আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে শেষকৃত্যের আকাশছোঁয়া ব্যয়: “মরার সামর্থ্যও নেই আমাদের” অনুভূতি প্রবাসী মুসলিমদের

শাহারিয়া নয়ন প্রকাশ: মে ২০, ২০২৬ ২২:৩
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যু পরবর্তী সৎকার বা ফিউনারেলের ব্যয় ক্রমেই বেড়ে চলায় তা অনেক পরিবারের জন্য বড় আর্থিক সংকটে পরিণত হয়েছে। সাধারণ দাফন থেকে শুরু করে কফিন, কবরস্থান, ফিউনারেল হোমের ফি, পরিবহনসহ সব মিলিয়ে ব্যয় এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে অনেক পরিবারের সঞ্চয় শেষ হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে নিউইয়র্ক ও আশপাশের অঞ্চলে বসবাসকারী মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে এই চাপ আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে।

 

ন্যাশনাল ফিউনারেল ডিরেক্টরস অ্যাসোসিয়েশন (এনএফডিএ) অনুযায়ী, কফিনসহ পূর্ণ দাফন ও সৎকারের জাতীয় গড় খরচ প্রায় ৮ হাজার ৩০০ ডলার। ভল্টসহ এই ব্যয় প্রায় ৯ হাজার ৯৯৫ ডলারে পৌঁছে যায়। দাহ করার ক্ষেত্রেও গড় ব্যয় ৬ হাজার ২৮০ ডলার। সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, প্রতি বছর এই খরচ গড়ে প্রায় ৬ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা ২০২৬ সালে একটি সাধারণ সৎকারের ব্যয় প্রায় ১০ হাজার ৫৯৫ ডলারে নিতে পারে।

 

আঞ্চলিকভাবে এই ব্যয়ের তারতম্য আরও স্পষ্ট। নর্থইস্ট অঞ্চল, বিশেষ করে নিউইয়র্ক ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় ফিউনারেল ব্যয় জাতীয় গড়ের চেয়ে প্রায় ৮ শতাংশ বেশি। দক্ষিণাঞ্চলে যেখানে ব্যয় শুরু হয় প্রায় ৬ হাজার ৭০০ ডলার থেকে, সেখানে নর্থইস্টে তা ৮ হাজার ৯৮৫ ডলার পর্যন্ত পৌঁছায়।

 

একটি পূর্ণ ফিউনারেল প্যাকেজে সাধারণত অনুষ্ঠানের কক্ষ ভাড়া, কফিন, কবরস্থান, ভল্ট, সমাধিফলক ও গাড়ি ভাড়া অন্তর্ভুক্ত থাকে। কফিনই এর মধ্যে সবচেয়ে ব্যয়বহুল অংশ, যার দাম ৯০০ থেকে ১০ হাজার ডলার পর্যন্ত হতে পারে।

 

দাহ করার খরচ তুলনামূলকভাবে কম হলেও সেটিও উল্লেখযোগ্য। যুক্তরাষ্ট্রে সরাসরি দাহ করার গড় ব্যয় প্রায় ২ হাজার ২০২ ডলার। কিছু এলাকায় তা ৯৯৫ ডলার পর্যন্ত পাওয়া গেলেও কয়েকটি রাজ্যে এটি ৩ হাজার ডলার ছাড়িয়ে যায়।

 

সরকারি সহায়তা সীমিত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল। সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন মৃত্যুর পর মাত্র ২৫৫ ডলার সহায়তা দেয়, যা শেষকৃত্যের মোট ব্যয়ের তুলনায় নগণ্য।

 

নিউইয়র্কে মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য বিষয়টি আরও সংবেদনশীল। শহরে কয়েক লাখ মুসলিম বসবাস করলেও পৃথক মুসলিম কবরস্থান না থাকায় বিভিন্ন বেসরকারি কবরস্থানের ওপর নির্ভর করতে হয়, যা ব্যয় আরও বাড়িয়ে দেয়। সব মিলিয়ে কিছু ক্ষেত্রে একটি শেষকৃত্যের খরচ ৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত পৌঁছায়।

 

ইসলামি নিয়ম অনুযায়ী মৃত্যুর পর দ্রুত দাফন, গুসল, কাফন ও জানাজা সম্পন্ন করতে হয়। ফলে পরিবারগুলো সময় নিয়ে বিকল্প খোঁজার সুযোগ পায় না। এতে আর্থিক চাপ আরও বেড়ে যায়।

 

নিউইয়র্ক ও নিউজার্সি এলাকায় বেশ কয়েকটি মুসলিম ফিউনারেল সার্ভিস রয়েছে, যেখানে তুলনামূলকভাবে কম খরচে সেবা দেওয়া হয়। নিউজার্সির কিছু ইসলামিক সেন্টারের মাধ্যমে প্রায় ২ হাজার ৫০০ ডলারে মৌলিক সেবা পাওয়া যায়। তবে এতে কবরের খরচ অন্তর্ভুক্ত থাকে না।

