যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে বাংলাদেশ সরকারের নতুন কনস্যুলেট অফিস স্থাপনকে কেন্দ্র করে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিশেষ করে জর্জিয়ার আটলান্টায় বসবাসরত প্রবাসীরা প্রশ্ন তুলেছেন—যেখানে প্রায় ৪০ হাজার বাংলাদেশির বসবাস, সেই শহরকে বাদ দিয়ে কেন ফ্লোরিডার মায়ামীতে কনস্যুলেট স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। কমিউনিটির বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠকদের মতে, ভৌগোলিক অবস্থান, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং জনসংখ্যার দিক থেকে আটলান্টা দক্ষিণ-পূর্ব যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোর একটি। এখান থেকে ফ্লোরিডা, জর্জিয়া, টেনেসি, আলাবামা, নর্থ ক্যারোলাইনা ও সাউথ ক্যারোলাইনা—এই ছয়টি অঙ্গরাজ্যের প্রবাসী বাংলাদেশিরা সহজেই যাতায়াত করতে পারেন। ফলে কনস্যুলেট অফিস আটলান্টায় হলে বৃহত্তর সংখ্যক মানুষ সরাসরি সেবা নিতে পারতেন বলে মনে করছেন প্রবাসীরা। অন্যদিকে মায়ামী যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত হওয়ায় পাশের অঙ্গরাজ্যগুলোর প্রবাসীদের জন্য সেখানে গিয়ে কনস্যুলার সেবা নেওয়া সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অনেকেই বলছেন, একটি কনস্যুলেট যদি একটি শহরেই স্থাপন করতে হয়, তাহলে অধিক সংখ্যক প্রবাসীর সুবিধা বিবেচনা করে আটলান্টাকেই অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত ছিল। প্রবাসী নেতারা আরও উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে সোনালী ব্যাংকের অর্থ প্রেরণ সেবা “সোনালী একচেঞ্জ” আটলান্টা থেকে পরিচালিত হয়ে আসছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য শাখার তুলনায় এখান থেকে বেশি রেমিট্যান্স আসে। এছাড়া ভ্রাম্যমাণ কনস্যুলার সেবা কার্যক্রমের ক্ষেত্রেও আটলান্টায় অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বেশি ছিল বলে দাবি করা হয়। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা বাড়ছে এবং বিভিন্ন কমিউনিটি সংগঠনের পক্ষ থেকে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানানো হচ্ছে। অনেকেই বলছেন, যদি ভবিষ্যতে একাধিক কনস্যুলেট স্থাপনের পরিকল্পনা থাকে, তাহলে ফ্লোরিডার পাশাপাশি জর্জিয়ার আটলান্টাতেও কনস্যুলেট স্থাপন করা উচিত। প্রবাসীদের আশা, অধিক সংখ্যক বাংলাদেশির সুবিধা বিবেচনা করে সরকার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে কনস্যুলেট স্থাপনের বিষয়ে আবারও পর্যালোচনা করবে এবং বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নেবে।
ইরানে চলমান সংঘাতের মধ্যে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের প্রথম একটি দল দেশে ফেরার পথে রয়েছে। ১৮৬ জন বাংলাদেশিকে নিয়ে একটি বিশেষ ফ্লাইট আজারবাইজানের রাজধানী বাকু থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। স্থানীয় সময় শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার পর (বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে আটটা) বাংলাদেশ বিমান-এর একটি বিশেষ ফ্লাইট হায়দার আলিয়েভ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে যাত্রা করে। তুরস্কে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের উপ-মিশনপ্রধান মোহাম্মদ শাহনূর আলী মুঠোফোনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দেশে ফেরত আসা এই দলে ১১ জন নারী, ১০ শিশু এবং ১৬৫ জন পুরুষ রয়েছেন। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইরান থেকে বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপদে দেশে ফেরাতে তুরস্কে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম আমানুল হক-এর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল আজারবাইজানে অবস্থান করছে। গত বৃহস্পতিবার থেকে প্রতিনিধিদলটি সীমান্ত এলাকায় পৌঁছানো বাংলাদেশিদের সহায়তা দিচ্ছে। ইরানের বিভিন্ন এলাকা, বিশেষ করে তেহরান থেকে আসা এসব নাগরিককে প্রথমে আজারবাইজানের আস্তারা সীমান্তে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেখান থেকে বাসে করে তাঁদের বাকুর বিমানবন্দরে পৌঁছে দেওয়া হয়। এই পুরো প্রক্রিয়ায় সহায়তা করেছে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় পর্যায়ক্রমে আরও বাংলাদেশিকে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে কুয়েত সাময়িকভাবে তাদের আকাশসীমা বন্ধ রাখায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেশে যাত্রায় জটিলতা তৈরি হয়েছে। তবে কুয়েতের বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, বিশেষ প্রয়োজনে দেশফেরত প্রবাসীরা সৌদি আরব হয়ে বাংলাদেশে আসতে পারবেন। দূতাবাসের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সৌদি আরব প্রবেশের জন্য প্রবাসীদের কাছে বৈধ ভিজিট বা ট্রানজিট ভিসা থাকা আবশ্যক। ট্রানজিট ভিসায় সৌদি প্রবেশের পর চার দিনের মধ্যে দেশটি ত্যাগ করতে হবে। সুতরাং, প্রবাসীদেরকে আগে বাংলাদেশের ফ্লাইটের টিকেট নিশ্চিত করতে হবে। সৌদি আরবের ভিসার জন্য অনলাইনে আবেদন করা যাবে। আবেদন করতে হলে ksavisa.sa ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে। কুয়েতের বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছেন, অত্যন্ত জরুরি প্রয়োজনে যারা বাংলাদেশে যেতে চান, শুধুমাত্র তাদের জন্য ট্রানজিট ভিসার অনুমোদন দেওয়ার বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। প্রবাসীদের আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদনপত্র কুয়েতের বাংলাদেশ দূতাবাসে জমা দিতে হবে। আবেদনপত্র প্রাপ্তির পর দূতাবাস সৌদি আরব প্রবেশের অনুমোদন নিশ্চিত করে প্রার্থীদের অবহিত করবে। এরপর আবেদনকারীরা নিজস্ব ব্যাবস্থাপনায় স্থলপথে কুয়েত–সৌদি সীমান্ত পার হয়ে ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করে সৌদি প্রবেশ করবেন এবং চার দিনের মধ্যে দেশ ত্যাগ করবেন। দূতাবাস জানিয়েছে, জরুরি প্রয়োজনে আবেদনকারীরা আগামী ২১ মার্চ থেকে যে কোনো কর্মদিবসে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এবং ছুটির দিনে সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দূতাবাসের ১৩ নম্বর রুমে আবেদনপত্র জমা দিতে পারবেন।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সব ধরনের জনসমাগম ও অনুষ্ঠান নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে কুয়েত সরকার। এ অবস্থায় সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে দূতাবাস। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) বাংলাদেশের কুয়েত দূতাবাস এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিরাপত্তাজনিত কারণে ঈদের ছুটিতে সব ধরনের জনসমাগমমূলক আয়োজন বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। নিষিদ্ধ কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে নাট্যানুষ্ঠান, সংগীতানুষ্ঠান বা কনসার্ট, বিয়ের অনুষ্ঠানসহ যেকোনো ধরনের জমায়েত। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে বলেও জানানো হয়। দূতাবাসের পক্ষ থেকে কুয়েতে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের এসব নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি বর্তমান পরিস্থিতিতে কুয়েত সরকারের আইন ও নির্দেশনা অনুসরণ করে সচেতন ও সহযোগিতাপূর্ণ আচরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাবের মধ্যে বাহরাইনে আটকে পড়া প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিকদের দেশে ফেরাতে বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সৌদি আরবের দাম্মাম বিমানবন্দর হয়ে তারা দেশে ফিরতে পারবেন। রোববার (১৫ মার্চ) মানামায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, দূতাবাসের সমন্বয়ে গালফ এয়ারের মাধ্যমে দাম্মাম থেকে ঢাকাগামী একটি বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই ফ্লাইটে আগ্রহী প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে ফিরতে পারবেন। দূতাবাস জানিয়েছে, এই ফ্লাইটে ভ্রমণ করতে আগ্রহীদের দূতাবাসের ফেসবুক পেজে দেওয়া গুগল ফরমের মাধ্যমে নিবন্ধন করতে হবে। তবে চূড়ান্তভাবে আসন বরাদ্দের বিষয়টি গালফ এয়ার কর্তৃপক্ষের ওপর নির্ভর করবে। ভ্রমণের সম্ভাব্য তারিখ আগামী ২০ মার্চ বা এর কাছাকাছি সময় নির্ধারণ করা হতে পারে। প্রতিটি আসনের আনুমানিক ভাড়া ধরা হয়েছে প্রায় ৩০০ বাহরাইনি দিনার। এই ফ্লাইটে ভ্রমণকারীরা ২৩ কেজি ওজনের একটি ব্যাগেজ ও একটি হ্যান্ডব্যাগ বহনের সুযোগ পাবেন। বাহরাইন থেকে সৌদি আরবের দাম্মাম পর্যন্ত বাসে যাতায়াত এবং প্রয়োজনীয় সৌদি ট্রানজিট ভিসার ব্যবস্থাও একই ভাড়ার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকবে। দূতাবাস জানায়, যাত্রীদের টিকিট নিশ্চিত হলে গালফ এয়ার কর্তৃপক্ষ সরাসরি সংশ্লিষ্ট যাত্রীদের সঙ্গে যোগাযোগ করবে। এদিকে আগ্রহী বাংলাদেশিদের সোমবার (১৬ মার্চ) সকাল ১০টার মধ্যে নিবন্ধন সম্পন্ন করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ দূতাবাস।
উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান উত্তেজনার মধ্যে কাতারে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে বিশেষ ফ্লাইটের ব্যবস্থা করছে দোহার বাংলাদেশ দূতাবাস। এ বিষয়ে তারা কাতার সরকার ও কাতার এয়ারওয়েজের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। ১১ মার্চ জারি করা এক জরুরি বার্তায় দূতাবাস জানায়, ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভ্রমণ সহজ করতে তারা কাতার সরকার ও কাতার এয়ারওয়েজের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ বজায় রাখছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ফিরতে আগ্রহী যাত্রীদের মধ্যে পরিবার, নারী, শিশু ও বয়স্কদের এই বিশেষ ফ্লাইটে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। দূতাবাস আরও জানায়, আগ্রহী যাত্রীদের তালিকা তৈরির জন্য তাদের অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে একটি ‘গুগল ফর্ম’-এর লিংক প্রকাশ করা হয়েছে। আটকে পড়া বাংলাদেশিদের যত দ্রুত সম্ভব ওই ফর্মের মাধ্যমে নিজেদের তথ্য জমা দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলের কিছু অংশে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। বাংলাদেশি জনশক্তির অন্যতম প্রধান গন্তব্য কাতার, যেখানে নির্মাণ ও সেবা খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছেন। জরুরি অবস্থা বা ভ্রমণ বিঘ্নিত হওয়ার মতো পরিস্থিতিতে নাগরিকদের দেশে ফিরিয়ে আনতে বা বিশেষ ভ্রমণ সহায়তা দিতে বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনগুলো সংশ্লিষ্ট দেশের সরকার ও এয়ারলাইনসগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে থাকে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থানরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের দেশে ফেরাতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। আটকে পড়া যাত্রীদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে ঢাকা–দুবাই–ঢাকা রুটে দুটি বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। প্রথম বিশেষ ফ্লাইটটি আজ বুধবার (৪ মার্চ) ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে যাত্রা শুরু করে দুবাইর উদ্দেশে উড্ডয়ন করবে। একই ফ্লাইট স্থানীয় সময় রাত ১২টা ২০ মিনিটে দুবাই থেকে ঢাকার পথে ফিরবে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দ্বিতীয় বিশেষ ফ্লাইটটি বিকাল ৫টা ১৫ মিনিটে ঢাকার বিমানবন্দর থেকে দুবাইয়ের উদ্দেশে ছাড়বে। ফিরতি ফ্লাইটটি স্থানীয় সময় রাত ১০টায় দুবাই থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেবে। ৪৩৬ আসনবিশিষ্ট Airbus A330-300 উড়োজাহাজ দিয়ে এই বিশেষ ফ্লাইট দুটি পরিচালনা করা হবে। ফ্লাইট নম্বর ঢাকা–দুবাই রুটে বিএস-৩৪১ এবং দুবাই–ঢাকা রুটে বিএস-৩৪২। দুবাইয়ের বিমান কর্তৃপক্ষ Dubai Airport Authority চলমান পরিস্থিতি বিবেচনায় এমিরেটস এয়ারলাইনস, এয়ার ইন্ডিয়াসহ কয়েকটি এয়ারলাইন্সকে বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দিয়েছে। ভিসার মেয়াদ শেষ হয়েছে বা শিগগিরই শেষ হতে যাচ্ছে—এমন বাংলাদেশি যাত্রীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভ্রমণের সুযোগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। টিকিট সংক্রান্ত তথ্যের জন্য বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের ইউএস-বাংলার সেলস সেন্টার কিংবা নিকটস্থ ট্রাভেল এজেন্সিতে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিস্তারিত তথ্যের জন্য ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের হটলাইন ১৩৬০৫ অথবা ০১৭৭৭৭৭৭৮০০–৮০৬ নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ দিকনির্দেশনা দিয়েছেন তারেক রহমান। রোববার (১ মার্চ) সকালে সচিবালয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী প্রবাসীদের সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে খোঁজ-খবর নেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন। মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার কারণে একাধিক আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। এ পরিস্থিতিতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর–এ আটকে পড়া যাত্রীদের সার্বিক তদারকি করছেন প্রধানমন্ত্রী। নির্দেশনা অনুযায়ী বিমানমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী সরাসরি কার্যক্রম পরিচালনা