সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

ক্যালিফোর্নিয়ার ম্যাকডোনাল্ডসে ফুটন্ত তেলে দগ্ধ হওয়ার পর প্রথমবার মুখ খুললেন ম্যানেজার

ইসতিয়াক আহমেদ প্রকাশ: জুন ১২, ২০২৬ ১৭:৮
ছবিঃ নিউইয়র্ক পোস্ট
ছবিঃ নিউইয়র্ক পোস্ট

যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ার একটি ম্যাকডোনাল্ডস রেস্তোরাঁয় এক মর্মান্তিক ও অমানবিক হামলার শিকার হয়েছেন ২০ বছর বয়সী ম্যানেজার জ্যাকব স্মিথ। গত ৩০ মে ডিউটি শেষ হওয়ার পর জলানি ব্লুয়েট নামের ২৩ বছর বয়সী তারই এক সহকর্মী আকস্মিকভাবে তার গায়ে ফুটন্ত গরম তেল ছুঁড়ে মারে।

 

এই ভয়াবহ হামলায় জ্যাকবের মুখমণ্ডল, ঘাড়, হাত এবং কাঁধসহ শরীরের প্রায় অর্ধেক অংশ মারাত্মকভাবে ঝলসে গেছে এবং তিনি থার্ড-ডিগ্রি বার্নে ভুগছেন। বর্তমানে তাকে ইউসি ডেভিস মেডিকেল সেন্টারে রেখে বিশেষায়িত চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

 

মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা এই তরুণ সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে প্রথমবারের মতো নিজের এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জনসমক্ষে তুলে ধরেছেন।

 

হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে গলা ও হাতে ব্যান্ডেজ মোড়ানো অবস্থায় জ্যাকব জানান, এটি তার জীবনের সবচেয়ে কঠিন ও যন্ত্রণাদায়ক একটি অধ্যায়। তবে এই দুঃসময়ে যারা তার পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং আর্থিকভাবে সাহায্য করেছেন, তাদের প্রতি তিনি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

 

চিকিৎসাধীন অবস্থায় জ্যাকব নিজেকে পৃথিবীর অন্যতম ভাগ্যবান ব্যক্তি বলে মনে করেন, কারণ এত বড় দুর্ঘটনার পরও মানুষের ভালোবাসায় তিনি বেঁচে আছেন। এদিকে তার মা অ্যাম্বার স্মিথ ছেলের চিকিৎসা ও দৈনন্দিন খরচ মেটাতে 'গোফান্ডমি' (GoFundMe)-তে একটি তহবিল সংগ্রহ শুরু করেছেন, যা ইতোমধ্যে প্রায় ২ লাখ ডলারের লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি পৌঁছেছে।

 

অ্যাম্বার জানান, জ্যাকব অত্যন্ত পরিশ্রমী ও দায়িত্বশীল একজন তরুণ এবং সম্প্রতি তার বিয়ের কথাবার্তাও চূড়ান্ত হয়েছিল। নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার ঠিক আগ মুহূর্তে এই আকস্মিক ট্র্যাজেডি তার জীবনকে থমকে দিয়েছে।

 

হামলার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে এখনো পর্যন্ত সুস্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, হামলার পরপরই অভিযুক্ত জলানি ব্লুয়েট ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় এবং কিছুদিন নিখোঁজ থাকার পর অবশেষে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়।

 

বর্তমানে তাকে সাটার কাউন্টি জেলে রাখা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে মারাত্মক শারীরিক আঘাত ও প্রাণঘাতী অস্ত্র দিয়ে হামলার মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।

 

জ্যাকবের মা আক্ষেপ করে বলেন, এত কষ্টের মাঝেও তার ছেলের একটিই প্রশ্ন—কেন তার সাথে এমনটা করা হলো? জ্যাকবকে ইতোমধ্যে স্কিন গ্রাফটিং বা ত্বক প্রতিস্থাপনসহ একাধিক জটিল অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। পুরোপুরি সুস্থ হতে তাকে এখনো দীর্ঘ ও কষ্টকর এক পথ পাড়ি দিতে হবে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
নিউইয়র্কে ‘সিভিলিয়ান অব দ্য ইয়ার’ সম্মাননা পেলেন বাংলাদেশি-আমেরিকান আনোয়ার হোসেন
নিউইয়র্কে বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ কর্মকর্তা পেলেন ‘সিভিলিয়ান অব দ্য ইয়ার’ সম্মাননা

