যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ার একটি ম্যাকডোনাল্ডস রেস্তোরাঁয় এক মর্মান্তিক ও অমানবিক হামলার শিকার হয়েছেন ২০ বছর বয়সী ম্যানেজার জ্যাকব স্মিথ। গত ৩০ মে ডিউটি শেষ হওয়ার পর জলানি ব্লুয়েট নামের ২৩ বছর বয়সী তারই এক সহকর্মী আকস্মিকভাবে তার গায়ে ফুটন্ত গরম তেল ছুঁড়ে মারে।
এই ভয়াবহ হামলায় জ্যাকবের মুখমণ্ডল, ঘাড়, হাত এবং কাঁধসহ শরীরের প্রায় অর্ধেক অংশ মারাত্মকভাবে ঝলসে গেছে এবং তিনি থার্ড-ডিগ্রি বার্নে ভুগছেন। বর্তমানে তাকে ইউসি ডেভিস মেডিকেল সেন্টারে রেখে বিশেষায়িত চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা এই তরুণ সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে প্রথমবারের মতো নিজের এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জনসমক্ষে তুলে ধরেছেন।
হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে গলা ও হাতে ব্যান্ডেজ মোড়ানো অবস্থায় জ্যাকব জানান, এটি তার জীবনের সবচেয়ে কঠিন ও যন্ত্রণাদায়ক একটি অধ্যায়। তবে এই দুঃসময়ে যারা তার পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং আর্থিকভাবে সাহায্য করেছেন, তাদের প্রতি তিনি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় জ্যাকব নিজেকে পৃথিবীর অন্যতম ভাগ্যবান ব্যক্তি বলে মনে করেন, কারণ এত বড় দুর্ঘটনার পরও মানুষের ভালোবাসায় তিনি বেঁচে আছেন। এদিকে তার মা অ্যাম্বার স্মিথ ছেলের চিকিৎসা ও দৈনন্দিন খরচ মেটাতে 'গোফান্ডমি' (GoFundMe)-তে একটি তহবিল সংগ্রহ শুরু করেছেন, যা ইতোমধ্যে প্রায় ২ লাখ ডলারের লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি পৌঁছেছে।
অ্যাম্বার জানান, জ্যাকব অত্যন্ত পরিশ্রমী ও দায়িত্বশীল একজন তরুণ এবং সম্প্রতি তার বিয়ের কথাবার্তাও চূড়ান্ত হয়েছিল। নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার ঠিক আগ মুহূর্তে এই আকস্মিক ট্র্যাজেডি তার জীবনকে থমকে দিয়েছে।
হামলার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে এখনো পর্যন্ত সুস্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, হামলার পরপরই অভিযুক্ত জলানি ব্লুয়েট ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় এবং কিছুদিন নিখোঁজ থাকার পর অবশেষে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়।
বর্তমানে তাকে সাটার কাউন্টি জেলে রাখা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে মারাত্মক শারীরিক আঘাত ও প্রাণঘাতী অস্ত্র দিয়ে হামলার মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।
জ্যাকবের মা আক্ষেপ করে বলেন, এত কষ্টের মাঝেও তার ছেলের একটিই প্রশ্ন—কেন তার সাথে এমনটা করা হলো? জ্যাকবকে ইতোমধ্যে স্কিন গ্রাফটিং বা ত্বক প্রতিস্থাপনসহ একাধিক জটিল অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। পুরোপুরি সুস্থ হতে তাকে এখনো দীর্ঘ ও কষ্টকর এক পথ পাড়ি দিতে হবে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না। নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার। তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।
