ক্যালিফোর্নিয়া

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জের নাগরিকদের অভিবাসন আটকের ঘটনা নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
ক্যালিফোর্নিয়ায় এশীয়দের আটক বেড়েছে ১১০৯ শতাংশ, সবচেয়ে বেশি ভারতীয়দের

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জের নাগরিকদের অভিবাসন আটকের ঘটনা ২০২৫ সালে আগের বছরের তুলনায় ১১০৯ শতাংশ বেড়েছে। ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ার ইকুইটি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষণে এ তথ্য উঠে এসেছে। বিশ্লেষণ অনুযায়ী, একই সময়ে ক্যালিফোর্নিয়ায় অভিবাসন ও কাস্টমস প্রয়োগ সংস্থার মোট আটকের সংখ্যা বেড়েছে ৩৮৬ শতাংশ।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রায় তিন হাজার এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জের নাগরিককে অভিবাসন ও কাস্টমস প্রয়োগ সংস্থা আটক করে। ওই বছর সংস্থাটির মোট আটকের ১১ শতাংশ ছিল এই জনগোষ্ঠীর। ২০২৪ সালে এই হার ছিল ৪ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে আটকের মোট অংশেও বড় পরিবর্তন দেখা গেছে।   ক্যালিফোর্নিয়ায় এশীয়, নেটিভ হাওয়াইয়ান ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জের বাসিন্দার সংখ্যা ৭২ লাখের বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের মোট এই জনগোষ্ঠীর প্রায় ৩০ শতাংশ ক্যালিফোর্নিয়ায় বসবাস করে। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ভারত, চীন, ভিয়েতনাম, আর্মেনিয়া ও লাওসের নাগরিকদের মধ্যে অভিবাসন আটকের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি বেড়েছে।   আটক হওয়া ব্যক্তিদের অপরাধের ইতিহাসেও বড় পরিবর্তন দেখা গেছে। ২০২৫ সালে আটক হওয়া এই জনগোষ্ঠীর প্রায় ৫৬ শতাংশের কোনো অপরাধের রেকর্ড ছিল না। ২০২৪ সালে এই হার ছিল ১৯ শতাংশ। বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, নারী, শিশু এবং অপরাধের রেকর্ড নেই এমন ব্যক্তিদের আটকের সংখ্যাও বেড়েছে।   ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন শহরে ২০২৫ সালে অভিবাসন ও কাস্টমস প্রয়োগ সংস্থা এবং সীমান্ত টহল বাহিনীর একাধিক অভিযান পরিচালিত হয়। ২০২৬ সালে এসব অভিযান আরও লক্ষ্যভিত্তিক ও কম প্রচারিত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে আগের বছরগুলোর তুলনায় অভিবাসন কার্যক্রম এখনও বেশি রয়েছে।   এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জের জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এসব আটকের কারণে কমিউনিটির মানুষের মধ্যে ভয় তৈরি হচ্ছে। পরিবারগুলো স্বজনদের খুঁজে বের করতে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ছে এবং অনেক পরিবারকে আতঙ্কের মধ্যে ছুটতে হচ্ছে। অভিবাসন অধিকারকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাড়ির সামনে, কর্মস্থলে যাওয়ার পথে, কর্মস্থলে এবং আদালতে নিয়মিত হাজিরার সময়ও আটকের ঘটনা ঘটছে।   বিশ্লেষণে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির প্রভাব নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে। প্রশাসন গুরুতর অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বললেও বিশ্লেষণে অপরাধের রেকর্ড নেই এমন ব্যক্তিদের আটকের পাশাপাশি বৈধ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও অভিযান বাড়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।   সিরাকিউজ বিশ্ববিদ্যালয়ের লেনদেনমূলক রেকর্ড প্রবেশাধিকার ক্লিয়ারিংহাউসের সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন হেফাজত কেন্দ্রে থাকা ৭০ শতাংশের বেশি মানুষের কোনো অপরাধের সাজা নেই। ক্যালিফোর্নিয়ায় আটকের প্রবণতার সঙ্গে এই তথ্যও বিশ্লেষণে বিবেচনা করা হয়েছে।   ইকুইটি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষণটি ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত অভিবাসন ও কাস্টমস প্রয়োগ সংস্থার জানানো ব্যক্তিগত আটকের রেকর্ডের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। এসব তথ্য ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্কলির বহিষ্কারসংক্রান্ত তথ্য প্রকল্পের মাধ্যমে প্রক্রিয়াজাত করা হয়েছে।   তবে এই হিসাব ক্যালিফোর্নিয়ায় ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে হওয়া সব অভিবাসন আটকের পূর্ণ চিত্র নয়। কারণ বিশ্লেষণে শুধু অভিবাসন ও কাস্টমস প্রয়োগ সংস্থার আটকের তথ্য রয়েছে। সীমান্ত টহলসহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় সংস্থাও ক্যালিফোর্নিয়ায় বহিষ্কার কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। ফলে প্রকৃত মোট আটকের সংখ্যা এই বিশ্লেষণে পাওয়া সংখ্যার চেয়ে বেশি হতে পারে।

তাবাস্সুম আগস্ট ১৫, ২০২৬ ১৪:০
১০০তম জন্মদিন উদযাপনে নাতির সাথে আকাশ থেকে ঝাঁপ দাদির
১০০তম জন্মদিন উদযাপনে নাতির সাথে আকাশ থেকে ঝাঁপ দাদির

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার রোজভিলের বাসিন্দা রুবি ম্যাকনালি তাঁর ১০০তম জন্মদিন উদযাপন করেছেন একেবারেই ব্যতিক্রমীভাবে—আকাশ থেকে ঝাঁপ দিয়ে।   বৃহস্পতিবার ডেভিস শহরের স্কাইড্যান্স স্কাইডাইভিংয়ে পরিবারের সদস্য ও বন্ধুদের সঙ্গে স্কাইডাইভিং করেন শতবর্ষী এই নারী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন পরিবারের ছয় সদস্য ও বন্ধু।   রুবি ম্যাকনালির স্কাইডাইভিংয়ের শুরু ৮০তম জন্মদিনে। সেবার তাঁর নাতি মজা করে তাকে স্কাইডাইভিং করার চ্যালেঞ্জ দেন। তিনি রাজি হয়ে গেলেও ভাবেননি, নাতি সত্যিই সেই প্রতিশ্রুতি মনে রাখবে।   কিন্তু সেই অভিজ্ঞতার পর আর থামেননি রুবি। ৯০তম জন্মদিনে তিনি আবারও আকাশ থেকে ঝাঁপ দেন এবং তখনই প্রতিশ্রুতি দেন, ১০০ বছর বয়সেও একই কাজ করবেন।   তাঁর মেয়ে শ্যারন ম্যাকনালির ভাষায়, শতবর্ষী রুবিকে কোনো সিদ্ধান্ত থেকে ফেরানো সহজ নয়। এবারও পরিবারের সদস্যদের পক্ষে তাঁকে এই পরিকল্পনা থেকে বিরত রাখা সম্ভব হয়নি।   বয়স নিয়ে ভয় বা ঝুঁকি সম্পর্কে রুবির নিজেরও খুব বেশি দুশ্চিন্তা নেই। তাঁর মতে, কোনো কিছু করার আগে অতিরিক্ত চিন্তা করতে থাকলে শেষ পর্যন্ত সেটি করার সাহসই হারিয়ে যেতে পারে।   ১০০ বছর বয়সী দাদির সঙ্গে স্কাইডাইভিংয়ের এই অভিজ্ঞতা পরিবারের তরুণ সদস্যদের কাছেও ছিল বিশেষ কিছু। রুবির কয়েকজন নাতি-নাতনিও এবার তাঁর সঙ্গে আকাশ থেকে ঝাঁপ দেন।   নাতনি এপ্রিল বারটক বলেন, ১০০ বছর বয়সী দাদির সঙ্গে স্কাইডাইভিং করার অভিজ্ঞতা পৃথিবীতে খুব বেশি মানুষের নেই। পরিবারের জন্য এটি সত্যিই বিশেষ একটি মুহূর্ত।   রুবি ম্যাকনালি এখন চান, তাঁর পরিবারের পরবর্তী প্রজন্মও এই ঐতিহ্য ধরে রাখুক। এমনকি পরবর্তী লাফের জন্য আর ১০ বছর অপেক্ষা না করে প্রতি বছরই পরিবারের সবাই মিলে স্কাইডাইভিং করার প্রস্তাব দিয়েছেন তাঁর নাতনি।   আর ১১০ বছর বয়সে আবারও আকাশ থেকে ঝাঁপ দেবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে রুবির উত্তর, তিনি সেই লক্ষ্যেই এগোচ্ছেন।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১৫, ২০২৬ ১৪:০
প্রেমের বিচ্ছেদ মেনে নিতে না পেরে প্রেমিকাসহ ৪ জনকে হত্যা
প্রেমের বিচ্ছেদ মেনে নিতে না পেরে প্রেমিকাসহ ৪ জনকে হত্যা, বাড়িতে আগুন ২১ বছরের যুবকের

২০২৪ সালের নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ল্যাঙ্কাস্টারে একটি বাড়িতে চারজনকে হত্যার পর আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় ২১ বছর বয়সী মিগুয়েল দিয়েগো স্যান্ডোভাল চারটি প্রথম-ডিগ্রি হত্যার অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছেন।   লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির প্রসিকিউটরদের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি প্রেমের সম্পর্কের বিচ্ছেদকে কেন্দ্র করে প্রতিশোধ নিতে পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়। নিহতদের মধ্যে ছিলেন ২১ বছর বয়সী জানভি মাকুইনদাং, ২৫ বছর বয়সী ক্রিস্টিন আকা-আক, ২৪ বছর বয়সী এডউইন গার্সিয়া এবং ২১ বছর বয়সী ম্যাথিউ মন্টেবেলো।   ঘটনাটি ঘটে ২০২৪ সালের ১৬ নভেম্বর। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, স্যান্ডোভাল নর্থ ট্যাবলার অ্যাভিনিউয়ের ওই বাড়ির বাইরে অপেক্ষা করছিলেন। ভেতরের বাসিন্দারা ঘুমিয়ে পড়ার পর তিনি বাড়িতে প্রবেশ করেন এবং চারজনকে গুলি করে হত্যা করেন।   এরপর বাড়িটিতে আগুন ধরিয়ে দেন স্যান্ডোভাল। আগুনে পরিবারের তিনটি কুকুরও মারা যায়। একই সময়ে বাড়ির ভেতরে থাকা দুই অপ্রাপ্তবয়স্ক আটকা পড়ে। তাদের একজন ১৬ বছর বয়সী কিশোর তালাবদ্ধ একটি কক্ষ থেকে জরুরি নম্বরে ফোন করলে পরে লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির শেরিফের ডেপুটিরা তাকে উদ্ধার করেন।   চারটি হত্যার পাশাপাশি স্যান্ডোভাল একটি হত্যাচেষ্টা, বসতবাড়িতে প্রথম-ডিগ্রির চুরি, বসবাসরত স্থাপনায় অগ্নিসংযোগ, প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতার তিনটি অভিযোগ এবং শিশু নির্যাতনের দুটি অভিযোগেও দোষ স্বীকার করেছেন।   হত্যার অভিযোগগুলোর সঙ্গে একাধিক ব্যক্তিকে হত্যার বিশেষ পরিস্থিতি এবং ওত পেতে থেকে হত্যার অভিযোগও যুক্ত রয়েছে। এসব অভিযোগের কারণে মামলাটি আরও গুরুতর মাত্রা পেয়েছে।   লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির জেলা অ্যাটর্নি নাথান জে. হকম্যান বলেন, সম্পর্কের বিচ্ছেদের পর প্রতিশোধ নিতে স্যান্ডোভাল এই ‘পরিকল্পিত সহিংসতা’ চালিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, এই হত্যাকাণ্ড নিহতদের পরিবারগুলোর জন্য এমন এক শূন্যতা তৈরি করেছে, যা কখনো পূরণ হওয়ার নয়।   দোষ স্বীকারের ফলে স্যান্ডোভালের দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড নিশ্চিত হওয়ার পথে রয়েছে। আদালতের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী ১৭ নভেম্বর তাঁর আনুষ্ঠানিক সাজা ঘোষণা হওয়ার কথা।   মামলার নথি ও তদন্তসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার আগে স্যান্ডোভালের গতিবিধি এবং তদন্তকারীরা কীভাবে তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করেছিলেন, তার সব বিস্তারিত এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।   ২০২৪ সালের ওই হত্যাকাণ্ডের পর তদন্তে লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি শেরিফের হোমিসাইড ব্যুরো, জেলা অ্যাটর্নির কার্যালয় এবং সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করে। দোষ স্বীকারের মধ্য দিয়ে বহুল আলোচিত মামলাটির বিচারিক প্রক্রিয়া এখন সাজা ঘোষণার পর্যায়ে পৌঁছেছে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১৫, ২০২৬ ১৪:০
ক্যালিফোর্নিয়ায় যানজট ছাড়াই মাত্র তিন ঘণ্টার ট্রেনযাত্রা, চোখজুড়ানো প্রকৃতির হাতছানি
ক্যালিফোর্নিয়ায় মাত্র তিন ঘণ্টায় প্রকৃতি, ইতিহাস ও শহরের সৌন্দর্য উপভোগের অনন্য ট্রেনরুট

