বিশ্ব

যুদ্ধ থামলেও সচল নয় হরমুজ প্রণালি

নীলুফা নিশাত প্রকাশ: এপ্রিল ৯, ২০২৬ ২০:৫৬
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজের জট। ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজের জট। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ঘোষিত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি-তে জাহাজ চলাচল এখনও স্বাভাবিক হয়নি। ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না।

 

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সংঘাত বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হলেও শিপ ট্র্যাকিং তথ্যে দেখা গেছে, এই জলপথ দিয়ে খুব সীমিত সংখ্যক জাহাজ চলাচল করছে। এতে করে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট কমার যে আশা তৈরি হয়েছিল, তা অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে।

 

বাজার বিশ্লেষণ সংস্থা কেপলার জানিয়েছে, সংঘাতের আগে প্রতিদিন গড়ে ১২০ থেকে ১৪০টি জাহাজ এই প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করত। কিন্তু বুধবার (৮ এপ্রিল) মাত্র পাঁচটি এবং বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সাতটি জাহাজ চলাচল করেছে।

 

বর্তমানে পারস্য উপসাগর এলাকায় প্রায় ৬০০টির বেশি জাহাজ, যার মধ্যে অন্তত ৩২৫টি তেলবাহী ট্যাঙ্কার, আটকে রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং উচ্চ বিমা খরচের কারণে জাহাজ মালিকরা এখনো এই পথ ব্যবহারে অনাগ্রহী। বিশেষ করে সমুদ্রপথে মাইন থাকার আশঙ্কা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

 

পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান একে অপরের বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ তুলছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে দাবি করেছেন, ইরান নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি মানছে না।

 

অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি পাল্টা অভিযোগ করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রই তাদের অঙ্গীকার রক্ষা করতে ব্যর্থ হচ্ছে। তিনি লেবাননে চলমান হামলার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, পরিস্থিতি শান্ত করার দায়িত্ব এখন যুক্তরাষ্ট্রের ওপরই বর্তায়।

 

এই অচলাবস্থার প্রভাব ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে পড়তে শুরু করেছে। যুদ্ধবিরতির ঘোষণায় তেলের দাম সাময়িকভাবে কমলেও, জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক না হওয়ায় তা আবার ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানি (অ্যাডনক)-এর প্রধান সুলতান আহমেদ আল জাবের জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি কার্যত এখনো পুরোপুরি চালু হয়নি এবং এটি রাজনৈতিক চাপের হাতিয়ার হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে।

 

বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৬ ডলারের ওপরে অবস্থান করছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

 

সূত্র: আল জাজিরা

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Advertisement

বিশ্ব

View more
ক্যালিতে নিহত অন্তঃসত্ত্বা তরুণী মারিয়া কামিলা পোতোসির হত্যাকাণ্ডের তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে কলম্বিয়ার কর্তৃপক্ষ।
কলম্বিয়ায় ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা তরুণীকে কুপিয়ে হত্যা, গর্ভ থেকে নবজাতক চুরি

