সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

জেডি ভ্যান্স

২০২৮ সালের মনোনয়ন দৌড়ে পিছিয়ে ভ্যান্স ও রুবিও
২০২৮ সালের রিপাবলিকান মনোনয়ন দৌড়ে পিছিয়ে পড়ছেন জেডি ভ্যান্স ও মার্কো রুবিও, বাড়ছে অনিশ্চয়তা

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির মনোনয়ন পাওয়ার দৌড়ে পিছিয়ে পড়ছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। অনলাইন প্রেডিকশন মার্কেটের সাম্প্রতিক হিসাব বলছে, দলটির সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে দুজনেরই সম্ভাবনা কমেছে। তবে এই পরিবর্তনকে এখনই রিপাবলিকান ভোটারদের মতামতের বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে সতর্ক করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।   প্রেডিকশন মার্কেট পলিমার্কেটের তথ্য অনুযায়ী, রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট প্রার্থী মনোনয়নসংক্রান্ত বাজারে মোট লেনদেনের পরিমাণ প্রায় ৭১ কোটি ৪০ লাখ ডলারে পৌঁছেছে। সেখানে ৩ সেপ্টেম্বর ভ্যান্সের মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা দেখানো হয়েছিল প্রায় ৫৩ শতাংশ। মঙ্গলবার সেই হার নেমে এসেছে ৪৩ দশমিক ৮ শতাংশে। অন্যদিকে, ৩ আগস্ট রুবিওর সম্ভাবনা ছিল ২৭ দশমিক ৮ শতাংশ, যা কমে দাঁড়িয়েছে ১৫ দশমিক ১ শতাংশে। যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ন্ত্রিত আরেকটি প্রেডিকশন মার্কেট কালশির হিসাবেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যদিও সেখানে পরিবর্তনের মাত্রা তুলনামূলক কম। ৩ সেপ্টেম্বর ভ্যান্সের সম্ভাবনা ছিল ৪৫ দশমিক ৮ শতাংশ, মঙ্গলবার তা কমে হয়েছে ৪৩ শতাংশ। রুবিওর ক্ষেত্রে ৩ আগস্টের ২৯ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে সম্ভাবনা নেমে এসেছে ১৮ শতাংশে। এই বাজারে লেনদেনের পরিমাণ ছিল প্রায় ৭০ হাজার ডলার। ভ্যান্সের সম্ভাবনা কমার পেছনে তাঁর সাম্প্রতিক বক্তব্যও আলোচনায় এসেছে। সপ্তাহান্তে এক বক্তব্যে তিনি স্বীকার করেন, ২০২৮ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করার সম্ভাবনাও রয়েছে। নিজের চারটি ছোট সন্তান এবং তাঁর স্ত্রীর রাজনীতির প্রতি অনাগ্রহের বিষয়টি এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। তবে অর্থনীতির অধ্যাপক ও প্রেডিকশন মার্কেট গবেষক কোলম্যান স্ট্রাম্পফ মনে করেন, ভ্যান্সের বক্তব্যকে বাজারের পরিবর্তনের একমাত্র কারণ হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। তাঁর মতে, গত এক সপ্তাহে ভ্যান্সের সম্ভাবনা প্রায় চার শতাংশ পয়েন্ট কমেছে। এর কেবল একটি অংশ তাঁর বক্তব্যের পর ঘটেছে। বাজারের এই পরিবর্তনকে বড় রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখার ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা প্রয়োজন। সাধারণত ভ্যান্সের সম্ভাবনা কমলে তাঁর সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী রুবিওর অবস্থান শক্তিশালী হওয়ার কথা। কিন্তু এবার দুজনের সম্ভাবনাই কমছে। ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডিস্যান্টিস এবং রাজনৈতিক ভাষ্যকার টাকার কার্লসনের মতো সম্ভাব্য বিকল্পদের সম্ভাবনাও এখনো এক অঙ্কের নিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। ফলে বাজারে ভ্যান্স বা রুবিওর পরিবর্তে কোনো একজন নতুন প্রার্থী স্পষ্টভাবে এগিয়ে আসছেন—এমন চিত্র দেখা যাচ্ছে না। স্ট্রাম্পফের মতে, দুই শীর্ষ প্রার্থীর সম্ভাবনা কমলেও অন্য কোনো প্রার্থী উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়ে না আসার অর্থ হতে পারে, বাজারের অংশগ্রহণকারীরা এখনো ভ্যান্সের বক্তব্যকে বড় ঘটনা হিসেবে দেখছেন না। বরং একাধিক অপেক্ষাকৃত কম সম্ভাবনাময় প্রার্থীর দিকে বাজারের হিসাব কিছুটা ছড়িয়ে পড়তে পারে। নর্থইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক কস্টাস প্যানাগোপোলস মনে করেন, ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল ২০২৮ সালের মনোনয়ন দৌড়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। তাঁর মতে, রিপাবলিকানরা যদি মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ে, তাহলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত নেতাদের জন্য সেই সম্পর্ক রাজনৈতিক বোঝা হয়ে উঠতে পারে। ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও—দুজনই ট্রাম্প প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হওয়ায় এর প্রভাব তাঁদের ওপরও পড়তে পারে। প্যানাগোপোলসের মতে, কংগ্রেসের এক বা উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে চলে গেলে ট্রাম্প প্রশাসনের রাজনৈতিক অবস্থান আরও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। তবে এমন পরিস্থিতিতে প্রশাসন ভবিষ্যতের সমস্যার জন্য বিরোধীদের দায়ী করার সুযোগও পেতে পারে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল এবং তার পরের রাজনৈতিক পরিস্থিতি তাই ২০২৮ সালের সম্ভাব্য প্রার্থীদের অবস্থান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হবে। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সান দিয়েগো ক্যাম্পাসের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক থ্যাড কাউসারও মনে করেন, ভ্যান্স ও রুবিওর শক্তির একটি বড় উৎস হলো ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক। গত এক দশকে রিপাবলিকান প্রাথমিক নির্বাচনে ট্রাম্পের প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। কিন্তু ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর সেই সমীকরণ বদলে যায় কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়। বিশ্লেষকদের মতে, টেক্সাস, কানসাস, আইওয়া বা নেব্রাস্কার মতো ঐতিহ্যগতভাবে রিপাবলিকান-সমর্থিত রাজ্যে ডেমোক্র্যাটদের উল্লেখযোগ্য সাফল্য দলটির জন্য সতর্কবার্তা হতে পারে। এমনকি যেসব এলাকায় রিপাবলিকানদের সহজে জেতার কথা, সেখানে অল্প ব্যবধানে জয়ও দলের সমর্থনে দুর্বলতার ইঙ্গিত দিতে পারে। নির্বাচনের ফলাফলের পর রিপাবলিকানদের সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে, তারা ট্রাম্পের রাজনৈতিক ধারা অব্যাহত রাখবে, নাকি ভিন্ন পরিচয়ের দিকে এগোবে। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিজিটিং স্কলার হিসেবে কাজ করা রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড্যানিয়েল শাটজের মতে, মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের খারাপ ফলাফল হলে ক্ষমতার কেন্দ্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা সুবিধার বদলে অসুবিধা হয়ে উঠতে পারে। সে ক্ষেত্রে ২০২৮ সালের মনোনয়ন দৌড় আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে ওঠার সুযোগ রয়েছে। তবে প্রেডিকশন মার্কেটের হিসাবকে সরাসরি জনমত জরিপ হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক নয়। টেক্সাস ক্রিশ্চিয়ান ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক কিথ গ্যাডি সতর্ক করেছেন, বাজারের মূল্যকে ভোটারদের মতামতের বিকল্প হিসেবে দেখা ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ, এসব বাজারে অংশগ্রহণকারীরা কোনো প্রার্থীর নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও লেনদেন করেন; প্রার্থী হিসেবে তাঁর জনপ্রিয়তা বা জয়ের সম্ভাবনা নিয়েই কেবল তাঁদের হিসাব তৈরি হয় না। অন্যদিকে, স্ট্রাম্পফের মতে, বেশি লেনদেন হওয়া প্রেডিকশন মার্কেট দ্রুত পরিবর্তিত পরিস্থিতির প্রতিফলন দিতে পারে। তবে কোনো পূর্বাভাসই শতভাগ নির্ভুল নয়। সব মিলিয়ে, ভ্যান্স ও রুবিওর সম্ভাবনা কমে যাওয়া রিপাবলিকান ভোটাররা তাঁদের প্রত্যাখ্যান করেছেন—এমন প্রমাণ নয়। বরং এটি ২০২৮ সালের মনোনয়ন নিয়ে বাজারের অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বাড়তে থাকা অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত দিতে পারে। শেষ পর্যন্ত দলীয় সমর্থন, অর্থায়ন, গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের সমর্থন এবং ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলই রিপাবলিকানদের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হওয়ার লড়াইয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ অক্টোবর ২০, ২০২৬ ১৪:০
ভারতীয় শ্বশুর-শাশুড়ির প্রতি ভালোবাসার কথা বলে এইচ-১বি কর্মীদের ‘দাস’ মন্তব্যের ব্যাখ্যা ভ্যান্সের
ভারতীয় শ্বশুর-শাশুড়ির প্রতি ভালোবাসার কথা বলে এইচ-১বি কর্মীদের ‘দাস’ মন্তব্যের ব্যাখ্যা ভ্যান্সের

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স এইচ-১বি ভিসায় কর্মরত বিদেশি পেশাজীবীদের 'বিদেশি চুক্তিবদ্ধ দাস' বলে আখ্যা দিয়ে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন টিসিএস, ইনফোসিস, কগনিজ্যান্ট ও মাইক্রোসফটের মতো শীর্ষ আইটি প্রতিষ্ঠানগুলোর স্থায়ী শ্রম সনদ কর্মসূচি সাময়িকভাবে স্থগিত করার ঘোষণা দেয়।   মূলত বিদেশি কর্মীদের গ্রিন কার্ড পাওয়ার প্রথম ধাপ এই কর্মসূচি। এই সিদ্ধান্তের পক্ষে সাফাই গাইতে গিয়ে ভ্যান্স মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিদেশি ‘দাস’ আমদানি বন্ধ করে আমেরিকান কর্মী নিয়োগের আহ্বান জানান। তবে তাঁর এই অবমাননাকর মন্তব্যের পর তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়।   সমালোচনার মুখে পড়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে ‘ড্যামেজ কন্ট্রোলে’ নামেন জে ডি ভ্যান্স। ঢাল হিসেবে তিনি ব্যবহার করেন নিজের ভারতীয় বংশোদ্ভূত স্ত্রী ও দক্ষিণ ভারত থেকে আসা শ্বশুর-শাশুড়িকে। বিদেশি কর্মীদের ‘দাস’ বলার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, নিজের অভিবাসী শ্বশুরবাড়ি ও স্ত্রীকে নিয়ে তিনি চরম গর্বিত।   ভ্যান্সের দাবি, বিদেশিদের স্বাগত জানানোর পাশাপাশি আমেরিকান কর্মীদের স্বার্থ রক্ষার জন্য মার্কিন অভিবাসন ব্যবস্থায় একটি ‘ভারসাম্য’ থাকা দরকার। কোনো কোম্পানি আমেরিকান কর্মী ছাঁটাই করে বিদেশি কর্মী আনলে তা কখনো ন্যায্য হতে পারে না।   তবে ভ্যান্সের এই ‘ভারসাম্য’ তত্ত্ব কিংবা শ্বশুরবাড়ির আবেগি গল্পে মন গলেনি ভারতের। ভারতীয় আইটি পেশাজীবীদের 'দাস' বলার কড়া প্রতিবাদ জানিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একে 'অযৌক্তিক ও অত্যন্ত আপত্তিকর' বলে আখ্যা দিয়েছে। নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত ভারতীয় পেশাজীবীরা কোনো দাস নন; বরং তাঁরা উচ্চশিক্ষিত, অত্যন্ত দক্ষ এবং মার্কিন অর্থনীতি ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনে তাঁদের অবদান অনস্বীকার্য।