ক্যালিফোর্নিয়ার ব্যস্ত মহাসড়কগুলোর ক্লান্তিকর যানজট এড়িয়ে উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ার অনিন্দ্যসুন্দর প্রাকৃতিক রূপ উপভোগ করার জন্য দারুণ এক সুযোগ করে দিচ্ছে অ্যামট্রাকের ‘ক্যাপিটল করিডোর’ ট্রেন সার্ভিস। ওবার্ন থেকে শুরু হয়ে সান হোসে পর্যন্ত বিস্তৃত প্রায় ১৭০ মাইলের এই রেলরুটটি মাত্র তিন ঘণ্টার কিছু বেশি সময়ে যাত্রীদের ঐতিহাসিক গোল্ড কান্ট্রি, সবুজ কৃষিজমি এবং প্রশান্ত জলসীমার মধ্য দিয়ে এক শহর থেকে অন্য শহরে পৌঁছে দেয়।   মোট ১৮টি স্টেশনকে সংযুক্ত করা এই রুটটি সম্প্রতি পর্যটকদের কাছে একটি দারুণ ও তুলনামূলক কম আলোচিত রোমাঞ্চকর ভ্রমণপথ হিসেবে নতুন করে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।   এই নয়নাভিরাম রেলযাত্রার সূচনা হয় ঐতিহাসিক গোল্ড রাশ ও মনোরম হাইকিং ট্রেইলের জন্য পরিচিত ওবার্ন শহর থেকে। এরপর রকলিন ও রোজভিল পেরিয়ে ট্রেনটি ক্যালিফোর্নিয়ার রাজধানী স্যাক্রামেন্টোতে প্রবেশ করে, যেখানে যাত্রীরা নেমে ঐতিহাসিক স্টেট ক্যাপিটল ভবন পরিদর্শনের সুযোগ পান। সেখান থেকে সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়ার দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় যাত্রীরা জানালার পাশে বসে উপভোগ করতে পারেন বিস্তীর্ণ কৃষিজমির মনোরম দৃশ্য।   এরপর ট্রেনটি কারকিনেজ প্রণালী ছুঁয়ে মার্টিনেজ ও রিচমন্ডের উপকূলরেখা ঘেঁষে এগিয়ে যায়, যা সান পাবলো উপসাগরের নয়নাভিরাম দৃশ্য চোখের সামনে মেলে ধরে।   স্থানীয়দের কাছে এই রুটটি ইতোমধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়। ২০২৫ অর্থবছরে ক্যাপিটল করিডোরে প্রায় ১১ লাখ ৩০ হাজার যাত্রী যাতায়াত করেছেন, যা থেকে রেল কর্তৃপক্ষের আয় হয়েছে ২ কোটি ৯৬ লাখ ডলার। রুটটির পশ্চিম অংশে ট্রেনটি বিখ্যাত বাইকবান্ধব শহর ডেভিস, বার্কলে এবং ওকল্যান্ডের জ্যাক লন্ডন স্কয়ারের মতো প্রাণবন্ত ওয়াটারফ্রন্ট এলাকায় যাত্রা বিরতি দেয়।   এরপর দক্ষিণ বে অঞ্চলের সান হোসের দিকে এগিয়ে যাওয়ার পথে সান্তা ক্লারার লেভিস স্টেডিয়ামের কাছাকাছি একটি স্টপেজে থামে, যা সান ফ্রান্সিসকো ফোর্টিনাইনার্সের ম্যাচ দেখতে আসা দর্শকদের যানজট এড়ানোর মোক্ষম সুযোগ দেয়। যাত্রার শেষ প্রান্ত সান হোসেতে রয়েছে ঐতিহাসিক জাপানটাউন, বিখ্যাত রোজিক্রুশিয়ান ইজিপশিয়ান মিউজিয়াম এবং সান্তা ক্রুজ পর্বতমালার হাতছানি।   যাত্রীদের আরামদায়ক ভ্রমণ নিশ্চিত করতে ক্যাপিটল করিডোরের বগিগুলোতে রয়েছে আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা। প্রশস্ত কোচ সিট, কাজের জন্য টেবিল, বৈদ্যুতিক প্লাগ পয়েন্ট ও পরিচ্ছন্ন শৌচাগারের পাশাপাশি এতে সার্বক্ষণিক বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই সেবা ও খাবারের জন্য ক্যাফে কারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। দ্রুতগতির এই ট্রেন ভ্রমণ কেবল দীর্ঘ দূরত্বের যাত্রাকেই সহজ করেনি, বরং ক্যালিফোর্নিয়ার ইতিহাস ও প্রকৃতির আসল রূপ দেখার এক দুর্দান্ত মাধ্যম হয়ে উঠেছে।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ১৪, ২০২৬ ১৪:০
লস অ্যাঞ্জেলেসের পালমডেলে ফস্টার কেয়ার ভিলেজ প্রকল্পের নির্মাণাধীন এলাকা ও ক্রিশ্চিয়ান বেল দম্পতি। ছবি: সংগৃহীত
আশ্রয়ের শিশুরা যেন ভাইবোনের থেকে বিছিন্ন না হয়, ২২ মিলিয়ন ডলারের গ্রাম গড়ছেন ক্রিশ্চিয়ান বেল

ক্যালিফোর্নিয়ার ফস্টার কেয়ার ব্যবস্থায় কোনো শিশু পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর যেন নিজের ভাইবোনকেও হারিয়ে না ফেলে, সেই লক্ষ্য নিয়ে প্রায় দুই দশক ধরে কাজ করছেন অস্কারজয়ী অভিনেতা ক্রিশ্চিয়ান বেল। তার উদ্যোগে লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির পালমডেলে গড়ে উঠছে বিশেষ একটি ফস্টার কেয়ার ভিলেজ, যেখানে একই পরিবারের একাধিক ভাইবোনকে একসঙ্গে রাখার ব্যবস্থা থাকবে।    বেলের এই উদ্যোগের শুরু ২০০৮ সালের দিকে। নিজের সন্তান হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের ফস্টার কেয়ার ব্যবস্থায় থাকা শিশুদের পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে গিয়ে তিনি আবিষ্কার করেন, অনেক ক্ষেত্রেই ফস্টার কেয়ারে প্রবেশের পর ভাইবোনদের আলাদা বাড়িতে পাঠানো হয়। পরিবার হারানোর ধাক্কার পাশাপাশি পরিচিত ভাই বা বোনের কাছ থেকেও বিচ্ছিন্ন হওয়ার বিষয়টি তাকে গভীরভাবে নাড়া দেয়।    শুধু অর্থ দিয়ে কোনো প্রতিষ্ঠানের পাশে দাঁড়ানোর পরিবর্তে বেল দীর্ঘমেয়াদি একটি ব্যবস্থা তৈরির উদ্যোগ নেন। পরে চিকিৎসক ও চলচ্চিত্র প্রযোজক ড. এরিক এসরাইলিয়ানের সঙ্গে মিলে তিনি টুগেদার ক্যালিফোর্নিয়া নামে অলাভজনক সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন। এ কাজে ফস্টার কেয়ার নিয়ে অভিজ্ঞ টিম ম্যাককরমিকও যুক্ত হন।    পরিকল্পনাটি বাস্তবে রূপ দিতে অবশ্য দীর্ঘ সময় লেগেছে। জমি খোঁজা, সরকারি অনুমোদন, অর্থ সংগ্রহ, পরিকল্পনা তৈরি এবং কোভিড মহামারির কারণে নানা বাধা পেরিয়ে অবশেষে ২০২৪ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি পালমডেলে প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক নির্মাণকাজ শুরু হয়।    প্রায় ৪ দশমিক ৭ একর জায়গার ওপর তৈরি হচ্ছে এই বিশেষ কমিউনিটি। পরিকল্পনা অনুযায়ী সেখানে ১২টি ফ্যামিলি হোম থাকবে। প্রতিটি বাড়িতে প্রশিক্ষিত ফুলটাইম ফস্টার প্যারেন্টের তত্ত্বাবধানে একই পরিবারের সর্বোচ্চ ছয় ভাইবোন একসঙ্গে থাকতে পারবে।    এখানেই শেষ নয়। প্রকল্পটিতে দুটি স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্টও রাখা হচ্ছে। ফস্টার কেয়ার থেকে বয়সের কারণে বেরিয়ে আসা তরুণদের সাময়িক আবাসন এবং সন্তানদের সঙ্গে পুনরায় একত্রিত হওয়ার প্রক্রিয়ায় থাকা জন্মদাতা বাবা-মায়ের থাকার জন্য এগুলো ব্যবহার করা হবে।    পুরো গ্রামের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকছে প্রায় ৭ হাজার বর্গফুটের একটি কমিউনিটি সেন্টার। শিশু ও ফস্টার পরিবারের জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম, কাউন্সেলিং, শিক্ষা ও সহায়তামূলক সেবা দেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় কমিউনিটির জন্যও কেন্দ্রটি ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে খোলা জায়গা, বাগান ও বিনোদনের ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে।    প্রকল্পটির ব্যয় প্রথমদিকে প্রায় ২২ মিলিয়ন ডলার ধরা হলেও পরবর্তী প্রতিবেদনে মোট ব্যয় আরও বাড়ার কথা উঠে এসেছে। অর্থের পুরোটা ক্রিশ্চিয়ান বেল ব্যক্তিগতভাবে দিচ্ছেন না। সরকারি সহায়তা, বিভিন্ন দাতা এবং বেসরকারি অনুদানের সমন্বয়ে প্রকল্পটির অর্থায়ন হচ্ছে। ২০২২ সালে জমি কেনার জন্য পালমডে সিটি ও লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি বোর্ড অব সুপারভাইজারস মিলিয়ে ১ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলার সহায়তাও দিয়েছিল।   বেল নিজেও কখনো দাবি করেননি যে পুরো প্রকল্পটি তার নিজের অর্থে তৈরি হচ্ছে। বরং প্রায় দুই দশক ধরে পরিকল্পনাটি টিকিয়ে রাখা, সহযোগী ও দাতা খুঁজে বের করা এবং প্রশাসনিক বাধা অতিক্রম করে বাস্তব নির্মাণের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়াই তার ভূমিকার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক। ২০২৪ সালে নির্মাণকাজ উদ্বোধনের সময় তিনি বলেছিলেন, প্রকল্পটির প্রতিটি ধাপের সঙ্গে যুক্ত থাকতে চান এবং ভবিষ্যতে এমন আরও কমিউনিটি তৈরি হওয়ার আশা করেন।    প্রকল্পটি এখন দৃশ্যমান বাস্তবতায় রূপ নিচ্ছে। ২০২৬ সালের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ১২টি বাড়ির কাঠামো নির্মাণ অনেকটাই এগিয়েছে। টুগেদার ক্যালিফোর্নিয়ার নিজস্ব পরিকল্পনায় ২০২৬ সালেই বাসিন্দাদের সেখানে ওঠার সম্ভাব্য সময় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।    ক্রিশ্চিয়ান বেলের কাছে এই উদ্যোগের মূল বিষয়টি আবাসন নয়, বরং পরিবার। একটি শিশু যখন ফস্টার কেয়ারে যায়, তখন নিজের বাড়ি ও বাবা-মায়ের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার অভিজ্ঞতাই তার জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে। এর সঙ্গে যেন তাকে ভাইবোনদেরও হারাতে না হয়, সেই ধারণাই টুগেদার ক্যালিফোর্নিয়ার পুরো মডেলের ভিত্তি।    ‘ব্যাটম্যান’ চরিত্রে বিশ্বজুড়ে পরিচিত ক্রিশ্চিয়ান বেল এবার পর্দার বাইরের একটি দীর্ঘ লড়াইকে বাস্তবে রূপ দিতে চলেছেন। ২০০৮ সালের একটি ভাবনা থেকে শুরু হওয়া পথটি প্রায় ১৮ বছর পর এমন একটি গ্রামে পরিণত হচ্ছে, যার প্রধান উদ্দেশ্য একটাই, ফস্টার কেয়ারে গেলেও ভাইবোন যেন একে অপরকে হারিয়ে না ফেলে।

তাবাস্সুম আগস্ট ১৩, ২০২৬ ১৪:০
ক্যালিফোর্নিয়ায় বেকার ভাতার আবেদনে রেকর্ড
ক্যালিফোর্নিয়ায় বেকার ভাতার আবেদনে রেকর্ড, ধারে-কাছেও নেই নিউইয়র্ক-টেক্সাস

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে বেকার ভাতার আবেদনে বিশাল উল্লম্ফন দেখা গেছে। নতুন এক প্রতিবেদনের তথ্যমতে, গত মাসের একটি নির্দিষ্ট সপ্তাহে রাজ্যটিতে ৩ লাখ ৪২ হাজার ৭৪৭টি 'কন্টিনিউড আনএমপ্লয়মেন্ট বেনিফিট' বা চলমান বেকার ভাতার আবেদন জমা পড়েছে। এই সংখ্যা তালিকার দ্বিতীয় স্থানে থাকা অঙ্গরাজ্যটির মোট আবেদনের দ্বিগুণেরও বেশি। মার্কিন শ্রম দপ্তরের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে করা একটি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বেকার ভাতার আবেদনের ক্ষেত্রে 'গোল্ডেন স্টেট' খ্যাত ক্যালিফোর্নিয়া নিউইয়র্ক (১ লাখ ৬৮ হাজার ৪২৭) এবং টেক্সাসকে (১ লাখ ৫৩ হাজার ১৮৭) অনেক বড় ব্যবধানে পেছনে ফেলেছে।   কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রডাক্টিভিটি প্ল্যাটফর্ম 'প্লাস' (Plus) মার্কিন শ্রম দপ্তরের ওই নির্দিষ্ট সপ্তাহের তথ্যের ভিত্তিতে এই বিশ্লেষণটি চালিয়েছে। ৪ জুলাই থেকে ১১ জুলাইয়ের মধ্যকার তথ্যানুযায়ী, ক্যালিফোর্নিয়ায় বেকারত্ব বিমা ব্যবস্থার আওতাভুক্ত প্রতি এক লাখ কর্মীর মধ্যে ১ হাজার ৯০৫ দশমিক ৬টি বেকার ভাতার আবেদন জমা পড়েছে। দেশব্যাপী সামগ্রিক হারের দিক থেকে এই অঙ্গরাজ্যটি সপ্তম অবস্থানে রয়েছে। তবে এই হার প্রতি এক লাখ কর্মীতে জাতীয় গড় (১,০২৭টি আবেদন) থেকে প্রায় ৮৬ শতাংশ বেশি। কর্মীর সংখ্যার সাথে আনুপাতিক হিসাব বিবেচনা করলে ক্যালিফোর্নিয়ার আগে কেবল নিউ জার্সি, রোড আইল্যান্ড, ম্যাসাচুসেটস, মিনেসোটা, ওরেগন এবং ওয়াশিংটন রয়েছে।   সাধারণত কোনো আবেদনকারী প্রাথমিক আবেদনের পর অব্যাহতভাবে ভাতা পেতে থাকলে তাকে 'কন্টিনিউড আনএমপ্লয়মেন্ট বেনিফিট ক্লেইম' বলা হয়, যা মূলত চলমান বেকারত্ব পরিস্থিতির একটি বড় নির্দেশক। ক্যালিফোর্নিয়ার বিশাল শ্রমশক্তির কারণেই মূলত মোট আবেদনের সংখ্যাটি এত বেশি দেখাচ্ছে। তবে কর্মীর আনুপাতিক হিসাব বিবেচনায় নিলেও অঙ্গরাজ্যটি দেশের সর্বোচ্চ বেকার ভাতার আবেদনের তালিকায় উপরের দিকেই অবস্থান করছে। 'প্লাস'-এর সিইও এবং সহ-প্রতিষ্ঠাতা ড্যানিয়েল লি জানান, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বেকারত্বের চাপ কীভাবে ভিন্নভাবে প্রভাব ফেলছে, তা এই বিশ্লেষণে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে আটটি অঙ্গরাজ্য ছাড়া ২০২৫ সালের পর থেকে বাকি সব অঙ্গরাজ্যেই বেকার ভাতার আবেদন কমার প্রবণতা দেখা গেছে।   মোট আবেদনের সংখ্যা এবং সামগ্রিক বেকারত্বের হারের মধ্যে একটি সুস্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ায় মোট চলমান আবেদনের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি হলেও, আনুপাতিক হারে কয়েকটি ছোট অঙ্গরাজ্য এর চেয়ে এগিয়ে আছে। যেমন, প্রতি এক লাখ কর্মীতে ২ হাজার ৬৫০ দশমিক ৬টি আবেদন নিয়ে এই তালিকায় শীর্ষে রয়েছে নিউ জার্সি, যা জাতীয় গড়ের চেয়ে প্রায় ১৫৮ শতাংশ বেশি। যদিও তাদের মোট আবেদনের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ১২ হাজার ২২২, যা ক্যালিফোর্নিয়ার তুলনায় অনেক কম। এই তালিকায় দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে রোড আইল্যান্ড ও ম্যাসাচুসেটস। অন্যদিকে, সবচেয়ে কম বেকার ভাতার আবেদন দেখা গেছে সাউথ ডাকোটায়, যেখানে প্রতি এক লাখে আবেদনকারীর সংখ্যা মাত্র ২৮৪ দশমিক ৯ জন।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ১৩, ২০২৬ ১৪:০
ক্যালিফোর্নিয়ায় অবৈধ অভিবাসীর হাতে খু ন বৃদ্ধ, নিউসমকে দুষলেন ট্রাম্পের ‘বর্ডার জার’
ক্যালিফোর্নিয়ায় অবৈধ অভিবাসীর হাতে খু ন বৃদ্ধ, নিউসমকে দুষলেন ট্রাম্পের ‘বর্ডার জার’

ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের বাড়ির সামনে এক বৃদ্ধকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় রাজ্যটির গভর্নর গ্যাভিন নিউসমকে তীব্র আক্রমণ করেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের 'বর্ডার জার' টম হোম্যান। গত সপ্তাহে ক্যালিফোর্নিয়ার বে এরিয়াতে টড স্টুয়ার্ট (৬৮) নামের এক অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে নিজ বাড়ির লনে মর্মান্তিকভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় অভিযুক্ত মার্কোস ইরিয়ার্তে-ভালদেজ (৩৬) নামের এক অবৈধ ভেনেজুয়েলান অভিবাসী, যার কাছে স্পেনের নাগরিকত্বও রয়েছে।   'ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস'-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে টম হোম্যান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রাজনীতির শিকার না হলে ওই বৃদ্ধকে আজ প্রাণ হারাতে হতো না। ক্যালিফোর্নিয়ার 'স্যাংচুয়ারি সিটি' বা আশ্রয়দাতা শহরের নীতিকে দায়ী করে তিনি বলেন, "গভর্নর নিউসম এবং ক্যালিফোর্নিয়া প্রশাসন জননিরাপত্তার চেয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতি তাদের রাজনৈতিক আক্রোশকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে, যার ফলশ্রুতিতেই এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।" হোম্যান আরও জানান, গত এক দশকে এমন শত শত ঘটনার প্রমাণ তার কাছে রয়েছে।   সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, এই ভয়াবহ হামলার ঠিক আগের দিনই অভিযুক্ত ইরিয়ার্তে-ভালদেজকে জেল থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। এর আগে চুরির এক মামলায় গৃহবন্দী থাকার শর্ত লঙ্ঘন করা সত্ত্বেও নিউসমের নিয়োগকৃত এক বিচারক তাকে মুক্তি দেন। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, একটি ক্যাডিল্যাক এসইউভি থেকে নেমে প্রটেক্টিভ ভেস্ট পরা ওই ব্যক্তি স্টুয়ার্টের ওপর আচমকা ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। স্টুয়ার্ট মাটিতে লুটিয়ে পড়ে যন্ত্রণায় চিৎকার করার সময়ও তাকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, নিহত ব্যক্তি এবং হামলাকারীর মধ্যে পূর্বের কোনো পরিচয় ছিল না।   এই ঘটনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)-এর ব্যর্থতাকে দায়ী করায় ক্যালিফোর্নিয়া প্রশাসনের কড়া সমালোচনা করেছেন হোম্যান। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে তারা যথাযথ তদন্ত করে ওই ব্যক্তিকে বহিষ্কারের জন্য একটি ডিটেইনার ইস্যু করেছিলেন। তবে গভর্নরের কার্যালয় এক বিবৃতিতে এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে উল্টো ফেডারেল কর্তৃপক্ষের ওপরই দায় চাপিয়েছে। তাদের দাবি, ক্যালিফোর্নিয়ার কোনো আইন ফেডারেল কর্তৃপক্ষকে অভিবাসন আইন প্রয়োগে বাধা দেয় না। ২০০৭ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী এই অপরাধীর বিরুদ্ধে এর আগেও চুরি, বেআইনি অনুপ্রবেশ এবং স্ত্রীকে মারধর করার মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে তাকে ১.১ মিলিয়ন ডলারের জামিনে আটকে রাখা হয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ১৩, ২০২৬ ১৪:০
ক্যালিফোর্নিয়ার হাই স্পিড রেল প্রকল্পে টাকার সংকট
ক্যালিফোর্নিয়ার হাই স্পিড রেল প্রকল্পে টাকার সংকট, ২০২৭ সালেই থমকে যেতে পারে কাজ

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার বহুল আলোচিত হাই স্পিড রেল প্রকল্প নতুন করে বড় ধরনের অর্থ সংকটের মুখে পড়েছে। নতুন অর্থায়নের ব্যবস্থা করা না গেলে ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই প্রকল্পটির হাতে থাকা বর্তমান তহবিল শেষ হয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছেন ক্যালিফোর্নিয়া হাই স্পিড রেল প্রকল্পের ইন্সপেক্টর জেনারেল বেঞ্জামিন বেলন্যাপ। আগামী পাঁচ বছরে প্রকল্পটির অর্থায়ন ঘাটতি দাঁড়াতে পারে প্রায় ৯৫০ কোটি ডলার।   ক্যালিফোর্নিয়া হাই স্পিড রেল অথরিটির সংশোধিত ২০২৬ বিজনেস প্ল্যান পর্যালোচনা করে এই সতর্কতা দিয়েছেন ইন্সপেক্টর জেনারেল। ফক্স ১১ লস অ্যাঞ্জেলেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকল্পটির জন্য দীর্ঘমেয়াদে মোট ৩ হাজার ৯৩০ কোটি ডলারের সম্ভাব্য অর্থের উৎস চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রাজ্যের ক্যাপ অ্যান্ড ইনভেস্ট কর্মসূচি থেকে বছরে ১০০ কোটি ডলার পাওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।   সমস্যা হচ্ছে, নির্মাণকাজের সবচেয়ে ব্যয়বহুল সময়ে যে গতিতে অর্থ প্রয়োজন হবে, সেই গতিতে এসব উৎস থেকে টাকা আসবে না। ইন্সপেক্টর জেনারেলের হিসাব অনুযায়ী, নতুন ফাইন্যান্সিং নিশ্চিত করা না গেলে ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই বর্তমান অর্থের ভাণ্ডার শেষ হয়ে যেতে পারে।   শুধু ২০২৭-২৮ অর্থবছরেই নির্মাণকাজ নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী চালিয়ে যেতে অতিরিক্ত ২২০ কোটি ডলার প্রয়োজন হতে পারে। ২০২৭-২৮ থেকে ২০৩১-৩২ অর্থবছরের মধ্যে সব মিলিয়ে অর্থায়ন ঘাটতি প্রায় ৯৫০ কোটি ডলারে পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে।   এই ঘাটতি পূরণে রাজ্য সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণ, রেভিনিউ বন্ড এবং বেসরকারি বিনিয়োগসহ কয়েকটি বিকল্প নিয়ে আলোচনা চলছে। কিন্তু ঋণের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করলে প্রকল্পের খরচ আরও বাড়বে। ইন্সপেক্টর জেনারেলের পর্যালোচনা অনুযায়ী, ঋণের সুদ বাবদ অতিরিক্ত ৩৬০ কোটি থেকে ৬৬০ কোটি ডলার পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে।   এই সম্ভাব্য সুদের খরচ ক্যালিফোর্নিয়ার সেন্ট্রাল ভ্যালি অংশের জন্য হাই স্পিড রেল অথরিটির বর্তমান ৩ হাজার ৫৭০ কোটি ডলারের ব্যয় হিসাবের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত নেই।   ইন্সপেক্টর জেনারেলের পর্যালোচনায় প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয়ের আরও কয়েকটি বিষয় সামনে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে কন্টিনজেন্সি বাজেটে প্রায় ১২০ কোটি ডলারের ঘাটতি, তৃতীয় পক্ষের কাছ থেকে পাওয়ার প্রত্যাশায় রাখা প্রায় ৮১ কোটি ৬০ লাখ ডলারের নির্মাণ ব্যয় এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিদ্যমান চুক্তির আওতায় প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর জন্য আরও প্রায় ১৭০ কোটি ডলার।   প্রকল্পের ব্যয় কমাতে নির্মাণ পরিকল্পনাতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। বর্তমানে পছন্দের পরিকল্পনায় মার্সেড থেকে বেকার্সফিল্ড অংশের দৈর্ঘ্য ১৭১ মাইল থেকে কমিয়ে ১৬২ মাইল করার কথা রয়েছে। মার্সেডের পরিকল্পিত স্টেশন শহরের কেন্দ্রস্থলের পরিবর্তে শহরতলিতে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ডাউনটাউন বেকার্সফিল্ডের উত্তরে রেললাইন নির্মাণের একটি অংশ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার কথাও রয়েছে।   ইন্সপেক্টর জেনারেলের মতে, সাম্প্রতিক যে ব্যয় সাশ্রয়ের হিসাব দেখানো হচ্ছে, তার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এসেছে কাজের পরিমাণ কমানোর মাধ্যমে। অর্থাৎ শুধু নির্মাণ দক্ষতা বাড়িয়ে খরচ কমানো হয়নি, কিছু অবকাঠামো ও কাজের পরিধিও পরিবর্তন করা হয়েছে।   প্রকল্পের সময়সূচি নিয়েও নতুন অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। সরকারি নথিতে প্রাথমিক যাত্রীসেবা চালুর সময় নয় মাস পিছিয়ে ২০৩২ থেকে ২০৩৩ সালের মধ্যে নেওয়া হয়েছে। তবে ইন্সপেক্টর জেনারেলের ঝুঁকিভিত্তিক পরিসংখ্যান মডেল বলছে, পরিস্থিতি প্রতিকূল হলে প্রকল্পের এই অংশ শেষ হতে ২০৩৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।   ট্রেন কেনার পরিকল্পনাতেও পরিবর্তন এসেছে। আগস্টে প্রকাশিত নোটিশ অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ছয়টি ট্রেনসেট কেনার পরিকল্পনা কমিয়ে তিনটিতে আনা হয়েছে। সম্ভাব্য লিজ পারচেজ ব্যবস্থার অধীনে ট্রেন সরবরাহের সময়সীমা ২০৩০ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।   ক্যালিফোর্নিয়ার হাই স্পিড রেল প্রকল্পের অর্থায়ন পরিস্থিতি আরও জটিল হয় ফেডারেল সরকারের সঙ্গে বিরোধের পর। ২০২৫ সালে ফেডারেল সরকার প্রকল্পটির প্রায় ৪০০ কোটি ডলারের অনুদান বাতিল করে। ক্যালিফোর্নিয়া কর্তৃপক্ষ ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মামলা করলেও পরে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে মামলাটি প্রত্যাহার করে নেয়। হাই স্পিড রেল অথরিটি জানিয়েছে, ভবিষ্যতে আবারও ফেডারেল সরকারের সঙ্গে অর্থায়নের অংশীদারত্ব গড়ে তোলার আশা রয়েছে।   ইন্সপেক্টর জেনারেল বেলন্যাপ রাজ্যের আইনপ্রণেতা ও গভর্নরকে দেওয়া চিঠিতে প্রকল্পের ব্যয় ও সময়সূচি সম্পর্কিত তথ্য উপস্থাপনের পদ্ধতি নিয়েও সমালোচনা করেছেন। তার কার্যালয়ের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য যথেষ্ট স্বচ্ছভাবে উপস্থাপন করা হয়নি, ফলে আইনপ্রণেতাদের জন্য কার্যকর তদারকি কঠিন হয়ে পড়েছে।   অন্যদিকে ক্যালিফোর্নিয়া হাই স্পিড রেল অথরিটি জানিয়েছে, তারা গঠনমূলক তদারকিকে গুরুত্ব দেয় এবং প্রকল্পটি বাস্তবায়নে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রকল্পটি এখন রেললাইন বসানোর পর্যায়ে এগোচ্ছে এবং বেসরকারি খাত ও রাজ্যের বিভিন্ন অংশীদারের সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে বাস্তব অগ্রগতি হচ্ছে।   ক্যালিফোর্নিয়া হাই স্পিড রেল মূলত সান ফ্রান্সিসকো ও লস অ্যাঞ্জেলেসকে দ্রুতগতির ট্রেন নেটওয়ার্কে যুক্ত করার বৃহৎ পরিকল্পনার অংশ। তবে প্রকল্পটি বছরের পর বছর ধরে ব্যয় বৃদ্ধি, সময়সূচি পিছিয়ে যাওয়া এবং অর্থায়নের অনিশ্চয়তার মুখে রয়েছে। বর্তমানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে, ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ বর্তমান তহবিল ফুরিয়ে যাওয়ার আগেই প্রয়োজনীয় নতুন অর্থের ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে কি না।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১২, ২০২৬ ১৪:০
বমিতে শ্বাসনালি আটকে যাওয়া তিন বছর বয়সী এক মুমূর্ষু শিশুর প্রাণ বাঁচিয়েছেন পুলিশ সদস্যরা
ক্যালিফোর্নিয়ায় শ্বাসনালিতে বমি আটকে মৃত্যুর মুখে তিন বছরের শিশু, প্রাণ বাঁচাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় বমিতে শ্বাসনালি আটকে যাওয়া তিন বছর বয়সী এক মুমূর্ষু শিশুর প্রাণ বাঁচিয়েছেন পুলিশ সদস্যরা। স্যান বার্নার্ডিনো কাউন্টির রিয়াল্টো পুলিশের এই বীরত্বপূর্ণ উদ্ধার অভিযানের একটি শ্বাসরুদ্ধকর ভিডিও সম্প্রতি প্রকাশ্যে এসেছে। মায়ের চোখের সামনেই দম বন্ধ হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়া ওই শিশুকে একটি বিশেষ যন্ত্রের সাহায্যে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে ফিরিয়ে আনেন তারা।   জানা যায়, গত ৫ আগস্ট দুপুর ১২টা ১০ মিনিটের দিকে ওই শিশুর মা তার সাদা এসইউভি (SUV) গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছিলেন। পথে হঠাৎ তিনি বুঝতে পারেন যে তার সন্তানের শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে এবং সে বমি করে ফেলেছে। অবস্থা বেগতিক দেখে তিনি ইস্ট ফুটহিল বুলেভার্ডের ৩০০ ব্লকের কাছে গাড়ি থামিয়ে আতঙ্কিত অবস্থায় ৯১১ নম্বরে কল করেন। পুলিশ যখন ঘটনাস্থলে পৌঁছায়, তখন ওই অসহায় মা ফুটপাতে তার সন্তানের নিথর দেহ কোলে নিয়ে বসে ছিলেন। এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে শিশুটির মা বলেন, "আমার মনে হচ্ছিল ছেলেটা আমার চোখের সামনেই মারা যাচ্ছে।"   পরিস্থিতি বুঝতে পেরে এক পুলিশ কর্মকর্তা দ্রুত তার গাড়ি থেকে ‘লাইফভ্যাক’ (LifeVac) নামের একটি বিশেষ ডিভাইস বের করে আনেন। এরপর অন্য কর্মকর্তাদের সহায়তায় শিশুটিকে ফুটপাতে শুইয়ে ডিভাইসটির মাধ্যমে তার শ্বাসনালিতে আটকে থাকা প্রতিবন্ধকতা সরাতে পাম্প বা সাকশন তৈরি করতে থাকেন। বেশ কয়েকবার চেষ্টার পর অবশেষে শিশুটি শ্বাস নেয় এবং তার জ্ঞান ফেরে। এরপর রিয়াল্টো ফায়ার ডিপার্টমেন্টের কর্মীরা তাকে উদ্ধার করে উন্নত চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণের জন্য স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যান।   বডি-ক্যামেরার অপর একটি ফুটেজে দেখা যায়, হাসপাতালে সুস্থ হয়ে ওঠা সন্তানকে কোলে নিয়ে বসে আছেন ওই মা এবং তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের মাধ্যমে জীবন বাঁচানোর জন্য পুলিশ কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানাচ্ছেন। এ বিষয়ে রিয়াল্টো পুলিশের ক্যাপ্টেন ল্যামন্ট কোয়ার্কার গণমাধ্যমকে বলেন, "এই ঘটনাটি আমাদের প্রথম সাড়াদানকারী (ফার্স্ট রেসপন্ডার) কর্মীদের জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জাম দিয়ে সজ্জিত করার গুরুত্ব প্রমাণ করে। পাশাপাশি জরুরি চিকিৎসায় কার্যকরভাবে সাড়া দিতে পুলিশ কর্মকর্তাদের সঠিক প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরে।"

