যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি নিজের মৃত্যু নিয়ে দেওয়া এক মন্তব্যে ঘনিষ্ঠ মহল ও রাজনৈতিক মিত্রদের মধ্যে বিস্ময় ও অস্বস্তির সৃষ্টি করেছেন। নিউইয়র্ক ম্যাগাজিনে প্রকাশিত এক দীর্ঘ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৭৯ বছর বয়সী ট্রাম্প ফ্লোরিডার মার-এ-লাগোতে এক ঘনিষ্ঠ আড্ডায় শান্ত ভঙ্গিতে ধারণা প্রকাশ করেন—আগামী ১০ বছরের মধ্যেই তাঁর মৃত্যু হতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটে এমন সময়, যখন টেলিভিশনে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের কফিন ক্যাপিটল হিলে প্রদর্শনের দৃশ্য দেখানো হচ্ছিল। সে সময় কক্ষে উপস্থিত অতিথিদের উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, ‘জানো তো, দশ বছরের মধ্যেই সেটা আমি হব।’
ট্রাম্পের এই মন্তব্যে উপস্থিত ব্যক্তিরা হতবাক হয়ে যান বলে জানিয়েছেন বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এক ব্যক্তি। তাঁর মতে, ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ঘিরে ট্রাম্পের সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে চলমান আলোচনার মধ্যে এ বক্তব্য ‘মৃত্যুচিন্তার ছায়া’ ফেলেছে।
নিউইয়র্ক ম্যাগাজিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হোয়াইট হাউসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, ২০২৮ সালের নির্বাচন নিয়ে আলোচনায় মাঝেমধ্যেই ট্রাম্পের মৃত্যুর প্রসঙ্গ উঠে আসে—বিশেষ করে তিনি আদৌ আরেকটি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কি না, কিংবা আগ্রহী থাকবেন কি না, তা নিয়ে।
তবে ট্রাম্প নিজে বারবার দাবি করে আসছেন, ক্ষমতায় থাকাই তাঁকে সক্রিয় ও উদ্যমী রাখে। বয়স বা শারীরিক দুর্বলতার প্রসঙ্গ উপেক্ষা করে তিনি তৃতীয় এমনকি কার্যত চতুর্থ মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার সম্ভাবনার কথাও ইঙ্গিতপূর্ণভাবে তুলে ধরেছেন—যদিও মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী দুই মেয়াদের বেশি ক্ষমতায় থাকার সুযোগ নেই।
অন্যদিকে, তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের হাতে কালচে দাগ, প্রকাশ্যে ঘন ঘন তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়া এবং ওয়াল্টার রিড সামরিক হাসপাতালে এক রহস্যজনক এমআরআই পরীক্ষার বিষয়টি নিয়ে হোয়াইট হাউসকে ব্যাখ্যা দিতে হিমশিম খেতে হয়েছে। সাবেক হোয়াইট হাউস আইনজীবী টাই কব মন্তব্য করেছেন, ট্রাম্পের মানসিক অবস্থার অবনতি এখন স্পষ্টভাবে অনুভূত হচ্ছে। পাশাপাশি এক চিকিৎসকের বরাতে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ট্রাম্প প্রতিদিন যে মাত্রার অ্যাসপিরিন গ্রহণ করেন, তা সাধারণত স্ট্রোক রোগীদের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
সব মিলিয়ে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মহলে এক ধরনের দ্বৈত বাস্তবতা তৈরি হয়েছে—একদিকে তিনি মৃত্যু, উত্তরাধিকার ও স্মৃতি নিয়ে কথা বলছেন, অন্যদিকে নিজেকে এমন এক অতিমানবীয় নেতা হিসেবে উপস্থাপন করছেন, যিনি বয়স ও সময়—উভয়কেই অতিক্রম করতে সক্ষম।
এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করা হলেও এখন পর্যন্ত হোয়াইট হাউস কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
ইরানের সঙ্গে প্রস্তাবিত শান্তি আলোচনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আলোচনায় বসতে গিয়ে ইরানিরা যদি কোনো ধরনের ‘চালাকি’ বা কৌশল করার চেষ্টা করে, তবে ওয়াশিংটন তাতে কোনো ইতিবাচক সাড়া দেবে না। শনিবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে নির্ধারিত বৈঠকে যোগ দিতে রওয়ানা হওয়ার পথে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। জেডি ভ্যান্স বলেন, "ইরানিরা যদি আন্তরিকভাবে এবং খোলা মনে আলোচনা করতে চায়, তবে আমরা অবশ্যই প্রস্তুত। কিন্তু তারা যদি কোনো রাজনৈতিক চাল বা কৌশল অবলম্বন করার চেষ্টা করে, তবে আমরা সেই পথে হাঁটব না।" তিনি আরও যোগ করেন যে, এই আলোচনার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত ‘স্পষ্ট নির্দেশনা’ দিয়েছেন এবং ট্রাম্প প্রশাসন এই আলোচনার ফলাফলের অপেক্ষায় উন্মুখ হয়ে আছে। ভ্যান্সের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ শর্ত দিয়েছেন যে—লেবাননে যুদ্ধবিরতি এবং ইরানের জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত না করা পর্যন্ত কোনো আলোচনা হবে না। একদিকে ইরানের কঠোর শর্ত এবং অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এই হুঁশিয়ারি—সব মিলিয়ে ইসলামাবাদের বৈঠকটি ঘিরে চরম অনিশ্চয়তা ও বিশ্ব রাজনীতির নজর এখন পাকিস্তানের দিকে।
