সীমান্ত

উপগ্রহ চিত্রে চীনের হোটান বিমানঘাঁটিতে জে-২০ স্টিলথ যুদ্ধবিমান দেখা গেছে বলে দাবি করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
ভারতীয় সীমান্তে চিনের ১১টি অত্যাধুনিক জে-২০ স্টিলথ ফাইটার, চিন্তায় নয়াদিল্লি

ভারত সীমান্তসংলগ্ন দুটি বিমানঘাঁটিতে চীন অন্তত ১১টি জে-২০ ‘মাইটি ড্রাগন’ স্টিলথ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে বলে দাবি করা হয়েছে সম্প্রতি প্রকাশিত বাণিজ্যিক উপগ্রহ চিত্র বিশ্লেষণে। ভারতের গণমাধ্যম এনডিটিভি ও স্যাটেলাইট ইমেজিং প্রতিষ্ঠান ভ্যান্টর (Vantor)-এর বিশ্লেষণের ভিত্তিতে প্রকাশিত এই তথ্য দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করেছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত জুনের শেষ ভাগ এবং জুলাইয়ের শুরুতে তোলা উপগ্রহ চিত্রে চীনের শিনজিয়াং অঞ্চলের হোটান বিমানঘাঁটিতে সাতটি এবং তিব্বতের দামশিয়ুং বিমানঘাঁটিতে আরও চারটি জে-২০ যুদ্ধবিমান দেখা গেছে। হোটান বিমানঘাঁটি লাদাখের লেহ থেকে প্রায় ৩৮৯ কিলোমিটার এবং ভারতীয় বিমানবাহিনীর দৌলত বেগ ওল্ডি ঘাঁটি থেকে প্রায় ২৪৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। অন্যদিকে, দামশিয়ুং বিমানঘাঁটি অরুণাচল প্রদেশের তাওয়াং থেকে প্রায় ৩৪৪ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে।   প্রতিবেদনটি বলছে, ভারতের মুখোমুখি কোনো চীনা বিমানঘাঁটিতে একসঙ্গে এত সংখ্যক জে-২০ যুদ্ধবিমান প্রকাশ্য বাণিজ্যিক উপগ্রহ চিত্রে ধরা পড়ার ঘটনা এটিই প্রথম। তবে চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।   ভারতের মহাকাশ ও প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান নিউস্পেস-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা এবং সাবেক যুদ্ধবিমানচালক সমীর যোশী এনডিটিভিকে বলেন, হোটান ও দামশিয়ুং ঘাঁটিতে জে-২০-এর উপস্থিতি দেখায় যে উচ্চ পার্বত্য অঞ্চল থেকে পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান পরিচালনা এখন চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি এয়ার ফোর্স (PLAAF)-এর নিয়মিত সক্ষমতায় পরিণত হয়েছে। তার মতে, ভারতের জন্য এখন কাউন্টার-স্টিলথ সেন্সর, সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং দূরপাল্লার আঘাত হানার সক্ষমতা আরও জোরদার করা গুরুত্বপূর্ণ।   জে-২০ ‘মাইটি ড্রাগন’ চীনের প্রথম পঞ্চম প্রজন্মের স্টিলথ যুদ্ধবিমান। এর বিশেষ নকশা ও কম রাডার প্রতিফলনের সক্ষমতার কারণে এটি শত্রুপক্ষের রাডারে সহজে ধরা পড়ে না। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এই স্টিলথ প্রযুক্তি আকাশযুদ্ধে উল্লেখযোগ্য কৌশলগত সুবিধা দিতে পারে। ভারতের বর্তমান বহরে থাকা রাফাল, সুখোই-৩০ এমকেআই, মিরাজ-২০০০ কিংবা মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান উন্নত হলেও এগুলো স্টিলথ প্ল্যাটফর্ম নয়।   ভারত বর্তমানে নিজস্ব পঞ্চম প্রজন্মের অ্যাডভান্সড মিডিয়াম কমব্যাট এয়ারক্রাফট (AMCA) প্রকল্প নিয়ে কাজ করছে। তবে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই যুদ্ধবিমান পূর্ণাঙ্গভাবে ভারতীয় বিমানবাহিনীর বহরে যুক্ত হতে এখনও কয়েক বছর সময় লাগবে এবং সেটিও প্রকল্পের পরীক্ষামূলক ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার ওপর নির্ভর করবে।   