ইসতিয়াক আহমেদ অক্টোবর ১৮, ২০২৬ ১৪:০
হোয়াইট হাউসে ডোনাল্ড ট্রাম্প
হোয়াইট হাউসে বাড়ছে বিশৃঙ্খলা, ট্রাম্পের নেতৃত্ব ও প্রশাসনের ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হচ্ছে নতুন প্রশ্ন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসে অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। মাত্র পাঁচ দিন দায়িত্ব পালনের পর প্রেস সেক্রেটারি কেটি জাকারিয়ার বিদায় শুধু একজন কর্মকর্তার চাকরি হারানোর ঘটনা নয়, বরং ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছে একটি সম্পাদকীয় বিশ্লেষণ। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচন, ইরানকে ঘিরে সামরিক নীতি এবং রাশিয়া-ইউক্রেন পরিস্থিতি নিয়ে ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত।   ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদেও হোয়াইট হাউসে দ্রুত কর্মকর্তা পরিবর্তনের ঘটনা দেখা গিয়েছিল। ২০১৭ সালে অ্যান্থনি স্কারামুচি মাত্র ১১ দিন যোগাযোগ পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। সে সময় তাঁর স্বল্পস্থায়ী দায়িত্ব নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল। জাকারিয়ার পাঁচ দিনের মেয়াদ সেই ঘটনাকেও ছাড়িয়ে গেছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি আগের চেয়ে আলাদা বলে মনে করছে সম্পাদকীয়টি। ট্রাম্প এখন তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদে রয়েছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী আরেকবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ তাঁর নেই। ফলে তাঁর রাজনৈতিক প্রভাব ও উত্তরাধিকার নিয়ে রিপাবলিকান শিবিরে হিসাব-নিকাশ বাড়তে পারে। আগামী মাসের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টি কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারাতে পারে—এমন আশঙ্কাও রাজনৈতিক চাপ বাড়াচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্টের আইন প্রণয়ন ও নীতিগত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়তে পারে। একই সঙ্গে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে রিপাবলিকান নেতাদের মধ্যে ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা জোরালো হচ্ছে। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে ট্রাম্পের রাজনৈতিক আন্দোলনের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে দেখছেন দলের অনেক পর্যবেক্ষক ও উচ্চাকাঙ্ক্ষী রাজনীতিক। কেটি জাকারিয়ার নিয়োগ ও দ্রুত বিদায়কে ঘিরে হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সম্পাদকীয় বিশ্লেষণটির মতে, দীর্ঘদিনের চিফ অব স্টাফ সুসি ওয়াইলসকে যথাযথভাবে সম্পৃক্ত না করেই জাকারিয়াকে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রশাসনের সমন্বয়হীনতার ইঙ্গিত দেয়। ওয়াইলস ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের তুলনায় দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসের কার্যক্রমে বেশি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ভূমিকা রেখেছেন বলে ওই বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে জাকারিয়ার নিয়োগ নিয়ে প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যের বিষয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভিন্ন বিবরণ এসেছে। ট্রাম্প প্রকাশ্যে তাঁর প্রতি সংবাদমাধ্যমের আচরণ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন এবং তাঁকে দায়িত্বটি পুনর্বিবেচনার পরামর্শ দিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে জাকারিয়া পদটি ছাড়েন। এই ঘটনাকে ঘিরে হোয়াইট হাউসের যোগাযোগব্যবস্থা, নিয়োগপ্রক্রিয়া এবং গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের মধ্যে সমন্বয় নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এর পাশাপাশি ইরানকে ঘিরে ট্রাম্পের নীতিও রাজনৈতিক চাপ বাড়াচ্ছে বলে সম্পাদকীয়টির মূল্যায়ন। ইরানের সঙ্গে যু দ্ধে জড়ানোর সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও রিপাবলিকানদের নির্বাচনী সম্ভাবনার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে এতে দাবি করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রশাসন জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে। রাশিয়ার কাছ থেকে ডিজেল কেনার বিষয়ে সমঝোতার উদ্যোগও সেই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। তবে সমালোচকদের মতে, রাশিয়ার সঙ্গে এমন সমঝোতা বিশ্ববাজারে ডিজেলের দাম কমাতে কার্যকর হবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট প্রশ্ন রয়েছে। রাশিয়া-ইউক্রেন পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তও বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। ২০২৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর তিনি রাশিয়া ও ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জোরদারের জন্য লিন্ডসে গ্রাহামের নামে প্রণীত আইনে স্বাক্ষর করেন। কিন্তু ১৬ অক্টোবর জারি করা এক নির্বাহী আদেশে ওই আইনের কয়েকটি নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক কার্যকরের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়। ট্রাম্প তাঁর সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থের কথা উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে, সমালোচকেরা মনে করছেন, এ ধরনের পদক্ষেপ রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের প্রচেষ্টাকে দুর্বল করতে পারে। সম্পাদকীয়টির বক্তব্য অনুযায়ী, রাশিয়ার সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে জ্বালানির দাম কমানোর চেষ্টা মার্কিন ট্রাকচালক ও সাধারণ গাড়িচালকদের প্রত্যাশিত স্বস্তি নাও দিতে পারে। একই সঙ্গে ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন এবং রাশিয়ার ভূমিকা নিয়ে মার্কিন ভোটারদের মনোভাব নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এসব সিদ্ধান্তের রাজনৈতিক প্রভাব কতটা হবে, তা নির্ভর করবে নির্বাচনের আগে অর্থনীতি, পররাষ্ট্রনীতি ও প্রশাসনের কার্যক্রম নিয়ে ভোটারদের মূল্যায়নের ওপর। ট্রাম্পের রাজনৈতিক কৌশলের একটি বৈশিষ্ট্য হলো প্রচলিত নিয়ম ও রীতিনীতিকে চ্যালেঞ্জ করা। তাঁর সমর্থকেরা অনেক সময় এটিকে দৃঢ় নেতৃত্বের পরিচয় হিসেবে দেখেছেন। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোতে সেই কৌশল কার্যকর থাকছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। হোয়াইট হাউসের বলরুম নির্মাণ নিয়ে বিতর্ক এবং লিংকন মেমোরিয়ালের রিফ্লেক্টিং পুল ব্যবস্থাপনা নিয়েও সমালোচনা হয়েছে। এসব ঘটনা প্রশাসনের ভাবমূর্তি ও ব্যবস্থাপনার দক্ষতা নিয়ে বিতর্ককে আরও বাড়িয়েছে। সব মিলিয়ে, জাকারিয়ার মাত্র পাঁচ দিনের দায়িত্বকালকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক, গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের মধ্যে টানাপোড়েন এবং পররাষ্ট্রনীতির সিদ্ধান্তগুলো ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একাধিক চ্যালেঞ্জ সামনে এনেছে। তবে এসব ঘটনাই ট্রাম্পের রাজনৈতিক যুগের অবসান শুরু হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য যথেষ্ট নয়। বরং আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচন, রিপাবলিকান পার্টির অভ্যন্তরীণ নেতৃত্বের হিসাব এবং প্রশাসনের পরবর্তী সিদ্ধান্তগুলোই নির্ধারণ করবে হোয়াইট হাউসের বর্তমান অস্থিরতা কতটা দীর্ঘস্থায়ী হয়।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ১৪:০
সাবেক সেনা কর্মকর্তা নিদাল হাসানকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার সরাসরি সম্প্রচার নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন জেডি ভ্যান্স। ছবি: সংগৃহীত
নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ডের সরাসরি সম্প্রচার দেখবেন না ভ্যান্স, ঘোর আপত্তি

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে ১৩ জনকে হত্যার দায়ে দণ্ডিত সাবেক সেনা কর্মকর্তা নিদাল মালিক হাসানের মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। শুক্রবার, ৯ অক্টোবর সাংবাদিকদের তিনি বলেন, পেন্টাগনের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হবে কি না, তা তিনি নিশ্চিত নন। তবে সম্প্রচার হলে তিনি তা দেখবেন না।    প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বৃহস্পতিবার হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য জনসাধারণকে দেখানোর ঘোষণা দেওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। ভ্যান্সের বক্তব্যে সম্প্রচার নিয়ে সংশয় উঠে এলেও তিনি হাসানের অপরাধের গুরুত্ব মনে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি নিয়ে বিতর্কের মধ্যে নিরপরাধ মানুষকে হত্যার ঘটনা যেন আড়ালে না পড়ে।    হাসান মার্কিন সেনাবাহিনীর মেজর ও মনোরোগ চিকিৎসক ছিলেন। ২০০৯ সালে ফোর্ট হুডের একটি চিকিৎসাসংক্রান্ত ভবনে তাঁর গুলিতে ১৩ জন নিহত এবং ৩২ জন আহত হন। আগামী ৩ ডিসেম্বর ওই ঘাঁটিতেই ফায়ারিং স্কোয়াডে তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সেনাবাহিনীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি অ্যাডাম টেলে।    প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের অনুমোদন দিয়েছেন। তবে সরাসরি সম্প্রচার নিয়ে শুক্রবার তাঁকে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পক্ষে নিজের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করলেও সম্প্রচারের বিষয়ে তিনি স্পষ্ট সমর্থন জানাননি।    সম্প্রচারের পরিকল্পনার সমালোচনা করেছেন রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় দলের আইনপ্রণেতারা। রিপাবলিকান সিনেটর থম টিলিস প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড দেখানোর বিরোধিতা করেছেন। একই দলের প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য অস্টিন স্কটও বলেছেন, তিনি হাসানের মৃত্যুদণ্ড সমর্থন করেন, কিন্তু তা সরাসরি সম্প্রচারের পক্ষে নন।    রিপাবলিকান সিনেটর লিসা মারকাউস্কি পেন্টাগনকে পরিকল্পনাটি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন। সিনেটর জন কার্টিস প্রাচীন রোমের রক্তাক্ত প্রদর্শনীর প্রসঙ্গ তুলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এ ধরনের সম্প্রচার সহিংস দৃশ্যকে বিনোদন হিসেবে দেখার প্রবণতা বাড়াতে পারে। এই মন্তব্য কার্টিসের, ভ্যান্সের নয়।    যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাথলিক বিশপদের সম্মেলনের সভাপতি আর্চবিশপ পল এস. কোকলিও সরাসরি সম্প্রচারের সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়ে তা পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৬১ সালের পর মার্কিন সামরিক বাহিনী আর কোনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেনি। ফলে হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে তা ছয় দশকের বেশি সময় পর প্রথম সামরিক মৃত্যুদণ্ড হবে।    তবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তারিখ নির্ধারণ হওয়া এবং তা সরাসরি সম্প্রচারিত হওয়া দুটি পৃথক বিষয়। এ ছাড়া বেসামরিক ফেডারেল আদালতে আইনি আবেদন মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া বিলম্বিত করতে পারে বলে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে। সম্প্রচারের ঘোষণা থাকলেও ভ্যান্স ও ট্রাম্পের সর্বশেষ বক্তব্যে এর বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

তাবাস্সুম অক্টোবর ৯, ২০২৬ ১৪:০
জে-১ ভিসার অপব্যবহার রোধে ৯ শীর্ষ মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক তদন্তের ঘোষণা। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা জালিয়াতির অভিযোগে ৯ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে তদন্তের ঘোষণা জেডি ভ্যান্সের