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে এনওয়াইপিডি মুসলিম অফিসার্স সোসাইটির ১৮তম বার্ষিক বৃত্তি ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে ‘সিভিলিয়ান অব দ্য ইয়ার’ সম্মাননা পেয়েছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান ট্রাফিক সুপারভাইজার আনোয়ার হোসেন। গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) কুইন্সের টেরেস অন দ্য পার্কে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাঁর পেশাগত দায়িত্ব পালন ও কমিউনিটিতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই সম্মাননা দেওয়া হয়েছে বলে অনুষ্ঠানসংক্রান্ত তথ্যে জানানো হয়।   নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের মুসলিম কর্মকর্তাদের সংগঠন মুসলিম অফিসার্স সোসাইটির আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশসহ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ট্রাফিক বিভাগের সদস্য, তাঁদের পরিবার এবং বিভিন্ন কমিউনিটির প্রতিনিধিরা অংশ নেন। প্রায় ৭০০ অতিথির উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত আয়োজনে পেশাগত সাফল্যের পাশাপাশি শিক্ষা ও জনসেবায় অবদান রাখা ব্যক্তিদের সম্মাননা জানানো হয়।  অনুষ্ঠানে বাংলাদেশি-আমেরিকান আনোয়ার হোসেনের সম্মাননা প্রাপ্তির বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়। তিনি এনওয়াইপিডির ট্রাফিক বিভাগে সুপারভাইজার হিসেবে কর্মরত। তাঁর দায়িত্ব পালন ও কমিউনিটিতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ‘সিভিলিয়ান অব দ্য ইয়ার’ সম্মাননা দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানে মুসলিম অফিসার্স সোসাইটির সভাপতি ডেপুটি ইন্সপেক্টর ওয়াহিদ আখতার সংগঠনের কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগে কর্মরত মুসলিম কর্মকর্তাদের পেশাগত অবদানের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর সঙ্গে পুলিশ বিভাগের সম্পর্ক শক্তিশালী করার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। আয়োজনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান। পুলিশ বিভাগের সদস্যদের সন্তানদের শিক্ষাগত সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে বৃত্তি তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি দায়িত্ব পালনে বিশেষ অবদান রাখা কর্মকর্তাদের সম্মাননা দেওয়া হয়। সংগঠনটির পক্ষ থেকে পেশাগত উন্নয়ন, নেতৃত্বের সুযোগ এবং সদস্যদের পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে কোরআন তেলাওয়াত, অতিথিদের বক্তব্য ও পুরস্কার বিতরণের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক পরিবেশনার আয়োজন করা হয়। নৈশভোজ ও আরবি সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হয়। এতে বিভিন্ন দেশের মুসলিম কমিউনিটির প্রতিনিধিরা অংশ নেন এবং পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ পান। নিউইয়র্কে কর্মরত বাংলাদেশি-আমেরিকানদের জন্য এ ধরনের সম্মাননা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। পুলিশ ও ট্রাফিক বিভাগের মতো জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানে তাঁদের পেশাগত অবদান কমিউনিটির প্রতিনিধিত্বকে আরও দৃশ্যমান করে তুলছে। আনোয়ার হোসেনের সম্মাননা প্রাপ্তির খবরও সেই অর্জনের অংশ হিসেবে সামনে এসেছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৬, ২০২৬ ৮:৩৬
যুক্তরাষ্ট্রের মানচিত্রে ভারমন্ট বাদ পড়ায় বিতর্ক

জ্বালানি অবকাঠামোয় বিনিয়োগের ঘোষণা দিতে গিয়ে মানচিত্রের ভুলে সমালোচনায় ট্রাম্প প্রশাসন

ফ্লোরিডা টার্নপাইকে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ছয়জনের মৃ ত্যু

ফ্লোরিডা টার্নপাইকে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ছয়জনের মৃ ত্যু, জ্বলন্ত গাড়িতে আটকে ছিলেন সবাই

জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে প্রশ্নের মুখে ডোনাল্ড ট্রাম্প

জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও পরোয়া করেন না ট্রাম্প, যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল মুনাফার দাবি