এদিকে চীনের জে-২০ উৎপাদনের গতিও দ্রুত বাড়ছে। দ্য ওয়ার জোন-এর উদ্ধৃতি দিয়ে এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালে চীনের হাতে প্রায় ৫০টি জে-২০ থাকলেও বর্তমানে সেই সংখ্যা আনুমানিক ৩০০ থেকে ৫০০-এর মধ্যে পৌঁছেছে। বিভিন্ন বিশ্লেষণে দাবি করা হচ্ছে, বেইজিং বছরে ১২০টিরও বেশি জে-২০ তৈরি করছে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে তাদের বহরে এক হাজারের কাছাকাছি স্টিলথ যুদ্ধবিমান থাকতে পারে। এসব পরিসংখ্যান স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব নয় এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হিসাবেও পার্থক্য রয়েছে।   বর্তমানে ভারতীয় বিমানবাহিনীর কাছে ৩৬টি রাফাল যুদ্ধবিমান রয়েছে, যা আম্বালা ও হাসিমারা ঘাঁটিতে মোতায়েন আছে। এছাড়া ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য ২৬টি রাফাল কেনার চুক্তি হয়েছে এবং বিমানবাহিনীর জন্য আরও ১১৪টি যুদ্ধবিমান সংগ্রহের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে সুখোই-৩০ এমকেআই, মিরাজ-২০০০ এবং মিগ-২৯ বহরের আধুনিকায়ন কর্মসূচিও চলমান।   প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্তবর্তী অঞ্চলে চীনের উন্নত যুদ্ধবিমান মোতায়েন দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সামরিক প্রতিযোগিতাকে আরও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে উপগ্রহ চিত্রে যুদ্ধবিমান দেখা গেলেও তাৎক্ষণিক সামরিক অভিযান বা সংঘাতের প্রস্তুতির প্রমাণ হিসেবে একে নিশ্চিতভাবে দেখার সুযোগ নেই। সীমান্ত পরিস্থিতি ও সামরিক মোতায়েন নিয়ে দুই দেশই নিয়মিত নজরদারি ও সক্ষমতা বৃদ্ধি অব্যাহত রেখেছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২৭, ২০২৬ ১৪:০
মানবতার ডাকে সাড়া দিন, নতুন স্বেচ্ছাসেবক নিচ্ছে রেড ক্রস ও ফুড ব্যাংক
মানবতার ডাকে সাড়া দিন, নতুন স্বেচ্ছাসেবক নিচ্ছে রেড ক্রস ও ফুড ব্যাংক

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের সীমান্ত শহর লারেডোতে স্বেচ্ছাসেবকের ঘাটতি মোকাবিলায় একযোগে নতুন সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করেছে আমেরিকান রেড ক্রস, সাউথ টেক্সাস ফুড ব্যাংক এবং ইউনাইটেড ওয়ে অব লারেডো। দুর্যোগ মোকাবিলা, ক্ষুধার্ত মানুষের খাদ্য সহায়তা, শিক্ষা কার্যক্রম এবং বিভিন্ন সামাজিক সেবামূলক উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে স্থানীয় বাসিন্দাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলো। রেড ক্রস জানিয়েছে, তাদের মানবিক কার্যক্রমের প্রায় ৯০ শতাংশই স্বেচ্ছাসেবকদের ওপর নির্ভরশীল। বর্তমানে দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তা, জরুরি সেবা, প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম এবং কমিউনিটি সচেতনতামূলক উদ্যোগে নতুন স্বেচ্ছাসেবক প্রয়োজন। অন্যদিকে সাউথ টেক্সাস ফুড ব্যাংক প্রবীণদের খাদ্য সহায়তা কর্মসূচিসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য স্বেচ্ছাসেবক খুঁজছে। সাম্প্রতিক বন্যায় দক্ষিণ টেক্সাসের একাধিক কাউন্টি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় খাদ্য ও জরুরি সহায়তা কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হয়েছে এবং এতে জনসম্পৃক্ততার প্রয়োজন বেড়েছে। ইউনাইটেড ওয়ে অব লারেডোও শিক্ষার্থীদের সাক্ষরতা উন্নয়ন কর্মসূচি, কমিউনিটি ইভেন্ট এবং স্কুলে ফেরার প্রস্তুতি কার্যক্রমে অংশ নিতে নতুন স্বেচ্ছাসেবক নিবন্ধনের আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটি বলছে, সমাজের কল্যাণে সময় দেওয়া মানুষের অংশগ্রহণই একটি শক্তিশালী ও সহমর্মী কমিউনিটি গড়ে তোলে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ২৬, ২০২৬ ১৪:০
