আমেরিকা

ফ্লোরিডায় বাংলাদেশি দোকানকর্মীকে হাতুড়ি দিয়ে হত্যার ঘটনায় হাইতিয়ান অভিবাসীর মৃত্যুদণ্ড চায় প্রসিকিউশন

শাহারিয়া নয়ন প্রকাশ: মে ৭, ২০২৬ ২০:২০
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের ফোর্ট মায়ার্সে এক গ্যাস স্টেশনের দোকানকর্মীকে নির্মমভাবে হত্যা করার ঘটনায় অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা হাইতিয়ান নাগরিক রলবার্ট জোয়াচিনের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের আবেদন করেছে প্রসিকিউশন।

 

ফ্লোরিডার লি কাউন্টির স্টেট অ্যাটর্নি অমিরা ফক্স জানান, ৪০ বছর বয়সী জোয়াচিনের বিরুদ্ধে গ্র্যান্ড জুরি অভিযোগ গঠন করেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২ এপ্রিল গ্যাস স্টেশনের বাইরে ৫১ বছর বয়সী নিলুফা ইসমিনকে হাতুড়ি দিয়ে মাথায় একাধিকবার আঘাত করে হত্যা করা হয়।

 

নিহত নিলুফা ইসমিন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ছিলেন বলে জানা গেছে। ঘটনার সময় তিনি কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

 

প্রসিকিউটরদের তথ্যমতে, হামলার আগে অভিযুক্ত ব্যক্তি ভুক্তভোগীর গাড়ির জানালা ভেঙে দেন। এ নিয়ে প্রতিবাদ জানাতে গেলে তিনি দোকানকর্মীর ওপর হামলা চালান। ঘটনাটি সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ করা হয়, যা কর্তৃপক্ষ “অত্যন্ত নৃশংস ও ভয়াবহ” বলে বর্ণনা করেছে।

 

ঘটনার পর জোয়াচিন ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পরে ফোর্ট মায়ার্স পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।

 

স্টেট অ্যাটর্নি অমিরা ফক্স বলেন, “এই ঘটনা ছিল অত্যন্ত সহিংস, অপ্রয়োজনীয় ও ভয়াবহ। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে প্রবেশ করে কর্মরত এক মায়ের জীবন নির্মমভাবে শেষ করেছেন।” তিনি আরও বলেন, “আমরা সর্বোচ্চ শাস্তি চাচ্ছি, মৃত্যুদণ্ডসহ।”

 

স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, ভিডিও প্রমাণ ও তদন্তে হামলার নির্মমতা স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

 

ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে অভিবাসন নীতির কঠোর সমালোচনা করেন।

 

নিরাপত্তা সংস্থা ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি জানায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করে এবং পরবর্তীতে তার অভিবাসন পরিস্থিতি নিয়ে আইনি জটিলতায় ছিলেন।


 

ফ্লোরিডায় গ্যাস স্টেশনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত দোকানকর্মী হত্যার ঘটনায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের আবেদন |

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

আমেরিকা

View more
কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
ফ্লোরিডায় ১২ ফুট কুমিরের সঙ্গে লড়েও প্রেমিকাকে বাঁচাতে পারলেন না প্রেমিক, প্রাণ গেল তরুণীর