বায়জিদ হাসান আগস্ট ১২, ২০২৬ ১৪:০
বাংলাদেশি-আমেরিকান ব্যবসায়ী ও কমিউনিটি নেতা শাজিয়া হক
ক্যালিফোর্নিয়ার মন্টেবেলো সিটি কাউন্সিল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান শাজিয়া হক

ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির মন্টেবেলো সিটি কাউন্সিলের ডিস্ট্রিক্ট ১ থেকে নির্বাচনী লড়াইয়ে নেমেছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান ব্যবসায়ী ও কমিউনিটি নেতা শাজিয়া হক। আগামী ৩ নভেম্বর ২০২৬ অনুষ্ঠেয় সাধারণ নির্বাচনে তিনি কাউন্সিলমেম্বার পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।   ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে বাংলাদেশি কমিউনিটিতে দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ শাজিয়া হক ব্যবসা, সামাজিক কর্মকাণ্ড এবং স্থানীয় নাগরিক নেতৃত্বের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত। বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া শাজিয়া যুক্তরাষ্ট্রে এসে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পাশাপাশি ব্যবসা গড়ে তোলেন এবং ধীরে ধীরে বিভিন্ন কমিউনিটি কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হন।   তার প্রকাশিত জীবনী অনুযায়ী, তিনি লালমাটিয়া কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে যুক্তরাষ্ট্রে লস অ্যাঞ্জেলেস ভ্যালি কলেজ থেকে লিবারেল আর্টসে অ্যাসোসিয়েট ডিগ্রি এবং ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি চ্যানেল আইল্যান্ডস থেকে মনোবিজ্ঞান বিষয়ে পড়াশোনা করেন। বর্তমানে তিনি ক্যালিফোর্নিয়ায় একাধিক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত এবং উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করছেন।   স্থানীয় নাগরিক নেতৃত্বেও শাজিয়া হকের অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি লস অ্যাঞ্জেলেসের উইলশায়ার সেন্টার-কোরিয়াটাউন নেবারহুড কাউন্সিলের নেতৃত্বে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৪ সালের নেবারহুড কাউন্সিলের নথিতে তাকে দ্বিতীয় ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে উল্লেখ করা হয়। স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন কমিউনিটির মানুষের সঙ্গে কাজ করার পাশাপাশি তিনি লস অ্যাঞ্জেলেসের বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন বিষয় নিয়েও সক্রিয় ছিলেন।   শাজিয়া হকের নির্বাচনী ক্যাম্পেইনে স্থানীয় জননিরাপত্তা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি, দায়িত্বশীল বাজেট ব্যবস্থাপনা, স্থানীয় ব্যবসার বিকাশ এবং অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরির বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে। একই সঙ্গে বাসিন্দাদের সঙ্গে সিটি সরকারের যোগাযোগ আরও সহজ করা এবং স্থানীয় মানুষের সমস্যা সরাসরি সিটি কাউন্সিলে তুলে ধরার ওপরও তিনি জোর দিচ্ছেন।   ব্যবসা ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন শাজিয়া। বিশেষ করে নারী উদ্যোক্তাদের সহযোগিতা এবং স্থানীয় ছোট ব্যবসার বিকাশে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে। তার জীবনীতে ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন ব্যবসায়িক ও সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।   বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও শাজিয়া হকের সক্রিয় উপস্থিতি রয়েছে। ২০১২ সাল থেকে বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির সংগঠন ও বিভিন্ন আয়োজনে তার সম্পৃক্ততার কথা তার প্রকাশিত জীবনীতে উল্লেখ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ক্যালিফোর্নিয়ায় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেও সঞ্চালক ও আয়োজক হিসেবে কাজ করেছেন।   বাংলাদেশি কমিউনিটির স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়েও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করেছেন শাজিয়া। লস অ্যাঞ্জেলেসের লিটল বাংলাদেশ এলাকায় বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন সমস্যা ও স্বার্থ নিয়ে স্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতার কথাও তিনি তুলে ধরেছেন।   অভিবাসন ইস্যুতেও সাম্প্রতিক সময়ে তার বক্তব্য জাতীয় পর্যায়ের আলোচনায় এসেছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ট্রাম্প প্রশাসনের ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়ায় স্থগিতাদেশ নিয়ে লস অ্যাঞ্জেলেসের অভিবাসী পরিবারগুলোর প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করে স্পেকট্রাম নিউজ। ওই প্রতিবেদনে শাজিয়া হক তার বাবা-মা ও ভাইবোনদের বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আনার দীর্ঘ প্রক্রিয়া এবং নতুন সিদ্ধান্তের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে কথা বলেন।   কমিউনিটি কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি বাংলাদেশি-আমেরিকান সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও শাজিয়া হকের দীর্ঘ সম্পৃক্ততা রয়েছে। ফেডারেশন অব বাংলাদেশি অ্যাসোসিয়েশনস ইন নর্থ আমেরিকা বা ফোবানার বিভিন্ন কার্যক্রম ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততার উল্লেখ রয়েছে। ২০২৬ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস-হলিউডভিত্তিক ফোবানা আয়োজনের কার্যক্রমেও তিনি যুক্ত রয়েছেন বলে কমিউনিটি পর্যায়ে জানানো হয়েছে।   মন্টেবেলো সিটি কাউন্সিলের নির্বাচনে শাজিয়া হকের প্রার্থিতা দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির জন্যও আগ্রহের বিষয় হয়ে উঠেছে। স্থানীয় রাজনীতিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের অংশগ্রহণ বাড়ার ধারাবাহিকতায় তার এই নির্বাচনী প্রচেষ্টা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।   মন্টেবেলো সিটির সরকারি নির্বাচনী তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সাধারণ পৌর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ৩ নভেম্বর। ওই নির্বাচনে ডিস্ট্রিক্ট ১-এর কাউন্সিলমেম্বার পদও রয়েছে। নির্বাচিত কাউন্সিলমেম্বারের মেয়াদ হবে ২০২৬ সালের নভেম্বর থেকে ২০৩০ সালের নভেম্বর পর্যন্ত।   শাজিয়া হকের সামনে এখন মূল লক্ষ্য স্থানীয় ভোটারদের কাছে নিজের পরিকল্পনা তুলে ধরা এবং নির্বাচনী প্রচারণায় সমর্থন বাড়ানো। নির্বাচনে জয়ী হলে ব্যবসা ও কমিউনিটি নেতৃত্বের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে স্থানীয় প্রশাসনে বাংলাদেশি-আমেরিকানদের প্রতিনিধিত্বের একটি নতুন অধ্যায় তৈরি করার সুযোগ পাবেন তিনি।

বায়জিদ হাসান আগস্ট ১২, ২০২৬ ১৪:০
ক্যালিফোর্নিয়ার জনপ্রিয় কয়েকটি পর্যটনস্থলে প্রতিবছরই ঘটে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা। ছবি: সংগৃহীত
ক্যালিফোর্নিয়ার যে ৫টি পর্যটনস্থলে সবচেয়ে বেশি প্রাণ হারান দর্শনার্থীরা, সেখানে ভুল করলেই বিপদ

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য। মরুভূমি, পাহাড়, সমুদ্রসৈকত ও জাতীয় উদ্যানের বৈচিত্র্যে প্রতিবছর লাখো মানুষ সেখানে ভ্রমণ করেন। তবে মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্যের আড়ালেই লুকিয়ে আছে কিছু মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ স্থান, যেখানে অসতর্কতা বা প্রতিকূল পরিবেশের কারণে বহু পর্যটক প্রাণ হারিয়েছেন।   সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে ক্যালিফোর্নিয়ার অরেঞ্জ কাউন্টির রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী লিন্ডসি মারিনো অঙ্গরাজ্যের এমন পাঁচটি পর্যটনস্থানের কথা তুলে ধরেন, যেগুলো প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি দুর্ঘটনা ও মৃত্যুর ঘটনাতেও পরিচিত। তালিকায় রয়েছে ইয়োসেমিটি ন্যাশনাল পার্কের দুটি বিখ্যাত স্থানও। মার্কিন ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিসের তথ্য, গবেষণা প্রতিবেদন এবং বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের সঙ্গে মারিনোর উল্লেখ করা ঘটনাগুলোর মিল পাওয়া যায়।   প্রথমেই রয়েছে ডেথ ভ্যালি ন্যাশনাল পার্ক। প্রায় ৩৪ লাখ একরজুড়ে বিস্তৃত এই মরুভূমি পৃথিবীর অন্যতম উষ্ণ স্থান হিসেবে পরিচিত। মারিনোর ভাষায়, এখানে সবচেয়ে বড় বিপদ শুধু প্রচণ্ড গরম নয়, বরং অল্প সময়ের মধ্যেই একটি ছোট সমস্যা জীবন-মরণ পরিস্থিতিতে পরিণত হতে পারে। গাড়ির টায়ার পাংচার হওয়া বা ব্যাটারি নষ্ট হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনাও তীব্র গরমে মারাত্মক বিপদ ডেকে আনতে পারে। এতে পানিশূন্যতা, অতিরিক্ত ক্লান্তি এবং হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি দ্রুত বেড়ে যায়।   ২০২৪ সালে ডেথ ভ্যালি দিয়ে যাওয়ার সময় তীব্র গরমে এক মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু হয়। একটি গবেষণা অনুযায়ী, ২০০৭ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে এই পার্কে অন্তত ৬৮ জনের মৃত্যু হয়েছে, অর্থাৎ গড়ে বছরে প্রায় চারজন। ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিসের তথ্যে দেখা যায়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এখানে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু ঘটেছে সড়ক দুর্ঘটনায়। এছাড়া অতিরিক্ত গরমজনিত অসুস্থতাও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মৃত্যুর কারণ।   তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ইয়োসেমিটি ন্যাশনাল পার্কের বিখ্যাত হাফ ডোম। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৮ হাজার ৮০০ ফুট উঁচু এই গ্রানাইট শৃঙ্গ ট্রেকারদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয়। শীর্ষে পৌঁছাতে প্রায় ১৪ থেকে ১৬ মাইল পথ হাঁটতে হয় এবং শেষ অংশে ইস্পাতের তার ধরে খাড়া ঢাল বেয়ে উঠতে হয়।   চমৎকার দৃশ্যের জন্য পরিচিত হলেও এই পথ অত্যন্ত বিপজ্জনক। বিভিন্ন তথ্য অনুযায়ী, ১৯৪৮ সালের পর থেকে হাফ ডোমের কেবল অংশ ও শীর্ষ এলাকায় অন্তত ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। পার্ক কর্তৃপক্ষের পরামর্শ, বৃষ্টি, ভেজা পাথর বা বজ্রঝড়ের সময় কখনোই কেবল বেয়ে ওঠা উচিত নয়। কারণ ভেজা পাথর ও বজ্রপাত মুহূর্তেই প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।   ইয়োসেমিটির আরেকটি ঝুঁকিপূর্ণ স্থান নেভাডা ফলস। প্রায় ৫৯৪ ফুট উঁচু এই জলপ্রপাত গত দুই দশকে একাধিক প্রাণহানির সাক্ষী হয়েছে। চলতি বছরের জুনে ২২ বছর বয়সী এক পর্যটক জলপ্রপাতের কাছে পড়ে গিয়ে মারা যান। এর আগে ২০১৮ সালে এক ইসরায়েলি পর্যটক ছবি তুলতে গিয়ে খাদের কিনারা থেকে পড়ে প্রাণ হারান। ২০১৩ সালে স্যাক্রামেন্টোর ১৯ বছর বয়সী এক তরুণ জলপ্রপাতের ওপরে স্রোতে ভেসে নিচে পড়ে মারা যান।   এ কারণে সেখানে বড় সতর্কবার্তাও টানানো রয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, জলপ্রপাতের ওপরে পানিতে নামা বা পিচ্ছিল পাথরের ধারে যাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ প্রবল স্রোত মুহূর্তের মধ্যে কাউকে জলপ্রপাতের কিনারায় নিয়ে যেতে পারে এবং নিচে পড়ে গেলে বেঁচে থাকার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম।   ইয়োসেমিটিতে শুধু জলপ্রপাতই নয়, গাছও কখনো কখনো প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। গত মাসে পার্কের টুয়োলামনি গ্রোভ এলাকায় হাঁটার সময় একটি বিশাল সিকোইয়া গাছের ডাল ভেঙে পড়ে এক গুগল প্রকৌশলীর মৃত্যু হয়।   তালিকার চতুর্থ স্থানে রয়েছে সান ফ্রান্সিসকোর ওশান বিচ। বাহ্যিকভাবে এটি শান্ত ও সুন্দর সৈকত মনে হলেও স্থানীয়দের কাছে এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। শক্তিশালী রিপ কারেন্ট, বরফশীতল পানি এবং হঠাৎ সৃষ্টি হওয়া বিশাল ঢেউয়ের কারণে বহু মানুষ এখানে প্রাণ হারিয়েছেন।   শুধু ১৯৯৮ সালেই এই সৈকতে সাতজনের মৃত্যু হয়। এছাড়া ২০১৪ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে আরও অন্তত আটজনের মৃত্যুর তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। চলতি বছরের জুনেও অস্বাভাবিক বড় ঢেউয়ের আঘাতে এক সার্ফারের মৃত্যু হয়।   সবশেষে রয়েছে মাউন্ট হুইটনি। ১৪ হাজার ৫০৫ ফুট উচ্চতার এই পর্বত যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ। প্রতিবছর হাজারো পর্বতারোহী এখানে ওঠেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শীর্ষে পৌঁছানোর চেয়ে নিচে নেমে আসার পথই বেশি বিপজ্জনক।   উচ্চতাজনিত অসুস্থতা, বিকেলের আকস্মিক ঝড়, হিমশীতল আবহাওয়া এবং অতিরিক্ত ক্লান্তি অনেক সময় দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। গড়ে প্রতি বছর এক থেকে দুইজন এখানে প্রাণ হারান। ২০২২ সালে চারজন পর্বতারোহীর মৃত্যু হয়েছিল। আর চলতি বছরের জানুয়ারিতে এক পর্বতারোহী সঙ্গী ফিরে গেলেও একাই আরোহণ চালিয়ে যান এবং পরে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্যালিফোর্নিয়ার এসব স্থান প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত হলেও নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলা, আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেখা এবং ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ এড়িয়ে চলাই নিরাপদ ভ্রমণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১১, ২০২৬ ১৪:০
লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে দুই ঘণ্টার পথ, মাত্র ২২ ডলারে মিলবে ক্যালিফোর্নিয়ার সেরা ক্যাম্পিং অভিজ্ঞতা
লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে দুই ঘণ্টার পথ, মাত্র ২২ ডলারে মিলবে ক্যালিফোর্নিয়ার সেরা ক্যাম্পিং অভিজ্ঞতা

