যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিমান সংস্থা আলাস্কা এয়ারলাইন্স হাওয়াই ও ক্যালিফোর্নিয়ার মধ্যে নতুন সরাসরি ফ্লাইট চালু করেছে। নতুন এই রুটের মাধ্যমে যাত্রীদের জন্য আরও সহজ ও দ্রুত ভ্রমণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। বুধবার থেকে শুরু হওয়া এই দৈনিক ননস্টপ ফ্লাইটটি হলিউড বারব্যাঙ্ক বিমানবন্দর ও হনোলুলুর ড্যানিয়েল কে. ইনোউয়ে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মধ্যে চলাচল করছে। এটি একটি মৌসুমি সেবা, যা আগামী ১৮ আগস্ট পর্যন্ত চালু থাকবে। নতুন ফ্লাইট অনুযায়ী, হনোলুলু থেকে দুপুর ১২টা ১৯ মিনিটে উড্ডয়ন করে বিমানটি রাত প্রায় ৯টায় বারব্যাঙ্কে পৌঁছায়। আলাস্কা এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, এই রুট যুক্ত হওয়ার ফলে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার যাত্রীদের জন্য হাওয়াই ভ্রমণ আরও সহজ হবে। এই সংযোজনের ফলে ক্যালিফোর্নিয়ার মোট নয়টি বিমানবন্দর থেকে হনোলুলুতে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করছে আলাস্কা এয়ারলাইন্স। এর মধ্যে রয়েছে লস অ্যাঞ্জেলেস, লং বিচ, অকল্যান্ড, অন্টারিও, স্যাক্রামেন্টো, সান দিয়েগো, সান ফ্রান্সিসকো ও সান হোসে। এ ছাড়া হাওয়াইয়ের বিভিন্ন গন্তব্য যেমন মাউই, কাউয়াই এবং কাইলুয়া-কোনা থেকেও সংস্থাটি সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করছে। আলাস্কা এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, হাওয়াইয়ান এয়ারলাইন্সের সঙ্গে যৌথ নেটওয়ার্ক ব্যবহারের ফলে তাদের ফ্লাইট সংখ্যা ও গন্তব্য উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সংস্থাটির বৈশ্বিক বিক্রয় ও ক্যালিফোর্নিয়া বাণিজ্য কার্যক্রম বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট নিল থোয়েটস বলেন, দুই সংস্থার সমন্বয়ের ফলে যাত্রীদের জন্য আরও বেশি আসন, ফ্লাইট ও গন্তব্য নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে। এয়ারলাইন্সটি জানিয়েছে, গ্রীষ্মকালীন সম্প্রসারণ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ক্যালিফোর্নিয়া ও হাওয়াইয়ের মধ্যে প্রায় ২৩ হাজার ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। নতুন রুটে রিটার্ন টিকিটের প্রারম্ভিক মূল্য প্রায় ৫০০ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।
উত্তর আমেরিকায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের অন্যতম বৃহৎ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সম্মেলন ফেডারেশন অব বাংলাদেশি অ্যাসোসিয়েশনস ইন নর্থ আমেরিকা (FOBANA) -এর ৪০তম কনভেনশন এ বছর যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আয়োজক কমিটির তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৪, ৫ ও ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ লেবার ডে ছুটির সপ্তাহে তিন দিনব্যাপী এই কনভেনশন অনুষ্ঠিত হবে। এবারের স্বাগতিক সংগঠন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ক্যালিফোর্নিয়া (BAC)। সম্প্রতি আয়োজকরা ৪০তম ফোবানা কনভেনশনের হোস্ট কমিটি ও বিভিন্ন সাব-কমিটির তালিকা প্রকাশ করেছে। ঘোষিত তালিকায় কনভেনরের দায়িত্ব পেয়েছেন ড. জয়নুল আবেদীন এবং কো-কনভেনর হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন হাবিব আহমেদ টিয়া। সদস্য সচিব হিসেবে রয়েছেন মোহাম্মদ ইকবাল। আয়োজক কমিটির অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন মোয়াজ্জেম এইচ চৌধুরী প্রেসিডেন্ট, মাসুদ রব চৌধুরী প্রধান উপদেষ্টা, মোহাম্মদ এস হক প্রধান সমন্বয়ক এবং ড. মুশফিকুল হক কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। কনভেনশন সফলভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে একাধিক সাব-কমিটি গঠন করা হয়েছে। সাংস্কৃতিক কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন শাহিদ আহমেদ মিঠু, স্কলারশিপ কমিটির দায়িত্বে আছেন ড. ইউনুস রাহী, ইয়ুথ ফোরাম কমিটির