আমেরিকা

ইরান ‘সৎভাবে’ এগোলে সহযোগিতার হাত বাড়াবে যুক্তরাষ্ট্র: জেডি ভ্যান্স

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: এপ্রিল ৯, ২০২৬ ২১:২৮
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স | ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স | ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানে অনুষ্ঠিতব্য বহুল আলোচিত শান্তি বৈঠকের আগে ইতিবাচক তবে সতর্ক বার্তা দিলেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। এয়ার ফোর্স টু-তে ওঠার আগে সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানান, ইরান যদি "সৎ উদ্দেশ্যে" আলোচনায় অংশ নেয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবে।

 

জেডি ভ্যান্স বলেন, "আমরা এই আলোচনা নিয়ে আশাবাদী। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আমাকে আলোচনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।" তবে তেহরানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি স্পষ্ট করেন যে, ইরান যদি আলোচনার টেবিলে "প্রতারণার চেষ্টা" করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র তাতে মোটেও সাড়া দেবে না।

 

আগামী শনিবার পাকিস্তানের ইসলামাবাদে এই মেগা বৈঠক শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট নিশ্চিত করেছেন যে, ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সের সঙ্গে এই বিশেষ প্রতিনিধিদলে আরও থাকছেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার।

 

এদিকে, ইসলামাবাদে বৈঠকের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হলেও পাকিস্তানি সংবাদদাতারা জানিয়েছেন, দেশটির সরকার এখনও ইরানি প্রতিনিধিদলের আগমনের প্রতীক্ষায় রয়েছে। এই আলোচনার ওপরই নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তজনা নিরসন এবং একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তির ভবিষ্যৎ।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Advertisement

আমেরিকা

View more
বিমানবন্দরেই আইসিইর হাতে গ্রেপ্তার এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট
বিমানবন্দরেই আইসিইর হাতে গ্রেপ্তার এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট, বিমানবন্দরে চাঞ্চল্য

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের ন্যাশভিল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কর্মরত অবস্থায় সাউথওয়েস্ট এয়ারলাইন্সের এক ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টকে আটক করেছে মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইসিই)। আটক ব্যক্তি জামাইকার নাগরিক লরেঞ্জো থম্পসন। যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের (ডিএইচএস) দাবি, তিনি ২০২১ সালে বৈধ ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করলেও নির্ধারিত সময় শেষে দেশ ছাড়েননি এবং এরপরও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন।   কর্তৃপক্ষ জানায়, ১৪ জুলাই ন্যাশভিল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দায়িত্ব পালনের সময় আইসিই কর্মকর্তারা তাকে আটক করেন। ডিএইচএসের ভাষ্য অনুযায়ী, থম্পসন ২০২১ সালের এপ্রিল মাসে ছয় মাসের ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। তার ভিসার মেয়াদ ২০২১ সালের অক্টোবরে শেষ হলেও তিনি দেশ ত্যাগ করেননি। বর্তমানে অভিবাসন-সংক্রান্ত আইনি কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি আইসিইর হেফাজতেই থাকবেন।    তবে ঘটনাটি নিয়ে ভিন্ন দাবি করেছে সাউথওয়েস্ট এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টদের ইউনিয়ন টিডব্লিউইউ লোকাল ৫৫৬ এবং থম্পসনের ঘনিষ্ঠরা। তাদের বক্তব্য, থম্পসনের একটি চলমান আশ্রয় (অ্যাসাইলাম) আবেদন রয়েছে এবং তিনি বৈধ কর্ম-অনুমতি নিয়ে কাজ করছিলেন। এছাড়া তার বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অপরাধের রেকর্ড নেই বলেও তারা দাবি করেছেন।    ইউনিয়ন এক বিবৃতিতে জানায়, তারা থম্পসন ও তার পরিবারের পাশে রয়েছে এবং আইনি সহায়তার বিষয়টি সমন্বয় করছে। একই সঙ্গে ঘটনাটির অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।    অন্যদিকে, সাউথওয়েস্ট এয়ারলাইন্স এ ঘটনায় প্রকাশ্যে কোনো বিস্তারিত মন্তব্য করেনি। যুক্তরাষ্ট্রে চলমান কঠোর অভিবাসন আইন প্রয়োগের প্রেক্ষাপটে কর্মস্থল থেকে একজন বিমানকর্মীকে আটক করার এই ঘটনা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। থম্পসনের প্রকৃত অভিবাসন-অবস্থা এবং আশ্রয় আবেদনের আইনি অবস্থান এখন অভিবাসন আদালতের কার্যক্রমে নির্ধারিত হবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৬, ২০২৬ ০:৪৯
ওয়াশিংটনে ন্যাশনাল গার্ড সদস্যদের জন্য ২৯২ মিলিয়ন ডলারের আবাসন চুক্তি

