জন গোয়েন্দা (ডিটেকটিভ), ৮২ জন সার্জেন্ট, ২০ জন লেফটেন্যান্ট এবং চারজন ইন্সপেক্টর অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে কাজ করছেন। কর্মরত এসব কর্মকর্তারা প্রতিনিয়ত নিজ কমিউনিটির তরুণ ও নতুন অভিবাসীদের এই সম্মানজনক পেশায় আসতে উৎসাহিত করছেন। উল্লেখ্য, বৈচিত্র্যময় নিউইয়র্ক পুলিশের বর্তমান ইউনিফর্মধারী সদস্যদের মধ্যে প্রায় ৩৮ শতাংশ শ্বেতাঙ্গ, ৩৩ শতাংশ হিস্পানিক, ১৭ শতাংশ কৃষ্ণাঙ্গ এবং ১২ শতাংশ এশীয়। একসময়ের সীমিত উপস্থিতি থেকে আজকের এই হাজার ছাড়ানো সংখ্যা যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি অভিবাসী কমিউনিটির পেশাগত সফলতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ইস্পাত কারখানা (স্টিল প্ল্যান্ট) নির্মাণের মেগা প্রকল্প ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মিনেসোটাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘মেসাবি মেটালিকস’ আইওয়া অঙ্গরাজ্যে এক হাজার ৫০০ কোটি (১৫ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার ব্যয়ে এই বিশালাকার কারখানাটি গড়ে তুলবে। সোমবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই ঐতিহাসিক প্রকল্পের কথা জানান। হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৬০-এর দশকের পর যুক্তরাষ্ট্রে নির্মিত হতে যাওয়া প্রথম কোনো মেগা স্টিল প্ল্যান্ট হতে চলেছে এটি। ২০৩০ সালের মধ্যে পুরোপুরি উৎপাদনে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু করছে প্রতিষ্ঠানটি। চালু হওয়ার পর এই কারখানা থেকে বছরে ৭৫ লাখ বা তার বেশি টন ইস্পাত উৎপাদিত হবে এবং আইওয়াতে অন্তত এক হাজার ৭৫০ জনের স্থায়ী কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আইওয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে এই কারখানাটি গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। ইস্পাত তৈরির প্রধান কাঁচামাল হিসেবে লৌহ আকরিক আসবে মিনেসোটায় মেসাবি মেটালিকসেরই নতুন ২৫০ কোটি ডলারের একটি খনি থেকে। বিদেশে উৎপাদিত পণ্যের তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে দেশীয় ইস্পাত শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করতে ট্রাম্প প্রশাসনের দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্য নীতির অংশ হিসেবে এই বিশাল বিনিয়োগ আসছে। ওভাল অফিসে এই ঘোষণাকালে দেশটির বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক, এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংকের চেয়ারম্যান জন জোভানোভিচ, মেসাবি মেটালিকসের শীর্ষ নির্বাহী এবং আইওয়ার রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা উপস্থিত ছিলেন। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র টেইলর রজার্স জানান, এই কারখানা মার্কিন সরবরাহ শৃঙ্খলকে আরও শক্তিশালী করবে এবং ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় প্রতিরক্ষা প্রকল্পগুলোতেও কাঁচামাল সরবরাহে বড় ভূমিকা রাখবে। আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র ৪০ দিনেরও কম সময় বাকি থাকতে অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পের ঘোষণা এলো। আইওয়ায় গভর্নর পদ, সিনেট ও হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলোতে এবার ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের মধ্যে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস মিলছে। এরই মধ্যে স্থানীয় গণমাধ্যমে খবর এসেছে, মেসাবি মেটালিকসকে কর ছাড় দেওয়ার বিষয়টি অনুমোদন করতে অঙ্গরাজ্যটির আইনপ্রণেতাদের আইনসভার বিশেষ অধিবেশনে ডাকার প্রস্তুতি চলছে।
যুক্তরাষ্ট্রকে মধ্যপ্রাচ্য ছাড়তেই হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর, এটিই তার প্রথম প্রকাশ্য বিবৃতি। এক কড়া বার্তায় তিনি মার্কিন বাহিনীকে মধ্যপ্রাচ্য ত্যাগের এই চরম হুঁশিয়ারি দেন। বিবৃতিতে খামেনি দাবি করেন, ইরানি বীর যোদ্ধাদের পালটা আঘাতে পর্যুদস্ত হয়ে মার্কিন বাহিনী এখন আর আরব সাগরের বাইরে আসার সাহস পাচ্ছে না। খুব শিগগিরই এই সাগরও তাদের উপস্থিতি থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত হবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এক যৌথ হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। এরপর গত মার্চ মাসে তার ছেলে মোজতবা খামেনি নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ওই একই হামলায় মোজতবা নিজেও গুরুতর আহত হয়েছিলেন বলে গুঞ্জন রয়েছে, যার কারণে দীর্ঘ সময় তাকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি। এদিকে, চলমান এই সংঘাতের অবসান ঘটাতে জোর কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে কাতার। সম্প্রতি নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) সাইডলাইনে ইরান একটি সাত দফা শান্তি প্রস্তাবও উত্থাপন করেছে। এই প্রস্তাবের অংশ হিসেবে তেহরান হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে রাজি আছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের এই প্রস্তাব তাৎক্ষণিকভাবে নাকচ করে দিয়েছেন। তা সত্ত্বেও, চলতি সপ্তাহে দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে আরও আলোচনা হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করতেই