শেখ হাসিনা

ছবি: সংগৃহীত
জুলকারনাইন সায়েরের প্রতিবেদনে জয়ের কোটি ডলারের বিবাহবিচ্ছেদের গোপন সমঝোতা নথির তথ্য প্রকাশ

ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজিব ওয়াজেদ জয়ের ব্যক্তিগত জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে। অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জয়ের বিবাহবিচ্ছেদ সংক্রান্ত একটি অপ্রকাশিত সমঝোতা নথির তথ্য সামনে আনা হয়েছে। সেখানে বহু-মিলিয়ন ডলারের আর্থিক বন্দোবস্ত, করপোরেট শেয়ার হস্তান্তর এবং বাংলাদেশের কয়েকটি বড় প্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ভবিষ্যৎ আর্থিক স্বার্থের বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।   অনলাইন সংবাদমাধ্যম বাংলা আউটলুকে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, জয়ের সাবেক স্ত্রী ক্রিস্টিনা ওয়াজেদের সঙ্গে সম্পাদিত ২২ পৃষ্ঠার সমঝোতা চুক্তির ১৩ থেকে ১৫ নম্বর পৃষ্ঠায় বিবাহবিচ্ছেদের পর উভয় পক্ষের আর্থিক দায়বদ্ধতা, ব্যবসায়িক স্বার্থ এবং সম্পদ বণ্টনের বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, চুক্তিতে ডিজিকন টেকনোলজিস ও ফিনটেক সলিউশনসের ব্যবসায়িক স্বার্থ ভাগাভাগির বিষয় উল্লেখ আছে। পাশাপাশি সামিট কমিউনিকেশনস লিমিটেড সংশ্লিষ্ট সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ আয়কে ঘিরে একটি ট্রাস্ট কাঠামোর কথাও বলা হয়েছে।   করপোরেট সম্পদের বাইরে জয়ের ওপর বড় ধরনের ব্যক্তিগত আর্থিক দায়ও আরোপ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। “মনিটারি অ্যাওয়ার্ড” শিরোনামের অংশে উল্লেখ রয়েছে, ২০২৫ সালের ১ জুনের মধ্যে ক্রিস্টিনা ওয়াজেদকে এককালীন করমুক্ত ১০ লাখ মার্কিন ডলার পরিশোধ করতে হবে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ১২ কোটি ২৯ লাখ টাকা।   এ ছাড়া, ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে শুরু করে প্রতি মাসের প্রথম দিনে ২০ হাজার ডলার করে ভরণপোষণ দেওয়ার শর্ত রাখা হয়েছে, যা চলবে ২০৩৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। পুরো সময়জুড়ে এই অর্থের পরিমাণ দাঁড়াবে ২৫ লাখ ডলারের বেশি, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩০ কোটি ৭১ লাখ টাকার সমান।   চুক্তিতে বলা হয়েছে, এই ভরণপোষণের পরিমাণ ও সময়সীমা পরিবর্তনযোগ্য নয়। তবে উভয় পক্ষের কারও মৃত্যু, ক্রিস্টিনা ওয়াজেদের পুনর্বিবাহ অথবা এক বছর বা তার বেশি সময় ধরে বৈবাহিক সম্পর্কসদৃশ সহবাসে থাকলে অর্থ প্রদান বন্ধ হবে।   এ ছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের শিশু ভরণপোষণ নির্দেশিকা অনুযায়ী তাদের কন্যা সোফিয়ার জন্য প্রতি মাসে ৩ হাজার ৪০০ ডলার দেওয়ার বিষয়েও সম্মত হয়েছেন জয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।   নথিতে আরও বলা হয়েছে, সন্তান যদি পূর্ণকালীন উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হয়, নিজে উপার্জনে সক্ষম না হয় এবং ভরণপোষণ গ্রহণকারী অভিভাবকের সঙ্গে বসবাস করে, তাহলে ১৮ বছর বয়স অতিক্রমের পরও সহায়তা অব্যাহত থাকতে পারে। গুরুতর ও স্থায়ী শারীরিক বা মানসিক প্রতিবন্ধকতার ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।   এর আগে ২০২৫ সালের শুরুতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে সজিব ওয়াজেদ জয় জানিয়েছিলেন, আনুষ্ঠানিক বিচ্ছেদের আগে প্রায় তিন বছর ধরে তারা আলাদা বসবাস করছিলেন।   তবে প্রতিবেদনে উত্থাপিত আর্থিক বন্দোবস্ত ও করপোরেট স্বার্থসংক্রান্ত দাবিগুলোর বিষয়ে এখনো কোনো আদালত-স্বীকৃত নথি বা স্বাধীন সরকারি যাচাই প্রকাশ্যে আসেনি। এ বিষয়ে সজিব ওয়াজেদ জয়ের পক্ষ থেকেও বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

