যুক্তরাষ্ট্রে কুড়িয়ে পাওয়া ২০ ডলারেই কপাল খুলল কাঠমিস্ত্রির, জিতলেন ১০ লাখ ডলারের লটারি
রাস্তায় কুড়িয়ে পাওয়া সামান্য ২০ ডলার যে কারও জীবনের মোড় এভাবে ঘুরিয়ে দিতে পারে, তা হয়তো কল্পনাও করেননি যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলিনার এক কাঠমিস্ত্রি।
সম্প্রতি একটি গ্যাস স্টেশনের পার্কিং লট থেকে ২০ ডলারের একটি নোট কুড়িয়ে পেয়েছিলেন তিনি। সেই টাকা দিয়ে শখের বশে একটি ‘স্ক্র্যাচ-অফ’ লটারি টিকিট কিনতেই ঘটে যায় অবিশ্বাস্য এক ঘটনা।
লটারি ঘষতেই তিনি দেখতে পান, রাতারাতি ১ মিলিয়ন (১০ লাখ) ডলারের বিশাল পুরস্কার জিতে নিয়েছেন তিনি!
সরকারি কর পরিশোধের পর এই কাঠমিস্ত্রি নগদ ৪ লাখ ডলারেরও বেশি অর্থ বাড়িতে নিয়ে গেছেন। টানা ৫৬ বছর ধরে কাঠমিস্ত্রি হিসেবে হাড়ভাঙা খাটুনির পর বিশাল অঙ্কের এই অর্থ পেয়ে তিনি এখন স্থায়ীভাবে অবসরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
আর জীবনের এই স্মরণীয় মুহূর্ত ও আনন্দ উদযাপন করতে তিনি খুব সাধারণভাবেই স্থানীয় ‘গোল্ডেন কোরাল’ রেস্তোরাঁয় নিজের পছন্দের খাবার খেয়েছেন।
ভাগ্য সুপ্রসন্ন হলে নিতান্তই সাধারণ একটি ঘটনাও যে কীভাবে জাদুকরী রূপ নিতে পারে, এই ঘটনাটি যেন তারই এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে একসঙ্গে বসবাসের স্বপ্ন দেখেছিলেন ডাস্টিন হফম্যান। কিন্তু দীর্ঘ ভিসা-প্রক্রিয়ার জটিলতায় তাঁর স্ত্রী গ্লোরিয়া হফম্যান, পাঁচ বছরের মেয়ে ছায়া এবং ১২ বছর বয়সী সৎছেলে ইসরায়েল এখনো আর্জেন্টিনায় আটকে আছেন। পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসার আবেদন করার প্রায় এক বছর পরও তাঁদের অপেক্ষার অবসান হয়নি। ২৬ অক্টোবর প্রকাশিত এনপিআরের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই পরিবারের বিচ্ছেদের কষ্ট এবং যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী ভিসার অপেক্ষায় থাকা হাজারো মানুষের অনিশ্চয়তার চিত্র। ডাস্টিন হফম্যান আগে মার্কিন সেনাবাহিনীতে কাজ করেছেন। ২০১৩ সালে ইরাকে দায়িত্ব পালন শেষে তিনি আর্জেন্টিনায় চলে যান। সেখানে পরিবারের সঙ্গে বসবাস শুরু করেন। পরে স্ত্রী ও সন্তানদের যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের প্রক্রিয়া শুরু করেন। তাঁর আশা ছিল, সন্তানরা যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা ও বেড়ে ওঠার আরও সুযোগ পাবে। কিন্তু সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হতে দেরি হচ্ছে। হফম্যানের স্ত্রী কলম্বিয়ার নাগরিক। মার্কিন প্রশাসনের অভিবাসন ভিসা-সংক্রান্ত নীতির প্রভাবে তাঁর পরিবারের আবেদনও জটিলতায় পড়ে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়াকরণ স্থগিত করা হয়েছিল। এ নীতির আওতায় এমন কিছু আবেদনও পড়েছিল, যেগুলোর প্রক্রিয়া আগে থেকেই চলছিল। পরিস্থিতি আরও জটিল হয় যখন আগস্টে একটি ফেডারেল আদালত ওই স্থগিতাদেশ তুলে নেওয়ার নির্দেশ দেয়। কিন্তু আদালতের নির্দেশের পরও হফম্যানের পরিবার ভিসা পায়নি। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর তাঁদের আর্থিক সক্ষমতা সম্পর্কে অতিরিক্ত প্রমাণ চেয়েছে, যাতে তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বেন না—এমন বিষয় যাচাই করা যায়। হফম্যানের জন্য সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হলো সন্তানদের কাছ থেকে দূরে থাকা। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, মেয়ে বাবাকে কাছে না পেয়ে প্রায়ই কাঁদে এবং তাঁকে ফিরে পাওয়ার অপেক্ষা করে। সন্তানদের বেড়ে ওঠার গুরুত্বপূর্ণ সময়ে পাশে থাকতে না পারার কষ্টও তাঁকে তাড়িয়ে বেড়ায়। পরিবারটি একসময় আর্জেন্টিনায় একসঙ্গে থাকলেও এখন যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের পরিকল্পনা অনিশ্চয়তায় পড়েছে। হফম্যানের আশা, স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে আবার এক ছাদের নিচে থাকতে পারবেন। কিন্তু কখন সেই সুযোগ আসবে, তা এখনো পরিষ্কার নয়। এই পরিবার একা নয়। এনপিআরের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, জানুয়ারিতে নীতিটি কার্যকর হওয়ার সময় ২ লাখ ৮০ হাজারের বেশি অভিবাসী ভিসার আবেদনকারী এর প্রভাবে পড়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে মার্কিন নাগরিক ও স্থায়ী বাসিন্দাদের পরিবারের সদস্যরাও ছিলেন। কেউ কেউ ভিসার অনুমোদন পেয়েও চূড়ান্ত কাগজ হাতে পাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন। অভিবাসন আইনজীবীদের বক্তব্য অনুযায়ী, আদালতের নির্দেশের পরও ভিসা সাক্ষাৎকার, যাচাই-বাছাই ও চূড়ান্ত অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় বিলম্ব অব্যাহত রয়েছে। অন্যদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, সম্ভাব্য সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীলতার বিষয়টি যাচাই করতে দূতাবাস ও কনস্যুলেটের কর্মকর্তাদের জন্য অতিরিক্ত প্রশিক্ষণ চালু করা হয়েছে। এ কারণে কিছু আবেদনকারীর ক্ষেত্রে নতুন করে প্রমাণ জমা দেওয়ার প্রয়োজন হচ্ছে। হফম্যান পরিবারের ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের স্বপ্ন দেখা পরিবারগুলোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা সামনে এনেছে। ভিসার আবেদন শুধু কাগজপত্রের বিষয় নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে স্বামী-স্ত্রীর একসঙ্গে থাকা, সন্তানদের শিক্ষা, পারিবারিক নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা।
বাবাকে ছাড়া রেস্তোরাঁ চালাচ্ছেন ছয় সন্তান, অভিবাসন জটিলতায় অনিশ্চিত পুরো পরিবারের ভবিষ্যৎ
ভোট জালিয়াতির তথ্য দিলেই ১০ লাখ ডলার! মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের ঘোষণা
ওয়ার্ক পারমিট নবায়নের নতুন নিয়মে চাকরি হারানোর শঙ্কায় প্রবাসী বাংলাদেশিরা
লস অ্যাঞ্জেলেসে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে অবৈধভাবে ভোট দেওয়ার অভিযোগে এক ভারতীয় নাগরিককে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে দেশটির অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা আইসিই। সংস্থাটির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক পোস্টে বলা হয়েছে, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনসের লস অ্যাঞ্জেলেস শাখা ফেডারেল গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে ওই ব্যক্তিকে আটক করেছে। তবে পোস্টে তাঁর নাম, বয়স, গ্রেপ্তারের তারিখ কিংবা মামলার বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ ১৯ অক্টোবর ক্যালিফোর্নিয়ায় নির্বাচনী অপরাধের অভিযোগে ২৮ জন বিদেশি নাগরিকের বিরুদ্ধে মামলা এবং তাঁদের মধ্যে ১১ জনকে গ্রেপ্তারের তথ্য প্রকাশ করে। বিচার বিভাগের বিবৃতি অনুযায়ী, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভোটার হিসেবে প্রতারণামূলক নিবন্ধন, ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দেওয়া এবং নাগরিকত্বের আবেদনপত্রে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার মতো অভিযোগ রয়েছে। তবে আইসিইর সাম্প্রতিক পোস্টে উল্লেখ করা ব্যক্তিই ওই ২৮ জনের মধ্যে একজন কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। বিচার বিভাগের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তদের মধ্যে ৩০ বছর বয়সী ভারতীয় নাগরিক আমানদীপ কৌর রয়েছেন। তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার র্যাঞ্চো পালোস ভার্দেসে বসবাসকারী একজন বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা বা গ্রিন কার্ডধারী। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি ২০২২ সালের ডিসেম্বরে ভোটার হিসেবে নিবন্ধন করেন এবং ২০২৪ সালের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ভোট দেন। তবে আইসিইর পোস্টে তাঁর নাম উল্লেখ না থাকায় সাম্প্রতিক গ্রেপ্তারের সঙ্গে আমানদীপ কৌরের সরাসরি যোগসূত্র নিশ্চিত নয়। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অধিকার মার্কিন নাগরিকদের জন্য নির্ধারিত। গ্রিন কার্ডধারীরা বৈধভাবে দেশটিতে বসবাস করলেও ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দিতে পারেন না। ভোটার নিবন্ধনের সময় নাগরিকত্ব সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য দেওয়া কিংবা অযোগ্য হওয়া সত্ত্বেও ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দেওয়া ফৌজদারি অপরাধের আওতায় পড়তে পারে। ক্যালিফোর্নিয়ায় নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে সম্প্রতি ফেডারেল সরকার ও অঙ্গরাজ্য কর্তৃপক্ষের মধ্যে বিরোধও তৈরি হয়েছে। বিচার বিভাগ দাবি করেছে, অঙ্গরাজ্যের ভোটার তালিকায় ২০ হাজারের বেশি সম্ভাব্য অ-মার্কিন নাগরিকের নাম রয়েছে। তবে এসব ব্যক্তির সবাই যে অবৈধভাবে ভোট দিয়েছেন, এমন তথ্য প্রতিষ্ঠিত নয়। ক্যালিফোর্নিয়ার কর্তৃপক্ষ ফেডারেল সরকারের পদক্ষেপ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে। আইসিইর পোস্টে উল্লিখিত গ্রেপ্তারের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ না হওয়ায় অভিযুক্ত ব্যক্তির পরিচয় ও মামলার বর্তমান অবস্থা স্পষ্ট নয়। অন্যদিকে, বিচার বিভাগের মামলাগুলোতে উত্থাপিত অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। আদালতে অপরাধ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত ব্যক্তিদের নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করার আইনি নীতি প্রযোজ্য।
যুক্তরাষ্ট্র থেকে তৃতীয় দেশে অভিবাসী বহিষ্কার, ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি যাচাইয়ে সুপ্রিম কোর্ট
মায়ের অপেক্ষায় কাঁদছে দুই শিশু, আট মাস পর গুয়াতেমালায় পুনর্মিলনের পথে পরিবার
বাড়ি কেনার স্বপ্নে চোখে পানি, যুক্তরাষ্ট্রে নতুন ক্রেতাদের দুশ্চিন্তা বাড়ছে