এইচ-১বি (H-1B) ভিসা চালু করা হয়েছিল, কম বেতনে মার্কিন কর্মীদের বদলি হিসেবে বিদেশি কর্মী নিয়োগের জন্য নয়। সম্প্রতি এই ভিসা কর্মসূচির অপব্যবহার নিয়ে কোম্পানিগুলোকে এভাবেই কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তিনি জানিয়েছেন, যেসব প্রতিষ্ঠান নিজেদের দেশীয় কর্মী ছাঁটাই করে এই ভিসার অধীনে বিদেশি কর্মী নিয়োগ দিচ্ছে, তাদের ওপর নজরদারি ও কড়াকড়ি আরও বাড়ানো হবে। জেডি ভ্যান্স ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অনেক কোম্পানি কর্মী সংকটের অজুহাত দেখিয়ে এইচ-১বি ভিসার জন্য আবেদন করে। অথচ তাদের অতীত ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, তারা এর আগেই হয়তো পাঁচ হাজার কর্মী ছাঁটাই করেছে, যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। তার মতে, কোনো প্রতিষ্ঠান যদি মার্কিন কর্মীদের ছাঁটাই করে, তবে শূন্যস্থান পূরণে তাদের বিদেশি কর্মীর খোঁজ করা উচিত নয়। উদাহরণস্বরূপ তিনি বলেন, ৬০ হাজার ডলার বেতনের একজন মার্কিন হিসাবরক্ষককে ছাঁটাই করে যদি ৪৫ হাজার ডলারে একজন বিদেশি হিসাবরক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়, তবে তা এই ভিসা কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্যের পরিপন্থী। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও প্রযুক্তি খাতে যারা উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারবেন, কেবল তাদেরই এই ভিসা পাওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি। ভাইস প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যার কিছুদিন আগেই (১৮ সেপ্টেম্বর) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন। ওই আদেশে শ্রম, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি এবং পররাষ্ট্র দপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এইচ-১বি ভিসার আবেদন পর্যালোচনার সময় কোম্পানিগুলো মার্কিন কর্মীদের ছাঁটাই করেছে কি না বা করার পরিকল্পনা করছে কি না, তা যেন খতিয়ে দেখা হয়। পাশাপাশি, পূর্বের আবেদনগুলো পর্যালোচনা করে প্রয়োজনে আইনি বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কংগ্রেসের মাধ্যমে আইন সংশোধনের জন্য অপেক্ষা না করে ট্রাম্প প্রশাসন সরাসরি প্রশাসনিক পর্যায়ে এই পরিবর্তনগুলো আনছে বলে জানিয়েছেন ভ্যান্স। ভিসা ব্যবস্থায় বিদ্যমান জালিয়াতি রোধে তারা কাজ করছেন উল্লেখ করে তিনি জানান, ট্রাম্প প্রশাসনের বৃহত্তর অভিবাসন নীতির অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের বাইরের কর্মীদের ক্ষেত্রে এই ভিসার আবেদনে ১ লাখ ডলার ফি প্রদানের বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে, যার মেয়াদ ২০২৭ সালের ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়িয়েছেন ট্রাম্প। তবে আইনি সীমাবদ্ধতার বিষয়টি স্বীকার করে ভ্যান্স জানান, প্রশাসনের নেওয়া এইচ-১বি সংক্রান্ত বেশ কিছু পদক্ষেপ এরই মধ্যে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ার একটি শহরের কাছে ডেটা সেন্টার নির্মাণের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে এক ডেভেলপার কোম্পানি। স্থানীয়দের রাজি করাতে প্রতিটি পরিবারকে ১০ হাজার মার্কিন ডলার নগদ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। হেজেল টাউনশিপের ১০ হাজার ৪৬০ জন বাসিন্দাকে চিঠি দিয়ে নর্থপয়েন্ট ডেভেলপমেন্ট নামের ওই প্রতিষ্ঠানটি এই প্রস্তাব দেয়। শহরটির গড় পারিবারিক আয় যেখানে ৬০ হাজার ডলার, সেখানে মোট ৪৫ মিলিয়ন ডলারের এই বিশাল প্রস্তাব স্থানীয়দের জন্য বড় ধরনের আর্থিক সহায়তা হতে পারতো। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের মতে, এই অর্থ দিয়ে অনায়াসেই কয়েক মাসের বাসাভাড়া বা দীর্ঘদিনের মুদি ও জ্বালানি খরচ মেটানো সম্ভব। এত লোভনীয় প্রস্তাবের পরও বেশিরভাগ বাসিন্দা এটি প্রত্যাখ্যান করছেন। স্থানীয়দের আশঙ্কা, ডেটা সেন্টারটি নির্মিত হলে এলাকায় শব্দ ও আলোক দূষণ বাড়বে। এছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) প্রসারে ব্যাপক হারে চাকরি হারানোর ভয় তো রয়েছেই। প্রস্তাবটিকে অনেকেই ডেটা সেন্টারের অনুমোদন পাওয়ার জন্য নিছক ‘ঘুষ’ হিসেবে দেখছেন। ডেটা সেন্টারের প্রস্তাবিত এলাকার কাছের বাসিন্দা ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক জেফ ফাসনাচট জানান, ডেটা সেন্টার হলে তার সম্পত্তির যে পরিমাণ দাম কমবে, এই ১০ হাজার ডলার তার কাছে কিছুই নয়। আরেক বাসিন্দা এড নেগ্রা মনে করেন, সরাসরি নগদ অর্থের এই প্রস্তাব ডেভেলপারদের জন্য বুমেরাং হতে পারে, কারণ এতে মানুষের মনে সন্দেহ আরও বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ডেটা সেন্টার নির্মাণের বিরুদ্ধে জনমত ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। গত মে মাসের একটি গ্যালাপ জরিপে দেখা যায়, মানুষ তাদের এলাকায় ডেটা সেন্টারের চেয়ে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণকেও বেশি সমর্থন করে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ডেভেলপাররা স্থানীয় উৎসবগুলোতে স্পন্সর করার পাশাপাশি স্কুল বা ফায়ার সার্ভিস তহবিলে কোটি কোটি ডলার অনুদান দেওয়ার চেষ্টা করছে। নর্থপয়েন্টের চিফ মার্কেটিং অফিসার ব্রেন্ট মাইলস জানান, স্থানীয়দের 'এতে