নিউইয়র্কে উত্তর আমেরিকায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাঝে বাংলা নববর্ষের আনন্দ ছড়িয়ে দিতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে পহেলা বৈশাখ উদযাপন করেছে এএএনএসইউ ইউএসএ চ্যাপ্টার। বিদেশের মাটিতে অনুষ্ঠিত এ আয়োজন পরিণত হয় বাঙালিয়ানায় ভরা এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায়। অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ, সাংস্কৃতিক আয়োজন, আড্ডা এবং আনন্দঘন মুহূর্ত। ঐতিহ্যবাহী বাঙালি পোশাকে সজ্জিত অংশগ্রহণকারীরা মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপভোগ করেন। পাশাপাশি দেশীয় খাবারের আয়োজন এবং দীর্ঘদিন পর বন্ধু ও সহপাঠীদের সঙ্গে পুনর্মিলন অনুষ্ঠানটিকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, নিউইয়র্কের বুকে এ ধরনের আয়োজন আবারও প্রমাণ করেছে যে দেশ থেকে হাজার মাইল দূরে অবস্থান করলেও প্রবাসী বাংলাদেশিরা নিজেদের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও উৎসবকে গভীরভাবে ধারণ করে চলেছেন। তারা বলেন, এএএনএসইউ ইউএসএ চ্যাপ্টারের এ উদ্যোগ নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তারা। অনুষ্ঠান সফল করতে আয়োজক ও স্বেচ্ছাসেবকদের মধ্যে আলী, ফিরোজ, বান্না, রিশাদ, অপু, জুনায়েদসহ সিনিয়র ও জুনিয়র সদস্যরা বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন। আয়োজকরা জানান, পহেলা বৈশাখ ১৪৩৩ উদযাপন ছিল ঐক্য, বন্ধুত্ব, নস্টালজিয়া এবং প্রবাসে বাঙালি পরিচয়ের এক উজ্জ্বল প্রকাশ। তাদের মতে, এমন আয়োজন প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের মধ্যে বাংলা সংস্কৃতির প্রতি ভালোবাসা ও সংযোগ আরও দৃঢ় করতে সহায়তা করবে।
নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও উপস্থাপিকা নওশীন ও নোভার নতুন উদ্যোগ ‘এন ক্যাফে ৩৬৫ রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বার’। প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও ইতোমধ্যে ক্যাফেটিকে ঘিরে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ ও উৎসাহ। লং আইল্যান্ডের ওয়ানটাঘ এলাকায় অবস্থিত নতুন এই প্রতিষ্ঠানটি আধুনিক ক্যাফে সংস্কৃতি, পরিবারবান্ধব পরিবেশ এবং বৈচিত্র্যময় খাবারের সমন্বয়ে সাজানো হয়েছে। উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, এটি শুধুমাত্র একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নয়; বরং কমিউনিটির মানুষের জন্য একটি বন্ধুত্বপূর্ণ মিলনস্থল গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েই তাদের এই উদ্যোগ। উদ্বোধনের পর থেকেই সেখানে ভিড় করছেন প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষ। ব্যবসায়ী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, শুভানুধ্যায়ী ও পরিচিতজনরা উপস্থিত হয়ে নওশীন ও নোভাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। অনেকেই মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন ব্যবসার বিস্তারে এ ধরনের উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। নওশীন ও নোভা জানান, দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা, পরিশ্রম ও বাস্তব অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে ‘এন ক্যাফে ৩৬৫’-এর যাত্রা শুরু হয়েছে। তাদের ভাষায়, এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে চেয়েছেন যেখানে মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যে সময় কাটাতে পারবেন, পরিবার-বন্ধুদের নিয়ে আড্ডা দিতে পারবেন এবং একই সঙ্গে মানসম্মত খাবার ও সেবা উপভোগ করতে পারবেন। ক্যাফেটিতে কফি, বিভিন্ন ধরনের পানীয়, স্ন্যাকস ও মূল খাবারের পাশাপাশি রয়েছে আরামদায়ক বসার ব্যবস্থা। উদ্যোক্তারা জানান, খাবারের মান ও পরিবেশ—দুই দিকেই বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেতা আদনান ফারুক হিল্লোলও। অভিনয়ের পাশাপাশি খাদ্যভিত্তিক কনটেন্ট নির্মাতা হিসেবেও পরিচিত তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে হিল্লোল জানান, ২০১৭ সালে তার খাদ্যভ্রমণ ও খাবার নিয়ে কাজের শুরু। এরপর বিভিন্ন সময়ে রেস্টুরেন্ট ব্যবসায় যুক্ত হওয়ার প্রস্তাব পেলেও তিনি নিজেকে দূরে রেখেছিলেন। তবে গত বছর নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডে বাসার কাছেই একটি রেস্টুরেন্ট স্পেস পাওয়ার পর তার স্ত্রী নওশীন নতুন উদ্যোগ নেওয়ার সিদ্ধান্তে অটল হন। হিল্লোল লেখেন, শুরুতে এটি শুধু একটি ক্যাফে হিসেবে ভাবা হলেও ধীরে ধীরে সেটি পূর্ণাঙ্গ রেস্টুরেন্ট ও বারে রূপ নেয়। তিনি জানান, মাংসের সব আইটেমে হালাল উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে এবং অধিকাংশ খাবারের রেসিপি নিজেদের তত্ত্বাবধানে তৈরি করা হয়েছে। ফ্রেঞ্চ ফ্রাইয়ের আলু প্রস্তুত করা থেকে শুরু করে ল্যাম্ব শ্যাঙ্ক রান্না—সবকিছুই ইন-হাউজ পদ্ধতিতে করা হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এছাড়া তিনি জানান, রেস্টুরেন্টে রাখা হয়েছে ঢাকার জনপ্রিয় খাবার কাচ্চিও। মজার ছলে তিনি লেখেন, এবার আমেরিকানদের কাচ্চি খাওয়া শেখানোর চেষ্টা করবেন তারা। নিজের স্ট্যাটাসে হিল্লোল আরও উল্লেখ করেন, ‘এন ক্যাফে’ নামটি অনেকেই নওশীনের নামের সঙ্গে মিলিয়ে দেখলেও এর অর্থ আসলে ‘নিউইয়র্ক ক্যাফে’। প্রবাসী বাংলাদেশিদের অনেকে মনে করছেন, বিনোদন জগতের পরিচিত মুখদের এমন উদ্যোগ নতুন প্রজন্মের উদ্যোক্তাদেরও উৎসাহিত করবে। একই সঙ্গে এটি লং আইল্যান্ডে বাংলাদেশি সংস্কৃতি, আতিথেয়তা ও খাবারকে আরও পরিচিত করে তুলবে বলেও আশা করছেন তারা।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের বাফেলো শহরের রিয়েল এস্টেট অঙ্গনে বাংলাদেশি উদ্যোক্তা নাজমুল হোসেন ও তার টিম নতুন করে আলোচনায় এসেছেন। স্থানীয়ভাবে ধারাবাহিক পেশাদার সেবা, গ্রাহকদের আস্থা অর্জন এবং কমিউনিটির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পৃক্ততার কারণে তার নেতৃত্বাধীন “নাজমুল রিয়েল এস্টেট টিম” এখন পশ্চিম নিউইয়র্ক অঞ্চলে পরিচিত একটি নাম। সম্প্রতি বাফেলোভিত্তিক প্রকাশনা বাফেলো রিয়েল প্রডিউসারস ম্যাগাজিন-এর বিশেষ সংখ্যায় স্থান পেয়েছে “দ্য এমডি নাজমুল হুসেইন টিম”। সাধারণত রিয়েল এস্টেট খাতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাজ তুলে ধরতেই এ ধরনের প্রকাশনা বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করে থাকে। সেখানে একটি বাংলাদেশি নেতৃত্বাধীন টিমের অন্তর্ভুক্তি প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাঝেও ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। জানা গেছে, নাজমুল হোসেন দীর্ঘদিন ধরে বাফেলো ও আশপাশের এলাকায় বাড়ি কেনাবেচা, বিনিয়োগ পরামর্শ এবং নতুন ক্রেতাদের সহায়তা নিয়ে কাজ করছেন। বিশেষ করে দক্ষিণ এশীয় অভিবাসীদের মধ্যে বাড়ি কেনার বিভিন্ন প্রক্রিয়া সহজভাবে তুলে ধরা এবং নির্ভরযোগ্য পরামর্শ দেওয়ার কারণে তার টিম দ্রুত গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। স্থানীয় কমিউনিটির কয়েকজন সদস্য জানান, ভাষা ও সংস্কৃতিগত বোঝাপড়ার কারণে বাংলাদেশি এবং অন্যান্য অভিবাসী পরিবারগুলো নাজমুল হোসেনের টিমের সঙ্গে সহজে যোগাযোগ করতে পারছেন। ফলে নতুন অভিবাসীদের জন্য বাড়ি কেনা বা বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়াও