গ্রীষ্মের বিদায়বেলা এবং আসন্ন লেবার ডেকে সামনে রেখে ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দাদের কাছে এখন ক্যাম্পিংয়ের বিষয়টি দারুণ আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। যারা শহরের কোলাহল থেকে দূরে প্রকৃতির কাছাকাছি সময় কাটাতে চান, তাদের জন্য রয়েছে দারুণ সুখবর। আউটডোর থাকার জায়গা খোঁজার জনপ্রিয় অ্যাপ 'হিপক্যাম্প'-এর তথ্যমতে, ক্যালিফোর্নিয়ার সর্বোচ্চ রেটিংপ্রাপ্ত ক্যাম্পসাইটের খেতাব পেয়েছে একসময়ের একটি পুরোনো অ্যাভোকাডো খামার। প্রায় দুই হাজার পর্যটকের পর্যালোচনার ভিত্তিতে ৯৫ শতাংশ ইতিবাচক রেটিং পেয়ে তালিকার শীর্ষে উঠে এসেছে 'স্প্লিটরক ফার্ম অ্যান্ড রিট্রিট' নামের এই ক্যাম্পসাইটটি।   লস অ্যাঞ্জেলেসের ডাউনটাউন থেকে মাত্র দুই ঘণ্টার দূরত্বে ডি লুজ হাইটস এলাকায় অবস্থিত এই ক্যাম্পসাইটটি প্রায় ১০০ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত। বিশালাকার গ্রানাইট পাথর এবং ওক, পাম ও পাইন গাছের মনোরম সমারোহে ঘেরা এই জায়গাটি ১৯৭০ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত একটি সমৃদ্ধ অ্যাভোকাডো খামার হিসেবে পরিচিত ছিল, যেখানে বছরে ১০ লাখ পাউন্ডেরও বেশি অ্যাভোকাডো উৎপাদিত হতো। ২০২১ সালে বেন করবেট নামের এক ব্যক্তি টেকসই কৃষি ও আউটডোর বিনোদনের প্রসারের লক্ষ্যে জমিটি কিনে নেন। শরীর, মন ও আত্মার সুস্থতার জন্য প্রকৃতিকে কাজে লাগানোর লক্ষ্যেই তিনি জায়গাটিকে একটি অনন্য রিট্রিট সেন্টারে পরিণত করেছেন।   স্প্লিটরক ফার্মে বর্তমানে ৩৬টি আলাদা ক্যাম্পসাইট রয়েছে, যেখানে মাত্র ২২ ডলার খরচ করে রাত কাটানো যায়। তাঁবু বা আরভি (RV) থেকে শুরু করে বিলাসবহুল গ্ল্যাম্পিংয়েরও (glamping) সুব্যবস্থা রয়েছে এখানে। পর্যটকেরা চাইলে বাড়তি খরচের বিনিময়ে ক্যানভাস বেল টেন্ট, স্লিপিং ট্রেইলার, ব্যক্তিগত যোগব্যায়াম সেশন, ছাগলছানাদের সাথে খেলাধুলা কিংবা সানসেট সাউন্ড বাথের মতো বিশেষ সুবিধাগুলো উপভোগ করতে পারেন। এখানকার সবচেয়ে উঁচুতে অবস্থিত 'গ্রানাইট ট্যাবারনাকল' সাইটটি থেকে প্যানোরামিক ভিউ উপভোগ করা যায়, যেখানে একসঙ্গে দশজনের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া 'বেবি ওকস ওয়েসিস' এলাকাটি সুস্থতা কেন্দ্র, যোগব্যায়ামের কর্মশালা বা ছোট পরিসরের সংগীতানুষ্ঠানের জন্য দারুণভাবে সাজানো হয়েছে।   ক্যাম্পসাইটটি থেকে মাত্র ৩ মাইল দূরে রয়েছে সান্তা মার্গারিটা রিভার ট্রেইল প্রিজার্ভ এবং ৫ মাইল দূরে ফালব্রুকের ডাউনটাউন, ফলে পর্যটকদের প্রয়োজনীয় কেনাকাটা বা রেস্তোরাঁয় খেতে যাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা পোহাতে হয় না। দর্শনার্থীরা জায়গাটির নিরিবিলি পরিবেশ, চমৎকার সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের প্রশংসা করে অ্যাপে অসংখ্য ইতিবাচক রিভিউ দিয়েছেন। শুধু সাধারণ ক্যাম্পিং-ই নয়, আগামী ২৩ থেকে ২৫ অক্টোবর এখানে একটি বিশেষ যোগব্যায়াম রিট্রিটের আয়োজন করা হচ্ছে। এছাড়া গ্রীষ্মের মাসগুলোতে শিশুদের খামারের পশুপাখি ও প্রকৃতির সাথে পরিচিত করে আত্মবিশ্বাসী করে তুলতে বিশেষ ডে-ক্যাম্পেরও ব্যবস্থা থাকে এখানে।  

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ১১, ২০২৬ ১৪:০
ক্যালিফোর্নিয়ায় শত শত বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যার মতো একটি মহাদুর্যোগ যে কোনো সময় আঘাত হানতে পারে বলে সতর্ক করছেন বিজ্ঞানীরা। ছবি: সংগৃহীত
‘আমরা প্রস্তুত নই’ ক্যালিফোর্নিয়ায় কোটি মানুষের জন্য ‘কেয়ামতের মতো মহাবন্যার’ আশঙ্কা, সতর্ক বিজ্ঞানীরা

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় শত শত বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যার মতো একটি মহাদুর্যোগ যে কোনো সময় আঘাত হানতে পারে বলে সতর্ক করছেন বিজ্ঞানীরা। ‘এআরকে-স্টর্ম ২.০’ নামে পরিচিত সম্ভাব্য এই দুর্যোগে টানা প্রায় ৩০ দিন ধরে শক্তিশালী ঝড় ও বায়ুমণ্ডলীয় নদীর কারণে বিপুল বৃষ্টিপাত হতে পারে। এতে কোটি কোটি মানুষের জীবন ও সম্পদ ঝুঁকিতে পড়ার পাশাপাশি ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এক ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।    বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এ ধরনের মহাবন্যার সম্ভাবনা আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার জলবায়ু বিজ্ঞানী ড্যানিয়েল সোয়েনের মতে, প্রশ্নটি এখন আর এমন বন্যা হবে কি না, বরং কখন হবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের আগে এমন ঘটনা ঘটতে হয়তো আরও কয়েক শতাব্দী অপেক্ষা করতে হতো, কিন্তু এখন তার নিজের জীবনকালেই এমন একটি দুর্যোগ দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।    এআরকে-স্টর্ম বলতে বোঝানো হচ্ছে একের পর এক শক্তিশালী ‘অ্যাটমসফেরিক রিভার’ বা বায়ুমণ্ডলীয় নদীর আঘাতে সৃষ্ট মহাঝড়। এগুলো আকাশে বিশাল জলীয়বাষ্পের প্রবাহ, যা উষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চল থেকে বিপুল পরিমাণ আর্দ্রতা পশ্চিম যুক্তরাষ্ট্রের দিকে নিয়ে আসে। পাহাড়ি এলাকায় পৌঁছানোর পর এই জলীয়বাষ্প ঘনীভূত হয়ে দীর্ঘস্থায়ী ভারী বৃষ্টি ও তুষারপাত ঘটাতে পারে। শক্তিশালী এসব বায়ুমণ্ডলীয় নদী একেকটি মিসিসিপি নদীর মোহনা দিয়ে প্রবাহিত পানির প্রায় ১৫ গুণ পরিমাণ পানি বহন করতে পারে।    যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস ২০১০ সালে প্রথম এআরকে-স্টর্মের সম্ভাব্য পরিস্থিতি তৈরি করে। এর ভিত্তি ছিল ক্যালিফোর্নিয়ার অতীতের ভয়াবহ বন্যা, বিশেষ করে ১৮৬১ ও ১৮৬২ সালের ধারাবাহিক ঝড়। ওই সময় প্রায় ৪৫ দিন ধরে প্রবল বৃষ্টিপাতের পর সেন্ট্রাল ভ্যালির কয়েক শ মাইল এলাকা কার্যত বিশাল অভ্যন্তরীণ সাগরে পরিণত হয়েছিল।   বর্তমান পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হওয়ার অন্যতম কারণ জলবায়ু পরিবর্তন। উষ্ণ বায়ুমণ্ডল বেশি জলীয়বাষ্প ধারণ করতে পারে। নাসার তথ্য অনুযায়ী, তাপমাত্রা প্রতি ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়লে বায়ুমণ্ডলের জলীয়বাষ্প ধারণক্ষমতা প্রায় ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। ফলে ঝড়ের সময় বৃষ্টির পরিমাণও আরও বেশি হতে পারে।    এর পাশাপাশি সিয়েরা নেভাদা পর্বতমালায় তুষারের পরিবর্তে বৃষ্টি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। আগে শীতকালে পাহাড়ে জমে থাকা তুষার বসন্তে ধীরে ধীরে গলে নদীতে পানি সরবরাহ করত। কিন্তু উষ্ণ আবহাওয়ায় বেশি বৃষ্টি এবং তুষারের ওপর বৃষ্টিপাত হলে জমে থাকা তুষার দ্রুত গলে গিয়ে অল্প সময়ে বিপুল পরিমাণ পানি নদী ও নিচু এলাকায় নেমে আসতে পারে। বিজ্ঞানীরা এই দুই প্রভাবকে একসঙ্গে বড় ধরনের ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন।    এআরকে-স্টর্ম ২.০-এর মডেল অনুযায়ী, সিয়েরা নেভাদার দক্ষিণাঞ্চলের কিছু এলাকায় ঐতিহাসিক মহাঝড়ের তুলনায় পানির প্রবাহ ২০০ থেকে ৪০০ শতাংশ পর্যন্ত বেশি হতে পারে। একই গবেষণায় দেখা গেছে, গত শতাব্দীর শুরুর সময়ের তুলনায় মহাবন্যা সৃষ্টি করতে সক্ষম ঝড়ের ধারাবাহিকতার সম্ভাবনা ইতোমধ্যে দ্বিগুণের বেশি হয়েছে। বর্তমান হারে কার্বন নিঃসরণ অব্যাহত থাকলে ২০৬০ সালের মধ্যে অতীতে প্রায় ২০০ বছরে একবার ঘটতে পারে এমন বিপর্যয় প্রতি শতকে প্রায় তিনবার ঘটার পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।    সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে ক্যালিফোর্নিয়ার সেন্ট্রাল ভ্যালি। অঞ্চলটি একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৃষি এলাকা, অন্যদিকে রাজ্যের পানি সরবরাহ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। স্যাক্রামেন্টো ও সান জোয়াকিন নদীসহ বিভিন্ন নদী ও খালের পানি এই বিস্তীর্ণ নিচু এলাকায় প্রবাহিত হয়। বন্যা নিয়ন্ত্রণে শত শত মাইল বাঁধ, খাল, পাম্পিং স্টেশন ও জলাধার থাকলেও এগুলোর অনেকগুলো এমন জলবায়ুর কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছিল, যখন শীতের বৃষ্টিপাত তুলনামূলকভাবে স্বল্পস্থায়ী ছিল এবং পাহাড়ের তুষার গলে ধীরে ধীরে নদীর পানি বাড়ত।    প্রথম এআরকে-স্টর্ম পরিস্থিতির হিসাব অনুযায়ী, এমন একটি মহাঝড়ে ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন এলাকায় পানির গভীরতা ২০ ফুট বা প্রায় ৬ মিটার পর্যন্ত হতে পারে। সান ফ্রান্সিসকো থেকে লস অ্যাঞ্জেলেস পর্যন্ত বিস্তৃত জনবসতিপূর্ণ এলাকায় বন্যার পানি ঢুকে পড়তে পারে এবং বিপুলসংখ্যক মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হতে পারে। সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ এক ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি হতে পারে বলে মডেলিংয়ে উঠে এসেছে।    তবে বিজ্ঞানীরা এটিকে ভবিষ্যদ্বাণী হিসেবে দেখছেন না। এআরকে-স্টর্ম ২.০ একটি সম্ভাব্য দুর্যোগের মডেল বা পরিস্থিতি বিশ্লেষণ। ঠিক কোন বছর এমন ঘটনা ঘটবে, তা কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না। তবে অতীতের ভূতাত্ত্বিক ও আবহাওয়াগত তথ্য এবং বর্তমান জলবায়ু পরিবর্তনের প্রবণতা দেখিয়ে বিজ্ঞানীরা বলছেন, ঝুঁকিটিকে আর উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।   ক্যালিফোর্নিয়ার কর্তৃপক্ষও বন্যার ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রস্তুতি জোরদার করছে। স্থানীয় প্রশাসন ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো সম্ভাব্য বন্যার পরিস্থিতি নিয়ে মহড়া চালাচ্ছে। একই সঙ্গে উচ্চমাত্রার বন্যার ক্ষেত্রে কোন এলাকা, সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো পানির নিচে যেতে পারে, তা নির্ধারণে আরও বিস্তারিত বন্যা মানচিত্র তৈরির কাজ চলছে।    বিজ্ঞানীদের কাছে ক্যালিফোর্নিয়ার এই সম্ভাব্য মহাবন্যা তাই শুধু একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কা নয়। এটি এমন এক ঝুঁকি, যার সঙ্গে যুক্ত হয়ে আছে জলবায়ু পরিবর্তন, জনবসতির বিস্তার, কৃষি, পানি সরবরাহ এবং রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তা। প্রস্তুতি কতটা কার্যকর হবে, শেষ পর্যন্ত সেটিই নির্ধারণ করতে পারে এমন একটি মহাদুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা কতটা ভয়াবহ হবে।

