যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের কুইন্সে অবৈধ ‘স্ট্রিট টেকওভার’ ঘিরে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার ভোররাত প্রায় দুইটার দিকে মাসপেথ এলাকার ৬৯ স্ট্রিট ও এলিয়ট অ্যাভিনিউয়ের সংযোগস্থলে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা যায়, দুটি গ্যাস স্টেশনের মাঝামাঝি ওই মোড়ে ডজন ডজন গাড়ি জড়ো হয়ে রাস্তার মাঝখানে আগুন জ্বালিয়ে তার চারপাশে বেপরোয়া ড্রাইভিং শুরু করে। আগুনের রিং ঘিরে গাড়িগুলো ‘ডোনাট’ করতে থাকে এবং শত শত মানুষ ভিড় করে উল্লাস করে।
নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ জানায়, ঘটনাস্থলে পৌঁছে তারা একটি নীল রঙের গাড়িকে বৃত্তাকারে বেপরোয়াভাবে ঘুরতে দেখেন। এছাড়া একটি রুপালি রঙের বিএমডব্লিউ এক্সথ্রি এবং একটি সাদা বিএমডব্লিউ গাড়িও সেখানে ছিল।
পুলিশ ভিড় ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় দুইজন ব্যক্তি একটি চিহ্নিত পুলিশ গাড়ির বনেটে লাফিয়ে উঠে ভাঙচুর চালায়। এতে গাড়িটির উইন্ডশিল্ড ফেটে যায় এবং বনেট ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে সন্দেহভাজনরা একটি কালো নিসান গাড়িতে করে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে আটজন সন্দেহভাজনের ছবি প্রকাশ করে জনসাধারণের সহায়তা চেয়েছে পুলিশ। এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা করছেন। একজন বাসিন্দা বলেন, পুলিশের প্রতি সম্মান কমে যাচ্ছে এবং আইনশৃঙ্খলার প্রতি মানুষের শ্রদ্ধাবোধ দুর্বল হয়ে পড়ছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিউইয়র্কে এ ধরনের স্ট্রিট টেকওভারের ঘটনা বেড়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে রাতের বেলায় বাণিজ্যিক এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থলগুলোতে এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করছে।
উল্লেখ্য, ঘটনাস্থলটি কুইন্সের বাংলাদেশি অধ্যুষিত জ্যাকসন হাইটস ও উডসাইড এলাকার কাছাকাছি হওয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যেও এ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না। নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার। তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।
নিউইয়র্ক: নিউইয়র্ক স্টেটের আসন্ন ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারী নির্বাচনকে সামনে রেখে ব্রঙ্কসের ডিস্ট্রিক্ট ৮৭ থেকে এসেম্বলিম্যান পদপ্রার্থী জাকির চৌধুরী, সিপিএ’র উদ্যোগে এক কমিউনিটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় স্থানীয় বাসিন্দা, কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী, তরুণ প্রজন্ম এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বুধবার (৪ জুন) ব্রঙ্কসের গোল্ডেন প্যালেসে অনুষ্ঠিত এ সভার আয়োজন করে ‘জাকির ফর দ্য ব্রঙ্কস’ নির্বাচন পরিচালনা কমিটি। নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে আয়োজিত এ সভায় ডিস্ট্রিক্ট ৮৭-এর বিভিন্ন সমস্যা, কমিউনিটির চাহিদা এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে জাকির চৌধুরী বলেন, ব্রঙ্কসের বহুজাতিক ও বহুসাংস্কৃতিক জনগোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা এবং সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করাই তার মূল লক্ষ্য। তিনি শিক্ষা, জননিরাপত্তা, সাশ্রয়ী আবাসন, ক্ষুদ্র ব্যবসার উন্নয়ন এবং অভিবাসী কমিউনিটির অধিকার নিয়ে তার অগ্রাধিকারমূলক পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “ডিস্ট্রিক্ট ৮৭-এর মানুষ এমন একজন প্রতিনিধিত্ব চান, যিনি কমিউনিটির বাস্তব সমস্যা বোঝেন এবং সেগুলো সমাধানে কার্যকরভাবে কাজ করতে পারবেন। আমি সেই লক্ষ্য নিয়েই নির্বাচনে অংশ নিয়েছি।” অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তারা জাকির চৌধুরীর দীর্ঘদিনের কমিউনিটি সম্পৃক্ততা, পেশাগত অভিজ্ঞতা এবং জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচিত হলে তিনি ব্রঙ্কসের বাসিন্দাদের স্বার্থ রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করবেন। সভায় ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়ানো, তরুণ ভোটারদের সম্পৃক্ত করা এবং নির্বাচনী প্রচারণা আরও জোরদার করার বিষয়েও আলোচনা হয়। আয়োজকরা জানান, প্রাইমারী নির্বাচন পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিকভাবে কমিউনিটি সভা, গণসংযোগ এবং প্রচার কার্যক্রম চালানো হবে। উল্লেখ্য, নিউইয়র্ক স্টেটের ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারী নির্বাচনের আগাম ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১৩ থেকে ২১ জুন পর্যন্ত। আর মূল প্রাইমারী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ২৩ জুন ২০২৬।