মেক্সিকান অপরাধী চক্র (কার্টেল)-এর অর্থদাতা এবং অবৈধ অভিবাসন কেন্দ্রিক আর্থিক জালিয়াতি চক্রকে চিহ্নিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় ব্যাংকগুলোকে এক নজিরবিহীন ও ব্যাপক ক্ষমতা দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের পক্ষ থেকে শুক্রবার (১২ জুন) জানানো হয়েছে, এখন থেকে ব্যাংকগুলো সন্দেহভাজন গ্রাহকদের সিসিটিভি ফুটেজ এবং আইপি অ্যাড্রেসের মতো স্পর্শকাতর সাইবার ডেটা নিজেদের মধ্যে আদান-প্রদান করতে পারবে। হিউস্টনে ব্যাংকারদের এক সভায় মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট জানান, বিদায়ী বাইডেন প্রশাসনের সময় "অবারিত অবৈধ অভিবাসনের" সুযোগ নিয়ে অপরাধী চক্রগুলো মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থায় কালো টাকা পাচার করেছে। এর ফলে কেবল ২০২৫ সালেই বেতন কর ফাঁকির (পে-রোল ট্যাক্স ফ্রড) মাধ্যমে ব্যাংকগুলোতে আড়াই বিলিয়ন (২৫০ কোটি) ডলারের সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছে। এই বিশাল জালিয়াতি সরাসরি সীমান্ত সংকটের সাথে জড়িত বলে তিনি উল্লেখ করেন। মার্কিন প্রশাসনের এই কঠোর পদক্ষেপটি মূলত দেশটির বিতর্কিত 'প্যাট্রিয়ট অ্যাক্ট'-এর ধারা ৩১৪(বি)-এর ওপর ভিত্তি করে নেওয়া হয়েছে। ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইমস এনফোর্সমেন্ট নেটওয়ার্ক (ফিনসেন) জানিয়েছে, ব্যাংকগুলো যেন সন্দেহভাজন লেনদেনের ক্ষেত্রে একে অপরের সাথে তথ্য শেয়ার করে দ্রুত কেন্দ্রীয় সংস্থাকে (এফবিআই বা ফেডারেল কর্তৃপক্ষ) অবহিত করতে পারে, সেজন্যই এই পদক্ষেপ। ট্রেজারি বিভাগ কিছু সুনির্দিষ্ট জালিয়াতির লক্ষণ বা 'রেড ফ্ল্যাগ' চিহ্নিত করেছে; যেমন— কোনো অ্যাকাউন্টে হঠাৎ নতুন বেতনভোগী যুক্ত করে বিপুল পরিমাণ অর্থ স্থানান্তর করা, ভৌগোলিকভাবে দূরবর্তী কোনো স্থান থেকে অ্যাকাউন্ট লগ-ইন করা, কিংবা একাধিক অ্যাকাউন্টে একই পরিচয়পত্র ব্যবহার করা। এর আগে গ্রাহকদের নাগরিকত্বের তথ্য সংগ্রহ বাধ্যতামূলক করার জন্য হোয়াইট হাউজ একটি নির্বাহী আদেশ জারির পরিকল্পনা করেছিল, তবে নথিপত্রের পাহাড় ও বিপুল খরচের যুক্তিতে ব্যাংকিং খাতের তীব্র লবিংয়ের মুখে তা থেকে পিছিয়ে এসে এই নতুন কৌশল অবলম্বন করা হয়েছে। ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট স্পষ্ট করে বলেছেন, এই নির্দেশনার অর্থ ব্যাংক কর্মকর্তাদের 'ইমিগ্রেশন অফিসার' বানিয়ে দেওয়া নয় কিংবা ঢালাওভাবে কোনো নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করাও এর উদ্দেশ্য নয়। বরং ব্যাংকগুলো যেন তাদের গ্রাহকদের চিনে ঝুঁকি চিহ্নিত করতে পারে এবং সন্দেহজনক লেনদেন রোধ করতে পারে, সেই টুলস তাদের হাতে দেওয়া হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশিত এই ক্র্যাকডাউনটি মূলত ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বাধীন 'হোয়াইট হাউজ টাস্ক ফোর্স টু এলিমিনেট ফ্রড'-এর মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। ফিনসেনের এই নির্দেশনা আইনিভাবে বাধ্যতামূলক না হলেও, এটি অমান্য করলে ব্যাংকগুলোকে কঠোর আইনি তদন্ত ও জরিমানার মুখে পড়তে হতে পারে; যেমনটি গত মার্চ মাসে নিউ ইয়র্ক-ভিত্তিক বিনিয়োগ ব্যাংক ক্যানাকর্ড জেনুইটিকে সন্দেহজনক লেনদেন পর্যবেক্ষণে ব্যর্থতার জন্য রেকর্ড ৮০ মিলিয়ন ডলার জরিমানা করা হয়েছিল। দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম দিনই সীমান্তে জরুরি অবস্থা জারি এবং ওয়ার্ক পারমিট বন্ধের পর ট্রাম্পের অভিবাসন বিরোধী অভিযানের এটিই সর্বশেষ বড় ধাক্কা।