আমাদের কী লাভ'—এমন প্রশ্নের জবাবেই এই নগদ অর্থের প্রস্তাবটি দেওয়া হয়েছে। আগামী ১৫ বছরে শহরের পুলিশ বিভাগসহ অন্যান্য খাতে আরও ১২০ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের। চার্লি লেশকোর মতো বয়োজ্যেষ্ঠ কেউ কেউ বাড়ি বা গাড়ি কেনার আশায় এই প্রস্তাবে কিছুটা আগ্রহী হলেও, কার্ল মাজুসিয়াকের মতো অনেকেই শেষ পর্যন্ত এটি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছেন, এলাকায় এমন স্থাপনার কোনো প্রয়োজন নেই। ডেটা সেন্টার নিয়ে স্থানীয়দের এই প্রবল আপত্তির প্রভাব পড়েছে রাজনীতিতেও। জনমতকে গুরুত্ব দিয়ে উভয় দলের নেতারাই এখন ডেটা সেন্টারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিচ্ছেন। টেক্সাসের রিপাবলিকান গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট ডেটা সেন্টারের অনুমোদন সাময়িক স্থগিত করেছেন এবং নিউইয়র্কের ডেমোক্র্যাট গভর্নর ক্যাথি হচুল বড় আকারের ডেটা সেন্টার নির্মাণে নজিরবিহীন নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। অন্যদিকে, পেনসিলভানিয়ার ডেমোক্র্যাট গভর্নর জশ শাপিরো ডেভেলপারদের 'শোষণমূলক' আখ্যা দিয়ে স্থানীয় সরকারের সঙ্গে তাদের কোনো গোপনীয়তা চুক্তি (এনডিএ) সই করার ওপর সরাসরি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন।
কম বেতনে বিদেশি কর্মী নিয়োগ দিয়ে মার্কিন কর্মীদের জায়গা নেওয়ার জন্য এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচি ব্যবহার করা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি ‘অল ইন’ পডকাস্টে তিনি এ কথা বলেন এবং নতুন এইচ-১বি আবেদনে এক লাখ ডলার দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। ভ্যান্সের ভাষ্য, এইচ-১বি কর্মসূচির উদ্দেশ্য হওয়া উচিত এমন দক্ষ বিদেশি কর্মীদের যুক্তরাষ্ট্রে আনা, যাঁরা দেশটির অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারেন। কোনো প্রতিষ্ঠান যেন কম বেতনের কর্মী নিয়োগের পথ হিসেবে এই ভিসা ব্যবহার করতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসন পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে জানান তিনি। ভ্যান্স আরও বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠান একদিকে মার্কিন কর্মীদের ছাঁটাই করবে, অন্যদিকে তাঁদের বদলে বিদেশি কর্মী খুঁজবে, তা গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের নিয়োগ ঠেকানোর উপায়ও প্রশাসন খতিয়ে দেখছে বলে তিনি জানান। এইচ-১বি কর্মসূচির মাধ্যমে মার্কিন নিয়োগদাতারা প্রযুক্তিসহ বিশেষ দক্ষতার প্রয়োজন হয় এমন পেশায় বিদেশি কর্মী নিয়োগ দিতে পারেন। কর্মসূচির অপব্যবহার ও মার্কিন কর্মীদের ওপর এর প্রভাব নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই ভ্যান্সের মন্তব্য এল। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্দিষ্ট কিছু নতুন এইচ-১বি আবেদনের সঙ্গে এক লাখ ডলার দেওয়ার শর্ত ঘোষণা করেন। গত ১৮ সেপ্টেম্বর হোয়াইট হাউস সেই শর্তের মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। তবে শর্তটি সব এইচ-১বি আবেদন বা বর্তমানে এই ভিসায় থাকা কর্মীদের জন্য প্রযোজ্য নয়। এক লাখ ডলারের শর্তের বৈধতা নিয়ে আদালতে মামলা চলছে। জুনে একটি ফেডারেল আদালত সরকারকে ওই অর্থ আদায় থেকে বিরত রাখার রায় দেন। সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রশাসনের আপিল বিচারাধীন। ফলে হোয়াইট হাউস মেয়াদ বাড়ালেও অর্থ আদায়ের শর্তটি বর্তমানে কার্যকর করা যাচ্ছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের অন্যতম প্রধান সংবাদপত্র ডেট্রয়েট ফ্রি প্রেস আসন্ন মার্কিন সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। ২৭ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত সম্পাদকীয়তে পত্রিকাটি ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে মিশিগানের ভোটারদের এল-সায়েদকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানায়। সম্পাদকীয়তে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে নিয়ে পত্রিকাটি তীব্র সমালোচনামূলক ভাষা ব্যবহার করেছে। সেখানে রজার্সকে ‘চরমপন্থী’ হিসেবে বর্ণনা করে বলা হয়েছে, তিনি এমন একটি রাজনৈতিক অবস্থানের প্রতিনিধিত্ব করেন যা পত্রিকাটির মতে মিশিগানের মূলধারার মানুষের অবস্থান থেকে অনেক দূরে। তবে ‘চরমপন্থী’ শব্দটি ডেট্রয়েট ফ্রি প্রেসের সম্পাদকীয় মূল্যায়ন, কোনো নিরপেক্ষ সরকারি বা আদালতের শ্রেণিবিন্যাস নয়। রজার্সের প্রচারণা এখনো এ বিষয়ে মন্তব্য করেছে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি। ডেট্রয়েট ফ্রি প্রেসের সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, মিশিগানের সিনেট নির্বাচনে একজন প্রার্থীকে নিয়ে এমন সমালোচনা থাকলেও সেই প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদ নন। এরপর পত্রিকাটি এল-সায়েদের বিভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থান ও প্রচারণার বিষয় তুলে ধরে তার প্রতি সমর্থন ঘোষণা করে। মিশিগানের সিনেট আসনটি এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনগুলোর একটি। বর্তমান ডেমোক্র্যাট সিনেটর গ্যারি পিটার্স অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় আসনটি নতুন