পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে গঠিত জোটে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন যোগ দিয়েছে। এতে মোট ২২টি দেশ এই উদ্যোগে সমর্থন জানিয়েছে। খবরটি জানিয়েছে ইউরঅ্যাক্টিভ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের প্রায় এক-চতুর্থাংশ তেল এবং সমুদ্রপথে পরিবাহিত গ্যাসের এক-পঞ্চমাংশ এই সংকীর্ণ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। তিন সপ্তাহ আগে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরান প্রণালিটি কার্যত বন্ধ করে দিলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়। প্রথমে বৃহস্পতিবার ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, ইতালি, নেদারল্যান্ডস ও জাপান যৌথ বিবৃতি দেয়, যেখানে ইরানের হরমুজ প্রণালি ‘কার্যত বন্ধ’ করে দেওয়ার নিন্দা করা হয়। পরবর্তীতে কানাডা, দক্ষিণ কোরিয়া, নিউজিল্যান্ড, ডেনমার্ক, লাটভিয়া, স্লোভেনিয়া, এস্তোনিয়া, নরওয়ে, সুইডেন, ফিনল্যান্ড, চেক প্রজাতন্ত্র, রোমানিয়া, লিথুয়ানিয়া ও অস্ট্রেলিয়া এ বিবৃতিতে সমর্থন জানায়। যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, উপসাগরে নিরস্ত্র বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের সাম্প্রতিক হামলার তীব্র নিন্দা জানাই। দেশগুলো মনে করিয়ে দিয়েছে, ইরানের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি এবং এর প্রভাব বিশ্বজুড়ে পড়বে। তারা নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে যথাযথ উদ্যোগে অংশ নেবে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান বিষয়ে সরাসরি কিছু বলা হয়নি। সব পক্ষকে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার আহ্বানও জানানো হয়েছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ন্যাটো মিত্রদের সমালোচনা করে বলেন, তারা সেনা পাঠাতে অনাগ্রহ দেখিয়ে ‘ভীরুতা’ প্রদর্শন করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের লক্ষ্য অর্জনের খুব কাছাকাছি এবং সামরিক অভিযান ধীরে ধীরে গুটিয়ে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী অন্যান্য দেশগুলোকেই এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে-যুক্তরাষ্ট্র নয়।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ধারাবাহিক সামরিক অভিযানে ইরানের শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বে বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া হামলাগুলোতে দেশটির ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি নিহত হয়েছেন, যা ইরানের রাষ্ট্রীয় কাঠামোর জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই হামলায় নিহতদের মধ্যে রয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা Ali Khamenei। ১৯৮৯ সাল থেকে দায়িত্ব পালন করা এই প্রভাবশালী নেতা তেহরানে নিজ বাসভবনে বিমান হামলায় নিহত হন। তার মৃত্যু ইরানের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতৃত্বে গভীর সংকট তৈরি করেছে বলে বিশ্লেষকদের মত। একই দিনে পৃথক হামলায় নিহত হন ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর প্রধান মোহাম্মদ পাকপুর এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ। এছাড়া সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান আবদোলরহিম মুসাভিও তেহরানে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক চলাকালে হামলায় প্রাণ হারান। খামেনির ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা আলি শামখানিও ওই হামলায় নিহত হন, যিনি দেশটির পারমাণবিক ও নিরাপত্তা নীতির গুরুত্বপূর্ণ কারিগর ছিলেন। মার্চ মাসেও হামলার ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকে। ১৭ মার্চ পারদিস এলাকায় বিমান হামলায় নিহত হন শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানি। একই ঘটনায় তার ছেলে ও এক সহযোগীও প্রাণ হারান। একই দিনে বাসিজ বাহিনীর প্রধান গোলামরেজা সোলেইমানিও নিহত হন। সবশেষ বুধবার (১৮ মার্চ) হামলায় নিহত হন গোয়েন্দামন্ত্রী ইসমাইল খাতিব, যিনি দেশের গোয়েন্দা কার্যক্রমের অন্যতম প্রধান নিয়ন্ত্রক ছিলেন এবং শীর্ষ নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বিশ্লেষকদের মতে, এত স্বল্প সময়ে ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের এতজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির মৃত্যু দেশটির ইতিহাসে নজিরবিহীন। এতে শুধু অভ্যন্তরীণ প্রশাসন নয়, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি, জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে।