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থী ও গবেষকদের ভিসা ব্যবহারে অনিয়মের অভিযোগে নয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। তালিকায় রয়েছে ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভিস ক্যাম্পাস (ইউসি ডেভিস), স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়, ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, হার্ভার্ড ও ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশটির কয়েকটি পরিচিত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এ তদন্তের ঘোষণা দেন। তাঁর অভিযোগ, এসব প্রতিষ্ঠান বিদেশি গবেষকদের জন্য নির্ধারিত ভিসা কর্মসূচি অতিরিক্ত ব্যবহার করে মার্কিন শিক্ষার্থী ও গবেষকদের কর্মসংস্থান এবং মজুরির ওপর চাপ তৈরি করছে।   ভ্যান্স বলেন, এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে জে-১ ভিসা কর্মসূচির অপব্যবহার হয়ে থাকতে পারে এবং বিষয়টি তদন্ত করা প্রয়োজন। তাঁর ভাষ্য, বিদেশি গবেষকদের নিয়োগের মাধ্যমে মার্কিন স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী ও গবেষকদের তুলনায় কম ব্যয়ে কাজ করিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। তিনি এই ধরনের কর্মকাণ্ডকে মার্কিন কর্মীদের স্বার্থের পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এখনো তদন্তাধীন। তদন্তের ফল প্রকাশের আগে কোনো প্রতিষ্ঠান ভিসা জালিয়াতি করেছে বলে চূড়ান্তভাবে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।   মার্কিন কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তদন্তের আওতায় থাকা নয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ে পোস্টডক্টরাল গবেষক এবং কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত গবেষণা প্রকল্পের কর্মীদের মধ্যে প্রায় ৬১ শতাংশ বিদেশি নাগরিক। তাঁদের দাবি, জাতীয় পর্যায়ে এই হার প্রায় ৩৮ শতাংশ। তবে এই পরিসংখ্যান কীভাবে হিসাব করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিদেশি গবেষকদের উপস্থিতির হার বেশি হওয়ার অর্থ নিজে থেকেই ভিসা জালিয়াতির প্রমাণ নয়। তদন্তে মূলত ভিসার শর্ত, নিয়োগের প্রক্রিয়া এবং সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত গবেষণায় বিদেশি কর্মীদের নিয়োগের নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।   তদন্তের তালিকায় থাকা নয়টি বিশ্ববিদ্যালয় হলো হার্ভার্ড, ইয়েল, স্ট্যানফোর্ড, ব্রাউন, পিটসবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়, ইউসি ডেভিস, ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, অ্যারিজোনা স্টেট বিশ্ববিদ্যালয় এবং ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি বা এমআইটি। এর মধ্যে ক্যালিফোর্নিয়ার তিনটি প্রতিষ্ঠান হলো স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়, ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি এবং ইউসি ডেভিস। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগের মহাপরিদর্শক অ্যান্থনি ডি’এসপোসিটো জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে ইতিমধ্যে তদন্তের অংশ হিসেবে সমন জারি করা হয়েছে। বিদেশি প্রভাব, আর্থিক সম্পর্কের অনিয়ম এবং ভিসার অপব্যবহারের মাধ্যমে সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত গবেষণা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।   ইউসি ডেভিস কর্তৃপক্ষ অবশ্য জানিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়টি ভিসাসংক্রান্ত সব কেন্দ্রীয় আইন ও বিধিবিধান মেনে চলে। ফক্স৪০-কে দেওয়া এক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, নিয়ম মেনে চলার বিষয়টি নিশ্চিত করতে তারা কেন্দ্রীয় সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত। তদন্তের বিষয়ে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থান সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগের ভিত্তি, তদন্তে কী ধরনের নথি পরীক্ষা করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।   জে-১ ভিসা যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিনিময় কর্মসূচির আওতাভুক্ত অস্থায়ী ভিসা। এর মাধ্যমে বিদেশি শিক্ষার্থী, গবেষক, শিক্ষক ও বিভিন্ন পেশার ব্যক্তিরা নির্দিষ্ট শিক্ষা, গবেষণা, প্রশিক্ষণ বা সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচিতে অংশ নিতে দেশটিতে যেতে পারেন। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আন্তর্জাতিক গবেষক ও পোস্টডক্টরাল গবেষকদের যুক্তরাষ্ট্রে আনার ক্ষেত্রে এই ভিসা ব্যবহার করে থাকে। অন্যদিকে, এইচ-১বি ভিসা বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন বিদেশি কর্মীদের যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করার সুযোগ দেয়। দুটি ভিসার উদ্দেশ্য ও শর্ত আলাদা হলেও ট্রাম্প প্রশাসন সাম্প্রতিক সময়ে উভয় কর্মসূচির ব্যবহার নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে।   ভ্যান্সের অভিযোগ, কিছু বিশ্ববিদ্যালয় জে-১ ভিসার মাধ্যমে বিদেশি গবেষকদের নিয়োগ দিয়ে মার্কিন স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী ও গবেষকদের তুলনায় কম বেতনে কাজ করাচ্ছে। তাঁর মতে, এতে স্থানীয় গবেষকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ ও আয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তবে বিদেশি গবেষকদের বেতন তুলনামূলক কম কি না, কিংবা কোনো বিশ্ববিদ্যালয় ভিসার শর্ত ভেঙেছে কি না, তা নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট নিয়োগের শর্ত, কাজের ধরন ও আর্থিক নথি পরীক্ষা করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে প্রশাসনের অভিযোগের পক্ষে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।   এই তদন্ত ট্রাম্প প্রশাসনের বৃহত্তর অভিবাসন নীতির অংশ। বিদেশি শিক্ষার্থী, দক্ষ কর্মী ও গবেষকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ এবং কাজের সুযোগ নিয়ে প্রশাসন সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও গবেষকেরা মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, চিকিৎসা ও প্রকৌশল গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ফলে ভিসা ব্যবহারের নিয়ম আরও কঠোর হলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা কার্যক্রম, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী নিয়োগ এবং সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্পগুলোও প্রভাবিত হতে পারে।   শ্রম বিভাগের মহাপরিদর্শক ডি’এসপোসিটি বলেছেন, কোনো বিশ্ববিদ্যালয়কে তার পরিচিতি বা মর্যাদার কারণে তদন্তের বাইরে রাখা হবে না। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তদন্তে ভিসার অপব্যবহারের পাশাপাশি বিদেশি প্রভাব এবং আর্থিক সম্পর্কের বিষয়গুলোও গুরুত্ব পাবে। তবে তদন্ত চলাকালে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়নি। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর নথি পর্যালোচনা এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের পরই পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।   সূত্র: ফক্স৪০

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ৮, ২০২৬ ১৪:০
দারিদ্র্য ও কঠিন পারিবারিক বাস্তবতা পেরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স
বাবাহীন শৈশব, মায়ের মাদকাসক্তি, দারিদ্র্য পেরিয়ে যেভাবে ভাইস প্রেসিডেন্ট হলেন জেডি ভ্যান্স

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে জেডি ভ্যান্সের উত্থানের গল্প অনেকটা সিনেমার চিত্রনাট্যের মতো। ওহাইওর মিডলটাউনে আর্থিক সংকট ও পারিবারিক অস্থিরতার মধ্যে বেড়ে ওঠা এই রাজনীতিকের শৈশব কেটেছে নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে। তাঁর মা মাদকাসক্তির সঙ্গে লড়াই করেছেন। আর বাবার অনুপস্থিতিতে জীবনের বড় একটি সময় দাদা-দাদির সান্নিধ্যেই বেড়ে উঠেছেন তিনি। শৈশবের সেই অভিজ্ঞতাগুলোই পরে তাঁর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ‘হিলবিলি এলিজি’র অন্যতম প্রধান বিষয় হয়ে ওঠে।   জেডি ভ্যান্সের পুরো নাম জেমস ডেভিড ভ্যান্স। ১৯৮৪ সালের ২ আগস্ট ওহাইওর মিডলটাউনে তাঁর জন্ম। একসময় শিল্পকারখানাকেন্দ্রিক কর্মসংস্থানের জন্য পরিচিত ছিল শহরটি। তবে সময়ের সঙ্গে সেখানে শিল্প ও কর্মসংস্থানের সুযোগ কমতে থাকে। এর প্রভাব পড়ে ভ্যান্সের পরিবারেও। মায়ের আসক্তি ও পারিবারিক অস্থিরতার মধ্যে তাঁর জীবনে সবচেয়ে বড় স্থিরতার জায়গা হয়ে ওঠেন দাদা-দাদি। বিশেষ করে তাঁর দাদি, যাকে ভ্যান্স ‘মামাও’ নামে উল্লেখ করেছেন, তাঁর বেড়ে ওঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।   উচ্চবিদ্যালয় শেষ করে ভ্যান্স সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ে না গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মেরিন কোরে যোগ দেন। প্রায় চার বছর সামরিক বাহিনীতে কাজ করেন তিনি এবং ইরাকেও দায়িত্ব পালন করেন। সামরিক জীবন শেষ করার পর উচ্চশিক্ষায় মন দেন ভ্যান্স। ভর্তি হন ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটিতে। সেখানে দর্শন ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা শেষ করার পর তাঁর পরবর্তী গন্তব্য হয় যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইয়েল ল স্কুল।   ইয়েলে পড়ার সময় ভ্যান্সের জীবনে নতুন এক অধ্যায়ের শুরু হয়। সেখানে তাঁর সঙ্গে পরিচয় হয় উষা ভ্যান্সের। ২০১৩ সালে আইন বিষয়ে পড়াশোনা শেষ করার পর তিনি আইন পেশায় যোগ দেন। পরে প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ খাতেও কাজ করেন। একই সময়ে নিজের শৈশবের অভিজ্ঞতা এবং আমেরিকার শ্রমজীবী মানুষের জীবন নিয়ে লেখালেখি শুরু করেন।   ২০১৬ সালে প্রকাশিত তাঁর স্মৃতিকথা ‘হিলবিলি এলিজি’ তাঁকে জাতীয় পর্যায়ে পরিচিতি এনে দেয়। বইটিতে ওহাইও ও অ্যাপালাচিয়ান অঞ্চলের শ্রমজীবী ও নিম্নআয়ের মানুষের জীবন, দারিদ্র্য, পারিবারিক সংকট এবং সামাজিক পরিবর্তনের নানা দিক তুলে ধরেন ভ্যান্স। বইটি দ্রুত বেস্টসেলার হয়ে ওঠে। পরে ২০২০ সালে এটি চলচ্চিত্রেও রূপ নেয়।   লেখক ও বিনিয়োগকারী হিসেবে পরিচিতি পাওয়ার পর ধীরে ধীরে রাজনীতিতে সক্রিয় হন ভ্যান্স। ২০২২ সালে ওহাইও থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে নির্বাচিত হন তিনি। এর মাত্র দুই বছর পর, ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁকে রিপাবলিকান দলের ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে বেছে নেন। সে সময় ভ্যান্সের বয়স ছিল ৩৯ বছর।   ২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্প-ভ্যান্স জুটি জয়ী হওয়ার পর ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি ৪০ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন জেডি ভ্যান্স। এর মধ্য দিয়ে দারিদ্র্য ও পারিবারিক অস্থিরতার মধ্যে বেড়ে ওঠা এক তরুণের জীবনে যুক্ত হয় যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক পর্যায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ।   ভ্যান্সের জীবনকে অনেকেই ‘আমেরিকান ড্রিম’-এর উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন। কারণ তাঁর জীবনের পথচলায় রয়েছে কঠিন শৈশব, মেরিন কোরে কাজ, উচ্চশিক্ষা, ইয়েল ল স্কুল থেকে ডিগ্রি, লেখালেখি, ব্যবসা এবং শেষ পর্যন্ত জাতীয় রাজনীতিতে উত্থান। তবে তাঁর গল্পকে শুধু ব্যক্তিগত সংগ্রাম ও সাফল্যের গল্প হিসেবে দেখলে পুরো চিত্রটি পাওয়া যায় না। দাদা-দাদির সহায়তা, শিক্ষা এবং জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে পাওয়া সুযোগও তাঁর এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।   আজ জেডি ভ্যান্স যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতির অন্যতম পরিচিত মুখ। দারিদ্র্য ও পারিবারিক সংকটের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া জীবন থেকে মেরিন কোর, ইয়েল ল স্কুল, লেখালেখি, ব্যবসা ও সিনেট হয়ে ভাইস প্রেসিডেন্টের পদে পৌঁছানো তাঁর যাত্রা নিঃসন্দেহে ব্যতিক্রমী।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ অক্টোবর ৭, ২০২৬ ১৪:০
জেডি ভ্যান্সের শৈশবের শহরে উজবেক ট্রাকিং কোম্পানির বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ
জেডি ভ্যান্সের শৈশবের শহরে উজবেক ট্রাকিং কোম্পানির বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের শৈশবের শহর হিসেবে পরিচিত ওহাইওর মেইনভিলসহ আশপাশের এলাকায় হাজার হাজার উজবেক অভিবাসীর ব্যাপক আগমনের ফলে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, এই অভিবাসীরা সেখানে শত শত অবৈধ ও অনিরাপদ বাণিজ্যিক ট্রাকিং ব্যবসা পরিচালনা করছেন।   বাটলার ও ওয়ারেন কাউন্টিতে গড়ে ওঠা এসব ট্রাকিং কোম্পানি মূলত বিভিন্ন আবাসিক ঠিকানা ব্যবহার করে কার্যক্রম চালাচ্ছে এবং পরিবহন আইনের চরম লঙ্ঘন করে ভুয়া তথ্য দিয়ে ব্যবসা প্রসারিত করছে। এই আকস্মিক অভিবাসী ঢলের কারণে স্থানীয় একটি স্কুলে বর্তমানে ১২ শতাংশ শিক্ষার্থী ইংরেজি বলতে অক্ষম, যাদের বেশিরভাগই মধ্য এশিয়া থেকে আসা।   ট্রাকিং ব্যবসার এই জালিয়াতির মাত্রা রীতিমতো বিস্ময়কর। মেইনভিলের মাত্র ২২টি আবাসিক ঠিকানায় একাধিক ট্রাকিং কোম্পানি নিবন্ধিত রয়েছে, যা পরিবহন শিল্পের ভাষায় ‘ক্যামেলিয়ন কোম্পানি’ বা বহুরূপী প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। কোনো কোম্পানির বিরুদ্ধে অনিরাপদ রেটিং বা অতিরিক্ত নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠলে তারা সহজেই একই ঠিকানায় নতুন নামে আরেকটি কোম্পানি খুলে বসে।   উদাহরণস্বরূপ, ‘বাদ্রি বি এলএলসি’ নামের একটি কোম্পানি সরকারি নথিতে দাবি করেছে যে, তাদের ২৩ হাজার ১টি ট্রাক রয়েছে, যার সবগুলোই লভল্যান্ডের একটিমাত্র অ্যাপার্টমেন্ট থেকে পরিচালিত হয়! এছাড়া ওয়েস্ট চেস্টারের ‘শোদ এক্সপ্রেস এলএলসি’ নামের অপর একটি কোম্পানি মাত্র ৫২ জন চালক দিয়ে এক বছরে ৪ কোটি ১০ লাখ মাইল পাড়ি দেওয়ার অবাস্তব দাবি করেছে। মূলত প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে এবং নিজেদের নিরাপদ হিসেবে প্রমাণ করতেই তারা এসব ভুয়া মাইলেজ ও ট্রাকের হিসাব দেখায়।   অদক্ষ ও ইংরেজি না জানা এসব চালকের কারণে রাস্তায় ভয়াবহ সব দুর্ঘটনা ঘটছে। ওহাইওর ইন্টারস্টেট ৭১ মহাসড়কে বেখজোদ আসরারভ নামের এক উজবেক চালকের ট্রাকের ধাক্কায় টোবি ফরসিথে নামের ২১ বছর বয়সী এক কলেজছাত্র নিহত হন। আসরারভ জো বাইডেনের ডাইভার্সিটি ভিসা লটারির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন এবং তিনি একেবারেই ইংরেজি বলতে পারতেন না।   এছাড়া পার্শ্ববর্তী ইন্ডিয়ানা সীমান্তে আরেক অবৈধ অভিবাসী চালকের ট্রাকের ধাক্কায় চারজন আমিশ নির্মাণশ্রমিক প্রাণ হারান। শুধু সড়ক দুর্ঘটনাই নয়, স্থানীয় বাসিন্দারা এসব অভিবাসীর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি, মানব পাচার এবং ধর্ষণের মতো গুরুতর অভিযোগও তুলেছেন। ২০১৯ সালে ১৩ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণ ও অপহরণের দায়ে সম্প্রতি এক উজবেক চালকের সাজা হওয়ার পর পুরো শহর জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।   ওহাইও অঙ্গরাজ্যে কমার্শিয়াল ড্রাইভার্স লাইসেন্স (সিডিএল) পাওয়ার জন্য ইংরেজি জানা বাধ্যতামূলক এবং অ-নাগরিকদের এই লাইসেন্স দেওয়া হয় না। তাই এই বাধা এড়াতে অভিবাসী চালকরা দলবেঁধে নিউইয়র্কের ব্রুকলিনের কনি আইল্যান্ডের ডিএমভি-তে গিয়ে লাইসেন্স সংগ্রহ করছেন, কারণ নিউইয়র্কে অবৈধ অভিবাসীদেরও সিডিএল দেওয়া হয়।   পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ট্রাম্প প্রশাসন সম্প্রতি অ-নাগরিক চালকদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং নিরাপত্তা লঙ্ঘন ও ইংরেজি দক্ষতার অভাবে ২৭০টি সিডিএল স্কুল বন্ধ করে দিয়েছে। এমনকি বিদেশি নাগরিকদের দেওয়া সিডিএল বাতিল করতে অস্বীকৃতি জানানোয় নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের ৭ কোটি ৩০ লাখ ডলারের ফেডারেল হাইওয়ে তহবিলও আটকে দিয়েছে ডট (DOT)।

