হলিউড

ছবি: সংগৃহীত
জনপ্রিয় মার্কিন অভিনে ম্যাথিউ পেরি মৃত্যু রহস্য: সাজা পাচ্ছেন ‘কেটামিন কুইন’

জনপ্রিয় মার্কিন সিটকম ‘ফ্রেন্ডস’-খ্যাত অভিনেতা ম্যাথিউ পেরির মৃত্যুর ঘটনায় বিশ্বজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছিল। সেই মৃত্যুর পেছনে জড়িত থাকার দায়ে অভিযুক্ত এবং হলিউডের মাদক সম্রাজ্ঞী হিসেবে পরিচিত জাসভীন সাঙ্ঘা, যাকে ‘কেটামিন কুইন’ বলা হয়, তার সাজা ঘোষণা হতে যাচ্ছে।  রয়টার্সসহ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ক্যালিফোর্নিয়ার একটি আদালত আজ (৮ এপ্রিল ২০২৬) এই আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা করতে পারেন। ঘটনার প্রেক্ষাপট: ২০২৩ সালের অক্টোবরে লস অ্যাঞ্জেলেসে নিজের বাড়িতে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় ৫৪ বছর বয়সী ম্যাথিউ পেরিকে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে জানানো হয়, তার শরীরে অতিমাত্রায় ‘কেটামিন’ (এক ধরনের চেতনানাশক মাদক) পাওয়া গিয়েছিল। তদন্তে উঠে আসে, পেরির এই মর্মান্তিক মৃত্যুর পেছনে কাজ করেছে একটি বড় মাদক সিন্ডিকেট, যার মূল হোতা ছিলেন ৪২ বছর বয়সী জাসভীন সাঙ্ঘা। অভিযোগ ও বিচার প্রক্রিয়া: আদালতের নথি অনুযায়ী, জাসভীন সাঙ্ঘা পেরিকে প্রাণঘাতী কেটামিন সরবরাহ করেছিলেন। গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে তিনি নিজের অপরাধ স্বীকার করে নেন। তার বিরুদ্ধে ড্রাগ ডিস্ট্রিবিউশন এবং ড্রাগ হাউজ পরিচালনার মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তে দেখা গেছে, সাঙ্ঘা তার লস অ্যাঞ্জেলেসের বাড়ি থেকে বছরের পর বছর ধরে তারকাদের কাছে মাদক বিক্রি করে আসছিলেন। সম্ভাব্য সাজা: আইনজীবীদের দাবি, জাসভীন সাঙ্ঘার কারণে কেবল ম্যাথিউ পেরি নন, বরং এর আগেও ২০১৯ সালে অন্য এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছিল। বর্তমান চার্জ অনুযায়ী, তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে। তবে প্রসিকিউটররা তার অপরাধের মাত্রা বিবেচনা করে দীর্ঘমেয়াদী জেল ও বিপুল পরিমাণ অর্থদণ্ডের আবেদন জানিয়েছেন। সহ-অভিযুক্তদের অবস্থা: ম্যাথিউ পেরি মৃত্যু মামলায় মোট পাঁচজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছিল। এর মধ্যে দুজন চিকিৎসক এবং পেরির ব্যক্তিগত সহকারীও রয়েছেন। এদের মধ্যে একজন চিকিৎসককে ইতিমধ্যে আড়াই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং বাকিরা বিভিন্ন মেয়াদে সাজার মুখে রয়েছেন। ম্যাথিউ পেরির কোটি কোটি ভক্ত এখন তাকিয়ে আছেন আদালতের এই রায়ের দিকে। বিশ্বজুড়ে মাদকের ভয়াবহতা এবং সেলিব্রিটিদের জীবনে এর নেতিবাচক প্রভাব এই মামলার মাধ্যমে আবারও সামনে এসেছে।   তথ্যসূত্র: রয়টার্স ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের কারণে আমেরিকা ছাড়ার হিড়িক হলিউড তারকাদের

আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতির কারণে বিশ্ব তারকাদের মিলনকেন্দ্র হিসাবে পরিচিত হলিউড ছাড়তে শুরু করেছেন বহু তারকা। এবার সেই যাত্রায় নাম লেখালেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী ক্রিস্টেন স্টুয়ার্ট। তিনি জানিয়েছেন, ট্রাম্পের শাসনামলে যুক্তরাষ্ট্রে আর স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছেন না, তাই তিনি ইউরোপে পাড়ি জমানোর কথা ভাবছেন।    এর আগে এলেন অভিনেতা ডিজেনারেস ও তার স্ত্রী পোর্শিয়া ডি রোসি এবং জর্জ ও আমাল ক্লুনির মতো নামি দামি আরও বেশ কয়েকজন তারকাও রাজনৈতিক ও সৃজনশীল উদ্বেগের কারণে ইতিমধ্যেই আমেরিকা ছেড়েছেন বা ছাড়ার পরিকল্পনা করছেন।       নিজের মতা প্রকাশে ক্রিস্টেন স্টুয়ার্ট কখনোই পিছিয়ে থাকেননি। ‘টোয়াইলাইট’ খ্যাত এই অভিনেত্রীর সাম্প্রতিক মন্তব্য হলিউড তারকাদের আমেরিকা ত্যাগের এক অনিবার্য গণমিছিলেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।    অস্কার মনোনীত এই তারকা সম্প্রতি প্রকাশ করেছেন, তিনি হয়তো আর যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করবেন না। এর পেছনে তিনি ক্রমবর্ধমান এক সীমাবদ্ধ পরিবেশের কথা উল্লেখ করেছেন, যা তার কাজ করার স্বাধীনতাকে ব্যাহত করছে। স্টুয়ার্টের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন অনেক প্রখ্যাত তারকা আমেরিকাকে বিদায় জানিয়ে ইউরোপে থিতু হচ্ছেন। তার এই অবস্থান হলিউডের সাথে শিল্পীদের সম্পর্কের পুনর্বিবেচনার তালিকায় নতুন মাত্রা যোগ করল।   সম্প্রতি ‘দ্য টাইমস অফ লন্ডন’-কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে স্টুয়ার্ট স্বীকার করেছেন, ট্রাম্পের বর্তমান নীতির কারণে তিনি সম্ভবত আর যুক্তরাষ্ট্রে থাকছেন না। তিনি বলেন, ট্রাম্পের অধীনে বাস্তবতা পুরোপুরি ভেঙে পড়ছে। আমাদের উচিত এমন এক বাস্তবতা তৈরি করা যেখানে আমরা বাস করতে চাই।     সরাসরি যখন তাকে জিজ্ঞেস করা হয় তিনি যুক্তরাষ্ট্রে থাকবেন কি না, ‘স্পেন্সার’ খ্যাত এই তারকা অকপটে জবাব দেন, সম্ভবত না। আমি সেখানে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছি না।    তবে তিনি স্পষ্ট করেন, আমেরিকান সিনেমা পুরোপুরি ছেড়ে দেয়ার পরিকল্পনা তার নেই। বরং তিনি ইউরোপে চলচ্চিত্র নির্মাণ করে তা মার্কিন দর্শকদের সামনে নিয়ে আসতে চান। তার ভাষায়, তিনি সিনেমাগুলো আমেরিকানদের গলার ভেতর দিয়ে নামিয়ে দিতে চান।   ট্রাম্পের সাথে স্টুয়ার্টের অস্বস্তি অবশ্য নতুন কিছু নয়। ২০১২ সালে প্রাক্তন এই প্রেসিডেন্ট স্টুয়ার্টের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সামাজিক মাধ্যম এক্সে বারবার পোস্ট করেছিলেন এবং তার তৎকালীন প্রেমিক রবার্ট প্যাটিনসনকে বিচ্ছেদের পরামর্শ দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ‘ভ্যারাইটি’র এক সাক্ষাৎকারে স্টুয়ার্ট ট্রাম্পকে তার প্রতি ‘মোহাবিষ্ট’ বলে অভিহিত করেছিলেন।       ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর স্টুয়ার্ট এখন সেই ক্রমবর্ধমান তালিকায় যুক্ত হলেন যারা আমেরিকা ছাড়ছেন। এলেন ডিজেনারেস এবং তার স্ত্রী পোর্শিয়া ডি রোসি স্থায়ীভাবে যুক্তরাজ্যে চলে গেছেন। রোজি ও’ডোনেলও আমেরিকা ত্যাগ করেছেন।    ‘অ্যাভাটার’ নির্মাতা জেমস ক্যামেরন, যিনি তার ফ্র্যাঞ্চাইজির কাজের জন্য নিউজিল্যান্ডে চলে গেছেন, জানিয়েছেন তার যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার সম্ভাবনা কম। তিনি রসিকতা করে বলেন, তিনি সেখানে প্রাকৃতিক দৃশ্যের জন্য যাননি, গিয়েছেন নিজের মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতে।     অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ‘গেম অফ থ্রোনস’ অভিনেত্রী সোফি টার্নার রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে যুক্তরাজ্যে ফিরে গেছেন। জর্জ ও আমাল ক্লুনি ফরাসি নাগরিকত্ব পাওয়ার পর নিশ্চিত করেছেন, তারা আমেরিকা ছাড়ছেন।    এদিকে ‘হাউস অফ কার্ডস’ তারকা রবিন রাইট যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে দেশ ছেড়েছেন এবং আমেরিকার বর্তমান পরিস্থিতিকে একটি ‘বিশৃঙ্খলা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। হলিউডের নামি তারকাদের এভাবে আমেরিকা ছাড়ার হিড়িক দেখে মনে হচ্ছে, অনেকেই হয়ত খ্যাতির মোহ ত্যাগ করে শান্তি ও মানসিক সুস্থতার খোঁজে অচিরেই বিদেশের মাটিতে আশ্রয় নেবেন।

ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ২৭, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

Top week

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ৩, ২০২৬ 0