ওয়াশিংটনে ন্যাশনাল গার্ড সদস্যদের জন্য ২৯২ মিলিয়ন ডলারের আবাসন চুক্তি, দীর্ঘমেয়াদির ইঙ্গিত

আমেরিকান ব্যাতিত ইন-স্টেট টিউশন সুবিধা অসাংবিধানিক

আমেরিকান ব্যাতিত ইন-স্টেট টিউশন সুবিধা অসাংবিধানিক, আইন বাতিল করলেন বিচারক

সামরিক ভেটেরানদের ট্রাকচালক হিসেবে নিয়োগে ‘ফ্রিডম হলার্স’ কর্মসূচি চালু করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ছবি: সংগৃহীত

অভিবাসী চালকদের তাদের দেশে ফিরিয়ে দিয়ে রিটায়ার্ড সেনাদেরকে ট্রাক চালাতে বলল ট্রাম্প প্রশাসন

স্টিভেন ফিলিপসের ক্ষতিপূরণের অর্থে সাবেক স্ত্রীর দাবি খারিজ করে দিয়েছে আদালত। ছবি: সংগৃহীত
২৪ বছর অন্যায় কারাভোগের পর পেলেন ৬ মিলিয়ন ডলার! ভাগ চেয়ে আদালতে সাবেক স্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে ২৪ বছর অন্যায়ভাবে কারাভোগের পর ডিএনএ পরীক্ষায় নির্দোষ প্রমাণিত হওয়া স্টিভেন ফিলিপসকে দেওয়া প্রায় ৬ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণে সাবেক স্ত্রীর কোনো অধিকার নেই বলে রায় দিয়েছে টেক্সাসের আপিল আদালত। আদালত বলেছে, এই অর্থ হারানো আয়ের ক্ষতিপূরণ নয়; এটি ভুলভাবে কারাবন্দি থাকার কারণে ব্যক্তিগত ভোগান্তির জন্য আইন অনুযায়ী নির্ধারিত ক্ষতিপূরণ।    আদালতের নথি অনুযায়ী, স্টিভেন ফিলিপস ১৯৮০ সালে ট্রেসি টাকারকে বিয়ে করেন। ১৯৮২ সালে একাধিক যৌন নিপীড়নের অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার ও দোষী সাব্যস্ত করা হয়। পরে তিনি প্রায় ২৪ বছর কারাগারে কাটান। ১৯৯২ সালে, ফিলিপস তখনও কারাবন্দি থাকা অবস্থায় তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। ২০০৮ সালে ডিএনএ পরীক্ষায় প্রকৃত অপরাধী শনাক্ত হওয়ার পর ফিলিপস নির্দোষ প্রমাণিত হন এবং মুক্তি পান। পরে টেক্সাসের টিম কোল অ্যাক্টের অধীনে তিনি ক্ষতিপূরণ পান, যার মোট মূল্য ছিল ৬ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি।    এরপর ট্রেসি টাকার আদালতে দাবি করেন, বিবাহিত জীবনের সময় ফিলিপস যে আয় করতে পারেননি, ক্ষতিপূরণের সেই অংশে তার অধিকার রয়েছে। একটি নিম্ন আদালত প্রথমে তাকে প্রায় ১ লাখ ১৪ হাজার ডলার দেওয়ার নির্দেশ দিলেও টেক্সাসের পঞ্চম আপিল আদালত সেই রায় বাতিল করে দেয়।    আপিল আদালত রায়ে উল্লেখ করে, টিম কোল অ্যাক্টে কোথাও নির্দোষ প্রমাণিত ব্যক্তির বর্তমান বা সাবেক স্বামী-স্ত্রীর জন্য ক্ষতিপূরণের কোনো বিধান রাখা হয়নি। আদালতের ভাষায়, আইনটি ভুলভাবে কারাবন্দি ব্যক্তির ব্যক্তিগত ক্ষতির স্বীকৃতি দেয়, হারানো বেতনের ক্ষতিপূরণ হিসেবে নয়। তাই এ অর্থ বৈবাহিক সম্পত্তি হিসেবে ভাগ করার সুযোগও নেই।    রায়ের মাধ্যমে নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্ত বাতিল করে ট্রেসি টাকারের সব দাবি খারিজ করা হয়। পরে এই সিদ্ধান্তই কার্যকর থাকে।  মামলাটির পর স্টিভেন ফিলিপস গণমাধ্যমকে নিজের অনুভূতি জানিয়ে বলেন, “যখন টেবিলে পনির রাখা হয়, তখন ইঁদুর বেরিয়ে আসে।” দীর্ঘ ২৪ বছরের অন্যায় কারাভোগের পর ক্ষতিপূরণ পাওয়ার লড়াই শেষ হলেও, সেই অর্থ রক্ষায় তাকে আবারও আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়েছিল।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৫, ২০২৬ ২৩:৩৮
ঘটনাস্থলে তদন্ত চালাচ্ছেন অটোয়া কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় ও মিশিগান স্টেট পুলিশের সদস্যরা। ছবি: সংগৃহীত

