বিশ্ব

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারকে ট্রাম্প, ভ্যান্স ও গালিবাফের স্বাক্ষর

মোহাম্মদ ইব্রাহিম প্রকাশ: জুন ১৫, ২০২৬ ২২:২
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ কয়েক মাসের উত্তেজনা, সামরিক সংঘাত এবং কূটনৈতিক টানাপোড়েনের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের কর্মকর্তারা এটিকে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বর্ণনা করছেন।

 

মার্কিন কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট জে. ডি. ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছেন। তবে আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান আগামী শুক্রবার অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

 

চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার উদ্যোগ। সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে চলাচল ব্যাহত হয়েছিল। মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, ধীরে ধীরে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা হবে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে।

 

এছাড়া ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত কিছু মার্কিন বিধিনিষেধ শিথিল করা এবং আগামী ৬০ দিনের মধ্যে পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করার বিষয়ও সমঝোতার অংশ বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। তবে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সমাধানে পৌঁছানো যায়নি। বরং এটি ভবিষ্যৎ আলোচনার জন্য রেখে দেওয়া হয়েছে।

 

তবে চুক্তির পূর্ণাঙ্গ পাঠ এখনো প্রকাশ না হওয়ায় বেশ কিছু বিষয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির ব্যবহার, সম্ভাব্য অর্থনৈতিক সুবিধা এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিলের শর্ত নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে পার্থক্য দেখা যাচ্ছে।

 

ইরানি সূত্রগুলো বলছে, প্রণালিটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ফি বা বিশেষ ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন, খুব শিগগিরই কোনো অতিরিক্ত টোল বা বাধা ছাড়াই আন্তর্জাতিক নৌযান চলাচল শুরু হবে।

 

মার্কিন প্রশাসন আরও জানিয়েছে, ভবিষ্যতে নিষেধাজ্ঞা শিথিল বা ইরানের স্থগিত সম্পদ মুক্ত করার বিষয়গুলো তেহরানের সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে। অর্থাৎ বর্তমান সমঝোতা একটি কাঠামোগত চুক্তি হলেও অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখনো আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে।

 

এদিকে সমঝোতা নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সব বিষয়ে তাদের অবস্থান এক নয়। একই সময়ে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনী ও ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে।

 

বিশ্লেষকদের মতে, এই সমঝোতা স্মারক তাৎক্ষণিকভাবে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কমাতে সহায়ক হতে পারে। তবে পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং মিত্র গোষ্ঠীগুলোর ভূমিকার মতো জটিল প্রশ্নগুলোর সমাধান না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত স্থিতিশীলতা নিশ্চিত বলা যাচ্ছে না।

 

তা সত্ত্বেও, কয়েক মাসের সংঘাতের পর ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আনুষ্ঠানিক সমঝোতার পথে অগ্রসর হওয়াকে কূটনৈতিক অঙ্গনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বিশ্ব

View more
যন্তর মন্তরের শিক্ষার্থী বিক্ষোভ প্রসঙ্গে ভিডিও বার্তা দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ছবি: সংগৃহীত
গালাগালির অভিযোগ তুলে গভীর রাতে ভিডিও বার্তা দিলেন মোদি