কর্মীদের সন্তুষ্টি, বেতন-সুযোগ-সুবিধা, পেশাগত উন্নতি ও কর্মপরিবেশের মূল্যায়নে যুক্তরাষ্ট্রের সেরা ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রকাশ করেছে গ্লাসডোর। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে কাজের জন্য সেরা ১০ প্রতিষ্ঠান, শীর্ষে কার ওয়াশ কোম্পানি

যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৬ সালে কাজের জন্য সেরা ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রকাশ করেছে কর্মক্ষেত্রবিষয়ক পর্যালোচনা প্রতিষ্ঠান গ্লাসডোর। তালিকার শীর্ষে জায়গা পেয়েছে ইন্ডিয়ানাভিত্তিক পারিবারিক মালিকানাধীন গাড়ি ধোয়ার প্রতিষ্ঠান ক্রু কারওয়াশ। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ফাস্টফুড প্রতিষ্ঠান ইন-এন-আউট বার্গার এবং তৃতীয় স্থানে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়া। গ্লাসডোরের ১৮তম বার্ষিক ‘বেস্ট প্লেসেস টু ওয়ার্ক’ প্রতিবেদনে কর্মীদের মতামতের ভিত্তিতে এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এতে বিভিন্ন খাতের মোট ১০০টি প্রতিষ্ঠান স্থান পেয়েছে।   গ্লাসডোরের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত এক হাজার কর্মী রয়েছে এমন প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মীদের দেওয়া পর্যালোচনা বিশ্লেষণ করে তালিকাটি তৈরি করা হয়। ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত জমা পড়া মতামত এতে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। কর্মীদের কাছে তাঁদের সামগ্রিক কর্মসন্তুষ্টির পাশাপাশি বেতন ও সুযোগ-সুবিধা, পেশাগত উন্নতির সুযোগ, প্রতিষ্ঠানের সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ, বৈচিত্র্য, অন্তর্ভুক্তি, জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপনার ভূমিকা এবং কাজ ও ব্যক্তিজীবনের ভারসাম্য সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়। এসব বিষয়ে কর্মীদের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই প্রতিষ্ঠানের অবস্থান নির্ধারণ করা হয়েছে।   তালিকার প্রথম স্থানে থাকা ক্রু কারওয়াশ ২০২৪ সালের তালিকায় দ্বিতীয় হয়েছিল। কর্মীদের প্রতি ব্যবস্থাপনার সহযোগিতামূলক মনোভাব, পেশাগত উন্নতির সুযোগ এবং দলগত কাজের পরিবেশ প্রতিষ্ঠানটির ভালো অবস্থানের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে গ্লাসডোর উল্লেখ করেছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ইন-এন-আউট বার্গারের রেটিং ৫-এর মধ্যে ৪ দশমিক ৫। একই রেটিং পেয়েছে তৃতীয় স্থানে থাকা এনভিডিয়া, যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও কম্পিউটার চিপ প্রযুক্তির জন্য পরিচিত। তালিকার শীর্ষ তিনে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি গাড়ি ধোয়া ও খাদ্যসেবা খাতের প্রতিষ্ঠান থাকায় কর্মক্ষেত্রের মান যে শুধু প্রযুক্তি খাতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, তা উঠে এসেছে।   শীর্ষ ১০-এর চতুর্থ স্থানে রয়েছে অর্থ ও করসংক্রান্ত সেবা প্রতিষ্ঠান রায়ান, পঞ্চম স্থানে আবাসন ব্যবসার প্রতিষ্ঠান কেলার উইলিয়ামস এবং ষষ্ঠ স্থানে খাদ্য ও অন্যান্য পণ্য উৎপাদনকারী বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান মার্স। সপ্তম স্থানে রয়েছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান সার্ভিসনাউ, অষ্টম স্থানে ব্যবস্থাপনা পরামর্শক প্রতিষ্ঠান বেইন অ্যান্ড কোম্পানি, নবম স্থানে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান হিউস্টন মেথডিস্ট এবং দশম স্থানে প্রযুক্তি ও প্রকৌশল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ইপাম সিস্টেমস। তালিকার প্রথম ছয় প্রতিষ্ঠানের রেটিং ৪ দশমিক ৪ থেকে ৪ দশমিক ৬-এর মধ্যে। সার্ভিসনাউ, বেইন অ্যান্ড কোম্পানি, হিউস্টন মেথডিস্ট ও ইপাম সিস্টেমসের রেটিং ৫-এর মধ্যে ৪ দশমিক ৪।   প্রতিবেদনে প্রযুক্তি খাতে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কমে আসার প্রবণতাও তুলে ধরা হয়েছে। ২০২৬ সালের সেরা ১০০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রযুক্তি খাতের কোম্পানি রয়েছে ২৪টি। ২০২৫ সালে এই সংখ্যা ছিল ২৬, আর ২০২৪ সালে ছিল ৩১। গ্লাসডোরের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড্যানিয়েল ঝাওয়ের মতে, বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে কর্মী ছাঁটাই এবং দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতার ওপর বাড়তি গুরুত্ব দেওয়ার কারণে খাতটির কর্মক্ষেত্রের আকর্ষণ কিছুটা কমেছে। তবে প্রযুক্তি খাতে উচ্চ বেতন ও পেশাগত উন্নতির সুযোগ এখনো রয়েছে।   অন্যদিকে, কর্মীরা কর্মক্ষেত্রে নমনীয়তাকে ক্রমেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে অফিসে ফিরে কাজ করার বাধ্যবাধকতা এবং নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা নিয়ে কঠোর নীতির কারণে কর্মীদের পছন্দে পরিবর্তন আসছে। এ বছরের তালিকায় খুচরা বিক্রয় খাতের ১০টি এবং উৎপাদন খাতের ৯টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। গ্লাসডোরের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, কর্মীদের জন্য সহায়ক নেতৃত্ব, উন্নতির সুযোগ, ভালো কর্মপরিবেশ এবং কাজ ও ব্যক্তিজীবনের ভারসাম্য নিশ্চিত করতে পারা প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন খাত থেকেই সেরা কর্মক্ষেত্রের স্বীকৃতি পাচ্ছে।   সূত্র: সিএনবিসি ও গ্লাসডোর।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৫, ২০২৬ ২২:৫২
মেয়েকে হত্যার অভিযোগে ১২ বছরেরও বেশি সময় পলাতক থাকার পর মেক্সিকোয় আটক হয়েছেন আনা মার্লিন সোমোজা। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