করে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়েছে। এল-সায়েদ ডেমোক্র্যাট দলের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন, আর রিপাবলিকানদের প্রার্থী মাইক রজার্স। দুজনই ৩ নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এল-সায়েদ এর আগে ওয়েইন কাউন্টি ও ডেট্রয়েটের স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি মিশিগানের ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে ম্যালরি ম্যাকমরো এবং হ্যালি স্টিভেন্সকে পেছনে ফেলে দলের প্রার্থী হন। প্রাইমারির আগে ডেট্রয়েট ফ্রি প্রেস অবশ্য অন্য প্রার্থী ম্যালরি ম্যাকমরোর পক্ষে সমর্থন জানিয়েছিল। অন্যদিকে রজার্স মিশিগান থেকে সাবেক মার্কিন প্রতিনিধি। চলতি নির্বাচনে তিনি রিপাবলিকান প্রার্থী হিসেবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থন পেয়েছেন। এল-সায়েদ ও রজার্সের মধ্যে নির্বাচনী বিতর্কও নির্ধারিত হয়েছে। ৮ অক্টোবর গ্র্যান্ড র্যাপিডসে একটি বিতর্ক এবং ২১ অক্টোবর ডেট্রয়েটে আরেকটি বিতর্ক হওয়ার কথা রয়েছে। এবারের নির্বাচনে বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনের সমর্থনও দুই প্রার্থীর পক্ষে ভাগ হয়েছে। সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস ২২ সেপ্টেম্বর এল-সায়েদের প্রতি সমর্থন জানান। এর আগে ইউনাইটেড অটো ওয়ার্কার্সসহ কয়েকটি সংগঠনও এল-সায়েদকে সমর্থন দিয়েছে। অন্যদিকে ডেট্রয়েট ফ্রি প্রেসের প্রতিদ্বন্দ্বী সংবাদপত্র ডেট্রয়েট নিউজ চলতি মাসের শুরুতে রজার্সের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। ফলে মিশিগানের দুই প্রভাবশালী সংবাদপত্রের সম্পাদকীয় সমর্থন দুই প্রার্থীর পক্ষে ভাগ হয়ে গেছে। ডেট্রয়েট ফ্রি প্রেস অতীতের দুই মিশিগান সিনেট নির্বাচনেও ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের সমর্থন করেছিল। তাই এবারের সমর্থনকে পত্রিকাটির সম্পাদকীয় অবস্থানের ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে সংবাদপত্রের সমর্থন নিজে থেকে নির্বাচনের ফলাফল সম্পর্কে কোনো নিশ্চয়তা দেয় না। নির্বাচনের আগে দুই প্রার্থীর প্রচারণায় স্বাস্থ্যসেবা, জীবনযাত্রার ব্যয়, অভিবাসন, জাতীয় রাজনীতি এবং ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিসহ বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে। আগামী সপ্তাহগুলোতে মিশিগানের সিনেট প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রচারণা ও বিতর্ক আরও জোরালো হওয়ার কথা রয়েছে। সূত্র: ডেট্রয়েট ফ্রি প্রেস, ডেট্রয়েট নিউজ, নিউজউইক
হন্ডুরাস থেকে যাত্রা শুরু করা ৬০০-এর বেশি অভিবাসীর একটি বহর বর্তমানে মেক্সিকোর দক্ষিণাঞ্চল পেরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তের দিকে এগোচ্ছে। ‘ফে ই এসপেরানজা’ বা ‘বিশ্বাস ও আশা’ নামের এই বহরে হন্ডুরাসের পাশাপাশি এল সালভাদর, গুয়াতেমালা, ইকুয়েডর ও হাইতির নাগরিকরাও রয়েছেন। স্প্যানিশ বার্তা সংস্থা ইএফইর প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে নিউজউইক জানিয়েছে, গত ২০ সেপ্টেম্বর হন্ডুরাসের সান পেদ্রো সুলা থেকে প্রায় ২০০ থেকে ৪০০ অভিবাসী ছোট ছোট দলে উত্তরমুখী যাত্রা শুরু করেন। তাদের প্রথম লক্ষ্য ছিল গুয়াতেমালার সীমান্তে পৌঁছানো। এরপর মেক্সিকোর দক্ষিণাঞ্চলে পৌঁছে বহরটির সদস্যসংখ্যা বাড়তে থাকে। সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এতে ৬০০-এর বেশি মানুষ যুক্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে। গত বৃহস্পতিবার প্রায় ৩০০ সদস্য নিয়ে দলটি মেক্সিকোর সীমান্তবর্তী শহর তাপাচুলায় পৌঁছেছিল। পরে দক্ষিণ মেক্সিকোতে আগে থেকেই অবস্থান করা আরও অভিবাসীরা তাদের সঙ্গে যোগ দেন। ফলে বর্তমানে ৬০০-এর বেশি মানুষের এই বহরকে শুধু হন্ডুরাস থেকে যাত্রা করা অভিবাসীদের দল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এতে বিভিন্ন দেশের নাগরিক রয়েছেন। অভিবাসীদের কয়েকজন ইএফইকে জানিয়েছেন, হন্ডুরাস ছাড়ার পেছনে অন্যতম কারণ অর্থনৈতিক সংকট ও কাজের অভাব। দুই সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে যাত্রা করা এক নারী জানান, দেশে তার জন্য কোনো কাজ নেই। আরেক অভিবাসী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানো কঠিন হবে জানলেও তিনি চেষ্টা চালিয়ে যেতে চান। সান পেদ্রো সুলার বাসিন্দা হোসে সেলাইয়া জানান, তিনি ২০ সেপ্টেম্বর পরিবারের সাত সদস্যকে নিয়ে হন্ডুরাস ছাড়েন। যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছে কাজ করে দেশে থাকা স্বজনদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ইচ্ছার কথা জানান তিনি। অভিবাসীদের কেউ তাদের পরিচালনা করছে না বলেও দাবি করেন সেলাইয়া। তার ভাষায়, তাদের সামনে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো কেউ নেই, ক্ষুধা ও প্রয়োজনই তাদের এগিয়ে নিচ্ছে। তবে এই বহর এখনো যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্ত থেকে অনেক দূরে। শেষ পর্যন্ত কতজন উত্তর মেক্সিকো পর্যন্ত যেতে পারবেন বা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা করবেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। অতীতেও মেক্সিকো হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দিকে যাওয়া অভিবাসী বহরের অনেকগুলো সংগঠিত দল হিসেবে