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে আয়োজিত এক শিক্ষার্থী বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজেকে এবং তার প্রয়াত মাকে লক্ষ্য করে আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন। তবে ঘটনার জেরে কঠোর অবস্থান নেওয়ার পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট তরুণ-তরুণীদের ক্ষমা করে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।   শুক্রবার (৩১ জুলাই) দিবাগত রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা এক ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী মোদি এ বিষয়ে নিজের প্রতিক্রিয়া জানান। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি যন্তর মন্তরে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ চলাকালে এক নারী শিক্ষার্থীর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। পরে গত ২৩ জুলাই তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা হয়।   ভিডিও বার্তায় মোদি বলেন, “যন্তর মন্তরে যা ঘটেছে, তা গোটা দেশ ও বিশ্ব দেখেছে। কিছু বিপথগামী তরুণ এমন ভাষা ব্যবহার করেছে, যা কোনো সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। শুধু আমাকে নয়, আমার প্রয়াত মাকেও তারা অপমান করেছে।” ভিডিওর সঙ্গে দেওয়া বার্তায় তিনি লেখেন, “গালিগালাজ করে কোনো সমস্যার সমাধান হয় না। আসুন, বিপথগামীদের সঠিক পথ দেখাই। সবাই মিলে ভারতের সমৃদ্ধির জন্য কাজ করি।” তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপের পক্ষে নন বলেও জানান ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী। তার ভাষায়, তরুণ বয়সে মানুষ ভুল করতে পারে এবং সেই ভুল সংশোধনের সুযোগও থাকা উচিত।   মোদি বলেন, “সমাজে যে ক্ষোভ রয়েছে, তা আমি বুঝি। কিন্তু এই তরুণদের দূরে ঠেলে দেওয়া বা আদালতে টেনে হয়রানি করা কোনো সমাধান নয়। এরা আমাদেরই সন্তান। ভালোবাসা ও সহমর্মিতার মাধ্যমে তাদের সঠিক পথে ফিরিয়ে আনা আমাদের দায়িত্ব।” ভিডিও বার্তায় তিনি ব্যক্তিগতভাবে ওই তরুণ-তরুণীদের ক্ষমা করে দেওয়ার ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে সমাজের সব স্তরের মানুষের প্রতিও তাদের প্রতি সহনশীল ও উদার মনোভাব প্রদর্শনের আহ্বান জানান।   এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে নোয়ডার এক্সপ্রেসওয়ে থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার কয়েকটি ধারায় একটি জিরো এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে শান্তিভঙ্গের উসকানি, বিভ্রান্তি ছড়ানো এবং মানহানির বিষয় রয়েছে। পরে জিরো এফআইআরের বিধান অনুযায়ী মামলাটি তদন্তের জন্য দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় হস্তান্তর করা হয়।   অন্যদিকে, শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে আন্দোলনের আয়োজক সংগঠন। সংগঠনটির মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেন, ব্যবহৃত ভাষার শালীনতা নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে, কিন্তু প্রতিবাদী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের গণতান্ত্রিক চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।   বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক প্রতিবাদ এবং আইন প্রয়োগের সীমা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোদির ক্ষমার আহ্বানও দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১, ২০২৬ ০:১৩
অভিবাসন সংকটকে কেন্দ্র করে স্পেনের সঙ্গে শেনজেন সুবিধা স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে ইতালি। ছবি: সংগৃহীত

সেউতা সংকটের জেরে স্পেনের সঙ্গে শেনজেন সুবিধা স্থগিত করল ইতালি

অনলাইন কনটেন্ট সংক্রান্ত মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন রুশ মডেল সোফিয়া ভারশিনিনা। ছবি: সংগৃহীত

পুতিনের পর্নবিরোধী অভিযানে কারাদণ্ড এড়ালেও ৩ বছর ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন না রুশ মডেল

নেপলসে ভূমিকম্পের পর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা। ছবি: সংগৃহীত

ইতালিতে ৪.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও ট্রেন চলাচল বন্ধ

দাদার সম্পত্তিতে বড় অংশ দাবি করে আদালতে গিয়েছিলেন টিয়ানা বার্লো। ছবি: সংগৃহীত
‘দাদা ছিলেন বাবার মতো’, এই অজুহাতে দাদার কোটি টাকার সম্পত্তি থেকে ১০ লাখ ডলার চেয়ে পেলেন মাত্র ১ লাখ ২৫ হাজার