অ্যান্ড্রু এসকোবারকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অনুসন্ধান চালিয়েছিল পরিবার। ছবি: সংগৃহীত
সন্তানকে খুঁজতে চাকরি ছেড়েছিলেন বাবা, ৩ বছর পর জীবিত উদ্ধার নিখোঁজ শিশু

তিন বছর আগে নিখোঁজ হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের এক কিশোরকে অবশেষে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। ২০২৩ সালে ১১ বছর বয়সে নিখোঁজ হওয়া অ্যান্ড্রু এসকোবারকে সম্প্রতি টেক্সাসের এল পাসো সীমান্ত এলাকায় তার মায়ের সঙ্গে আটক করা হয়। দীর্ঘ তিন বছরের অনিশ্চয়তার পর ছেলেকে ফিরে পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন তার বাবা, যদিও ছেলের মানসিক সুস্থতা নিয়ে উদ্বেগও জানিয়েছেন তিনি।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের জুলাইয়ে নিউ মেক্সিকোর রিও রাঞ্চো এলাকা থেকে অ্যান্ড্রু এসকোবার নিখোঁজ হয়। পুলিশ অভিযোগ করে, আদালতের হেফাজত-সংক্রান্ত আদেশ লঙ্ঘন করে তার মা মিরিয়াম ফেলিক্স ছেলেকে নিয়ে পালিয়ে যান। এরপর থেকেই অ্যান্ড্রুকে খুঁজতে ব্যাপক অনুসন্ধান শুরু হয়। অ্যান্ড্রুর বাবা হুয়ান এসকোবার এবং তার সৎমা মনিক এসকোবার ছেলেকে খুঁজে বের করতে বছরের পর বছর চেষ্টা চালিয়ে যান। তারা স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রচারণা চালান। এমনকি ছেলেকে খুঁজে বের করার জন্য দুজনই নিজেদের চাকরি ছেড়ে পূর্ণ সময় অনুসন্ধানে নেমেছিলেন বলে জানান।   অবশেষে গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো সীমান্ত দিয়ে প্রবেশের সময় মিরিয়াম ফেলিক্সের পরিচয় যাচাইয়ের সময় একটি সতর্কবার্তা সক্রিয় হয়। এরপর কর্মকর্তারা অ্যান্ড্রুর পরিচয়পত্র পরীক্ষা করে দেখতে পান, তিনি নিখোঁজ ব্যক্তিদের তালিকায় রয়েছেন। সঙ্গে সঙ্গে মা ও ছেলেকে আটক করা হয়। হুয়ান এসকোবার স্থানীয় সংবাদমাধ্যম KAOT7-কে বলেন, পুলিশ কর্মকর্তার ফোন পেয়ে তিনি প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারেননি। তার ভাষায়, "আমি একেবারে হতবাক হয়ে গিয়েছিলাম। এতদিন পর আমার ছেলে জীবিত আছে, এই খবর বিশ্বাস করাই কঠিন ছিল।"   আলবুকার্ক পুলিশ জানিয়েছে, আদালতের হেফাজত-সংক্রান্ত চুক্তি ভঙ্গ করায় মিরিয়াম ফেলিক্সের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর পরোয়ানা আগে থেকেই জারি ছিল। হুয়ান জানান, ছেলে নিখোঁজ থাকলেও তিনি প্রতি বছর তার জন্মদিন পালন করতেন। ছেলের সঙ্গে কাটানো সময়ের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, "সে ছিল আমার সবচেয়ে ভালো বন্ধু। আমরা সব সময় একসঙ্গে থাকতাম, ভিডিও বানাতাম, হাসি-ঠাট্টা করতাম।"   ছেলেকে ফিরে পাওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করলেও তিনি বলেন, গত তিন বছরে অ্যান্ড্রুকে অনেক মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। তার দাবি, পালিয়ে থাকার সময় মিরিয়াম ফেলিক্স ছেলেকে নিয়ে আলবেনিয়া ও তুরস্কসহ একাধিক দেশে ভ্রমণ করেছিলেন। হুয়ানের ভাষায়, "শারীরিকভাবে সে সুস্থ আছে। কিন্তু গত তিন বছরের অভিজ্ঞতা তার মানসিক অবস্থার ওপর কী প্রভাব ফেলেছে, সেটিই এখন আমাদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ।"   