মেয়েকে হত্যার অভিযোগে প্রায় ৩০ বছর পর মেক্সিকোয় আটক পলাতক মা

ভিসার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে ধনীদের শীর্ষ ১০ শতাংশের মধ্যে থাকতে নিট সম্পদ প্রয়োজন অন্তত ১৮ লাখ ডলার। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ১০ শতাংশ ধনীর তালিকায় থাকতে নিট সম্পদ হতে হবে ১৮ লাখ ডলার

কুইন্সের ফার রকওয়ে এলাকার একটি পার্কে মাটিচাপা অবস্থায় নারীর মরদেহ উদ্ধারের পর মৃত্যুর কারণ জানতে ময়নাতদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

নিউ ইয়র্কের কুইন্স পার্কে গর্ত থেকে নারীর পচনশীল মরদেহ উদ্ধার, পরিচয় অজানা

নিউইয়র্কের ব্রুকলিনের মিলার অ্যাভিনিউয়ে নিজ উদ্যোগে স্পিডব্রেকার বসিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা বরিস মেসেস। শিশুদের নিরাপত্তায় সড়কে গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণের দাবি জানিয়েছেন তিনি। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
প্রশাসনের সাড়া না পেয়ে শিশুদের নিরাপত্তায় নিজেই রাস্তায় স্পিডব্রেকার বসালেন নিউ ইয়র্কের বাসিন্দা

নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিজ উদ্যোগে রাস্তায় চারটি স্পিডব্রেকার বসিয়েছেন ৪৪ বছর বয়সী এক বাসিন্দা। এলাকার সড়কে দ্রুতগতির গাড়ি চলাচল নিয়ে উদ্বিগ্ন বরিস মেসেস নামের ওই ব্যক্তি শহর কর্তৃপক্ষের সাড়া না পেয়ে এ পদক্ষেপ নেন। গত সপ্তাহে সাইপ্রেস হিলস এলাকার মিলার অ্যাভিনিউ ও আরলিংটন অ্যাভিনিউয়ের আশপাশে স্পিডব্রেকারগুলো বসান তিনি। নির্মাণকাজে ব্যবহারের জন্য পাওয়া এসব স্পিডব্রেকার নিজেই রাস্তায় স্থাপন করেন মেসেস। তাঁর ভাষ্য, সড়কটি শিশুদের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে এবং গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।   নিউইয়র্ক ডেইলি নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেসেসের অভিযোগ, এলাকার বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে রাস্তায় স্পিডব্রেকার বসানোর জন্য নগর কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানিয়ে আসছেন। কিন্তু তাঁদের আবেদনে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে দাবি তাঁর। গত মার্চে একটি গাড়ি তাঁর পার্ক করে রাখা গাড়িতে ধাক্কা দেওয়ার ঘটনাও সড়কের নিরাপত্তা নিয়ে তাঁর উদ্বেগ বাড়িয়ে দেয়। এসব কারণে নিজেই উদ্যোগ নিয়ে স্পিডব্রেকার বসানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। তাঁর মতে, এতে এলাকার শিশুদের পাশাপাশি অন্য পথচারী ও বাসিন্দারাও উপকৃত হবেন।   নিজের উদ্যোগের পক্ষে যুক্তি দিয়ে মেসেস বলেন, এই রাস্তায় প্রতিদিন দ্রুতগতিতে গাড়ি চলাচল করে, যা সবার জন্যই বিপজ্জনক। তাঁর ভাষায়, ‘এটি সবার জন্যই ভালো। এই রাস্তাটি বিপজ্জনক।’ জরিমানা করা হলেও তিনি নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বিগ্ন নন বলেও জানান। স্পিডব্রেকারগুলো যেন সহজে সরে না যায়, সে জন্য বিশেষ ধরনের স্ক্রু ব্যবহার করে সেগুলো রাস্তার সঙ্গে আটকে দিয়েছেন বলে জানান তিনি। তবে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া এভাবে সড়কে স্থাপনা বসানোর বিষয়টি আইনগতভাবে কীভাবে বিবেচিত হবে, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।   প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মেসেসের বসানো স্পিডব্রেকারগুলো পরীক্ষা করেনি বলে জানানো হয়। একই সঙ্গে নিউইয়র্ক সিটি হল ও নগরীর পরিবহন বিভাগের কাছে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। ফলে তাঁর উদ্যোগের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের অবস্থান স্পষ্ট হয়নি। নিজে স্পিডব্রেকার বসিয়েই অবশ্য সন্তুষ্ট নন মেসেস। তাঁর মতে, সড়কটির বাকি অংশেও একই ধরনের ব্যবস্থা প্রয়োজন, যাতে গাড়ির গতি আরও কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।   সড়কের বাকি অংশের দিকে ইঙ্গিত করে নগর কর্তৃপক্ষের প্রতি আরও স্পিডব্রেকার বসানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। মেসেস বলেন, সেখানে আরও দুটি বা তিনটি স্পিডব্রেকার বসানো উচিত। শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নেবে বলে আশা করছেন তিনি। তাঁর এই উদ্যোগ সাইপ্রেস হিলস এলাকার সড়ক নিরাপত্তা এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দাবিকে আবারও সামনে এনেছে।   সূত্র: নিউইয়র্ক ডেইলি নিউজ।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৫, ২০২৬ ২১:৯
শান্তিতে নোবেল পুরস্কার নিয়ে নিজের অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পুরস্কারটি না পাওয়ার প্রসঙ্গে নরওয়েকে কটাক্ষ করেন তিনি। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

নোবেল শান্তি পুরস্কার না পেয়ে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প, বললেন ‘নরওয়ের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক রাখতে চাই না’

অভিবাসী পরিবারের পাশে দাঁড়াতে রাস্তায় কিশোররা

বাবা-মাকে হারানোর ভয়ে স্কুল ছাড়ল শিক্ষার্থীরা, অভিবাসী পরিবারের পাশে দাঁড়াতে রাস্তায় কিশোররা

এক শিক্ষার্থীর জন্য বেঞ্চ তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসা পাচ্ছেন এক শিক্ষক দম্পতি।

ফ্লোরিডায় ক্যানসারের চিকিৎসার মধ্যেও স্কুলছাত্রীর জন্য বেঞ্চ বানালেন দম্পতি, ভিডিও ভাইরাল

0 Comments