তুলনামূলক সহজ হচ্ছে। প্রতিক্রিয়ায় নাজমুল হোসেন বলেন, রিয়েল এস্টেট শুধু ব্যবসা নয়, এটি মানুষের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি সিদ্ধান্তের অংশ। তাই প্রতিটি গ্রাহকের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ এবং দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক তৈরির লক্ষ্য নিয়েই তারা কাজ করছেন। তিনি এই অর্জনের কৃতিত্ব পুরো টিমের সম্মিলিত প্রচেষ্টাকে দিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের উপস্থিতি এখন শুধু ছোট ব্যবসা বা রেস্টুরেন্ট খাতেই সীমাবদ্ধ নয়। প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, আর্থিক খাতের পাশাপাশি রিয়েল এস্টেটেও প্রবাসী বাংলাদেশিরা নিজেদের অবস্থান শক্ত করছেন। বাফেলো অঞ্চলে নাজমুল হোসেনের এই সাফল্য সেই ধারারই একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আগামী দিনে সেবার পরিধি আরও বাড়ানো এবং নতুন প্রযুক্তিনির্ভর গ্রাহকসেবা চালুর পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন নাজমুল হোসেন। তার ভাষায়, গ্রাহকদের আস্থা ধরে রাখাই তাদের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য। সব মিলিয়ে, নিউইয়র্কের বাফেলো শহরের রিয়েল এস্টেট খাতে নাজমুল হোসেন ও তার টিমের এই সাফল্য প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য গর্বের একটি অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
উত্তর আমেরিকায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের অন্যতম বৃহৎ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ফোবানা (ফেডারেশন ওফ বাংলাদেশি অ্যাসোসিয়েশনস ইন নর্থ আমেরিকা) এর ৪০তম কনভেনশন এ বছর যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। চার দশকের যাত্রাকে সামনে রেখে এবারের কনভেনশনকে আরও বৃহৎ, আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানে আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ইতোমধ্যে অনলাইন নিবন্ধন, হোটেল বুকিং এবং বিভিন্ন কার্যক্রমের প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে। ফোবানা কী? ফোবানা বা “ফেডারেশন অব বাংলাদেশি অ্যাসোসিয়েশনস ইন নর্থ আমেরিকা” উত্তর আমেরিকায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের অন্যতম বৃহৎ ছাতাসংগঠন। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বিভিন্ন বাংলাদেশি সংগঠনকে এক প্ল্যাটফর্মে নিয়ে সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও কমিউনিটি কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে সংগঠনটি। দীর্ঘদিন ধরে ফোবানা প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ, সামাজিক বন্ধন শক্তিশালী করা, নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি তুলে ধরা এবং কমিউনিটি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। কোথায় অনুষ্ঠিত হবে ফোবানা ২০২৬? ফোবানার ৪০তম কনভেনশনের ভেন্যু হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে ক্যালিফোর্নিয়ার ইউনিভার্সাল সিটিতে অবস্থিত “হিলটন লস অ্যাঞ্জেলেস/ইউনিভার্সাল সিটি” হোটেলকে। বিশ্বখ্যাত ইউনিভার্সাল স্টুডিও হলিউডের পাশেই অবস্থিত এই হোটেলে তিন দিনের পুরো অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে। অংশগ্রহণকারীদের জন্য বিশেষ মূল্যে হোটেল বুকিংয়ের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। কবে অনুষ্ঠিত হবে? ফোবানা ২০২৬ অনুষ্ঠিত হবে: ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (শুক্রবার) ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (শনিবার) ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (রোববার) তিন দিনব্যাপী এই কনভেনশনে থাকবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সেমিনার, ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কিং, সাহিত্য আড্ডা, ইয়ুথ ফোরাম এবং কমিউনিটি সংযোগমূলক নানা আয়োজন। এবারের প্রতিপাদ্য কী? এবারের ফোবানা কনভেনশনের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে: “উত্তরণের পথে আগামীর প্রত্যয়ে প্রবাস বাংলাদেশ” আয়োজকদের মতে, প্রবাসী বাংলাদেশিদের ঐক্য, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নেতৃত্ব বিকাশ এবং বিশ্বপরিসরে বাংলাদেশি কমিউনিটির ইতিবাচক পরিচয় তুলে ধরাই এবারের মূল লক্ষ্য। আয়োজক সংগঠন কোনটি? ২০২৬ সালের ফোবানা কনভেনশনের হোস্ট সংগঠন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে “বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ক্যালিফোর্নিয়া (বিএসি)”। সংগঠনটির নেতারা জানিয়েছেন, উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন স্টেট, কানাডা এবং বিশ্বের নানা দেশ থেকে হাজারো প্রবাসী বাংলাদেশির অংশগ্রহণে এবারের কনভেনশনকে স্মরণীয় করে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ফোবানার হোস্ট কমিটিতে কারা আছেন? এবারের ফোবানার হোস্ট কমিটিতে আছেন: চেয়ারম্যান: রবিউল করিম বেলাল (পেনসিলভানিয়া), কনভেনর: ড. জয়নুল আবেদিন (ক্যালিফোর্নিয়া), এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি: খালেদ রউফ (ইলিনয়), সদস্য সচিব, ফোবানা ফাউন্ডেশন ক্যালিফোর্নিয়া: ইঞ্জিনিয়ার মো. ইকবাল এছাড়া বিভিন্ন উপকমিটি ও সমন্বয় টিম কনভেনশনের নানা কার্যক্রম নিয়ে কাজ করছে। স্কলারশিপ কার্যক্রম নিয়ে কী জানা গেছে? ফোবানা ২০২৬ উপলক্ষে “ফোবানা স্কলারশিপ অ্যাপ্লিকেশন” কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। যেহেতু এবারের ফোবানা অনুষ্ঠিত হচ্ছে ক্যালিফোর্নিয়াতে তাই এ অঙ্গরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে। আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ আগস্ট ২০২৬। ফোবানা ২০২৬ ওয়েবসাইট অনুযায়ী, আবেদনকারীদের ক্যালিফোর্নিয়া স্টেটের বাসিন্দা হতে হবে এবং ২০২৬ সালে হাইস্কুল গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করতে হবে। আবেদনকারীদের নিজেদের সম্পর্কে সর্বোচ্চ ৫০০ শব্দের একটি প্রবন্ধ জমা দিতে বলা হয়েছে। সেখানে বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটিতে তাদের অবদান, স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম, বাংলা স্কুলে অংশগ্রহণ, বাংলাদেশ বিষয়ক গবেষণা বা কোর্স এবং ভবিষ্যৎ শিক্ষাগত লক্ষ্য তুলে ধরতে বলা হয়েছে। যেসব আবেদনকারীর এ ধরনের অভিজ্ঞতা নেই, তাদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। সেক্ষেত্রে আবেদনকারী ১০ আগস্ট ২০২৬-এর আগে ফোবানা ২০২৬ হোস্ট কমিটির জন্য অন্তত ২০ ঘণ্টা স্বেচ্ছাসেবী কাজ করে এই শর্ত পূরণ করতে পারবেন। এ ছাড়া অফিসিয়াল ট্রান্সক্রিপ্ট, জিপিএ ও ক্লাস র্যাংক, কমুনিটি সম্পৃক্ততার সনদপত্র এবং একটি রঙিন ছবি জমা দিতে হবে। স্কলারশিপ কমিটিতে কারা আছেন? ফোবানা স্কলারশিপ কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছেন এম মওলা দিলু এবং সহ-চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ড. ইউনুস রাহি। ফোবানায় কী কী আয়োজন থাকবে? আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, এবারের কনভেনশনে থাকছে, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কিং, সেমিনার, সাহিত্য ও কবিতার আসর, ইয়ুথ ফোরাম, মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশ বিষয়ক