যুক্তরাষ্ট্র

ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশের সার্টিফিকেট দিয়ে কি যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি করা যায়? যা জানা জরুরি

বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজের ডিগ্রি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি করা সম্ভব কি না—এ প্রশ্ন অনেক প্রবাসী, ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট এবং নতুন অভিবাসীদের মধ্যে প্রায়ই দেখা যায়। অভিজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের ডিগ্রি দিয়েই যুক্তরাষ্ট্রের অনেক কর্পোরেট কোম্পানি, আইটি প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, স্বাস্থ্যসেবা খাত এবং বিভিন্ন প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে চাকরির জন্য আবেদন করা সম্ভব। এমনকি স্টেট ও ফেডারেল গভর্নমেন্টের চাকরিও করা যায়, বিশেষ কিছু ক্ষেত্র বাদে।   তবে চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র সার্টিফিকেট নয়, বরং আপনার দক্ষতা, কাজের অভিজ্ঞতা এবং রেজ্যুমি বা বায়োডাটার মান সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায়।   পেশাজীবীরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি পাওয়ার অন্যতম প্রধান মাধ্যম হলো একটি শক্তিশালী, প্রফেশনাল এবং “ইউএস ফরম্যাট” বা আমেরিকান স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী তৈরি রেজ্যুমি। এখানে বাংলাদেশের প্রচলিত অনেক তথ্য সাধারণত ব্যবহার করা হয় না। যেমন—বাবা-মায়ের নাম, বৈবাহিক অবস্থা, গ্রামের বাড়ি, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর বা পরিবারের বিস্তারিত তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের রেজ্যুমিতে দেওয়ার প্রয়োজন হয় না।   বরং রেজ্যুমিতে গুরুত্ব দিতে হয় আপনার প্রফেশনাল স্কিল, কাজের অভিজ্ঞতা, অর্জন এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতার ওপর। বিশেষজ্ঞদের মতে, আপনি আপনার আগের চাকরিতে কী ধরনের কাজ করেছেন, কী কী দায়িত্ব পালন করেছেন, কোন কোন সফটওয়্যার, টুলস বা টেকনোলজিতে দক্ষ—এসব বিষয় বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করতে হবে।   উদাহরণ হিসেবে, একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হলে তিনি কোন প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ, ক্লাউড প্ল্যাটফর্ম বা অটোমেশন টুলে কাজ করেছেন, তা উল্লেখ করবেন। আবার একজন অ্যাকাউন্ট্যান্ট হলে কোন ফিন্যান্স সফটওয়্যার বা রিপোর্টিং সিস্টেমে কাজ করেছেন, সেটি তুলে ধরতে হবে।   এছাড়া পূর্ববর্তী চাকরিতে কোনো বড় অর্জন বা অ্যাচিভমেন্ট থাকলে সেগুলোও রেজ্যুমিতে যুক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ। যেমন—টিম লিড করা, প্রজেক্ট সফলভাবে সম্পন্ন করা, প্রসেস ইমপ্রুভমেন্ট বা কোম্পানির পারফরম্যান্স বৃদ্ধিতে অবদান রাখা ইত্যাদি।   রেজ্যুমির শেষ অংশে শিক্ষাগত যোগ্যতা উল্লেখ করা হয়। কেউ যদি বাংলাদেশের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বা অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা সম্পন্ন করে থাকেন, তাহলে আন্তর্জাতিক ফরম্যাটে সেটি উল্লেখ করা যায়। উদাহরণ হিসেবে:   ব্যাচেলর অব সায়েন্স - ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ঢাকা, বাংলাদেশ অথবা মাস্টার্স ইন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন - ইউনিভার্সিটি অব ঢাকা, বাংলাদেশ।   বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের অনেক কোম্পানি বিদেশি ডিগ্রি সরাসরি গ্রহণ করলেও কিছু প্রতিষ্ঠান “ক্রেডেনশিয়াল ইভ্যালুয়েশন” বা ডিগ্রির সমমান যাচাই দেখতে চাইতে পারে। এটি এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদিত কোনো প্রতিষ্ঠান বিদেশি ডিগ্রিকে আমেরিকান শিক্ষাব্যবস্থার সমমান হিসেবে মূল্যায়ন করে।   তবে বাস্তবে অধিকাংশ প্রাইভেট কোম্পানি দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে বেশি গুরুত্ব দেয়। বিশেষ করে আইটি, সফটওয়্যার, কাস্টমার সার্ভিস, বিজনেস অ্যানালাইসিস, ফিন্যান্স এবং বিভিন্ন কর্পোরেট চাকরিতে বাংলাদেশের ডিগ্রি নিয়ে সরাসরি আবেদন করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন অভিজ্ঞ পেশাজীবীরা।   অন্যদিকে, কিছু লাইসেন্সভিত্তিক পেশা—যেমন ডাক্তার, আইনজীবী, নার্স বা নির্দিষ্ট সরকারি নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট চাকরিতে অতিরিক্ত পরীক্ষা, লাইসেন্স বা ডিগ্রি ইভ্যালুয়েশনের প্রয়োজন হতে পারে।   যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন কর্মরত এক আইটি বিশেষজ্ঞ জানান, তিনি গত ১৫ বছরে বিভিন্ন কোম্পানিতে কাজ করেছেন এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তাকে আলাদা ডিগ্রি ইভ্যালুয়েশন দেখাতে হয়নি। তবে কিছু কোম্পানি তাদের নিজস্ব নীতিমালার কারণে ইভ্যালুয়েশন চাইতে পারে।   সবশেষে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো—শুধু ডিগ্রি নয়, নিজের স্কিল উন্নয়ন, ইংরেজিতে দক্ষতা, লিংকডইন প্রোফাইল, নেটওয়ার্কিং এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী রেজ্যুমি তৈরি করাই চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মে ১৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
মেয়াদ শেষের আগমুহূর্তে পুরোনো প্যান্টের পকেটে মিললো ৫.৯ মিলিয়ন ডলারের লটারির টিকিট

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যে অবিশ্বাস্য এক ঘটনায় মেয়াদ শেষ হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে উদ্ধার হলো ৫.৯ মিলিয়ন ডলারের বিজয়ী লটারির টিকিট।   নিউ জার্সি লটারির পিক-6 ড্রয়ের এই টিকিটটি কেনা হয়েছিল ২০২৫ সালের ২২ মে, রোজল্যান্ড এলাকার একটি এক্সন গ্যাস স্টেশন থেকে। কিন্তু টিকিট কেনার পর সেটি কোথায় রাখা হয়েছিল, তা সম্পূর্ণ ভুলে যান ক্রেতা।   লটারি কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে মেয়াদ শেষ হতে যাওয়া একটি বিজয়ী টিকিটের খবর প্রকাশিত হয়।   প্রতিবেদনে টিকিটটি কোন গ্যাস স্টেশন থেকে কেনা হয়েছিল, সেটিও উল্লেখ করা হয়। খবরটি দেখে ওই ব্যক্তি বুঝতে পারেন, এটি হয়তো তারই কেনা টিকিট হতে পারে, কারণ ওই গ্যাস স্টেশনটি ছিল তার নিয়মিত যাতায়াতের জায়গা।   এরপর তিনি গ্যাস স্টেশনে গিয়ে কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন। কর্মীরা জানান, তাদের এখানে নিয়মিত খুব কম সংখ্যক মানুষ Pick-6 টিকিট কিনতেন এবং তাকে বাড়িতে থাকা পুরোনো টিকিটগুলো ভালোভাবে খুঁজে দেখতে বলেন।   পরে বাড়িতে ফিরে শুরু হয় খোঁজাখুঁজি। অবশেষে একটি পুরোনো প্যান্টের পকেটে কুঁচকানো অবস্থায় পাওয়া যায় বহু কাঙ্ক্ষিত সেই টিকিট।   সবচেয়ে অবাক করার বিষয় হলো, টিকিটটির মেয়াদ শেষ হতে তখন বাকি ছিল মাত্র আট দিন। অর্থাৎ আর কিছুদিন দেরি হলে প্রায় ৫.৯ মিলিয়ন ডলারের বিশাল অঙ্কের পুরস্কার সম্পূর্ণ বাতিল হয়ে যেত।   এই ঘটনাটি ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই বলছেন, এটি যেন সিনেমার গল্পকেও হার মানানো এক বাস্তব ঘটনা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মে ১৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
১৭ বছর বয়সে দু’টি স্যুটকেস নিয়ে আমেরিকায় এসে প্রেস্টিজিয়াস কলেজে ভর্তি, স্বপ্ন জাতিসংঘে কাজ করার