তাবাস্সুম আগস্ট ১০, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে রেকর্ড ২০৪ কোটি ডলারের পাওয়ারবল লটারি জ্যাকপট জেতা একমাত্র বিজয়ী এডউইন কাস্ত্রো (ইনসেটে)। ছবি: সংগৃহীত
২০৪ কোটি ডলারের লটারি জিতে ট্যাক্সের পর হাতে ৬২ কোটি ৮০ লাখ

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় লটারি জ্যাকপট জিতেছিলেন এডউইন কাস্ত্রো। পাওয়ারবল লটারির সেই জ্যাকপটের মূল্য ছিল ২০৪ কোটি ডলার। ক্যালিফোর্নিয়ার আলতাডেনার একটি ছোট সার্ভিস স্টেশন থেকে কেনা টিকিটে একমাত্র বিজয়ী হন তিনি। তবে ২০৪ কোটি ডলারের পুরো অর্থ একসঙ্গে হাতে পাননি কাস্ত্রো।   জ্যাকপটের ঘোষিত ২০৪ কোটি ডলারের অঙ্কটি ছিল প্রায় ৩০ বছর ধরে কিস্তিতে অর্থ নেওয়ার হিসাব। কাস্ত্রোর সামনে এককালীন অর্থ নেওয়ার সুযোগও ছিল। তিনি কিস্তিতে অর্থ নেওয়ার বদলে এককালীন অর্থ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।   এককালীন অর্থ হিসেবে কাস্ত্রোর পাওনা দাঁড়ায় প্রায় ৯৯ কোটি ৭৬ লাখ ডলার। অর্থাৎ ২০৪ কোটি ডলারের ঘোষিত জ্যাকপটের তুলনায় একবারে পাওয়া অর্থ ছিল অনেক কম।   এরপর তাঁর পাওয়া অর্থের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্যাক্স প্রযোজ্য হয়। ক্যালিফোর্নিয়ায় লটারি জয়ের অর্থের ওপর রাজ্য আয়কর নেওয়া হয় না। তবে ফেডারেল ট্যাক্সের কারণে কাস্ত্রোর এককালীন পাওয়া অর্থ থেকে বড় একটি অংশ কেটে যায়।   ট্যাক্সের পর বিভিন্ন হিসাবে কাস্ত্রোর হাতে থাকা অর্থ দাঁড়ায় প্রায় ৬২ কোটি ৮০ লাখ ডলার। অর্থাৎ ২০৪ কোটি ডলারের ঘোষিত জ্যাকপট শেষ পর্যন্ত এককালীন অর্থ এবং ফেডারেল ট্যাক্সের পর কমে প্রায় ৬২ কোটি ৮০ লাখ ডলারে নেমে আসে।   সহজ হিসাবে পুরো বিষয়টি হলো, ঘোষিত জ্যাকপট ২০৪ কোটি ডলার, এককালীন অর্থ ৯৯ কোটি ৭৬ লাখ ডলার, আর ট্যাক্সের পর হাতে থাকে প্রায় ৬২ কোটি ৮০ লাখ ডলার।   কাস্ত্রোর জেতা পাওয়ারবল জ্যাকপটটি যুক্তরাষ্ট্রের লটারির ইতিহাসে রেকর্ড তৈরি করেছিল। বিজয়ী টিকিটটি ক্যালিফোর্নিয়ার আলতাডেনার একটি সার্ভিস স্টেশনে বিক্রি হয়েছিল এবং সেই টিকিটের একমাত্র বিজয়ী ছিলেন কাস্ত্রো।   লটারির ঘোষিত জ্যাকপট এবং বিজয়ীর হাতে থাকা প্রকৃত অর্থের মধ্যে পার্থক্যের মূল কারণ হলো পুরস্কার নেওয়ার পদ্ধতি ও ট্যাক্স। কিস্তিতে নিলে ঘোষিত পুরো অর্থ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পাওয়া যায়, আর এককালীন অর্থ নিলে শুরুতেই তুলনামূলক কম অঙ্ক পাওয়া যায়। এরপর প্রযোজ্য ফেডারেল ট্যাক্স বাদ দিলে হাতে থাকা অর্থ আরও কমে যায়।   এই কারণে ২০৪ কোটি ডলারের বিশাল জ্যাকপট জিতলেও কাস্ত্রোর হাতে থাকা অর্থ শেষ পর্যন্ত ঘোষিত পুরস্কারের চেয়ে অনেক কম হয়েছে।

তাবাস্সুম আগস্ট ৯, ২০২৬ ১৪:০
লন্ডনে পড়তে গিয়ে ক্যালিফোর্নিয়ার শিক্ষার্থীর মৃত্যু
লন্ডনে পড়তে গিয়ে ক্যালিফোর্নিয়ার শিক্ষার্থীর মৃত্যু, জনপ্রিয় ওজন কমানোর ইনজেকশন নিয়ে তদন্তে চাঞ্চল্য

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া থেকে লন্ডনে পড়াশোনা করতে যাওয়া এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় ওজন কমানোর ওষুধ তিরজেপাটাইডের সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। শিক্ষার্থীর মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখতে যুক্তরাজ্যে অনুষ্ঠিত তদন্তে ওই ওষুধ ব্যবহারের বিষয়টি সামনে এসেছে।   প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মৃত্যুর পরিস্থিতি এবং এর সম্ভাব্য কারণ নিয়ে তদন্ত চলছে। সেখানে শিক্ষার্থী তিরজেপাটাইড ব্যবহার করেছিলেন কি না এবং এর সঙ্গে তার মৃত্যুর কোনো সম্পর্ক ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত তিরজেপাটাইডই মৃত্যুর কারণ ছিল এমন কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি।   তিরজেপাটাইড মূলত ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ এবং অতিরিক্ত ওজন কমানোর চিকিৎসায় ব্যবহৃত একটি ওষুধ। এটি ক্ষুধা কমাতে এবং খাবার হজমতন্ত্রে ধীরে চলতে সহায়তা করে। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে ওজন কমানোর জন্য এই ধরনের ওষুধের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।   ওষুধটির সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে বমিভাব, বমি, ডায়রিয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য ও পেটের অস্বস্তি রয়েছে। বিরল ক্ষেত্রে গুরুতর শারীরিক জটিলতাও দেখা দিতে পারে। এ কারণে চিকিৎসকের পরামর্শ ও পর্যবেক্ষণ ছাড়া এ ধরনের ওষুধ ব্যবহার না করার পরামর্শ দেওয়া হয়।   তবে কোনো ব্যক্তি ওষুধটি ব্যবহারের পর মারা গেছেন বলেই ওই ওষুধ সরাসরি মৃত্যুর কারণ ছিল, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে চিকিৎসা নথি, শারীরিক পরীক্ষা, ময়নাতদন্তের তথ্য এবং অন্যান্য প্রমাণ বিবেচনা করা হয়।   ক্যালিফোর্নিয়ার ওই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিরজেপাটাইডকে মৃত্যুর জন্য দায়ী করা যাচ্ছে না। তদন্তের চূড়ান্ত ফলেই জানা যাবে, ওষুধটির সঙ্গে ওই মৃত্যুর কোনো সরাসরি সম্পর্ক ছিল কি না।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ৯, ২০২৬ ১৪:০
কিম কারদাশিয়ানের হিডেন হিলসের বাড়িতে অনুপ্রবেশের ঘটনায় তদন্ত চলছে। ছবি: সংগৃহীত
কিম কার্দাশিয়ানের বাড়িতে ঢুকে বিলাসবহুল গাড়ি চুরি, তা নিয়েই এলাকাজুড়ে ঘুরে বেড়াল চোর

হলিউড তারকা কিম কার্দাশিয়ানের যুক্তরাষ্ট্রের হিডেন হিলসের বিলাসবহুল প্রাসাদে এক দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। দিনের আলোতে এক ব্যক্তি ওই প্রাসাদে প্রবেশ করে কিমের একটি দামি গাড়ি চুরি করে। শুধু তাই নয়, চুরি করা সেই বিলাসবহুল গাড়িটি নিয়ে আশপাশের এলাকায় বেশ কিছুক্ষণ ঘুরেও বেড়ায় ওই চোর। পরবর্তীতে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে গ্রেপ্তার করে।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম 'দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট'-এর এক প্রতিবেদনে আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর বরাত দিয়ে জানানো হয়, গত রোববার বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটের দিকে এই ঘটনা ঘটে। মালিবু/লস্ট হিলস শেরিফ স্টেশনের কর্মকর্তারা একটি জরুরি কল পান। সেখানে জানানো হয়, একজন সন্দেহভাজন ব্যক্তি কিম কার্দাশিয়ানের বাড়িতে প্রবেশ করেছে এবং ভেতর থেকে জিনিসপত্র চুরি করছে।   খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশের একটি দল। তারা ৬০ মিলিয়ন (৬ কোটি) ডলারেরও বেশি মূল্যের ওই সুবিশাল বাসভবনের ভেতর থেকে এক যুবককে আটক করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রমাণের ভিত্তিতে তাকে অনুপ্রবেশ, চুরি এবং গাড়ি চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।   পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওই সন্দেহভাজন ব্যক্তি শুধু বাড়িতেই অনুপ্রবেশ করেনি, বরং কিম কার্দাশিয়ানের একটি বিলাসবহুল গাড়ি বের করে নিয়ে হিডেন হিলস এলাকায় ঘুরে বেড়িয়েছে। পরবর্তীতে ওই যুবককে কারাগারে পাঠানো হয় এবং চুরির সন্দেহে তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়।   লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি শেরিফ বিভাগের (এলএএসডি) সার্জেন্ট ক্রিস সন্ডারলান্ড ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, "পুরো বিষয়টি এখনও তদন্তাধীন রয়েছে। আমরা বর্তমানে তদন্তের একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছি। বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো সম্ভব হবে।"   জানা গেছে, ঘটনার সময় কিম কার্দাশিয়ান বা তাঁর সন্তানদের কেউই ওই প্রাসাদে উপস্থিত ছিলেন না। বর্তমানে বাড়িটির বড় ধরনের সংস্কারকাজ চলছে। তাই গত কয়েক মাস ধরে কিম তাঁর চার সন্তানকে নিয়ে কাছাকাছি অন্য একটি ভাড়া বাড়িতে বসবাস করছেন।   হিডেন হিলসের এই বিশাল সম্পত্তির পেছনের ইতিহাস বেশ পুরোনো। ২০১৪ সালে কিম কার্দাশিয়ান এবং তাঁর প্রাক্তন স্বামী বিখ্যাত র‍্যাপার ক্যানিয়ে ওয়েস্ট মিলে প্রায় ২০ মিলিয়ন (২ কোটি) ডলারে এই এস্টেটটি কিনেছিলেন। এরপর বাড়িটিকে নিজেদের মনের মতো করে সাজাতে দীর্ঘ সময় নিয়ে সংস্কারকাজ চালান তারা। তিন বছর পর, ২০১৭ সালে তারা এই প্রাসাদে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।   পরবর্তীতে ২০২২ সালে কিম ও ক্যানিয়ে ওয়েস্টের বিবাহবিচ্ছেদ চূড়ান্ত হয়। বিচ্ছেদের পর আইনি সমঝোতার মাধ্যমে এই বাড়ির মালিকানা পান কিম কার্দাশিয়ান। এরপর থেকে তিনি তাঁর চার সন্তানকে নিয়ে এখানেই বসবাস করে আসছিলেন। তবে সম্প্রতি নতুন করে সংস্কারকাজ শুরু হওয়ায় বাড়িটি আপাতত ফাঁকা ছিল, আর সেই সুযোগটিই কাজে লাগানোর চেষ্টা করে ওই চোর।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ৯, ২০২৬ ১৪:০
ক্যালিফোর্নিয়া থেকে অ্যারিজোনায় মানুষের স্থানান্তর সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ছবি: সংগৃহীত
ক্যালিফোর্নিয়া ছাড়ার হিড়িক, কেন অ্যারিজোনার দিকে ছুটছেন হাজারো পরিবার?