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে তিন দিন ধরে পাল্টাপাল্টি হামলা চলছে। ইসলামাবাদ দাবি করেছে, আফগানিস্তানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা এবং ‘সন্ত্রাসীদের’ ঘাঁটিতে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এই ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে পূর্ণমাত্রার সংঘাতের আশঙ্কা বাড়ছে। পাকিস্তানের রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত টেলিভিশন চ্যানেলের খবরে বলা হয়েছে, আফগানিস্তানের দক্ষিণের কান্দাহার প্রদেশে তালেবান ও পাকিস্তানে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানো গোষ্ঠীর বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। এছাড়া কান্দাহারের একটি সুড়ঙ্গকেও বিমান হামলার লক্ষ্য বানানো হয়েছে, যা তালেবান ও সন্ত্রাসীরা ব্যবহার করছিল বলে দাবি করা হয়েছে। পাকিস্তান সেনাবাহিনী জানিয়েছে, আফগান সরকার যতদিন পর্যন্ত পাকিস্তানের মূল নিরাপত্তা উদ্বেগগুলো সমাধান করবে না, তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। কান্দাহারের এক বাসিন্দা এএফপিকে জানিয়েছেন, শনিবার রাতে শহরের আকাশে যুদ্ধবিমান উড়তে দেখেছেন। বিস্ফোরণের শব্দ এবং ধোঁয়া দেখা গেছে। তিনি বলেন, “পর্বত অঞ্চলের ওপর দিয়ে একাধিক সামরিক বিমান উড়ে যায়। ওই এলাকার একটি সামরিক স্থাপনা বিস্ফোরিত হয়েছে।” তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ এএফপিকে জানিয়েছেন, পাকিস্তানের হামলায় কান্দাহারের একটি মাদকাসক্তি নিরাময়কেন্দ্র এবং খালি কনটেইনার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাকিস্তান যে সামরিক অবস্থানগুলো লক্ষ্য করেছিল, হামলার প্রকৃত এলাকা সেগুলো থেকে অনেক দূরে। এর আগে পাকিস্তান দাবি করেছিল, শুক্রবার রাতে আফগানিস্তানের তিনটি এলাকায় তারা ড্রোন হামলা চালিয়েছে। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি ওই হামলার প্রতিশোধ নেবার হুমকি দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাতেও আফগানিস্তানের সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে পাকিস্তান সেনাবাহিনী হামলা চালিয়েছিল। উল্লেখ্য, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান সর্বশেষ বড় সংঘাতে জড়িয়েছিল গত মাসে। তখন দুই পক্ষের মধ্যে প্রায় ৯৯ জন নিহত হয়েছিলেন। নিহতের মধ্যে পাকিস্তানে ১৩ সেনা ও ১ বেসামরিক, আর আফগানিস্তানে ১৩ সেনা ও ৭২ বেসামরিক ব্যক্তি ছিলেন।
ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘাতে নতুন করে হামলার ঘোষণা দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড। তারা জানিয়েছে, ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে ২৩তম দফার হামলা শুরু করা হয়েছে। শুক্রবার বাংলাদেশ সময় রাত প্রায় পৌনে ১২টার দিকে এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে এই হামলা পরিচালিত হচ্ছে। এর আগে গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিভিন্ন স্থানে সামরিক হামলা চালানোর পর পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সেই হামলার জবাবে ইরান ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ধারাবাহিক পাল্টা হামলা শুরু করে। বিপ্লবী গার্ডের সর্বশেষ ঘোষণার আগে ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র আসার খবরও পাওয়া যায়, যা অঞ্চলজুড়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলমান এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের আঞ্চলিক উত্তেজনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যে একটি সামরিক হামলার ভিডিও ঘিরে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। ভিডিওটি প্রকাশ করেছে Israel Defense Forces (আইডিএফ)। সেখানে দাবি করা হয়, ইরানের একটি Mil Mi-17 helicopterসহ কয়েকটি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। বুধবার (৪ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম X (Twitter)-এ প্রকাশিত ইনফ্রারেড ফুটেজে ওই হামলার দৃশ্য দেখানো হয়। তবে ভিডিওটি প্রকাশের পরপরই সামাজিক মাধ্যমে তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। অনেক ব্যবহারকারীর দাবি, ভিডিওতে যে লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করা হয়েছে সেটি প্রকৃত কোনো হেলিকপ্টার নয়; বরং মাটিতে আঁকা একটি হেলিকপ্টারের ছবি হতে পারে। তাদের যুক্তি, যদি এটি বাস্তব হেলিকপ্টার হতো, তাহলে হামলার পর এর কাঠামো বা পাখায় দৃশ্যমান পরিবর্তন হওয়ার কথা ছিল। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম NDTV জানিয়েছে, ভিডিওটি ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলছে। কেউ কেউ ইসরাইলি বাহিনীর গোয়েন্দা তথ্যের নির্ভুলতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তবে বিপরীত মতও রয়েছে। কিছু ব্যবহারকারী ভিডিওতে ধোঁয়ার গতিপথ ও তাপমাত্রার পার্থক্য বিশ্লেষণ করে বলছেন, এটি কোনো ভুয়া লক্ষ্যবস্তু নয়; বরং প্রকৃত সামরিক লক্ষ্যবস্তুতেই হামলা চালানো হয়েছে। এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি Israel Defense Forces। ফলে ঘটনাটি নিয়ে বিতর্ক আরও বাড়ছে। এদিকে Iran ও Israel-এর মধ্যে চলমান সংঘাতে উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার জবাবে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। শুক্রবার (৬ মার্চ) সকালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে Iranian Red Crescent Society জানিয়েছে, চলমান সংঘাতে ইরানে এখন পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ৩৩২ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। সংস্থাটির প্রেসিডেন্ট Pir Hossein Kolivand বলেন, সংঘাতের কারণে ৩ হাজার ৬৪৩টি বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৩ হাজার ৯০টি সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও নতুনভাবে ব্যাখ্যা দিয়েছেন, কেন ইরানে সামরিক হামলা চালানো হয়েছিল। তিনি জানিয়েছেন, ইসরাইল ইরানে আঘাত হানার জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিল এবং হামলা শুরু হলে তেহরানের পাল্টা আঘাতের লক্ষ্যবস্তু মার্কিন বাহিনী হতো। এই আশঙ্কা থেকেই ট্রাম্প প্রশাসন আগেভাগে ইরানে অভিযান শুরু করার সিদ্ধান্ত নেয়। ওয়াশিংটনে কংগ্রেসে অনুষ্ঠিত এক শুনানিতে রুবিও এসব কথা বলেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন সিআইএর পরিচালক জন র্যাটক্লিফ এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান ড্যান কেইন। রুবিও বলেন, ইসরাইল পদক্ষেপ নেবে—এটি আগেই জানা ছিল, তাই মার্কিন বাহিনীর ওপর হামলার ঝুঁকি এড়াতে আগে আঘাত করা প্রয়োজন ছিল। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ফক্স নিউজকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট এই লক্ষ্য না পূরণ হওয়া পর্যন্ত থামবেন না। তবে প্রশাসনের মধ্যে ভ্যান্স আগে ইরানে সামরিক হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করেছিলেন। সংঘাত শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিভিন্ন স্থানে বিমান হামলা চালিয়েছে। জবাবে তেহরান মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘনিষ্ঠ দেশগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে। এসব হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনিসহ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। মার্কিন পক্ষও ছয়জন সেনাসদস্যের মৃত্যুর কথা স্বীকার করেছে। ইরানের রেড ক্রিসেন্টের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে মৃতের সংখ্যা কমপক্ষে ৭৮৭ জন। এই ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে বিভাজন আরও স্পষ্ট হয়েছে। রিপাবলিকানরা ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করলেও ডেমোক্র্যাটরা এটিকে অপ্রয়োজনীয় সংঘাত বলে সমালোচনা করছেন। সিনেটে ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার বলেন, এটি ট্রাম্পের বেছে নেওয়া যুদ্ধ, যার শেষ করার পরিকল্পনা স্পষ্ট নয়। সিনেট ইন্টেলিজেন্স কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান মার্ক ওয়ার্নার উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ইসরাইল যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন জটিল যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলেছে। তিনি মনে করেন, ইরানের হুমকি মূলত ইসরাইলের প্রতি ছিল; যুক্তরাষ্ট্রের ওপর সরাসরি হুমকি হিসেবে ধরা হলে পরিস্থিতি অনিশ্চিত হয়ে যাবে। রুবিও বলেন, ইরানের ওপর হামলার মূল লক্ষ্য ছিল তাদের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ও নৌবাহিনী ধ্বংস করা। শুনানি শেষে মার্ক ওয়ার্নার মন্তব্য করেন, এই যুদ্ধের প্রকৃত লক্ষ্য ও সমাপ্তি পরিকল্পনা স্পষ্ট করা এবং প্রেসিডেন্টের কংগ্রেসের কাছে ব্যাখ্যা দেওয়া প্রয়োজন।