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন অভিযানকে ঘিরে উদ্বেগের মধ্যে মা-বাবা ও সন্তানদের বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার ঘটনা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। গত ২০ অক্টোবর প্রকাশিত এবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে ফ্লোরিডার ডোমিঙ্গো পরিবারের হৃদয়বিদারক অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে। পরিবারের ১৮ বছর বয়সী মেয়ে ওয়েন্ডি ডোমিঙ্গোকে এখন ছোট চার ভাইবোনের দায়িত্ব সামলাতে হচ্ছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৯ আগস্ট ওয়েন্ডি তাঁর মা-বাবা ও চার ছোট ভাইবোনকে নিয়ে নতুন শিক্ষাবর্ষের জন্য জুতা কিনতে যাচ্ছিলেন। পথে সীমান্তরক্ষী কর্মকর্তারা তাঁদের গাড়ি থামান। ওয়েন্ডি ও তাঁর ভাইবোনেরা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হলেও তাঁদের মা-বাবার অভিবাসন অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। পরে তাঁর মা-বাবাকে আটক করা হয়। ঘটনাটির ভিডিওতে ওয়েন্ডিকে বাবাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে এবং কেন তাঁরা বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন, তা নিয়ে আক্ষেপ করতে দেখা যায়। পরে মা-বাবাকে গুয়াতেমালায় ফেরত পাঠানো হয়। ওয়েন্ডি থেকে যান যুক্তরাষ্ট্রে, ছোট ভাইবোনদের দেখাশোনার দায়িত্ব নিয়ে। পরিবারের সদস্যদের জন্য এই বিচ্ছেদ শুধু আবেগের সংকট নয়, বরং দৈনন্দিন জীবন, পড়াশোনা ও আর্থিক দায়িত্বেরও বড় পরিবর্তন। এ ধরনের পরিস্থিতির প্রভাব শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও পড়তে পারে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ২৮ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদনে অভিবাসন অভিযানের পর মা-বাবা থেকে বিচ্ছিন্ন শিশুদের মধ্যে ভয়, উদ্বেগ, ঘুমের সমস্যা ও মানসিক চাপের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে। তবে প্রতিটি পরিবারের পরিস্থিতি আলাদা, এবং কোনো একটি পরিবারের ঘটনা দিয়ে সব অভিবাসী পরিবারের অভিজ্ঞতা বিচার করা যায় না। যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ এবিসি নিউজকে জানিয়েছে, তাদের নীতি অনুযায়ী শিশুদের নিরাপদ পরিচর্যার ব্যবস্থা বিবেচনা করা হয় এবং মা-বাবাকে সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার বিকল্প দেওয়া হতে পারে। অন্যদিকে, অভিবাসন অধিকারকর্মীরা বলছেন, বাস্তবে পরিবার বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকি শিশুদের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। অভিবাসনসংক্রান্ত আইন প্রয়োগের বিতর্কের বাইরে এই ঘটনাগুলো একটি মানবিক প্রশ্ন সামনে আনে—মা-বাবার অনুপস্থিতিতে ছোট শিশুদের দেখাশোনা, স্কুলে যাওয়া এবং মানসিক স্থিতি বজায় রাখার দায়িত্ব কে নেবে? ওয়েন্ডির পরিবারের অভিজ্ঞতা দেখায়, অভিবাসনসংক্রান্ত সিদ্ধান্তের প্রভাব শুধু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; তা পুরো পরিবারের জীবন বদলে দিতে পারে।
বাড়ি কিনবেন নাকি অপেক্ষা করবেন, সুদের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে লাখো পরিবার
ভিসার অপেক্ষায় ভাঙছে পরিবারের স্বপ্ন, সন্তানদের থেকে দূরে থাকতে হচ্ছে মা-বাবাকে