মার্কিন সীমান্তে পৌঁছাতে পারেনি। মেক্সিকোর কর্তৃপক্ষ অতীতেও উত্তরমুখী অভিবাসী বহরগুলোকে থামিয়ে ছত্রভঙ্গ করেছে। কখনো অভিবাসীদের আটক করা হয়েছে, আবার কখনো তাদের মেক্সিকোর অন্য এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। চলতি বছর আগস্টেও তাপাচুলা থেকে প্রায় ৮০০ অভিবাসীর একটি বহর মেক্সিকো সিটির দিকে যাত্রা করেছিল। ওই দলটির অনেক সদস্য যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পরিবর্তে মেক্সিকোতেই বৈধভাবে কাজ ও বসবাসের সুযোগ পাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। এবারের বহরের যাত্রা এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে কঠোর নীতি অনুসরণ করছে। ট্রাম্প ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর দক্ষিণ সীমান্তে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। সীমান্ত নিরাপত্তায় সামরিক ও ন্যাশনাল গার্ড সদস্য মোতায়েন, আশ্রয়প্রার্থীদের প্রবেশের সুযোগ সীমিত করা এবং অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমকারীদের আটক ও ফেরত পাঠানোর মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এসব নীতির পর যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে অবৈধ প্রবেশের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। নিউজউইকের প্রতিবেদনে মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের তথ্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, আগস্ট ২০২৬-এ দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তে ৮ হাজার ৮৭০টি গ্রেপ্তারের ঘটনা রেকর্ড করেছে মার্কিন সীমান্তরক্ষী বাহিনী। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাইডেন প্রশাসনের সময়ের মাসিক গড়ের তুলনায় এটি ৯৪ শতাংশ কম। একই মাসে সীমান্তরক্ষী বাহিনী কাউকে যুক্তরাষ্ট্রে ছেড়ে দেয়নি এবং টানা ১৬ মাস ধরে এমন পরিস্থিতি বজায় রয়েছে। মার্কিন কর্তৃপক্ষ নতুন বহরের সদস্যদের অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা না করারও সতর্কবার্তা দিয়েছে। ২১ সেপ্টেম্বর তেগুসিগালপায় মার্কিন দূতাবাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানায়, আইন ভঙ্গ করে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা করলে তাদের ফেরত পাঠানো হবে। বিপজ্জনক যাত্রা থেকে বিরত থাকতে এবং মানবপাচারকারীদের কথায় বিশ্বাস না করতেও অভিবাসীদের সতর্ক করা হয়। বহরটি যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তের দিকে এগিয়ে যাওয়ায় দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে রিপাবলিকান দলের কয়েকজন রাজনীতিক এটিকে সীমান্ত নিরাপত্তা ও অভিবাসন ইস্যুতে গুরুত্ব দিয়েছেন। অন্যদিকে সাবেক কংগ্রেস সদস্য মার্জরি টেলর গ্রিন এই বহরের সময় নিয়ে প্রশ্ন তুলে দাবি করেছেন, নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অভিবাসন ইস্যুটিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তার এই বক্তব্য একটি রাজনৈতিক দাবি, যার পক্ষে প্রতিবেদনে স্বাধীন কোনো প্রমাণ দেওয়া হয়নি। মেক্সিকোর দক্ষিণ সীমান্তে তাপাচুলা দীর্ঘদিন ধরে উত্তর আমেরিকাগামী অভিবাসীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি এলাকা। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি কঠোর হওয়ার পর শহরটিতে বহু অভিবাসী আটকে পড়ার ঘটনাও ঘটছে। চলতি বছরের আগস্টে ইএফই জানিয়েছিল, বিভিন্ন দেশের কয়েক হাজার অভিবাসী মেক্সিকোর দক্ষিণাঞ্চলে নথিপত্র ও বৈধ অবস্থানের সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন। বর্তমান বহরটি শেষ পর্যন্ত কোন পথে এগোয় এবং মেক্সিকোর কর্তৃপক্ষ তাদের কীভাবে মোকাবিলা করে, সেটিই এখন দেখার বিষয়। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তে পৌঁছানোর পর এই অভিবাসীরা প্রবেশের চেষ্টা করবেন কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। সূত্র: নিউজউইক
যুক্তরাষ্ট্রে নিম্নআয়ের মানুষদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দুটি সরকারি কর্মসূচি, খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি SNAP এবং স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি Medicaid-এর নিয়মে বড় পরিবর্তন আসছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০২৫ সালের বাজেট আইনের আওতায় নেওয়া কয়েকটি পরিবর্তন আগামী ১ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। পরিবর্তনগুলোর মধ্যে রয়েছে SNAP পরিচালনার ব্যয়ের ক্ষেত্রে রাজ্যগুলোর ওপর বাড়তি আর্থিক দায়িত্ব এবং কিছু বৈধ অভিবাসীর Medicaid সুবিধার জন্য কেন্দ্রীয় অর্থায়নের নিয়মে পরিবর্তন। অন্যদিকে Medicaid-এর নতুন কাজ বা সামাজিক অংশগ্রহণের শর্ত ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে, যদিও কোনো কোনো রাজ্য চাইলে এর আগেও তা চালু করতে পারবে। এসব পরিবর্তনের ফলে কোটি কোটি মানুষের সরাসরি সুবিধা বন্ধ হয়ে যাবে এমন নয়। তবে যোগ্যতা যাচাই, প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এবং রাজ্যগুলোর অর্থায়নের দায়িত্বে পরিবর্তন আসায় সুবিধাভোগীদের ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে। SNAP পরিচালনার ব্যয়ে রাজ্যের দায়িত্ব বাড়ছে আগামী ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে SNAP পরিচালনার প্রশাসনিক ব্যয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের অংশ ৫০ শতাংশ থেকে কমে ২৫ শতাংশ হওয়ার কথা। ফলে সাধারণ প্রশাসনিক ব্যয়ের বাকি ৭৫ শতাংশ রাজ্যগুলোকে বহন করতে হবে। মার্কিন কৃষি বিভাগের খাদ্য ও পুষ্টি প্রশাসন জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ‘ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল অ্যাক্ট’-এর একটি ধারার মাধ্যমে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। ২০২৭ অর্থবছর থেকে নতুন হার কার্যকর করার জন্য কৃষি বিভাগ নিয়ম পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছে। SNAP-এর প্রশাসনিক ব্যয়ের মধ্যে সুবিধাভোগীদের আবেদন ও হিসাব ব্যবস্থাপনা, কর্মীদের খরচ, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থা এবং কিছু জালিয়াতি প্রতিরোধ কার্যক্রমের ব্যয় অন্তর্ভুক্ত থাকে। কেন্দ্রীয় সহায়তা কমে যাওয়ায় রাজ্যগুলোকে নিজেদের বাজেট থেকে বেশি অর্থ ব্যয় করতে হবে। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই পরিবর্তন নিজে থেকে SNAP সুবিধার অর্থের পরিমাণ কমিয়ে দিচ্ছে না। বরং কর্মসূচিটি পরিচালনার খরচ কে কতটা বহন করবে, সেই কাঠামোতে পরিবর্তন হচ্ছে। রাজ্যগুলো বাড়তি ব্যয়ের সঙ্গে কীভাবে মানিয়ে নেবে, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পরবর্তী সময়ে SNAP সুবিধার খরচেও রাজ্যের অংশ আসতে পারে SNAP-এর ক্ষেত্রে আরও একটি পরিবর্তন ২০২৭ সালের অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। যেসব রাজ্যে সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে ভুলের হার নির্দিষ্ট ফেডারেল সীমার ওপরে থাকবে, সেসব রাজ্যকে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে SNAP সুবিধার অর্থের একটি অংশ বহন করতে হতে পারে। এটি বর্তমান ব্যবস্থার তুলনায় বড় পরিবর্তন। এতদিন SNAP-এর সুবিধা দেওয়ার অর্থ মূলত কেন্দ্রীয় সরকারই বহন করে আসছিল। তবে এই পরিবর্তন ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকেই কার্যকর হচ্ছে না। তাই চলতি বছরের অক্টোবরের পরিবর্তনের সঙ্গে ২০২৭ সালের সম্ভাব্য ব্যয় ভাগাভাগির নিয়মকে আলাদা করে দেখা প্রয়োজন। কিছু অভিবাসীর Medicaid সুবিধায় পরিবর্তন ১ অক্টোবর থেকে Medicaid ও শিশুদের স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচি CHIP-এর ক্ষেত্রে কিছু বৈধ অভিবাসীর জন্য কেন্দ্রীয় অর্থায়নের নিয়মেও পরিবর্তন আসছে। মেডিকেয়ার ও মেডিকেইড সার্ভিসেস কেন্দ্রের নির্দেশনা অনুযায়ী, পূর্ণ Medicaid সুবিধার জন্য কেন্দ্রীয় অর্থায়ন সাধারণভাবে মার্কিন নাগরিক ও নাগরিকত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের পাশাপাশি বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা বা গ্রিন কার্ডধারী, কিউবান-হাইতিয়ান প্রবেশকারী এবং কমপ্যাক্ট অব ফ্রি অ্যাসোসিয়েশনভুক্ত দেশগুলোর নির্দিষ্ট নাগরিকদের জন্য অব্যাহত থাকবে। এর বাইরে আশ্রয়প্রার্থী, শরণার্থী, নির্দিষ্ট ধরনের প্যারোলপ্রাপ্ত ব্যক্তি এবং মানবপাচারের শিকার ব্যক্তিদের মতো কিছু শ্রেণির জন্য ১ অক্টোবর থেকে পূর্ণ Medicaid সুবিধায় কেন্দ্রীয় অর্থায়ন আর সাধারণভাবে পাওয়া যাবে না, যদি তারা অন্য কোনো যোগ্য শ্রেণির মধ্যে না পড়েন। তবে এর অর্থ এই নয় যে প্রত্যেক আক্রান্ত ব্যক্তির স্বাস্থ্যসেবা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাবে। জরুরি চিকিৎসার জন্য Medicaid-এর বিশেষ সুবিধা বহাল থাকবে। পাশাপাশি কোনো কোনো রাজ্য নিজেদের অর্থ দিয়ে নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা চালিয়ে যেতে পারে। শিশু ও গর্ভবতী ব্যক্তিদের জন্য বিদ্যমান কিছু ফেডারেল বিধানের আওতায় বিশেষ সুযোগও থাকতে পারে। রাজ্যগুলোকে তাই ১ অক্টোবরের আগে সম্ভাব্যভাবে প্রভাবিত সুবিধাভোগীদের অভিবাসন-সংক্রান্ত যোগ্যতা যাচাই করতে হচ্ছে। কেন্দ্রীয় নির্দেশনায় এ বিষয়ে বর্তমান সুবিধাভোগীদের তথ্য পুনরায় যাচাইয়ের প্রক্রিয়াও উল্লেখ করা হয়েছে। Medicaid পেতে কাজ বা সামাজিক কার্যক্রমের নতুন শর্ত Medicaid-এর আরেকটি বড় পরিবর্তন ২০২৭ সালের শুরুতে কার্যকর হওয়ার কথা। নির্দিষ্ট শ্রেণির ১৯ থেকে ৬৪ বছর বয়সী, গর্ভবতী নন এবং মেডিকেয়ারে অন্তর্ভুক্ত নন এমন প্রাপ্তবয়স্কদের মাসে অন্তত ৮০ ঘণ্টা নির্দিষ্ট কাজ বা সামাজিক কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার প্রমাণ দিতে হতে পারে। এই শর্ত পূরণ করা যাবে চাকরি, নির্দিষ্ট কর্মসূচি, কমিউনিটি সার্ভিস বা অনুমোদিত শিক্ষামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে। কেউ কেউ নির্দিষ্ট আয় অর্জনের মাধ্যমেও শর্ত পূরণ করতে পারবেন। মার্কিন স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের অধীন মেডিকেয়ার ও মেডিকেইড সার্ভিসেস কেন্দ্র জানিয়েছে, এই নতুন শর্ত ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারির মধ্যে রাজ্যগুলোকে বাস্তবায়ন করতে হবে। কোনো রাজ্য চাইলে তার আগেও এটি কার্যকর করতে পারবে। তবে এই নিয়ম সবার জন্য প্রযোজ্য নয়। নির্দিষ্ট বয়স, পারিবারিক দায়িত্ব, প্রতিবন্ধিতা, সাবেক পালক পরিচর্যা ব্যবস্থায় থাকা এবং কিছু বিশেষ পরিস্থিতির মানুষ ছাড় পেতে পারেন। সরকারের যুক্তি ও সমালোচকদের উদ্বেগ মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন নিয়মের লক্ষ্য হলো কর্মক্ষম ব্যক্তিদের কাজ, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ বা সামাজিক কার্যক্রমে যুক্ত করা এবং সরকারি কর্মসূচির অপব্যবহার কমানো। CMS প্রশাসক মেহমেত ওজ বলেছেন, নতুন ব্যবস্থা কাজ, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও কমিউনিটি সার্ভিসের মাধ্যমে মানুষের দক্ষতা ও স্বনির্ভরতা বাড়াতে সহায়তা করবে। অন্যদিকে সমালোচকদের উদ্বেগ হলো, নতুন রিপোর্টিং ও যোগ্যতা যাচাইয়ের নিয়মের কারণে প্রকৃতপক্ষে যোগ্য কিছু মানুষও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে সুবিধা হারাতে পারেন। খাদ্য সহায়তা নিয়ে কাজ করা সংস্থা ফিডিং আমেরিকাও SNAP-এ পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। সংস্থাটির মতে, রাজ্যগুলোর ওপর বাড়তি ব্যয়ের চাপ শেষ পর্যন্ত খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির কার্যকারিতায় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ মনে করছেন, নতুন নিয়মের প্রকৃত প্রভাব অনেকটাই নির্ভর করবে রাজ্যগুলো কীভাবে তা বাস্তবায়ন করে তার ওপর। একই ফেডারেল নিয়ম বিভিন্ন রাজ্যে প্রশাসনিকভাবে ভিন্নভাবে কার্যকর হতে পারে। কখন কোন পরিবর্তন ২০২৬ সালের ১ অক্টোবর থেকে SNAP পরিচালনার প্রশাসনিক ব্যয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের অংশ ৫০ শতাংশ থেকে ২৫ শতাংশে নামার বিধান কার্যকর হওয়ার কথা। একই দিনে নির্দিষ্ট বৈধ অভিবাসী শ্রেণির জন্য পূর্ণ Medicaid ও CHIP সুবিধায় কেন্দ্রীয় অর্থায়নের নতুন সীমাবদ্ধতাও কার্যকর হবে। এরপর ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে নির্দিষ্ট Medicaid সুবিধাভোগীর জন্য মাসে ৮০ ঘণ্টার কাজ বা অনুমোদিত সামাজিক কার্যক্রমের শর্ত কার্যকর করার কথা। রাজ্যগুলো চাইলে এর আগেও ব্যবস্থা চালু করতে পারবে। আর SNAP সুবিধার ব্যয় ভাগাভাগির ক্ষেত্রে রাজ্যগুলোর নতুন আর্থিক দায়িত্ব ২০২৭ সালের অক্টোবর থেকে নির্দিষ্ট শর্তে কার্যকর হওয়ার কথা। ফলে অক্টোবর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সহায়তা ব্যবস্থায় একসঙ্গে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন শুরু হচ্ছে। এর প্রভাব শুধু সুবিধাভোগীদের যোগ্যতার ওপর নয়, রাজ্যগুলোর বাজেট, প্রশাসনিক সক্ষমতা এবং সরকারি সহায়তা ব্যবস্থার পরিচালনার ওপরও পড়তে পারে। সূত্র: মার্কিন কৃষি বিভাগ (USDA), মেডিকেয়ার ও মেডিকেইড সার্ভিসেস কেন্দ্র (CMS), Newsweek
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিট জনসমর্থন দুই মেয়াদ মিলিয়ে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে জরিপ বিশ্লেষক নেট সিলভারের সিলভার বুলেটিন। ২৫ সেপ্টেম্বর হালনাগাদ করা হিসাবে তাঁর কাজের প্রতি সমর্থনের চেয়ে অসমর্থন ২২ দশমিক ৪ শতাংশ পয়েন্ট বেশি। নিউজউইকের দেওয়া প্রতিবেদনটি ২৪ সেপ্টেম্বরের; মূল জরিপসমষ্টি পরে হালনাগাদ হয়েছে। নিট জনসমর্থন বের করা হয় সমর্থনের হার থেকে অসমর্থনের হার বাদ দিয়ে। ফলে ঋণাত্মক ২২ দশমিক ৪ শতাংশ পয়েন্টের অর্থ ট্রাম্পকে মাত্র ২২ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ সমর্থন করেন, এমন নয়। সিলভার বুলেটিন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জরিপের তথ্য মিলিয়ে এই গড় হিসাব করে। একই পর্যায়ে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে নিট জনসমর্থন ছিল ঋণাত্মক ১১ দশমিক ৬ শতাংশ পয়েন্ট। সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মেয়াদের একই সময়ে ছিল ঋণাত্মক ৯ দশমিক ৬ শতাংশ পয়েন্ট। এই তুলনাও সিলভার বুলেটিনের হিসাব থেকে এসেছে। পৃথকভাবে, ১৭ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর নেওয়া রয়টার্স-ইপসোস জরিপে ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হিসেবে কাজ সমর্থন করেছেন ৩২ শতাংশ মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক। আগের সপ্তাহে একই জরিপে তা ছিল ৩৫ শতাংশ। ১ হাজার ২৭৭ জনের ওপর চালানো জরিপটির সম্ভাব্য ত্রুটির সীমা ৩ শতাংশ পয়েন্ট। ইপসোসও সেপ্টেম্বরের এই জরিপের তথ্য প্রকাশ করেছে। ওই জরিপে জীবনযাত্রার ব্যয় সামলানোর ক্ষেত্রে ট্রাম্পের ভূমিকা সমর্থন করেছেন ১৭ শতাংশ উত্তরদাতা। রিপাবলিকান উত্তরদাতাদের মধ্যে প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাঁর কাজের প্রতি সমর্থন আগের সপ্তাহের ৮২ শতাংশ থেকে কমে ৭৩ শতাংশ হয়েছে। তবে একটি জরিপ দিয়ে এই পরিবর্তনের নির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত করা যায় না।