মাত্র ১৭ বছর বয়সে জীবনের সব স্মৃতি, স্বপ্ন আর প্রয়োজনীয় জিনিস গুছিয়ে দুটি স্যুটকেস হাতে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন এক দক্ষিণ এশীয় তরুণী। দুবাইয়ে বেড়ে ওঠা এই তরুণীর সেই সাহসী সিদ্ধান্তই আজ তাকে পৌঁছে দিয়েছে বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইউনিভার্সিটি ওফ ক্যালিফর্নিয়া, বার্কলিতে। এখন তার স্বপ্ন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নীতিনির্ধারণী কাজে যুক্ত হওয়া এবং একদিন ইউনাইটেড নেশন এ কাজ করা।   তরুণীর পারিবারিক জীবন সহজ ছিল না। বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর তার মা একাই তিন সন্তানকে বড় করেছেন। দক্ষিণ এশীয় সংস্কৃতিতে যেখানে অল্প বয়সী মেয়েদের একা বিদেশে পড়তে পাঠানো খুব সাধারণ নয়, সেখানে তার মা সিদ্ধান্ত নেন মেয়েকে স্বাধীন ও শিক্ষিত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবেন।   তরুণী জানান, তার মা অল্প বয়সেই বিয়ে ও মাতৃত্বের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। তাই তিনি চেয়েছিলেন মেয়ের জীবনে সেই চক্র ভাঙতে। মায়ের সেই সাহস এবং আত্মত্যাগই তাকে নতুন জীবন শুরু করার অনুপ্রেরণা দিয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে এসে শুরুটা ছিল সম্পূর্ণ অপরিচিত এক পৃথিবী। কোনো বন্ধু বা আত্মীয় ছাড়াই তাকে নতুন পরিবেশে মানিয়ে নিতে হয়েছে। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, নিজে রান্না করা, পড়াশোনার পাশাপাশি জীবনযাপনের প্রতিটি বিষয় তাকে নতুন করে শিখতে হয়েছে।   প্রথমে তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার ডে আনজা কলেজে ভর্তি হন। সেখানে নিজের মেধা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে একাডেমিক সাফল্য অর্জনের পর ২০২৫ সালের বসন্তে ট্রান্সফার হওয়ার সুযোগ পান ইউনিভার্সিটি ওফ ক্যালিফর্নিয়া, বার্কলিতে, যা বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে পরিচিত।   বার্কলিতে ভর্তি হওয়ার খবর পাওয়ার মুহূর্তটি তার জীবনের সবচেয়ে আবেগঘন স্মৃতিগুলোর একটি। তিনি সঙ্গে সঙ্গে দুবাইয়ে থাকা মাকে ফোন করেন। তখন ভোর ৪টা হলেও মা আনন্দে সেই খবর উদযাপন করেছিলেন। তরুণীর ভাষায়, “বার্কলিতে ভর্তি হওয়া শুধু আমার নয়, আমার মা ও আমার যৌথ সংগ্রামের ফল।”   শুধু পড়াশোনাতেই নয়, নেতৃত্ব ও সামাজিক কর্মকাণ্ডেও নিজেকে সক্রিয়ভাবে যুক্ত করেছেন তিনি। বার্কলিতে “মুসলিম টেক কোলাবরেটিভ ”–এর প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী প্রতিনিধি হিসেবেও কাজ করছেন।   বর্তমানে তিনি রাজনৈতিক অর্থনীতি (পলিটিকাল ইকোনোমি) বিষয়ে পড়াশোনা করছেন। রাজনীতি, অর্থনীতি ও সংস্কৃতি কীভাবে মানুষের জীবন ও সমাজকে প্রভাবিত করে, সেই বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করতেই তার আগ্রহ বেশি।   স্নাতক শেষ করার পর তিনি সান ফ্রান্সিসকোর কোনো স্টার্টআপে কাজ করার পরিকল্পনা করছেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কাজ করে বিশ্বের বিভিন্ন কমিউনিটির জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন আনার স্বপ্ন দেখছেন। আর সেই লক্ষ্য থেকেই একদিন জাতিসংঘে কাজ করার ইচ্ছা পোষণ করেন এই তরুণী।   অনেকের কাছে এটি শুধুই একজন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সাফল্যের গল্প। কিন্তু বাস্তবে এটি একজন মায়ের সাহস, একটি মেয়ের আত্মবিশ্বাস এবং প্রতিকূলতাকে জয় করার এক অনুপ্রেরণামূলক যাত্রা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মে ১৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে শেষকৃত্যের আকাশছোঁয়া ব্যয়: “মরার সামর্থ্যও নেই আমাদের” অনুভূতি প্রবাসী মুসলিমদের

যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যু পরবর্তী সৎকার বা ফিউনারেলের ব্যয় ক্রমেই বেড়ে চলায় তা অনেক পরিবারের জন্য বড় আর্থিক সংকটে পরিণত হয়েছে। সাধারণ দাফন থেকে শুরু করে কফিন, কবরস্থান, ফিউনারেল হোমের ফি, পরিবহনসহ সব মিলিয়ে ব্যয় এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে অনেক পরিবারের সঞ্চয় শেষ হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে নিউইয়র্ক ও আশপাশের অঞ্চলে বসবাসকারী মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে এই চাপ আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে।   ন্যাশনাল ফিউনারেল ডিরেক্টরস অ্যাসোসিয়েশন (এনএফডিএ) অনুযায়ী, কফিনসহ পূর্ণ দাফন ও সৎকারের জাতীয় গড় খরচ প্রায় ৮ হাজার ৩০০ ডলার। ভল্টসহ এই ব্যয় প্রায় ৯ হাজার ৯৯৫ ডলারে পৌঁছে যায়। দাহ করার ক্ষেত্রেও গড় ব্যয় ৬ হাজার ২৮০ ডলার। সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, প্রতি বছর এই খরচ গড়ে প্রায় ৬ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা ২০২৬ সালে একটি সাধারণ সৎকারের ব্যয় প্রায় ১০ হাজার ৫৯৫ ডলারে নিতে পারে।   আঞ্চলিকভাবে এই ব্যয়ের তারতম্য আরও স্পষ্ট। নর্থইস্ট অঞ্চল, বিশেষ করে নিউইয়র্ক ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় ফিউনারেল ব্যয় জাতীয় গড়ের চেয়ে প্রায় ৮ শতাংশ বেশি। দক্ষিণাঞ্চলে যেখানে ব্যয় শুরু হয় প্রায় ৬ হাজার ৭০০ ডলার থেকে, সেখানে নর্থইস্টে তা ৮ হাজার ৯৮৫ ডলার পর্যন্ত পৌঁছায়।   একটি পূর্ণ ফিউনারেল প্যাকেজে সাধারণত অনুষ্ঠানের কক্ষ ভাড়া, কফিন, কবরস্থান, ভল্ট, সমাধিফলক ও গাড়ি ভাড়া অন্তর্ভুক্ত থাকে। কফিনই এর মধ্যে সবচেয়ে ব্যয়বহুল অংশ, যার দাম ৯০০ থেকে ১০ হাজার ডলার পর্যন্ত হতে পারে।   দাহ করার খরচ তুলনামূলকভাবে কম হলেও সেটিও উল্লেখযোগ্য। যুক্তরাষ্ট্রে সরাসরি দাহ করার গড় ব্যয় প্রায় ২ হাজার ২০২ ডলার। কিছু এলাকায় তা ৯৯৫ ডলার পর্যন্ত পাওয়া গেলেও কয়েকটি রাজ্যে এটি ৩ হাজার ডলার ছাড়িয়ে যায়।   সরকারি সহায়তা সীমিত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল। সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন মৃত্যুর পর মাত্র ২৫৫ ডলার সহায়তা দেয়, যা শেষকৃত্যের মোট ব্যয়ের তুলনায় নগণ্য।   নিউইয়র্কে মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য বিষয়টি আরও সংবেদনশীল। শহরে কয়েক লাখ মুসলিম বসবাস করলেও পৃথক মুসলিম কবরস্থান না থাকায় বিভিন্ন বেসরকারি কবরস্থানের ওপর নির্ভর করতে হয়, যা ব্যয় আরও বাড়িয়ে দেয়। সব মিলিয়ে কিছু ক্ষেত্রে একটি শেষকৃত্যের খরচ ৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত পৌঁছায়।   ইসলামি নিয়ম অনুযায়ী মৃত্যুর পর দ্রুত দাফন, গুসল, কাফন ও জানাজা সম্পন্ন করতে হয়। ফলে পরিবারগুলো সময় নিয়ে বিকল্প খোঁজার সুযোগ পায় না। এতে আর্থিক চাপ আরও বেড়ে যায়।   নিউইয়র্ক ও নিউজার্সি এলাকায় বেশ কয়েকটি মুসলিম ফিউনারেল সার্ভিস রয়েছে, যেখানে তুলনামূলকভাবে কম খরচে সেবা দেওয়া হয়। নিউজার্সির কিছু ইসলামিক সেন্টারের মাধ্যমে প্রায় ২ হাজার ৫০০ ডলারে মৌলিক সেবা পাওয়া যায়। তবে এতে কবরের খরচ অন্তর্ভুক্ত থাকে না।   মুসলিম ফ্রি ব্যুরিয়াল অ্যাসোসিয়েশনসহ কিছু স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা বিনামূল্যে দাফনের ব্যবস্থা করে থাকে, তবে তা নির্ভর করে দাতব্য সহায়তার ওপর।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মে ১৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
নকল ওষুধ বিক্রির দায়ে ১৩ ভারতীয়র ওপর মার্কিন ভিসা নিষেধাজ্ঞা

যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ নাগরিকদের কাছে ফেন্টানাইল মিশ্রিত নকল ও বিপজ্জনক ওষুধ বিক্রির অভিযোগে ভারতের একটি অনলাইন ফার্মেসির সঙ্গে যুক্ত ১৩ জন ব্যক্তির ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিন সরকার। মঙ্গলবার (১২ মে ২০২৬) মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই কঠোর পদক্ষেপের কথা জানানো হয়।   অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ‘কেএস ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডার্স’ নামক একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দীর্ঘ দিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে নকল প্রেসক্রিপশন ড্রাগ বা ওষুধ সরবরাহ করে আসছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।   স্টেট ডিপার্টমেন্টের বিবৃতিতে জানানো হয়, এই ১৩ জন ব্যক্তি কেএস ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডার্স এবং এর মালিকের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন। তারা ভারত থেকে তাদের এই অবৈধ নেটওয়ার্ক পরিচালনা করে আসছিলেন। এই চক্রটি অনুমোদনহীন অনলাইন ফার্মেসির আড়ালে হাজার হাজার মার্কিন নাগরিকের কাছে নকল ওষুধ বিক্রি করেছে।   সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এসব ওষুধের মধ্যে অতি বিপজ্জনক রাসায়নিক ‘ফেন্টানাইল’ মিশ্রিত ছিল, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য এক চরম হুমকি। এই অবৈধ মাদক পাচার ও বিক্রি থেকেই এই চক্রটির আয়ের সিংহভাগ আসত বলে তদন্তে উঠে এসেছে। উল্লেখ্য, বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফেন্টানাইলকে ‘গণবিধ্বংসী অস্ত্র’ (Weapon of Mass Destruction) হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, যা এই অপরাধের ভয়াবহতাকে আরও স্পষ্ট করে তোলে।   মার্কিন প্রশাসনের এই পদক্ষেপ মূলত অবৈধ মাদক সিন্ডিকেটগুলো নির্মূল করার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র এবং ভারতের দীর্ঘস্থায়ী ও যৌথ অঙ্গীকারের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। ওয়াশিংটন সাফ জানিয়ে দিয়েছে, যারা আমেরিকান নাগরিকদের বিষ প্রয়োগের মাধ্যমে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে কিংবা এই অশুভ প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করছে, তাদের কোনোভাবেই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না।   এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সীমান্ত পারের অপরাধ দমনে উভয় দেশের কঠোর অবস্থানের বিষয়টি আবারও সামনে এলো, যা দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক নিরাপত্তা সহযোগিতাকে আরও জোরালো করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মে ১৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
মেরিল্যান্ডের স্কুল বাস ড্রাইভার জিতেছেন ৫০ লাখ ডলারের লটারি

যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের এক স্কুল বাস ড্রাইভার লটারিতে ৫০ লাখ ডলার জিতে রাতারাতি আলোচনায় এসেছেন। সৌভাগ্যবান ওই ব্যক্তির নাম মরিস উইলিয়ামস। তিনি দীর্ঘদিন ধরে স্কুল বাস চালকের কাজ করছেন।   স্থানীয় লটারি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, কর্মস্থলে যাওয়ার পথে মরিস একটি সেভেন ইলেভেন দোকানে থেমে আগের একটি লটারিতে জেতা ৫০ ডলারের পুরস্কার ভাঙান। পরে সেই অর্থ দিয়েই তিনি আরেকটি স্ক্র্যাচ-অফ লটারির টিকিট কেনেন।   গাড়িতে বসে টিকিটটি পরীক্ষা করার সময় প্রথমে তিনি বুঝতে পারেননি যে তিনি জ্যাকপট জিতেছেন। পরে টিকিট স্ক্যান করার পর দেখা যায়, সেটিই ছিল ৫০ লাখ ডলারের শীর্ষ পুরস্কারজয়ী টিকিট।   মরিস বলেন, “প্রথমে আমি বিশ্বাসই করতে পারিনি। স্ক্যান করার পর দেখি মিলেছে ৫৯ নম্বর, আর মজার বিষয় হলো কয়েকদিন আগেই আমার বয়স ৫৯ বছর হয়েছে।”   বড় অঙ্কের পুরস্কার জয়ের খবরটি তিনি প্রথমে তার মাকে জানান। মরিসের ভাষ্য অনুযায়ী, তার মা তাকে শান্ত থাকতে বলেন এবং এই আনন্দের মুহূর্তে পাশে থাকেন।   পুরস্কারের অর্থ কীভাবে ব্যয় করবেন—এমন প্রশ্নের জবাবে মরিস জানান, সবার আগে তিনি তার মায়ের জন্য একটি বাড়ি কিনতে চান। এছাড়া বাকি অর্থ সঞ্চয় করে ভবিষ্যতের জন্য পরিকল্পনা করবেন।   এদিকে, বিজয়ী টিকিট বিক্রি করার কারণে সেভেন-ইলেভেন দোকানটিও ৫ হাজার ডলারের বিশেষ বোনাস পাবে।   ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। অনেকেই মরিসের মায়ের জন্য বাড়ি কেনার সিদ্ধান্তকে মানবিক ও অনুপ্রেরণাদায়ক বলে মন্তব্য করছেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মে ১২, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
কোভিড সময়ের ট্যাক্স ফাইল নিয়ে আদালতের যে রায়ে অনেকেই পেতে পারেন রিফান্ড