পরিবারের পক্ষে অনুসন্ধান কার্যক্রমে সহায়তা করা আইনজীবী ডারলিন গোমেজ জানান, মিরিয়াম ফেলিক্স বর্তমানে আটক রয়েছেন এবং তাকে মেক্সিকোতে প্রত্যর্পণের আইনি প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে দীর্ঘ বিচ্ছেদের পর পরিবার নতুন করে একে অপরের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।   পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার আইনি প্রক্রিয়া এখনো চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে অ্যান্ড্রুর শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৭, ২০২৬ ১৪:০
পাকিস্তান আফগানিস্তানের সিমান্তের ছবি সংগৃহীত আমেরিকা বাংলা
পাকিস্তান-আফগান সীমান্তে ফের গোলাগুলি, আহত তিন পাকিস্তানি সীমান্তরক্ষী

আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যকার সীমান্ত উত্তেজনা নতুন করে সহিংস রূপ নিয়েছে। আফগানিস্তানের খাইবার সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় তালেবান সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও পাকিস্তানি সীমান্তরক্ষীদের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনায় পাকিস্তানের তিন সীমান্তরক্ষী আহত হয়েছেন। আহতদের একজনের অবস্থা গুরুতর বলে নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে। আফগানিস্তানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম Afghanistan International-এর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, রোববার এই সংঘর্ষের সময় উভয় পক্ষই হালকা ও ভারী অস্ত্র ব্যবহার করে। কিছু সময় গোলাগুলি চলার পর পরিস্থিতি শান্ত হয়। আহত পাকিস্তানি সদস্যদের দ্রুত চিকিৎসার জন্য নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। পাকিস্তানের নিরাপত্তা সূত্রের দাবি, খাইবার জেলার তাবাই (Tabai) সীমান্ত এলাকায় কোনো ধরনের উসকানি ছাড়াই তালেবান সীমান্তরক্ষীরা পাকিস্তানি সীমান্তচৌকিতে গুলি চালায়। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে তালেবান প্রশাসন এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি। এই সংঘর্ষ এমন এক সময়ে ঘটল, যখন দুই পক্ষের মধ্যে সীমান্ত উত্তেজনা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। গত ২৯ জুন পাকিস্তান আফগানিস্তানের পাকতিয়া, পাকতিকা ও কুনার প্রদেশে বিমান হামলা চালায়। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় অন্তত ২৮ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। অন্যদিকে তালেবান প্রশাসন নিহতের সংখ্যা আরও বেশি বলে দাবি করে এবং হামলাকে আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্বের ওপর আগ্রাসন হিসেবে অভিহিত করে। এরপর সীমান্ত পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। তালেবান পাকিস্তানের দিকে একাধিক ড্রোন পাঠানোর দাবি করে, যদিও এসব ড্রোন হামলার প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য এখনো প্রকাশিত হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্তে পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপ ও অবিশ্বাসের