ক্যালিফোর্নিয়া থেকে অ্যারিজোনায় মানুষের স্থানান্তর সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম আলোচিত অভ্যন্তরীণ অভিবাসন প্রবণতায় পরিণত হয়েছে। উচ্চ আবাসন ব্যয়, তুলনামূলক বেশি রাজ্য আয়কর এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগের কারণে প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক পরিবার ক্যালিফোর্নিয়া ছেড়ে অ্যারিজোনায় বসতি গড়ছে।   যুক্তরাষ্ট্রের আদমশুমারি ব্যুরোর জনসংখ্যা ও অভ্যন্তরীণ স্থানান্তরের তথ্যেও দুই রাজ্যের বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে। একদিকে ক্যালিফোর্নিয়া জনসংখ্যা হারাচ্ছে, অন্যদিকে অ্যারিজোনা দ্রুত জনসংখ্যা বাড়ানো রাজ্যগুলোর একটি হয়ে উঠছে।   ক্যালিফোর্নিয়া থেকে অ্যারিজোনায় যাওয়ার ক্ষেত্রে মূলত তিনটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এগুলো হলো রাজ্য আয়কর, বাড়ির দাম এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ।   প্রথম কারণ, আয়করের বড় পার্থক্য   ক্যালিফোর্নিয়ায় ব্যক্তিগত আয়কর আয়ের স্তর অনুযায়ী ১ শতাংশ থেকে ১২ দশমিক ৩ শতাংশ পর্যন্ত। এর পাশাপাশি ১০ লাখ ডলারের বেশি করযোগ্য আয়ের ওপর অতিরিক্ত ১ শতাংশ কর রয়েছে। ফলে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রাজ্য আয়করের হার দাঁড়ায় ১৩ দশমিক ৩ শতাংশ। অন্যদিকে, অ্যারিজোনায় ২০২৩ সাল থেকে ব্যক্তিগত আয়করের সমতল হার ২ দশমিক ৫ শতাংশ। ফলে উচ্চ আয়ের মানুষের জন্য দুই রাজ্যের আয়করের ব্যবধান বেশ বড়।   তবে শুধু আয়কর দিয়েই একজন মানুষের মোট করের বোঝা নির্ধারিত হয় না। বাড়ির দাম, সম্পত্তি কর, বিক্রয় কর, বাড়ির বীমা, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য জীবনযাত্রার ব্যয়ও হিসাব করতে হয়। তারপরও ক্যালিফোর্নিয়ার তুলনায় কম রাজ্য আয়কর অ্যারিজোনাকে অনেক পরিবারের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলেছে।   দ্বিতীয় কারণ, তুলনামূলক কম দামে বাড়ি কেনার সুযোগ   ক্যালিফোর্নিয়া থেকে অ্যারিজোনায় যাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ আবাসন ব্যয়। বিশেষ করে লস অ্যাঞ্জেলেস, সান ডিয়েগো, অরেঞ্জ কাউন্টি ও সান ফ্রান্সিসকো বে এলাকার মতো ব্যয়বহুল অঞ্চলের তুলনায় অ্যারিজোনার অনেক এলাকায় একই বাজেটে বড় বাড়ি কেনা সম্ভব। রিয়েল এস্টেট কোম্পানি রেডফিনের তথ্য অনুযায়ী, ক্যালিফোর্নিয়ার বড় শহর ও মহানগর এলাকাগুলোতে বাড়ির দাম দীর্ঘদিন ধরেই জাতীয় গড়ের তুলনায় অনেক বেশি। বিপরীতে ফিনিক্স ও টুসনের মতো অ্যারিজোনার বড় শহরগুলোতে তুলনামূলক কম দামে বাড়ি কেনার সুযোগ রয়েছে।   তবে দুই রাজ্যের বাড়ির দাম সরাসরি তুলনা করার সময় শহর ও এলাকার পার্থক্য বিবেচনায় নিতে হয়। ক্যালিফোর্নিয়ার সব এলাকার বাড়ির দাম যেমন সমান নয়, তেমনি অ্যারিজোনার সব এলাকাও সস্তা নয়। তারপরও ক্যালিফোর্নিয়ার উচ্চ আবাসন ব্যয় বহু পরিবারকে অন্য রাজ্যে যাওয়ার কথা ভাবতে বাধ্য করছে। অ্যারিজোনায় তুলনামূলক কম দামে বাড়ি কেনার পাশাপাশি অনেক পরিবার কম মাসিক ঋণের কিস্তির সুবিধাও পাচ্ছে।   তৃতীয় কারণ, প্রযুক্তি ও শিল্প খাতে নতুন কর্মসংস্থান   অ্যারিজোনার আকর্ষণ শুধু কম আবাসন ব্যয় বা কম করের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। রাজ্যটি দ্রুত যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি ও অর্ধপরিবাহী শিল্পকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠছে। তাইওয়ানের অর্ধপরিবাহী নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টিএসএমসি অ্যারিজোনার ফিনিক্স এলাকায় বড় ধরনের বিনিয়োগ করছে। কোম্পানিটি সেখানে তিনটি কারখানা নির্মাণের জন্য ৬৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে।   এর মধ্যে প্রথম কারখানায় ৪ ন্যানোমিটার প্রযুক্তিতে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয়েছে। পরবর্তী কারখানাগুলো চালু হলে অ্যারিজোনায় উন্নত প্রযুক্তির অর্ধপরিবাহী উৎপাদন আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, প্রযুক্তি জায়ান্ট ইন্টেলও অ্যারিজোনার চ্যান্ডলারে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করে দুটি নতুন অর্ধপরিবাহী কারখানা নির্মাণের প্রকল্প নিয়েছে।   এসব বিনিয়োগের ফলে শুধু কারখানায় সরাসরি চাকরি নয়, প্রকৌশল, নির্মাণ, সরবরাহ ব্যবস্থা, পরিবহন, প্রযুক্তি ও অন্যান্য সহযোগী খাতেও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।   ক্যালিফোর্নিয়া ছাড়ার প্রবণতা অবশ্য নতুন নয়   ক্যালিফোর্নিয়া থেকে অন্য রাজ্যে মানুষের চলে যাওয়ার প্রবণতা কয়েক বছর ধরেই দেখা যাচ্ছে। উচ্চ আবাসন ব্যয়, জীবনযাত্রার খরচ, কর এবং কিছু ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের অবস্থান পরিবর্তন এর পেছনে ভূমিকা রাখছে। অন্যদিকে অ্যারিজোনা, টেক্সাস, নেভাদা ও ফ্লোরিডার মতো রাজ্যগুলো তুলনামূলক কম জীবনযাত্রার ব্যয় এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশের কারণে নতুন বাসিন্দাদের আকর্ষণ করছে।   তবে অ্যারিজোনায় মানুষের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেখানেও আবাসনের চাহিদা ও দাম বাড়ছে। পানি, পরিবহন, বিদ্যালয়, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য অবকাঠামোর ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। ফলে ক্যালিফোর্নিয়া থেকে অ্যারিজোনায় যাওয়ার সিদ্ধান্তকে শুধু কম কর বা কম বাড়ির দামের হিসাব দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। পরিবারের আয়, চাকরির ধরন, দূর থেকে কাজের সুযোগ, সন্তানদের শিক্ষা, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং ভবিষ্যৎ আর্থিক পরিকল্পনাও এই সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।   তারপরও সাম্প্রতিক বছরগুলোর অভ্যন্তরীণ জনসংখ্যা স্থানান্তরের চিত্রে ক্যালিফোর্নিয়া থেকে অ্যারিজোনার দিকে মানুষের আগমন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবণতা হিসেবে উঠে এসেছে। ক্যালিফোর্নিয়ার উচ্চ আবাসন ব্যয় ও করের চাপের বিপরীতে অ্যারিজোনার তুলনামূলক কম রাজ্য আয়কর, আবাসনের সুযোগ এবং প্রযুক্তি খাতে নতুন বিনিয়োগ অনেক পরিবারের কাছে নতুন করে বসতি গড়ার সম্ভাবনা তৈরি করছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ৯, ২০২৬ ১৪:০
ক্যালিফোর্নিয়ার পিটসবার্গ শহরের ড্রিম কোর্টস প্রকল্পের অর্থ সাইবার প্রতারণার মাধ্যমে অন্য হিসাবে পাঠানো হয়। ছবি: সংগৃহীত
হ্যাকারদের অভিনব ফাঁদ, ক্যালিফোর্নিয়ার শহর কর্তৃপক্ষের ৯ লাখ ডলার গায়েব

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যের পিটসবার্গ শহরে এক অভিনব সাইবার জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের ভুয়া পরিচয়ে এবং এক সরকারি কর্মকর্তার ইমেইল হ্যাক করে শহর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রায় এক মিলিয়ন (১০ লাখ) মার্কিন ডলার হাতিয়ে নিয়েছে একদল প্রতারক।   গত ১২ ফেব্রুয়ারি পিটসবার্গ শহর কর্তৃপক্ষ ৯ লাখ ১৩ হাজার ডলারের একটি ফান্ড ট্রান্সফার করে। শহর কর্তৃপক্ষের ধারণা ছিল, এই অর্থ ‘ডিসকভারি বিল্ডার্স ইনকর্পোরেটেড’ নামের একটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হচ্ছে। এই প্রতিষ্ঠানটি শহরে ‘ড্রিম কোর্টস’ নামের একটি স্পোর্টস অ্যান্ড রিক্রিয়েশন কমপ্লেক্স নির্মাণের দায়িত্বে রয়েছে। কিন্তু ঘটনার পাঁচ দিন পর আসল নির্মাণ প্রতিষ্ঠান যখন তাদের পাওনা টাকার খোঁজ নিতে আসে, তখনই শহর কর্তৃপক্ষের টনক নড়ে। তারা বুঝতে পারে, পুরো টাকাটাই আসলে প্রতারকদের পকেটে চলে গেছে।   আদালতের নথিপত্র অনুযায়ী, এই বিশাল জালিয়াতির পেছনে অত্যন্ত সূক্ষ্ম একটি কৌশল ব্যবহার করা হয়েছিল। প্রতারকরা আসল ডিসকভারি বিল্ডার্সের ইমেইল ঠিকানার সঙ্গে একটি অতিরিক্ত ছোট হাতের ‘l’ (এল) যুক্ত করে একটি ভুয়া ইমেইল তৈরি করে। এরপর তারা পিটসবার্গের সিটি ম্যানেজারের সহকারী সারা বেল্লাফ্রন্টের ইমেইল অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে। হ্যাক করা সেই অ্যাকাউন্ট থেকে শহর কর্তৃপক্ষের অর্থ বিভাগের এক কর্মীর কাছে মেসেজ পাঠিয়ে নতুন ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। ভুয়া সারা বেল্লাফ্রন্টে মেসেজে জানান, তিনি মৌখিকভাবে নতুন ব্যাংকের তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন এবং অর্থ বিভাগ যেন দ্রুত পেমেন্টের ব্যবস্থা করে।   এই নির্দেশের পর দ্রুত অর্থ স্থানান্তর করা হয় এবং মুহূর্তের মধ্যেই তা একাধিক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে উধাও হয়ে যায়। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই তদন্তে নামে। তদন্তের অংশহিসেবে ১১৬টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের ওপর ১৮টি সার্চ ওয়ারেন্ট জারি করা হয়। অর্থের গতিপথ অনুসরণ করে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে থাকা দুজন এবং নাইজেরিয়ায় অবস্থানরত এক সন্দেহভাজনের খোঁজ পায় পুলিশ। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা বা প্রকাশ্যে তাদের নাম জানানো হয়নি।   তদন্তকারীরা দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে প্রতারকদের একটি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করতে সক্ষম হন, যেখান থেকে পিটসবার্গ কর্তৃপক্ষ প্রায় ৬ লাখ ৯৬ হাজার ডলার পুনরুদ্ধার করতে পেরেছে। তবে এখনও প্রায় ২ লাখ ১৮ হাজার ডলার নিখোঁজ রয়েছে, যা উদ্ধারের জন্য কর্তৃপক্ষ বীমা কোম্পানির দ্বারস্থ হয়েছে।   আদালতের তথ্যমতে, ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের এক ব্যক্তি এই জালিয়াতিতে অজান্তেই জড়িয়ে পড়েন। তিনি বিশ্বাস করতেন যে তিনি ‘টাইকো অ্যালয় ইন্ডাস্ট্রিজ’ নামের একটি বৈধ কোম্পানিতে কাজ করছেন। এই বিশ্বাসের বশবর্তী হয়ে তিনি প্রতারকদের পাঠানো অর্থ দিয়ে প্রায় ২ লাখ ১৭ হাজার ডলারের বিটকয়েন কিনে একটি ক্রিপ্টোকারেন্সি ওয়ালেটে পাঠিয়ে দেন।   এদিকে ডিসকভারি বিল্ডার্সের প্রেসিডেন্ট লুই পার্সনস জানান, তারা এই ঘটনার জন্য শহর কর্তৃপক্ষকে দায়ী করছেন না। সান ফ্রান্সিসকো ক্রনিকলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এই জালিয়াতিটি অত্যন্ত নিপুণভাবে করা হয়েছে। পিটসবার্গ শহরকে এমন একটি পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে দেখে তিনি সহানুভূতি প্রকাশ করেন।   পরবর্তীকালে জালিয়াতির বিষয়টি জানার ৬০ দিনের মধ্যেই ডিসকভারি বিল্ডার্স তাদের পাওনা ৯ লাখ ১৩ হাজার ডলার বুঝে পায়। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে কোম্পানিটি এখন আর অনলাইনে লেনদেন না করে সরাসরি প্রতিনিধি পাঠিয়ে শহর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে চেক সংগ্রহ করছে।   পিটসবার্গ শহরের মেয়র ডিওন অ্যাডামস এই ঘটনাটিকে একটি বড় শিক্ষা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, অপরাধীরা আমাদের সিস্টেমে প্রবেশ করতে পেরেছে, যা খুবই হতাশাজনক। এই ঘটনার পর শহর কর্তৃপক্ষ তাদের পেমেন্ট ভেরিফিকেশন ব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে এবং আইটি বিভাগে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন এনেছে।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য মার্কারি নিউজের তথ্য অনুযায়ী, এই সাইবার প্রতারণার কারণে শহরটির শেষ পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ ডলারের আর্থিক ক্ষতি হতে পারে। তদন্তের স্বার্থে এতদিন বিষয়টি গোপন রাখা হলেও গত বুধবার পিটসবার্গ শহর কর্তৃপক্ষ এই জালিয়াতির বিস্তারিত তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ৯, ২০২৬ ১৪:০
নতুন শিক্ষাবর্ষের আগে ক্যালিফোর্নিয়ায় শিক্ষা উপকরণের দাম বেড়ে অভিভাবকদের ব্যয় বাড়ছে। ছবি: সংগৃহীত
নতুন শিক্ষাবর্ষের আগে ক্যালিফোর্নিয়ার অভিভাবকদের বাড়তি চাপ, স্কুলসামগ্রীর দাম বেড়েছে ৭.৭ শতাংশ

