যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের ভ্রমণ ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য সংবাদমাধ্যমে ফাঁস হওয়ার অভিযোগে তার নিরাপত্তা দলের এক সদস্যের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে ইউএস সিক্রেট সার্ভিস। অভিযুক্ত এজেন্টকে প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে সম্ভাব্য ফৌজদারি তদন্তও চলছে। বৃহস্পতিবার সিক্রেট সার্ভিসের মুখপাত্র অ্যান্থনি গুগলিয়েলমি এক বিবৃতিতে জানান, ভাইস প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা দলের এক সদস্যের বিরুদ্ধে অপারেশনাল ও তথ্যগত নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার অভিযোগ উঠেছে। এ কারণে তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক তদন্তের পাশাপাশি সম্ভাব্য ফৌজদারি তদন্তও চলছে। তবে তদন্তের স্বার্থে অভিযোগের বিস্তারিত বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। এজেন্সির ভাষ্য অনুযায়ী, যেকোনো ধরনের আচরণ যা নিরাপত্তা প্রাপ্ত ব্যক্তি এবং তার নিরাপত্তা দলের মধ্যে আস্থা নষ্ট করে বা নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করে, তা তাদের নীতির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং এ ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এমএস নাউয়ের একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের পর এই তদন্ত শুরু হয়। ওই প্রতিবেদনে বেনামী সূত্রের বরাতে দাবি করা হয়, ভ্যান্সের নিরাপত্তা দলের কিছু সদস্য তার শেষ মুহূর্তের ভ্রমণসূচি পরিবর্তন এবং পারিবারিক সফর নিয়ে অসন্তুষ্ট ছিলেন। প্রতিবেদনে তার নির্ধারিত কিছু ভ্রমণ পরিকল্পনার বিবরণও প্রকাশ করা হয়, যা সিক্রেট সার্ভিসের নজরে আসে। সিএনএনের তথ্য অনুযায়ী, তদন্তাধীন এজেন্টের বিরুদ্ধে অভিযোগ হলো তিনি এমন একটি সংবাদ প্রতিবেদনের জন্য তথ্য সরবরাহ করেছিলেন, যেখানে ভাইস প্রেসিডেন্টের ভ্রমণ পরিকল্পনার সংবেদনশীল বিবরণ প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে ভ্যান্সের এক সফরের পরিকল্পনাসহ কয়েকটি অপারেশনাল তথ্যও উঠে আসে, যা নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এ ঘটনায় ভ্যান্সের কার্যালয় কোনো পৃথক মন্তব্য করেনি। তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি সিক্রেট সার্ভিসই দেখছে এবং এ বিষয়ে সংস্থাটিই বক্তব্য দেবে। যুক্তরাষ্ট্রে ভাইস প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ভ্রমণসূচি, চলাচলের পরিকল্পনা এবং অপারেশনাল তথ্য অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে বিবেচিত হয়। এসব তথ্য অননুমোদিতভাবে প্রকাশ পেলে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। সে কারণেই অভিযোগটি শুধু প্রশাসনিক পর্যায়ে নয়, সম্ভাব্য ফৌজদারি তদন্তের আওতায়ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের তীব্র সমালোচনা করে অভিযোগ করেছেন যে, তিনি আমেরিকায় 'রক্ত ও মাটি' (Blood and Soil) ভিত্তিক উগ্র ও বিভক্তকারী রাজনীতি ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। লেখক ম্যালকম গ্ল্যাডওয়েলের সঙ্গে আমেরিকার 'পুনর্গঠন যুগ' (Reconstruction era) ও সমসাময়িক রাজনীতি নিয়ে এক আলোচনাকালে ওবামা এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। ওবামা দাবি করেন, আমেরিকার প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের একটি (রিপাবলিকান পার্টি) এখন এমন এক রাজনীতির দখলে চলে গেছে, যা মূলত নির্দিষ্ট এক গোষ্ঠীর মানুষকে 'আমেরিকান' হিসেবে তুলে ধরতে চায়। আলোচনায় ওবামা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জেডি ভ্যান্স নিজে একজন ভারতীয় অভিবাসীর সন্তানকে (উষা ভ্যান্স) বিয়ে করা সত্ত্বেও তার বক্তব্যে 'আমেরিকার আসল নাগরিক কে' তা নির্ধারণে বংশপরিচয় ও পরিবার কত দিন ধরে দেশে রয়েছে—এসব উগ্র বিষয়কে প্রাধান্য দিচ্ছেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসি জার্মানি এবং পরবর্তীতে শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদীদের ব্যবহৃত 'রক্ত ও মাটি' স্লোগানের সঙ্গে ভ্যান্সের বক্তব্যের তুলনা টেনে ওবামা বলেন, এ ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি সমাজে কার অধিকার আছে এবং কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার মালিক—সেসব নিয়ে বিপজ্জনক প্রশ্ন তোলে। আলোচনায় গ্ল্যাডওয়েল ভ্যান্সের এই অবস্থানকে চরম 'ভণ্ডামি' বলে আখ্যা দিলে ওবামা তার সঙ্গে নীতিগতভাবে একমত পোষণ করেন। উল্লেখ্য, সম্প্রতি গত ৪ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা বার্ষিকীতে দেওয়া এক ভাষণে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স আমেরিকানদের বিভাজনের রাজনীতি থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছিলেন। সেখানে তিনি বলেছিলেন, আমেরিকার ইতিহাস ভুলত্রুটির চেয়েও বড় এক মহান সভ্যতা গড়ে তোলার ইতিহাস এবং সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তবে ওবামা দীর্ঘদিন ধরেই ভ্যান্সের রাজনৈতিক দর্শনের সমালোচনা করে আসছেন এবং তাকে অনভিজ্ঞ ও দেশ বিভাজনকারী নেতা হিসেবে চিহ্নিত করে যুক্তরাষ্ট্রের মূল কাঠামোর প্রতি হুমকি বলে সতর্ক করে দিচ্ছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও সেকেন্ড লেডি উষা ভ্যান্স তাঁদের চতুর্থ সন্তানের জন্মের সুখবর জানিয়েছেন। রোববার সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক যৌথ বার্তায় তারা জানান, তাঁদের নবজাতক পুত্রের নাম রাখা হয়েছে অ্যালেক নিল ভ্যান্স। মা ও নবজাতক দুজনই সুস্থ আছেন এবং পরিবারের অন্য তিন সন্তানও নতুন ভাইকে পেয়ে দারুণ আনন্দিত। জেডি ভ্যান্স জানান, ওয়াল্টার রিড ন্যাশনাল মিলিটারি মেডিকেল সেন্টার এবং হোয়াইট হাউস মেডিকেল ইউনিটের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রতি তাঁদের পরিবার গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। তাঁদের যত্ন ও সহযোগিতার জন্য তিনি বিশেষ ধন্যবাদ জানান। অ্যালেক নিল ভ্যান্স দম্পতির তৃতীয় ছেলে। এর আগে তাঁদের দুই ছেলে ইওয়ান ও বিবেক এবং এক মেয়ে মিরাবেল রয়েছে। জেডি ও উষা ভ্যান্স ২০১৪ সালে বিয়ে করেন। ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিষয়ে পড়াশোনার সময় তাঁদের পরিচয় হয়। পরবর্তীতে উষা ভ্যান্স সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস এবং তৎকালীন আপিল আদালতের বিচারক ব্রেট কাভানার ক্লার্ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এই জন্মটি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ইতিহাসেও একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। ১৫০ বছরেরও বেশি সময় পর দায়িত্বে থাকা কোনো মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের পরিবারে সন্তান জন্মের ঘটনা ঘটল। সর্বশেষ এমন ঘটনা ঘটেছিল ১৮৭০ সালে তৎকালীন ভাইস প্রেসিডেন্ট স্কাইলার কোলফ্যাক্স দায়িত্বে থাকাকালে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে জেডি ও উষা ভ্যান্স তাঁদের চতুর্থ সন্তানের অপেক্ষায় থাকার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তখনই তাঁরা জানিয়েছিলেন, তাঁদের পরিবারে একটি পুত্রসন্তান আসছে। সেই ঘোষণার প্রায় ছয় মাস পর নতুন সদস্যকে স্বাগত জানালেন তারা।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের অভিবাসনবিষয়ক বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন। লেখক ও সাংবাদিক ম্যালকম গ্ল্যাডওয়েলের সঙ্গে এক আলোচনায় তিনি বলেন, একজন মানুষের আমেরিকান পরিচয়কে তার বাবা-মায়ের জন্মস্থান বা পারিবারিক শিকড় দিয়ে বিচার করার বক্তব্যের সঙ্গে ভ্যান্সের ব্যক্তিগত জীবনের একটি স্পষ্ট সাংঘর্ষিক দিক রয়েছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে এই মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ওবামা বলেন, বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট এমন একটি ধারণা তুলে ধরছেন, যা মূলত ‘We the People’-এর একটি ‘blood-and-soil’ বা বংশপরিচয়ভিত্তিক সংস্করণ। তার ভাষায়, সেখানে একজন মানুষের বাবা-মা কে এবং তারা কতদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে আছেন—এসব বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অথচ ভ্যান্স নিজেই একজন অভিবাসী পরিবারের কন্যাকে বিয়ে করেছেন। ওবামার এই মন্তব্যের ইঙ্গিত ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সেকেন্ড লেডি উষা ভ্যান্সকে ঘিরে। উষা ভ্যান্স যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করলেও তার বাবা-মা ভারত থেকে অভিবাসন করেছিলেন। জেডি ও উষা ভ্যান্সের তিন সন্তান রয়েছে এবং তারা তাদের চতুর্থ সন্তানের অপেক্ষায় রয়েছেন। আলোচনায় ম্যালকম গ্ল্যাডওয়েল বলেন, এক শতাব্দী আগে অভিবাসীবিরোধী অবস্থান নেওয়া কোনো শীর্ষ রাজনীতিকের পক্ষে অভিবাসী পরিবারের সদস্যকে বিয়ে করা প্রায় অকল্পনীয় ছিল। এর জবাবে ওবামা বলেন, “Hypocrisy is progress” বা “ভণ্ডামিও এক ধরনের অগ্রগতি।” তার ব্যাখ্যায়, অন্তত তখন মানুষ বুঝতে পারে যে তার অবস্থানের সঙ্গে বাস্তবতার একটি অসঙ্গতি রয়েছে এবং সেটিই পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি করে। সাম্প্রতিক সময়ে জেডি ভ্যান্স জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব (Birthright Citizenship) নিয়ে কড়া অবস্থান নিয়েছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রকে কেবল একটি ধারণা নয়, বরং নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর একটি জাতি হিসেবে তুলে ধরার পক্ষে বক্তব্য দিয়েছেন। এসব অবস্থানকে ঘিরেই ওবামা তার সমালোচনা করেন। ওবামা আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের শক্তি তার বহুত্ববাদে। বিভিন্ন দেশ, সংস্কৃতি ও অভিবাসী পটভূমি থেকে আসা মানুষ একসঙ্গে আমেরিকান পরিচয় গড়ে তুলেছেন। তার মতে, নাগরিকত্ব বা জাতীয় পরিচয়কে বংশপরিচয়ের ভিত্তিতে সীমাবদ্ধ করার চেষ্টা যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের অন্তর্ভুক্তিমূলক আদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে নিয়ে করা এক মন্তব্যের জেরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার মুখে পড়েছেন। সম্প্রতি সম্প্রচারিত জনপ্রিয় পডকাস্ট ‘দ্য জো রগান এক্সপেরিয়েন্স’-এ অংশ নিয়ে ভ্যান্স বাইডেন প্রশাসনের সাবেক কর্মীদের সমালোচনা করতে গিয়ে বলেন, তার মতে বাইডেনকে এমনভাবে আইসক্রিম খেতে দেখানো হতো, যা ছিল “সবচেয়ে অদ্ভুত ও ইঙ্গিতপূর্ণ” উপস্থাপনা। তিনি বলেন, “আমি যেটা বুঝতে পারিনি, সেটা হলো খারাপ স্টাফ ওয়ার্ক। তারা তাকে এমনভাবে আইসক্রিম খাওয়াত, যা ছিল কল্পনা করা যায় এমন সবচেয়ে অদ্ভুত ও ইঙ্গিতপূর্ণ।” ভ্যান্সের এ মন্তব্যের পর পডকাস্টের সঞ্চালক জো রগান বলেন, তিনি আগে বিষয়টি সেভাবে খেয়ালই করেননি এবং এটিকে “খারাপ অপটিকস” বা জনসমক্ষে উপস্থাপনার দুর্বল উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন। মন্তব্যটির ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অনেক ব্যবহারকারী ভ্যান্সকে ব্যঙ্গ করে মন্তব্য করেন যে, একটি সাধারণ আইসক্রিম খাওয়ার দৃশ্যকে তিনি অপ্রয়োজনীয়ভাবে “ইঙ্গিতপূর্ণ” হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। এ নিয়ে অসংখ্য মিম ও সমালোচনামূলক পোস্টও প্রকাশিত হয়। তবে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু পোস্টে দাবি করা হয়, ভ্যান্স নাকি বাইডেনের আইসক্রিম খাওয়াকে “যৌনতার সঙ্গে” যুক্ত করেছেন। কিন্তু পডকাস্টের সম্পূর্ণ সাক্ষাৎকারে তিনি এমন কোনো বক্তব্য দেননি। তিনি “suggestive” বা “ইঙ্গিতপূর্ণ” শব্দটি ব্যবহার করলেও সরাসরি যৌনতা বা “sex” শব্দের উল্লেখ করেননি। ফলে এ ধরনের দাবিকে তার বক্তব্যের ব্যাখ্যা বা রাজনৈতিক সমালোচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে, সরাসরি উদ্ধৃতি হিসেবে নয়। প্রায় তিন ঘণ্টার ওই সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি, জেফ্রি এপস্টেইন–সংক্রান্ত নথি প্রকাশ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের যোগাযোগ কৌশল এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বিষয়েও কথা বলেন। তবে নীতিগত আলোচনার চেয়ে বাইডেনের আইসক্রিম খাওয়া নিয়ে তার মন্তব্যই সামাজিক মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স দাবি করেছেন, দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা মহল এবং ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিদের যোগাযোগ ছিল। তবে এপস্টিন কোনো গোয়েন্দা সংস্থার হয়ে কাজ করতেন—এমন দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো প্রকাশ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। জো রোগানের পডকাস্টে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স এপস্টিনের দীর্ঘদিনের প্রভাবশালী যোগাযোগ নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, এপস্টিনের যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতাধর মহলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল এবং ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থার উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের সঙ্গেও তার যোগাযোগ থাকার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। ভ্যান্স বলেন, এপস্টিনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনের বিভিন্ন ব্যক্তির সম্পর্ক ছিল। তার পরিচিতদের তালিকায় রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় দলের ব্যক্তিরাই ছিলেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। এপস্টিন ২০১৯ সালে ফেডারেল যৌন পাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়ার পর কারাগারে মারা যান। এর আগে তার বিরুদ্ধে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের যৌন শোষণ ও পাচারের অভিযোগ ছিল। তার সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তি, ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদের যোগাযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে। মোসাদের সঙ্গে এপস্টিনের সম্পর্ক ছিল কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ভ্যান্স বলেন, বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন তত্ত্ব রয়েছে। তিনি বলেন, এপস্টিন হয়তো মোসাদ, সিআইএ বা অন্য কোনো “ডিপ স্টেট” কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে তিনি কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। এদিকে এপস্টিনের গোপন নথি প্রকাশ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও ভ্যান্স মন্তব্য করেছেন। তিনি স্বীকার করেন, প্রশাসন বিষয়টি জনগণের কাছে উপস্থাপনের ক্ষেত্রে বড় ধরনের যোগাযোগগত ভুল করেছে। ভ্যান্স বলেন, শুরুতেই সব তথ্য পরিষ্কারভাবে প্রকাশ করা হলে বিভ্রান্তি কমত। তবে তিনি দাবি করেন, তথ্য গোপন করার কোনো উদ্দেশ্য প্রশাসনের ছিল না। এপস্টিন নথি প্রকাশের বিষয়টি নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন নিজ সমর্থকদের একটি অংশের সমালোচনার মুখে পড়ে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন, কেন দীর্ঘদিন ধরে থাকা নথিগুলো পুরোপুরি প্রকাশ করা হচ্ছে না। ভ্যান্স বলেন, সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল প্যাম বন্ডির একটি মন্তব্যের পর বিভ্রান্তি তৈরি হয়। বন্ডি এর আগে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, এপস্টিনের কথিত “ক্লায়েন্ট তালিকা” তার কাছে রয়েছে। পরে প্রকাশিত কিছু নথি নিয়ে আলোচনা শুরু হলে বিষয়টি আরও আলোচিত হয়। ভ্যান্স আরও বলেন, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে কিছু রাজনৈতিক সোশ্যাল মিডিয়া ব্যক্তিত্বের কাছে যে নথি দেওয়া হয়েছিল, তার বড় অংশই আগে থেকেই প্রকাশিত তথ্য ছিল। তার মতে, এর ফলে পুরো প্রক্রিয়ার ওপর মানুষের আস্থা কমে যায়। এপস্টিনের নথি ও তার সম্পর্কের বিষয়টি এখনো যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্কের একটি বড় বিষয়। তবে এপস্টিন কোনো বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্ট ছিলেন—এমন কোনো সরকারি তদন্তের নিশ্চিত তথ্য এখনো প্রকাশিত হয়নি। এপস্টিনের সঙ্গে সম্পর্ক থাকা মানেই কোনো অপরাধে জড়িত থাকা নয়। তার পরিচিত ব্যক্তি ও যোগাযোগের বিষয়গুলো নিয়ে বিভিন্ন তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ায় তথ্য যাচাই করা হয়েছে, তবে প্রত্যেক ব্যক্তির ভূমিকা আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স দাবি করেছেন, অবৈধ অভিবাসন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় দেশটিতে বাড়ির দাম ও ভাড়া কমার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তিনি বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর সীমান্ত নীতির ফলে তরুণ মার্কিন নাগরিকদের জন্য আবাসন আরও সাশ্রয়ী করার পথে অগ্রগতি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে ভ্যান্স বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তিনি শুরু থেকেই বলে আসছিলেন যে, অবৈধ অভিবাসীদের প্রবেশ বন্ধ করা গেলে আবাসন বাজারের ওপর চাপ কমবে এবং বাড়ির দামও কমতে শুরু করবে। তার ভাষায়, "অবৈধ অভিবাসীদের ঢল থামাতে পারলে বাড়ির দাম কমবে এবং পরিবার গড়তে চাওয়া তরুণ মার্কিন নাগরিকদের জন্য আবাসন আবারও সাশ্রয়ী হবে।" ভ্যান্স আরও দাবি করেন, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (DHS) এবং ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে সীমান্ত দিয়ে অবৈধ প্রবেশ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এর প্রভাব আবাসন বাজারেও দেখা যাচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। ডালাস ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের একটি গবেষণা প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন মহানগর এলাকায় বাড়ির দামের গড় বৃদ্ধির প্রায় ৩০ শতাংশ এবং ভাড়া বৃদ্ধির প্রায় ২০ শতাংশের পেছনে অননুমোদিত অভিবাসীদের প্রবেশ ভূমিকা রেখেছে। তবে ওই গবেষণায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, আবাসনের মূল্য বৃদ্ধির পেছনে অভিবাসন একমাত্র কারণ নয়। গবেষণায় বলা হয়েছে, আবাসনের সীমিত সরবরাহ, স্থানীয় বাজার পরিস্থিতি এবং অন্যান্য অর্থনৈতিক কারণও বাড়ির দাম ও ভাড়া বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। গবেষকরা আরও বলেন, অননুমোদিত অভিবাসীদের আগমনে শ্রমবাজারে কর্মসংস্থান বেড়েছে এবং সামগ্রিকভাবে মজুরির ওপর উল্লেখযোগ্য নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। একই সঙ্গে তারা উল্লেখ করেছেন, গবেষণাটি এখনও প্রাথমিক খসড়া এবং এটি ফেডারেল রিজার্ভের আনুষ্ঠানিক অবস্থান নয়। এদিকে গত মাসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কংগ্রেসে পাস হওয়া ২১স্ট সেঞ্চুরি রোড টু হাউজিং অ্যাক্ট-এ স্বাক্ষরের নির্ধারিত অনুষ্ঠান বাতিল করেন। দ্বিদলীয় সমর্থনে পাস হওয়া এই বিলের লক্ষ্য ছিল আবাসনের সরবরাহ বাড়ানো, বাড়ির মূল্য কমাতে সহায়তা করা এবং বড় বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানগুলোর একক পরিবারের জন্য নির্মিত বাড়ি ব্যাপকভাবে কেনার ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা। ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট পাস না হওয়া পর্যন্ত তিনি ওই বিলে স্বাক্ষর করবেন না। প্রস্তাবিত এই বিলে ভোটার নিবন্ধনের সময় নাগরিকত্বের প্রমাণ বাধ্যতামূলক করার বিধান রয়েছে। আবাসন ব্যয়, অভিবাসন নীতি এবং সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আবাসন সংকটের পেছনে অভিবাসনের পাশাপাশি নির্মাণ ব্যয়, সুদের হার, জমির স্বল্পতা এবং সরবরাহ সংকটের মতো একাধিক কারণও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের এইচ-১বি ওয়ার্ক ভিসা এবং কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসন প্রক্রিয়ায় কথিত জালিয়াতি ও অপব্যবহারের অভিযোগে বড় ধরনের ফেডারেল তদন্ত শুরু করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। বুধবার উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের মিলওয়াকিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ ঘোষণা দেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তিনি জানান, তদন্তের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যেই একাধিক সাবপোনা (Subpoena) জারি করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে নথি ও তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। মার্কিন শ্রম বিভাগের অফিস অব ইনস্পেক্টর জেনারেলের (OIG) তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই তদন্তে এইচ-১বি ভিসা এবং PERM লেবার সার্টিফিকেশন প্রক্রিয়ার সম্ভাব্য জালিয়াতি, শ্রমিক শোষণ, মজুরি-সংক্রান্ত অনিয়ম, ভুয়া নিয়োগ এবং মানবপাচার-সংশ্লিষ্ট অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে। অনুষ্ঠানে জেডি ভ্যান্স বলেন, এইচ-১বি কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য ছিল বিশ্বের মেধাবী পেশাজীবীদের যুক্তরাষ্ট্রে কাজের সুযোগ দেওয়া। তবে তাঁর অভিযোগ, কিছু অসাধু নিয়োগকর্তা ও মধ্যস্বত্বভোগী এই কর্মসূচির অপব্যবহার করে মার্কিন শ্রমবাজারে অন্যায্য প্রতিযোগিতার পরিবেশ সৃষ্টি করছে। তিনি বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন এ ধরনের প্রতারণা বন্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং যারা ভিসা ব্যবস্থাকে অপব্যবহার করবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শ্রম বিভাগের ইন্সপেক্টর জেনারেল অ্যান্থনি ডি’এসপোসিটো জানান, তদন্তে এমন অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হচ্ছে যেখানে বিদেশি কর্মীদের কাছ থেকে অবৈধভাবে মজুরির অংশ ফেরত নেওয়া, ভুয়া চাকরির প্রস্তাব দেখিয়ে ভিসা সংগ্রহ, শ্রমিকদের শোষণ এবং সংগঠিত অপরাধচক্রের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। প্রয়োজনে ফেডারেল পর্যায়ে আরও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন। মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, তদন্ত কেবল প্রযুক্তি খাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; স্বাস্থ্যসেবা, প্রকৌশল, তথ্যপ্রযুক্তি এবং অন্যান্য শিল্পেও এইচ-১বি ও কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসন কর্মসূচির অপব্যবহারের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে। এইচ-১বি ভিসা যুক্তরাষ্ট্রের একটি অস্থায়ী কর্মভিসা, যার মাধ্যমে বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন বিদেশি পেশাজীবীদের নিয়োগ দিতে পারে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো। অন্যদিকে PERM হলো কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ডের জন্য প্রয়োজনীয় শ্রম সার্টিফিকেশন প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে নিয়োগকর্তাকে প্রমাণ করতে হয় যে নির্দিষ্ট পদে যোগ্য মার্কিন কর্মী পাওয়া যায়নি। তবে এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ কিংবা অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়নি। প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, তদন্ত চলমান রয়েছে এবং প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এই তদন্তের ঘোষণা এমন সময় এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতি, বিদেশি কর্মী নিয়োগ এবং এইচ-১বি কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক ও নীতিগত আলোচনা শুরু হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন বরাবরই কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসন ব্যবস্থায় জালিয়াতি রোধ এবং মার্কিন নাগরিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সুরক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছে।
সুইজারল্যান্ডে ইরানি আলোচকদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নির্ধারিত শান্তি আলোচনা স্থগিত হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সুইজারল্যান্ড সফরের পরিকল্পনা বাতিল করার পর শুক্রবার অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকা বৈঠকটি আর হচ্ছে না বলে জানিয়েছে সুইজারল্যান্ড। হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র বৃহস্পতিবার রাতে এক বিবৃতিতে বলেন, আলোচনার লজিস্টিক ব্যবস্থা শুরু থেকেই জটিল ছিল এবং তা সবসময় পূর্বানুমানযোগ্য ছিল না। তিনি জানান, প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা চূড়ান্ত হলেই জেডি ভ্যান্স এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দল সফরের জন্য প্রস্তুত থাকবে। সুইজারল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে বুর্গেনস্টক পাহাড়ি রিসোর্টে নির্ধারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে না। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান, কাতার ও পাকিস্তানের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে নির্ধারিত বৈঠকও আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। সুইজারল্যান্ড জানিয়েছে, ভবিষ্যতে আলোচনার প্রয়োজন হলে তারা সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে এর আগে তেহরান জানিয়েছিল, বুধবারের ১৪ দফা চুক্তির পর অন্তত ৬০ দিনের জন্য অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি সম্প্রসারণ করা হলে তারা খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে আলোচনা শুরু করতে প্রস্তুত থাকবে। ইরানের কর্মকর্তারা আরও বলেছিলেন, আলোচনা শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তর্বর্তী চুক্তি বাস্তবায়নের লক্ষণ দেখতে চান তারা। আধা-সরকারি তাসনিম সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভ্যান্স সফর বাতিলের ঘোষণা দেওয়ার আগ পর্যন্ত ইরানের প্রতিনিধি দল সুইজারল্যান্ডে যাবে কি না, সে বিষয়ে কোনো নিশ্চিত সিদ্ধান্ত ছিল না। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা আগে জানিয়েছিলেন, সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির একটি আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই পরিকল্পনাকে অপ্রয়োজনীয় বলে মন্তব্য করে জানায়, দুই দেশের প্রেসিডেন্ট ইতোমধ্যে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার মাধ্যমে সংঘাতের সূচনা হয়। এতে অন্তত সাত হাজার মানুষ নিহত হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়। যুদ্ধবিরতির পরও অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি। বিশেষ করে লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে যুদ্ধবিরতি কতটা কার্যকর থাকবে। ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা প্রক্রিয়ার অংশ না হওয়ায় দেশটি নিজস্ব সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে চলমান হামলা চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ওয়াশিংটনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান মিত্রদের একাংশ কংগ্রেসে প্রশ্ন তুলেছেন, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে গিয়ে প্রশাসন অতিরিক্ত ছাড় দিয়েছে কি না। ট্রাম্প পূর্বে বলেছিলেন, ইরানের ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ ছাড়া যুদ্ধের অবসান ঘটবে না। তবে সাম্প্রতিক সমঝোতার আওতায় অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়েছে, ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি সম্পদ মুক্ত করা হয়েছে এবং ইরানের তেল রপ্তানির ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক মার্কিন ছাড় দেওয়া হয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি বলেছেন, ট্রাম্প ‘হতাশার কারণে’ এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ভবিষ্যৎ আলোচনা সহজ হবে না। তিনি বলেন, “যদি মার্কিন পক্ষ অতিরিক্ত দাবি করে, আমরা তা গ্রহণ করব না।” চুক্তি অনুযায়ী, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে আলোচকদের ৬০ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে এই সময়সীমা বাড়ানো যেতে পারে। এছাড়া ইরানের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পুনর্গঠন তহবিল এবং বিভিন্ন আর্থিক প্রণোদনার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন ইরানের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করার বিষয়টিও আলোচনায় রাখতে চায়। যুদ্ধের আর্থিক ব্যয়ও এখন আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের খরচ এবং অন্যান্য বিল পরিশোধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত ৮০ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসনের লক্ষ্য ছিল ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করা, যাতে দেশটি কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে। পাশাপাশি আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন কমানো এবং ইরানের সামরিক সক্ষমতা সীমিত করার বিষয়ও যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য ছিল। তবে সমঝোতা স্বাক্ষরের সময় এসব লক্ষ্য পুরোপুরি অর্জিত হয়নি। ইরান আবারও জানিয়েছে, তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা অর্জন করবে না। পাশাপাশি দেশটি সীমিত মাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম প্রক্রিয়াকরণ এবং আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার পরিদর্শনে সম্মত হয়েছে। তবে এসব উপাদান দেশ থেকে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। তেলবাজার ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি ইরান জানিয়েছে, ওমানের সঙ্গে সমন্বয় করে তারা হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখবে। একই সঙ্গে নতুন জাহাজ চলাচল ফি আরোপের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে, যদিও ৬০ দিনের আলোচনাকালীন সময়ে তা কার্যকর হবে না। হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার পর সরবরাহ বৃদ্ধির সম্ভাবনায় শুক্রবার আন্তর্জাতিক তেলবাজারে দাম কমেছে। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ অপরিশোধিত তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাস এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো। অন্যদিকে লেবাননে নতুন ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এনএনএ জানিয়েছে। ইসরায়েল দাবি করেছে, হামলাগুলো হিজবুল্লাহর লক্ষ্যবস্তুতে পরিচালিত হয়েছে। চুক্তিতে লেবাননে যুদ্ধের স্থায়ী সমাপ্তির কথা উল্লেখ থাকলেও ইসরায়েল জানিয়েছে, তাদের সেনা প্রত্যাহারের কোনো পরিকল্পনা নেই। বরং নতুন করে দখলকৃত অঞ্চল মানচিত্রে যুক্ত করার কথাও জানিয়েছে দেশটি। এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে, যুদ্ধ বন্ধের প্রতিশ্রুতি দেওয়া প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার ঘনিষ্ঠ মিত্র ইসরায়েলকে কতটা চাপ দিতে পারবেন।
ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য একটি দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও আজ সুইজারল্যান্ড সফরে যাচ্ছেন না মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। হোয়াইট হাউসের এক শীর্ষ মুখপাত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের এই সফর বাতিলের খবরটি প্রকাশ করা হয়েছে। হোয়াইট হাউসের ওই মুখপাত্র এক বিবৃতিতে জানান, "ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স তার সাম্প্রতিক সংবাদ সম্মেলনে যেমনটি বলেছিলেন, আসন্ন কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা নিয়ে দুপক্ষের পরিকল্পনা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে যেকোনো মুহূর্তে আলোচনার সুযোগ তৈরি হলেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলটি দ্রুত সুইজারল্যান্ডের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।" তিনি আরও বলেন, "এই ধরনের একটি স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক আলোচনার আয়োজন করা কখনোই সহজ বা পুরোপুরি পূর্বানুমানযোগ্য নয়। তাই এই মুহূর্তে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত না আসায় ভাইস প্রেসিডেন্ট আজ রাতে রওনা হচ্ছেন না। এই আলোচনার পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে নির্দিষ্ট কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে আমরা খুব দ্রুত তা গণমাধ্যমকে জানিয়ে দেব।" এর আগে এই আলোচনার অন্যতম প্রধান মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও তার প্রস্তাবিত সুইজারল্যান্ড সফর স্থগিত করেছেন। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক মুখপাত্র ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছিলেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি এই বিষয়ে বলেন, ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ইতোমধ্যে ইলেকট্রনিক বা ডিজিটাল উপায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে স্বাক্ষরিত ও কার্যকর হয়ে গেছে। বর্তমানে এই চুক্তিটি বাস্তবায়নের মূল প্রক্রিয়াগুলো শুরু হয়েছে। যেহেতু প্রাথমিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে, সেই কারণেই প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের প্রস্তাবিত সুইজারল্যান্ড সফরটি স্থগিত করা হয়েছে। তবে চুক্তি বাস্তবায়নের পরবর্তী কৌশলগত এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়ায় পাকিস্তান তার মধ্যস্থতা ও সমর্থন অব্যাহত রাখবে বলে তিনি জানান।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সম্ভাব্য ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন সামরিক ও কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। মার্কিন বিমানবাহিনীর অত্যন্ত শক্তিশালী চারটি সি-১৭ পরিবহন বিমান ইতিমধ্যেই ইউরোপের উদ্দেশে ওয়াশিংটন থেকে রওনা হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের আসন্ন জেনেভা সফরে প্রয়োজন হতে পারে এমন সব গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক সরঞ্জাম পরিবহন করছে এই বিশালাকার বিমানগুলো। শুক্রবার (১২ জুন) মার্কিন শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম এক্সিওসের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আনা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক ও সামরিক সূত্রের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উভয় দেশের মধ্যে চলমান দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে চুক্তির খসড়াটি সম্পূর্ণ চূড়ান্ত হলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ইউরোপের মাটিতে একটি আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হতে পারে। আর এই বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে সামনে রেখেই মার্কিন সামরিক ফ্লাইটগুলো জরুরি ভিত্তিতে পরিচালনা করা হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, তেহরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের অত্যন্ত চমৎকার আলোচনা হয়েছে এবং উভয় পক্ষ ইতিমধ্যে একটি সুন্দর সমঝোতায় পৌঁছেছে। ট্রাম্প আরও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, চলতি সপ্তাহের শেষের দিকেই দুই দেশের মধ্যে একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে। এক্সিওসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রস্তাবিত এই দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারক অনুসারে বর্তমানে দুই দেশের মাঝে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বৃদ্ধি করা হবে। একই সঙ্গে ইরানের বিতর্কিত পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে একটি বিস্তৃত ও দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির লক্ষ্যে নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনা শুরু করার পথ তৈরি হবে। চুক্তির প্রাথমিক খসড়ায় কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় সম্পূর্ণ খুলে দেওয়ার কথা স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে। নতুন এই সমঝোতা অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অতিরিক্ত ফি নেওয়া হবে না। পাশাপাশি আগামী ৩০ দিনের মধ্যে ওই অঞ্চলের সমস্ত নৌপরিবহন কার্যক্রম যুদ্ধের আগের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হবে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, চুক্তি অনুযায়ী ইরানের দেওয়া সমস্ত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কতটা অগ্রগতি হচ্ছে—তার ওপর ভিত্তি করেই ধাপে ধাপে দেশটির ওপর আরোপিত মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হবে। এর মধ্যে ইরানের বিশ্ববাজারে তেল রপ্তানির ব্যাপারে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে অস্থায়ী বড় ছাড়ও দেওয়া হতে পারে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন চুক্তি নিয়ে চরম আশাবাদ ব্যক্ত করলেও ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রস্তাবিত এই চুক্তি নিয়ে তেহরান এখনও কোনো ধরনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি। অন্যদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওস দাবি করছে, চুক্তিটি এই মুহূর্তে ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় ঝুলে রয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই বিশাল বিমান মোতায়েন এবং ইরানের এমন বিপরীতমুখী মন্তব্যের কারণে বহুল প্রতীক্ষিত এই দ্বিপাক্ষিক চুক্তিটি আসলেই চলতি সপ্তাহে স্বাক্ষর হবে কিনা, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে গভীর ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই একটি ঐতিহাসিক দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার মতে, চলতি সপ্তাহের শেষেই ইউরোপের কোনো এক স্থানে এই চুক্তিটি সম্পন্ন হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিজেই এই বড় কূটনৈতিক অগ্রগতির তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম সামা টিভির এক প্রতিবেদনে এই খবর প্রকাশ করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে জানান, বহুল প্রতীক্ষিত এই চুক্তির নথিপত্র প্রস্তুতের কাজ এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তিনি অত্যন্ত আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই দ্বিপাক্ষিক চুক্তিটি খুব শিগগিরই সফলভাবে সম্পন্ন হবে বলে তিনি মনে করেন। ট্রাম্পের দাবি, চুক্তিটি চূড়ান্ত করার বিষয়ে অন্যান্য পক্ষের মতোই ইরানও সমানভাবে আগ্রহী এবং তারা সফলভাবে আলোচনা শেষ করতে কাজ করছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বিশ্বাস করেন যে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ইতিমধ্যে এই সম্ভাব্য সমঝোতা চুক্তিটির প্রয়োজনীয় অনুমোদন দিয়েছেন। তবে ট্রাম্প জানান, ইউরোপে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তিনি নিজে সশরীরে উপস্থিত থাকতে পারবেন না। এই অনুষ্ঠানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে মূল প্রতিনিধিত্ব করবেন দেশটির নবনির্বাচিত ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। চুক্তির পরবর্তী ইতিবাচক প্রভাব নিয়ে ট্রাম্প বলেন, দুই দেশের মধ্যে চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে। এর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম অনেক কমে আসবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
