মিয়ানমারে তুমুল সংঘাত, রাতভর বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল টেকনাফ সীমান্ত
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দেশটির সামরিক জান্তা বাহিনী ও আরাকান আর্মির (এএ) মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া তীব্র সংঘর্ষের প্রভাব আবারও এসে পৌঁছেছে বাংলাদেশের টেকনাফ সীমান্তে। বুধবার (১ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার পর থেকে সীমান্তের ওপার মংডু এলাকায় একের পর এক গোলাবর্ষণ, মর্টার শেল বিস্ফোরণ এবং ভারী অস্ত্রের বিকট শব্দ টেকনাফের সীমান্তবর্তী এলাকায় স্পষ্টভাবে শোনা যায়। রাত গভীর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিস্ফোরণের তীব্রতা আরও বাড়তে থাকায় সীমান্তজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেক মানুষ নির্ঘুম রাত কাটান।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন পর আবারও এত তীব্র বিস্ফোরণের শব্দ শুনে তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। বিস্ফোরণের শব্দে অনেক বাড়ির দরজা-জানালা কেঁপে ওঠে। হঠাৎ বিকট আওয়াজে শিশু, নারী ও বয়স্করা ভয় পেয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন। অনেকেই রাতভর জেগে থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
সবচেয়ে বেশি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় টেকনাফ সদর, হ্নীলা, হোয়াইক্যং, সাবরাং ও শাহপরীর দ্বীপসহ সীমান্তঘেঁষা বিভিন্ন এলাকায়। স্থানীয়দের ভাষ্য, কয়েক দফায় এত শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে যে পুরো সীমান্ত এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিস্ফোরণের শব্দ শোনার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন এবং স্বজনদের নিরাপদে থাকার আহ্বান জানান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডু অঞ্চলে আরাকান আর্মি ও সামরিক জান্তা বাহিনীর মধ্যে ব্যাপক গোলাগুলি চলছে। সংঘর্ষ চলাকালে ভারী অস্ত্রের পাশাপাশি বিমান হামলাও চালানো হয়। এসব হামলার বিস্ফোরণের শব্দ সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশের অভ্যন্তর পর্যন্ত পৌঁছে যায়। রাতভর থেমে থেমে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাওয়ায় সীমান্ত এলাকার মানুষেরমধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়।
সীমান্তের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠার পর বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সীমান্ত এলাকায় সতর্কতা জোরদার করেছে। সীমান্তজুড়ে অতিরিক্ত টহল পরিচালনা করা হচ্ছে এবং সম্ভাব্য যেকোনো অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও সার্বিক পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে।
এ পর্যন্ত বাংলাদেশের ভূখণ্ডে কোনো গোলা বা মর্টার শেল এসে পড়ার খবর পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে কোনো হতাহত বা সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির ঘটনাও নিশ্চিত হয়নি। সীমান্তের সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই জানান, অতীতের বিভিন্ন সংঘর্ষের সময় মিয়ানমার থেকে ছোড়া মর্টার শেল বাংলাদেশের ভেতরে এসে পড়ার ঘটনা ঘটেছিল। সেই অভিজ্ঞতার কারণে নতুন করে বিস্ফোরণের শব্দ শুরু হওয়ার পর সীমান্তজুড়ে আতঙ্ক আরও বেড়ে যায়। অনেকে রাতেই আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিরাপত্তার খোঁজখবর নেন।
রাখাইন রাজ্যে সাম্প্রতিক সময়ে আরাকান আর্মি ও সামরিক বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ আরও তীব্র হয়েছে। বিশেষ করে মংডু ও আশপাশের এলাকায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রায়ই ভারী অস্ত্রের ব্যবহার, গোলাবর্ষণ এবং বিমান হামলার ঘটনা ঘটছে। এর ফলে সীমান্তসংলগ্ন পুরো এলাকায় অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