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হওয়ার আগেই শিক্ষা উপকরণ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধিতে চরম বিপাকে পড়েছেন অভিভাবকরা। খাতা-কলম থেকে শুরু করে নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ পরিবারগুলোর মাসিক বাজেটে বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে। এ বছর শিশুদের স্কুলে পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় সাধারণ উপকরণের একটি প্যাকেজ কিনতেই অভিভাবকদের খরচ করতে হচ্ছে প্রায় ১৭৫ মার্কিন ডলার।   গ্রাউন্ডওয়ার্ক কোলাবোরেটিভ এবং দ্য সেঞ্চুরি ফাউন্ডেশনের একটি বিশ্লেষণের বরাত দিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব স্যান ডিয়েগো জানিয়েছে, ২১টি অত্যাবশ্যকীয় শিক্ষা উপকরণের একটি গড় প্যাকেজের বর্তমান বাজারমূল্য ১৭৩ দশমিক ৪৫ ডলার। গত বছরের তুলনায় এই দাম প্রায় ৭ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিছু নির্দিষ্ট পণ্যের দাম গত বছরের তুলনায় ২০ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে। খাতার দাম বেড়েছে ২৩ শতাংশ, নোটবুক পেপারের দাম ২০ শতাংশ এবং ইনডেক্স কার্ডের দাম ২২ দশমিক ২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া শিশুদের লাঞ্চ বক্সের দাম প্রায় ২৭ শতাংশ এবং হোয়াইটবোর্ডের মার্কার ও গ্লু-স্টিকের দাম প্রায় ৮ শতাংশ বেড়েছে। পাশাপাশি সাধারণ পেন্সিল, রঙিন পেন্সিল, ক্রেয়ন ও বাইন্ডার কিনতে অভিভাবকদের এখন ৫ থেকে ৭ শতাংশ বেশি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।   বাড়ি ভাড়া, বিদ্যুৎ-গ্যাসের বিল এবং দৈনন্দিন খরচের ঊর্ধ্বগতির পাশাপাশি শিক্ষা উপকরণের এই বাড়তি দাম সাধারণ পরিবারগুলোর জন্য, বিশেষ করে যাদের একাধিক সন্তান রয়েছে, তাদের জন্য এক বড় ধরনের সংকট তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, সার্বিক মূল্যস্ফীতি এবং আমদানি করা পণ্যের ওপর বাড়তি খরচের কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।   স্যান ডিয়েগোর বাসিন্দা এবং পাঁচ সন্তানের জনক মার্ক ডেভিস সংবাদমাধ্যম এনবিসি ৭-কে তাঁর হতাশার কথা জানিয়ে বলেন, "বেতন ছাড়া আর সবকিছুরই দাম বাড়ছে। আমাকে পরিবারের সবার জন্য গ্যাস, বাসা ভাড়া, বিভিন্ন বিল এবং খাবারের খরচ জোগাতে হয়। প্রতিদিনের জীবনযাপনই এখন একটি বড় সংগ্রাম হয়ে দাঁড়িয়েছে, কিন্তু তবু আমাদের টিকে থাকতে হবে।"   গত সোমবার থেকে স্যান ডিয়েগো ইউনিফায়েড স্কুল ডিস্ট্রিক্টের ক্লাস শুরু হওয়ার কথা ছিল। এর আগে গত শনিবার এনক্যান্টো এলাকায় একটি 'ব্যাক-টু-স্কুল' সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, যেখানে মার্ক ডেভিসের মতো অনেক অভিভাবকই ভিড় করেছিলেন। ক্যালিফোর্নিয়ার স্টেট সিনেটর আকিলাহ ওয়েবার পিয়ারসনের উদ্যোগে এই ইভেন্টটি আয়োজিত হয়। তিনি জানান, বাজেট কমানোর কারণে আগামীতে অনেক সুবিধাই বন্ধ হয়ে যেতে পারে, তাই সাধারণ মানুষের জানা উচিত যে বিকল্প সহায়তার জন্য তারা কোথায় যোগাযোগ করতে পারেন।   স্যান ডিয়েগো কাউন্টিতে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর জন্য খাদ্যের খরচ জোগাড় করাও আরেকটি বড় চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারি কর্মকর্তাদের ধারণা অনুযায়ী, এ বছর প্রায় ৯৩ হাজার মানুষ তাদের 'ক্যালফ্রেশ' খাদ্য সহায়তা সুবিধা হারাতে পারেন। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাউন্টি কর্তৃপক্ষ 'সেফটি নেট ব্রিজ' নামের একটি প্রকল্পে অর্থায়ন করেছে। এর আওতায় শনিবার চুলা ভিস্তা এলাকায় পরিবারগুলোর মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়।   চার সন্তানের বাবা হোসে মিরান্ডা জানান, তাদের পরিবারকে বেশ কয়েকটি সহায়তা কর্মসূচির ওপর নির্ভর করে চলতে হয়। সংসারের খরচ মেটাতে তিনি এবং তার স্ত্রী দুজনকেই কাজ করতে হয়। তিনি বলেন, "আমরা দুজনই ন্যূনতম মজুরিতে কাজ করি। বিভিন্ন সহায়তা পাওয়ার জন্য আমরা ২-১-১ নম্বরে কল করে খোঁজ নিই এবং মাঝেমধ্যেই এ ধরনের সাহায্য প্রদানকারী ইভেন্টগুলোতে আসি।"   কাউন্টি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী শরৎকাল পর্যন্ত বাসিন্দাদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এবং খাদ্য সহায়তা দিতে তারা আরও বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। উল্লেখ্য, সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া এবং লস অ্যাঞ্জেলেস ইউনিফায়েড স্কুল ডিস্ট্রিক্ট (এলএইউএসডি) ও এবিসি ইউনিফায়েডসহ প্রধান শহুরে এলাকাগুলোতে গত ১২ আগস্ট, সোমবার থেকে নতুন শিক্ষাবর্ষের ক্লাস শুরু হয়েছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ৯, ২০২৬ ১৪:০
ক্যালিফোর্নিয়ার লা জোলা উপকূলে অবস্থিত বিলাসবহুল ‘দ্য স্যান্ড ক্যাসেল’ প্রাসাদ। ছবি: সংগৃহীত
ক্যালিফোর্নিয়ার চোখধাঁধানো বিলাসবহুল বাড়ি ‘দ্য স্যান্ড ক্যাসল’ বিক্রি হচ্ছে ৮ কোটি ৭৫ লাখ ডলারে

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার রিয়েল এস্টেট বাজারে সম্প্রতি একটি নজরকাড়া বিলাসবহুল বাড়ি বিক্রির জন্য তোলা হয়েছে। সাগরের তীরে অবস্থিত ফরাসি স্থাপত্যশৈলীর আদলে তৈরি এই প্রাসাদের দাম হাঁকা হয়েছে ৮ কোটি ৭৫ লাখ মার্কিন ডলার। ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগোর কাছে লা জোলা উপকূলে অবস্থিত এই বাড়ির নাম দেওয়া হয়েছে 'দ্য স্যান্ড ক্যাসল'। ইউরোপীয় আভিজাত্য এবং সাগরের তীরের প্রশান্তির এক অনন্য মিশ্রণ ঘটিয়ে প্রশান্ত মহাসাগরের তীরে এটি অন্যতম একটি উচ্চাভিলাষী আবাসিক সম্পত্তি হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।   গত ২০২৪ সালে বাড়িটির দাম ধরা হয়েছিল ১০ কোটি ৮০ লাখ ডলার। তবে ২০২৬ সালে এসে এর দাম কিছুটা কমিয়ে ৮ কোটি ৭৫ লাখ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে, যা এখনও সাধারণ মানুষের কল্পনার বাইরে। রিয়েল এস্টেট এজেন্টদের দেওয়া তথ্যমতে, দ্য স্যান্ড ক্যাসল তার আকার এবং সুযোগ সুবিধার দিক থেকে সত্যিই অসাধারণ। ক্যালিফোর্নিয়ায় বর্তমানে উপকূলীয় উন্নয়নের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ থাকায়, সমুদ্রের তীরে এত বড় পরিসরের কোনো আবাসিক সম্পত্তি নতুন করে নির্মাণ করা এখন প্রায় অসম্ভব।   বিশাল এই সম্পত্তিতে মূল ভবনের পাশাপাশি অতিথিদের থাকার জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ বাড়ি রয়েছে। প্রায় ১৩ হাজার বর্গফুট আয়তনের এই বিশাল প্রাসাদে রয়েছে ১০টি এনস্যুট বেডরুম এবং ১৪টি আধুনিক বাথরুম। প্রতিটি ঘর এমনভাবে সাজানো হয়েছে যেখানে খরচের কোনো তোয়াক্কা করা হয়নি। উনিশ শতকের প্রাচীন আসবাবপত্র, চমৎকার সোনালি রঙের কারুকাজ এবং দৃষ্টিনন্দন মোজাইকের সঙ্গে আধুনিক স্মার্ট হোম প্রযুক্তির এক দারুণ সমন্বয় ঘটানো হয়েছে পুরো বাড়িটিতে।   বাড়িটির বর্তমান মালিক ডারউইন ডেসন। তিনি অ্যাফিলিয়েটেড কম্পিউটার সার্ভিসেসের প্রতিষ্ঠাতা, যা তিনি ২০০৯ সালে জেরক্সের কাছে ৬০০ কোটি ডলারের বেশি দামে বিক্রি করেছিলেন। প্রায় ১৫ বছর আগে ২ কোটি ৬০ লাখ ডলার খরচ করে তিনি দ্য স্যান্ড ক্যাসল এবং এর পাশের একটি জায়গা কিনেছিলেন। মূলত ২০০৫ সালে সান দিয়েগোর ডেভেলপার ডাগ ম্যানচেস্টার এটি নির্মাণ করলেও ডারউইন ডেসন তার স্বপ্নের রূপ দিতে সেরা পেশাদারদের একত্রিত করেন। আইল্যান্ড আর্কিটেক্টসের স্থপতি ড্রেক্স প্যাটারসন এবং বিশ্বখ্যাত ইন্টেরিয়র ডিজাইনার টিমোথি কোরিগান এই প্রাসাদের নকশা ও অন্দরমহল সাজানোর দায়িত্ব পালন করেন।   ফরাসি রাজপ্রাসাদ, বিশেষ করে ভার্সাই এবং এর বিখ্যাত পেটিট ট্রায়ানন থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে এটি নির্মাণ করা হয়েছে। তবে এর সাথে ক্যালিফোর্নিয়ার বিচ হাউসের আরামদায়ক পরিবেশও বজায় রাখা হয়েছে। বাড়িটিতে রয়েছে একটি সুইমিংপুল, ফিটনেস সেন্টার, দুটি ক্যাবানা এবং একটি ব্যক্তিগত সমুদ্রসৈকত। প্রশান্ত মহাসাগর এবং চারপাশের উপকূলের বাধাহীন মনোরম দৃশ্য উপভোগ করার ব্যবস্থা রয়েছে এখানে।   সমুদ্রের ১৬৩ ফুট অংশ জুড়ে থাকা এই সম্পত্তির সুরক্ষায় ১৯৫০-এর দশকে তৈরি একটি ঐতিহাসিক সীওয়াল বা সমুদ্র প্রাচীর রয়েছে। এছাড়া বাইরের অংশে রয়েছে সমুদ্রমুখী বারান্দা, একটি বোটহাউস এবং প্রাকৃতিকভাবে তৈরি হওয়া সামুদ্রিক গুহা। বাড়িটির অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো এর ব্যক্তিগত উঁচু একটি ছাদ বা টেরেস। সেখানে ব্যবহৃত সাদা বালি আনা হয়েছে বিখ্যাত অগাস্টা ন্যাশনাল গলফ কোর্সের বালুর টেক্সচার ও গুণগত মানের সঙ্গে মিল রেখে। এছাড়া বড় কোনো অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য রয়েছে একটি বিশাল ও বিলাসবহুল শোরুম।   বর্তমানে এই সম্পত্তির ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছেন কম্পাস এজেন্সির প্রতিনিধি ব্রেট ডিকিনসন এবং রস ক্লার্ক। তাদের মতে এটি সান দিয়েগো কাউন্টির ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি দামি আবাসিক সম্পত্তিগুলোর মধ্যে অন্যতম।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ৯, ২০২৬ ১৪:০
ক্যালিফোর্নিয়ায় রাস্তা সংস্কারে আবর্জনা সংগ্রহের বিলে যুক্ত হতে যাচ্ছে বাড়তি ফি
ক্যালিফোর্নিয়ায় রাস্তা সংস্কারে আবর্জনা সংগ্রহের বিলে যুক্ত হতে যাচ্ছে বাড়তি ফি

ক্যালিফোর্নিয়াবাসীকে রাস্তা মেরামতের খরচ জোগাতে এখন থেকে আবর্জনা বা গার্বেজ সংগ্রহের বিলে অতিরিক্ত অর্থ প্রদান করতে হতে পারে। বৃহস্পতিবার ক্যালিফোর্নিয়া অ্যাসেম্বলিতে এই সংক্রান্ত একটি বিল (সিনেট বিল ৯২২) সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে পাস হয়েছে। বিলটি চূড়ান্তভাবে আইনে পরিণত হলে স্থানীয় সরকারগুলো ভারী আবর্জনাবাহী ট্রাকের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা মেরামতের জন্য গ্রাহকদের ওপর বাড়তি ট্যাক্স বা ফি আরোপের আইনি বৈধতা পাবে।   সান্তা ক্রুজের ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন লেয়ার্ড বিলটির মূল রচয়িতা। অ্যাসেম্বলিতে বিলটি উপস্থাপনের সময় ডেমোক্র্যাট সদস্য স্টিভ বেনেট জানান, স্থানীয় সরকারগুলোর ওপরই মূলত রাস্তাঘাট রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব থাকে। ভারী আবর্জনাবাহী ট্রাক নিয়মিত চলাচলের কারণে রাস্তাগুলো দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়।   দশকের পর দশক ধরে এই ক্ষতির খরচ আবর্জনা সংগ্রহ সেবার ফি ও ফ্র্যাঞ্চাইজি চুক্তির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করার প্রচলন রয়েছে। মূলত গত বছর, অর্থাৎ ২০২৫ সালের জুনে ‘রজার্স বনাম সিটি অব রেডল্যান্ডস’ মামলায় আদালতের বিচারক জোসেফ টি. অর্টিজ এ ধরনের ফি আদায়কে বৈধ বলে রায় দিয়েছিলেন। নতুন এই বিলটি সেই ফি আদায়ের আইনি ভিত্তিকেই আরও সুদৃঢ় ও স্পষ্ট করবে।   তবে এই বিলের যৌক্তিকতা নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বেশ কয়েকজন আইনপ্রণেতা। রিপাবলিকান অ্যাসেম্বলি সদস্য কার্ল ডিমাও বিলটির তীব্র বিরোধিতা করে বলেন, সাধারণ মানুষ উচ্চহারে গ্যাস ট্যাক্স দেওয়ার পরও রাস্তার বেহাল দশা কাটেনি।   লেজিসলেটিভ অ্যানালিস্ট অফিসের ২০২৫ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্যালিফোর্নিয়ার করদাতারা ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাস্তা মেরামতের জন্য প্রায় ৩.৭১ বিলিয়ন ডলার কর দিয়েছেন, যা আগের বছরগুলোর তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বেশি। ১ জুলাই থেকে ক্যালিফোর্নিয়ায় গ্যাস ট্যাক্স বেড়ে প্রতি গ্যালনে ৬৩.৪ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। এত বিপুল পরিমাণ কর আদায়ের পরও রাস্তার কেন কোনো উন্নতি হচ্ছে না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিরোধীরা।   সব সমালোচনা ও বিতর্কের পরও অ্যাসেম্বলিতে বিলটির পক্ষে ৪৬টি এবং বিপক্ষে ১২টি ভোট পড়ে। বিরোধীদের সমালোচনার জবাবে স্টিভ বেনেট বলেন, সরকার থেকে সর্বোচ্চ কার্যকরী সেবা প্রদান নিশ্চিত করাই সবার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। বিলটি এখন চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে, যা কার্যকর হলে স্থানীয় সরকারগুলো রাস্তা মেরামতে বাড়তি তহবিলের নিশ্চয়তা পাবে।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ৯, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

ছোট ভাইকে বুকে জড়িয়ে নিরাপদ রাখার চেষ্টা করছিল শিশুকন্যা, পরে তাদের উদ্ধার করে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

জঙ্গলে ফেলে যাওয়া দুই ভাইবোনকে উদ্ধার, ছোট ভাইকে বাঁচাতে সারা রাত বুকে আগলে রাখল বোন

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১০, ২০২৬ ১৪:০