চেয়ারম্যান রাসেল মাহমুদ জুয়েল, মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিকেশন কমিটির চেয়ারম্যান লাসকার আল মামুন, রেজিস্ট্রেশন কমিটির দায়িত্বে শফিক রহমান, গেস্ট রিলেশনস কমিটির চেয়ারম্যান অ্যালেন এলিয়াস খান, গেস্ট অ্যাকমোডেশন কমিটির দায়িত্বে মেহেদী হাসান এবং স্টল ও বুথ ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে মো শওকত আনজিম। ফোবানা আয়োজকরা জানান, এবারের ফোবানা কনভেনশনে থাকছে জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, বাংলাদেশ ও প্রবাসের জনপ্রিয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, গালা নাইট, ব্যবসা ও বিনিয়োগ বিষয়ক সেমিনার, যুব নেতৃত্ব ও নারী নেতৃত্ব বিষয়ক আলোচনা, স্বাস্থ্য ও ওয়েলনেস সেশন, সাহিত্য জলসা, মিডিয়া ও সামাজিক উন্নয়ন বিষয়ক আলোচনা, শিশু-কিশোরদের পরিবেশনা, ফ্যাশন শো, ফুড ফেস্টিভ্যাল এবং বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের এক্সপো বুথ। আয়োজকরা আরও জানান, উত্তর আমেরিকায় বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলাদেশি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরাই এবারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। একই সঙ্গে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বৃহত্তর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে হলিউড ও ইউনিভার্সাল সিটির কাছাকাছি ভেন্যু হওয়ায় এবারের ফোবানা কনভেনশন নিয়ে প্রবাসীদের আগ্রহ অনেক বেড়েছে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে হাজারো প্রবাসী বাংলাদেশি, কমিউনিটি নেতা, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবারের আয়োজনে অংশ নেবেন। আয়োজকদের বলেন, ফোবানা এখন শুধু একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নয়; এটি উত্তর আমেরিকায় বাংলাদেশি পরিচয়, সংস্কৃতি, ঐক্য ও কমিউনিটির শক্তির অন্যতম প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। গত বছর জর্জিয়ার আটলান্টায় অনুষ্ঠিত ফোবানা কনভেনশন ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। সেই ধারাবাহিকতায় এবার লস অ্যাঞ্জেলেসে আরও বড় পরিসরে আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার উত্তরাঞ্চলে একটি অবৈধ আতশবাজি গুদামে ভয়াবহ বিস্ফোরণে সাতজন নিহতের ঘটনায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ শুক্রবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। অভিযোগপত্রে বলা হয়, গত ১ জুলাই এসপার্টো এলাকার কাছে এই বিস্ফোরণের ঘটনায় আরও দুইজন আহত হন। তদন্তে উঠে এসেছে, গুদামটিতে আইনবহির্ভূতভাবে বিপুল পরিমাণ আতশবাজি মজুত রাখা হয়েছিল। প্রধান অভিযুক্ত স্যামুয়েল মাচাডো, যিনি ওই গুদামের মালিক এবং ইয়োলো কাউন্টি শেরিফ দপ্তরের সাবেক লেফটেন্যান্ট ছিলেন, তার বিরুদ্ধে অভিযোগ—তিনি নিজের প্রভাব ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ কার্যক্রম আড়াল করে আসছিলেন। প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালে যেখানে ১৩টি কনটেইনার ছিল, তা বেড়ে গত বছর ৫০টিতে পৌঁছায়। এই ঘটনায় আরও যাদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়েছে তারা হলেন—কেনেথ চি, জ্যাক লি, গ্যারি চ্যান জুনিয়র এবং ডগলাস টোলেফসেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন আতশবাজি ব্যবসার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন এবং গুদামটি ব্যবহার করতেন সংরক্ষণ ও বিক্রির কাজে। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, মোট আটজনের বিরুদ্ধে ৩০টির বেশি অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে হত্যা, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, অবৈধ বিস্ফোরক রাখা, বীমা জালিয়াতি, শিশু বিপন্ন করা এবং প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা। এ ঘটনায় স্যামুয়েল মাচাডোর স্ত্রী ট্যামি মাচাডোকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, তবে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। তার বিরুদ্ধে কর ফাঁকি, বন্ধক জালিয়াতি এবং পরিবারের পাশে অবৈধ বিস্ফোরক রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তকারীরা জানান, বিস্ফোরণটি এতটাই শক্তিশালী ছিল যে আশপাশের বাড়ির দরজা-জানালা কেঁপে ওঠে। স্থানীয় বাসিন্দারা এটিকে ‘বোমা বিস্ফোরণের মতো’ বলে বর্ণনা করেছেন। ঘটনায় নিহতদের মধ্যে কয়েকজন গুদামের কর্মী ছিলেন। বিস্ফোরণের পর আশপাশের এলাকায় ব্যাপক অগ্নিকাণ্ড ছড়িয়ে পড়ে এবং স্বাধীনতা দিবসের আতশবাজি উৎসব বাতিল করতে বাধ্য হয় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই ঘটনায় দায়ীদের আদালতে হাজির করা হবে এবং আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে ইরানের নিহত শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা জেনারেল কাসেম সোলেইমানির ভাতিজি ও তার মেয়েকে গ্রেপ্তার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE)। কর্তৃপক্ষ জানায়, তাদের গ্রিন কার্ড বাতিল হওয়ার পরই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অভিবাসন সংক্রান্ত আইনি জটিলতা এবং জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট বিবেচনায় এই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আইস সূত্রে জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে অবস্থান করলেও, সাম্প্রতিক মূল্যায়নে তাদের স্ট্যাটাস বাতিল করা হয়। এরপরই তাদের আটক করা হয় এবং বর্তমানে তারা ইমিগ্রেশন কাস্টডিতে রয়েছেন। এ ঘটনায় এখনো বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই ঘটনা নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। উল্লেখ্য, জেনারেল কাসেম সোলেইমানি ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন হামলায় নিহত হন, যা দুই দেশের সম্পর্ককে তীব্র উত্তেজনার দিকে ঠেলে দেয়।
যুক্তরাষ্ট্রে সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে চলেছে। সর্বশেষ ক্যালিফোর্নিয়ার বে এরিয়ায় এক দুঃসাহসিক স্ম্যাশ-অ্যান্ড-গ্র্যাব ডাকাতির ঘটনায় মাত্র এক মিনিটের মধ্যে প্রায় ১৭ লাখ ডলারের স্বর্ণ ও হীরার গয়না লুট করে পালিয়ে গেছে একদল মুখোশধারী দুর্বৃত্ত। পুলিশ জানিয়েছে, কয়েকজনের একটি সংঘবদ্ধ দল হঠাৎ করেই একটি জুয়েলারি দোকানে ঢুকে পড়ে এবং হাতুড়ি ও ভারী বস্তু দিয়ে কাচের শোকেস ভাঙতে শুরু করে। দোকানের কর্মচারীরা আতঙ্কে নিরাপদ স্থানে সরে যান, আর সেই সুযোগে ডাকাতরা দ্রুত মূল্যবান গয়না ব্যাগে ভরে ফেলে। পুরো ঘটনাটি ঘটে মাত্র ৬০ থেকে ৭০ সেকেন্ডের মধ্যে, যা সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে। ডাকাতরা ঘটনাস্থল থেকে একাধিক গাড়িতে করে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত এলাকায় অভিযান চালায় এবং সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করতে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এই ডাকাতির সাথে একটি সংগঠিত অপরাধচক্র জড়িত। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে ক্যালিফোর্নিয়া সহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে মব-স্টাইল স্ম্যাশ-অ্যান্ড-গ্র্যাব ডাকাতি বেড়ে গেছে। বিশেষ করে বিলাসবহুল দোকান, জুয়েলারি শপ ও ব্র্যান্ডেড স্টোরগুলোকে টার্গেট করা হচ্ছে, কারণ অল্প সময়ে বড় অঙ্কের মালামাল লুট করা সম্ভব। পুলিশ জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে এবং ঘটনার সাথে জড়িতদের ধরতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ট ট্রাম্পের নাতনি কাই ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন। তিনি সম্প্রতি ইউটিউবে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন, যেখানে তাকে ক্যালিফোর্নিয়ার বিলাসবহুল গ্রোসারি স্টোর এরেহোয়ান এ কেনাকাটা করতে দেখা যায়। ভিডিওতে তার সঙ্গে মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। ভিডিওতে কাই ট্রাম্পকে দামী অর্গানিক খাবার, বিশেষ স্মুদি ও বিভিন্ন