যুক্তরাষ্ট্রের করদাতাদের জন্য নতুন মোবাইল অ্যাপ চালু করেছে আইআরএস। এতে কর ফেরতের অগ্রগতি দেখার পাশাপাশি নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্টের তথ্য দেখা ও কর পরিশোধের সুযোগ রয়েছে। ২৫ সেপ্টেম্বর অ্যাপটি চালুর ঘোষণা দেয় সংস্থাটি। এটি আগের ‘আইআরএসটুগো’ অ্যাপের জায়গা নিয়েছে। কর ফেরতের অবস্থা জানতে অ্যাপে সাইন ইন করতে হবে না। সাইন ইন ছাড়াই নির্দিষ্ট কর পরিশোধ এবং বিনামূল্যে কর রিটার্ন দাখিলের সহায়তা খোঁজার সুবিধাও থাকছে। তবে সাইন ইন করলে করের বকেয়া, আগের পরিশোধের তথ্য, আইআরএসের পাঠানো নির্দিষ্ট চিঠি এবং করসংক্রান্ত নথি দেখা যাবে। সংশোধিত রিটার্নের ফেরতের অবস্থাও দেখা যাবে। আইআরএস জানিয়েছে, চালুর সময় অ্যাপে অনলাইন অ্যাকাউন্টের সব সুবিধা থাকছে না। যাঁদের ফোনে আগে থেকেই ‘আইআরএসটুগো’ আছে, তাঁদের আলাদা অ্যাপ নামাতে হবে না। স্বয়ংক্রিয় আপডেট চালু থাকলে পুরোনো অ্যাপটি নতুন সংস্করণে বদলে যাবে। অ্যাপটি বিনামূল্যে অ্যাপল অ্যাপ স্টোর ও গুগল প্লেতে পাওয়া যাচ্ছে। আইআরএসের নামে নকল অ্যাপ বা বার্তা থেকে সতর্ক থাকতে বলেছে সংস্থাটি। আসল অ্যাপ খুঁজতে আইআরএসের ওয়েবসাইটে থাকা যাচাইকৃত লিংক ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছে তারা। অনাকাঙ্ক্ষিত বার্তা বা ইমেইলে আইআরএস ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্য চায় না বলেও জানিয়েছে।
হরমুজ প্রণালিতে একটি সামুদ্রিক জাহাজে ইরানের ছোড়া জাহাজবিধ্বংসী ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার ঘটনায় আট মার্কিন মেরিন আহত হয়েছেন। এনবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৪ সেপ্টেম্বর হরমুজ প্রণালিতে ওই হামলার ঘটনা ঘটে। আহত আট মেরিনের মধ্যে সাতজন তালিকাভুক্ত সদস্য এবং একজন কর্মকর্তা ছিলেন। তারা একটি ব্যাটালিয়ন ল্যান্ডিং দলের অংশ হিসেবে ওই জাহাজে দায়িত্ব পালন করছিলেন। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে এনবিসি জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতের পর আহতদের ধোঁয়া শ্বাস নেওয়ার কারণে অসুস্থতা এবং মাথায় আঘাতজনিত সমস্যার সম্ভাব্য লক্ষণ দেখা দেয়। তাদের কয়েকজন মাথাব্যথাসহ মস্তিষ্কে আঘাতের মতো উপসর্গ অনুভব করেন। তবে আহতদের কারও অবস্থা গুরুতর ছিল না এবং অল্প সময়ের মধ্যেই আটজনই আবার দায়িত্বে ফিরে যান। ঘটনাটির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, মেরিনরা ওই সময় মার্কিন নৌবাহিনীর কোনো জাহাজে ছিলেন না। মার্কিন কর্মকর্তারা জাহাজটির মালিকানা বা ধরন সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়ে এটিকে শুধু একটি সামুদ্রিক জাহাজ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এনবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার সময় ওই জাহাজে থাকা মার্কিন সেনাদের উপস্থিতির বিষয়টি তখন প্রকাশ্যে জানানো হয়নি। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে এনবিসি আরও জানিয়েছে, ১৪ সেপ্টেম্বরের হামলার বিষয়ে সে সময় পেন্টাগনের পক্ষ থেকে মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্য করে কোনো প্রকাশ্য ঘোষণা দেওয়া হয়নি। পরে প্রতিরক্ষা বিভাগের সামরিক হতাহত সংক্রান্ত তথ্যভান্ডারে আহত আট মেরিনের তথ্য যুক্ত করা হয়। পেন্টাগনের ডিফেন্স ক্যাজুয়ালটি অ্যানালাইসিস সিস্টেম বা ডিসিএএসের তথ্য অনুযায়ী, এই আটজনকে যুক্ত করার পর ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতে আহত মার্কিন সামরিক সদস্যের সংখ্যা ৮৬১ জনে পৌঁছায়। ওয়াশিংটন পোস্টের পর্যালোচনা অনুযায়ী, একই সময়ে আরও ২৯ জন মার্কিন নৌসদস্যের তথ্য যোগ হওয়ায় মোট আহতের সংখ্যা এক সপ্তাহে ৩৭ জন বেড়েছিল। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সামরিক সদস্য আহত হওয়ার তথ্য প্রকাশে অনেক সময় বিলম্ব হতে পারে। কোনো আঘাতের উপসর্গ তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ না পাওয়ায় এবং তথ্যভান্ডার তাৎক্ষণিকভাবে হালনাগাদ না হওয়ায় এমন বিলম্ব হয়। প্রকাশ্য ডিসিএএস তথ্যভান্ডারে ওই আট মেরিন কোথায়, কখন এবং কীভাবে আহত হয়েছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি। হরমুজ প্রণালি সামরিক ও বাণিজ্যিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নৌপথ। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মধ্যে সংযোগ তৈরি করা এই প্রণালির মধ্য দিয়ে বিশ্বের জ্বালানি বাণিজ্যের বড় একটি অংশ পরিবাহিত হয়। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে অঞ্চলটিতে সংঘাত বাড়ার পর বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ও নৌনিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগও বেড়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল সচল রাখতে তারা সামরিক সহায়তা দিয়ে আসছে। জুলাইয়ে সেন্টকম জানিয়েছিল, ইরানি হামলার পরও প্রণালিটি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য খোলা রয়েছে এবং মার্কিন বাহিনী সেখানে জাহাজ চলাচলে সহায়তা করছে। সেন্টকমের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ইরানের সামরিক সক্ষমতা এবং বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঝুঁকি কমাতে যুক্তরাষ্ট্র এর আগে ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবস্থা এবং নৌ সক্ষমতার ওপর হামলা চালিয়েছে। মার্কিন বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, এসব অভিযান হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়েছে। সাম্প্রতিক ঘটনায় মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আহত আট মেরিন গুরুতর অবস্থায় ছিলেন না এবং হামলার পর দ্রুত দায়িত্বে ফিরে যান। তবে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সংঘাতে মার্কিন সামরিক সদস্যদের হতাহতের প্রকৃত চিত্র নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সূত্র: এনবিসি নিউজ
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।