আলোচনা. ট্যালেন্ট শো, ফোবানা স্কলারশিপ কার্যক্রম, দেশীয় খাবার ও কারুশিল্প প্রদর্শনী এছাড়া বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও কমিউনিটি কার্যক্রমও অনুষ্ঠিত হবে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কারা অংশ নেবেন? ফোবানার ওয়েবসাইট অনুযায়ী, বাংলাদেশ ও উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন শিল্পী, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও পারফর্মাররা এবারের অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। তবে এখনো পূর্ণাঙ্গ শিল্পী তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। আয়োজকরা জানিয়েছেন, পর্যায়ক্রমে অতিথি ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে। রেজিস্ট্রেশন ও হোটেল বুকিং কীভাবে করা যাবে? ফোবানার অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে অনলাইন রেজিস্ট্রেশন সুবিধা চালু রয়েছে। এছাড়া অংশগ্রহণকারীদের জন্য বিশেষ মূল্যে হোটেল বুকিংয়ের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বুকিং সম্পন্ন করলে ডিসকাউন্ট সুবিধা পাওয়া যাবে বলে জানানো হয়েছে। কেন গুরুত্বপূর্ণ ফোবানা? প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছে ফোবানা শুধু একটি বার্ষিক কনভেনশন নয়; এটি আবেগ, সংস্কৃতি, পরিচয় ও প্রজন্মের সংযোগের একটি বড় প্ল্যাটফর্ম। চার দশক ধরে এই সংগঠনটি উত্তর আমেরিকায় বাংলাদেশি কমিউনিটির ঐক্য গড়ে তোলা, বাংলা সংস্কৃতির চর্চা ধরে রাখা এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতিনিধিত্ব করে আসছে। কী আশা করছেন আয়োজকরা? আয়োজকদের আশা, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে হাজারো প্রবাসী বাংলাদেশি এবারের কনভেনশনে অংশ নেবেন। তাদের মতে, ৪০তম ফোবানা কনভেনশন শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়; এটি হবে উত্তর আমেরিকায় বাংলাদেশি কমিউনিটির ঐক্য, সংস্কৃতি, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এবং বৈশ্বিক পরিচয়ের এক বড় আন্তর্জাতিক মিলনমেলা।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটস এলাকায় “বাংলাদেশ স্ট্রিট” নামের একটি সড়কচিহ্ন নতুন করে আলোচনায় এসেছে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে। নিউইয়র্কের ব্যস্ত ও বহুজাতিক এই নগরীতে বাংলাদেশের নাম বহনকারী সাইনবোর্ডটিকে অনেকেই প্রবাসী বাংলাদেশিদের পরিচয়, উপস্থিতি ও দীর্ঘদিনের অবদানের প্রতীক হিসেবে দেখছেন। সম্প্রতি নিউইয়র্কের বাফেলোভিত্তিক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পার্সোনাল ইনজুরি অ্যাটর্নি জনাব নাজমুস সাকিব তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে “Bangladesh Street” সাইনবোর্ডের একটি ছবি শেয়ার করেন। পোস্টে তিনি লেখেন, “জোহরান মামদানির নিউইয়র্ক সিটি!”। ছবিতে দেখা যায়, নিউইয়র্ক সিটির ৭৩ স্ট্রিটের পাশে আনুষ্ঠানিকভাবে “Bangladesh Street” লেখা একটি সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। জ্যাকসন হাইটস এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরেই নিউইয়র্কে বাংলাদেশি কমিউনিটির অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এখানে গড়ে উঠেছে অসংখ্য বাংলাদেশি রেস্টুরেন্ট, মুদি দোকান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও কমিউনিটি কার্যক্রম। এ কারণেই এলাকাটি অনেকের কাছে “লিটল বাংলাদেশ” নামেও পরিচিত। কমিউনিটি নেতাদের মতে, “বাংলাদেশ স্ট্রিট” নামকরণ শুধু একটি সড়কের পরিচয় নয়; এটি যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি অভিবাসীদের কয়েক দশকের পরিশ্রম, সামাজিক অংশগ্রহণ এবং কমিউনিটির বিকাশের একটি প্রতীকী স্বীকৃতি। নিউইয়র্কের মতো আন্তর্জাতিক শহরে বাংলাদেশের নাম দৃশ্যমান হওয়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য গর্বের বিষয় বলেও মনে করছেন অনেকে। প্রবাসীদের একাংশের মতে, বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের নাম এভাবে প্রকাশ্যে দেখতে পাওয়া নতুন প্রজন্মের বাংলাদেশি-আমেরিকানদের মধ্যেও নিজেদের শিকড়, সংস্কৃতি ও পরিচয়ের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করতে সহায়তা করে। তাদের ভাষায়, নিউইয়র্কের “বাংলাদেশ স্ট্রিট” শুধু একটি সাইনবোর্ড নয়; এটি যুক্তরাষ্ট্রে বেড়ে ওঠা বাংলাদেশি কমিউনিটির দৃশ্যমান উপস্থিতি ও বহুমাত্রিক অবদানের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক।
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্য রাস্তায় পুলিশি তল্লাশির মুখে পড়া একটি পরিচিত অভিজ্ঞতা। এ মুহূর্তে আতঙ্কিত না হয়ে কী করতে হবে এবং আমেরিকার সংবিধান একজন সাধারণ নাগরিককে কতটা সুরক্ষা দেয়, সে বিষয়ে অনেকেরই স্পষ্ট ধারণা নেই। সঠিক তথ্য জানা থাকলে এ ধরনের পরিস্থিতি শান্তভাবে এবং আইনসম্মতভাবে সামলানো সম্ভব। প্রথম করণীয়: শান্ত থাকুন পুলিশের সাইরেন শুনলে প্রথমেই আতঙ্কিত হওয়া যাবে না। ধীরে ধীরে রাস্তার ডান পাশে নিরাপদ স্থানে গাড়ি থামাতে হবে। দুই হাত স্টিয়ারিং হুইলের ওপর রাখুন, যাতে পুলিশ বাইরে থেকে স্পষ্ট দেখতে পান। হঠাৎ কোনো অঙ্গভঙ্গি বা তাড়াহুড়ো করলে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হতে পারে, যা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলতে পারে। পুলিশ না বললে গাড়ি থেকে নামবেন না। কাগজপত্র দেখানো বাধ্যতামূলক পুলিশ কাছে এলে গাড়ির জানালা অর্ধেক নামান এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স, গাড়ির রেজিস্ট্রেশন ও ইন্স্যুরেন্সের কাগজ দেখান। এগুলো দেখানোর আইনগত বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কাগজ খোঁজার আগে পুলিশকে জানিয়ে নিন, যাতে হাত নাড়াচাড়াকে ভুলভাবে না দেখা হয়। চুপ থাকার অধিকার: ফিফথ অ্যামেন্ডমেন্ট পুলিশ প্রশ্ন করতে শুরু করলে জেনে রাখুন, আমেরিকার সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী অনুযায়ী আপনি নিজের বিরুদ্ধে যেতে পারে এমন কোনো বক্তব্য দিতে বাধ্য নন। শান্তভাবে বলতে পারেন, 'আমি আইনজীবীর সঙ্গে কথা না বলে কিছু বলতে চাই না।' এটি আপনার সাংবিধানিক অধিকার এবং পুলিশ সেই অধিকারকে সম্মান দেখাতে বাধ্য। গ্রেপ্তারের মুখে পড়লে: সিক্সথ অ্যামেন্ডমেন্ট পুলিশ যদি গ্রেপ্তার করতে চায়, তাহলে সংবিধানের ষষ্ঠ সংশোধনী অনুযায়ী আইনজীবীর সাহায্য চাওয়ার অধিকার আপনার আছে। স্পষ্টভাবে বলুন, 'আমি আমার আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলতে চাই।' এই মুহূর্তে যত কম কথা বলবেন, ততই নিরাপদ। কারণ আপনার প্রতিটি কথা আদালতে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার হতে পারে। তল্লাশির ক্ষেত্রে: ফোর্থ অ্যামেন্ডমেন্ট পুলিশ গাড়ি বা ব্যাগ তল্লাশি করতে চাইলে প্রশ্ন করুন সার্চ ওয়ারেন্ট আছে কিনা। সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী নাগরিকদের অযৌক্তিক তল্লাশি থেকে সুরক্ষা দেয়। তল্লাশিতে আপনার সম্মতি না থাকলে তা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিন। সম্মতি ছাড়া তল্লাশি আইনগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। ভাষা সমস্যায় অনুবাদক চাওয়ার অধিকার ইংরেজিতে সাবলীল না হলে ঘাবড়ানোর কিছু নেই। ১৯৬৪ সালের সিভিল রাইটস অ্যাক্ট অনুযায়ী আপনি অনুবাদক চাইতে পারেন। সরাসরি বলুন, 'আমি বাংলায় কথা বলি, অনুবাদক চাই।' এই অনুবাদক সহায়তা আইনি প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ব্যক্তিগত সম্পত্তির বাইরে যেকোনো সর্বজনীন স্থানে পুলিশের কার্যক্রম রেকর্ড করা যাবে। সংবিধানের প্রথম সংশোধনী মত প্রকাশের এই স্বাধীনতা দেয়। তবে রেকর্ড করার বিষয়টি পুলিশকে জানিয়ে করুন এবং তাদের কাজে কোনোভাবে বাধা দেবেন না। ঘটনার সময়, স্থান, পুলিশ অফিসারের নাম ও ব্যাচ নম্বর লিখে রাখুন। মনে হলে স্থানীয় সিভিল লিবার্টি সংস্থায় অভিযোগ দায়ের করতে পারেন। আমেরিকার সংবিধান প্রতিটি মানুষকে এই সুরক্ষা দেয়। তবে সেই সুরক্ষা তখনই কাজে আসে, যখন একজন নাগরিক নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকেন।