পাকিস্তান সম্প্রতি ‘অপারেশন গজব লিল হক’ নামে একটি বিশেষ সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে বলে জানিয়েছে। দেশটির দাবি, এই অভিযানে অন্তত ৪১৫ জন আফগান তালেবান সদস্য নিহত এবং ৫৮০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ–এর বরাতে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, অভিযানে ১৮২টি সীমান্ত চেকপোস্ট ধ্বংস করা হয়েছে এবং আরও ৩১টি চেকপোস্ট তাদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ১৮৫টি ট্যাংক, সাঁজোয়া যান ও আর্টিলারি অস্ত্র ধ্বংস করার কথাও জানানো হয়েছে। অভিযানের অংশ হিসেবে আফগানিস্তানের ৪৬টি স্থানে বিমান হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়। এই সামরিক অভিযানকে কেন্দ্র করে সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে পাকিস্তানের এসব দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। একইভাবে আফগান তালেবান–এর পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। বিশ্লেষকেরা বলছেন, সীমান্ত সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নতুন করে জটিলতা তৈরি হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আজ রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের নৌবাহিনীর ৯টি যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস করেছে। তার পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে, এই জাহাজগুলোর মধ্যে কিছু “বেশ বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ” ছিল। তিনি আরও লিখেছেন, “আমরা বাকিগুলোর পেছনেও লেগেছি তারা খুব শীঘ্রই সমুদ্রের তলদেশে যাবে। আলাদা একটি হামলায় তাদের নৌ-সদর দপ্তরও প্রায় সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছে। তবে তাদের নৌবাহিনী এখনও কার্যক্রম চালাচ্ছে।” এই ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক মহলে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে, এবং মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও সতর্ক নজরে রাখার প্রয়োজনীয়তা উঠেছে। সূত্র: আলজাজিরা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলায় ইরানের ৩১টি প্রদেশের মধ্যে অন্তত ২০টি প্রদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি। শনিবার সংস্থাটির মুখপাত্র মোজতবা খালেদি বলেন, এখন পর্যন্ত ২০টির বেশি প্রদেশ হামলার শিকার হয়েছে। এদিকে Abbas Araghchi বলেছেন, ইরানে চালানো ইসরায়েলি ও মার্কিন হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব স্থাপনা এখন দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি জানান, যেসব স্থান থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান পরিচালিত হয়েছে এবং ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়েছে—সেগুলোকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হবে। দক্ষিণাঞ্চলে একটি স্কুলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৫১ শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার খবরও প্রকাশ করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। মিনাব কাউন্টির গভর্নরের বরাতে জানানো হয়, সকালে একটি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়ে আঘাত হানে ক্ষেপণাস্ত্র। এতে আরও অন্তত ৬০ জন আহত হয়েছে। গত কয়েক মাস ধরে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনা সাম্প্রতিক হামলার পর সরাসরি সংঘাতে রূপ নিয়েছে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন। তেহরান জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করে তারা কঠোর জবাব দেবে এবং হামলায় সহায়তাকারী ঘাঁটিগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।