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে দাদার ৫৬ লাখ ডলারের সম্পত্তি থেকে প্রায় ১০ লাখ ডলার দাবি করেছিলেন ২৭ বছর বয়সী টিয়ানা বার্লো। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নিউ সাউথ ওয়েলস সুপ্রিম কোর্ট তাকে মাত্র ১ লাখ ২৫ হাজার ডলার দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। রায়ে বিচারক এলিজাবেথ পেডেন মন্তব্য করেন, টিয়ানার দাবিতে ‘অযৌক্তিক অধিকারবোধ’ স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলের প্রকাশিত আদালতের নথিতে এ তথ্য উঠে এসেছে।   আদালতের নথি অনুযায়ী, টিয়ানার দাদা টেরেন্স বার্লো ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে মারা যান। এরপর তিনি পারিবারিক সম্পত্তিতে অতিরিক্ত অংশ পাওয়ার দাবিতে মামলা করেন। তার দাবি ছিল, দাদা তার কাছে কেবল দাদা ছিলেন না, বরং বাবার মতো দায়িত্ব পালন করেছেন। সে কারণেই দাদার সম্পত্তি থেকে উল্লেখযোগ্য অংশ পাওয়ার অধিকার তার রয়েছে। মামলায় টিয়ানা আদালতের কাছে দুই কক্ষের একটি ফ্ল্যাট কেনার জন্য সর্বোচ্চ ১০ লাখ ডলার, নতুন গাড়ি কেনার জন্য ৫৫ হাজার ৫০০ ডলার, আগের গাড়ির ঋণ পরিশোধে ১১ হাজার ১২৭ ডলার, ভবিষ্যতে আইভিএফ চিকিৎসার সম্ভাব্য খরচ হিসেবে ১০ হাজার ডলার এবং অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যয়ের জন্য আরও ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার চেয়েছিলেন।   টেরেন্স বার্লোর মোট সম্পত্তির মূল্য ছিল প্রায় ৫৬ লাখ ডলার। এর মধ্যে সিডনির বুরানিয়ারে অবস্থিত সমুদ্রতীরবর্তী পারিবারিক বাড়িটির মূল্য ছিল প্রায় ৪৭ লাখ ৫০ হাজার ডলার। এছাড়া শোল বে এলাকায় একটি অবকাশযাপন কেন্দ্রের বাড়ির মূল্য ছিল প্রায় ৯ লাখ ডলার। আদালতে টিয়ানা দাবি করেন, সম্পত্তির পরিমাণ এত বেশি যে পরিবারের সবাইকে দেওয়ার পরও তার জন্য পর্যাপ্ত অর্থ থাকবে। শুনানিতে উঠে আসে, টিয়ানার মা ১৭ বছর বয়সে তাকে জন্ম দেন। জীবনের প্রথম কয়েক বছর তিনি দাদা-দাদির সঙ্গে একই বাড়িতে ছিলেন। পরে মায়ের সঙ্গে থাকলেও ১৫ বছর বয়সে আবার দাদার বাড়িতে ফিরে আসেন এবং এরপর থেকেই সেখানে ভাড়ামুক্তভাবে বসবাস করছিলেন।   এই সময়ে টিয়ানা একাধিক হৃদযন্ত্রের অস্ত্রোপচার করান। আদালতে জানানো হয়, তার চিকিৎসার বিভিন্ন খরচ বহন করেছিলেন দাদা টেরেন্স এবং দাদি ফে মেরি বার্লো। স্কুলের ফি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যয়েও তারা সহায়তা করেছিলেন। তবে পরিবারের অন্য সদস্যরা টিয়ানার বক্তব্যের বিরোধিতা করেন। তাদের দাবি, টেরেন্স একজন স্নেহশীল দাদার দায়িত্ব পালন করেছেন, কিন্তু কখনোই অভিভাবকের ভূমিকা নেননি।   