কারণে দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্ক নতুন করে সংকটের মুখে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। উল্লেখ্য, সীমান্তে গোলাগুলি, বিমান হামলা ও পাল্টা সামরিক তৎপরতার ঘটনাগুলো নিয়ে উভয় দেশের পক্ষ থেকে পরস্পরবিরোধী দাবি করা হয়েছে। আহত তিন পাকিস্তানি সীমান্তরক্ষীর তথ্য পাকিস্তানের নিরাপত্তা সূত্র এবং Afghanistan International-এর প্রতিবেদনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলেও, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

সিদ্দিকুর রহমান জুলাই ৫, ২০২৬ ১৪:০
মিয়ানমারে তুমুল সংঘাত, রাতভর বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল টেকনাফ সীমান্ত

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দেশটির সামরিক জান্তা বাহিনী ও আরাকান আর্মির (এএ) মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া তীব্র সংঘর্ষের প্রভাব আবারও এসে পৌঁছেছে বাংলাদেশের টেকনাফ সীমান্তে। বুধবার (১ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার পর থেকে সীমান্তের ওপার মংডু এলাকায় একের পর এক গোলাবর্ষণ, মর্টার শেল বিস্ফোরণ এবং ভারী অস্ত্রের বিকট শব্দ টেকনাফের সীমান্তবর্তী এলাকায় স্পষ্টভাবে শোনা যায়। রাত গভীর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিস্ফোরণের তীব্রতা আরও বাড়তে থাকায় সীমান্তজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেক মানুষ নির্ঘুম রাত কাটান।   স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন পর আবারও এত তীব্র বিস্ফোরণের শব্দ শুনে তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। বিস্ফোরণের শব্দে অনেক বাড়ির দরজা-জানালা কেঁপে ওঠে। হঠাৎ বিকট আওয়াজে শিশু, নারী ও বয়স্করা ভয় পেয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন। অনেকেই রাতভর জেগে থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।   সবচেয়ে বেশি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় টেকনাফ সদর, হ্নীলা, হোয়াইক্যং, সাবরাং ও শাহপরীর দ্বীপসহ সীমান্তঘেঁষা বিভিন্ন এলাকায়। স্থানীয়দের ভাষ্য, কয়েক দফায় এত শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে যে পুরো সীমান্ত এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিস্ফোরণের শব্দ শোনার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন এবং স্বজনদের নিরাপদে থাকার আহ্বান জানান।   স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডু অঞ্চলে আরাকান আর্মি ও সামরিক জান্তা বাহিনীর মধ্যে ব্যাপক গোলাগুলি চলছে। সংঘর্ষ চলাকালে ভারী অস্ত্রের পাশাপাশি বিমান হামলাও চালানো হয়। এসব হামলার বিস্ফোরণের শব্দ সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশের অভ্যন্তর পর্যন্ত পৌঁছে যায়। রাতভর থেমে থেমে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাওয়ায় সীমান্ত এলাকার মানুষেরমধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়।   সীমান্তের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠার পর বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সীমান্ত এলাকায় সতর্কতা জোরদার করেছে। সীমান্তজুড়ে অতিরিক্ত টহল পরিচালনা করা হচ্ছে এবং সম্ভাব্য যেকোনো অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও সার্বিক পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে।   