ইসতিয়াক আহমেদ অক্টোবর ৭, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসা পুরোপুরি বাতিল চান জেডি ভ্যান্স, উঠছে সস্তা শ্রমের অভিযোগ
যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসা পুরোপুরি বাতিল চান জেডি ভ্যান্স, উঠছে সস্তা শ্রমের অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় ও বহুল আলোচিত এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচিকে সম্পূর্ণ অচল আখ্যা দিয়ে এটি পুরোপুরি বাতিল করার পক্ষে মত দিয়েছেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। সম্প্রতি গণমাধ্যম ‘রিয়েল আমেরিকা’স ভয়েস’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি অভিযোগ করেন, প্রযুক্তি ও হিসাববিজ্ঞানসহ বিভিন্ন খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো এই ব্যবস্থার অপব্যবহার করছে।   আমেরিকান নাগরিকদের কম বেতনের বিদেশি কর্মী দিয়ে প্রতিস্থাপন করে মূলত স্থানীয় কর্মীদের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। সাক্ষাৎকারের একটি অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) শেয়ার করার পর ট্রাম্প প্রশাসনের এই ভিসা নীতি নিয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।   সাক্ষাৎকারে জেডি ভ্যান্স উচ্চদক্ষ পেশাদার আনা এবং সস্তা শ্রম ব্যবহারের মধ্যকার পার্থক্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, কোনো বিশেষ প্রতিভাবান ব্যক্তিকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসার বিষয়ে আলোচনা হতেই পারে। তবে ৬০ হাজার ডলার বেতনের একজন আমেরিকান অ্যাকাউন্ট্যান্টকে সরিয়ে যদি ৪৫ হাজার ডলারে বিদেশি কর্মী আনা হয়, তবে সেটি মেধা অন্বেষণ নয়; বরং স্থানীয়দের কর্মসংস্থান ধ্বংস করা।   তিনি উল্লেখ করেন, কোম্পানিগুলো যাতে সস্তা শ্রমের মাধ্যম হিসেবে এইচ-১বি ভিসার অপব্যবহার করতে না পারে, সেজন্যই ট্রাম্প প্রশাসন নির্দিষ্ট কিছু আবেদনের ক্ষেত্রে এক লাখ ডলার ফি নির্ধারণের উদ্যোগ নিয়েছিল। মূলত সস্তা শ্রমের পেছনে থাকা লবিস্টদের কারণে কংগ্রেস যখন কোনো সংস্কারে যেতে পারছিল না, তখনই প্রশাসন এই কঠোর পদক্ষেপ নেয়।   তবে ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত এই এক লাখ ডলারের বাধ্যতামূলক ফি ইতোমধ্যে বড় ধরনের আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। গত ১ অক্টোবর এক ফেডারেল বিচারক এই সিদ্ধান্তের ওপর স্থগিতাদেশ দেন, যা প্রশাসনের এইচ-১বি নীতিমালার বিরুদ্ধে আদালতের দ্বিতীয় কোনো স্থগিতাদেশ। তবে ভ্যান্স মনে করেন, কেবল ফি আরোপই যথেষ্ট নয়; পুরো ব্যবস্থাটিই ভেঙে পড়েছে।   তাই তিনি এটি সম্পূর্ণ বাতিলের পক্ষে। বিদ্যমান কাঠামো বহাল থাকা পর্যন্ত মার্কিন কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষায় কাজ করার কথা জানিয়ে তিনি সাধারণ আমেরিকানদের নিজ নিজ আইনপ্রণেতা বা কংগ্রেসম্যানদের মাধ্যমে এই আইন পরিবর্তনের চাপ দেওয়ার আহ্বান জানান।   জেডি ভ্যান্সের এই দৃষ্টিভঙ্গি প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্কের আগের অবস্থানের সঙ্গেও বেশ সামঞ্জস্যপূর্ণ। ইলন মাস্কও অতীতে যুক্তি দেখিয়েছেন যে, এইচ-১বি ভিসা কেবল অত্যন্ত উচ্চমানের দক্ষতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের আনার জন্যই ব্যবহৃত হওয়া উচিত, সস্তা শ্রমিক আনার মাধ্যম হিসেবে নয়।   ভ্যান্স স্পষ্ট করে বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠান যখন হাজার হাজার আমেরিকান কর্মীকে ছাঁটাই করে তাদের জায়গায় কম বেতনের বিদেশি কর্মীদের দিয়ে কাজ করায়, তখন সেই ব্যবস্থার সংস্কার ছাড়া উপায় থাকে না। তাঁর সাম্প্রতিক এই কঠোর বক্তব্যে এটি স্পষ্ট যে, মার্কিন প্রশাসন এইচ-১বি কর্মসূচিকে হয় কেবল সর্বোচ্চ দক্ষ পেশাদারদের জন্য কঠোরভাবে সীমাবদ্ধ করতে চায়, নতুবা এটি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ার পথেই হাঁটবে।

ইসতিয়াক আহমেদ অক্টোবর ৩, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে ‘আগে ছাঁটাই, পরে বিদেশি নিয়োগ’—এইচ-১বি ইস্যুতে বিস্ফোরক মন্তব্য ভ্যান্সের
যুক্তরাষ্ট্রে ‘আগে ছাঁটাই, পরে বিদেশি নিয়োগ’—এইচ-১বি ইস্যুতে বিস্ফোরক মন্তব্য ভ্যান্সের

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করতেই এইচ-১বি (H-1B) ভিসা চালু করা হয়েছিল, কম বেতনে মার্কিন কর্মীদের বদলি হিসেবে বিদেশি কর্মী নিয়োগের জন্য নয়। সম্প্রতি এই ভিসা কর্মসূচির অপব্যবহার নিয়ে কোম্পানিগুলোকে এভাবেই কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তিনি জানিয়েছেন, যেসব প্রতিষ্ঠান নিজেদের দেশীয় কর্মী ছাঁটাই করে এই ভিসার অধীনে বিদেশি কর্মী নিয়োগ দিচ্ছে, তাদের ওপর নজরদারি ও কড়াকড়ি আরও বাড়ানো হবে।   জেডি ভ্যান্স ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অনেক কোম্পানি কর্মী সংকটের অজুহাত দেখিয়ে এইচ-১বি ভিসার জন্য আবেদন করে। অথচ তাদের অতীত ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, তারা এর আগেই হয়তো পাঁচ হাজার কর্মী ছাঁটাই করেছে, যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। তার মতে, কোনো প্রতিষ্ঠান যদি মার্কিন কর্মীদের ছাঁটাই করে, তবে শূন্যস্থান পূরণে তাদের বিদেশি কর্মীর খোঁজ করা উচিত নয়।   উদাহরণস্বরূপ তিনি বলেন, ৬০ হাজার ডলার বেতনের একজন মার্কিন হিসাবরক্ষককে ছাঁটাই করে যদি ৪৫ হাজার ডলারে একজন বিদেশি হিসাবরক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়, তবে তা এই ভিসা কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্যের পরিপন্থী। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও প্রযুক্তি খাতে যারা উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারবেন, কেবল তাদেরই এই ভিসা পাওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।   ভাইস প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যার কিছুদিন আগেই (১৮ সেপ্টেম্বর) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন। ওই আদেশে শ্রম, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি এবং পররাষ্ট্র দপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এইচ-১বি ভিসার আবেদন পর্যালোচনার সময় কোম্পানিগুলো মার্কিন কর্মীদের ছাঁটাই করেছে কি না বা করার পরিকল্পনা করছে কি না, তা যেন খতিয়ে দেখা হয়।   পাশাপাশি, পূর্বের আবেদনগুলো পর্যালোচনা করে প্রয়োজনে আইনি বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   কংগ্রেসের মাধ্যমে আইন সংশোধনের জন্য অপেক্ষা না করে ট্রাম্প প্রশাসন সরাসরি প্রশাসনিক পর্যায়ে এই পরিবর্তনগুলো আনছে বলে জানিয়েছেন ভ্যান্স। ভিসা ব্যবস্থায় বিদ্যমান জালিয়াতি রোধে তারা কাজ করছেন উল্লেখ করে তিনি জানান, ট্রাম্প প্রশাসনের বৃহত্তর অভিবাসন নীতির অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।   এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের বাইরের কর্মীদের ক্ষেত্রে এই ভিসার আবেদনে ১ লাখ ডলার ফি প্রদানের বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে, যার মেয়াদ ২০২৭ সালের ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়িয়েছেন ট্রাম্প। তবে আইনি সীমাবদ্ধতার বিষয়টি স্বীকার করে ভ্যান্স জানান, প্রশাসনের নেওয়া এইচ-১বি সংক্রান্ত বেশ কিছু পদক্ষেপ এরই মধ্যে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬ ১৪:০
এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচি নিয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ছবি: সংগৃহীত
‘কম বেতনের বিদেশি কর্মী দিয়ে মার্কিনিদের সরাতে এইচ-১বি নয়’: এক লাখ ডলারের শর্তের পক্ষে ভ্যান্স