কোভিড-১৯ মহামারির সময় দেরিতে ট্যাক্স ফাইল করা বা সময়মতো কর জমা দিতে না পারায় জরিমানা ও সুদ পরিশোধ করা লাখো আমেরিকান এখন রিফান্ড পাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালতের সাম্প্রতিক রায়ের পর বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় এসেছে।   “Kwong v. United States” মামলায় যুক্তরাষ্ট্রের কোর্ট অব ফেডারেল ক্লেইমস রায় দেয়, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা জাতীয় জরুরি অবস্থার সময় ট্যাক্স ফাইলিংয়ের সময়সীমা বাড়ানোর যে আইনি বিধান রয়েছে, তা কোভিড-১৯ মহামারির সময়ও কার্যকর হওয়া উচিত ছিল। আদালতের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে কোভিড জরুরি অবস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২০ সালের ২০ জানুয়ারি থেকে ২০২৩ সালের ১০ জুলাই পর্যন্ত কার্যকর ছিল।   এই রায়ের ফলে ওই সময়ের মধ্যে দেরিতে ট্যাক্স রিটার্ন জমা দেওয়া বা সময়মতো কর পরিশোধ করতে না পারায় যাদের কাছ থেকে জরিমানা ও সুদ আদায় করা হয়েছিল, তারা সেই অর্থ ফেরত পাওয়ার যোগ্য হতে পারেন বলে মনে করছেন কর বিশেষজ্ঞরা।   বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য অনুযায়ী, অনেক আমেরিকান হয়তো না জেনেই অপ্রয়োজনীয় জরিমানা পরিশোধ করেছেন। মহামারির সময় চাকরি হারানো, অসুস্থতা, ব্যবসায় ক্ষতি কিংবা আর্থিক সংকটের কারণে বহু মানুষ সময়মতো ট্যাক্স ফাইল করতে পারেননি। আদালতের এই রায় তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্বস্তির খবর হিসেবে দেখা হচ্ছে।   তবে বিষয়টি এখনো পুরোপুরি চূড়ান্ত হয়নি। মামলাটি নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং আইআরএস এখন পর্যন্ত সবার জন্য স্বয়ংক্রিয় রিফান্ড ঘোষণা করেনি। ফলে কর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সম্ভাব্য রিফান্ড পেতে আগ্রহীদের নিজেদের ট্যাক্স রেকর্ড পর্যালোচনা করা উচিত এবং প্রয়োজন হলে সংশোধিত রিটার্ন বা রিফান্ড দাবি জমা দিতে হবে।   এছাড়া রিফান্ড দাবির সময়সীমাও দ্রুত শেষ হয়ে আসছে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাই যারা কোভিড সময়ের ট্যাক্স জরিমানা বা সুদ পরিশোধ করেছিলেন, তাদের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মে ১২, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
এক ভবনের ভেতরে ৭০০ বিলিয়ন ডলারের স্বর্ণ! রহস্যে ঘেরা আমেরিকার ফোর্ট নক্স

পাহাড়ঘেরা নিরিবিলি এক এলাকা। বাইরে থেকে দেখলে সাধারণ একটি সামরিক স্থাপনা মনে হতে পারে। কিন্তু সেই বিশাল কংক্রিট আর গ্রানাইটের দেয়ালের ভেতরেই নাকি লুকিয়ে আছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় স্বর্ণভান্ডারের একটি—প্রায় ৭০০ বিলিয়ন ডলারের স্বর্ণ। এই রহস্যময় জায়গাটির নাম ফোর্ট নক্স।   দশকের পর দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রের এই গোপন ভল্টকে ঘিরে তৈরি হয়েছে অসংখ্য গল্প, রহস্য আর ষড়যন্ত্র তত্ত্ব। কেউ বলেন, সেখানে এখনও হাজার হাজার টন খাঁটি স্বর্ণ সযত্নে রাখা আছে। আবার কেউ দাবি করেন, বহু আগেই সেই ভল্ট খালি হয়ে গেছে—কিন্তু সত্য জানে কেবল হাতে গোনা কয়েকজন মানুষ।   সম্প্রতি আবারও আলোচনায় আসে ফোর্ট নক্স, যখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, তিনি নিজেই সেখানে গিয়ে দেখতে চান সত্যিই স্বর্ণগুলো এখনও আছে কি না। শুনতে যেন হলিউডের কোনো থ্রিলার সিনেমা। কিন্তু বাস্তবের ফোর্ট নক্স তার চেয়েও রহস্যময়।   যুক্তরাষ্ট্রের কেন্টাকি অঙ্গরাজ্যে অবস্থিত এই ভল্টের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পৃথিবীর সবচেয়ে কঠোরগুলোর একটি বলে মনে করা হয়। বিশাল স্টিলের দরজা, বিস্ফোরণ প্রতিরোধী দেয়াল, চারপাশে সেনাবাহিনীর কড়া পাহারা এবং অত্যাধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তিতে ঘেরা পুরো এলাকা। বলা হয়, ভল্টের দরজার পাসওয়ার্ডও কোনো এক ব্যক্তি পুরোটা জানেন না—বিভিন্ন অংশ আলাদা আলাদা কর্মকর্তার কাছে থাকে।   ফোর্ট নক্স সাধারণ মানুষের জন্য সম্পূর্ণ বন্ধ। এমনকি বহু মার্কিন রাজনীতিকও কখনও এর ভেতরে প্রবেশের সুযোগ পাননি। ইতিহাসে মাত্র কয়েকবার সাংবাদিক ও বিশেষ অতিথিদের সীমিতভাবে ভল্ট দেখানো হয়েছিল। এরপর থেকেই রহস্য আরও গভীর হয়েছে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এখানে সংরক্ষিত স্বর্ণ শুধু ধন-সম্পদ নয়; এটি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক শক্তি, বৈশ্বিক প্রভাব এবং আর্থিক নিরাপত্তার প্রতীক। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় গুরুত্বপূর্ণ নথি ও মূল্যবান সম্পদও এখানে নিরাপদে রাখা হয়েছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন নতুন করে প্রশ্ন উঠছে—সত্যিই কি সেই ভল্ট এখনও সোনায় ভরা? নাকি বিশ্বের সবচেয়ে সুরক্ষিত ভবনের ভেতরে লুকিয়ে আছে অন্য কোনো অজানা সত্য?   রহস্যের উত্তর আজও পুরোপুরি জানা যায়নি। আর সেই কারণেই ফোর্ট নক্স এখনও বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত ও কৌতূহলোদ্দীপক গোপন ভল্টগুলোর একটি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মে ১১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
মিশিগানে স্টেট রিপ্রেজেন্টেটিভ পদে নির্বাচন করছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মিনহাজ চৌধুরী

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডিস্ট্রিক্ট-১৪ স্টেট রিপ্রেজেন্টেটিভ পদে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মিনহাজ চৌধুরী। আগামী ৪ আগস্ট ২০২৬ অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হিসেবে প্রচারণা চালাচ্ছেন।   নির্বাচনী প্রচারণায় মিনহাজ চৌধুরী স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ছোট ব্যবসায় সহায়তা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং কমিউনিটি সেবার উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এছাড়া রাস্তা সংস্কার, ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সম্প্রসারণ এবং সামাজিক কর্মসূচি ও পার্ক উন্নয়নের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।   তার প্রচারণার মূল স্লোগান হচ্ছে— “Vision. Dedication. Results. Unified, We Create Change.”   মিনহাজ চৌধুরী বলেন, তিনি এমন একটি অগ্রসর ও উদ্ভাবনী ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে চান যেখানে স্থানীয় ব্যবসা, অবকাঠামো ও কমিউনিটির উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। মিশিগানে বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির মধ্যেও তার প্রার্থিতা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় প্রবাসীরা বলছেন, মূলধারার রাজনীতিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের অংশগ্রহণ কমিউনিটির প্রতিনিধিত্ব আরও শক্তিশালী করবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মে ১০, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশ চাকরিতে বাড়ছে বাংলাদেশিদের আগ্রহ, যেভাবে যোগ দিতে পারবেন আপনিও