মিশিগানে বাড়িতে আগুনের পর একই পরিবারের ৮ জনের মরদেহ উদ্ধার, নিহতদের মধ্যে ৬ শিশু

মেইল-ইন ভোট সংক্রান্ত ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ২৩টি অঙ্গরাজ্যে আপাতত কার্যকর হচ্ছে না। ছবি: সংগৃহীত

২৩ অঙ্গরাজ্যে আটকে গেল ট্রাম্পের মেইল-ইন ভোট সংক্রান্ত নির্বাহী আদেশ

নিউ জার্সির বার্গেন কাউন্টিতে আয়ভিত্তিক সাশ্রয়ী ভাড়ার অ্যাপার্টমেন্টে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

মাত্র ৫৯৪ ডলারেই নিউ জার্সিতে ফ্ল্যাট! সীমিত ৭টি অ্যাপার্টমেন্টের জন্য শুরু হলো লটারি

এইচ-১বি ভিসায় ১ লাখ ডলারের অতিরিক্ত ফি পুনর্বহালের আবেদন খারিজ করেছে মার্কিন ফেডারেল আপিল আদালত। ছবি: সংগৃহীত
এইচ-১বি ভিসায় ১ লাখ ডলারের ফি আপাতত বহাল থাকছে না, ট্রাম্প প্রশাসনের আবেদন খারিজ আপিল আদালতে