কলম্বিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর ক্যালিতে আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক তরুণীকে হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ২১ বছর বয়সী মারিয়া কামিলা পোতোসি কয়েক দিন নিখোঁজ থাকার পর তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর থেকে তার অনাগত শিশুকে ঘিরেও রহস্য তৈরি হয়েছে। শিশুটির অবস্থান জানতে এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে ব্যাপক তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ ও প্রসিকিউটরদের কার্যালয়।   তদন্তকারী কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৬ জুলাই ক্যালির পলভোরিনেস এলাকা থেকে মারিয়া কামিলাকে সর্বশেষ দেখা যায়। নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, তিনি একটি মোটরসাইকেলের পেছনে করে এক নারীর সঙ্গে এলাকা ছেড়ে যাচ্ছেন। পরে পরিবারের সদস্যরা জানান, ওই নারীকে তিনি সম্প্রতি অন্তঃসত্ত্বা নারীদের একটি সহায়তা কর্মসূচির মাধ্যমে চিনেছিলেন এবং শিশুর জন্য কিছু উপহার নেওয়ার কথা বলে তার সঙ্গে বের হয়েছিলেন।   চার দিন পর ক্যালির লা বুইত্রেরা এলাকার কাছে মেলেন্দেজ নদীর তীর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তার শরীরে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও উদ্দেশ্য এখনো নিশ্চিত নয়।   মামলাটি নতুন মোড় নেয়, যখন নিহতের পরিবারের সদস্যরা দাবি করেন, ময়নাতদন্তে চিকিৎসা কর্তৃপক্ষ তাদের জানিয়েছে যে মারিয়া কামিলার গর্ভে শিশুটি ছিল না। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ফরেনসিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি। ফলে শিশুটির অবস্থান নিয়ে তদন্ত চলছে এবং কর্তৃপক্ষ সব সম্ভাবনাই বিবেচনায় রাখছে।   ক্যালি মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রধান জেনারেল হারবার্ট বেনাভিদেস জানিয়েছেন, এ ঘটনায় চারজনের বেশি ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারেন বলে তদন্তকারীরা সন্দেহ করছেন। এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। পুলিশ ও প্রসিকিউটররা নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য এবং ডিজিটাল প্রমাণ বিশ্লেষণ করছেন।   ক্যালির মেয়র আলেহান্দ্রো এদের হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে তথ্যদাতাদের জন্য পুরস্কার ঘোষণা করেছেন। পরবর্তীতে পুরস্কারের পরিমাণ বাড়িয়ে ২০০ মিলিয়ন কলম্বিয়ান পেসো করা হয়েছে, যাতে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার এবং ঘটনার পূর্ণ সত্য উদ্ঘাটন করা যায়।   এদিকে নিহতের মা আলবা রুবি গোমেজ সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে আবেগঘন আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, যদি শিশুটি জীবিত থাকে, তাহলে তাকে নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হোক। তিনি দেশবাসীকেও তদন্তে সহায়তা করার অনুরোধ জানিয়েছেন।   কলম্বিয়ার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্ত এখনো চলমান। হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য, সম্ভাব্য জড়িত ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং শিশুটির অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়ার আগ পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হবে না।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৫, ২০২৬ ২৩:১৫
ভূমিকম্পে প্রাণ হারানো অ্যান্ড্রু ও ইয়েলিৎসা উইডম নতুন জীবন শুরু করতে ভেনেজুয়েলায় গিয়েছিলেন। ছবি: সংগৃহীত

স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ’ করা মার্কিন নাগরিকের মরদেহ মিলল ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পে ধ্বংসস্তূপ থেকে!

বার্লিনের ক্রিস্টোফার স্ট্রিট ডে উৎসব। ছবি: সংগৃহীত

এলজিবিটিকিউ উৎসবে গাড়ি তুলে হামলায় ১ জন নিহত, আহত ১৬, ইসলামপন্থী সন্দেহভাজনের খোঁজে পুলিশ

চিকিৎসক থমাস কেলি, যিনি চিকিৎসা পেশার অভিজ্ঞতা থেকে এআইভিত্তিক স্বাস্থ্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হাইডি গড়ে তুলেছেন। ছবি: সংগৃহীত

রোগী দেখার চাপেই চিকিৎসক জীবনে ক্লান্তি, চাকরি ছেড়ে গড়া এআই স্টার্টআপের মূল্য এখন ৪৬৫ মিলিয়ন ডলার

ইউরোপজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে ফ্রান্স ও স্পেনে ভয়াবহ দাবানল দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে | ছবি: সংগৃহীত
ফ্রান্স-স্পেনে ভয়াবহ দাবানল: আড়াই লাখের বেশি মানুষ ঘরছাড়া, জরুরি অবস্থা ও সেনা মোতায়েন

ইউরোপজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে ফ্রান্স ও স্পেনে ভয়াবহ দাবানল দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় আড়াই লাখের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বা ঘরের ভেতরে অবস্থানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী, দমকল বাহিনী এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তায় বড় ধরনের অভিযান চলছে। পরিস্থিতিকে উভয় দেশই সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড হিসেবে বর্ণনা করছে।    ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জিরন্দ ও লঁদ অঞ্চলে দাবানল সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বোর্দোর উপকণ্ঠ পর্যন্ত আগুন ছড়িয়ে পড়ায় ক্যাপ ফেরে উপদ্বীপসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যাপকভাবে মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শুধু জিরন্দ অঞ্চল থেকেই প্রায় ১ লাখ ৬৭ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে ফ্রান্সে প্রায় দুই লাখ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন।    দাবানল নিয়ন্ত্রণে প্রায় দেড় হাজার সেনাসদস্য মোতায়েন করেছে ফরাসি সরকার। পাশাপাশি অগ্নিনির্বাপণ বিমান ও অন্যান্য জরুরি সরঞ্জাম ব্যবহার করে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে। তবে প্রবল বাতাস, শুষ্ক আবহাওয়া এবং উচ্চ তাপমাত্রার কারণে পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত জটিল বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।    অন্যদিকে স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদের পশ্চিমাঞ্চলে একাধিক দাবানল একত্রিত হয়ে বড় আকার ধারণ করায় দেশটির সরকার প্রথমবারের মতো জাতীয় পর্যায়ে দাবানল-সংক্রান্ত জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। প্রায় ২৫ হাজার মানুষকে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং আরও প্রায় ৪০ হাজার মানুষকে নিরাপত্তার স্বার্থে ঘরের ভেতরে অবস্থান করতে বলা হয়েছে।    শনিবার মাদ্রিদের কাছে সেনিসিয়েন্তোস এলাকার অগ্নিনিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র পরিদর্শন করেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে মানুষের জীবন রক্ষা করাই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে এখনো কঠিন লড়াই বাকি রয়েছে।    মাদ্রিদ অঞ্চলের জরুরি ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তাদের ভাষ্য, দাবানল এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে এটি নিয়ন্ত্রণে দমকল বাহিনীকে নজিরবিহীন চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন দেশ থেকেও অগ্নিনির্বাপণ বিমান ও সহায়তা পাঠানো হয়েছে।    বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরোপে চলমান ধারাবাহিক তাপপ্রবাহ, দীর্ঘদিনের খরা এবং প্রবল বাতাস দাবানলের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এ ধরনের চরম আবহাওয়ার ঘটনা আরও ঘন ঘন এবং তীব্র হয়ে উঠছে বলেও সতর্ক করেছেন তারা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৫, ২০২৬ ১১:৪
ভারতে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের মূল অভিযুক্ত গ্রেফতার

ভারতে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের মূল অভিযুক্ত গ্রেফতার

ধ্বংসস্তূপে মিললো পবিত্র কুরআন

ইসরাইলিদের তাণ্ডবে আগুনে পুড়ল ফিলিস্তিনি গ্রাম, ধ্বংসস্তূপে মিললো পবিত্র কুরআন

১০ বছরের মধ্যে এআই মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাবে, ভবিষ্যৎ নিয়ে ইলন মাস্ক

১০ বছরের মধ্যে এআই মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাবে, ভবিষ্যৎ নিয়ে ইলন মাস্ক

অগ্নিঝুঁকিতে ফোর্ডের ৫ লাখ ৬৫ হাজারের বেশি ব্রঙ্কো
অগ্নিঝুঁকিতে ফোর্ডের ৫ লাখ ৬৫ হাজারের বেশি ব্রঙ্কো, জরুরি রিকলের ঘোষণা