কম বেতনে বিদেশি কর্মী নিয়োগ দিয়ে মার্কিন কর্মীদের জায়গা নেওয়ার জন্য এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচি ব্যবহার করা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি ‘অল ইন’ পডকাস্টে তিনি এ কথা বলেন এবং নতুন এইচ-১বি আবেদনে এক লাখ ডলার দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন।   ভ্যান্সের ভাষ্য, এইচ-১বি কর্মসূচির উদ্দেশ্য হওয়া উচিত এমন দক্ষ বিদেশি কর্মীদের যুক্তরাষ্ট্রে আনা, যাঁরা দেশটির অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারেন। কোনো প্রতিষ্ঠান যেন কম বেতনের কর্মী নিয়োগের পথ হিসেবে এই ভিসা ব্যবহার করতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসন পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে জানান তিনি।   ভ্যান্স আরও বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠান একদিকে মার্কিন কর্মীদের ছাঁটাই করবে, অন্যদিকে তাঁদের বদলে বিদেশি কর্মী খুঁজবে, তা গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের নিয়োগ ঠেকানোর উপায়ও প্রশাসন খতিয়ে দেখছে বলে তিনি জানান।   এইচ-১বি কর্মসূচির মাধ্যমে মার্কিন নিয়োগদাতারা প্রযুক্তিসহ বিশেষ দক্ষতার প্রয়োজন হয় এমন পেশায় বিদেশি কর্মী নিয়োগ দিতে পারেন। কর্মসূচির অপব্যবহার ও মার্কিন কর্মীদের ওপর এর প্রভাব নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই ভ্যান্সের মন্তব্য এল।   ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্দিষ্ট কিছু নতুন এইচ-১বি আবেদনের সঙ্গে এক লাখ ডলার দেওয়ার শর্ত ঘোষণা করেন। গত ১৮ সেপ্টেম্বর হোয়াইট হাউস সেই শর্তের মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। তবে শর্তটি সব এইচ-১বি আবেদন বা বর্তমানে এই ভিসায় থাকা কর্মীদের জন্য প্রযোজ্য নয়।   এক লাখ ডলারের শর্তের বৈধতা নিয়ে আদালতে মামলা চলছে। জুনে একটি ফেডারেল আদালত সরকারকে ওই অর্থ আদায় থেকে বিরত রাখার রায় দেন। সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রশাসনের আপিল বিচারাধীন। ফলে হোয়াইট হাউস মেয়াদ বাড়ালেও অর্থ আদায়ের শর্তটি বর্তমানে কার্যকর করা যাচ্ছে না।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও সেকেন্ড লেডি উষা ভ্যান্স। ছবি: সংগৃহীত
আইন স্কুলে জেডির চেয়ে ‘৫০ বিলিয়ন গুণ ভালো’ ছিলেন উষা ভ্যান্স

যুক্তরাষ্ট্রের সেকেন্ড লেডি উষা ভ্যান্স আইন স্কুলে তাঁর স্বামী, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের চেয়ে কেমন ছিলেন? ইয়েল ল স্কুলের শিক্ষক ও সাবেক সহপাঠীদের স্মৃতিচারণ ঘিরে বৃহস্পতিবার প্রকাশিত দ্য ইনডিপেনডেন্টের এক প্রতিবেদনে প্রশ্নটি আবার সামনে এসেছে। প্রতিবেদনে মিশেল ওবামা, হিলারি ক্লিনটন ও মেরিলিন কোয়েলের শিক্ষাজীবনের কথাও তুলে ধরা হয়েছে। তবে এসব তুলনা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের স্মৃতিচারণ ও ব্যক্তিগত মূল্যায়ন, শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো আনুষ্ঠানিক র‍্যাঙ্কিং নয়।   ভ্যানিটি ফেয়ারের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে ইয়েল ল স্কুলের অধ্যাপক অ্যামি চুয়া উষা ও জেডি ভ্যান্সের একসঙ্গে করা একটি মুট কোর্টের কাজের কথা বলেন। সেই নির্দিষ্ট কাজটিতে উষা অনেক ভালো করেছিলেন বলে তাঁর মূল্যায়ন। কথাটি বোঝাতে চুয়া অতিরঞ্জিত ভাষায় ‘৫০ বিলিয়ন গুণ’ এগিয়ে থাকার কথা বলেছিলেন। এটি কোনো নম্বর বা পরিমাপের হিসাব নয়। তাঁদের এক সাবেক সহপাঠীও উষাকে ক্লাসের বিশেষ মেধাবী শিক্ষার্থী হিসেবে স্মরণ করেছেন।   দ্য ইনডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে অন্য তিন দম্পতির ক্ষেত্রেও কাছাকাছি স্মৃতিচারণের কথা এসেছে। ইয়েল ল স্কুলের সাবেক সহপাঠীরা হিলারি ক্লিনটনকে বিল ক্লিনটনের চেয়ে বেশি মনোযোগী শিক্ষার্থী হিসেবে মনে রেখেছেন। হার্ভার্ড ল স্কুলের সাবেক অধ্যাপক চার্লস ওগলট্রি এক সাক্ষাৎকারে মিশেল ওবামার দক্ষতার প্রশংসা করে বারাক ওবামার সঙ্গে তাঁর তুলনা করেছিলেন। মেরিলিন কোয়েলের সহপাঠীরাও আইন স্কুলে তাঁর মেধা ও পরিশ্রমের কথা বলেছেন।   চার নারীর শিক্ষাজীবন নিয়ে এসব মূল্যায়ন তাঁদের পরবর্তী রাজনৈতিক পথের ব্যাখ্যা দেয় না। হিলারি ক্লিনটন নিজে প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন; অন্যদের পথ ছিল ভিন্ন। প্রতিবেদনের মূল আলোচনাটি হলো, পরিচিত রাজনৈতিক নেতাদের স্ত্রী হিসেবে তাঁদের পরিচয়ের পাশাপাশি তাঁদের নিজস্ব মেধা ও অর্জনের কথাও সাবেক সহপাঠী ও শিক্ষকদের স্মৃতিতে রয়ে গেছে।

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ১৪:০
২০২৮-এর প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে শুরু হয়েছে আগাম রাজনৈতিক তৎপরতা
২০২৬ চলছে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে শুরু হয়ে গেছে ২০২৮-এর প্রেসিডেন্ট দৌড়

যুক্তরাষ্ট্রে এখনো ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের সময় আসেনি, কিন্তু এরই মধ্যে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক তৎপরতা দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। সম্ভাব্য ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান প্রার্থীরা এমন সব রাজ্যে সফর করছেন, যেগুলো পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রাথমিক বাছাইয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কেউ নীতিগত অবস্থান তুলে ধরছেন, কেউ ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছেন, আবার কেউ সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছেন।   সাধারণত মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থীরা নিজেদের জাতীয় পরিচিতি বাড়ানোর সুযোগ পান। তারা দলীয় সমর্থকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন, বিভিন্ন ইস্যুতে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক নির্বাচনী রাজ্যগুলোতে রাজনৈতিক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। ফলে ২০২৮ সালের নির্বাচন এখনো অনেক দূরে হলেও সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা ধীরে ধীরে প্রকাশ্যে আসছে।   ডেমোক্র্যাট শিবিরে সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমালা হ্যারিস, নিউইয়র্কের কংগ্রেস সদস্য আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ, জর্জিয়ার সিনেটর জন অসফ, পেনসিলভানিয়ার গভর্নর জশ শাপিরো, কেন্টাকির গভর্নর অ্যান্ডি বেসিয়ার ও ইলিনয়ের গভর্নর জে বি প্রিটজকারসহ বেশ কয়েকজনের নাম আলোচনায় রয়েছে। তবে এদের কেউই এখন পর্যন্ত ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেননি।   ওকাসিও-কর্টেজ সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় রাজনীতিতে নিজের উপস্থিতি আরও জোরালো করেছেন। তিনি ২০২৮ সালে প্রেসিডেন্ট পদে লড়বেন কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাননি। একইভাবে হ্যারিসও এখনো দ্বিতীয়বারের মতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে যাওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। শাপিরো ও বেসিয়ারও জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের পরিচিতি বাড়ানোর মতো বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সক্রিয় রয়েছেন।   রিপাবলিকান শিবিরেও ২০২৮ নিয়ে আলোচনা বাড়ছে। ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একজন হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে তার পাশাপাশি সিনেটর টেড ক্রুজ, সিনেটর র‌্যান্ড পল, ফ্লোরিডার সিনেটর রিক স্কট, টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট এবং ফ্লোরিডার সাবেক গভর্নর রন ডেসান্টিসের নামও আলোচনায় রয়েছে।   ট্রাম্পের পর রিপাবলিকান পার্টির ভবিষ্যৎ কোন পথে যাবে, সেটিও ২০২৮ সালের দৌড়ের একটি বড় প্রশ্ন। দলটি ট্রাম্পের রাজনৈতিক ধারা কতটা ধরে রাখবে এবং সম্ভাব্য প্রার্থীরা তার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার কীভাবে নিজেদের সঙ্গে যুক্ত করবেন—এ নিয়ে এরই মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। ভ্যান্স ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছেন, অন্যদিকে ক্রুজ ও পলসহ কয়েকজন সম্ভাব্য প্রার্থী নিজেদের আলাদা অবস্থানও তুলে ধরছেন।   ডেমোক্র্যাটদের ক্ষেত্রেও বড় প্রশ্ন হলো, দলটি ২০২৮ সালে কোন রাজনৈতিক বার্তা সামনে আনবে। প্রগতিশীল ও মধ্যপন্থী অংশের মধ্যে নীতিগত পার্থক্য রয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অর্থনীতি, স্বাস্থ্যসেবা, অভিবাসন ও ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিসহ বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতে সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে শুরু করেছেন।   তবে ২০২৮ সালের নির্বাচন এখনো অনেক দূরে। ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল, পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং দলীয় প্রাথমিক নির্বাচনের সময় সম্ভাব্য প্রার্থীদের অবস্থান বদলে যেতে পারে। তাই বর্তমানে আলোচনায় থাকা নামগুলোকে চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ১৪:০
মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি ইসরায়েলের স্বার্থের অনুগত হতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েলের কথামতো মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি চলবে না: ট্রাম্পের পক্ষে জেডি ভ্যান্সের মন্তব্য

মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি ইসরায়েলের স্বার্থের অনুগত হতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ৪০ বছরের অন্য যেকোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের তুলনায় ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে মতপার্থক্যে গিয়ে ভিন্ন পথে চলার বেশি ইচ্ছা দেখিয়েছেন।   ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ‘অল-ইন’ পডকাস্টের আয়োজিত এক সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্ক নিয়ে কথা বলেন ভ্যান্স। সেখানে তিনি বলেন, সামরিক প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। তবে দুই দেশের মধ্যে সব বিষয়ে একমত হওয়া সম্ভব নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।   ভ্যান্সের ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প মনে করলে যে মার্কিন জনগণের স্বার্থ এবং ইসরায়েল সরকারের স্বার্থ এক নয়, সে ক্ষেত্রে তিনি নেতানিয়াহুর সঙ্গে ভিন্ন অবস্থান নিতে প্রস্তুত থাকেন। তিনি উদাহরণ হিসেবে বলেন, ট্রাম্প এমন অবস্থান নিতে পারেন যেখানে তিনি নেতানিয়াহুকে ভালো অংশীদার হিসেবে স্বীকার করেও কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে তার সঙ্গে মতপার্থক্য প্রকাশ করেন।   ভ্যান্স আরও বলেন, গত ৪০ বছরের অন্য প্রেসিডেন্টদের তুলনায় ট্রাম্পই নেতানিয়াহুর সঙ্গে প্রয়োজন হলে আলাদা পথে যাওয়ার বিষয়ে বেশি আগ্রহ দেখিয়েছেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, কোনো বিষয়ে ইসরায়েলের অবস্থান সঠিক মনে হলেও মার্কিন জনগণের স্বার্থ ভিন্ন হলে যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের স্বার্থ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে হবে।   ভ্যান্সের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্ককে মার্কিন স্বার্থের ভিত্তিতে পরিচালনা করাই বাস্তবসম্মত পদ্ধতি। তিনি বলেন, কোনো নির্দিষ্ট নীতি যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে কি না, সেই বিষয়টির ওপর গুরুত্ব দিলে মার্কিন জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া সম্ভব।   একই যুক্তি তিনি ন্যাটোর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য বলে উল্লেখ করেন। ভ্যান্স বলেন, ন্যাটোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও অংশীদারিত্ব রয়েছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে ইউরোপবিষয়ক মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি পুরোপুরি ন্যাটোর অনুগত হবে।   তিনি একই প্রসঙ্গে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিও ইসরায়েল রাষ্ট্রের অনুগত হতে দেওয়া যাবে না। প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সহযোগিতা করা এবং মতপার্থক্য থাকলে তা বজায় রাখার কথা বলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের স্বার্থ অনুসরণ করতে হবে।   ভ্যান্সের এই বক্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির আলোচনা চলছে। পডকাস্টের আলোচনায় ভ্যান্সকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য নীতি এবং নেতানিয়াহুর সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্ক নিয়েও প্রশ্ন করা হয়।   আলোচনায় ভ্যান্স ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করলেও একই সঙ্গে দুই দেশের স্বার্থ সব সময় এক হবে না বলে স্পষ্ট করেন। তাঁর বক্তব্যে মার্কিন স্বার্থকে পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণের প্রধান ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়।   ভ্যান্সের বক্তব্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, তিনি ট্রাম্পের অবস্থানকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ইসরায়েলের সঙ্গে মতপার্থক্যের সম্ভাবনার কথা বলেছেন। তবে এটি ভ্যান্সের নিজস্ব ব্যাখ্যা ও রাজনৈতিক বক্তব্য; এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিতে ইসরায়েলবিষয়ক কোনো নতুন আনুষ্ঠানিক নীতি ঘোষণার সঙ্গে এক করে দেখা যায় না।

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ ১৪:০
সরকারি ঋণ জালিয়াতির বিরুদ্ধে অভিযানের ঘোষণা দিচ্ছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ছবি: সংগৃহীত
করোনাকালীন ঋণ জালিয়াতির সন্দেহে ৮ লাখ ৭০ হাজার মানুষকে সরকারি ঋণ থেকে নিষিদ্ধ করল যুক্তরাষ্ট্র

করোনাকালীন সরকারি ঋণ কর্মসূচিতে জালিয়াতির সন্দেহে প্রায় ৮ লাখ ৭০ হাজার ঋণগ্রহীতাকে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ছোট ব্যবসা ও দুর্যোগকালীন ঋণ থেকে নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। সোমবার মিসৌরির কানসাস সিটিতে এ ঘোষণা দেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।   ভ্যান্স বলেন, করদাতাদের অর্থ নিয়ে যারা প্রতারণা করেছে, তাদের আর সরকারি অর্থায়ন পাওয়ার সুযোগ থাকা উচিত নয়। তিনি জানান, সন্দেহভাজন এসব ঋণগ্রহীতাকে ভবিষ্যতে সরকারি সহায়তা-সমর্থিত ঋণ কর্মসূচিতে আবেদন করা থেকে বিরত রাখা হবে।   মার্কিন ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রশাসন বা এসবিএর প্রশাসক কেলি লফলার জানান, নতুন করে স্থগিত করা প্রায় ৮ লাখ ৭০ হাজার ঋণগ্রহীতার সঙ্গে আনুমানিক ৩৯ বিলিয়ন ডলার বা ৩ হাজার ৯০০ কোটি ডলারের সন্দেহভাজন জালিয়াতির যোগসূত্র রয়েছে। এই অর্থ ৪৫টি অঙ্গরাজ্য ও অঞ্চলের সরকারি তহবিলের সঙ্গে সম্পর্কিত। আগের পদক্ষেপগুলোসহ দেশজুড়ে প্রায় ৪৯ বিলিয়ন ডলারের সন্দেহভাজন জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত ঋণগ্রহীতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে এসবিএ।   এসবিএ জানিয়েছে, স্থগিত করা ঋণগ্রহীতারা ভবিষ্যতে সংস্থাটির ছোট ব্যবসা ও দুর্যোগকালীন ঋণ কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারবেন না। পাশাপাশি এসবিএর ৮(এ) ফেডারেল ঠিকাদারি কর্মসূচিসহ কিছু সরকারি সুবিধাও তাদের জন্য বন্ধ থাকবে। সন্দেহভাজন ঋণের অর্থ ফেরত দেওয়ার জন্য চিঠিও পাঠানো হচ্ছে। অর্থ পরিশোধ না করলে বিষয়টি মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের ঋণ আদায় প্রক্রিয়ায় যেতে পারে এবং প্রয়োজন হলে ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার পদক্ষেপও হতে পারে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।   ভ্যান্সের ঘোষণার সঙ্গে একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ করোনাকালীন ঋণ জালিয়াতির বিরুদ্ধে কয়েক মাসের একটি বড় তদন্ত ও মামলা পরিচালনার ফলাফল প্রকাশ করেছে। ১২ জুন থেকে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলা এই অভিযানে ৪০টির বেশি মার্কিন অ্যাটর্নির কার্যালয় এবং ২০টির বেশি ফেডারেল ও অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের তদন্তকারী সংস্থা অংশ নেয়। বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে ১৬০ জনের বেশি আসামিকে ঘিরে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং সম্ভাব্য ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২৪৫ মিলিয়ন ডলার।   এই অভিযানে প্রায় ৮০ জনের বিরুদ্ধে নতুন করে গুরুতর ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব মামলায় সম্ভাব্য ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার। আরও প্রায় ৪৩ জন এসবিএ-সংশ্লিষ্ট করোনাকালীন ঋণ জালিয়াতির মামলায় দোষ স্বীকার করেছেন, যেসব মামলায় সম্ভাব্য ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৪৪ মিলিয়ন ডলার। প্রায় ৪০ জনের সাজাও হয়েছে, যেসব মামলায় সম্ভাব্য ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার।   তদন্তকারীদের নজরে এসেছে বিভিন্ন ধরনের জালিয়াতির অভিযোগ। এর মধ্যে রয়েছে অস্তিত্বহীন ব্যবসা দেখিয়ে ঋণের আবেদন, কর্মী ও বেতন সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য দেওয়া, আয় ও ব্যবসার হিসাব পরিবর্তন করা এবং অন্যের পরিচয় ব্যবহার করে ঋণ নেওয়া।   করোনাভাইরাস মহামারির শুরুতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে টিকিয়ে রাখতে ২০২০ সালে পেচেক প্রোটেকশন প্রোগ্রাম বা পিপিপি চালু করেছিল মার্কিন সরকার। লকডাউন ও ব্যবসায়িক বিধিনিষেধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ছোট ব্যবসাগুলোকে কর্মীদের বেতনসহ নির্দিষ্ট খরচ মেটাতে এই কর্মসূচির মাধ্যমে ঋণ দেওয়া হয়। এসব ঋণের নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে পরে তা মওকুফ করার সুযোগও ছিল।   সরকারি তথ্য অনুযায়ী, পিপিপির আওতায় প্রায় ১ কোটি ১৮ লাখ ঋণ দেওয়া হয়েছিল, যার মোট মূল্য ছিল প্রায় ৮০০ বিলিয়ন ডলার। তবে কর্মসূচি দ্রুত চালু করার কারণে ঋণ অনুমোদনের আগে আবেদনকারীদের যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে বড় ধরনের দুর্বলতা তৈরি হয়। পরবর্তী সময়ে সরকারি নজরদারি সংস্থাগুলো বিপুল পরিমাণ অর্থ জালিয়াতির মাধ্যমে নেওয়ার সম্ভাবনার কথা জানায়।   মার্কিন সরকারের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, পিপিপি এবং করোনাকালীন আরেকটি ঋণ কর্মসূচি, অর্থনৈতিক ক্ষতি দুর্যোগ ঋণ বা ইআইডিএল থেকে বিতরণ করা ২০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থে জালিয়াতির লক্ষণ পাওয়া গেছে। তবে এই পরিমাণকে সরাসরি প্রমাণিত জালিয়াতির অর্থ হিসেবে ধরা যায় না। এটি বিভিন্ন তথ্য, অসঙ্গতি ও জালিয়াতির সম্ভাব্য সংকেতের ভিত্তিতে করা সরকারি হিসাব।   করোনাকালীন ঋণ জালিয়াতির অনেক ঘটনা এত বছর পরও কেন সামনে আসছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ সিবিএস নিউজকে বলেন, আগে যেসব মামলার তদন্ত বা বিচার করার মতো পর্যাপ্ত জনবল ও অর্থ ছিল না, এখন সেসব মামলা হাতে নেওয়ার মতো সক্ষমতা তৈরি হয়েছে। দেশজুড়ে প্রায় ৫০০ প্রসিকিউটর এ ধরনের জালিয়াতির বিরুদ্ধে কাজ করছেন বলেও তিনি জানান।   গত মাসে বিচার বিভাগ জাতীয় জালিয়াতি শনাক্তকরণ কেন্দ্র চালু করেছে। বিভিন্ন সরকারি সংস্থার আলাদা তথ্যভান্ডার থেকে তথ্য নিয়ে সন্দেহজনক লেনদেন ও আবেদন শনাক্ত করাই এর অন্যতম লক্ষ্য। ২০২৫ সালের মার্চে প্রকাশিত মার্কিন সরকারি জবাবদিহি দপ্তরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, করোনাকালীন ঋণ জালিয়াতি নিয়ে করা প্রায় ৩০ লাখ রেফারেলের মধ্যে প্রায় ২০ লাখেই অসম্পূর্ণ, ভুল অথবা পুনরাবৃত্ত তথ্য ছিল। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই তদন্ত এগিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল।   নতুন অভিযানে মিসৌরির একটি মামলাও বিশেষভাবে সামনে এসেছে। সেখানে জেমি গ্রে নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রায় ৫৬ মিলিয়ন ডলারের সম্ভাব্য ক্ষতির সঙ্গে যুক্ত তারের মাধ্যমে প্রতারণা ও অর্থপাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, গ্রে পিপিপি ও ইআইডিএল ঋণের আবেদনে এমন কয়েক ডজন ব্যবসার মালিকানা দাবি করেছিলেন, যেগুলোর বেশির ভাগই সংশ্লিষ্ট সময়সীমার আগে বাস্তবে চালু ছিল না। ব্যবসার মালিকানা, কর্মী, আয় এবং কার্যক্রম সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।   আইওয়াতেও পৃথক একটি মামলায় দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ৪৭টি অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রসিকিউটরদের দাবি, তারা আরও শতাধিক ব্যক্তির সঙ্গে মিলে প্রায় ৪৭০টি ভুয়া পিপিপি আবেদন জমা দিয়েছিলেন। এসব আবেদনের মাধ্যমে ৪ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বেশি ঋণ নেওয়ার চেষ্টা করা হয় এবং প্রায় ২ দশমিক ৪ মিলিয়ন ডলার বিতরণও করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযুক্ত দুই ব্যক্তি বর্তমানে পলাতক বলে জানিয়েছে বিচার বিভাগ। তবে আদালতে দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তদের নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।   মহামারির সময় দ্রুত সহায়তা পৌঁছে দিতে গিয়ে সরকারি ব্যবস্থায় যে দুর্বলতা তৈরি হয়েছিল, নতুন অভিযান সেই পুরোনো প্রশ্নও সামনে এনেছে। সরকারি জবাবদিহি দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, পিপিপির বিস্তৃত স্বয়ংক্রিয় যাচাই ও পর্যালোচনা ব্যবস্থা ২০২১ সালের জানুয়ারিতে কার্যকর করা হয়। তখন পর্যন্ত ৫২৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি পিপিপি ঋণ অনুমোদিত হয়ে গিয়েছিল।   তদন্তের সময়সীমাও বাড়ানো হয়েছে। কংগ্রেস করোনাকালীন পিপিপি ও সংশ্লিষ্ট সরকারি ঋণ কর্মসূচির সম্ভাব্য জালিয়াতির তদন্ত ও মামলা করার আইনি সময়সীমা ১০ বছর পর্যন্ত বাড়িয়েছে। ফলে কিছু ক্ষেত্রে ২০৩০ বা ২০৩১ সাল পর্যন্ত নতুন মামলা সামনে আসার সুযোগ রয়েছে।   ট্রাম্প প্রশাসন সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি অর্থের অপচয় ও জালিয়াতি বন্ধের ওপর জোর দিচ্ছে। চলতি বছর বিচার বিভাগ জাতীয় জালিয়াতি দমন বিভাগ গঠন করেছে। পাশাপাশি ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সের নেতৃত্বে সরকারি অর্থের অপচয়, অপব্যবহার ও জালিয়াতি শনাক্তে একটি আন্তঃসরকারি টাস্কফোর্সও কাজ করছে।   বিচার বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, করোনাকালীন সহায়তা কর্মসূচির উদ্দেশ্য ছিল সংকটে থাকা ব্যবসাগুলোকে টিকিয়ে রাখা। এখন তদন্তকারীদের লক্ষ্য হলো যেসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সেই অর্থের অপব্যবহার করেছে বলে সন্দেহ রয়েছে, তাদের শনাক্ত করা এবং সম্ভব হলে সরকারি অর্থ ফেরত আনা।   সূত্র: সিবিএস নিউজ, যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ।  