বিচারক এলিজাবেথ পেডেন রায়ে বলেন, টিয়ানা দীর্ঘদিন দাদা-দাদির কাছ থেকে থাকার জায়গা, খাবার, পোশাক ও আর্থিক সহায়তা পেয়েছেন। তবে এসব ছিল একজন দাদার স্বাভাবিক উদারতা। এতে বাবা-মেয়ের মতো সম্পর্কের প্রমাণ মেলে না। রায়ে বিচারক উল্লেখ করেন, টিয়ানা দাদার বাড়িতে দীর্ঘদিন ভাড়ামুক্ত থাকার সুযোগ পেয়েছিলেন। এই সময়ে তার অর্থ সঞ্চয়ের সুযোগ ছিল। কিন্তু প্রয়োজনীয় খরচের পরিবর্তে তিনি আয়ের বড় অংশ ব্যক্তিগত ও বিলাসী ব্যয়ে ব্যয় করেছেন।   মামলার সময় টিয়ানা একটি প্রতিষ্ঠানে স্টোর ম্যানেজার হিসেবে পদোন্নতি পান। আদালতে দেওয়া তথ্যে দেখা যায়, তার মাসিক আয় ছিল ৪ হাজার ৩৪২ ডলার। তবে তিনি দাবি করেন, মাসিক ব্যয় আয়ের চেয়ে প্রায় ৫৬৭ ডলার বেশি। তার ব্যয়ের তালিকায় প্রতি মাসে খাবার ও পানীয়ের জন্য ১ হাজার ডলার, কেনাকাটা ও ব্যক্তিগত ব্যয়ে ১ হাজার ৫০০ ডলার, চিকিৎসা ও পরিচর্যায় ৫৩০ ডলার এবং বিনোদনে ৩০০ ডলার দেখানো হয়েছিল।   বিচারক এসব হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, মামলার বিভিন্ন পর্যায়ে টিয়ানার ব্যয়ের হিসাব বারবার পরিবর্তিত হয়েছে। যেমন শুরুতে তিনি গণপরিবহনে সপ্তাহে ১০০ ডলার ব্যয়ের কথা বললেও পরে সেটি ব্যাখ্যা ছাড়াই মাসে ৯০০ ডলারে উন্নীত করেন। একইভাবে চিকিৎসা ব্যয়ের দাবিও আদালতের কাছে গ্রহণযোগ্য প্রমাণে সমর্থিত হয়নি। ভবিষ্যতে সন্তান নেওয়ার জন্য আইভিএফ চিকিৎসার সম্ভাব্য ব্যয় হিসেবে ১০ হাজার ডলার চাওয়ার দাবিও আদালত খারিজ করে দেন। বিচারকের মতে, ভবিষ্যতে এমন চিকিৎসার প্রয়োজন হবে, তা প্রমাণ করার মতো কোনো তথ্য টিয়ানা উপস্থাপন করতে পারেননি।   রায়ে বিচারক আরও বলেন, শুনানির শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত টিয়ানা অতিরিক্ত অর্থ দাবি করে গেছেন। পরে এসে তিনি নিজেই তার দাবির পরিমাণ কমিয়ে আনেন। এতে বোঝা যায়, মামলার শুরুতে করা দাবিগুলো বাস্তবসম্মত ছিল না।   সব দিক বিবেচনা করে আদালত টিয়ানাকে সম্পত্তি থেকে ১ লাখ ২৫ হাজার ডলার দেওয়ার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে বিচারক মন্তব্য করেন, টিয়ানা আর্থিকভাবে অসহায় নন। তার স্থায়ী চাকরি রয়েছে এবং স্বাভাবিক জীবনযাপনে কোনো বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতার প্রমাণও আদালতে পাওয়া যায়নি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৩১, ২০২৬ ২১:২২
সমুদ্রের উষ্ণতা বৃদ্ধির সঙ্গে বদলে যাচ্ছে সাদা হাঙরের স্বাভাবিক বিচরণক্ষেত্র। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা উপকূলে বাড়ছে হাঙরের আনাগোনা: সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে বদলে যাচ্ছে জলজ প্রাণীর বিচরণক্ষেত্র