নিউইয়র্ক বাংলাদেশি আমেরিকান লায়ন্স ক্লাবের ২০২৬–২০২৭ লায়ন্স বর্ষের নির্বাচনে বিপুল ভোটে পুনরায় সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন লায়ন জেএফএম রাসেল। একই নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন লায়ন মাসুদ রানা তপন। ডিস্ট্রিক্ট ২০-আর২ এর অন্যতম বৃহৎ ও মর্যাদাপূর্ণ এই ক্লাবের সদস্যদের সমর্থনে বর্তমান সভাপতি রাসেল আবারও নেতৃত্বের দায়িত্ব পেলেন। তিনি এর আগে এক মেয়াদে সভাপতি, দুই মেয়াদে সেক্রেটারি, দুই মেয়াদে মেম্বারশিপ চেয়ারম্যান এবং দুই মেয়াদে জয়েন্ট সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। অন্যদিকে, মাসুদ রানা তপন গত দুই মেয়াদে ট্রেজারার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে সদস্যদের আস্থা অর্জন করেন। তার সততা, নেতৃত্বগুণ ও ক্লাবের প্রতি আন্তরিক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এবার তিনি সেক্রেটারি নির্বাচিত হন। ক্লাব নেতৃবৃন্দ জানান, নিউইয়র্ক বাংলাদেশি আমেরিকান লায়ন্স ক্লাব বর্তমানে নিউইয়র্ক সিটির অন্যতম সেরা ও সম্মানজনক ক্লাব হিসেবে পরিচিত। ডিস্ট্রিক্ট ২০-আর২ এর ৫১টি ক্লাবের মধ্যে সদস্য সংখ্যার দিক থেকে এই ক্লাব দ্বিতীয় বৃহত্তম এবং সেবামূলক প্রকল্পের দিক থেকে অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ক্লাব। গত বছর ক্লাবটি স্থানীয় কমিউনিটি এবং দেশের বাইরের মানবসেবামূলক কার্যক্রমে ২ লক্ষ ডলারের বেশি সেবা প্রদান করেছে। নবনির্বাচিত সভাপতি লায়ন জেএফএম রাসেল এবং সেক্রেটারি লায়ন মাসুদ রানা তপন বলেন, “আমরা সকল লায়ন্স সদস্যকে একটি পরিবারের মতো নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে চাই। আমাদের মূল লক্ষ্য হবে কমিউনিটি, অসহায় মানুষ এবং দেশের বাইরের দরিদ্র মানুষের সেবায় আরও বড় পরিসরে কাজ করা। আমরা এই ক্লাবকে আরও উচ্চতায় নিয়ে যেতে চাই এবং আগামী বছরকে একটি স্মরণীয় বছরে পরিণত করতে চাই।” নবনির্বাচিত সভাপতি ও সেক্রেটারি একটি সুন্দর, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন উপহার দেওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশন, নির্বাচিত কমিটি এবং সকল সদস্যদের প্রতি অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানান।
জর্জিয়ায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত স্টেট সিনেটর শেখ রহমানের পুনর্নির্বাচনী প্রচারণায় প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির ব্যাপক সাড়া দেখা গেছে। গতকাল জর্জিয়ার রোডস জর্ডান পার্কে অনুষ্ঠিত “Early Vote & BBQ” অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। অনুষ্ঠানটি ঘিরে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ এবং ভোটারদের মধ্যে ছিল ব্যাপক আগ্রহ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ভোটার ও সমর্থকদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন শেখ রহমান। তিনি আগাম ভোটদানের গুরুত্ব তুলে ধরার পাশাপাশি কমিউনিটির ঐক্য ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়ানোর আহ্বান জানান। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য ছিল ভোটারদের সম্পৃক্ত করা এবং স্থানীয় জনগণের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করা। শেখ রহমান বর্তমানে জর্জিয়া স্টেট সিনেটের ডিস্ট্রিক্ট ৫-এর প্রতিনিধিত্ব করছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির অন্যতম পরিচিত রাজনৈতিক মুখ। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, জননিরাপত্তা এবং অভিবাসী কমিউনিটির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছেন তিনি। এবারও তিনি স্টেট সিনেটর পদে পুনর্নির্বাচনের জন্য প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিলেন শেখ রহমানের ভাই ইকবাল, যিনি সম্প্রতি বাংলাদেশে সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এসে অনুষ্ঠানে যোগ দেন। এ সময় তিনি প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং কমিউনিটির ঐক্য ও রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার গুরুত্ব তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া অনেকেই বলেন, শেখ রহমানের মতো একজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রাজনীতিকের জর্জিয়ার মূলধারার রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা প্রবাসী কমিউনিটির জন্য গর্বের বিষয়। তাদের আশা, আসন্ন নির্বাচনেও তিনি শক্ত অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সি অঙ্গরাজ্যে আবাসন নিরাপত্তা ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘বিজনেস অ্যান্ড কমিউনিটি পার্টনারশিপ’ পুরস্কার পেয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত উদ্যোক্তা আফসানা আনজুম। শনিবার রাতে ইটন টাউনের শেরাটন হোটেলের গ্র্যান্ড বলরুমে কমিউনিটি অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড রিসোর্স সেন্টারের ১৪তম গালা অনুষ্ঠানে তার হাতে এই সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। আফসানা আনজুম নিউজার্সিভিত্তিক নির্মাণ ও পরিবেশগত পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান ‘তাহশিন কনস্ট্রাকশন’-এর মালিক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। ২০১১ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে তার নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটি দুই হাজারের বেশি প্রকল্প সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। বিশেষ করে শিশুদের নিরাপত্তার জন্য ঘরবাড়ি থেকে সিসা ও অ্যাসবেস্টস অপসারণ কার্যক্রমে প্রতিষ্ঠানটি উল্লেখযোগ্য সুনাম অর্জন করেছে। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, তাহশিন কনস্ট্রাকশন বর্তমানে নিউজার্সির ১৫টি অনুমোদিত সংস্থার জন্য সিসা দূষণ অপসারণ ও পুনর্বাসনের কাজ করছে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি অঙ্গরাজ্য অনুমোদিত অ্যাসবেস্টস অপসারণকারী ঠিকাদার এবং ‘লেড ইন্সপেক্টর’ হিসেবেও স্বীকৃত। আটলান্টিক কাউন্টিতে বাংলাদেশি কমিউনিটির পরিবারগুলোর নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করতে আফসানা আনজুম দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছেন। হারিকেন স্যান্ডির পর ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘরের উন্নয়ন ও বন্যা ঝুঁকি মোকাবিলাতেও তার সক্রিয় ভূমিকার কথা অনুষ্ঠানে তুলে ধরা হয়। এই অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে নিউজার্সির সিনেটর ও অ্যাসেম্বলিম্যানদের পক্ষ থেকেও তাকে বিশেষ মানপত্র প্রদান করা হয়। আফসানা আনজুম বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে ডিগ্রিধারী এবং চার সন্তানের জননী। তার স্বামী জহিরুল ইসলাম বাবুলের সঙ্গে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সাউথ জার্সির বাংলাদেশি কমিউনিটির উন্নয়ন, নিরাপদ আবাসন ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করে আসছেন। তার এই অর্জনে স্থানীয় প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে আনন্দ ও গর্বের অনুভূতি সৃষ্টি হয়েছে।
প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও শেকড়কে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে বর্ণাঢ্য বৈশাখী মেলা ও বাংলা নববর্ষ উদযাপন। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব নিউজার্সি–এর উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা রূপ নেয় এক টুকরো বাংলাদেশে। শনিবার, ৯ মে নিউজার্সির কল্টস নেক শহরে দিনব্যাপী এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। উৎসবে রঙিন পোশাক, বাংলা গান, নৃত্য, আবৃত্তি ও লোকজ সংস্কৃতির নানা উপস্থাপনায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো অনুষ্ঠানস্থল। প্রবাসী বাংলাদেশিরা পরিবারসহ অংশ নিয়ে বৈশাখী আনন্দ ভাগ করে নেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সভাপতি ফায়জুর রহমান সাবু। তিনি বলেন, প্রবাসে ঐক্যই সবচেয়ে বড় শক্তি। নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি পৌঁছে দিতে সম্মিলিত উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে হবে। তিনি সংগঠনের কার্যক্রমে যুক্ত সকলকে ধন্যবাদ জানান এবং কমিউনিটির ঐক্য আরও সুদৃঢ় করার আহ্বান জানান। বক্তারা বলেন, বৈশাখ শুধু উৎসব নয়, এটি বাঙালির আত্মপরিচয় ও সাংস্কৃতিক আত্মবিশ্বাসের প্রতীক। প্রবাসে এমন আয়োজন নতুন প্রজন্মকে শিকড়ের সঙ্গে যুক্ত রাখে এবং সাংস্কৃতিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পর্যায়ের প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যক্তিত্ব বক্তব্য রাখেন এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন রীনা আমানুল্লাহ, ডা. ফারুক আজম, শামীমা হোসেন লিপি, মেহের নিগার, শামীম, নাজনীন হোসেইন, মারুফ আলম, ডা. বিল্লা এবং ডা. মনোয়ার হোসেন। আয়োজনে একটি বিশেষ মুহূর্ত ছিল সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ডা. মনোয়ার হোসেনকে সংবর্ধনা প্রদান। দীর্ঘদিন কমিউনিটি নেতৃত্বে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে সম্মাননা জানানো হয়। একই সঙ্গে ডা. লুসি হোসেনকেও তাঁর অবদানের জন্য সম্মান জানানো হয়। আলোচনা পর্ব শেষে সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেন প্রবাসী শিল্পীরা। বাংলা গান, নৃত্য ও কবিতা আবৃত্তিতে মুগ্ধ হন উপস্থিত দর্শকরা। শিশুদের পরিবেশনা বিশেষভাবে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের মতে, এই ধরনের আয়োজন কেবল উৎসব নয়, বরং বাংলা সংস্কৃতি ও পরিচয় ধরে রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বর্ণাঢ্য ‘ঈদ আনন্দমেলা ২০২৬’। মেরিল্যান্ড ফ্রেন্ডস অ্যান্ড ফ্যামিলির ব্যবস্থাপনায় আগামী ১৩ জুন ২০২৬, শনিবার দিনব্যাপী এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, বিকেল ৩টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত চলবে অনুষ্ঠান। মেলাটি অনুষ্ঠিত হবে BWI এয়ারপোর্টের কাছে অবস্থিত Clarion Hotel BWI Airport Arundel Mills-এর মিলনায়তনে। ঠিকানা: 7253 Parkway Drive, Hanover, MD 21076 এবারের ঈদ আনন্দমেলাকে ঘিরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ইতোমধ্যেই ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেছে। আয়োজকদের পক্ষে মোহাম্মদ কাজল বলেন, ঈদ উৎসব, বাংলা নববর্ষ এবং বাংলা সংস্কৃতিকে একসঙ্গে তুলে ধরতেই এই আয়োজন করা হচ্ছে। অনুষ্ঠানে থাকছে নানা আয়োজন। এর মধ্যে রয়েছে ঈদ উদযাপন, বাংলা নববর্ষের আমেজ, পান্তা-ইলিশ পরিবেশন, নৃত্য পরিবেশনা এবং লাইভ কনসার্ট। পরিবার-পরিজন নিয়ে আনন্দ উপভোগের জন্য এটি একটি উন্মুক্ত সাংস্কৃতিক মিলনমেলায় পরিণত হবে বলে আশা করছেন তিনি। অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হিসেবে থাকবেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী দিথি আনোয়ার। এছাড়াও উপস্থিত থাকবেন শাহনাজ বেলী, মাহিন সুজন, রাজীব, নোয়েল এবং শোয়েব থমাসসহ আরও কয়েকজন শিল্পী। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অনুষ্ঠানটি সবার জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে এবং প্রবেশ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। অনুষ্ঠানের মিডিয়া পার্টনার হিসেবে রয়েছে চ্যানেল আই, এমকে টিভি এবং আমেরিকা বাংলা। আয়োজকরা মনে করছেন, প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলা সংস্কৃতি, উৎসব ও ঐতিহ্য তুলে ধরার জন্য এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। একই সঙ্গে এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে সামাজিক বন্ধন আরও দৃঢ় করতে সহায়তা করবে। অনুষ্ঠান সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্যের জন্য যোগাযোগ করা যাবে মোহাম্মদ কাজলের সঙ্গে। যোগাযোগ নম্বর: ৪৪৩-৩৩৩-৭২৪৬।
উত্তর আমেরিকায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের অন্যতম বৃহৎ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ফোবানা (FOBANA)-এর ৪০তম কনভেনশন আগামী সেপ্টেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের এই বৃহৎ মিলনমেলাকে ঘিরে ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু করেছে আয়োজকরা। আগামী ৪, ৫ ও ৬ সেপ্টেম্বর তিন দিনব্যাপী এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে Hilton Los Angeles / Universal City হোটেলে। আয়োজক সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ক্যালিফোর্নিয়া (BAC) জানিয়েছে, এবারের কনভেনশনকে স্মরণীয় করে তুলতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কমিউনিটি আলোচনা, ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কিং, নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণ এবং বিভিন্ন বিনোদনমূলক আয়োজন রাখা হবে। “উত্তরণের পথে আগামীর প্রত্যয়ে প্রবাস বাংলাদেশ” থিমকে সামনে রেখে এবারের ফোবানার আয়োজন করা হচ্ছে। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রবাসে বাংলাদেশি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা এবং উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশিদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করাই এবারের কনভেনশনের অন্যতম লক্ষ্য। ফোবানার চেয়ারম্যান রবিউল করিম বেলাল, এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি খালেদ রউফ, কনভেনর ড. জয়নুল আবেদীন এবং মেম্বার সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার মো ইকবাল সহ আয়োজক কমিটির নেতারা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে হাজারো প্রবাসী বাংলাদেশির অংশগ্রহণের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে হলিউড ও ইউনিভার্সাল সিটির কাছাকাছি ভেন্যু হওয়ায় এবারের আয়োজন নিয়ে প্রবাসীদের আগ্রহ আরও বেড়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেসের পর্যটন আকর্ষণ, বিনোদন কেন্দ্র এবং বাংলাদেশি কমিউনিটির সক্রিয় অংশগ্রহণ কনভেনশনকে ভিন্নমাত্রা দিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। উল্লেখ্য, গত বছর ফোবানা কনভেনশন জর্জিয়ার আটলান্টায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং সেটি ব্যাপক সফলতা পায়। দেশ-বিদেশের শিল্পী, কমিউনিটি নেতা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রবাসীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি ছিল প্রাণবন্ত ও দর্শকপূর্ণ। সেই সফল আয়োজনের ধারাবাহিকতায় এবার লস অ্যাঞ্জেলেস কনভেনশনকে আরও বড় পরিসরে আয়োজনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের অনেকেই মনে করছেন, ফোবানা শুধু একটি সাংস্কৃতিক আয়োজন নয়, বরং এটি উত্তর আমেরিকায় বাংলাদেশি পরিচয়, ঐক্য ও কমিউনিটির শক্তির প্রতীক হয়ে উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সি অঙ্গরাজ্যের আটলান্টিক সিটিতে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সাউথ জার্সির উদ্যোগে ক্রিকেট টুর্নামেন্টের জার্সি উন্মোচন করা হয়েছে। রোববার (৩ মে) রাতে স্থানীয় বাংলাদেশ কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই জার্সি উন্মোচন করা হয়। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী দলের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। আয়োজকরা জানান, আগামী ১০ মে রোববার সকাল ৯টায় আটলান্টিক সিটির বদর ফিল্ডে টুর্নামেন্টটি শুরু হবে। বিএএসজের উদ্যোগে প্রথমবারের মতো আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় মোট আটটি দল অংশ নিচ্ছে। তাদের মতে, এই আয়োজনের লক্ষ্য হচ্ছে ক্রিকেটের মাধ্যমে বিভিন্ন কমিউনিটির মধ্যে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বন্ধন গড়ে তোলা। টুর্নামেন্টে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করবেন আটলান্টিক সিটির মেয়র মার্টি স্মল সিনিয়র। বিএএসজের সভাপতি জহিরুল ইসলাম বাবুল, সাধারণ সম্পাদক জাকিরুল ইসলাম খোকা, ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতি আবদুর রফিক, টুর্নামেন্ট কমিটির আহ্বায়ক শাহ মাহমুদ এবং সদস্যসচিব রফিকুল ইসলাম ক্রীড়াপ্রেমী ও কমিউনিটির সদস্যদের এই আয়োজন উপভোগ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে আগামী ৪ সেপ্টেম্বর শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী ফোবানার ৪০তম সম্মেলন। প্রথমবারের মতো এই আয়োজন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে উৎসর্গ করে অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলন চলবে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। সম্মেলনকে সামনে রেখে শুক্রবার (১ মে) নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে এআর ব্যাংকুয়েট হলে এক সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এনআরবি অ্যাসোসিয়েশন ইউএসএ’র আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ সভায় পূর্ণাঙ্গ হোস্ট কমিটি গঠনের বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। অনুষ্ঠানে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, সাহিত্যিক, মানবাধিকার ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন। পাশাপাশি কবি, লেখক, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ, শিল্পী ও কলাকুশলীরাও উপস্থিত ছিলেন। ফোবানা সেন্ট্রাল কমিটির চেয়ারম্যান জাকারিয়া চৌধুরী, এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি দেওয়ান মনিরুজ্জামান, হোস্ট কমিটির আহ্বায়ক নুরুল আমিন বাবু এবং সদস্য সচিব মনজুর কাদের সম্মেলন সফল করতে প্রবাসীদের সহযোগিতা কামনা করেন। এ সময় ফোবানার প্রধান পৃষ্ঠপোষক শফিকুল আলমসহ অন্যরাও উপস্থিত ছিলেন। আয়োজকরা জানান, এবারের সম্মেলনে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, বাংলা সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদান তুলে ধরতে নানা আয়োজন থাকবে। এর মধ্যে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোচনা সভা এবং মিলনমেলার আয়োজন রাখা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার দুই বাংলাদেশি ডক্টরাল শিক্ষার্থী জামিল লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির নিখোঁজের ঘটনা দিন যত গড়াচ্ছে, ততই গভীর রহস্যের জন্ম দিচ্ছে। কয়েক দিন পেরিয়ে গেলেও তাদের কোনো সন্ধান না মেলায় পরিবার, সহপাঠী ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, জামিল ও বৃষ্টি স্বেচ্ছায় কোথাও চলে যাওয়ার মানুষ নন। জামিলের ভাই জুবায়ের আহমেদ বলেন, “পাঁচ দিন হয়ে গেছে। আমরা চরম উৎকণ্ঠায় আছি। সে কাউকে কিছু না বলে চলে যাবে—এটা কল্পনাও করতে পারি না।” একইভাবে বৃষ্টির ভাই জাহেদ হাসান প্রান্ত বোনের নিরাপদ ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। নিখোঁজের দিনের ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণে উঠে এসেছে কিছু অস্বাভাবিক তথ্য। জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে জামিল তার বাসা থেকে ফোন ও মানিব্যাগ নিয়ে বের হন, কিন্তু পাসপোর্ট রেখে যান। সকাল ১১টার দিকে তার ফোন সর্বশেষ বাসার আশপাশেই শনাক্ত হয়। অন্যদিকে, একই দিন সকাল ১০টার দিকে বৃষ্টি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাকৃতিক ও পরিবেশগত বিজ্ঞান ভবনে ছিলেন। তিনি ল্যাপটপ, ট্যাবলেট কম্পিউটার ও খাবারের বাক্স রেখে বের হন—সঙ্গে ছিল কেবল ফোন ও পার্স। বিকেল ৫টার দিকে তার ফোনের সর্বশেষ অবস্থান ক্যাম্পাস এলাকায় পাওয়া যায়। পুলিশ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত সিসিটিভি ফুটেজে সন্দেহজনক কিছু পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে অপহরণের সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে পরিবারকে গণমাধ্যমে কথা বলতে নিরুৎসাহিত করা হয়েছিল। পরে কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। বাংলাদেশ দূতাবাস ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থাকে মামলায় সম্পৃক্ত করার অনুরোধ জানিয়েছে এবং নিশ্চিত করেছে, নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থী কেউই অভিবাসন হেফাজতে নেই। এই ঘটনার সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ের আরেকটি বিষয়ও আলোচনায় এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংবেদনশীল গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন বিজ্ঞানী ও কর্মকর্তার রহস্যজনক মৃত্যু বা নিখোঁজের ঘটনাও নতুন করে প্রশ্ন তুলছে। বিষয়টি নিয়ে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন বলেও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, এ ধরনের ঘটনাকে সরাসরি কোনো ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত করা এখনই যৌক্তিক নয়। বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবেও এগুলো ঘটতে পারে। তবুও একাধিক মিল—যেমন হঠাৎ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া, পাসপোর্ট রেখে যাওয়া—তদন্তকে আরও জটিল করে তুলেছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থীর খোঁজে ব্যাপক প্রচারণা চলছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—কেন তদন্তে অগ্রগতি নেই এবং ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। তবে পরিবার ও স্বজনদের দাবি, এটি কোনো স্বাভাবিক নিখোঁজের ঘটনা নয় এবং দ্রুত উদ্ধারই এখন সবচেয়ে জরুরি। যে কেউ জামিল লিমন বা নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির বিষয়ে তথ্য জানলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের কুইন্সে অবৈধ ‘স্ট্রিট টেকওভার’ ঘিরে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার ভোররাত প্রায় দুইটার দিকে মাসপেথ এলাকার ৬৯ স্ট্রিট ও এলিয়ট অ্যাভিনিউয়ের সংযোগস্থলে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা যায়, দুটি গ্যাস স্টেশনের মাঝামাঝি ওই মোড়ে ডজন ডজন গাড়ি জড়ো হয়ে রাস্তার মাঝখানে আগুন জ্বালিয়ে তার চারপাশে বেপরোয়া ড্রাইভিং শুরু করে। আগুনের রিং ঘিরে গাড়িগুলো ‘ডোনাট’ করতে থাকে এবং শত শত মানুষ ভিড় করে উল্লাস করে। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ জানায়, ঘটনাস্থলে পৌঁছে তারা একটি নীল রঙের গাড়িকে বৃত্তাকারে বেপরোয়াভাবে ঘুরতে দেখেন। এছাড়া একটি রুপালি রঙের বিএমডব্লিউ এক্সথ্রি এবং একটি সাদা বিএমডব্লিউ গাড়িও সেখানে ছিল। পুলিশ ভিড় ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় দুইজন ব্যক্তি একটি চিহ্নিত পুলিশ গাড়ির বনেটে লাফিয়ে উঠে ভাঙচুর চালায়। এতে গাড়িটির উইন্ডশিল্ড ফেটে যায় এবং বনেট ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে সন্দেহভাজনরা একটি কালো নিসান গাড়িতে করে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে আটজন সন্দেহভাজনের ছবি প্রকাশ করে জনসাধারণের সহায়তা চেয়েছে পুলিশ। এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা করছেন। একজন বাসিন্দা বলেন, পুলিশের প্রতি সম্মান কমে যাচ্ছে এবং আইনশৃঙ্খলার প্রতি মানুষের শ্রদ্ধাবোধ দুর্বল হয়ে পড়ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিউইয়র্কে এ ধরনের স্ট্রিট টেকওভারের ঘটনা বেড়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে রাতের বেলায় বাণিজ্যিক এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থলগুলোতে এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করছে। উল্লেখ্য, ঘটনাস্থলটি কুইন্সের বাংলাদেশি অধ্যুষিত জ্যাকসন হাইটস ও উডসাইড এলাকার কাছাকাছি হওয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যেও এ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
জর্জিয়ার আটলান্টায় বসবাসরত বাংলাদেশি, ভারতীয় ও দক্ষিণ এশিয়ান কমিউনিটির জন্য আসছে নতুন এক আনন্দের সংবাদ। খুব শিগগিরই যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে আস-সাফা হালাল মার্কেট অ্যান্ড গ্রিল, যেখানে একসাথে থাকছে বিশাল হালাল গ্রোসারি, ২০০০ স্কয়ার ফিটের আধুনিক রেস্টুরেন্ট এবং সুবিশাল ইভেন্ট হল সুবিধা। এই নতুন প্রতিষ্ঠানটি গড়ে উঠছে এমন এক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে, যেখানে গতকাল ও আজ ভ্রাম্যমাণ বাংলাদেশ কনস্যুলেট সেবা কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হচ্ছে। অর্থাৎ গ্র্যান্ড ইভেন্ট হলের পাশেই এই নতুন হালাল গ্রোসারি ও রেস্টুরেন্ট চালু করা হচ্ছে। ফলে বাংলাদেশি কমিউনিটির মানুষ এখন এক জায়গাতেই কেনাকাটা, খাবার, সামাজিক অনুষ্ঠান এবং বিভিন্ন পারিবারিক আয়োজনের সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন। প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, এখানে থাকছে— তাজা দেশি মাছের বিশাল সংগ্রহ, প্রতিদিন কাটা ফ্রেশ জবিহা হালাল গরু, খাসি ও মুরগির মাংস, বাংলাদেশি, ভারতীয় ও এশিয়ান গ্রোসারি পণ্যের সমৃদ্ধ কালেকশন, ২০০০ স্কয়ার ফিটের প্রশস্ত ও আধুনিক রেস্টুরেন্ট, অভিজ্ঞ শেফের হাতে তৈরি দেশি স্বাদের সুস্বাদু খাবার, পার্টি, অনুষ্ঠান ও বিশেষ দিনের জন্য ক্যাটারিং সুবিধা, বিয়ে, জন্মদিন, আকিকা, মিলাদ ও কমিউনিটি প্রোগ্রামের জন্য ইভেন্ট হল সুবিধা। রেস্টুরেন্টের বিশেষ আকর্ষণ হলো, নতুন এই রেস্টুরেন্টে পরিবার নিয়ে বসে আরামদায়ক পরিবেশে খাওয়ার সুযোগ থাকবে। দেশি খাবারের পাশাপাশি বিভিন্ন জনপ্রিয় এশিয়ান আইটেমও পরিবেশন করা হবে বলে জানা গেছে। গ্র্যান্ড ওপেনিং উপলক্ষে থাকছে বিশেষ অফার: প্রথম ১০০ জন কাস্টমারের জন্য ফ্রি গিফট, মাছ ও মাংসে বিশেষ ডিসকাউন্ট, উদ্বোধনী দিনের আকর্ষণীয় অফার, পরিবার নিয়ে আসা অতিথিদের জন্য বিশেষ চমক। গতকাল এই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক জনাব হাবিব রহমান দূতাবাস সেবা নিতে আসা বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানান, আটলান্টার বাংলাদেশিদের জন্য মানসম্মত, পরিচ্ছন্ন ও বিশ্বস্ত সেবা নিশ্চিত করাই তাদের মূল লক্ষ্য। তিনি আরও বলেন, প্রবাসীরা যেন দেশের স্বাদ, দেশের পণ্য এবং নিজস্ব পরিবেশের অনুভূতি এক জায়গাতেই পান, সেজন্যই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, সম্ভাব্য উদ্বোধনের তারিখ: ২৭ জুন, ইনশাআল্লাহ ও সমভব্য ঠিকানা: ৫৯৫৩ বিফোর্ড হাইওয়ে, ডোরাভিল, জর্জিয়া ৩০৩৪০ আটলান্টার প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এটি হতে যাচ্ছে নতুন এক নির্ভরযোগ্য ঠিকানা, যেখানে মিলবে দেশি স্বাদ, নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজার এবং কমিউনিটি আয়োজনের পূর্ণাঙ্গ সুবিধা। এখন অনেকেই অপেক্ষায় আছেন কবে আনুষ্ঠানিকভাবে দরজা খুলবে As-Safa Halal Market & Grill।
যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশি খ্রিষ্টানদের অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘ইস্টার পুনর্মিলনী ও বৈশাখী উৎসব ২০২৬’। বাংলাদেশ খ্রিষ্টান অ্যাসোসিয়েশন ইনকরপোরেটেড (বিসিএ)-এর উদ্যোগে গত ১২ এপ্রিল সিলভার স্প্রিং এলাকায় এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। রসকো নিক্স এলিমেন্টারি স্কুল প্রাঙ্গণে বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত চলা এ আয়োজনে প্রায় চার শতাধিক প্রবাসী বাংলাদেশির মিলনমেলায় সৃষ্টি হয় এক টুকরো বাংলাদেশের আবহ। বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গ্রেগ উইম্স এবং মন্টগোমারি কাউন্টির কর্মকর্তা আনিস আহমেদ। শোভাযাত্রা শেষে সংগঠনের সেক্রেটারি বিভাস রোজারিও সঞ্চালনায় শুরু হয় মূল পর্ব। দুই দেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও প্রার্থনার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। বিসিএ’র সভাপতি বিপুল এলিট গনছালভেস ইস্টার ও বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়ে যিশু খ্রিষ্টের শিক্ষা অনুসরণের আহ্বান জানান। অতিথিরা তাঁদের বক্তব্যে মেরিল্যান্ডের বহুসাংস্কৃতিক সমাজে বাংলাদেশি কমিউনিটির অবদানের প্রশংসা করেন। অনুষ্ঠানে পরিবেশন করা হয় গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী খাবার। অংশগ্রহণকারীরা নিজ নিজ ঘর থেকে নানা ধরনের খাবার নিয়ে এসে আয়োজনকে প্রাণবন্ত করে তোলেন। শিশুদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ ছিল ‘ইস্টার বানি’, যা তাদের মাঝে বাড়তি আনন্দ যোগ করে। এ সময় মন্টগোমারি কাউন্টি কাউন্সিলের প্রার্থী রেদোয়ান চৌধুরী ও জেরেমিয়া পোপ উপস্থিত ছিলেন। আয়োজকরা জানান, মূলধারার রাজনীতিতে বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে এ ধরনের উপস্থিতি ইতিবাচক বার্তা দেয়। সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক সম্পাদক জীবন পেরার তত্ত্বাবধানে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। এতে সংগীত, নৃত্য ও কৌতুক পরিবেশনায় দর্শকদের মুগ্ধ করেন শিল্পীরা। নৃত্য পরিবেশনায় মঞ্জুরি নৃত্যালয় ও সৃষ্টি নৃত্যাঙ্গনের পরিবেশনা বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়। অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল বয়োজ্যেষ্ঠদের অংশগ্রহণে ঐতিহ্যবাহী পুতুল নাচ। এছাড়া র্যাফেল ড্র-এর মাধ্যমে আকর্ষণীয় পুরস্কার বিতরণ করা হয়, যার মধ্যে গ্র্যান্ড পুরস্কার হিসেবে বাংলাদেশগামী বিমান টিকিট ছিল। অনুষ্ঠানে ফাদার সুবাস কস্তা, বিসিএ’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জুড ভি. গমেজসহ সংগঠনের বর্তমান ও সাবেক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। আয়োজকরা জানান, এ ধরনের আয়োজন প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের মাঝে বাংলা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে ইস্টার ও বৈশাখ একসঙ্গে উদযাপনের মাধ্যমে পারস্পরিক সম্প্রীতি আরও দৃঢ় হয়।
স্পেনে বসবাসরত প্রায় ৫ লাখ অনিবন্ধিত অভিবাসীকে বৈধ করার লক্ষ্যে একটি বিশেষ নিয়মিতকরণ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল ২০২৬) স্পেনের মন্ত্রিপরিষদ এ সংক্রান্ত একটি রাজকীয় ডিক্রি অনুমোদন দিয়েছে। এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের ফলে দেশটিতে অবস্থানরত প্রায় ১৫ হাজার বাংলাদেশি অভিবাসী বৈধ হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। স্পেনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মাসুদুর রহমান আজ বুধবার দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, স্প্যানিশ কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তে অনিবন্ধিত প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা দূর হবে। তিনি আবেদনকারীদের সঠিক নথিপত্র, বিশেষ করে বাংলাদেশ থেকে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সংগ্রহের পরামর্শ দিয়েছেন। দূতাবাস থেকে সব ধরণের প্রশাসনিক সহায়তা দেওয়া হবে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন। আল জাজিরার তথ্যমতে, ১৬ এপ্রিল থেকে অনলাইনে এবং ২০ এপ্রিল থেকে সশরীরে এই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়ে চলবে ৩০ জুন পর্যন্ত। তবে আবেদনকারীদের অবশ্যই ১ জানুয়ারি ২০২৬-এর আগে স্পেনে পৌঁছাতে হবে এবং অন্তত ৫ মাস দেশটিতে বসবাসের প্রমাণ থাকতে হবে। সফল আবেদনকারীরা এক বছরের জন্য রেসিডেন্সি ও কাজের অনুমতি পাবেন। প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এই উদ্যোগকে স্পেনের ক্রমবর্ধমান অর্থনীতির জন্য একটি ‘প্রয়োজনীয়’ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
প্রবাসের ব্যস্ত নগরজীবন ছাপিয়ে বাংলা নববর্ষ উদযাপনে উৎসবমুখর হয়ে উঠেছিল যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক। শহরের প্রাণকেন্দ্র টাইমস স্কয়ার ও জ্যাকসন হাইটসে বাংলাদেশি কমিউনিটির অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয়েছে বর্ণাঢ্য বর্ষবরণ উৎসব, যেখানে মঙ্গল শোভাযাত্রা, সংগীত, নৃত্য ও নানা সাংস্কৃতিক আয়োজনে ফুটে ওঠে বাঙালির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি। উৎসবের প্রথম দিন টাইমস স্কয়ারে দিনব্যাপী আয়োজনের মাধ্যমে প্রবাসে এক টুকরো বাংলাদেশের আবহ তৈরি হয়। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেন প্রবাসী বাঙালি শিল্পীরা। সংগীত, নৃত্য, আবৃত্তি ও লোকজ পরিবেশনার মধ্য দিয়ে বাংলা সংস্কৃতির বৈচিত্র্য তুলে ধরা হয়। আয়োজনে আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণও ছিল লক্ষণীয়, যা নববর্ষকে এক বৈশ্বিক মিলনমেলায় পরিণত করে। উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ ছিল মঙ্গল শোভাযাত্রা। রঙিন মুখোশ, আলপনা ও ঐতিহ্যবাহী সাজে শোভাযাত্রাটি টাইমস স্কয়ারে ভিন্নমাত্রা যোগ করে। অংশগ্রহণকারীদের উচ্ছ্বাসে পুরো এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে। পরদিন জ্যাকসন হাইটসেও দিনব্যাপী বর্ষবরণ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। বিকেলে অনুষ্ঠিত মঙ্গল শোভাযাত্রা স্থানীয়দের পাশাপাশি ভিনদেশি দর্শনার্থীদেরও আকৃষ্ট করে। সন্ধ্যার পর সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় গান, নৃত্য ও অন্যান্য আয়োজন উৎসবকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। একই সময়ে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন পৃথকভাবে বর্ষবরণ আয়োজন করে। এসব আয়োজনে পান্তা-ইলিশসহ ঐতিহ্যবাহী খাবার, পিঠা উৎসব এবং শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণ উৎসবকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। নতুন প্রজন্মের মধ্যে বাংলা সংস্কৃতির চর্চা ও পরিচয় তুলে ধরার ক্ষেত্রেও এসব আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আয়োজকরা জানান, প্রবাসে এ ধরনের উৎসব শুধু বিনোদনের জন্য নয়; বরং এটি বাঙালির শেকড়, ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে সংযোগ রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। হাজারো মাইল দূরে থেকেও বাংলা নববর্ষ উদযাপনের মাধ্যমে প্রবাসীরা নিজেদের ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরছেন।
বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া কানাডীয় নাগরিক ডলি বেগম কানাডার পার্লামেন্টের সদস্য (এমপি) হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। ক্ষমতাসীন লিবারেল পার্টি-র প্রার্থী হিসেবে তিনি অন্টারিও প্রদেশের টরোন্টোর স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট আসন থেকে বিজয়ী হন। কানাডার সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, ডলি বেগম তাঁর সম্প্রদায়ের জন্য দীর্ঘদিন ধরে কার্যকরভাবে কাজ করে আসছেন এবং তাঁর অভিজ্ঞতা একটি আরও শক্তিশালী ও ন্যায়ভিত্তিক কানাডা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। লিবারেল পার্টিও ডলি বেগমকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে কমিউনিটির মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করেছেন এবং পার্লামেন্টে সেই ভূমিকা অব্যাহত রাখবেন। ১৯৮৯ সালের ৫ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের মৌলভীবাজারে জন্মগ্রহণ করেন ডলি বেগম। তিনি এর আগে অন্টারিও প্রাদেশিক পার্লামেন্টের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। লিবারেল পার্টিতে যোগ দেওয়ার আগে তিনি নিউ ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। ২০১৮ সালে মাত্র ২৯ বছর বয়সে কানাডায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের মধ্যে প্রথম ব্যক্তি হিসেবে কোনো প্রাদেশিক বা ফেডারেল রাজনৈতিক পদে নির্বাচিত হন ডলি বেগম। এছাড়া নাগরিকত্ব, বিদেশি সনদ স্বীকৃতি ও অভিবাসন সেবাবিষয়ক বিরোধী দলের সমালোচক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। বিশ্লেষকদের মতে, ডলি বেগমের এই বিজয় কানাডার রাজনীতিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের অংশগ্রহণ ও প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না। নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার। তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।