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের লরেন্সভিলের এক ব্যক্তি মেডিকেড জালিয়াতির অভিযোগে দোষ স্বীকার করার পর ৩৩০ হাজার ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে এবং কারাদণ্ড ভোগ করতে আদেশ পেয়েছেন। অভিযুক্ত ৪৭ বছর বয়সী অ্যাভেরিল জনসন। তিনি টাকার এলাকায় তার একটি ল্যাবের মাধ্যমে জিনগত পরীক্ষার নামে ভুয়া দাবি দাখিল করে সরকারি মেডিকেড কর্মসূচি থেকে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে। প্রসিকিউটরদের তথ্য অনুযায়ী, জনসন তার প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল হেলথকেয়ার সেন্টার এলএলসি ব্যবহার করে মিথ্যা রোগীর নথি তৈরি করেন এবং দুই চিকিৎসকের পরিচয় অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করে ভুয়া পরীক্ষার আদেশ দেখান। এসব পরীক্ষার জন্য মেডিকেড প্রতি দাবি হিসেবে প্রায় ১,৯৮৮ ডলার ৬৯ সেন্ট করে পরিশোধ করত। তদন্তে জানা যায়, কোনো রোগীই এই পরীক্ষার বিষয়ে জানতেন না। বিষয়টি প্রথম সামনে আসে যখন প্রতিষ্ঠানের এক কর্মী নার্স একটি হটলাইনে অভিযোগ জানান। এরপর জর্জিয়া ডিপার্টমেন্ট অব কমিউনিটি হেলথ বিষয়টি তদন্তে নেয় এবং পরে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় জালিয়াতির প্রমাণ পায়। ডেকাল্ব কাউন্টি সুপিরিয়র কোর্টের বিচারক গ্রেগরি অ্যাডামস মঙ্গলবার দোষ স্বীকারোক্তি গ্রহণ করেন। রায়ে জনসনকে ১০ বছরের সাজা দেওয়া হয়, যার মধ্যে এক বছর কারাগারে থাকতে হবে এবং বাকি অংশ শর্তসাপেক্ষে। পাশাপাশি তাকে ৩৩০ হাজার ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে বলা হয়েছে। জর্জিয়া অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস জানিয়েছে, এটি স্বাস্থ্যসেবা খাতে জালিয়াতি দমনে চলমান অভিযানের অংশ। সাম্প্রতিক সময়ে একই ধরনের আরেকটি জালিয়াতি মামলাও তদন্তাধীন রয়েছে। অ্যাটর্নি জেনারেল ক্রিস কার বলেন, জিনগত পরীক্ষার নামে এ ধরনের প্রতারণা এখন দেশজুড়ে বাড়ছে এবং করদাতাদের অর্থ অপচয় হচ্ছে। তার ভাষায়, “যারা করদাতাদের টাকা চুরি করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক আয়োজনের ধারাবাহিকতায় অনুষ্ঠিত হলো “বাংলাদেশ ফেস্টিভ্যাল”। গত ৭ জুন দক্ষিণ জামাইকার আর্চি স্প্রিগনার পার্কের বিস্তীর্ণ সবুজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই উৎসব প্রবাসে খোলা মাঠে বাংলাদেশি সংস্কৃতি ও মিলনমেলার এক অনন্য পরিবেশ তৈরি করে। নিউইয়র্কে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মেলা, উৎসব ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের ইতিহাস দীর্ঘ হলেও অধিকাংশ আয়োজন ইনডোর ভেন্যু বা শহরের কংক্রিটঘেরা পরিবেশে সীমাবদ্ধ ছিল। সেই বাস্তবতায় সবুজ মাঠে আয়োজিত এই ফেস্টিভ্যাল প্রবাসে এক টুকরো বাংলাদেশের খোলা মাঠের অনুভূতি ফিরিয়ে আনে। আয়োজক সংগঠন পালস এবং এর মূল কর্ণধার সৈয়দ হাসান আল বান্না’র উদ্যোগে এই ফেস্টিভ্যাল অনুষ্ঠিত হয়। বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন উৎসব গ্রুপের রায়হান জামান। অনুষ্ঠানে টাইটেল স্পন্সর হিসেবে যুক্ত ছিল উৎসব গ্রুপ, হিলসাইড