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ ১৪:০
ডেমোক্র্যাটিক সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদ ও যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স
ভ্যান্সের কড়া আক্রমণ, আবদুল এল-সায়েদকে বললেন ‘আমার স্ত্রীর নাম মুখে আনবেন না’

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স মিশিগানের ডেমোক্র্যাটিক সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেছেন। সোমবার ডেট্রয়েটের একটি উপশহরে নির্বাচনী সমাবেশে এল-সায়েদকে ‘অত্যন্ত খারাপ’ বা ‘ভেরি এভিল’ বলে আখ্যা দেন ভ্যান্স।   ভ্যান্সের সবচেয়ে কড়া মন্তব্য আসে তার স্ত্রী উষা ভ্যান্সকে ঘিরে এল-সায়েদের বক্তব্যের প্রসঙ্গে। এল-সায়েদ ভ্যান্সের প্রয়াত দাদার দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন, বিশেষ করে ভারতীয় বংশোদ্ভূত হিন্দু উষাকে বিয়ে করার বিষয়টি নিয়ে।   এর জবাবে ভ্যান্স বলেন, ‘আবদুল, আমার স্ত্রীর নাম মুখে আনার আগে সাবধান হও।’ এরপর আরও কড়া ভাষায় তিনি বলেন, উষা তার ‘ধারেকাছেও নেই’।   ভ্যান্স অভিযোগ করেন, মুসলিম প্রার্থী এল-সায়েদ নিজের ধর্মের মানুষের প্রতি সহানুভূতিশীল হলেও অন্য ধর্মের মানুষের প্রতি তার সেই সহানুভূতি নেই। তিনি এল-সায়েদের বিরুদ্ধে শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ব, শরিয়াহ আইন এবং ইহুদি সম্প্রদায়কে ঘিরে বিভিন্ন বক্তব্যের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন।   এল-সায়েদের প্রচারণার সঙ্গে রাজনৈতিক ধারাভাষ্যকার হাসান পিকার ঘনিষ্ঠতারও সমালোচনা করেন ভ্যান্স। পিকার ২০১৯ সালের এক লাইভস্ট্রিমে যুক্তরাষ্ট্র ‘৯/১১ হামলার প্রাপ্য ছিল’—এমন মন্তব্য করেছিলেন বলে ভ্যান্স উল্লেখ করেন। এল-সায়েদ পিকারের ওই মন্তব্যের নিন্দা বা তাকে প্রত্যাখ্যান করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন বলেও ভ্যান্স দাবি করেন।   ভ্যান্স বলেন, এল-সায়েদ ও পিকারের রাজনীতি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অভিন্ন স্বার্থের পরিবর্তে একটি গোষ্ঠীর স্বার্থকে অন্য গোষ্ঠীর ওপর প্রাধান্য দেওয়ার দিকে যাচ্ছে।   তবে ভ্যান্সের বক্তব্যের জবাবে এল-সায়েদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পাল্টা মন্তব্য করেন। তিনি ভ্যান্সের ‘আমরা বনাম তারা’ ধরনের রাজনীতির সমালোচনাকে নিজের রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, তিনি মূলত শ্রমজীবী মানুষ বনাম বিলিয়নিয়ার এবং মিশিগান বনাম ওহাইও নিয়ে একই ধরনের বিভাজনের কথা ভাবেন।   এর আগে সোমবার ভ্যান্সের মিশিগান সফর নিয়েও কটাক্ষ করেন এল-সায়েদ। তিনি ওহাইওর বাসিন্দা ভ্যান্সকে মিশিগানে আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়টি নিয়ে ব্যঙ্গ করে বলেন, ‘মিশিগানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতে ওহাইওর জেডি ভ্যান্সের চেয়ে ভালো আর কাকে পাওয়া যায়?’   ভ্যান্স ওই সমাবেশে মিশিগানের সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ও সাবেক কংগ্রেসম্যান মাইক রজার্সকে সমর্থনের আহ্বান জানান।

বায়জিদ হাসান আগস্ট ৩১, ২০২৬ ১৪:০
বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও জেডি ভ্যান্স
ইসরায়েল নিয়ে সমালোচনার ব্যাখ্যা চাইতে ভ্যান্সের সঙ্গে বৈঠকে নেতানিয়াহু

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সাম্প্রতিক ইসরায়েল-বিষয়ক সমালোচনা নিয়ে ওয়াশিংটনে একান্ত বৈঠকে আলোচনা করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় মঙ্গলবার ব্লেয়ার হাউসে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিষয়টি সরাসরি উত্থাপন করেন তিনি বলে জানিয়েছে অ্যাক্সিওস।   অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে ইসরায়েলি ও মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বলা হয়, বৈঠকে ভ্যান্সের সাম্প্রতিক প্রকাশ্য মন্তব্য নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়। এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা এটিকে “স্পষ্ট ও খোলামেলা” আলোচনা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, আলোচনা সরাসরি হলেও সেটি কোনোভাবেই সংঘাতপূর্ণ ছিল না।   এক মার্কিন কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে জানান, বৈঠকে দুই নেতা ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের অভিন্ন স্বার্থ ও লক্ষ্য অর্জনে পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে একমত হন। তার ভাষায়, বৈঠকটি ছিল সৌহার্দ্যপূর্ণ ও ফলপ্রসূ।   মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যে তুলনামূলক সংযত অবস্থানের অন্যতম প্রবক্তা হিসেবে সম্প্রতি আলোচনায় আসেন জেডি ভ্যান্স। জুন মাসে তিনি ইরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার বিরোধিতা করা কিছু ইসরায়েলি কর্মকর্তার সমালোচনা করে বলেন, তিনি ইসরায়েল সরকারের সদস্য হলে দেশটির “একমাত্র শক্তিশালী মিত্র” যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এমন অবস্থান নিতেন না।   চলতি মাসের শুরুতে জনপ্রিয় পডকাস্ট দ্য জো রোগান এক্সপেরিয়েন্স-এ ভ্যান্স আরও বলেন, ইসরায়েলের কিছু নেতা যুক্তরাষ্ট্রকে কূটনৈতিক পথ থেকে সরে এসে তেহরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নিতে উৎসাহিত করেছিলেন।   এর আগে বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে দাবি করা হয়, চলতি বছরের শুরুতে ইরানকে ঘিরে টেলিফোনে নেতানিয়াহু ও ভ্যান্সের মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ আলোচনা হয়েছিল। সে সময় ভ্যান্স নাকি ইসরায়েলের সেই মূল্যায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন, যেখানে বলা হয়েছিল ইরান দ্রুত নতি স্বীকার করবে।   তবে মতপার্থক্য থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্ককে শক্তিশালী বলেই উল্লেখ করে আসছেন ভ্যান্স। গত মাসে সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “নেতানিয়াহু অবশ্যই কিছু বিষয়ে ভুল করেছেন, কিন্তু তিনি এখনো একজন ভালো অংশীদার। আমরা একসঙ্গে কাজ চালিয়ে যাব। তবে যেখানে দুই দেশের স্বার্থ ভিন্ন হবে, সেখানে যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের জাতীয় স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দেবে।”   হোয়াইট হাউস ও ইসরায়েল সরকার এখন পর্যন্ত মঙ্গলবারের ওই বৈঠকের বিস্তারিত বিষয়বস্তু নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি। প্রথমে এ তথ্য প্রকাশ করে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস।

বায়জিদ হাসান আগস্ট ৫, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের গোপন ভ্রমণ তথ্য সংবাদমাধ্যমে
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের গোপন ভ্রমণ তথ্য সংবাদমাধ্যমে, তদন্তে সিক্রেট সার্ভিস

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের ভ্রমণ ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য সংবাদমাধ্যমে ফাঁস হওয়ার অভিযোগে তার নিরাপত্তা দলের এক সদস্যের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে ইউএস সিক্রেট সার্ভিস। অভিযুক্ত এজেন্টকে প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে সম্ভাব্য ফৌজদারি তদন্তও চলছে।   বৃহস্পতিবার সিক্রেট সার্ভিসের মুখপাত্র অ্যান্থনি গুগলিয়েলমি এক বিবৃতিতে জানান, ভাইস প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা দলের এক সদস্যের বিরুদ্ধে অপারেশনাল ও তথ্যগত নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার অভিযোগ উঠেছে। এ কারণে তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক তদন্তের পাশাপাশি সম্ভাব্য ফৌজদারি তদন্তও চলছে। তবে তদন্তের স্বার্থে অভিযোগের বিস্তারিত বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।    এজেন্সির ভাষ্য অনুযায়ী, যেকোনো ধরনের আচরণ যা নিরাপত্তা প্রাপ্ত ব্যক্তি এবং তার নিরাপত্তা দলের মধ্যে আস্থা নষ্ট করে বা নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করে, তা তাদের নীতির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং এ ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।    মার্কিন সংবাদমাধ্যম এমএস নাউয়ের একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের পর এই তদন্ত শুরু হয়। ওই প্রতিবেদনে বেনামী সূত্রের বরাতে দাবি করা হয়, ভ্যান্সের নিরাপত্তা দলের কিছু সদস্য তার শেষ মুহূর্তের ভ্রমণসূচি পরিবর্তন এবং পারিবারিক সফর নিয়ে অসন্তুষ্ট ছিলেন। প্রতিবেদনে তার নির্ধারিত কিছু ভ্রমণ পরিকল্পনার বিবরণও প্রকাশ করা হয়, যা সিক্রেট সার্ভিসের নজরে আসে।    সিএনএনের তথ্য অনুযায়ী, তদন্তাধীন এজেন্টের বিরুদ্ধে অভিযোগ হলো তিনি এমন একটি সংবাদ প্রতিবেদনের জন্য তথ্য সরবরাহ করেছিলেন, যেখানে ভাইস প্রেসিডেন্টের ভ্রমণ পরিকল্পনার সংবেদনশীল বিবরণ প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে ভ্যান্সের এক সফরের পরিকল্পনাসহ কয়েকটি অপারেশনাল তথ্যও উঠে আসে, যা নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।    এ ঘটনায় ভ্যান্সের কার্যালয় কোনো পৃথক মন্তব্য করেনি। তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি সিক্রেট সার্ভিসই দেখছে এবং এ বিষয়ে সংস্থাটিই বক্তব্য দেবে।    যুক্তরাষ্ট্রে ভাইস প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ভ্রমণসূচি, চলাচলের পরিকল্পনা এবং অপারেশনাল তথ্য অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে বিবেচিত হয়। এসব তথ্য অননুমোদিতভাবে প্রকাশ পেলে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। সে কারণেই অভিযোগটি শুধু প্রশাসনিক পর্যায়ে নয়, সম্ভাব্য ফৌজদারি তদন্তের আওতায়ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ২৩, ২০২৬ ১৪:০
কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
স্ত্রী উষা ভ্যান্স ভারতীয় অভিবাসী পরিবারের সন্তান, অথচ অভিবাসন নিয়ে কড়া অবস্থানে জেডি ভ্যান্স