নুরুল্লাহ সাইদ মে ২২, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
হাসিনা সরকারের পতনে যুক্তরাষ্ট্রের ৩২ কোটি ডলার ব্যয়, আলোচনায় নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য

বাংলাদেশে ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএসবি নিউজ ইউএসএ দাবি করেছে, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পেছনে যুক্তরাষ্ট্র বিপুল অঙ্কের অর্থ ব্যয় করেছে।   প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের আগস্টে সরকারের পতনের আগে ও পরে বিভিন্ন খাতে প্রায় ৩২ কোটি ৫০ লাখ ডলার ব্যয়ের তথ্য পাওয়া গেছে। বিভিন্ন অনুদানভিত্তিক তথ্যভান্ডার, কংগ্রেসে দেওয়া সাক্ষ্য এবং উন্মুক্ত নথিপত্র বিশ্লেষণের ভিত্তিতে এই হিসাব তুলে ধরা হয়েছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বমাধ্যমে ঘটনাকে ‘গণতান্ত্রিক আন্দোলন’ হিসেবে তুলে ধরা হলেও পর্দার আড়ালে নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে অর্থায়নের প্রবাহ চলছিল। বিশেষ করে পতনের কয়েক মাস আগে থেকেই কিছু খাতে অর্থের প্রবাহ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়।   এতে আরও বলা হয়, এই অর্থের বড় অংশ ব্যয় করা হয়েছে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা, নাগরিক সমাজ এবং অনলাইনভিত্তিক কার্যক্রমে। সাংগঠনিক সক্ষমতা বৃদ্ধি ও প্রচারণার নামে এসব অর্থ স্থানীয় বিভিন্ন গোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।   প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, পুরো প্রক্রিয়াটি ছিল দীর্ঘমেয়াদি ও পরিকল্পিত অর্থায়নের অংশ, যা তৎকালীন নির্বাচিত সরকারকে অস্থিতিশীল করার সঙ্গে সম্পর্কিত।   প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। ২০২৪ সালের ঘটনাকে তরুণদের আন্দোলন হিসেবে দেখার প্রচলিত ধারণার সঙ্গে এই দাবি নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।   তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র বা বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশত্যাগ করেন। পরে ড. মুহাম্মদ ইউনূস–এর নেতৃত্বে দেশে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়।

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ১১, ২০২৬ ১৪:০ 0
দিল্লির আতিথেয়তায় মুগ্ধ হাসিনা, রাখতে চায় ভারত
দিল্লির আতিথেয়তায় মুগ্ধ হাসিনা, রাখতে চায় ভারত

মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশব্যাপী গণআন্দোলনের মুখে ক্ষমতা ছেড়ে ভারত-এ আশ্রয় নেন। এরপর থেকেই তিনি নয়াদিল্লি-তে অবস্থান করছেন। বাংলাদেশ সরকার একাধিকবার তাকে ফেরত চাইলেও দিল্লি তা আমলে নেয়নি। তবে এই বিষয়টি এখন নরেন্দ্র মোদি সরকারের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠছে।   কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ভারত সরকার তাকে কাতারসহ অন্য কোনো দেশে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিল। কিন্তু তিনি সেই প্রস্তাবে সাড়া দেননি। বরং ভারতেই থাকতে আগ্রহী এবং প্রয়োজনে সেখানেই জীবনের শেষ সময় কাটানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।   অন্যদিকে, ভারতের ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশ থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগ তুলে আসছে। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ একাধিকবার অনুপ্রবেশকারীদের দেশ থেকে বের করে দেওয়ার কথা বলেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এমন অবস্থানের সঙ্গে হাসিনা ও তার ঘনিষ্ঠদের ভারতে অবস্থান একটি স্পষ্ট বৈপরীত্য তৈরি করেছে।   পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ভারতের পররাষ্ট্রনীতি এখন দ্বৈত সংকটে পড়েছে। একদিকে তারা বাংলাদেশের নতুন প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করছে, অন্যদিকে সাবেক শাসককে আশ্রয় দিয়ে রেখেছে। এই দ্বিমুখী অবস্থান কূটনৈতিকভাবে জটিলতা তৈরি করছে।   কিছু সূত্রের দাবি, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে পরিবর্তন আনার জন্য বিকল্প নেতৃত্বের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল। তবে হাসিনার অনড় অবস্থানের কারণে তা এগোয়নি। অনেকের মতে, দিল্লিতে অবস্থান করাকে তিনি নিরাপদ বিকল্প হিসেবে দেখছেন, যেখানে রাজনৈতিক বা আইনি ঝুঁকি তুলনামূলক কম।   তবে এই পরিস্থিতি ভারতের জন্য ক্রমেই অস্বস্তিকর হয়ে উঠছে। একদিকে তারা গণতন্ত্র ও স্থিতিশীলতার পক্ষে অবস্থান নেওয়ার কথা বলছে, অন্যদিকে বিতর্কিত এক নেতাকে আশ্রয় দেওয়ার কারণে সমালোচনার মুখে পড়ছে। এতে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক এবং অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও প্রভাব পড়ছে।   বিশ্লেষকদের মতে, প্রথমদিকে হয়তো হাসিনাকে একটি কৌশলগত উপাদান হিসেবে ব্যবহার করতে চেয়েছিল দিল্লি। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই কৌশলই এখন ভারতের জন্য চাপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাকে ফেরত পাঠানো বা অন্যত্র পাঠানো—দুটিই এখন ভারতের জন্য জটিল সিদ্ধান্তে পরিণত হয়েছে।

