সীমান্ত

ছবি: সংগৃহীত
ঈদ উপলক্ষে পাকিস্তান-আফগান সামরিক অভিযান সাময়িক স্থগিত

পবিত্র রমজান শেষ হওয়ার আগে উত্তেজিত সীমান্ত অঞ্চলে পাকিস্তান সামরিক অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। বুধবার ঘোষণা করা হয়েছে, আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে হামলা আগামী পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত থাকবে।   পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানান, এই বিরতির সিদ্ধান্ত সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্কের অনুরোধে নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, “যদি পাকিস্তানের ভেতরে সীমান্ত পেরিয়ে কোনো সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটে, তবে সামরিক অভিযান অবিলম্বে পুনরায় শুরু করা হবে।”   আফগান তালেবান সরকারও সামরিক অভিযান স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে। কাবুলের তালেবান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মঙ্গলবার কাবুলের ওমিদ মাদকাসক্তি চিকিৎসা কেন্দ্রে বিমান হামলায় শতাধিক মানুষ নিহত হওয়ার পর বুধবার গণজানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তালেবান দাবি করেছে, ওই হামলায় ৪০০ জনের বেশি নিহত এবং ২৬৫ জন আহত হয়েছে।   পাকিস্তান দাবি করেছে, তারা লক্ষ্যবস্তু হিসেবে মাদক পুনর্বাসন কেন্দ্রকে ব্যবহার করেনি। বরং ‘নির্ভুলভাবে সামরিক স্থাপনা এবং সন্ত্রাসী অবকাঠামো’ লক্ষ্য করা হয়েছে। ইসলামাবাদ অভিযোগ তুলেছে, কিছু চরমপন্থী গোষ্ঠী আফগানিস্তান থেকে পাকিস্তান হামলা চালায় এবং কাবুলের তালেবান সরকার তাদের আশ্রয় দেয়।   এর আগে সীমান্তে সংঘর্ষের কারণে দু’দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়লেও চীনসহ বিভিন্ন দেশের মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি কিছুটা প্রশমিত হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তান সরাসরি আফগান তালেবানকে লক্ষ্যবস্তু করা শুরু করলে উত্তেজনা পুনরায় বৃদ্ধি পায়।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
পাকিস্তানের ব্যাপক সামরিক অভিযান: ৪৬৪ তালেবান যোদ্ধা নিহত, ১৯২ ট্যাংক ধ্বংস

আফগানিস্তান সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় পাকিস্তান সশস্ত্র বাহিনীর চলমান 'গজব লিল-হক' অভিযানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। আজ বিকেল ৪টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্যানুযায়ী, নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে অন্তত ৪৬৪ জন আফগান তালেবান সদস্য নিহত এবং ৬৬৫ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) এক বার্তায় এই অভিযানের সর্বশেষ আপডেট নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ৩ মার্চ বিকেল ৪টা পর্যন্ত অভিযানে তালেবানের ১৮৮টি চেকপোস্ট ধ্বংস করা হয়েছে এবং ৩১টি পোস্টের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে পাকিস্তানি বাহিনী। মন্ত্রী আরও বিস্তারিত তথ্যে জানান, অভিযানে আফগান তালেবানের অন্তত ১৯২টি ট্যাংক, সাঁজোয়া যান এবং কামান ধ্বংস করা হয়েছে। এছাড়া আফগানিস্তান জুড়ে ৫৬টি কৌশলগত অবস্থানে 'কার্যকরভাবে' আঘাত হানা হয়েছে বলে দাবি করেছে পাকিস্তান সরকার। সীমান্তে উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এই অভিযানকে একটি বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
পাকিস্তান-তালেবান সংঘাত কি শেষ পর্যন্ত যুদ্ধে রূপ নেবে? যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা

পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সীমান্তজুড়ে সাম্প্রতিক উত্তেজনা বিশ্বরাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।   তবে দুই দেশের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ বা প্রচলিত যুদ্ধের সম্ভাবনা কতটুকু? বিবিসি উর্দুর এক সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, আফগান তালেবানের পক্ষে পাকিস্তানের মতো পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রচলিত সম্মুখ যুদ্ধে জয়ী হওয়া প্রায় অসম্ভব। বিশ্বের সামরিক শক্তিধর দেশগুলোর তালিকায় পাকিস্তান নিয়মিতভাবে শীর্ষ ১৫-তে অবস্থান করে। অন্যদিকে, তালেবান বাহিনীর সক্ষমতা মূলত তিনটি উৎসের ওপর নির্ভরশীল: সাবেক আফগান সেনাবাহিনীর ফেলে যাওয়া অস্ত্র। মার্কিন ও বিদেশি বাহিনীর রেখে যাওয়া সামরিক সরঞ্জাম। কালোবাজার থেকে সংগৃহীত অনিয়মিত অস্ত্রশস্ত্র। প্রচলিত বনাম গেরিলা যুদ্ধ সীমান্ত সংঘর্ষের ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, তালেবানরা সাধারণত হালকা অস্ত্র ব্যবহার করে। তবে তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো দীর্ঘদিনের গেরিলা যুদ্ধের অভিজ্ঞতা।  আফগান নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি যুদ্ধের বদলে তারা অতর্কিত হামলা এবং সড়কপথে বোমা পেতে রাখার (IED) মতো কৌশলেই বেশি অভ্যস্ত। মূলত অর্থনৈতিক সংকট এবং আধুনিক যুদ্ধবিমানের অভাব তালেবানদের একটি বড় আকারের যুদ্ধ থেকে বিরত রাখবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬ 0
পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি ও প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। ছবি: সংগৃহীত
সীমান্ত পরিস্থিতি ঘিরে দৃঢ় বার্তা দিলেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী

আফগানিস্তানের সঙ্গে সীমান্তে সাম্প্রতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে আসিফ আলী জারদারি ও প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ দেশের সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও নাগরিকদের নিরাপত্তা রক্ষায় অটল থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।   সীমান্ত অঞ্চলে আফগান বাহিনীর কথিত উসকানিমূলক হামলার জবাবে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী পাল্টা পদক্ষেপ নিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। তাদের দাবি, অভিযানে প্রতিপক্ষের একাধিক অবস্থান, গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড সেন্টার এবং গোলাবারুদের মজুতস্থল লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে, যাতে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।   শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেন, দেশের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি উল্লেখ করেন, যেকোনো আগ্রাসনের জবাব উপযুক্ত ও কঠোরভাবে দেওয়া হবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের জনগণ ও সশস্ত্র বাহিনী জাতীয় নিরাপত্তা এবং সীমান্তের অখণ্ডতা রক্ষায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।   সেনাবাহিনীর পেশাদার দক্ষতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, চিফ অব আর্মি স্টাফ Asim Munir-এর নেতৃত্বে বাহিনী দায়িত্ব পালন করছে দৃঢ় মনোবল নিয়ে। উন্নত প্রশিক্ষণ ও কৌশলগত প্রস্তুতির মাধ্যমে বাহিনী অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত—উভয় ধরনের হুমকি মোকাবিলায় সক্ষম বলেও তিনি মন্তব্য করেন।   অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট জারদারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তান প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হলেও দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না। তিনি সতর্ক করে দেন, পাকিস্তানের শান্তিপূর্ণ অবস্থানকে কেউ দুর্বলতা মনে করলে তার জবাব হবে শক্ত ও সমন্বিত। একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেশের সশস্ত্র বাহিনী জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় সর্বদা প্রস্তুত।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬ 0
সীমান্ত উত্তেজনার জেরে ‘অপারেশন গজব-লিল হক’, নিহত ১৩৩
সীমান্ত উত্তেজনার জেরে ‘অপারেশন গজব-লিল হক’, নিহত ১৩৩

সীমান্তের কাছে সহিংস ঘটনার জবাবে পাকিস্তান তার বিমান বাহিনী মোতায়েন করে এবং ‘অপারেশন গজব লিল হক’ নামে একটি আক্রমণ শুরু করেছে।   পাকিস্তান দাবি করেছে, এই অভিযানে আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর শতাধিক সদস্য নিহত হয়েছেন এবং তাদের অধিকাংশই আহত হয়েছেন।   পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের বিদেশি সংবাদমাধ্যম বিষয়ক মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি শুক্রবার ভোরে এক্স (ইউরেক্স) প্ল্যাটফর্মে জানান, বৃহস্পতিবার রাত ৩টা ৪৫ মিনিট থেকে পাকিস্তানের বাহিনী আফগানিস্থানের বিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালাচ্ছে। এর মধ্যে কাবুলসহ পাকতিয়া ও কান্দাহার এলাকার সেনা ঘাঁটিগুলোও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।   তার ভাষ্য, এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ১৩৩ জন আফগান সৈন্য নিহত এবং প্রায় ২০০ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া আফগান বাহিনীর একটি বড় গোলাবারুদের গোডাউনও ধ্বংস করা হয়েছে।   আফগানিস্তানের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বৃহস্পতিবার রাতে পূর্ব সীমান্তবর্তী এলাকায় পাকিস্তানি সেনাদের বিরুদ্ধে তারা প্রচণ্ড প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। আফগান বাহিনীর একটি কর মেকানিজমের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গত রবিবার নানগারহার ও পাকতিয়া প্রদেশে পাকিস্তান বিমান হামলা চালানো শুরু করার পর থেকে উত্তেজনা বেড়ে গেছে এবং বৃহস্পতিবার রাতে সংঘর্ষ তীব্র হয়েছে।   পাকিস্তান এই সংঘর্ষে নিজস্ব ভূমিকা ও প্রতিরোধ কার্যক্রমকে কড়া প্রতিক্রিয়া হিসেবে ব্যাখ্যা করছে এবং দাবি করছে সীমান্তবর্তী বেশ কিছু আফগান সেনা চৌকিও তারা ধ্বংস করে দিয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬ 0
নাইজার রাজ্যে সশস্ত্র হামলায় তাণ্ডব, নিহত অন্তত ৩২
নাইজার রাজ্যে সশস্ত্র হামলায় তাণ্ডব, নিহত অন্তত ৩২