এ পর্যন্ত বাংলাদেশের ভূখণ্ডে কোনো গোলা বা মর্টার শেল এসে পড়ার খবর পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে কোনো হতাহত বা সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির ঘটনাও নিশ্চিত হয়নি। সীমান্তের সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।   স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই জানান, অতীতের বিভিন্ন সংঘর্ষের সময় মিয়ানমার থেকে ছোড়া মর্টার শেল বাংলাদেশের ভেতরে এসে পড়ার ঘটনা ঘটেছিল। সেই অভিজ্ঞতার কারণে নতুন করে বিস্ফোরণের শব্দ শুরু হওয়ার পর সীমান্তজুড়ে আতঙ্ক আরও বেড়ে যায়। অনেকে রাতেই আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিরাপত্তার খোঁজখবর নেন।   রাখাইন রাজ্যে সাম্প্রতিক সময়ে আরাকান আর্মি ও সামরিক বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ আরও তীব্র হয়েছে। বিশেষ করে মংডু ও আশপাশের এলাকায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রায়ই ভারী অস্ত্রের ব্যবহার, গোলাবর্ষণ এবং বিমান হামলার ঘটনা ঘটছে। এর ফলে সীমান্তসংলগ্ন পুরো এলাকায় অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিরাজ করছে।   সীমান্তের বর্তমান পরিস্থিতিকে ঘিরে বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সীমান্তে নিয়োজিত সদস্যদের টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং পরিস্থিতির যেকোনো পরিবর্তনের ওপর নিবিড় নজর রাখা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।   সীমান্ত এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক থাকলেও এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের ভেতরে কোনো ধরনের সরাসরি সংঘর্ষ বা নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেনি। তবে রাতভর বিস্ফোরণের শব্দে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে। অনেক পরিবার শিশু ও বয়স্ক সদস্যদের নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে রাত কাটিয়েছে।   মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডু এলাকায় আরাকান আর্মি ও সামরিক জান্তা বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ অব্যাহত ছিল। রাতভর বিস্ফোরণের শব্দে টেকনাফ সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও বাংলাদেশের ভূখণ্ডে কোনো গোলা পড়া, হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা নিশ্চিত হয়নি। সীমান্তের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সিদ্দিকুর রহমান জুলাই ১, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
রৌমারী সীমান্তের শূন্যরেখায় তিন দিন ধরে আটকে ছয় বাংলাদেশি, ভারত থেকে পুশ-ইনের অভিযোগ

কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তে ভারত থেকে পুশ-ইনের চেষ্টার পর ছয় বাংলাদেশি নাগরিক তিন দিন ধরে আন্তর্জাতিক সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন। তাঁদের মধ্যে দুই শিশু ও একজন নারী রয়েছেন। খোলা আকাশের নিচে মানবেতর পরিস্থিতিতে দিন কাটাচ্ছেন তারা। স্থানীয় বাসিন্দাদের দেওয়া খাবার ও পানির ওপর নির্ভর করে টিকে আছেন বলে জানা গেছে।   মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে রৌমারী উপজেলার শৌলমারী ইউনিয়নের গয়টাপাড়া সীমান্তের আন্তর্জাতিক ১০৬০ নম্বর মেইন পিলারের ১ নম্বর সাব-পিলার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ছয়জন ব্যক্তি শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন। তাদের চারপাশে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।   আটকে থাকা সুমি আক্তার (২৫) বলেন, “ভাই, আমগোর জীবন গেলে যাক, আমগোর বাচ্চা দুইডারে বাঁচাইন। এভাবে আর দুইটা দিন ফালায় রাখলে বাচ্চাগুলো মরে যাবে।” তিনি জানান, তিন দিন ধরে সীমান্ত এলাকায় অবস্থান করায় তারা চরম দুর্ভোগে রয়েছেন। পর্যাপ্ত খাবার না পাওয়ায় তার বুকের দুধ প্রায় শুকিয়ে গেছে, ফলে ছোট শিশুকে ঠিকমতো দুধ খাওয়াতে পারছেন না।   সীমান্তে দেখা যায়, সুমি আক্তারের বড় মেয়ে ফাতেমা খাতুন (৫) বাবার কোলে শুয়ে আছে। ছোট শিশু ফাহিমা খাতুন বারবার কান্না করছে। মা কখনো শিশুটিকে পানি খাওয়াচ্ছেন, আবার কখনো কোলে নিয়ে শান্ত করার চেষ্টা করছেন।   পুশ-ইনের চেষ্টার শিকার ব্যক্তিরা হলেন ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার বিরুনিয়া এলাকার কংশেরকুল গ্রামের বিল্লাল হোসেন (৩৫), তাঁর স্ত্রী সুমি আক্তার (২৫), তাঁদের দুই সন্তান ফাতেমা ও ফাহিমা খাতুন এবং একই গ্রামের সজীব মিয়া (২৬) ও হিমেল মিয়া।   বিল্লাল হোসেন বলেন, “এক সপ্তাহ আগে দালালের মাধ্যমে কাজের আশায় ভারতে গিয়েছিলাম। পরে সেখানে আটক হই। গত রোববার ভোরে আমাদের কাঁটাতারের কাছে এনে ছেড়ে দেওয়া হয়। তিন দিন ধরে নো ম্যানস ল্যান্ডে বসে আছি। আমরা বাংলাদেশি।”   স্থানীয় সূত্র ও বিজিবি জানায়, রোববার ভোরে ভারতের ঝালুরচর বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা এক নারী, তিন পুরুষ ও দুই শিশুসহ ছয়জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের বাধা এবং বিজিবির সতর্ক অবস্থানের কারণে তারা বাংলাদেশের ভেতরে প্রবেশ করতে পারেননি। এরপর থেকেই তারা শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন।   ঘটনার পর রোববার দুপুরে বিজিবি ও বিএসএফের কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে জরুরি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত বিষয়টির কোনো সমাধান হয়নি।   আটকে থাকা সজীব মিয়ার এলাকার গ্রাম পুলিশ সদস্য মোশারফ হোসেন বলেন, সংবাদমাধ্যমে খবর দেখে তারা ব্যক্তিদের শনাক্ত করেছেন। তাদের কয়েকজন কাজের সন্ধানে ভারতে গিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। বিষয়টি বিজিবিকে জানানো হয়েছে, তবে এখনো তাদের ফেরানোর বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।   গয়টাপাড়া বিজিবি ক্যাম্পের সুবেদার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “পুশ-ইনের বিষয়টি নিয়ে পতাকা বৈঠক হয়েছে। আমরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছি, যথাযথ রাষ্ট্রীয় ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া অনুসরণ ছাড়া কাউকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। বর্তমানে তারা নো ম্যানস ল্যান্ডে অবস্থান করছেন।”

Unknown জুন ১৫, ২০২৬ ১৪:০
জামালপুর সীমান্তের শূন্যরেখা এলাকায় কয়েকদিন ধরে অবস্থান করছেন এক ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তি। ছবি: সংগৃহীত
নিজের মাতৃভূমিও তাকে ছুঁড়ে ফেললো!