পোপ চতুর্দশ লিও বুধবার সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, বর্তমানে যুদ্ধবিধ্বস্ত এই অস্থির পৃথিবীতে ঐক্য ও শান্তির যে বার্তা তিনি দিচ্ছেন, তা শোনার এখনই উপযুক্ত সময়। আফ্রিকা সফরের অংশ হিসেবে আলজেরিয়া থেকে ক্যামেরুন যাওয়ার পথে তিনি এই মন্তব্য করেন। বিশেষ করে ইরান যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের ক্রমাগত সমালোচনার মুখেও তিনি তার এই শান্তিবাদী অবস্থানে অনড় রয়েছেন। পোপ লিও আলজেরিয়ার গ্র্যান্ড মসজিদ পরিদর্শনকে একটি অনন্য উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ভিন্ন বিশ্বাস ও জীবনধারা সত্ত্বেও মানুষ চাইলে একে অপরের সাথে শান্তিতে বসবাস করতে পারে এবং এই ভ্রাতৃত্বের চিত্রটিই আজ বিশ্বের জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ভ্যাটিকান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা এখন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। ট্রাম্প ও তার সহযোগীরা পোপের অবস্থানের কড়া সমালোচনা করলেও তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের কোনো হুমকিতেই তিনি বিন্দুমাত্র ভীত নন। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স পোপের ধর্মতাত্ত্বিক জ্ঞান নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাকে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। এর জবাবে পোপ সেন্ট অগাস্টিনের জন্মভূমি পরিদর্শন করে পরোক্ষভাবে বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, ন্যায়সঙ্গত যুদ্ধের নীতি সম্পর্কে তার জ্ঞান ও আদর্শ অত্যন্ত গভীর। ট্রাম্প ও ভ্যাটিকানের এই বাগযুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ তৈরি করছে। বিশেষ করে ট্রাম্পের নিজেকে আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা এবং পরবর্তীতে সেই অবস্থান থেকে সরে আসার ঘটনাটি এই দ্বৈরথকে আরও বেশি নাটকীয় করে তুলেছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পোপের এই সফর কেবল ধর্মীয় নয় বরং একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক বার্তা বহন করছে। তিনি বিশ্বনেতাদের ক্ষমতার আস্ফালন বাদ দিয়ে অবিলম্বে মানবিকতার পথে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন যা বর্তমান সময়ে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। পোপের আফ্রিকা সফর এখন ওয়াশিংটনের আগ্রাসী নীতির বিরুদ্ধে এক ধরণের প্রতীকী প্রতিরোধ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি বিশ্বাস করেন, কেবল সংলাপের মাধ্যমেই মধ্যপ্রাচ্যের এই রক্তক্ষয়ী সংকটের অবসান ঘটানো সম্ভব এবং এতেই বিশ্ব মানবতার কল্যাণ নিহিত।
হরমুজ প্রণালি ঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে ‘অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদে’ জড়িত থাকার অভিযোগ তুলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালির ব্যবহার সীমিত করার মাধ্যমে ইরান বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করছে, যা এক ধরনের অর্থনৈতিক সন্ত্রাসের শামিল। তিনি আরও জানান, এ ধরনের পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রও কঠোর অবস্থান নিতে প্রস্তুত রয়েছে। ভ্যান্স বলেন, ইরান যদি এই নীতি অব্যাহত রাখে, তবে যুক্তরাষ্ট্র নিশ্চিত করবে যে কোনো ইরানি জাহাজ অবাধে চলাচল করতে না পারে। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় পাল্টা পদক্ষেপ নিতে পারে ওয়াশিংটন। তিনি আরও জানান, পাকিস্তানের ইসলামাবাদে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠকে কিছু অগ্রগতি হয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব এখন ইরানের ওপরই বর্তায়। মার্কিন প্রশাসনের দাবি অনুযায়ী, ইরানকে তার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কর্মসূচির ওপর আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণ মেনে নিতে হবে এবং এমন একটি কঠোর যাচাইব্যবস্থা চালু করতে হবে, যা নিশ্চিত করবে দেশটি কোনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-ও একই বিষয়ে কঠোর অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দেওয়া হবে না। বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের পাল্টাপাল্টি কঠোর বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি ও অর্থনীতিতে এর প্রভাব পড়তে পারে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। হোয়াইট হাউস এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। শনিবার ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে অংশ নেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও তাঁর জামাতা জ্যারেড কুশনার। অন্যদিকে পাকিস্তানের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি। ইরানের সঙ্গে বহুল আলোচিত শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে বর্তমানে পাকিস্তানে অবস্থান করছেন জেডি ভ্যান্স। মূল বৈঠকের আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এই দ্বিপাক্ষিক আলোচনা কূটনৈতিক প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানায়, বৈঠকে আঞ্চলিক পরিস্থিতি ও আসন্ন শান্তি আলোচনার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। এর আগে একই দিনে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলও শাহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক করে। এক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ আশা প্রকাশ করেছেন, এই আলোচনার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ উন্মুক্ত হতে পারে। পাশাপাশি দুই পক্ষকে সহযোগিতা দিতে পাকিস্তানের প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