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় লিটল বিগ ইকোন স্টেট ফরেস্টে প্রেমিকের সঙ্গে ঘুরতে গিয়ে কুমিরের হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ব্রিটানি ক্লার্ক নামের ৩১ বছর বয়সী এক তরুণী। গত রবিবার ইকোনলকহ্যাচি নদীতে সাঁতার কাটার সময় ১২ ফুট লম্বা একটি বিশাল কুমির তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর মঙ্গলবার ওই তরুণীর বেশ কিছু হাসিখুশি ছবি প্রকাশ্যে এলে অনলাইনে শোকের ছায়া নেমে আসে। ছবিগুলোতে দেখা যায়, মাত্র কয়েক মাস আগেও লাল রঙের একটি সুন্দর পোশাকে হাস্যোজ্জ্বল ছিলেন তিনি।   জানা গেছে, মাত্র তিন ফুট গভীর জলে সাঁতার কাটার সময় কুমিরটি হঠাৎ পানি থেকে উঠে এসে ব্রিটানিকে কামড়ে ধরে। ডেইলি মেইলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তার প্রেমিক চ্যান্স অ্যালিসন তাকে বাঁচানোর জন্য হিংস্র ওই প্রাণীটির সঙ্গে মরিয়া হয়ে লড়াই শুরু করেন। অ্যালিসন সাহসিকতার সঙ্গে ব্রিটানির এক হাত কুমিরের মুখ থেকে ছাড়িয়ে নিতে সক্ষম হলেও, চোখের পলকে কুমিরটি তার অন্য হাতটি কামড়ে ধরে।   এই ভয়ংকর হামলার পর ৯১১ ইমার্জেন্সি কলের অডিওতে প্রেমিক অ্যালিসনের আর্তনাদ শোনা যায়। তিনি চিৎকার করে জানাচ্ছিলেন যে কুমিরটি ব্রিটানির দুটি হাতই শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছে এবং তিনি তীরে বসে তার অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ বন্ধ করার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। মর্মান্তিক এই ঘটনার পর বন্যপ্রাণী কর্মকর্তারা ওই কুমিরটিকে ধরে মেরে ফেলেন (ইউথেনাইজড) এবং আলামত হিসেবে এর মাথাটি কেটে সংরক্ষণ করেন। নিহত ব্রিটানি প্রকৃতিপ্রেমী ছিলেন এবং তার সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট জুড়ে অ্যাডভেঞ্চার ও রোমাঞ্চকর সব ভ্রমণের ছবিতে ভরপুর ছিল।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ৩০, ২০২৬ ১৮:২৪
১০ বছরের মার্কিন নাগরিক কন্যাকে নিয়ে দেশে ফিরলেন মা I ছবি: সংগৃহীত

১২ বছর পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার, ১০ বছরের মার্কিন নাগরিক কন্যাকে নিয়ে দেশে ফিরলেন মা

ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

‘বর্ষসেরা অভিভাবক’ খেতাব পাওয়া আলাস্কার সাবেক মেয়রের বিরুদ্ধে শিশু নিপীড়নের ৪৭ অভিযোগ

ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

প্রাক্তন প্রেমিকাকে পথে বসানোর অভিযোগে আদালতে নিউইয়র্কের সেলিব্রিটি জুয়েলার

কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ক্যারোলাইনায় হিংস্র কুকুরের আক্রমণে প্রাণ গেল অটিজমে আক্রান্ত ৫ বছরের শিশুর

যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ক্যারোলাইনায় দুটি বড় আকারের কুকুরের হিংস্র হামলায় প্রাণ হারিয়েছে জেসিওন গেটস নামের পাঁচ বছর বয়সী এক শিশু। শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার কিছু আগে চার্লসটন শহরের প্রায় ২০ মাইল উত্তর-পশ্চিমে ল্যাডসন এলাকায় শিশুটির কেয়ারগিভারের (তত্ত্বাবধায়ক) বাড়িতে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। এ সময় কুকুরের হামলায় অজ্ঞাতপরিচয় আরও এক প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে কাউন্টি শেরিফ ডিপার্টমেন্ট।   পুলিশ জানায়, বুল ম্যাস্টিফ এবং পিটবুল টেরিয়ার জাতের দুটি কুকুর শিশুটির ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ডরচেস্টার কাউন্টি শেরিফ অফিসের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, হামলার পরপরই তল্লাশি পরোয়ানার ভিত্তিতে কুকুর দুটিকে জব্দ করে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তবে ঠিক কোন কুকুরটি প্রথমে আক্রমণ করেছিল বা মূল হামলাকারী ছিল, তা নিশ্চিত হতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। কুকুর দুটির চূড়ান্ত পরিণতি কী হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে সংশ্লিষ্ট প্রাণী নিয়ন্ত্রণ সংস্থা।   পরিবারের কাছে অত্যন্ত আদরের জেসিওন ছিল অটিজমে আক্রান্ত, তবে সে ছিল দারুণ প্রাণবন্ত ও উচ্ছল। এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার ব্যয়ভার বহন এবং শোকাহত মা ও বোনকে সহায়তার জন্য আত্মীয়রা 'গোফান্ডমি'-তে একটি তহবিল সংগ্রহ অভিযান শুরু করেছেন। ১০ হাজার ডলার লক্ষ্যমাত্রার এই তহবিলে মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত প্রায় ৭ হাজার ডলার জমা পড়েছে।   এছাড়া আগামী ৫ জুলাই শিশুটির স্মরণে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে প্রিয় 'লিটল ওয়ারিয়র' বা খুদে যোদ্ধাকে সম্মান জানাতে অংশগ্রহণকারীদের পাওয়ার রেঞ্জার, প ট্রল এবং গাড়ির থিমযুক্ত বেলুন নিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। এই মর্মান্তিক শিশু মৃত্যুর ঘটনার নেপথ্যের কারণ উদ্ঘাটনে বর্তমানে স্টেট ল এনফোর্সমেন্ট ডিভিশন, ডিপার্টমেন্ট অব চাইল্ড ফ্যাটালিটিস এবং স্থানীয় শেরিফ অফিস যৌথভাবে কাজ করছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ৩০, ২০২৬ ১৬:৫২
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