নীলুফা নিশাত এপ্রিল ৯, ২০২৬ ১৪:০ 0
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ । ছবি: সংগৃহীত
সংসদে হাস্যরসের মুহূর্ত: ‘আবার শেখ হাসিনা বলতে হচ্ছে’— স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বিল উপস্থাপনকে ঘিরে এক পর্যায়ে হাস্যরসাত্মক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “মাননীয় স্পিকার, খুব দুঃখের ব্যাপার! এতক্ষণ তো যা বললাম, এখন আবার শেখ হাসিনা বলতে হচ্ছে।”   স্বাস্থ্যমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত তিনটি বিল সংসদে উপস্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বিলগুলো হলো ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) বিল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (সংশোধন) বিল এবং শেখ হাসিনা মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (সংশোধন) বিল।   এর মধ্যে শেষের দুটি বিল কণ্ঠভোটে পাস হয়। দ্বিতীয় বিলটি উপস্থাপনের সময় বক্তব্য দিতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হেসে ওই মন্তব্য করেন, যা উপস্থিত সংসদ সদস্যদের মধ্যেও হাসির রেশ তৈরি করে। পরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ‘বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট (সংশোধন) বিল’ পাসের প্রস্তাব করেন। বিলটি কণ্ঠভোটে অনুমোদন পায়।   উল্লেখ্য, নাম পরিবর্তন-সংক্রান্ত আইন সংশোধনের অংশ হিসেবে আগে জারি করা অধ্যাদেশগুলোকে বৈধতা দিতে এসব বিল সংসদে উত্থাপন ও পাস করা হয়।  

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ৬, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
সাবেক প্রধানমন্ত্রী হাসিনার পদত্যাগপত্র পাওয়ার কথা রাষ্ট্রপতি স্বীকার করেছিলেন: জামায়াত আমির

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর পদত্যাগপত্র সরাসরি রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু স্বীকার করেছিলেন বলে জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বুধবার (১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদে ওয়াকআউটের পর তিনি সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান।   ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার সীমাহীন ত্যাগের পর যে রাজনৈতিক পরিবর্তন এসেছে, তার পরবর্তী সাংবিধানিক শূন্যতা পূরণের প্রেক্ষিতে তারা বঙ্গভবনে বসেছিলেন। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় তিনি জানান, “তিনি (রাষ্ট্রপতি) সাবেক প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগপত্র পেয়েছেন এবং মঞ্জুর করেছেন।” এ আলোচনার পর তারা দ্রুত নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক শাসনের দিকে ফেরার জন্য প্রস্তাব দিয়েছিলেন।   তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার সংস্কারের জন্য ছয়টি কমিশন গঠন করেছিল এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তারা প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছর ধরে যে ফ্যাসিবাদী শাসন চলেছে, তা নিরসনে জনগণের রায় বা গণভোটের দাবি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।   বিরোধীদলীয় নেতা সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোটের বাস্তবায়নের জন্য সরকারের মনোভাবকে সমালোচনা করেন। তিনি জানান, যেহেতু সংসদে জনগণের ন্যায্য দাবি সম্মানিত হচ্ছে না, তাই আমরা জনগণের কাছে ফিরে যাব এবং গণভোটের মাধ্যমে রায় আদায়ের পথ অনুসরণ করব।   সংবাদ সম্মেলনে ডা. শফিকুর রহমান আরও ঘোষণা দেন যে, গণভোট ও সংবিধান সংস্কারের দাবিতে সংসদ এবং রাজপথ উভয় ক্ষেত্রেই বিরোধী দল কার্যক্রম পরিচালনা করবে। শিগগিরই সমমনা দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও তিনি জানান।

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ১, ২০২৬ ১৪:০ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

Top week

ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

গ্রিন কার্ড পাওয়া আরো কঠিন হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে নিজ দেশে গিয়ে আবেদন করতে হবে অভিবাসীদের

ইসতিয়াক আহমেদ মে ২২, ২০২৬ ১৪:০ 0