বাংলাদেশ-ভারতের জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার ধানুয়া কামালপুর-রামরামপুর সীমান্তে আন্তর্জাতিক সীমানার শূন্যরেখায় কয়েকদিন ধরে আটকা পড়ে আছেন এক ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধ। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) তাকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ওই চেষ্টা প্রতিহত করার পর থেকে তিনি দুই দেশের সীমান্তের মাঝামাঝি এলাকায় অবস্থান করছেন।   একদিকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) বন্দুকের নল, অন্যদিকে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিজিবির কড়া নজরদারি—এই দুইয়ের মাঝে পড়ে প্রখর রোদ আর বৈরী আবহাওয়ায় অনাহারে দিন কাটছে তার। বাঁচার তাগিদে তিনি যেদিকেই একটু পা বাড়াচ্ছেন, সেদিক থেকেই তাকে তাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। সাথে রয়েছে বাংলাদেশের উচ্ছুক জনতা। তিনি এখন ও দুই দেশের সীমান্তের মাঝামাঝি এলাকায় অবস্থান করছেন।    স্থানীয় সূত্র জানা যায়, গত শনিবার ভোররাতে সীমান্তের ১০৮২ নম্বর আন্তর্জাতিক পিলারের পাশ দিয়ে সাতজন ব্যক্তিকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে বিএসএফ। তবে বিজিবি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের বাধার মুখে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। এ সময় পুশইনের শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে ছয়জন অন্ধকারের সুযোগে ভারতীয় ভূখণ্ডে ফিরে যেতে সক্ষম হলেও ওই বৃদ্ধ শূন্যরেখা এলাকায় থেকে যান।   আটকে পড়া ওই ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়দের ধারণা, তিনি বাংলাদেশের নাগরিক এবং কাজের সন্ধানে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মেঘালয় ও ত্রিপুরায় গিয়েছিলেন। তবে তার পরিচয় ও জাতীয়তা সম্পর্কে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   মঙ্গলবার গভীর রাত থেকে বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তাকে সীমান্তের শূন্যরেখায় ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে। সীমান্ত পরিস্থিতির কারণে তিনি বাংলাদেশ কিংবা ভারতের কোনো অংশেই প্রবেশ করতে পারছেন না বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।   এদিকে মানবিক বিবেচনায় সীমান্তবর্তী এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা তাকে পানি ও শুকনো খাবার পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। স্থানীয় বাসিন্দা হোসেন বুলাল বলেন, বৃদ্ধ ব্যক্তি কয়েকদিন ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। তার অবস্থা দেখে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।   পশ্চিমবঙ্গে নতুন রাজ্য সরকার ক্ষমতায় আসার পর, অবৈধ অনুপ্রবেশকারী আখ্যা দিয়ে সাধারণ ও মুসলিম মানিুষদের জোরপূর্বক পুশ-ইন করার চেষ্টা করছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বাংলাদেশের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে একাধিক ব্যক্তিকে পুশইনের অভিযোগ উঠেছে। বিজিবির দাবি, এসব ব্যক্তির বেশিরভাগই বাংলাদেশি নাগরিক, যারা জীবিকা নির্বাহের জন্য ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে অবস্থান করছিলেন। তবে প্রতিটি ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাইয়ের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ।    এদিকে পশ্চিমবঙ্গে অবৈধভাবে বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিকদের বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এক বক্তব্যে তিনি বলেন, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর কার্যক্রম চলমান রয়েছে। শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে বিশেষ ‘হোল্ডিং স্টেশন’ স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে সন্দেহভাজন অনুপ্রবেশকারীদের সাময়িকভাবে রাখা হচ্ছে। সেখান থেকে ধাপে ধাপে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে।   তিনি বলেন, “বর্ডার জেলারগুলোতে হোল্ডিং স্টেশন তৈরি করা হয়েছে। সেখান থেকে এখন পর্যন্ত ৪ হাজার ৮০০ জনকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে আরও ৮৩৬ জন হোল্ডিং সেন্টারে রয়েছেন। তাদেরও দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।”   সীমান্তের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে বুধবার সকালে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে একটি জরুরি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে আটকে থাকা বৃদ্ধের বিষয়েও আলোচনা হয়। তবে দীর্ঘ আলোচনার পরও কোনো সমাধান হয়নি বলে জানা গেছে।   জামালপুর ৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান বলেন, বিএসএফ একজন ব্যক্তিকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করেছিল। বিজিবি তা প্রতিহত করেছে। তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এখনো শূন্যরেখা এলাকায় অবস্থান করছেন এবং সীমান্ত পরিস্থিতি বিজিবির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।   বিএসএফের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Unknown জুন ১০, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

নিজ মায়ের হাতে তিন সন্তান হত্যার ভয়াবহ বর্ণনা শুনে কেঁদে ফেললেন আদালতে উপস্থিত সদস্যরা

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ২৩, ২০২৬ ১৪:০