সীমান্তের বর্তমান পরিস্থিতিকে ঘিরে বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সীমান্তে নিয়োজিত সদস্যদের টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং পরিস্থিতির যেকোনো পরিবর্তনের ওপর নিবিড় নজর রাখা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।
সীমান্ত এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক থাকলেও এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের ভেতরে কোনো ধরনের সরাসরি সংঘর্ষ বা নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেনি। তবে রাতভর বিস্ফোরণের শব্দে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে। অনেক পরিবার শিশু ও বয়স্ক সদস্যদের নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে রাত কাটিয়েছে।
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডু এলাকায় আরাকান আর্মি ও সামরিক জান্তা বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ অব্যাহত ছিল। রাতভর বিস্ফোরণের শব্দে টেকনাফ সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও বাংলাদেশের ভূখণ্ডে কোনো গোলা পড়া, হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা নিশ্চিত হয়নি। সীমান্তের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreযুক্তরাজ্যের ডনকাস্টারে তিন বছরের এক শিশুর জরুরি ফোনে সম্ভাব্যভাবে প্রাণে বেঁচেছেন তার মা। বাড়িতে মা অচেতন হয়ে পড়ে যাওয়ার পর শিশুটি শান্ত থেকে জরুরি নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে। পরে ফোনের অপর প্রান্তে থাকা পুলিশকর্মীর সৃজনশীল নির্দেশনায় মা ধীরে ধীরে জ্ঞান ফিরে পান। শিশুটির নাম জেমস। তার মা ২৮ বছর বয়সী জর্জিয়া হঠাৎ রক্তচাপ কমে যাওয়া এবং তীব্র পানিশূন্যতার কারণে অচেতন হয়ে মেঝেতে পড়ে যান। এ সময় বাড়িতে থাকা জেমস পরিস্থিতি বুঝে জরুরি নম্বরে ফোন করে। ফোনটি ধরেন দক্ষিণ ইয়র্কশায়ার পুলিশের জরুরি কল গ্রহণকারী জেন। তিন বছরের শিশুর সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে যোগাযোগ করা কঠিন বুঝতে পেরে তিনি তাকে ভয় না দেখিয়ে শান্ত রাখার চেষ্টা করেন। জেন জানান, শিশুটিকে শান্ত রেখে প্রয়োজনীয় কাজটি বোঝানোর উপায় খুঁজে বের করাই ছিল তার প্রধান লক্ষ্য। জেন সরাসরি এমন কোনো নির্দেশনা না দিয়ে, যা শিশুটিকে ভয় পাইয়ে দিতে বা বিভ্রান্ত করতে পারে, পরিস্থিতিকে খেলায় পরিণত করেন। তিনি জেমসকে তার মাকে জাগানোর চেষ্টা করতে গায়ে সুড়সুড়ি দিতে বলেন। এক মিনিটের মধ্যেই এই কৌশল কাজে আসে এবং জর্জিয়া ধীরে ধীরে জ্ঞান ফিরে পান। জরুরি কল গ্রহণকারী জেন বলেন, এই ফোনটি তার জন্য আলাদা ছিল। তার মতে, শান্ত থাকা, সৃজনশীলভাবে চিন্তা করা এবং ফোনের অপর প্রান্তে থাকা ব্যক্তির সঙ্গে পরিস্থিতি অনুযায়ী যোগাযোগ করার বিষয়টি এ ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। জর্জিয়া জানান, জেমস সম্ভাব্যভাবে তার জীবন বাঁচিয়েছে, কারণ তিনি জানতেন না কতক্ষণ অচেতন অবস্থায় থাকতে হতো। জ্ঞান ফেরার পর তিনি খুবই অসুস্থ বোধ করছিলেন। তবে ফোনের অপর প্রান্তে থাকা পুলিশকর্মী তাকে শান্ত করতে সক্ষম হন। জেমসের জরুরি ফোন করার এই জ্ঞান কয়েক মাস আগেই তাকে শেখানো হয়েছিল। পরিবারের সদস্যরা শেফিল্ডের জরুরি সেবা জাদুঘরে যাওয়ার পর জর্জিয়া ও তার স্বামী জেক তাকে জরুরি ফোন করার পদ্ধতি শেখান। সেই শেখানো বিষয়টিই পরে সংকটের মুহূর্তে কাজে লাগে। ঘটনার পর পুলিশ সদস্য জর্ডান কাসিম ও শার্লট রাইট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে জর্জিয়ার অবস্থা পরীক্ষা করেন। সাহসী শিশুটিকে পুরস্কৃত করতে কর্মকর্তারা তাকে একটি আসল পুলিশ গাড়ির ভেতরে বসার সুযোগ দেন এবং একটি খেলনা হেলিকপ্টার উপহার দেন। জর্জিয়া বলেন, জেমস যে এমন পরিস্থিতি বুঝতে পেরে জরুরি পদক্ষেপ নিতে পেরেছে, তা এখনো তাদের বিশ্বাস হচ্ছে না। তিনি আশা করেন, এই ঘটনা অন্য অভিভাবকদেরও ছোট বয়স থেকেই সন্তানদের জরুরি ফোন করার পদ্ধতি শেখাতে উৎসাহিত করবে। জর্জিয়ার মতে, শিশুদের অল্প বয়সেই জরুরি পরিস্থিতিতে ফোন করার বিষয়ে শেখানো গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সংকটের মুহূর্তে এই জ্ঞান জীবন রক্ষায় কাজে লাগতে পারে।