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি কমিউনিটির বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতেও বাড়ছে বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণ। নিউইয়র্ক, মেরিল্যান্ড, ভার্জিনিয়া, মিশিগান, টেক্সাস ও ক্যালিফোর্নিয়াসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বর্তমানে বহু বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ বিভাগে কর্মরত রয়েছেন। ভালো বেতন, চাকরির নিরাপত্তা, সম্মানজনক পেশা এবং কমিউনিটির সেবার সুযোগ থাকায় অনেকের এ পেশার প্রতি আগ্রহ বাড়ছে।   তবে যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশ অফিসার হতে হলে কিছু নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণ করতে হয়। অধিকাংশ পুলিশ বিভাগে আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ২১ বছর হতে হয়। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অথবা কিছু ক্ষেত্রে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা (গ্রিন কার্ডধারী) হওয়ার শর্ত থাকে। আবেদনকারীর হাই স্কুল ডিপ্লোমা বা GED থাকতে হয় এবং অনেক বিভাগ কলেজ শিক্ষাকে অতিরিক্ত যোগ্যতা হিসেবে বিবেচনা করে।   পুলিশ বিভাগে যোগ দিতে হলে প্রথমে লিখিত পরীক্ষা, শারীরিক সক্ষমতা পরীক্ষা, মেডিকেল পরীক্ষা এবং বিস্তারিত ব্যাকগ্রাউন্ড চেকের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। এছাড়া মানসিক স্বাস্থ্য মূল্যায়ন ও সাক্ষাৎকারও গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হয়। অনেক বিভাগে পলিগ্রাফ বা লাই ডিটেক্টর পরীক্ষাও নেওয়া হয়ে থাকে।   নির্বাচিত প্রার্থীদের পরে পাঠানো হয় পুলিশ একাডেমিতে। সেখানে কয়েক মাসব্যাপী প্রশিক্ষণে আইন, অস্ত্র পরিচালনা, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা, আত্মরক্ষামূলক কৌশল এবং কমিউনিটি পুলিশিং সম্পর্কে হাতে-কলমে শিক্ষা দেওয়া হয়। একাডেমি শেষে নতুন কর্মকর্তাদের মাঠ পর্যায়ে অভিজ্ঞ অফিসারের সঙ্গে কাজ করে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হয়।   আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে কর্মরত বাংলাদেশি কর্মকর্তারা বলছেন, বাংলা ভাষা জানা এবং বাংলাদেশি কমিউনিটির সংস্কৃতি সম্পর্কে ধারণা থাকায় কমিউনিটির সঙ্গে যোগাযোগে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। বিশেষ করে পারিবারিক সহিংসতা, সামাজিক বিরোধ বা কমিউনিটি সচেতনতা কার্যক্রমে বাংলাদেশি অফিসারদের উপস্থিতি ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।   বেতন ও সুযোগ-সুবিধার দিক থেকেও পেশাটি আকর্ষণীয়। অঙ্গরাজ্য ও বিভাগের ভিত্তিতে একজন পুলিশ অফিসারের বার্ষিক আয় সাধারণত ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ ডলারের বেশি হতে পারে। এছাড়া স্বাস্থ্যবীমা, পেনশন, ওভারটাইম এবং অন্যান্য সরকারি সুবিধাও পাওয়া যায়।   তবে পুলিশ বিভাগে যোগ দিতে আগ্রহীদের জন্য পরিষ্কার ব্যক্তিগত রেকর্ড, শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবনযাপন এবং শারীরিক সক্ষমতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মে ১০, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
লস অ্যাঞ্জেলেসে ট্রাফিক জট এড়াতে নতুন সাবওয়ে: ২৫ বছর পর চালু হলো 'ডি লাইন'

লস অ্যাঞ্জেলেসের চিরচেনা ট্রাফিক জট থেকে মুক্তি দিতে দীর্ঘ ২৫ বছর পর শহরে নতুন সাবওয়ে (ভূগর্ভস্থ ট্রেন) স্টেশন চালু হয়েছে। ১২ মাইলের যে পথ পাড়ি দিতে ব্যস্ত সময়ে ১ থেকে ২ ঘণ্টা সময় লাগত, এখন পাতালপথে মাত্র ২১ মিনিটে সেই গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব হবে। আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপ এবং ২০২৮ সালের অলিম্পিক গেমসের কথা মাথায় রেখে এই প্রকল্পকে লস অ্যাঞ্জেলেসের যাতায়াত ব্যবস্থায় একটি ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।   শহরটির ডাউনটাউন থেকে বেভারলি হিলস পর্যন্ত বিস্তৃত এই সাবওয়েটি ‘ডি লাইন’ (D Line) নামে পরিচিত। গত শুক্রবার জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই বর্ধিত অংশের উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হলিউড তারকাদের উপস্থিতি এবং ‘রাইড দ্য ডি’ (Ride the D) লেখা টি-শার্ট পরিহিত কয়েকশ মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। এই উপলক্ষে সপ্তাহজুড়ে লস অ্যাঞ্জেলেসের মেট্রো ব্যবস্থা সবার জন্য বিনামূল্যে ভ্রমণের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।   লস অ্যাঞ্জেলেস মেট্রোর প্রধান প্রোগ্রাম ম্যানেজমেন্ট অফিসার টিম লিন্ডহোম বলেন, "গড়পড়তা নাগরিকদের কাছে এটি অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে যে, ইউনিয়ন স্টেশন থেকে বেভারলি হিলস এখন মাত্র ২১ মিনিটের পথ। এটি শহরটির পরিবহন ইতিহাসে একটি বড় মাইলফলক।"   পুরো প্রকল্পটি তিনটি ধাপে সম্পন্ন হবে। প্রথম ধাপে মিরাকল মাইল এলাকার তিনটি স্টেশন চালু হয়েছে, যা ল্যাকমা (Lacma) এবং একাডেমি মিউজিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলোকে যুক্ত করেছে। আগামী বছর পরবর্তী দুটি ধাপ শেষ হলে সাবওয়েটি সরাসরি ইউসিএলএ (UCLA) এবং ওয়েস্ট লস অ্যাঞ্জেলেস পর্যন্ত পৌঁছাবে।   উল্লেখ্য, এই প্রকল্পের পরিকল্পনা সেই ১৯৬০-এর দশকে করা হলেও বিভিন্ন আইনি জটিলতা এবং মাটির নিচের কঠিন স্তরের কারণে বারবার থমকে গিয়েছিল। বিশেষ করে ‘লা ব্রিয়া’র মতো পিচ্ছিল আলকাতরার খনি এবং মাটির নিচে গ্যাস বিস্ফোরণের ঝুঁকির কারণে খনন কাজ বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল। এমনকি খনন চলাকালে উলিম্যামথ এবং আমেরিকান বাইসনের মতো কয়েকশ প্রাচীন প্রাণীর জীবাশ্ম উদ্ধার করা হয়েছে।   শহর কর্তৃপক্ষ আশা করছে, পরিচ্ছন্ন এবং নিরাপদ এই মেট্রো সেবা কেবল পর্যটকদের জন্যই নয়, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও গণপরিবহনের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনবে। বিশ্বব্যাপী চোখ যখন লস অ্যাঞ্জেলেসের দিকে, তখন এই আধুনিক সাবওয়ে শহরটির ভবিষ্যৎ যাতায়াত ব্যবস্থায় নতুন দিগন্তের সূচনা করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ডেস্ক রিপোর্ট মে ৯, ২০২৬ 0
স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইরানি চিকিৎসা গবেষক ডঃ জহরা শোকরি ভারনিয়াব এবং তার স্বামী আশকান পুরাভারি ল্যাঙরউডি | ছবি: সংগৃহীত
গ্রিন কার্ড জটিলতায় অনিশ্চয়তায় যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত হাজার রোগীর চিকিৎসক ডা. ফয়সাল

যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যে কর্মরত এক অভিবাসী চিকিৎসক গ্রিন কার্ড নবায়ন জটিলতায় অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। তিনি বর্তমানে প্রায় এক হাজার রোগীকে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন বলে জানা গেছে।   লিবিয়া থেকে আসা চিকিৎসক ডা. ফয়সাল আলঘৌলা একজন ফুসফুস ও আইসিইউ বিশেষজ্ঞ। তিনি ইন্ডিয়ানা, ইলিনয় ও কেনটাকির গ্রামীণ এলাকার রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। স্থানীয়ভাবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংকট থাকায় তার সেবার ওপর অনেক রোগী নির্ভরশীল।   খবরে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের সময় চালু হওয়া একটি নীতির কারণে তার গ্রিন কার্ড নবায়নের আবেদন দীর্ঘদিন ধরে আটকে আছে। আবেদন বাতিল হলে চলতি বছরের সেপ্টেম্বরেই তার বর্তমান ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যেতে পারে।   চিকিৎসক ও অভিবাসন আইনজীবীরা বলছেন, এ ধরনের জটিলতায় বিদেশি চিকিৎসকদের যুক্তরাষ্ট্রে কাজ চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় বিদেশি চিকিৎসকদের ওপর স্বাস্থ্যসেবা অনেকটাই নির্ভরশীল।   তবে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র সরকার চিকিৎসকদের জন্য একটি বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা চালু করেছে। নতুন এই নীতির আওতায় যেসব চিকিৎসকের গ্রিন কার্ড বা ভিসা আবেদন বিচারাধীন রয়েছে, তারা কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সুবিধা পেতে পারেন।   বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তনের ফলে ডা. ফয়সাল আলঘৌলার মতো অনেক বিদেশি চিকিৎসক যুক্তরাষ্ট্রে থেকে চিকিৎসাসেবা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।   বিদেশি চিকিৎসকদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় স্থানীয় রোগীদের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মে ৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন পরিকল্পনা, সিলিকন ভ্যালিতে H-1B কর্মীর ন্যূনতম বেতন হতে পারে ১ লাখ ৬২ হাজার ডলার

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি দক্ষ কর্মীদের জন্য ব্যবহৃত H-1B ভিসা কর্মসূচিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের পরিকল্পনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে প্রযুক্তিখাতের বিদেশি কর্মীদের জন্য ন্যূনতম বেতনের সীমা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে।   প্রস্তাব অনুযায়ী, সিলিকন ভ্যালিতে H-1B ভিসায় নিয়োগ পাওয়া কর্মীদের ন্যূনতম বেতন হতে পারে প্রায় ১ লাখ ৬২ হাজার ডলার। একই ধরনের চাকরির ক্ষেত্রে নিউইয়র্কে প্রায় ১ লাখ ৩২ হাজার ডলার এবং টেক্সাসের ডালাসে প্রায় ১ লাখ ১৩ হাজার ডলার বেতন নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে।   খবরে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন H-1B কর্মীদের বেতনের ন্যূনতম সীমা প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর চিন্তা করছে। এর সঙ্গে আগে থেকেই থাকা প্রায় ১ লাখ ডলারের ফি ও অন্যান্য খরচ যোগ হলে বিদেশি কর্মী নিয়োগ প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর জন্য আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে পারে।   বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো যেমন আমাজন, মাইক্রোসফট, গুগল, মেটা এবং অ্যাপল     প্রতি বছর হাজার হাজার বিদেশি কর্মীকে H-1B ভিসার মাধ্যমে নিয়োগ দেয়।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বড় কোম্পানিগুলো বাড়তি খরচ বহন করতে পারলেও ছোট ও মাঝারি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো সমস্যায় পড়তে পারে। এতে স্টার্টআপ কোম্পানিগুলোর জন্য দক্ষ আন্তর্জাতিক কর্মী নিয়োগ আরও কঠিন হয়ে যেতে পারে।   প্রযুক্তি খাতের অনেকে আশঙ্কা করছেন, নতুন নিয়ম কার্যকর হলে বিদেশি মেধাবীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির সুযোগ সীমিত হতে পারে এবং মার্কিন প্রযুক্তি শিল্পে কর্মী সংকটও তৈরি হতে পারে।

ডেস্ক রিপোর্ট মে ৯, ২০২৬ 0
এসএনএপি জালিয়াতি দমনে যুক্তরাষ্ট্রে অভিযান জোরদার করেছে ফেডারেল কর্তৃপক্ষ | ছবি: এআই, আমেরিকা বাংলা
বিলাসবহুল গাড়ির মালিকদের কাছেও ফুড স্ট্যাম্প, যুক্তরাষ্ট্রে অভিযানে গ্রেপ্তার ১,০ হাজারের বেশি

যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি এসএনএপি বা “ফুড স্ট্যাম্প” নিয়ে বড় ধরনের জালিয়াতির অভিযোগ সামনে এসেছে। অপব্যবহার ও প্রতারণা ঠেকাতে দেশজুড়ে অভিযান চালাচ্ছে ইউনাইটেড স্টেটস ডিপার্টমেন্ট অব এগ্রিকালচার।   কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই অভিযানে এখন পর্যন্ত ১ হাজারের বেশি ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তে দেখা গেছে, কিছু ব্যক্তি আর্থিকভাবে স্বচ্ছল হওয়া সত্ত্বেও ভুল তথ্য ব্যবহার করে সরকারি খাদ্য সহায়তা নিচ্ছেন।   যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিমন্ত্রী ব্রুক রলিন্স জানান, কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে এমন ব্যক্তিদের খুঁজে পাওয়া গেছে, যাদের কাছে ফেরারি, বেন্টলি ও ল্যাম্বরগিনির মতো বিলাসবহুল গাড়ি রয়েছে, অথচ তারা ফুড স্ট্যাম্প সুবিধাও গ্রহণ করছেন।   তিনি আরও বলেন, তদন্তে প্রায় ৫ লাখ ব্যক্তির বিরুদ্ধে একাধিক সুবিধা অবৈধভাবে নেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া প্রায় ২ লাখ ৪৪ হাজার মৃত ব্যক্তির নামেও খাদ্য সহায়তা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।   এসএনএপি যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় খাদ্য সহায়তা কর্মসূচিগুলোর একটি, যা নিম্ন আয়ের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিচালিত হয়। তবে দীর্ঘদিন ধরেই এই কর্মসূচিতে জালিয়াতি ও অপব্যবহার নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক রয়েছে।   নতুন পদক্ষেপের অংশ হিসেবে ফুড স্ট্যাম্প গ্রহণকারী দোকানগুলোর জন্যও নতুন নিয়ম আনা হচ্ছে। এখন থেকে দোকানগুলোতে প্রোটিন, শস্য, দুগ্ধজাত পণ্য, ফল ও সবজি মিলিয়ে অন্তত সাত ধরনের খাদ্যপণ্য রাখা বাধ্যতামূলক হবে।   কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, স্বাস্থ্যকর খাবারের প্রাপ্যতা বাড়ানো এবং অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবারের ওপর নির্ভরতা কমাতেই এই পরিবর্তন আনা হচ্ছে। নতুন নিয়ম ২০২৬ সালের শরৎ থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মে ৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ফ্লোরিডায় বাংলাদেশি দোকানকর্মীকে হাতুড়ি দিয়ে হত্যার ঘটনায় হাইতিয়ান অভিবাসীর মৃত্যুদণ্ড চায় প্রসিকিউশন