নাইজার স্টেটের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে শনিবার ভোরে সশস্ত্ররা মোটরসাইকেলে করে তিনটি গ্রামে হামলা চালিয়ে অন্তত ৩২ জনকে হত্যা করেছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, হামলার সময় বহু ঘরবাড়ি ও দোকানপাটে আগুন লাগানো হয়, যা এলাকায় ভয় ও অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে।   হামলার লক্ষ্য ছিল টুঙ্গা-মাকেরি, কঙ্কোসো ও পিসা গ্রাম, যেগুলো বেনিন সীমান্তের কাছে বরগু এলাকায় অবস্থিত। স্থানীয়ভাবে এ ধরনের সশস্ত্র গোষ্ঠীকে ‘ডাকাত’ বলা হয়। তারা নিয়মিত হামলা, অপহরণ এবং মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনায় যুক্ত।   নাইজার স্টেট পুলিশের মুখপাত্র ওয়াসিউ আবিওদুন জানিয়েছেন, টুঙ্গা-মাকেরিতে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন এবং অনেক মানুষ অপহরণ করা হয়েছে। কঙ্কোসো গ্রামেও হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে, তবে বিস্তারিত তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি। তিনি জানিয়েছেন, যৌথ নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে এবং অপহৃতদের উদ্ধারে অভিযান চলছে।   প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় দেখা গেছে, ভোরের দিকে এলোপাতাড়ি গুলির শব্দে গ্রামের মানুষ ঘুম ভেঙে যায়। হামলাকারীরা পুলিশ স্টেশনেও আগুন দেয়। কঙ্কোসোর এক বাসিন্দা বলেন, শুধু গ্রামটিতেই অন্তত ২৬ জন নিহত হয়েছেন। আরেক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, প্রায় ২০০টির বেশি মোটরসাইকেলে হামলাকারীরা একের পর এক গ্রামে তাণ্ডব চালিয়েছে।   টুঙ্গা-মাকেরির বাসিন্দা আওয়াল ইব্রাহিম জানান, স্থানীয় সময় রাত তিনটার দিকে তাঁদের গ্রামে হামলা হয়। হামলাকারীরা নির্বিচারে গুলি চালিয়ে কয়েকজনকে হত্যা করে এবং দোকানপাটে আগুন লাগিয়ে দেয়। আতঙ্কে বাসিন্দারা গ্রাম ত্যাগ করতে বাধ্য হয়।   সম্প্রতি নাইজেরিয়াজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। উত্তরাঞ্চলে একদিকে ইসলামপন্থী জঙ্গি দল, অন্যদিকে সশস্ত্র অপহরণকারী চক্রের তৎপরতায় সাধারণ মানুষ অনিরাপদে ভুগছে। সরকারের ওপর চাপ ক্রমশ বাড়ছে, যাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬ 0
৯ বছর বয়সী শিশু হুজাইফা আর বেঁচে নেই
মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে আহত ৯ বছর বয়সী শিশু হুজাইফা আর বেঁচে নেই

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং তেচ্ছি ব্রিজ এলাকায় মিয়ানমার সীমান্ত থেকে ছোঁড়া গুলিতে আহত ৯ বছর বয়সী শিশু হুজাইফা সুলতানা আফনানকে বাঁচানো যায়নি। শনিবার সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।   হুজাইফার মা সাবেকুন নাহার ও চাচা শওকত আলী মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তারা জানান, গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর থেকেই হুজাইফা রাজধানীর জাতীয় ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল।   এর আগে গত ১১ জানুয়ারি হোয়াইক্যং তেচ্ছি ব্রিজ এলাকায় বাবা জসিম উদ্দিনের সঙ্গে বাড়ি ফেরার পথে মিয়ানমার প্রান্ত থেকে ছোঁড়া গুলিতে গুরুতর আহত হয় শিশু হুজাইফা। স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে উখিয়ার গয়ালমারা এলাকার একটি এনজিও হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।   চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অ্যানেস্থেশিয়া ও আইসিইউ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক হারুন অর রশিদ সে সময় গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, অস্ত্রোপচার করা হলেও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার কারণে হুজাইফার মস্তিষ্কে ঢুকে যাওয়া গুলিটি বের করা সম্ভব হয়নি। তবে মস্তিষ্কের চাপ কমানোর জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য হুজাইফাকে ঢাকার জাতীয় ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দীর্ঘ চিকিৎসা চললেও শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কাছে হার মানে শিশুটি।   প্রতিবেদক: শ্যামল সান্যাল

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

Top week

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ৩, ২০২৬ 0