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আপিল আদালত উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন বিদেশি কর্মীদের জন্য এইচ-১বি (H-1B) ভিসায় আরোপ করা ১ লাখ ডলারের অতিরিক্ত ফি পুনর্বহালের ট্রাম্প প্রশাসনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। ফলে নিম্ন আদালতের যে আদেশে এই ফি কার্যকর হওয়া স্থগিত করা হয়েছিল, সেটিই আপাতত বহাল থাকছে।   বোস্টনভিত্তিক ফার্স্ট ইউএস সার্কিট কোর্ট অব আপিলস গত ২৪ জুলাই দেওয়া এক আদেশে জানায়, ট্রাম্প প্রশাসন আপিলে সফল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এমন পর্যাপ্ত আইনি ভিত্তি দেখাতে পারেনি। তাই নিম্ন আদালতের রায় স্থগিত রাখার আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে না।   এর আগে গত ৮ জুন ম্যাসাচুসেটসের ফেডারেল জেলা আদালতের বিচারক লিও সোরোকিন রায় দেন, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্টের ঘোষণার মাধ্যমে ১ লাখ ডলারের এই ফি আরোপ করা সাংবিধানিক ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছে। আদালতের মতে, এটি কার্যত একটি কর, যা আরোপের ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে।   তবে ট্রাম্প প্রশাসনের আইনজীবীরা আদালতে যুক্তি দেন, যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক বাণিজ্য ও অভিবাসনসংক্রান্ত প্রেসিডেন্টের সাংবিধানিক ক্ষমতার আওতায় এই ফি আরোপ করা হয়েছে। তাদের দাবি ছিল, এইচ-১বি কর্মসূচির অপব্যবহার ঠেকানো এবং মার্কিন কর্মীদের কর্মসংস্থান রক্ষার স্বার্থে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু আপিল আদালত বলেছে, এ পর্যায়ে প্রশাসন সেই যুক্তির পক্ষে যথেষ্ট আইনি ভিত্তি উপস্থাপন করতে পারেনি।   এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিশেষায়িত জ্ঞান ও অন্তত স্নাতক ডিগ্রিধারী বিদেশি পেশাজীবীদের নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নিয়োগ দিতে পারে। প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, প্রকৌশল, গবেষণা এবং উচ্চশিক্ষা খাতে এই ভিসার ব্যবহার সবচেয়ে বেশি। প্রতি বছর এ কর্মসূচির আওতায় ৬৫ হাজার সাধারণ ভিসা এবং উচ্চতর ডিগ্রিধারীদের জন্য অতিরিক্ত ২০ হাজার ভিসা দেওয়া হয়।   ট্রাম্প প্রশাসন ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে এক ঘোষণার মাধ্যমে নতুন এইচ-১বি আবেদনকারীদের জন্য এককালীন ১ লাখ ডলারের ফি নির্ধারণ করে। এর আগে আবেদনকারীর ধরন ও অন্যান্য বিষয়ের ওপর নির্ভর করে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত ২ হাজার থেকে ৫ হাজার ডলার পর্যন্ত বিভিন্ন সরকারি ফি পরিশোধ করত। নতুন নীতিতে সেই ব্যয় কয়েক গুণ বেড়ে যায়।   প্রশাসনের দাবি ছিল, কিছু প্রতিষ্ঠান তুলনামূলক কম বেতনে বিদেশি কর্মী নিয়োগের মাধ্যমে মার্কিন কর্মীদের প্রতিস্থাপন করছে। এ ধরনের অপব্যবহার ঠেকানো এবং দেশীয় শ্রমবাজার সুরক্ষার লক্ষ্যেই উচ্চ ফি আরোপ করা হয়। তবে সমালোচকদের মতে, এত বড় অঙ্কের ফি প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা ও গবেষণাসহ বিভিন্ন খাতে দক্ষ কর্মী নিয়োগকে কঠিন করে তুলবে।   এই নীতির বিরুদ্ধে ক্যালিফোর্নিয়াসহ ২০টি অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল মামলা করেন। তাদের অভিযোগ, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া এত বড় অঙ্কের অর্থ আদায়ের ক্ষমতা প্রশাসনের নেই। পাশাপাশি তারা দাবি করেন, নতুন ফি চালুর ক্ষেত্রে প্রশাসনিক আইন অনুযায়ী বাধ্যতামূলক বিধি প্রণয়নের প্রক্রিয়াও অনুসরণ করা হয়নি।   সর্বশেষ আপিল আদালতের আদেশের ফলে ১ লাখ ডলারের এই ফি আপাতত কার্যকর করা যাবে না। তবে মামলার মূল আপিলের শুনানি এখনো বাকি রয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে উচ্চতর আদালতের রায়ের ওপর এই নীতির চূড়ান্ত পরিণতি নির্ভর করবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৫, ২০২৬ ২২:২৭
মিশিগানে পোষা কুকুরের হামলার ঘটনাটি নতুন করে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা তৈরি করেছে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে ১১ মাসের শিশুর ওপর পোষা কুকুরের হামলায় খসে পড়ল শিশুর গালের মাংস, একাধিক অস্ত্রোপচারের পরও রয়ে গেছে দাগ

৯/১১ স্মরণানুষ্ঠানে মেয়র জোহরান মামদানির অংশগ্রহণের বিরোধিতা করে অনলাইন পিটিশন শুরু করেছেন নিহতদের পরিবারের একাংশ। ছবি: সংগৃহীত

মেয়র মামদানিকে ৯/১১ এ নিহতদের পরিবারের জন্য কষ্টের কারণ! নিষিদ্ধের দাবি ৯/১১ ভুক্তভোগী পরিবারের একাংশের

ফ্রেসনো কাউন্টিতে ভয়াবহ সংঘর্ষের পর দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া দুটি গাড়ি। ছবি: সংগৃহীত

তরুণীর বেপরোয়া ড্রাইভিংয়ে প্রাণ গেল দুই প্রবীণ নারীর, ক্যালিফোর্নিয়ায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা

0 Comments