 

মুসলিম ফ্রি ব্যুরিয়াল অ্যাসোসিয়েশনসহ কিছু স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা বিনামূল্যে দাফনের ব্যবস্থা করে থাকে, তবে তা নির্ভর করে দাতব্য সহায়তার ওপর।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

আমেরিকা

View more
সুপ্রিম কোর্টের রায়ে ট্রাম্প প্রশাসন ধাক্কা খেলেও আশা ছাড়ছেন না জেডি ভ্যান্স। ছবি: সংগৃহীত
জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়কে ‘ভুল’ বললেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স

যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব (বার্থরাইট সিটিজেনশিপ) নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক রায়কে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তবে রায়টি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য পুরোপুরি হতাশাজনক নয় বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। তাঁর দাবি, বিভক্ত এই রায় ভবিষ্যতে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার সুযোগ রেখে দিয়েছে।   মঙ্গলবার ফক্স নিউজ-এর অনুষ্ঠান দ্য ইনগ্রাহাম অ্যাঙ্গেল-এ দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স বলেন, অনেক রক্ষণশীল সমর্থক এই রায়ে হতাশ হলেও তিনি এর মধ্যে একটি "বড় ইতিবাচক দিক" দেখছেন।   ভ্যান্সের ভাষ্য, অনেক আইন বিশেষজ্ঞ ধারণা করেছিলেন, সুপ্রিম কোর্টে এই মামলায় ট্রাম্প প্রশাসন আরও বড় ব্যবধানে হারতে পারে। কিন্তু আদালতের বিভক্ত অবস্থান প্রমাণ করে, জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের বর্তমান ব্যাখ্যা নিয়ে বিচারপতিদের মধ্যেও মতভেদ রয়েছে।   তিনি বলেন, "অনেকে ভেবেছিলেন রায় ৭-২ বা ৮-১ হবে। কিন্তু ৫-৪ ব্যবধানের রায় দেখাচ্ছে, বিষয়টি এখনও বিতর্কের বাইরে নয়।" এর আগে সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের সেই নির্বাহী আদেশ বাতিল করে, যেখানে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা অভিবাসী এবং অস্থায়ীভাবে দেশটিতে আসা বিদেশি নাগরিকদের সন্তানদের জন্মসূত্রে স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্ব না দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। আদালতের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতিরা মত দেন, এই আদেশ যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর সঙ্গে সাংঘর্ষিক।   প্রধান বিচারপতি জন রবার্টসের সঙ্গে বিচারপতি অ্যামি কোনি ব্যারেট, সোনিয়া সোটোমেয়র, এলেনা কাগান এবং কেতানজি ব্রাউন জ্যাকসন সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের পক্ষে ছিলেন। অন্যদিকে বিচারপতি ব্রেট ক্যাভানফ আলাদা মত দিয়ে বলেন, নির্বাহী আদেশটি ১৪তম সংশোধনী লঙ্ঘন না করলেও ১৯৪০ ও ১৯৫০-এর দশকের ফেডারেল আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।   সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স বলেন, এই রায়ের পর যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থা আরও কঠোরভাবে পরিচালনা করা প্রয়োজন। তাঁর দাবি, বিদেশ থেকে গর্ভবতী নারীরা শুধু সন্তানকে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম দেওয়ার উদ্দেশ্যে দেশটিতে এলে ভবিষ্যতে নাগরিকত্বের সুযোগ পেতে পারেন, যা তিনি "অযৌক্তিক" বলে উল্লেখ করেন।   তিনি আরও বলেন, এই রায়ের কারণে অভিবাসন নীতিতে আরও সতর্ক হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। একই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ও আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ারও অঙ্গীকার করেন তিনি। ভ্যান্সের ভাষায়, "আমাদের লড়াই চালিয়ে যেতে হবে, কারণ এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের সুযোগ এখনও রয়েছে।"   জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে বিতর্কিত একটি বিষয়। ট্রাম্প প্রশাসন দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর এ নীতিতে পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেয়। তবে সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর ব্যাখ্যা নিয়ে আদালত ও আইন বিশেষজ্ঞদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই মতপার্থক্য রয়েছে।   সুপ্রিম কোর্টের সর্বশেষ রায়ের পর বিষয়টি আবারও যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। ট্রাম্প প্রশাসন ভবিষ্যতে এ বিষয়ে নতুন আইনি বা নীতিগত পদক্ষেপ নেয় কি না, সেদিকেই এখন নজর পর্যবেক্ষকদের।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: জুন ৩০, ২০২৬ ২১:১৮
নিজের বাড়ির স্বপ্ন পূরণে দেশ বদল করেছিলেন তারা। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কে বাড়ি কেনা সম্ভব হয়নি, ইতালির ছোট্ট গ্রামে নগদ টাকায় মিলল নিজের বাড়ি

ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

নিউইয়র্কে ১২৬ বিলিয়ন ডলারের রেকর্ড বাজেট অনুমোদন, তবুও ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন অর্থনীতিবিদরা

কোলাজ: আমেরিকা বাংলা

ফ্লোরিডায় ১২ ফুট কুমিরের সঙ্গে লড়েও প্রেমিকাকে বাঁচাতে পারলেন না প্রেমিক, প্রাণ গেল তরুণীর

১০ বছরের মার্কিন নাগরিক কন্যাকে নিয়ে দেশে ফিরলেন মা I ছবি: সংগৃহীত
১২ বছর পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার, ১০ বছরের মার্কিন নাগরিক কন্যাকে নিয়ে দেশে ফিরলেন মা

যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১২ বছর বসবাসের পর হন্ডুরাসের নাগরিক মার্গারিটা মেলগারকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। তাঁর সঙ্গে যেতে হয়েছে ১০ বছর বয়সী মার্কিন নাগরিক কন্যাকেও, যে এর আগে কখনো হন্ডুরাসে যায়নি। তবে পরিবারের অপর দুই মেয়ে যুক্তরাষ্ট্রেই থেকে যাওয়ায় পরিবারটি এখন দুই দেশে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি ও মানবিক দিক নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।   মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৪ সালে পারিবারিক সহিংসতা ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে হন্ডুরাস ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় প্রার্থনা করেন মার্গারিটা মেলগার। সে সময় তাঁর সঙ্গে ছিল দুই কন্যা। এরপর তিনি ম্যাসাচুসেটসে বসবাস শুরু করেন এবং নিয়মিতভাবে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে হাজিরা দেন। পাশাপাশি তিনি দুটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন এবং করও পরিশোধ করতেন।   পরিবারের আইনজীবীর দাবি, যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া তাঁর প্রতিবন্ধী কন্যার দেখভালের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মামলাটি পুনরায় খোলার আবেদন অভিবাসন আপিল বোর্ডে বিচারাধীন ছিল। সেই সঙ্গে বহিষ্কার কার্যক্রম স্থগিত রাখার আবেদনও করা হয়েছিল। তবে আদালত সেই আবেদন নাকচ করলে বহিষ্কারের প্রক্রিয়া কার্যকর হয়।   তবে অভিবাসন আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো মামলায় পুনর্বিবেচনার আবেদন বিচারাধীন থাকলেই বহিষ্কার স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্থগিত হয় না। আদালত বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ থেকে পৃথকভাবে স্থগিতাদেশ না থাকলে চূড়ান্ত বহিষ্কারের আদেশ কার্যকর করা আইনগতভাবে সম্ভব।   পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার আগে খুব অল্প সময়ের মধ্যে মার্গারিটাকে সিদ্ধান্ত নিতে হয়, তিনি একাই হন্ডুরাসে ফিরবেন, নাকি তাঁর ১০ বছরের মার্কিন নাগরিক কন্যাকে সঙ্গে নিয়ে যাবেন। শেষ পর্যন্ত মেয়েকে সঙ্গে নিয়েই তিনি দেশ ছাড়েন। অন্যদিকে, তাঁর ২০ বছর বয়সী কলেজপড়ুয়া বড় মেয়ে এবং ১৭ বছর বয়সী আরেক মেয়ে যুক্তরাষ্ট্রেই থেকে যান।   পরিবারের বর্ণনায় জানা যায়, বোস্টনের লোগান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিদায়ের মুহূর্তটি ছিল অত্যন্ত আবেগঘন। ছোট্ট মেয়েটি তার প্রিয় খেলনা ও বিশ্বকাপের স্টিকার বই সঙ্গে নিয়ে অপেক্ষা করছিল, আর পরিবারের সদস্যরা একে অপরকে জড়িয়ে ধরে বিদায় জানান।   এদিকে, মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইস) অতীতেও জানিয়েছে, তারা পরিবার বিচ্ছিন্ন করার নীতি অনুসরণ করে না। সংস্থাটির বক্তব্য অনুযায়ী, যেসব ক্ষেত্রে কোনো অভিভাবকের বিরুদ্ধে বহিষ্কারের আদেশ কার্যকর হয়, সেখানে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশু অভিভাবকের সঙ্গে যাবে নাকি স্বজনদের কাছে থাকবে—সে সিদ্ধান্ত পরিবারের ওপরই নির্ভর করে।   অন্যদিকে, অভিবাসন অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো বলছে, বাস্তবে এমন সিদ্ধান্তের কারণে অনেক পরিবার বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুদের ওপর এর দীর্ঘমেয়াদি মানসিক ও সামাজিক প্রভাব পড়ে।   মার্গারিটা মেলগারের ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। কেউ যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইন প্রয়োগের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন, আবার কেউ দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ও স্থানীয় সমাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত পরিবারগুলোর ক্ষেত্রে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ৩০, ২০২৬ ১৭:৪৮
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