করছেন এবং প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রীও সমন্বয় প্রক্রিয়ায় যুক্ত রয়েছেন। সকাল ৯টা ১০ মিনিটে সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে পৌঁছানোর পর প্রধানমন্ত্রী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু–র সঙ্গে বৈঠক করেন। সম্ভাব্য ভূমিকম্প–পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত একটি কার্যকর কর্মপরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়। বৈঠক শেষে মন্ত্রী জানান, ঢাকায় এক লাখ স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। দিনের কর্মসূচি অনুযায়ী বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রীর সঙ্গেও বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে খোঁজ-খবর নিয়েছেন তারেক রহমান। রোববার (১ মার্চ) সকালে সচিবালয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলে তিনি প্রবাসীদের নিরাপত্তা, অবস্থান ও সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চান। এ সময় পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর কারণে বাংলাদেশিদের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যগামী ও মধ্যপ্রাচ্য থেকে আগত বহু ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় বৈঠকে বিমান চলাচল সংক্রান্ত বিষয়ও উঠে আসে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর–এ আটকে পড়া যাত্রীদের ব্যবস্থাপনা কীভাবে করা হচ্ছে, তা প্রধানমন্ত্রী সার্বক্ষণিক তদারকি করছেন বলে জানানো হয়। অতিরিক্ত প্রেস সচিব আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীলরা কাজ করছেন। বিমান প্রতিমন্ত্রী সকাল থেকে বিমানবন্দরে অবস্থান করছেন এবং প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রীও সমন্বয় কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছেন। সকাল ৯টা ১০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে পৌঁছান। দিনের নির্ধারিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে সম্ভাব্য ভূমিকম্প-পরবর্তী দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে মন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, ঢাকায় এক লাখ স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী, যাতে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়া যায়। এ ছাড়া বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রীও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে অনিশ্চয়তার মধ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের একটি অংশ কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও প্রবাসী কমিউনিটির বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়া বার্তায় বলা হচ্ছে—যদি নতুন সরকার জুলাই সনদ সংসদে পাস না করে বা কার্যকর না করে, তাহলে তারা রেমিট্যান্স পাঠানো বন্ধ রাখার মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। প্রবাসীদের কয়েকটি ফোরামে আলোচনায় উঠে এসেছে, “জনগণের সমর্থনে গৃহীত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে সেটি জাতির প্রত্যাশার বিরুদ্ধে যাবে।” কেউ কেউ এটিকে “নৈতিক প্রতিবাদ” হিসেবেও আখ্যা দিচ্ছেন। যদিও এখনো পর্যন্ত এটি কোনো কেন্দ্রীয় বা সমন্বিত সংগঠনের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত প্রবাসীদের ব্যক্তিগত ও গোষ্ঠীগত মতামত হিসেবে সামনে আসছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, আমদানি ব্যয় এবং সামগ্রিক আর্থিক স্থিতিশীলতায় রেমিট্যান্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে বড় পরিসরে রেমিট্যান্স বন্ধ বা কমে গেলে তার প্রভাব পড়তে পারে ব্যাংকিং খাত, বাজারদর ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ভাষ্য, এমন পরিস্থিতিতে সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট অবস্থান জানানো জরুরি। একই সঙ্গে প্রবাসীদের আবেগ ও দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে সরকারের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, তা নির্ভর করবে সংসদে জুলাই সনদ নিয়ে সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং প্রবাসী কমিউনিটির সংগঠিত অবস্থানের ওপর। ‘আমেরিকা বাংলা’ বিষয়টির ওপর নজর রাখছে এবং নতুন কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বা সিদ্ধান্ত এলে তা হালনাগাদভাবে প্রকাশ করা হবে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।