মানব পাচারকারীদের মুখোশ খুলে বিপদে সাংবাদিক, অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নিয়ে ছাড়লেন বাড়ি
ভিসার মেয়াদ শেষ হলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের দেশে ফিরতে হবে, জানালেন আলবার্টার প্রিমিয়ার
গাজায় দুই ভবনের ধ্বংসস্তূপে মিলল ২১ ফিলিস্তিনির কঙ্কাল, খোঁজ নেই আরও ৪০ জনের
কাতারে গত ছয় মাস ধরে তিন ইরানি সামরিক পাইলট বন্দি রয়েছেন বলে দাবি করেছে ইরানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘ইরান ইন্টারন্যাশনাল’। বন্দি এসব পাইলটকে তাদের পরিবারের সদস্য কিংবা কোনো ইরানি কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের বিন্দুমাত্র সুযোগ দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) ইরান ইন্টারন্যাশনালের বরাতে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্ট এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে। ইরানি সূত্রের দাবি অনুযায়ী, গত মার্চ মাসে কাতারের একটি সামরিক ঘাঁটিতে অভিযান চালানোর সময় ইরানের রুশ নির্মিত সুখোই সু-২৪ যুদ্ধবিমানটি ভূপাতিত হয়। তেহরানের দাবি, ওই সময় তারা কাতারের একটি ‘শত্রু সামরিক ঘাঁটি’ লক্ষ্য করে অভিযান চালাচ্ছিলেন। এরপরই ওই তিন পাইলট কাতারি বাহিনীর হাতে আটক হন। নিখোঁজ এই পাইলটদের নাম জাভাদ সালেহি, আবদোলমাজিদ দাশতিয়ান ও ওমরান বেহরাভেশিয়ান। তাদের মুক্তিতে সহায়তা চেয়ে আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটির (আইসিআরসি) প্রেসিডেন্ট মিরজানা স্পোলিয়ারিচ এগারের কাছে ইতোমধ্যে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর নিখোঁজ সদস্যবিষয়ক কমিটির প্রধান মোহাম্মদ বাঘেরজাদেহ। চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেছেন, আটকের পর থেকে এখন পর্যন্ত দীর্ঘ সময়ে ওই তিন পাইলটকে কারও সঙ্গে যোগাযোগের অনুমতি দেওয়া হয়নি। এই আটকের বিষয়ে কাতারি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য বা নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। তবে এর আগে মাজিদ কাজেমি নামে আরেক ইরানি পাইলটকে কাতারের বিরুদ্ধে পরিচালিত একটি সামরিক অভিযানের পর দেশে ফিরিয়ে আনার কথা জানিয়েছিলেন ইরানি কর্মকর্তারা। এদিকে, তিন ইরানি পাইলটের বন্দি থাকার এই খবর এমন এক স্পর্শকাতর সময়ে সামনে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনার বিষয়ে তেহরান ও দোহার মধ্যে নিবিড় যোগাযোগ চলছে। শনিবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে কাতার ও পাকিস্তানের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান করছে ইরান। যদিও একে আনুষ্ঠানিক আলোচনা হিসেবে দেখতে নারাজ তিনি। একইসঙ্গে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে যুক্তরাষ্ট্রকে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণের কথাও স্মরণ করিয়ে দেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। মার্কিন-ইরান কূটনৈতিক তৎপরতার এই আবহে পাইলটদের দীর্ঘ সময় বন্দি থাকার বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
মার্কিন হামলায় ব্যাপক ক্ষতির পরও যুক্তরাষ্ট্রকে ‘হাঁটু গেড়ে বসাতে’ পেরেছে ইরান: আইআরজিসি
অরুণাচল ইস্যুতে চীনের অবস্থান আরও জোরালো, ২৭ স্থানের নাম বদলে নড়েচড়ে বসেছে দিল্লি
অস্কারে যাচ্ছে গাজার যু দ্ধবিধ্বস্ত মানুষের জীবনসংগ্রাম নিয়ে নির্মিত তথ্যচিত্র ‘হু ইজ স্টিল অ্যালাইভ’