‘বর্ষসেরা অভিভাবক’ খেতাব পাওয়া আলাস্কার সাবেক মেয়রের বিরুদ্ধে শিশু নিপীড়নের ৪৭ অভিযোগ

ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

প্রাক্তন প্রেমিকাকে পথে বসানোর অভিযোগে আদালতে নিউইয়র্কের সেলিব্রিটি জুয়েলার

কোলাজ: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ক্যারোলাইনায় হিংস্র কুকুরের আক্রমণে প্রাণ গেল অটিজমে আক্রান্ত ৫ বছরের শিশুর

ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
সোশ্যাল মিডিয়ার ভয়ংকর ‘বেনাড্রিল চ্যালেঞ্জের’ বলি ১৫ বছরের কিশোরী, শোকস্তব্ধ বাবা

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া বিপজ্জনক এক ট্রেন্ডের বলি হলো ১৫ বছর বয়সী কিশোরী লিয়া প্রেসন। তথাকথিত 'বেনাড্রিল চ্যালেঞ্জ'-এ অংশ নেওয়ার পর 'ব্রেন ডেড' অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল সে। অবশেষে তার শোকস্তব্ধ বাবা রিচার্ড প্রেসন এক হৃদয়বিদারক বার্তায় নিশ্চিত করেছেন যে, মৃত্যুর সাথে লড়াই করে তাঁর মেয়ে চিরবিদায় নিয়েছে।   ২০২০ সালে প্রথম শুরু হওয়া এই 'বেনাড্রিল চ্যালেঞ্জ' সম্প্রতি আবারও যুক্তরাষ্ট্রের কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এই চ্যালেঞ্জে অংশ নিতে গিয়ে হ্যালুসিনেশন বা কল্পনার জগতে ভাসার আশায় মাত্রাতিরিক্ত অ্যালার্জির ওষুধ (বেনাড্রিল) সেবন করতে হয়। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা বারবার সতর্ক করে বলেছেন, এই ওষুধের অতিরিক্ত ডোজ দ্রুত মানুষের জীবনকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। আমেরিকায় সাধারণত ১৮ বছরের বেশি বয়সীদের জন্য এই ওষুধটি ফার্মেসিতে বিনা প্রেসক্রিপশনে (ওভার-দ্য-কাউন্টার) বিক্রি করা হয়।   জানা যায়, লিয়া এই চ্যালেঞ্জে অংশ নিয়ে অতিরিক্ত মাত্রায় ওষুধ সেবন করেছিল। ওষুধ খাওয়ার পরপরই তার শরীরে তীব্র খিঁচুনি শুরু হয় এবং জীবন বাঁচাতে সে লড়াই করে যাচ্ছিল। গত ১৪ জুন চিকিৎসকরা তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে 'ব্রেন ডেড' বা মস্তিষ্কের মৃত্যু ঘোষণা করেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, তার মস্তিষ্কের কোনো কার্যকারিতাই অবশিষ্ট নেই। তারপরও পরিবার আশায় বুক বেঁধেছিল, হয়তো কোনো অলৌকিক উপায়ে মেয়েটি আবার তাদের মাঝে ফিরে আসবে। কিন্তু সব প্রার্থনা আর চেষ্টাকে ব্যর্থ করে দিয়ে মর্মান্তিকভাবে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে লিয়া।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ৩০, ২০২৬ ১৬:২৯
সন্তানদের তালাবদ্ধ ঘরে ফেলে হোটেলে মদ ও মাদকের নেশায় বুঁদ ছিলেন মায়েরা I ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে মায়ের অবহেলায় অন্য শিশুদের নির্যাতনের শিকার হয়ে কোমায় দুই মাসের নবজাতক

কোলাজ: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অপুষ্ট শিশুদের খাবারের টাকা চুরি করে বেন্টলি-প্রাসাদ কিনলেন প্রতারক

টেক্সাসে মুসলিমদের ধর্মীয় স্বাধীনতা লঙ্ঘনের মামলা খারিজের আবেদন নাকচ I ছবি: সংগৃহীত

টেক্সাসে মুসলিমদের ধর্মীয় অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে মামলা, বিবাদীদের খারিজের আবেদন নাকচ

0 Comments