প্রিমিয়াম পণ্য কিনতে দেখা যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক ব্যাগ খাবারের জন্য তিনি প্রায় ২৩৩ ডলার খরচ করেন, যার মধ্যে একটি স্মুদির দামই ছিল ২০ ডলারের বেশি। ভিডিওটির শিরোনাম ছিল “I brought my Secret Service to Erewhon”, যা প্রকাশের পরপরই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। পরে তিনি ভিডিওর শিরোনাম পরিবর্তন করেন। সমালোচকদের অভিযোগ, যখন যুক্তরাষ্ট্রে অনেক মানুষ উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও খাদ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে সমস্যায় আছেন, তখন এমন বিলাসবহুল কেনাকাটার ভিডিও প্রকাশ করা সংবেদনশীলতার অভাব দেখায়। এছাড়া করদাতাদের অর্থে পরিচালিত নিরাপত্তা বাহিনী ব্যক্তিগত কেনাকাটায় সঙ্গে থাকার বিষয়টিও অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে কাই ট্রাম্পের সমর্থকরা বলছেন, তিনি একজন তরুণ সোশ্যাল মিডিয়া কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে নিজের দৈনন্দিন জীবনই দেখিয়েছেন, এতে ভুল কিছু নেই।
ক্যালিফোর্নিয়ার সিয়েরা নেভাদা পর্বতমালায় লেক টাহোর কাছে ব্যাককান্ট্রি স্কিয়ারদের উপর ধস নেমে ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। নেভাদা কাউন্টি শেরিফের অফিস জানিয়েছে, এ ঘটনায় একজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। সোমবার থেকে তিনদিনব্যাপী স্কি ট্রিপে অংশ নেওয়া এই দলের ছয় সদস্যকে “বিভিন্ন ধরনের আহত অবস্থায়” উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে দুজনকে হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। ধসটি ঘটে যখন স্কিয়াররা ট্রেইলহেডের দিকে ফেরার পথে ছিলেন। হিমবাহ, পাথর ও আবর্জনার ধস এক মুহূর্তে সব কিছু ঢেকে দেয়। ধসের পরে বেঁচে থাকা স্কিয়াররা তাদের দলকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চালিয়েছেন এবং রেসকিউ-এর জন্য অপেক্ষার সময় আশ্রয় improvisation করেছেন। উদ্ধার অভিযানের চ্যালেঞ্জ কাস্টল পিক এলাকায় ধসের খবর পাওয়া মাত্রই ৪৬ জন দক্ষ উদ্ধারকর্মী উদ্ধার অভিযানে নামে। তবে ঘন তুষারপাত ও ঝোড়ো বাতাসে অভিযান দীর্ঘায়িত হয়েছে। নেভাদা কাউন্টি শেরিফ শান্নান মুন জানান, উদ্ধার অভিযান চলমান আছে, তবে আবহাওয়ার উপর নির্ভরশীল। সতর্কতার পূর্বাভাস ঘটনার সময় এলাকা “৪/৫” স্তরের উচ্চ ধস ঝুঁকির মধ্যে ছিল। ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস সতর্ক করেছে, প্রাকৃতিক ধস সম্ভব, এবং মানুষজনের ক্রিয়ার কারণে বড় ধসের ঝুঁকি অত্যন্ত সম্ভাব্য। এই সময়ে ব্যাককান্ট্রি যাত্রা সুপারিশযোগ্য নয়। Blackbird Mountain Guides, যারা এই ট্রিপ পরিচালনা করছিল, দুই দিন আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় সতর্কবার্তা প্রকাশ করেছিল। তারা জানিয়েছিল, তুষারের দুর্বল স্তর অপ্রত্যাশিত ধস ঘটাতে পারে। বেঁচে থাকা স্কিয়ারদের পরিস্থিতি বেঁচে থাকা স্কিয়াররা জরুরি সিগন্যাল ব্যবহার করে উদ্ধারকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। তাঁরা টার্প দিয়ে আত্মনিরাপত্তা নিশ্চিত করেছিলেন। উদ্ধার বিশেষজ্ঞরা মনে করান, এমার্জেন্সি বীকন বা জিপিএস কমিউনিকেটর ব্যাককান্ট্রিতে জীবন বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ। ইতিহাস ও সতর্কতা কাস্টল পিক, ডোনার সামিট এলাকার ৯,১১০ ফুট উঁচু চূড়া, ব্যাককান্ট্রি স্কিয়ারদের জনপ্রিয় গন্তব্য। ডোনার সামিট তার অকালপ্রবেশের ইতিহাসের জন্য পরিচিত, যেখানে ১৮৪৬–৪৭ সালের শীতে একদল প্রকৃতই বিপদের মুখোমুখি হয়েছিল। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, ব্যাককান্ট্রি ট্র্যাভেলারেরা সবচেয়ে বেশি ধস-ফলিত মৃত্যুর শিকার। নেভাদা কাউন্টি শেরিফের অফিস বুধবার সকাল ১১টায় উদ্ধার অভিযান সম্পর্কে সংবাদ সম্মেলন করবে। Blackbird Mountain Guidesও পরবর্তীতে তাদের পক্ষ থেকে বিস্তারিত বিবৃতি প্রকাশ করবে। তথ্যসূত্র: সিএনএন
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।