ইঞ্জিনে আগুন লাগার ঝুঁকির কারণে যুক্তরাষ্ট্রে ৫ লাখ ৬৫ হাজারের বেশি ফোর্ড ব্রঙ্কো ও ব্রঙ্কো র‍্যাপটার এসইউভি জরুরি ভিত্তিতে রিকল করেছে ফোর্ড মোটর কোম্পানি। ক্ষতিগ্রস্ত গাড়িগুলোর ইঞ্জিনের তারের ত্রুটির কারণে শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লাগার আশঙ্কা থাকায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।   মার্কিন সড়ক নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রক সংস্থা ন্যাশনাল হাইওয়ে ট্রাফিক সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এনএইচটিএসএ) জানিয়েছে, রিকলের আওতায় রয়েছে ২০২১ থেকে ২০২৬ মডেলের মোট ৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬৯১টি ফোর্ড ব্রঙ্কো ও ব্রঙ্কো র‍্যাপটার। ইঞ্জিন কক্ষে থাকা ওয়্যারিং হারনেসে পর্যাপ্ত সুরক্ষা না থাকায় তা অন্য যন্ত্রাংশের সঙ্গে ঘষা লেগে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে শর্ট সার্কিট তৈরি হয়ে তাপ বা স্ফুলিঙ্গের সৃষ্টি হতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত আগুনের কারণ হতে পারে।    ফোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ত্রুটিটি সব গাড়িতে নেই; প্রায় ১ শতাংশ গাড়ি এ সমস্যায় আক্রান্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এই ত্রুটির সঙ্গে সম্পর্কিত অন্তত ১৫টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। এসব ঘটনায় কোনো দুর্ঘটনা বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।   এনএইচটিএসএর ভাষ্য, গাড়ির ড্যাশবোর্ডে সতর্কবার্তা দেখা যাওয়া, এয়ার ভেন্ট দিয়ে ধোঁয়া বের হওয়া অথবা ইঞ্জিনের যাত্রীর পাশের অংশ থেকে ধোঁয়া বা আগুনের লক্ষণ দেখা দিলে চালকদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে গাড়ি থামিয়ে ইঞ্জিন বন্ধ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।    সমস্যা সমাধানে ফোর্ডের অনুমোদিত ডিলাররা ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ির ওয়্যারিং হারনেসে অতিরিক্ত সুরক্ষামূলক আবরণ ও বিশেষ টেপ লাগিয়ে দেবে। এই মেরামত সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করা হবে। আগামী ২৪ থেকে ২৮ আগস্টের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ির মালিকদের কাছে ডাকযোগে রিকল নোটিশ পাঠানো শুরু হবে।    যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন নিরাপত্তাজনিত কারণে একাধিক বড় রিকলের মুখে পড়েছে ফোর্ড। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাড়ির মালিকদের উচিত রিকল নোটিশ পাওয়ার অপেক্ষা না করে নিজেদের গাড়ির ভেহিকেল আইডেন্টিফিকেশন নম্বর যাচাই করে প্রয়োজনে দ্রুত ডিলারের সঙ্গে যোগাযোগ করা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৫, ২০২৬ ২:২৭
নাসার সঙ্গে কাজের সুযোগ!  এক বছর ‘চাঁদ-মঙ্গল’ মিশনে অংশ নিতে পারেন আপনিও

নাসার সঙ্গে কাজের সুযোগ! এক বছর ‘চাঁদ-মঙ্গল’ মিশনে অংশ নিতে পারেন আপনিও, চলছে আবেদন

একইসঙ্গে ৩ বোনকে বিয়ে করে ভাইরাল যুবক!

একইসঙ্গে ৩ বোনকে বিয়ে করে ভাইরাল যুবক!

১০০ বছরের পুরোনো জটিল সমস্যার সমাধান করে গণিতের ‘নোবেল’ জিতলেন চীনের দুই অধ্যাপক

১০০ বছরের পুরোনো জটিল সমস্যার সমাধান করে গণিতের ‘নোবেল’ জিতলেন চীনের দুই অধ্যাপক

0 Comments