হোন্ডা এবং সিলেক্ট ডিলার সার্ভিস। পাওয়ার্ড বাই হিসেবে ছিল আশা হোম কেয়ার এবং গোল্ডেন এজ হোম কেয়ার। বিকেল ৪টায় ফিতা কেটে ফেস্টিভ্যালের উদ্বোধন করেন উৎসব গ্রুপের প্রধান রায়হান জামান এবং আশা গ্রুপের প্রধান আকাশ রহমান। তবে দুপুর থেকেই পার্কে দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়তে থাকে। বিকেলের আলো নামার সঙ্গে সঙ্গে পুরো মাঠজুড়ে উৎসবের আবহ তৈরি হয়। সবুজ ঘাসে ঘেরা বিস্তীর্ণ প্রাঙ্গণে কেউ পরিবার নিয়ে বসেন, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় মেতে ওঠেন। শিশুরা মাঠজুড়ে দৌড়ঝাঁপ করে সময় কাটায়। দূর থেকে ভেসে আসা সংগীতের সুর, হাতে ঝালমুড়ি ও চায়ের কাপ মিলিয়ে পরিবেশটি রূপ নেয় এক উৎসবমুখর মিলনমেলায়। আয়োজনে অনেকের কাছে মুহূর্তের জন্য মনে হয়েছে, নিউইয়র্ক নয়, যেন বাংলাদেশের কোনো বৈশাখী মেলা। মাঠের একপাশে স্থাপন করা হয় মূল মঞ্চ। পাশাপাশি তিন পাশে সারিবদ্ধভাবে ছিল ৭০টিরও বেশি স্টল। পোশাক, গহনা, খাবার, বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রদর্শনীসহ নানা আয়োজন দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করে। দর্শনার্থীরা কেনাকাটার পাশাপাশি পরিবার ও প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটান। বিকেল ৪টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত মূল মঞ্চে টানা ছয় ঘণ্টা সাংস্কৃতিক পরিবেশনা চলে। এতে ব্যান্ড সংগীত, ফ্যাশন ওয়াক এবং দেশ ও প্রবাসের শিল্পীদের পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। অংশ নেন কামরুজ্জামান বকুল, সুজন আরিফ, তৃণীয়া হাসান, রেশমী মির্জা, নাজু আখন্দ, প্রতীক হাসান, পারভেজ সাজ্জাদ এবং ব্যান্ড ইওগ। ফ্যাশন ওয়াকের পরিকল্পনায় ছিলেন ডিজাইনার রোজিনা আহমেদ রুনি। আয়োজনে বিভিন্ন সময়ে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার রাজনৈতিক ও কমিউনিটি নেতারা। তাদের মধ্যে ছিলেন নিউইয়র্ক স্টেট সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সোমা সৈয়দ, নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটর লিরয় কমরি, নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটর জন লিউ, নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলিওম্যান অ্যালিসিয়া এল. হাইন্ডম্যান, কমিউনিটি ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটিক ক্লাবের চেয়ারম্যান মিজান চৌধুরী, ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ডিস্ট্রিক্ট লিডার এট লার্জ অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী এবং মেয়র অফিসের ডেপুটি চিফ বিজনেস ডাইভারসিটি অফিসার ও সিনিয়র অ্যাডভাইজার দিলীপ চৌহানসহ অনেকে। প্রতি ঘণ্টায় র্যাফেল ড্র অনুষ্ঠিত হয় উৎসব গ্রুপের উদ্যোগে। গ্র্যান্ড র্যাফেল ড্রতে ঢাকা-নিউইয়র্ক-ঢাকা বিমান টিকিট পুরস্কার হিসেবে প্রদান করা হয়, যা পান তানিয়া রহমান। পুরো আয়োজনের পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনায় ছিল পেশাদারিত্বের ছাপ। ডিজে রাহাতের ইভেন্ট পরিকল্পনায় অনুষ্ঠানটি ছিল সুসংগঠিত ও গতিশীল। উপস্থাপক সাদিয়া খন্দকার তার সাবলীল উপস্থাপনায় পুরো অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্তভাবে পরিচালনা করেন।