ইরানের সঙ্গে প্রস্তাবিত শান্তি আলোচনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আলোচনায় বসতে গিয়ে ইরানিরা যদি কোনো ধরনের ‘চালাকি’ বা কৌশল করার চেষ্টা করে, তবে ওয়াশিংটন তাতে কোনো ইতিবাচক সাড়া দেবে না। শনিবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে নির্ধারিত বৈঠকে যোগ দিতে রওয়ানা হওয়ার পথে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। জেডি ভ্যান্স বলেন, "ইরানিরা যদি আন্তরিকভাবে এবং খোলা মনে আলোচনা করতে চায়, তবে আমরা অবশ্যই প্রস্তুত। কিন্তু তারা যদি কোনো রাজনৈতিক চাল বা কৌশল অবলম্বন করার চেষ্টা করে, তবে আমরা সেই পথে হাঁটব না।" তিনি আরও যোগ করেন যে, এই আলোচনার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত ‘স্পষ্ট নির্দেশনা’ দিয়েছেন এবং ট্রাম্প প্রশাসন এই আলোচনার ফলাফলের অপেক্ষায় উন্মুখ হয়ে আছে। ভ্যান্সের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ শর্ত দিয়েছেন যে—লেবাননে যুদ্ধবিরতি এবং ইরানের জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত না করা পর্যন্ত কোনো আলোচনা হবে না। একদিকে ইরানের কঠোর শর্ত এবং অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এই হুঁশিয়ারি—সব মিলিয়ে ইসলামাবাদের বৈঠকটি ঘিরে চরম অনিশ্চয়তা ও বিশ্ব রাজনীতির নজর এখন পাকিস্তানের দিকে।
পাকিস্তানে অনুষ্ঠিতব্য বহুল আলোচিত শান্তি বৈঠকের আগে ইতিবাচক তবে সতর্ক বার্তা দিলেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। এয়ার ফোর্স টু-তে ওঠার আগে সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানান, ইরান যদি "সৎ উদ্দেশ্যে" আলোচনায় অংশ নেয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবে। জেডি ভ্যান্স বলেন, "আমরা এই আলোচনা নিয়ে আশাবাদী। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আমাকে আলোচনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।" তবে তেহরানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি স্পষ্ট করেন যে, ইরান যদি আলোচনার টেবিলে "প্রতারণার চেষ্টা" করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র তাতে মোটেও সাড়া দেবে না। আগামী শনিবার পাকিস্তানের ইসলামাবাদে এই মেগা বৈঠক শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট নিশ্চিত করেছেন যে, ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সের সঙ্গে এই বিশেষ প্রতিনিধিদলে আরও থাকছেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার। এদিকে, ইসলামাবাদে বৈঠকের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হলেও পাকিস্তানি সংবাদদাতারা জানিয়েছেন, দেশটির সরকার এখনও ইরানি প্রতিনিধিদলের আগমনের প্রতীক্ষায় রয়েছে। এই আলোচনার ওপরই নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তজনা নিরসন এবং একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তির ভবিষ্যৎ।
আগামী শনিবার (১১ এপ্রিল) পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধ বন্ধের ঐতিহাসিক শান্তি আলোচনা। দীর্ঘ সংঘাতের পর দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিকে স্থায়ী রূপ দিতে এই বৈঠকে অংশ নেবেন দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের নীতি-নির্ধারকরা। বৈঠকের আয়োজক দেশ হিসেবে পাকিস্তান ইতোমধ্যে অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধিদের প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল: ওয়াশিংটনের পক্ষে আলোচনার নেতৃত্বে থাকছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স। তাঁর সঙ্গে প্রতিনিধিদলে রয়েছেন হোয়াইট হাউসের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, ট্রাম্পের জামাতা ও সাবেক সিনিয়র প্রেসিডেন্সিয়াল অ্যাডভাইজার জ্যারেড কুশনার এবং সেন্টকম কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার। ইরানের প্রতিনিধিদল: তেহরানের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারকদের এই দলে থাকছেন পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মজিদ তাখত রাভানচি। পাকিস্তানের সমন্বয়কারী দল: আলোচনার প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে থাকছে অত্যন্ত শক্তিশালী একটি দল। এতে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শাহবাজ শরিফ, সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনির, উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল আসিম মালিক এবং আইএসআই প্রধান। এই হাই-ভোল্টেজ বৈঠকের মূল লক্ষ্য হলো চলমান যুদ্ধবিরতিকে দীর্ঘস্থায়ী চুক্তিতে রূপান্তর করা এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ে সৃষ্ট বৈশ্বিক অচলাবস্থার নিরসন ঘটানো। বিশ্বনেতারা মনে করছেন, ইসলামাবাদের এই উদ্যোগই মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরানোর শেষ ভরসা হয়ে উঠতে পারে।
ইরানে চলমান সামরিক অভিযান থেকে যুক্তরাষ্ট্র খুব শিগগিরই সরে আসবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তিনি বলেন, দেশটি ইতোমধ্যে তাদের অধিকাংশ সামরিক লক্ষ্য অর্জন করেছে এবং দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতির কোনো পরিকল্পনা নেই। মার্কিন রাজনৈতিক ভাষ্যকার বেনি জনসনের পডকাস্ট ‘বেনি শো’-তে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স এ মন্তব্য করেন। সেখানে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান অনেকাংশেই সফল হয়েছে। এমনকি কেউ চাইলে বলতে পারেন, নির্ধারিত লক্ষ্য ইতোমধ্যে পূরণ হয়েছে। তবে এই সাফল্য দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে—এমন স্বীকারোক্তিও দেন ভ্যান্স। তিনি জানান, প্রেসিডেন্ট আরও কিছুদিন অভিযান চালিয়ে যেতে চান, যাতে যুক্তরাষ্ট্র সরে যাওয়ার পর একই ধরনের সংঘাতে পুনরায় জড়াতে না হয়। এর আগে গত ২৭ মার্চ ওয়াশিংটনে এক অনুষ্ঠানে ভ্যান্স বলেন, ইরান এখনও বিভিন্নভাবে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হুমকি তৈরি করছে এবং দেশটি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তাই দীর্ঘ সময়ের জন্য ইরানকে দুর্বল বা নিষ্ক্রিয় রাখা যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য বলেও উল্লেখ করেন তিনি। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার বিষয়টি স্বীকার করলেও ভ্যান্স এটিকে সাময়িক প্রভাব হিসেবে দেখছেন। তার ভাষায়, এটি স্বল্পমেয়াদি সংঘাতের প্রতিক্রিয়া মাত্র। তিনি বলেন, এক বা দুই বছর ইরানে থাকার কোনো পরিকল্পনা নেই। আমরা দ্রুত আমাদের কার্যক্রম গুছিয়ে নিচ্ছি এবং শিগগিরই সেখান থেকে বেরিয়ে আসব। এতে তেলের দামও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।