সোশ্যাল মিডিয়ার ভয়ংকর ‘বেনাড্রিল চ্যালেঞ্জের’ বলি ১৫ বছরের কিশোরী, শোকস্তব্ধ বাবা

সন্তানদের তালাবদ্ধ ঘরে ফেলে হোটেলে মদ ও মাদকের নেশায় বুঁদ ছিলেন মায়েরা I ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে মায়ের অবহেলায় অন্য শিশুদের নির্যাতনের শিকার হয়ে কোমায় দুই মাসের নবজাতক

কোলাজ: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অপুষ্ট শিশুদের খাবারের টাকা চুরি করে বেন্টলি-প্রাসাদ কিনলেন প্রতারক

টেক্সাসে মুসলিমদের ধর্মীয় স্বাধীনতা লঙ্ঘনের মামলা খারিজের আবেদন নাকচ I ছবি: সংগৃহীত
টেক্সাসে মুসলিমদের ধর্মীয় অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে মামলা, বিবাদীদের খারিজের আবেদন নাকচ

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে একটি মুসলিম ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের করা ধর্মীয় অধিকার লঙ্ঘনের মামলাটি খারিজের আবেদন নাকচ করেছেন এক ফেডারেল বিচারক। ফলে মামলাটি এখন পূর্ণাঙ্গ বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাবে।   অস্টিনের ফেডারেল বিচারক ডেভিড অ্যালান এজরা সম্প্রতি দেওয়া এক আদেশে টেক্সাস ফিউনারেল সার্ভিস কমিশন (টিএফএসসি) এবং সংস্থাটির সাবেক প্রধান কর্মকর্তা ক্রিস্টিন টিপসের দায়ের করা মামলা খারিজের আবেদন প্রত্যাখ্যান করেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেইআরএ নিউজ (KERA News) জানিয়েছে, বিচারকের মতে, মামলায় উত্থাপিত অভিযোগগুলো যথেষ্ট গুরুত্ব বহন করে এবং সেগুলোর বিচার হওয়া উচিত।   মামলাটি করেছে টেক্সাসের ইস্ট প্লানো ইসলামিক সেন্টার (ইপিক)। প্রতিষ্ঠানটির অভিযোগ, মুসলিমদের ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী জানাজা ও দাফনের কার্যক্রমকে অন্যায়ভাবে লক্ষ্যবস্তু করেছে টেক্সাস ফিউনারেল সার্ভিস কমিশন। এতে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে নিশ্চিত করা ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং আইনের সমান সুরক্ষার অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে।   ঘটনার সূত্রপাত ২০২৫ সালের মার্চে। সে সময় কমিশন অভিযোগ তোলে, প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ছাড়া ইপিক একটি ফিউনারেল হোম পরিচালনা করছে। এ অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটিকে কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দিয়ে একটি নোটিশও পাঠানো হয়।   এর চার মাস পর ইপিক ফেডারেল আদালতে মামলা করে জানায়, তারা কোনো বাণিজ্যিক ফিউনারেল হোম পরিচালনা করছে না। বরং মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্যদের ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী জানাজা ও দাফনের আয়োজন এবং সংশ্লিষ্ট সহায়তা দিয়ে থাকে, যা বহু বছর ধরেই বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে প্রচলিত।   মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়, তদন্ত চলাকালে কমিশনের তৎকালীন প্রধান ক্রিস্টিন টিপসের কিছু ব্যক্তিগত বার্তা মুসলিমদের প্রতি পক্ষপাতমূলক মনোভাবের ইঙ্গিত দেয়। কেইআরএ নিউজের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তদন্ত চলাকালে তিনি ইসলামবিরোধী বিভিন্ন লেখা, ভিডিও ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট শেয়ার করেছিলেন। এসব তথ্যই তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বলে দাবি করে ইপিক।   