যুক্তরাষ্ট্রে স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণের পরিকল্পনা করা বাংলাদেশিদের জন্য নতুন আর্থিক শর্ত যুক্ত হয়েছে। মার্কিন সরকারের ভিসা বন্ড কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশসহ ৩৮টি দেশের নাগরিকদের ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ফেরতযোগ্য আর্থিক জামানত বা ‘ভিসা বন্ড’ জমা দিতে হতে পারে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থান বা ওভারস্টে কমানো। নতুন এই নীতির ফলে পর্যটন, ব্যবসা কিংবা অন্যান্য স্বল্পমেয়াদি সফরে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে আগ্রহী বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া আরও ব্যয়বহুল ও কঠোর হতে পারে। কী এই ভিসা বন্ড? ভিসা বন্ড হলো এক ধরনের ফেরতযোগ্য আর্থিক জামানত, যা নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকদের কাছ থেকে অস্থায়ী ভিসা দেওয়ার আগে নেওয়া হতে পারে। এর উদ্দেশ্য হলো ভিসাধারীরা যেন ভিসার শর্ত মেনে চলেন এবং অনুমোদিত সময় শেষ হলে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেন। প্রতিবছর যুক্তরাষ্ট্র বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী, পর্যটক ও ব্যবসায়িক ভ্রমণকারীদের নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা দিয়ে থাকে। এর মধ্যে বি-১ (ব্যবসা) ও বি-২ (পর্যটন) ভিসা অন্যতম। এসব ভিসার মেয়াদ কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত হতে পারে। তবে অনুমোদিত সময় শেষ হওয়ার পরও কেউ যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করলে তা ‘ভিসা ওভারস্টে’ হিসেবে বিবেচিত হয়, যা দেশটির অভিবাসন আইনের লঙ্ঘন। নতুন নিয়মে কী বলা হয়েছে? মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ঘোষিত নীতিমালা অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকদের বি-১ ও বি-২ ভিসার ক্ষেত্রে ৫ হাজার, ১০ হাজার অথবা ১৫ হাজার ডলারের মধ্যে একটি বন্ড জমা দিতে হতে পারে। আবেদনকারী বিশ্বের যে দেশ থেকেই আবেদন করুন না কেন, এই নিয়ম তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। ভিসা সাক্ষাৎকারের সময় কনস্যুলার কর্মকর্তা আবেদনকারীর ভ্রমণের উদ্দেশ্য, চাকরি, আয়, শিক্ষাগত যোগ্যতা, দক্ষতা ও ব্যক্তিগত পরিস্থিতি বিবেচনা করে বন্ডের পরিমাণ নির্ধারণ করবেন। বন্ড জমা দেওয়ার জন্য আবেদনকারীকে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম Pay.gov-এর মাধ্যমে সম্মতি জানাতে হবে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের আই-৩৫২ ফরমও পূরণ করতে হবে। ভিসাধারী যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেন এবং ভিসার সব শর্ত মেনে চলেন, তাহলে জমা দেওয়া অর্থ ফেরত পাওয়া যাবে। নির্দিষ্ট বিমানবন্দর ব্যবহার বাধ্যতামূলক পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এই কর্মসূচির আওতায় ভিসা পাওয়া ব্যক্তিদের নির্দিষ্ট কয়েকটি বিমানবন্দর দিয়েই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ও দেশত্যাগ করতে হবে। এসব বিমানবন্দর হলো বোস্টন লোগান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (জেএফকে) এবং ওয়াশিংটন ডুলাস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। কেন চালু করা হচ্ছে এই নীতি? মার্কিন প্রশাসনের দাবি, যেসব দেশের নাগরিকদের মধ্যে ভিসা ওভারস্টের হার তুলনামূলক বেশি, মূলত সেসব দেশকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাধারী অনুমোদিত সময় পার হওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেন। মার্কিন কর্তৃপক্ষের ধারণা, ভিসা বন্ড চালু হলে ওভারস্টের হার কমবে এবং ভিসা ব্যবস্থাপনায় আরও শৃঙ্খলা আসবে। এটি ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ জোরদারের বৃহত্তর নীতির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কোন দেশগুলো প্রভাবিত হবে? সাম্প্রতিক ঘোষণায় মোট ৩৮টি দেশকে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ, ভুটান ও নেপাল। এছাড়া আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার বেশ কয়েকটি দেশও তালিকাভুক্ত হয়েছে। তবে কানাডা, মেক্সিকো এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা ওয়েভার প্রোগ্রামে অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকরা এই নিয়মের বাইরে থাকবেন। ছাড় পাওয়ার সুযোগ আছে কি? মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, সীমিত কিছু ক্ষেত্রে ভিসা বন্ড মওকুফ করা হতে পারে। যেমন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সরকারি কাজে ভ্রমণ বা জরুরি মানবিক প্রয়োজনের ক্ষেত্রে। তবে সাধারণ পর্যটক বা ব্যবসায়িক ভ্রমণকারীদের জন্য এ ধরনের ছাড় পাওয়ার সম্ভাবনা সীমিত। আগে কি এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল? ভিসা বন্ডের ধারণা নতুন নয়। নিউজিল্যান্ড একসময় ওভারস্টে নিয়ন্ত্রণে এ ব্যবস্থা চালু করেছিল, যদিও পরে তা বাতিল করা হয়। ২০১৩ সালে যুক্তরাজ্যও কিছু উচ্চ ঝুঁকির দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা বন্ড চালুর পরিকল্পনা করেছিল, তবে সেটি বাস্তবায়িত হয়নি। এ ছাড়া ট্রাম্প প্রশাসনের প্রথম মেয়াদে ২০২০ সালেও যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা বন্ড কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে করোনা মহামারির কারণে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ কমে যাওয়ায় পরিকল্পনাটি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করা হয়নি। বাংলাদেশিদের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব বাংলাদেশ এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণের পরিকল্পনা করা অনেক পর্যটক ও ব্যবসায়িক ভ্রমণকারীর জন্য অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হতে পারে। সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলারের বন্ড বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৮ লাখ টাকার বেশি হওয়ায় এটি অনেক আবেদনকারীর জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। তবে এই অর্থ ফেরতযোগ্য হওয়ায় যারা ভিসার শর্ত মেনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করবেন, তারা বন্ডের অর্থ ফেরত পাবেন। ফলে এটিকে স্থায়ী ব্যয় হিসেবে নয়, অস্থায়ী আর্থিক নিশ্চয়তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নিউইয়র্ক সিটিতে দুই বছর বয়সী শিশুদের জন্য বিনামূল্যে চাইল্ড কেয়ার কর্মসূচি ‘২-কে’-র আবেদন প্রক্রিয়া মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। মেয়র জোহরান মামদানির সাশ্রয়ী ও সর্বজনীন চাইল্ড কেয়ার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই কর্মসূচির মাধ্যমে শহরের সব শ্রেণির পরিবারের শিশুদের বিনামূল্যে সেবা দেওয়া হবে, যা শহরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বাস্তবায়িত হচ্ছে। শহর প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে নিউইয়র্কে কেন্দ্রভিত্তিক চাইল্ড কেয়ার সেবার জন্য পরিবারগুলোকে গড়ে বছরে ২৩ হাজার ডলারেরও বেশি ব্যয় করতে হয়েছে। কার্যক্রম অনুযায়ী, আগ্রহী পরিবারগুলো শিক্ষা বিভাগের অনলাইন পোর্টাল ‘মাইস্কুলস’-এ আগামী ২৬ জুন পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন। ৪ আগস্টের মধ্যে নির্বাচিত শিশুদের আসন বরাদ্দের তথ্য জানানো হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে পাঁচটি বরো থেকে বাছাই করা উচ্চ-চাহিদাসম্পন্ন পাঁচটি স্কুল ডিস্ট্রিক্টে মোট ২ হাজার আসন নিয়ে এই কার্যক্রম শুরু হবে। নির্বাচিত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে ম্যানহাটনের ওয়াশিংটন হাইটস ও ইনউড, ব্রুকলিনের ব্রাউনসভিল ও ক্যানার্সি, ব্রঙ্কসের ফোর্ডহ্যাম ও বেলমন্ট এবং কুইন্সের ওজোন পার্ক ও রকঅ্যাওয়েজ অঞ্চল। পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী বছরে আসন সংখ্যা বাড়িয়ে ১২ হাজারে উন্নীত করা হবে। মেয়র মামদানি তার প্রথম মেয়াদের শেষ নাগাদ এই সুবিধা পুরো শহরে সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এই কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এর সময়সূচি কাঠামো। প্রচলিত ৩-কে ও প্রি-কে প্রোগ্রামে যেখানে সাধারণত সকাল ৮টা থেকে বিকেল ২টা ২০ মিনিট পর্যন্ত এবং সেপ্টেম্বর থেকে জুন পর্যন্ত সেবা দেওয়া হয়, সেখানে ২-কে কর্মসূচিতে ডিফল্ট সময় হবে সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা এবং এটি সারা বছর ১২ মাস চালু থাকবে। এর ফলে স্কুল-পরবর্তী ও গ্রীষ্মকালীন চাইল্ড কেয়ার ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে রাজ্য সরকার চলতি বছরে ৭৩ মিলিয়ন ডলার এবং আগামী বছরের জন্য ৪২৫ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।