দুই দশক ধরে বয়স্ক পুরুষদের বিয়ে করে ওষুধ ও বিষাক্ত পদার্থ প্রয়োগে হত্যার অভিযোগ; সম্পদ ও দেনমোহরের অর্থ হাতিয়ে নেওয়াই ছিল সম্ভাব্য উদ্দেশ্য ইরানে একাধিক স্বামীকে হত্যার দায়ে ৫৬ বছর বয়সী এক নারীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই নারী অন্তত ১০ জন স্বামীকে হত্যার ঘটনায় জড়িত এবং দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ধারাবাহিকভাবে এসব হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। ইরানি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে ওই নারীর নাম কোলথুম আকবারি। বয়স্ক পুরুষদের ধারাবাহিকভাবে বিয়ে করে হত্যার অভিযোগে তাকে ইরানের ‘ব্ল্যাক উইডো’ নামে অভিহিত করা হচ্ছে। মাজানদারান প্রদেশের কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, আকবারি তার একাধিক স্বামীকে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ, ঘুমের ওষুধ এবং শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত অ্যালকোহল প্রয়োগ করে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। নিহতদের মধ্যে অধিকাংশই ছিলেন বয়স্ক পুরুষ। কর্তৃপক্ষের ধারণা, হত্যাকাণ্ডের পেছনে মূল উদ্দেশ্য ছিল অর্থ ও সম্পদ হাতিয়ে নেওয়া। অভিযোগ অনুযায়ী, স্বামীদের কাছ থেকে সোনা, নগদ অর্থ এবং বিয়ের সময় দেওয়া অন্যান্য সম্পদ নেওয়ার পর তাদের হত্যা করা হতো। আকবারির বিরুদ্ধে তদন্ত আরও জোরালো হয় ২০২৩ সালে ৮২ বছর বয়সী স্বামী গোলামরেজা বাবায়ির মৃত্যুর পর। মৃত্যুর আগে তিনি পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছিলেন, আকবারি তাকে নিয়মিত ওষুধ খেতে বাধ্য করছেন। এর কিছুদিন পরই তার মৃত্যু হয়। তদন্তের একপর্যায়ে আকবারিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি একাধিক হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন বলে ইরানি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এক পর্যায়ে তিনি কতজনকে হত্যা করেছেন, তা নির্দিষ্টভাবে মনে করতে না পারার কথাও জানান। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নিহতের সংখ্যা ১৩ থেকে ১৫ জন পর্যন্ত হতে পারে। অভিযোগ অনুযায়ী, আকবারি ইরানে প্রচলিত ‘সিগেহ’ বা অস্থায়ী বিবাহব্যবস্থা ব্যবহার করে বয়স্ক পুরুষদের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করতেন। এসব চুক্তিভিত্তিক বিবাহে দেনমোহর বা আর্থিক লেনদেনের সুযোগ থাকায় তিনি সম্ভাব্যভাবে সেখান থেকেও অর্থনৈতিক সুবিধা নিতেন বলে তদন্তকারীরা ধারণা করছেন। তদন্তকারীদের মতে, বিভিন্ন শহরের বয়স্ক পুরুষদের লক্ষ্যবস্তু বানানোর কারণে ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডগুলো দীর্ঘ সময় ধরা পড়েনি। একেকটি ঘটনা ভিন্ন এলাকায় ঘটায় হত্যাকাণ্ডগুলোর মধ্যে যোগসূত্র খুঁজে বের করাও কঠিন হয়ে পড়ে। আদালত ১০টি হত্যাকাণ্ডের জন্য ১০টি পৃথক মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। পাশাপাশি হত্যাচেষ্টার একটি মামলায়ও তাকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইরানের আইন অনুযায়ী, হত্যার ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবার প্রতিশোধমূলক শাস্তি বা ‘কিসাস’ দাবি করতে পারে। জানা গেছে, নিহতদের ১০টি পরিবার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দাবি জানিয়েছে। অন্যদিকে অন্তত একটি পরিবার মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে ‘দিয়াহ’ বা রক্তপণ গ্রহণে সম্মতি দিয়েছে। তবে মৃত্যুদণ্ডের রায় এখনই কার্যকর হচ্ছে না। ভুক্তভোগীদের পরিবারকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বা অন্য আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ইরানে মৃত্যুদণ্ড সাধারণত ফাঁসির মাধ্যমে কার্যকর করা হয়। দেশটিতে মৃত্যুদণ্ডের ব্যবহার নিয়ে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ জানিয়ে আসছে। আকবারির মামলাটি অবশ্য রাজনৈতিক বন্দিদের মৃত্যুদণ্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো মূলত ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ড ও হত্যাচেষ্টাকে কেন্দ্র করে। ইরানে এর আগেও নারী সিরিয়াল হত্যাকারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। মাহিন কাদিরি নামে এক নারীকে পাঁচজন নারীকে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করার পর ২০০৬ সালে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল।
দীর্ঘ সময় হেয়ারড্রায়ারের তাপের ফলে তিন মাসের মেয়ের মৃত্যু, দানব মায়ের ছয় বছরের জেল
কারাগারে সারা শরিফের বাবার ওপর হামলা, দুই বন্দির বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