রায়ে বিচারক এজরা উল্লেখ করেন, আদালতের সামনে এমন কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি এবং কোনো পক্ষই দাবি করেনি যে ইপিক তাদের কার্যক্রমে শরিয়া আইন প্রয়োগ করছে। তিনি আরও বলেন, কমিশনের পাঠানো নোটিশে ইপিকের কোন নির্দিষ্ট কার্যক্রম টেক্সাসের আইন লঙ্ঘন করেছে, তাও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি।   বিচারক তাঁর পর্যবেক্ষণে আরও বলেন, অতীতে ১৯৮৭ ও ২০১৪ সালে টেক্সাস ফিউনারেল সার্ভিস কমিশন অন্য দুটি মসজিদকে রাজ্যের আইন মেনে ধর্মীয় দাফনের আচার পরিচালনার সুযোগ দিয়েছিল। সেই নজিরের পরও ইপিকের ক্ষেত্রে ভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার অভিযোগকে আদালত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।   এ মামলায় টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটের প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কেইআরএ নিউজের হাতে আসা কিছু নথি ও রেকর্ড করা ফোনালাপ অনুযায়ী, ইপিকের বিরুদ্ধে তদন্তে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় পক্ষপাতের প্রভাব থাকতে পারে বলে অভিযোগ করেছেন কমিশনের সাবেক কয়েকজন কর্মকর্তা। তবে গভর্নরের কার্যালয় এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, রাজ্যের আইন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেই তারা সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে কাজ করেছে।   আদালতের সর্বশেষ এ আদেশের অর্থ এই নয় যে ইপিক ইতোমধ্যে মামলায় জয়ী হয়েছে। বিচারক কেবল বলেছেন, মামলাটি খারিজ করার মতো পরিস্থিতি নেই এবং অভিযোগগুলোর পূর্ণাঙ্গ বিচার হওয়া প্রয়োজন। এখন উভয় পক্ষ আদালতে তাদের সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করবে, এরপর মামলার চূড়ান্ত রায় দেওয়া হবে।   এদিকে মুসলিম নাগরিক অধিকারবিষয়ক সংগঠন কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস (CAIR)-টেক্সাস আদালতের এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। সংগঠনটির ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ শাখার নির্বাহী পরিচালক মুস্তাফা ক্যারল এক বিবৃতিতে বলেন, প্রমাণ ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে ইপিককে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। আদালতের এই সিদ্ধান্ত আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিটি ধর্মীয় সম্প্রদায় আইনের দৃষ্টিতে সমান সুরক্ষা পাওয়ার অধিকারী।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ৩০, ২০২৬ ১৫:৩০
কোলাজ: আমেরিকা বাংলা

পপকর্ন গলায় আটকে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছিল ১৮ মাসের শিশু, মা তখন বাথরুমে মদ্যপানে মগ্ন

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে কুইন্সের একটি পাবলিক স্কুল I ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কে গ্রীষ্মের ছুটিতে বন্ধ স্কুলে তীব্র দুর্গন্ধ, খোঁজ নিতেই মিলল মানুষের মৃতদেহ

কোলাজ: আমেরিকা বাংলা

বিশ্বকে চমকে দেওয়া ‘গর্ভবতী পুরুষ’ এবার শিশুদের জেন্ডার পরিবর্তনের বিরুদ্ধে

0 Comments