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের ফোর্ট মায়ার্সে এক গ্যাস স্টেশনের দোকানকর্মীকে নির্মমভাবে হত্যা করার ঘটনায় অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা হাইতিয়ান নাগরিক রলবার্ট জোয়াচিনের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের আবেদন করেছে প্রসিকিউশন।   ফ্লোরিডার লি কাউন্টির স্টেট অ্যাটর্নি অমিরা ফক্স জানান, ৪০ বছর বয়সী জোয়াচিনের বিরুদ্ধে গ্র্যান্ড জুরি অভিযোগ গঠন করেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২ এপ্রিল গ্যাস স্টেশনের বাইরে ৫১ বছর বয়সী নিলুফা ইসমিনকে হাতুড়ি দিয়ে মাথায় একাধিকবার আঘাত করে হত্যা করা হয়।   নিহত নিলুফা ইসমিন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ছিলেন বলে জানা গেছে। ঘটনার সময় তিনি কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করছিলেন।   প্রসিকিউটরদের তথ্যমতে, হামলার আগে অভিযুক্ত ব্যক্তি ভুক্তভোগীর গাড়ির জানালা ভেঙে দেন। এ নিয়ে প্রতিবাদ জানাতে গেলে তিনি দোকানকর্মীর ওপর হামলা চালান। ঘটনাটি সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ করা হয়, যা কর্তৃপক্ষ “অত্যন্ত নৃশংস ও ভয়াবহ” বলে বর্ণনা করেছে।   ঘটনার পর জোয়াচিন ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পরে ফোর্ট মায়ার্স পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।   স্টেট অ্যাটর্নি অমিরা ফক্স বলেন, “এই ঘটনা ছিল অত্যন্ত সহিংস, অপ্রয়োজনীয় ও ভয়াবহ। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে প্রবেশ করে কর্মরত এক মায়ের জীবন নির্মমভাবে শেষ করেছেন।” তিনি আরও বলেন, “আমরা সর্বোচ্চ শাস্তি চাচ্ছি, মৃত্যুদণ্ডসহ।”   স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, ভিডিও প্রমাণ ও তদন্তে হামলার নির্মমতা স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।   ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে অভিবাসন নীতির কঠোর সমালোচনা করেন।   নিরাপত্তা সংস্থা ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি জানায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করে এবং পরবর্তীতে তার অভিবাসন পরিস্থিতি নিয়ে আইনি জটিলতায় ছিলেন।   ফ্লোরিডায় গ্যাস স্টেশনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত দোকানকর্মী হত্যার ঘটনায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের আবেদন |

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মে ৮, ২০২৬ 0
নবজাতক কন্যাসন্তানের আগমনের খবর সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছেন হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট | ছবি: আমেরিকা বাংলা
আবার মা হলেন ট্রাম্পের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট

যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট দ্বিতীয় সন্তানের মা হয়েছেন। তিনি কন্যাসন্তানের জন্মের খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্টের মাধ্যমে নিশ্চিত করেন।   পোস্টে লেভিট জানান, গত ১ মে তাদের পরিবারে নতুন সদস্য হিসেবে কন্যাসন্তান ‘ভিভিয়ানা’ জন্ম নেয়। পরিবারে তাকে আদর করে ‘ভিভি’ নামে ডাকা হচ্ছে। নবজাতক বর্তমানে সুস্থ রয়েছে এবং পরিবারে আনন্দের পরিবেশ বিরাজ করছে।   তিনি আরও জানান, তার বড় ছেলে নিকোলাস ছোট বোনকে আনন্দের সঙ্গে গ্রহণ করেছে। নতুন সদস্যকে ঘিরে পরিবারটি বর্তমানে সময় কাটাচ্ছে।   গর্ভাবস্থার সময়ে শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছ থেকে পাওয়া ভালোবাসা ও প্রার্থনার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ক্যারোলিন লেভিট।   গত এপ্রিল মাস থেকে তিনি মাতৃত্বকালীন ছুটিতে রয়েছেন। তার অনুপস্থিতিতে হোয়াইট হাউসের নিয়মিত প্রেস ব্রিফিং পরিচালনা করছেন প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা। কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে তিনি সাময়িকভাবে দায়িত্বে ফিরে সংবাদমাধ্যমকে তথ্য দেন।   বর্তমানে তার প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলাচ্ছেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তার নিয়মিত কাজে ফেরার সময়সূচি নিয়ে হোয়াইট হাউস এখনো কোনো নির্দিষ্ট ঘোষণা দেয়নি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মে ৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে কিশোরী পরিচয়ে হাইস্কুলে ভর্তি ২৮ বছরের নারী

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটিতে ভুয়া পরিচয়ে হাইস্কুলে ভর্তি হওয়ার এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ২৮ বছর বয়সী এক নারী নিজেকে ১৬ বছরের কিশোরী পরিচয় দিয়ে ব্রঙ্কসের একটি হাইস্কুলে ভর্তি হয়েছিলেন। পরে স্কুল কর্তৃপক্ষের সন্দেহের পর তার প্রকৃত পরিচয় প্রকাশ পেলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।   অভিযুক্তের নাম কেসি ক্লাসেন। তিনি “শামারা রাশাদ” নামে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে গত মাসে ব্রঙ্কসের ওয়েস্টচেস্টার স্কোয়ার একাডেমিতে ভর্তি হন। জমা দেওয়া নথিপত্রে তিনি দাবি করেন, তার জন্ম ২০১০ সালে এবং তিনি ওহাইও থেকে বোনের সঙ্গে নিউইয়র্কে এসেছেন। পুলিশের তথ্যমতে, ক্লাসেন প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে নিয়মিত ক্লাসে অংশ নেন। ভুয়া পরিচয় ও বয়সের ভিত্তিতে তাকে একটি স্কুল পরিচয়পত্রও দেওয়া হয়। তবে স্কুলের প্রিন্সিপালের সন্দেহ হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়।   তদন্তের একপর্যায়ে তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের প্রোফাইল থেকে নেওয়া স্ক্রিনশটের মাধ্যমে প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদের সময় ক্লাসেন প্রতারণার বিষয়টি স্বীকার করেন। পুলিশ জানায়, ক্লাসেন দাবি করেছেন, এক বন্ধুর পরামর্শে তিনি এ কাজ করেছেন, যাতে বেশি সরকারি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।   গত ২৭ এপ্রিল স্কুল ক্যাম্পাস থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে শিশু কল্যাণ বিপন্ন করা, অনধিকার প্রবেশ এবং ভুয়া পরিচয় ব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালতে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। আগামী ১৫ জুন মামলার পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।   নিউইয়র্ক সিটি স্কুল কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে বলেছে, “এনরোলমেন্ট জালিয়াতি একটি গুরুতর অপরাধ, যা নিউইয়র্ক সিটির পাবলিক স্কুল ব্যবস্থার মৌলিক মূল্যবোধকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।” কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ ঘটনাটি তদন্ত করছে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   ওয়েস্টচেস্টার স্কোয়ার একাডেমি একটি শিক্ষা ক্যাম্পাসের অংশ, যেখানে মোট ছয়টি স্কুল রয়েছে। একই ক্যাম্পাসের লেহম্যান হাইস্কুল কর্তৃপক্ষ অভিভাবকদের পাঠানো এক চিঠিতে জানায়, অভিযুক্তের পরিচয় নিয়ে যে সন্দেহ তৈরি হয়েছিল, তদন্তে তা সত্য প্রমাণিত হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মে ৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
ইন্ডিয়ানা ও ওহাইও প্রাইমারিতে জয়: নির্বাচনী লড়াইয়ে চমক ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা এবং ওহাইও অঙ্গরাজ্যের প্রাইমারি নির্বাচনে আবারও নিজের রাজনৈতিক দাপট প্রমাণ করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২০২৬ সালের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই নির্বাচনকে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার লিটমাস টেস্ট হিসেবে দেখা হচ্ছিল, যেখানে বড় জয় পেয়েছেন তার সমর্থিত প্রার্থীরা। ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যে ট্রাম্পের প্রধান লক্ষ্য ছিল সেই রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা, যারা জেলা পুনর্নির্ধারণ বা 'রিস্ট্রিক্টিং' পরিকল্পনায় তার বিরোধিতা করেছিলেন। নির্বাচনের ফলাফলে দেখা গেছে, ট্রাম্প সমর্থিত চ্যালেঞ্জারদের কাছে ধরাশায়ী হয়েছেন একাধিক অভিজ্ঞ রিপাবলিকান সিনেটর। বিশ্লেষকদের মতে, এটি দলের ভেতরে ট্রাম্পবিরোধীদের জন্য একটি কঠোর সতর্কবার্তা। অন্যদিকে, ওহাইও অঙ্গরাজ্যের গভর্নর পদে রিপাবলিকান দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত করেছেন বিবেক রামাস্বামী। প্রযুক্তি খাতের এই উদ্যোক্তা এবং ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত রামাস্বামী এখন মূল নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যামি অ্যাক্টনের মুখোমুখি হবেন। ওহাইওতে সিনেট নির্বাচনেও ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে সহজ জয় পেয়েছেন শেরড ব্রাউন, যা আগামী দিনে ওহাইওতে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস দিচ্ছে।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইন্ডিয়ানা এবং ওহাইও-র এই ফলাফল প্রমাণ করে যে রিপাবলিকান পার্টির ওপর ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিয়ন্ত্রণ এখনো অটুট। বিশেষ করে দলের ভেতরের বিদ্রোহীদের হটিয়ে ট্রাম্প অনুসারীদের এই জয় আগামী নভেম্বরের নির্বাচনে রিপাবলিকানদের কৌশল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মে ৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসা ৩ বছরের জন্য বন্ধের প্রস্তাব: বিপাকে পড়তে পারেন কয়েক লাখ বিদেশি কর্মী

যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে মার্কিন নাগরিকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে এবং বিদেশি সস্তা শ্রমের ওপর নির্ভরতা কমাতে এইচ-১বি (H-1B) ভিসা কর্মসূচিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব আনা হয়েছে। সম্প্রতি মার্কিন কংগ্রেসে রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের একটি গ্রুপ এই ভিসা কার্যক্রম তিন বছরের জন্য সম্পূর্ণ স্থগিত রাখার লক্ষ্যে একটি বিল উত্থাপন করেছে। 'এন্ড এইচ-১বি ভিসা অ্যাবিউজ অ্যাক্ট ২০২৬' (End H-1B Visa Abuse Act of 2026) শীর্ষক এই বিলটি উত্থাপন করেন অ্যারিজোনার রিপাবলিকান প্রতিনিধি এলি ক্রেন। তার সাথে আরও সাতজন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা এই বিলে সমর্থন জানিয়েছেন। বিলের মূল প্রস্তাবনাসমূহ: ১. ভিসা স্থগিত: আগামী তিন বছরের জন্য নতুন কোনো এইচ-১বি ভিসা ইস্যু করা হবে না। ২. কোটা হ্রাস: বার্ষিক ভিসার সংখ্যা ৬৫ হাজার থেকে কমিয়ে মাত্র ২৫ হাজারে নামিয়ে আনা। ৩. ন্যূনতম বেতন বৃদ্ধি: এইচ-১বি ভিসা পেতে হলে কর্মীর ন্যূনতম বার্ষিক বেতন হতে হবে ২ লাখ মার্কিন ডলার। ৪. নির্ভরশীলদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা: ভিসা ধারীরা তাদের পরিবারের সদস্যদের (H-4 ভিসা) যুক্তরাষ্ট্রে নিতে পারবেন না। ৫. লটারি প্রথার বিলুপ্তি: বর্তমান লটারি পদ্ধতির পরিবর্তে সর্বোচ্চ বেতনভোগী কর্মীদের অগ্রাধিকার দিয়ে ভিসা প্রদানের প্রস্তাব করা হয়েছে। ৬. স্থায়ী বসবাসের সুযোগ বন্ধ: এইচ-১বি ভিসা থাকা অবস্থায় গ্রিন কার্ড বা স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনের সুযোগ বন্ধ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বিলের উদ্যোক্তা এলি ক্রেন বলেন, "যুক্তরাষ্ট্র সরকারের উচিত বড় কর্পোরেশনগুলোর মুনাফার দিকে না তাকিয়ে সাধারণ নাগরিকদের কর্মসংস্থানের দিকে নজর দেওয়া। এই বিলটি মার্কিন নাগরিকদের অধিকার রক্ষা করবে।" বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিলটি পাশ হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন ভারত ও বাংলাদেশের আইটি পেশাদাররা। বর্তমানে বিপুল সংখ্যক দক্ষ কর্মী এইচ-১বি ভিসার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালিসহ বিভিন্ন বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন। তবে বিলটি বর্তমানে প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং এটি আইনে পরিণত হতে কংগ্রেস ও সিনেটের দীর্ঘ প্রক্রিয়া পার করতে হবে। প্রযুক্তি খাতের বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই কঠোর নিয়ম কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো মেধাবী কর্মী সংকটে পড়তে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ২৫, ২০২৬ 0
নাহিদা বৃষ্টি
নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ২৫, ২০২৬ 0
জামিল লিমন
পহেলা বৈশাখে মায়ের সঙ্গে শেষ কথা হয়েছিল জামিলের

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নৃশংসভাবে নিহত বাংলাদেশি মেধাবী শিক্ষার্থী জামিল লিমনের মৃত্যুতে পরিবারজুড়ে চলছে শোকের মাতম। সাউথ ফ্লোরিডা ইউনিভার্সিটির (ইউএসএফ) এই ডক্টরাল শিক্ষার্থীর মৃত্যুর খবর দেশে পৌঁছানোর পর থেকে তার বাবা-মা শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়েছেন। নিহত জামিলের মা লুৎফন হক কান্নাজড়িত কণ্ঠে স্মৃতিচারণ করে জানান, গত পহেলা বৈশাখে শেষবারের মতো কথা হয়েছিল ছেলের সঙ্গে। প্রবাসে পড়াশোনার প্রচণ্ড চাপের মধ্যেও দেশীয় সংস্কৃতির প্রতি জামিলের টান ছিল অটুট। সেদিন ফোন করে মায়ের কাছে তিনি জানতে চেয়েছিলেন, "মা, তুমি কি পান্তা-ইলিশ খেয়েছ?" সেই পান্তা-ইলিশের স্মৃতিই এখন মায়ের কাছে বড় যন্ত্রণার হয়ে দাঁড়িয়েছে। জামিলের পৈতৃক নিবাস জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলার মহিষবাতান এলাকায়। তবে দীর্ঘ সময় ধরে তার পরিবার ঢাকার মাওয়ায় বসবাস করছে। তার বাল্যবন্ধু জসিম উদ্দিন জানান, জামিল ছোটবেলা থেকেই অত্যন্ত মেধাবী ও শান্ত স্বভাবের ছিলেন। এমন একজন মানুষের এমন করুণ পরিণতি কেউ মেনে নিতে পারছেন না। উল্লেখ্য, শুক্রবার ফ্লোরিডার হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড সেতু থেকে জামিল লিমনের দেহাংশ উদ্ধার করে পুলিশ। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে জামিলের সাবেক রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়েহকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে জামিলের মা-বাবা শোকে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন এবং নিরাপত্তাজনিত কারণে নিভৃতে অবস্থান করছেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ২৫, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

Top week

ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশ চাকরিতে বাড়ছে বাংলাদেশিদের আগ্রহ, যেভাবে যোগ দিতে পারবেন আপনিও

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মে ১০, ২০২৬ 0