সেউতা সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদারের মধ্যে ফিরে যাচ্ছেন অভিবাসীদের একটি অংশ। ছবি: সংগৃহীত

স্পেনের সেউতায় প্রাণ গেল ৫৭ অভিবাসীর, সীমান্ত পেরোনো হাজারো মানুষ ফিরতে শুরু করেছে

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও শেখ হাসিনা । ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা

ভারতে অবস্থান করে শেখ হাসিনার সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিষেধাজ্ঞা

দুর্ঘটনার পর ধসে পড়া খনিতে চলছে উদ্ধার অভিযান। ছবি: সংগৃহীত
পাকিস্তানে কয়লাখনিতে ভয়াবহ মিথেন বিস্ফোরণ, নিহত অন্তত ৩২ শ্রমিক

পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বেলুচিস্তান প্রদেশের একটি কয়লাখনিতে ভয়াবহ মিথেন গ্যাসের বিস্ফোরণে অন্তত ৩২ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর দীর্ঘ সময় ধরে চলা উদ্ধার অভিযানে একে একে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। খনির ভেতরে আরও কয়েকজন আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে এবং উদ্ধারকাজ এখনো অব্যাহত রয়েছে।   দুর্ঘটনাটি বৃহস্পতিবার কোয়েটার অদূরে সোরাঞ্জ এলাকার একটি কয়লাখনি কমপ্লেক্সে ঘটে। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, খনির ভেতরে অতিরিক্ত মিথেন গ্যাস জমে শক্তিশালী বিস্ফোরণের সৃষ্টি হয়। বিস্ফোরণের পর খনির একটি অংশ ধসে পড়ে, ফলে ভেতরে কর্মরত শ্রমিকরা আটকা পড়েন। বেলুচিস্তানের খনি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, বিস্ফোরণের সময় খনির ওই অংশে ৩৬ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন। উদ্ধারকারী দল এখন পর্যন্ত ৩২ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে। আরও কয়েকজন শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন। খনির গভীরে অক্সিজেনের ঘাটতি এবং ধসে পড়া অংশের কারণে জীবিত কাউকে উদ্ধারের সম্ভাবনা অত্যন্ত কম বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।   কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, বিস্ফোরণের তীব্রতায় পাশের আরও দুটি খনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধারকারী দল, নিরাপত্তা বাহিনী এবং খনি বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। তবে খনির ভেতরে বিষাক্ত গ্যাস এবং ধসে পড়া কাঠামোর কারণে অভিযান চালাতে উদ্ধারকর্মীদের চরম ঝুঁকির মুখে পড়তে হচ্ছে। বেলুচিস্তানের খনিজ ও খনি বিষয়ক মন্ত্রী শোয়েব নওশেরওয়ানি নিহতদের পরিবারের জন্য জনপ্রতি পাঁচ লাখ পাকিস্তানি রুপি ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছেন। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   পাকিস্তান সেন্ট্রাল মাইনস লেবার ফেডারেশন এই দুর্ঘটনার জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি ও অবহেলাকে দায়ী করেছে। শ্রমিক সংগঠনটির অভিযোগ, অধিকাংশ খনিতেই পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা, মিথেন গ্যাস শনাক্তকারী যন্ত্র এবং প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সরঞ্জামের অভাব রয়েছে। তারা নিরাপত্তা বিধি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।   পাকিস্তানে, বিশেষ করে বেলুচিস্তানে কয়লাখনিতে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা নতুন নয়। নিরাপত্তার দুর্বল মান, পর্যাপ্ত তদারকির অভাব এবং ঝুঁকিপূর্ণ কর্মপরিবেশের কারণে প্রায়ই এমন দুর্ঘটনা ঘটে। দারিদ্র্য ও বিকল্প কর্মসংস্থানের সংকটের কারণে হাজারো শ্রমিক জীবনের ঝুঁকি নিয়েই এসব খনিতে কাজ করতে বাধ্য হন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৩০, ২০২৬ ২৩:৩৮
গাজা নিয়ে নতুন শান্তি পরিকল্পনায় শর্তসাপেক্ষ নিরস্ত্রীকরণে সম্মতি দিয়েছে হামাস। ছবি: সংগৃহীত

গাজা সংকটে ঐতিহাসিক মোড়: সেনা প্রত্যাহারের শর্তে ধাপে ধাপে নিরস্ত্রীকরণে রাজি হামাস

নরেন্দ্র মোদির নামে ছড়িয়ে পড়া কথিত পদত্যাগপত্রকে ভুয়া বলেছে ভারত সরকার। ছবি: সংগৃহীত

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল মোদির ‘পদত্যাগপত্র’, যা জানা গেল

সংঘর্ষের পর সুনসারিসহ কয়েকটি জেলায় কারফিউ জারি করেছে নেপাল সরকার। ছবি: সংগৃহীত

নেপালে হিন্দু-মুসলিম সংঘর্ষে নিহত ৩, শান্ত থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

0 Comments