পোপ চতুর্দশ লিও বুধবার সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, বর্তমানে যুদ্ধবিধ্বস্ত এই অস্থির পৃথিবীতে ঐক্য ও শান্তির যে বার্তা তিনি দিচ্ছেন, তা শোনার এখনই উপযুক্ত সময়।
আফ্রিকা সফরের অংশ হিসেবে আলজেরিয়া থেকে ক্যামেরুন যাওয়ার পথে তিনি এই মন্তব্য করেন। বিশেষ করে ইরান যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের ক্রমাগত সমালোচনার মুখেও তিনি তার এই শান্তিবাদী অবস্থানে অনড় রয়েছেন।
পোপ লিও আলজেরিয়ার গ্র্যান্ড মসজিদ পরিদর্শনকে একটি অনন্য উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ভিন্ন বিশ্বাস ও জীবনধারা সত্ত্বেও মানুষ চাইলে একে অপরের সাথে শান্তিতে বসবাস করতে পারে এবং এই ভ্রাতৃত্বের চিত্রটিই আজ বিশ্বের জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।
ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ভ্যাটিকান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা এখন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। ট্রাম্প ও তার সহযোগীরা পোপের অবস্থানের কড়া সমালোচনা করলেও তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের কোনো হুমকিতেই তিনি বিন্দুমাত্র ভীত নন।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স পোপের ধর্মতাত্ত্বিক জ্ঞান নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাকে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। এর জবাবে পোপ সেন্ট অগাস্টিনের জন্মভূমি পরিদর্শন করে পরোক্ষভাবে বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, ন্যায়সঙ্গত যুদ্ধের নীতি সম্পর্কে তার জ্ঞান ও আদর্শ অত্যন্ত গভীর।
ট্রাম্প ও ভ্যাটিকানের এই বাগযুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ তৈরি করছে। বিশেষ করে ট্রাম্পের নিজেকে আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা এবং পরবর্তীতে সেই অবস্থান থেকে সরে আসার ঘটনাটি এই দ্বৈরথকে আরও বেশি নাটকীয় করে তুলেছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পোপের এই সফর কেবল ধর্মীয় নয় বরং একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক বার্তা বহন করছে। তিনি বিশ্বনেতাদের ক্ষমতার আস্ফালন বাদ দিয়ে অবিলম্বে মানবিকতার পথে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন যা বর্তমান সময়ে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
পোপের আফ্রিকা সফর এখন ওয়াশিংটনের আগ্রাসী নীতির বিরুদ্ধে এক ধরণের প্রতীকী প্রতিরোধ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি বিশ্বাস করেন, কেবল সংলাপের মাধ্যমেই মধ্যপ্রাচ্যের এই রক্তক্ষয়ী সংকটের অবসান ঘটানো সম্ভব এবং এতেই বিশ্ব মানবতার কল্যাণ নিহিত।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না। নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার। তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।
নিউইয়র্কের প্রাণকেন্দ্র জ্যাকসন হাইটসে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল এবং গণভোজের আয়োজন করা হয়েছে। শনিবার (৩০ মে) জ্যাকসন হাইটস সোসাইটি নিউ ইয়র্ক, আমেরিকার উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব এবং বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি অংশ নেন। জ্যাকসন হাইটসে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গিয়াস আহমেদ সদস্য জাতীয় নির্বাহী কমিটি বিএনপি। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন কমিউনিটি নেতা জসীম উদ্দীন ভূঁইয়া, আব্দুস সবুরসহ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল এবং বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানে অংশ নেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রবাসী বাংলাদেশিরাও। আলোচনা সভায় বক্তারা জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক জীবন, মুক্তিযুদ্ধে তার ভূমিকা এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় তার অবদান নিয়ে বক্তব্য দেন। তারা বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় জিয়াউর রহমান একজন সেক্টর কমান্ডার হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং পরবর্তীকালে দেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বক্তারা তার কর্মময় জীবন ও রাজনৈতিক দর্শনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল দোয়া মাহফিল ও গণভোজ। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শহীদ রাষ্ট্রপতির রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হয়। পরে আগত অতিথি ও সাধারণ মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষক ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্রেটিক পার্টির ডিস্ট্রিক্ট লিডার অ্যাট-লার্জ অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী। এ সময় তিনি গণভোজ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। আয়োজকদের দাবি অনুযায়ী, প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা হয় এবং বিপুলসংখ্যক মানুষ এতে অংশ নেন। বক্তারা বলেন, প্রবাসে বসবাস করলেও বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলোকে স্মরণ করা প্রবাসী বাংলাদেশিদের দায়িত্ব। এ ধরনের আয়োজন নতুন প্রজন্মকে দেশের ইতিহাস সম্পর্কে জানার সুযোগ করে দেয় এবং কমিউনিটির মধ্যে ঐক্য ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় করে। অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া অনেক প্রবাসী বাংলাদেশি বলেন, জ্যাকসন হাইটস দীর্ঘদিন ধরেই নিউইয়র্কে বাংলাদেশি কমিউনিটির অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। ফলে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিবসগুলোতে এখানে আয়োজিত কর্মসূচিগুলো প্রবাসীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে। তারা মনে করেন, এ ধরনের অনুষ্ঠান শুধু রাজনৈতিক বা সামাজিক কর্মসূচি নয়, বরং প্রবাসে বাংলাদেশি পরিচয় ও সংস্কৃতিকে ধরে রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। আয়োজকরা জানান, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি মানুষের অংশগ্রহণ ছিল। আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল এবং গণভোজের মাধ্যমে প্রবাসীরা তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং বাংলাদেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও উন্নতি কামনা করেন। অনুষ্ঠানের শেষে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। একইসঙ্গে বাংলাদেশ ও প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির কল্যাণ, শান্তি এবং সমৃদ্ধি কামনা করা হয়। উপস্থিত অতিথিরা ভবিষ্যতেও এ ধরনের জাতীয় ও ঐতিহাসিক দিবসগুলো যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
নিউইয়র্কের লংআইল্যান্ডের হ্যাকশেয়ার স্টেট পার্কে ‘বনছায়ায় একদিন’ শিরোনামে অনুষ্ঠিত হয়েছে আমেরিকা বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের বার্ষিক বনভোজন ও মিলনমেলা। রোববার (২৪ মে) আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ক্লাবের সদস্য, তাদের পরিবার-পরিজন এবং কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পার্ক প্রাঙ্গণ উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। সকাল থেকেই প্রবল বৃষ্টির কারণে বনভোজন আয়োজন নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা দেখা দিলেও বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে গণমাধ্যমকর্মীরা দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে অংশ নেন। পরে এই আয়োজন প্রবাসী বাংলাদেশিদের এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায় পরিণত হয়। বনভোজনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম। বক্তব্যে তিনি বলেন, “নিউইয়র্ক প্রবাসীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে এ ধরনের বনভোজনের আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অভিবাসী সমাজে সব বাংলাদেশির ঐক্যবদ্ধ থাকা জরুরি।” তিনি সমাজ ও প্রবাসীদের কল্যাণে সাংবাদিকদের ইতিবাচক ভূমিকা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঢাকা সোসাইটির সভাপতি ও সমাজকর্মী দুলাল বেহেদু বলেন, “এই প্রবাসী সমাজই আমাদের কাছে বাংলাদেশ। প্রবাসে আমরা একে অপরের নিকটজন। যেকোনো বিপদে আমরা যেন একে অন্যের পাশে দাঁড়াতে পারি, এটাই হোক আমাদের অঙ্গীকার।” অনুষ্ঠানে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার গুরুত্ব তুলে ধরে বক্তব্য দেন ‘জন্মভূমি’ পত্রিকার সম্পাদক রতন তালুকদার। আমেরিকা বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সভাপতি শওকত ওসমান রচির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন ক্লাবের সাবেক সভাপতি দর্পণ কবীর ও মোহাম্মদ সাঈদ। অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে পরিচালনা করেন ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান মজুমদার এবং বনভোজন উপ-কমিটির আহ্বায়ক আবু বকর সিদ্দিক। সমাপনী বক্তব্যে সভাপতি শওকত ওসমান রচি বৈরী আবহাওয়া সত্ত্বেও অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে ক্লাবের প্রতি ভালোবাসা ও সমর্থন প্রদর্শনের জন্য সবার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। দিনব্যাপী আয়োজনে অংশগ্রহণকারীদের জন্য ছিল নানা আয়োজন। স্পটেই গরম গরম লুচি ভাজা, চা ও বিকেলে পেঁয়াজু পরিবেশনের পাশাপাশি মধ্যাহ্নভোজে পরিবেশন করা হয় কাচ্চি বিরিয়ানি। খাবারের পাশাপাশি ছিল বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, আকর্ষণীয় র্যাফেল ড্র এবং মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। র্যাফেল ড্র-তে প্রথম পুরস্কার হিসেবে সোনার চেইন জেতেন রোকেয়া দীপা, দ্বিতীয় পুরস্কার ল্যাপটপ পান মিসেস পাহলভী এবং তৃতীয় পুরস্কার হিসেবে অ্যাপেল ওয়াচ জেতেন মিসেস মঞ্জুরুল ইসলাম। এ ছাড়া নারীদের লুডু খেলায় প্রথম স্থান অর্জন করে কানের দুল জেতেন হাসিনা আক্তার। সাংস্কৃতিক পর্বে সঙ্গীত পরিবেশন করেন শিল্পী আফজাল হোসেন ও শেখ নীলিমা শশী। তাঁদের পরিবেশনা উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগে কর্মরত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট ফজিলাতুন নেছা ‘আউটস্ট্যান্ডিং সার্ভিস অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন। এশিয়ান আমেরিকান ও প্যাসিফিক আইল্যান্ডার হেরিটেজ মাস উপলক্ষে গত ২১ মে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাকে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়। বাংলাদেশ আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, ফজিলাতুন নেছার এই অর্জন তার পেশাগত নিষ্ঠা, দায়িত্বশীলতা এবং কমিউনিটির প্রতি দীর্ঘদিনের সেবার স্বীকৃতি। তিনি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে যে দক্ষতা ও নেতৃত্বের পরিচয় দিয়েছেন, তা এনওয়াইপিডির ভেতরে ও বাইরে প্রশংসিত হয়েছে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়, এই সম্মাননা শুধু ব্যক্তিগত নয়, বরং পুরো বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য গর্বের বিষয়। তার এই সাফল্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে বলেও আশা প্রকাশ করা হয়েছে। এদিকে সংগঠনটি তাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে ভবিষ্যতেও তার সাফল্য ও অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে বলে প্রত্যাশা করেছে।