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের তীব্র সমালোচনা করে অভিযোগ করেছেন যে, তিনি আমেরিকায় 'রক্ত ও মাটি' (Blood and Soil) ভিত্তিক উগ্র ও বিভক্তকারী রাজনীতি ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। লেখক ম্যালকম গ্ল্যাডওয়েলের সঙ্গে আমেরিকার 'পুনর্গঠন যুগ' (Reconstruction era) ও সমসাময়িক রাজনীতি নিয়ে এক আলোচনাকালে ওবামা এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন।   ওবামা দাবি করেন, আমেরিকার প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের একটি (রিপাবলিকান পার্টি) এখন এমন এক রাজনীতির দখলে চলে গেছে, যা মূলত নির্দিষ্ট এক গোষ্ঠীর মানুষকে 'আমেরিকান' হিসেবে তুলে ধরতে চায়।   আলোচনায় ওবামা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জেডি ভ্যান্স নিজে একজন ভারতীয় অভিবাসীর সন্তানকে (উষা ভ্যান্স) বিয়ে করা সত্ত্বেও তার বক্তব্যে 'আমেরিকার আসল নাগরিক কে' তা নির্ধারণে বংশপরিচয় ও পরিবার কত দিন ধরে দেশে রয়েছে—এসব উগ্র বিষয়কে প্রাধান্য দিচ্ছেন।   দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসি জার্মানি এবং পরবর্তীতে শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদীদের ব্যবহৃত 'রক্ত ও মাটি' স্লোগানের সঙ্গে ভ্যান্সের বক্তব্যের তুলনা টেনে ওবামা বলেন, এ ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি সমাজে কার অধিকার আছে এবং কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার মালিক—সেসব নিয়ে বিপজ্জনক প্রশ্ন তোলে। আলোচনায় গ্ল্যাডওয়েল ভ্যান্সের এই অবস্থানকে চরম 'ভণ্ডামি' বলে আখ্যা দিলে ওবামা তার সঙ্গে নীতিগতভাবে একমত পোষণ করেন।   উল্লেখ্য, সম্প্রতি গত ৪ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা বার্ষিকীতে দেওয়া এক ভাষণে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স আমেরিকানদের বিভাজনের রাজনীতি থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছিলেন। সেখানে তিনি বলেছিলেন, আমেরিকার ইতিহাস ভুলত্রুটির চেয়েও বড় এক মহান সভ্যতা গড়ে তোলার ইতিহাস এবং সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তবে ওবামা দীর্ঘদিন ধরেই ভ্যান্সের রাজনৈতিক দর্শনের সমালোচনা করে আসছেন এবং তাকে অনভিজ্ঞ ও দেশ বিভাজনকারী নেতা হিসেবে চিহ্নিত করে যুক্তরাষ্ট্রের মূল কাঠামোর প্রতি হুমকি বলে সতর্ক করে দিচ্ছেন।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ২১, ২০২৬ ১৪:০
চতুর্থ সন্তানের জন্মের খবর জানালেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও উষা ভ্যান্স। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের ঘরে এলো চতুর্থ সন্তান

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও সেকেন্ড লেডি উষা ভ্যান্স তাঁদের চতুর্থ সন্তানের জন্মের সুখবর জানিয়েছেন। রোববার সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক যৌথ বার্তায় তারা জানান, তাঁদের নবজাতক পুত্রের নাম রাখা হয়েছে অ্যালেক নিল ভ্যান্স। মা ও নবজাতক দুজনই সুস্থ আছেন এবং পরিবারের অন্য তিন সন্তানও নতুন ভাইকে পেয়ে দারুণ আনন্দিত।    জেডি ভ্যান্স জানান, ওয়াল্টার রিড ন্যাশনাল মিলিটারি মেডিকেল সেন্টার এবং হোয়াইট হাউস মেডিকেল ইউনিটের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রতি তাঁদের পরিবার গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। তাঁদের যত্ন ও সহযোগিতার জন্য তিনি বিশেষ ধন্যবাদ জানান।    অ্যালেক নিল ভ্যান্স দম্পতির তৃতীয় ছেলে। এর আগে তাঁদের দুই ছেলে ইওয়ান ও বিবেক এবং এক মেয়ে মিরাবেল রয়েছে। জেডি ও উষা ভ্যান্স ২০১৪ সালে বিয়ে করেন। ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিষয়ে পড়াশোনার সময় তাঁদের পরিচয় হয়। পরবর্তীতে উষা ভ্যান্স সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস এবং তৎকালীন আপিল আদালতের বিচারক ব্রেট কাভানার ক্লার্ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।   এই জন্মটি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ইতিহাসেও একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। ১৫০ বছরেরও বেশি সময় পর দায়িত্বে থাকা কোনো মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের পরিবারে সন্তান জন্মের ঘটনা ঘটল। সর্বশেষ এমন ঘটনা ঘটেছিল ১৮৭০ সালে তৎকালীন ভাইস প্রেসিডেন্ট স্কাইলার কোলফ্যাক্স দায়িত্বে থাকাকালে।    চলতি বছরের জানুয়ারিতে জেডি ও উষা ভ্যান্স তাঁদের চতুর্থ সন্তানের অপেক্ষায় থাকার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তখনই তাঁরা জানিয়েছিলেন, তাঁদের পরিবারে একটি পুত্রসন্তান আসছে। সেই ঘোষণার প্রায় ছয় মাস পর নতুন সদস্যকে স্বাগত জানালেন তারা।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১৯, ২০২৬ ১৪:০
অভিবাসীর কন্যাকে বিয়ে করে অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কথা?’ জেডি ভ্যান্সকে ওবামার প্রশ্ন
অভিবাসীর কন্যাকে বিয়ে করে অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কথা?’ জেডি ভ্যান্সকে ওবামার প্রশ্ন

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের অভিবাসনবিষয়ক বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন। লেখক ও সাংবাদিক ম্যালকম গ্ল্যাডওয়েলের সঙ্গে এক আলোচনায় তিনি বলেন, একজন মানুষের আমেরিকান পরিচয়কে তার বাবা-মায়ের জন্মস্থান বা পারিবারিক শিকড় দিয়ে বিচার করার বক্তব্যের সঙ্গে ভ্যান্সের ব্যক্তিগত জীবনের একটি স্পষ্ট সাংঘর্ষিক দিক রয়েছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে এই মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।    ওবামা বলেন, বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট এমন একটি ধারণা তুলে ধরছেন, যা মূলত ‘We the People’-এর একটি ‘blood-and-soil’ বা বংশপরিচয়ভিত্তিক সংস্করণ। তার ভাষায়, সেখানে একজন মানুষের বাবা-মা কে এবং তারা কতদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে আছেন—এসব বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অথচ ভ্যান্স নিজেই একজন অভিবাসী পরিবারের কন্যাকে বিয়ে করেছেন।    ওবামার এই মন্তব্যের ইঙ্গিত ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সেকেন্ড লেডি উষা ভ্যান্সকে ঘিরে। উষা ভ্যান্স যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করলেও তার বাবা-মা ভারত থেকে অভিবাসন করেছিলেন। জেডি ও উষা ভ্যান্সের তিন সন্তান রয়েছে এবং তারা তাদের চতুর্থ সন্তানের অপেক্ষায় রয়েছেন।    আলোচনায় ম্যালকম গ্ল্যাডওয়েল বলেন, এক শতাব্দী আগে অভিবাসীবিরোধী অবস্থান নেওয়া কোনো শীর্ষ রাজনীতিকের পক্ষে অভিবাসী পরিবারের সদস্যকে বিয়ে করা প্রায় অকল্পনীয় ছিল। এর জবাবে ওবামা বলেন, “Hypocrisy is progress” বা “ভণ্ডামিও এক ধরনের অগ্রগতি।” তার ব্যাখ্যায়, অন্তত তখন মানুষ বুঝতে পারে যে তার অবস্থানের সঙ্গে বাস্তবতার একটি অসঙ্গতি রয়েছে এবং সেটিই পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি করে।    সাম্প্রতিক সময়ে জেডি ভ্যান্স জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব (Birthright Citizenship) নিয়ে কড়া অবস্থান নিয়েছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রকে কেবল একটি ধারণা নয়, বরং নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর একটি জাতি হিসেবে তুলে ধরার পক্ষে বক্তব্য দিয়েছেন। এসব অবস্থানকে ঘিরেই ওবামা তার সমালোচনা করেন।    ওবামা আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের শক্তি তার বহুত্ববাদে। বিভিন্ন দেশ, সংস্কৃতি ও অভিবাসী পটভূমি থেকে আসা মানুষ একসঙ্গে আমেরিকান পরিচয় গড়ে তুলেছেন। তার মতে, নাগরিকত্ব বা জাতীয় পরিচয়কে বংশপরিচয়ের ভিত্তিতে সীমাবদ্ধ করার চেষ্টা যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের অন্তর্ভুক্তিমূলক আদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ১৯, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: পডকাস্টে বাইডেনকে নিয়ে মন্তব্য, সমালোচনার মুখে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স
জো বাইডেনের আইসক্রিম খাওয়া নিয়ে জেডি ভ্যানসের মন্তব্যে সামাজিক মাধ্যমে তুমুল বিতর্ক

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে নিয়ে করা এক মন্তব্যের জেরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার মুখে পড়েছেন।   সম্প্রতি সম্প্রচারিত জনপ্রিয় পডকাস্ট ‘দ্য জো রগান এক্সপেরিয়েন্স’-এ অংশ নিয়ে ভ্যান্স বাইডেন প্রশাসনের সাবেক কর্মীদের সমালোচনা করতে গিয়ে বলেন, তার মতে বাইডেনকে এমনভাবে আইসক্রিম খেতে দেখানো হতো, যা ছিল “সবচেয়ে অদ্ভুত ও ইঙ্গিতপূর্ণ” উপস্থাপনা। তিনি বলেন, “আমি যেটা বুঝতে পারিনি, সেটা হলো খারাপ স্টাফ ওয়ার্ক। তারা তাকে এমনভাবে আইসক্রিম খাওয়াত, যা ছিল কল্পনা করা যায় এমন সবচেয়ে অদ্ভুত ও ইঙ্গিতপূর্ণ।”    ভ্যান্সের এ মন্তব্যের পর পডকাস্টের সঞ্চালক জো রগান বলেন, তিনি আগে বিষয়টি সেভাবে খেয়ালই করেননি এবং এটিকে “খারাপ অপটিকস” বা জনসমক্ষে উপস্থাপনার দুর্বল উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।    মন্তব্যটির ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অনেক ব্যবহারকারী ভ্যান্সকে ব্যঙ্গ করে মন্তব্য করেন যে, একটি সাধারণ আইসক্রিম খাওয়ার দৃশ্যকে তিনি অপ্রয়োজনীয়ভাবে “ইঙ্গিতপূর্ণ” হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। এ নিয়ে অসংখ্য মিম ও সমালোচনামূলক পোস্টও প্রকাশিত হয়।    তবে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু পোস্টে দাবি করা হয়, ভ্যান্স নাকি বাইডেনের আইসক্রিম খাওয়াকে “যৌনতার সঙ্গে” যুক্ত করেছেন। কিন্তু পডকাস্টের সম্পূর্ণ সাক্ষাৎকারে তিনি এমন কোনো বক্তব্য দেননি। তিনি “suggestive” বা “ইঙ্গিতপূর্ণ” শব্দটি ব্যবহার করলেও সরাসরি যৌনতা বা “sex” শব্দের উল্লেখ করেননি। ফলে এ ধরনের দাবিকে তার বক্তব্যের ব্যাখ্যা বা রাজনৈতিক সমালোচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে, সরাসরি উদ্ধৃতি হিসেবে নয়।    প্রায় তিন ঘণ্টার ওই সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি, জেফ্রি এপস্টেইন–সংক্রান্ত নথি প্রকাশ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের যোগাযোগ কৌশল এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বিষয়েও কথা বলেন। তবে নীতিগত আলোচনার চেয়ে বাইডেনের আইসক্রিম খাওয়া নিয়ে তার মন্তব্যই সামাজিক মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ১৬, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

২০২৭ সালের ডাইভারসিটি ভিসা লটারি চালুর নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালত। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৭ সালের ডিভি লটারি চালুর নির্দেশ, ১ নভেম্বরের মধ্যে নিবন্ধন শুরু

অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ১৪:০