ইরানকে ঘিরে বিতর্কিত বক্তব্যের জেরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–কে অপসারণের দাবি জোরালো করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাট দলীয় নেতারা। তবে কংগ্রেসে প্রয়োজনীয় সমর্থন না থাকায় এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। মার্কিন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ৭০ জনের বেশি ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা ট্রাম্পকে পদ থেকে সরানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। কেউ ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়া শুরু করার কথা বলছেন, আবার কেউ সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগের দাবি তুলেছেন। ডেলাওয়্যারের প্রতিনিধি সারা ম্যাকব্রাইড বলেন, একজন প্রেসিডেন্ট কখনোই সামরিক শক্তি ব্যবহার করে গণহত্যার হুমকি দিতে পারেন না। একইভাবে নিউজার্সির সিনেটর অ্যান্ডি কিম মন্তব্য করেন, ট্রাম্প ‘কমান্ডার ইন চিফ’ হিসেবে দায়িত্ব পালনের যোগ্য নন। এদিকে মিশিগানের প্রতিনিধি শ্রী থানেদার ভাইস প্রেসিডেন্ট ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের কাছে চিঠি দিয়ে ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন। কানেক্টিকাটের প্রতিনিধি জন লার্সন ইতিমধ্যে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাবও দাখিল করেছেন। তবে বাস্তবতা হলো, কংগ্রেসে এই উদ্যোগ সফল হওয়ার মতো সমর্থন ডেমোক্র্যাটদের হাতে নেই। হাউস মাইনরিটি লিডার হাকিম জেফ্রিস বলেছেন, এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সিনেট মাইনরিটি লিডার চাক শুমারও সরাসরি সমর্থন দেননি। বর্তমানে হাউস ও সিনেট—দুই কক্ষেই রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ থাকায় ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া কঠিন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। এ অবস্থায় ডেমোক্র্যাটরা বিকল্প হিসেবে ‘ওয়ার পাওয়ার রেজোলিউশন’ পাসের মাধ্যমে ইরান ইস্যুতে প্রেসিডেন্টের সামরিক ক্ষমতা সীমিত করার চেষ্টা করছেন। বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারলে ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নিতে পারেন। এর মধ্যে ইরানকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক উত্তেজনা ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ দুই দিক থেকেই চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছেন ট্রাম্প।
যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলিনার ডারহামে এক অভিবাসী পরিবার হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরে জানা যায়, ওই পরিবারের দুই স্কুলপড়ুয়া শিশুসহ বাবা-মাকে আটক করে দ্রুত হন্ডুরাসে ডিপোর্ট করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয় কমিউনিটি ও অভিবাসন অধিকারকর্মীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অধিকারকর্মীদের মতে, ১১ বছর বয়সী জেনেসিস ও ৬ বছর বয়সী ডেনিস তাদের বাবা-মায়ের সঙ্গে নিয়মিত অভিবাসন চেক-ইন অ্যাপয়েন্টমেন্টে অংশ নিতে গিয়েছিল। কিন্তু সেই অ্যাপয়েন্টমেন্ট থেকেই তারা আর ফিরে আসেনি। পরিবারের এক স্বজন বাইরে অপেক্ষা করছিলেন, পরে এক ফেডারেল কর্মকর্তার ফোনে জানতে পারেন, পরিবারটিকে আটক করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, কোনো পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই পরিবারটিকে দ্রুত আটক করে মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হন্ডুরাসে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় স্কুল কমিউনিটি ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো এটিকে “অন্যায় ও অমানবিক” বলে আখ্যা দিয়েছে এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছে। অভিবাসী অধিকার সংগঠন সিম্বরা নর্থ ক্যারোলিনা জানায়, পরিবারটি ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রে এসে আশ্রয়ের আবেদন করেছিল এবং নিয়ম অনুযায়ী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিল। সংগঠনটির এক প্রতিনিধি বলেন, “সব নিয়ম মেনে চলার পরও এভাবে একটি পরিবারকে হঠাৎ করে তুলে নিয়ে ডিপোর্ট করা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং এটি অভিবাসীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।” তবে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিবারটির বিরুদ্ধে আগে থেকেই আদালতের চূড়ান্ত বহিষ্কারাদেশ ছিল এবং তাদের কোনো চলমান আশ্রয় আবেদন ছিল না। তারা দাবি করেছে, আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই পরিবারটিকে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতি ও এর প্রয়োগ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের জড়িয়ে এমন ঘটনার কারণে মানবাধিকার ও ন্যায়বিচার নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে।