আমেরিকা

ইউনিস্যাবে ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী মাহিয়ান আরাফ সিয়াম

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: এপ্রিল ২২, ২০২৬ ২১:১৮
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ইউনাইটেড নেশনস ইয়ুথ অ্যান্ড স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউনিস্যাব)-এর ২০২৬–২০২৭ মেয়াদের নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠিত হয়েছে। এতে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী তরুণ মাহিয়ান আরাফ সিয়াম।

 

নতুন কমিটিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন সামিন মোহতাদি এবং জেনারেল সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন রুবাইয়াত ই জান্নাত নেহা। সম্প্রতি বাছাই প্রক্রিয়া এবং ট্রাস্টি বোর্ডের অনুমোদনের মাধ্যমে এ কমিটি চূড়ান্ত করা হয়।

 

মাহিয়ান আরাফ সিয়াম বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি-এ কম্পিউটার সায়েন্সে অধ্যয়নরত। তিনি ঢাকার ম্যাপেল লিফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল থেকে ও লেভেল সম্পন্ন করে ২০২৩ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। ছাত্রজীবনের পাশাপাশি নেতৃত্ব উন্নয়ন ও স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকাণ্ডে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছেন।

 

নিজের প্রতিক্রিয়ায় সিয়াম বলেন, “সাত বছর আগে ইউনিস্যাবে একজন নতুন সদস্য হিসেবে যাত্রা শুরু করি। সেই পথচলাই আমাকে আজকের এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে। এখন আমার লক্ষ্য ইউনিস্যাবকে আরও শক্তিশালী প্ল্যাটফর্মে রূপান্তর করা।”

 

তিনি আরও জানান, তার অন্যতম লক্ষ্য হলো ইউনিস্যাবকে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে সংযুক্ত করা এবং বাংলাদেশের যুব সমাজকে আন্তর্জাতিক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা। পাশাপাশি বৈশ্বিক নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর দিকেও গুরুত্ব দেবেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

 

নবনির্বাচিত কমিটির সদস্যরা সংগঠনটির কার্যক্রম সম্প্রসারণ, নেতৃত্ব বিকাশ এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সম্পৃক্ততা বাড়াতে কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন। একই সঙ্গে বিদায়ী কমিটির অবদান কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করা হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

Advertisement

আমেরিকা

View more
ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের এইচ-১বি কড়াকড়ি ও ভারতীয় প্রযুক্তিকর্মীদের ছাঁটাইয়ের চাপে টেক্সাসের আবাসন বাজারে ধসের আভাস

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ডালাসের উত্তরের শহরতলীগুলো কয়েক বছর ধরেই দেশটির সবচেয়ে দ্রুতবর্ধনশীল আবাসন বাজারগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত ছিল। বিশেষ করে ভারতীয় বংশোদ্ভূত উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন প্রযুক্তিকর্মীদের বড় একটি অংশ সেখানে বসতি গড়ায় নতুন বাড়ির চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচিতে কঠোর অবস্থান এবং প্রযুক্তিখাতে বড় পরিসরের চাকরি ছাঁটাইয়ের প্রভাব এখন সেই বাজারে স্পষ্ট হয়ে উঠছে।   আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ব্লুমবার্গের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডালাসের উত্তরের কলিন কাউন্টি ও আশপাশের এলাকায় বাড়ির দাম ইতোমধ্যে কমতে শুরু করেছে। কয়েক বছর আগেও যেখানে বাড়ির দাম লাগামহীনভাবে বাড়ছিল, এখন সেখানে ক্রেতা সংকট এবং মূল্য সংশোধনের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।   এইচ-১বি ভিসা মূলত বিদেশি উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীদের জন্য দেওয়া হয়, যাদের বড় অংশ প্রযুক্তিখাতে কাজ করেন। গত কয়েক বছরে টেক্সাসের করপোরেট করিডোরে অসংখ্য প্রযুক্তি ও বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের সদর দপ্তর স্থানান্তর হওয়ায় ভারতীয় প্রযুক্তিকর্মীদের ঢল নামে ডালাসের উত্তরাঞ্চলে। রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান সিবিআরই গ্রুপের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি করপোরেট সদর দপ্তর স্থানান্তরের ঘটনা ঘটেছে এই অঞ্চলে।   এর ফলে প্রসপার, ফ্রিসকো ও সেলিনা শহরে নতুন আবাসিক প্রকল্প গড়ে ওঠে দ্রুতগতিতে। অনেক এলাকায় মাত্র পাঁচ বছরের ব্যবধানে জনসংখ্যা তিন গুণেরও বেশি বেড়ে যায়। নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো ক্রমবর্ধমান চাহিদা সামাল দিতে হিমশিম খেতে থাকে।   তবে পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে শুরু করেছে। প্রযুক্তিখাতে ব্যাপক চাকরি ছাঁটাইয়ের পাশাপাশি এইচ-১বি কর্মসূচিতে কড়াকড়ি আরোপের কারণে নতুন বিদেশি কর্মী আগমন কমে গেছে। বিভিন্ন শিল্প বিশ্লেষকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসেই প্রযুক্তিখাতে ৫২ হাজারের বেশি চাকরি হারিয়েছে। ২০২৬ সালের গ্রীষ্মের শুরু নাগাদ সেই সংখ্যা ১ লাখ ২৩ হাজার ছাড়িয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রসারকে এসব চাকরি কমানোর অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।   রিয়েল এস্টেট প্ল্যাটফর্ম রেডফিনের তথ্য বলছে, ডালাস-ফোর্ট ওর্থ মহানগর এলাকায় বাড়ির দাম যেখানে গড়ে প্রায় ৪ শতাংশ কমেছে, সেখানে কলিন কাউন্টিতে দাম কমেছে প্রায় ৯ শতাংশ। বিশ্লেষকদের মতে, একসময় যারা নতুন বাড়ি কেনার বাজারে সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি ছিলেন, সেই ভারতীয় প্রযুক্তিকর্মীদের একটি অংশ এখন চাকরি অনিশ্চয়তা, ভিসা জটিলতা কিংবা অন্য অঙ্গরাজ্যে স্থানান্তরের কারণে বাজার থেকে সরে যাচ্ছেন।   ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বাইডেন প্রশাসনের সময় ডালাস অঞ্চলে প্রায় ৩২ হাজার নতুন এইচ-১বি অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল, যা সিলিকন ভ্যালি, সিয়াটল, সান ফ্রান্সিসকো এবং ওয়াশিংটন ডিসিকেও ছাড়িয়ে যায়। শুধু নিউইয়র্ক মহানগর অঞ্চল এ ক্ষেত্রে ডালাসের চেয়ে এগিয়ে ছিল।   অর্থনীতিবিদদের একটি অংশ মনে করছেন, অতিরিক্ত দ্রুতগতিতে বাড়তে থাকা আবাসন বাজারে এই মূল্য সংশোধন হয়তো দীর্ঘমেয়াদে কিছুটা ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে পারে। তবে স্থানীয় নির্মাণশিল্প, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও আবাসন খাতের সঙ্গে জড়িত অনেকেই আশঙ্কা করছেন, প্রযুক্তিখাতে অনিশ্চয়তা আরও বাড়লে এর প্রভাব টেক্সাসের অর্থনীতির ওপরও পড়তে পারে।   বিশ্লেষকদের মতে, গত কয়েক বছরে যে শহরতলীগুলোকে “নতুন প্রযুক্তি কেন্দ্র” হিসেবে দেখা হচ্ছিল, সেখানে এখন নতুন বাস্তবতা তৈরি হচ্ছে—যেখানে অভিবাসন নীতি, প্রযুক্তিখাতের পুনর্গঠন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব একসঙ্গে আবাসন বাজারের চিত্র বদলে দিচ্ছে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: জুন ৫, ২০২৬ ২১:৩৭
লস এঞ্জেলসে ৪০তম ফোবানা কনভেনশন ২০২৬

লস এঞ্জেলসে ৪০তম ফোবানা কনভেনশন ২০২৬ উপলক্ষে হোস্ট কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত

ছবি: আমেরিকা বাংলা

ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতি অবৈধ ঘোষণা, ৩৯ দেশের আবেদনকারীদের পক্ষে রায় মার্কিন আদালতের

নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলি প্রার্থী জাকির চৌধুরীর কমিউনিটি সভা

নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলি প্রার্থী জাকির চৌধুরীর কমিউনিটি সভা, তুলে ধরলেন নির্বাচনী পরিকল্পনা

নিউইয়র্কে বর্ণাঢ্য আয়োজনে আত্মপ্রকাশ করল ‘আব্দুল আলীম স্মৃতি পরিষদ যুক্তরাষ্ট্র’
নিউইয়র্কে বর্ণাঢ্য আয়োজনে আত্মপ্রকাশ করল ‘আব্দুল আলীম স্মৃতি পরিষদ যুক্তরাষ্ট্র’

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে আত্মপ্রকাশ করেছে নতুন সংগঠন ‘আব্দুল আলীম স্মৃতি পরিষদ যুক্তরাষ্ট্র’। বাংলাদেশের লোকসংগীত সম্রাট আব্দুল আলীমের স্মরণে আয়োজিত এক সংগীতানুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সংগঠনটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।   গত রোববার (৩১ মে) সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটস সংলগ্ন জ্যামাইকার হিলসাইড অ্যাভিনিউয়ের একটি মিলনায়তনে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি পরিবারসহ অংশ নেন।   আয়োজকরা জানান, আব্দুল আলীম বাংলাদেশের সংগীত ইতিহাসে এক অনন্য নাম। তার কালজয়ী গান ও জীবনকর্ম নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই ‘আব্দুল আলীম স্মৃতি পরিষদ যুক্তরাষ্ট্র’ গঠন করা হয়েছে।   সংগঠনের সভাপতি বেলাল আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যবসায়ী ও শাহ নেওয়াজ গ্রুপের কর্ণধার লায়ন শাহ নেওয়াজ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোল্ডেন এজ হোম কেয়ারের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও সংগীতশিল্পী রানো নেওয়াজ।   অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আবৃত্তি শিল্পী ও কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট আহসান হাবিব। এতে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এবং আব্দুল আলীমের কন্যা জোহরা আলীম নুপুর। এছাড়া প্রবাসী কমিউনিটির বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ বক্তব্য রাখেন। তাদের মধ্যে ছিলেন প্রবীণ প্রবাসী নাসির খান পল, সাংবাদিক আকবর হায়দার কিরণ, নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেস ক্লাবের সভাপতি মনোয়ারুল ইসলাম এবং সংগীতশিল্পী বিপ্লব।   অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল লোকসংগীত পরিবেশনা। সংগীতশিল্পী জোহরা আলীম নুপুর ও শিমুল খান তাদের পরিবেশনায় দর্শকদের মুগ্ধ করেন। পরিবেশনার ফাঁকে তারা যথাক্রমে আব্দুল আলীম এবং জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী দিলরুবা খানের স্মৃতিচারণ করেন।   আব্দুল আলীমের গাওয়া জনপ্রিয় গানগুলো পরিবেশিত হলে মিলনায়তনে উপস্থিত প্রবাসীদের মধ্যে নস্টালজিক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি পরিবারসহ উপস্থিত থেকে গভীর রাত পর্যন্ত অনুষ্ঠানটি উপভোগ করেন।

নীলুফা নিশাত প্রকাশ: জুন ৪, ২০২৬ ২৩:১৯
পারিবারিক সংকট পেরিয়ে পূর্ণ বৃত্তি পেলেন টেনেসির কৃষক পরিবারের মেয়ে

খামার থেকে হার্ভার্ডে: পারিবারিক সংকট পেরিয়ে পূর্ণ বৃত্তি পেলেন টেনেসির কৃষক পরিবারের মেয়ে

ছবি: বাংলাদেশি উদ্যোক্তা নাজমুল হোসেন ও তার টিম

নিউইয়র্কের বাফেলো শহরের রিয়েল এস্টেট খাতে বাংলাদেশি উদ্যোক্তা নাজমুল হোসেনের সাফল্য

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বন্ড: কী, কেন এবং কারা সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হবেন

গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রে এসে ওভারস্টে করলেই বাড়ছে ঝুঁকি, কঠিন হচ্ছে ভিসা ও অভিবাসন সুবিধা

যুক্তরাষ্ট্রে ভিজিট ভিসায় এসে নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থানকারী বা ওভারস্টে করা ব্যক্তিদের জন্য পরিস্থিতি ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। বিশেষ করে, ভিজিট ভিসায় এসে ছয় মাসের বেশি সময় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকারীরা ভবিষ্যতে নতুন ভিসা পাওয়া, বৈধ অভিবাসন সুবিধা গ্রহণ এবং পুনরায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে নানা জটিলতার মুখোমুখি হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা।   তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় একজন ভিজিটরের জন্য যে সময়সীমা অনুমোদন করা হয়, সেই সময়সীমা অতিক্রম করলেই তাকে ওভারস্টে হিসেবে গণ্য করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে ভিসার মেয়াদ বহাল থাকলেও আই-৯৪ রেকর্ডে নির্ধারিত থাকার সময় শেষ হয়ে গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আইনগত জটিলতায় পড়তে পারেন।   বিশেষজ্ঞরা জানান, ১৮০ দিনের কম সময় ওভারস্টে করলে ভবিষ্যতে ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত যাচাই-বাছাইয়ের সম্মুখীন হতে হয়। তবে কেউ যদি ১৮০ দিনের বেশি কিন্তু এক বছরের কম সময় অবৈধভাবে অবস্থান করে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেন, তাহলে তার ওপর তিন বছরের পুনঃপ্রবেশ নিষেধাজ্ঞা আরোপ হতে পারে। আর এক বছরের বেশি সময় ওভারস্টে করলে যুক্তরাষ্ট্রে পুনঃপ্রবেশের ক্ষেত্রে ১০ বছরের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার আশঙ্কা থাকে।   সাম্প্রতিক সময়ে অভিবাসন নীতির কঠোর প্রয়োগের কারণে ওভারস্টে করা ব্যক্তিদের আবেদন মূল্যায়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আরও সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করছেন। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে ভিজিট ভিসায় অবস্থানকারীদের জন্য নতুন কোনো অভিবাসন সুবিধা বা বৈধতার সুযোগ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন অভিবাসন ফোরাম এবং অভিজ্ঞ আইনজীবীদের পর্যবেক্ষণেও দেখা যাচ্ছে, ওভারস্টে সংক্রান্ত বিষয়গুলো বর্তমানে আবেদন মূল্যায়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।   অভিবাসন আইনজীবীরা সতর্ক করে বলেছেন, যারা বর্তমানে ভিজিট ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন, তাদের নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। অন্যথায় ভবিষ্যতে ভিসা নবায়ন, স্থায়ী বসবাসের আবেদন কিংবা পুনরায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি জটিলতা তৈরি হতে পারে।   তারা আরও পরামর্শ দিয়েছেন, ওভারস্টে-সংক্রান্ত কোনো সমস্যায় পড়লে দ্রুত অভিজ্ঞ অভিবাসন আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করা এবং যথাসময়ে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করাই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।   এ বিষয়ে অ্যাটর্নি খায়রুল বাশার বলেন, আগে অনেক ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রে এসে ওভারস্টে করলেও তার নিকটাত্মীয়, যেমন স্বামী-স্ত্রী, বাবা-মা বা সন্তান দেশটিতে বৈধভাবে অবস্থান করলে পরিস্থিতি বিবেচনায় কিছু ছাড় পাওয়া যেত। তবে বর্তমানে সেই সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।   তিনি বলেন, অতীতে যারা ওভারস্টে করেছেন বা বর্তমানে ওভারস্টের অবস্থায় রয়েছেন, তারা ইমিগ্রেশন সুবিধার জন্য আবেদন করলে অনেক ক্ষেত্রেই আবেদন প্রত্যাখ্যাত হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়াচ্ছে।   খায়রুল বাশার আরও বলেন, যারা ওভারস্টে করে পরবর্তীতে স্ট্যাটাস অ্যাডজাস্ট করার পরিকল্পনা করছেন, তাদের সফল হওয়ার সম্ভাবনা এখন আগের তুলনায় অনেক কম। তাই কেউ যেন ইচ্ছাকৃতভাবে ওভারস্টে না করেন। যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে থাকতে চাইলে নিজের যোগ্যতা অনুযায়ী উপযুক্ত কোনো ক্যাটাগরিতে আবেদন করা উচিত। এ ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।   তার মতে, অনেকেই সামান্য ফি দিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে নিজেরাই আবেদনপত্র জমা দেন। পরে দেখা যায়, প্রয়োজনীয় নথি ও আইনি বিষয়গুলো যথাযথভাবে উপস্থাপন না হওয়ায় আবেদন অনুমোদিত হয় না এবং বিভিন্ন ধরনের জটিলতা সৃষ্টি হয়। তাই কোনো আবেদন করার আগে আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।   তিনি আরও বলেন, ওভারস্টে একটি গুরুতর সমস্যা। এর ফলে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগকে অনিশ্চিত করে তুলতে পারে। একই সঙ্গে অভিবাসন আইন ও নীতিমালায় প্রতিনিয়ত পরিবর্তন আসায় আবেদনকারী ও অপেক্ষমাণদের জন্য প্রক্রিয়াটি আরও কঠিন হয়ে উঠছে। তবে যারা বর্তমানে কোনো বৈধ অভিবাসন স্ট্যাটাস ছাড়া অবস্থান করছেন, তাদের উচিত নিজেদের যোগ্যতা ও পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে আইনজীবীর পরামর্শে অন্তত একটি বৈধ আবেদন দাখিল করা।

শাহারিয়া নয়ন প্রকাশ: জুন ৩, ২০২৬ ২২:১০
ছবি: সংগৃহীত

ফ্লোরিডায় বাড়ির মালিকদের জন্য আড়াই লাখ ডলার পর্যন্ত সম্পত্তি কর ছাড়ের প্রস্তাব ভোটে যাচ্ছে

ছবি: সংগৃহীত

আইওয়ায় ট্রাম্প-সমর্থিত প্রার্থীর হার, ক্যালিফোর্নিয়ায় হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, নিউজার্সিতে মুসলিম প্রার্থীর উত্থান

ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্ক সিটিতে ২-কে চাইল্ড কেয়ারের আবেদন শুরু, দুই বছর বয়সীদের জন্য বিনামূল্যে সেবা চালু

0 Comments