দীর্ঘ কয়েক মাসের উত্তেজনা, সামরিক সংঘাত এবং কূটনৈতিক টানাপোড়েনের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের কর্মকর্তারা এটিকে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বর্ণনা করছেন।
মার্কিন কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট জে. ডি. ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছেন। তবে আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান আগামী শুক্রবার অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার উদ্যোগ। সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে চলাচল ব্যাহত হয়েছিল। মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, ধীরে ধীরে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা হবে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে।
এছাড়া ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত কিছু মার্কিন বিধিনিষেধ শিথিল করা এবং আগামী ৬০ দিনের মধ্যে পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করার বিষয়ও সমঝোতার অংশ বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। তবে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সমাধানে পৌঁছানো যায়নি। বরং এটি ভবিষ্যৎ আলোচনার জন্য রেখে দেওয়া হয়েছে।
তবে চুক্তির পূর্ণাঙ্গ পাঠ এখনো প্রকাশ না হওয়ায় বেশ কিছু বিষয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির ব্যবহার, সম্ভাব্য অর্থনৈতিক সুবিধা এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিলের শর্ত নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে পার্থক্য দেখা যাচ্ছে।
ইরানি সূত্রগুলো বলছে, প্রণালিটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ফি বা বিশেষ ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন, খুব শিগগিরই কোনো অতিরিক্ত টোল বা বাধা ছাড়াই আন্তর্জাতিক নৌযান চলাচল শুরু হবে।
মার্কিন প্রশাসন আরও জানিয়েছে, ভবিষ্যতে নিষেধাজ্ঞা শিথিল বা ইরানের স্থগিত সম্পদ মুক্ত করার বিষয়গুলো তেহরানের সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে। অর্থাৎ বর্তমান সমঝোতা একটি কাঠামোগত চুক্তি হলেও অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখনো আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে।
এদিকে সমঝোতা নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সব বিষয়ে তাদের অবস্থান এক নয়। একই সময়ে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনী ও ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সমঝোতা স্মারক তাৎক্ষণিকভাবে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কমাতে সহায়ক হতে পারে। তবে পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং মিত্র গোষ্ঠীগুলোর ভূমিকার মতো জটিল প্রশ্নগুলোর সমাধান না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত স্থিতিশীলতা নিশ্চিত বলা যাচ্ছে না।
তা সত্ত্বেও, কয়েক মাসের সংঘাতের পর ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আনুষ্ঠানিক সমঝোতার পথে অগ্রসর হওয়াকে কূটনৈতিক অঙ্গনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না। নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার। তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।
দীর্ঘ কয়েক মাসের উত্তেজনা, সামরিক সংঘাত এবং কূটনৈতিক টানাপোড়েনের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের কর্মকর্তারা এটিকে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বর্ণনা করছেন। মার্কিন কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট জে. ডি. ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছেন। তবে আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান আগামী শুক্রবার অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার উদ্যোগ। সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে চলাচল ব্যাহত হয়েছিল। মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, ধীরে ধীরে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা হবে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে। এছাড়া ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত কিছু মার্কিন বিধিনিষেধ শিথিল করা এবং আগামী ৬০ দিনের মধ্যে পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করার বিষয়ও সমঝোতার অংশ বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। তবে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সমাধানে পৌঁছানো যায়নি। বরং এটি ভবিষ্যৎ আলোচনার জন্য রেখে দেওয়া হয়েছে। তবে চুক্তির পূর্ণাঙ্গ পাঠ এখনো প্রকাশ না হওয়ায় বেশ কিছু বিষয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির ব্যবহার, সম্ভাব্য অর্থনৈতিক সুবিধা এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিলের শর্ত নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। ইরানি সূত্রগুলো বলছে, প্রণালিটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ফি বা বিশেষ ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন, খুব শিগগিরই কোনো অতিরিক্ত টোল বা বাধা ছাড়াই আন্তর্জাতিক নৌযান চলাচল শুরু হবে। মার্কিন প্রশাসন আরও জানিয়েছে, ভবিষ্যতে নিষেধাজ্ঞা শিথিল বা ইরানের স্থগিত সম্পদ মুক্ত করার বিষয়গুলো তেহরানের সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে। অর্থাৎ বর্তমান সমঝোতা একটি কাঠামোগত চুক্তি হলেও অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখনো আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। এদিকে সমঝোতা নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সব বিষয়ে তাদের অবস্থান এক নয়। একই সময়ে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনী ও ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সমঝোতা স্মারক তাৎক্ষণিকভাবে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কমাতে সহায়ক হতে পারে। তবে পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং মিত্র গোষ্ঠীগুলোর ভূমিকার মতো জটিল প্রশ্নগুলোর সমাধান না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত স্থিতিশীলতা নিশ্চিত বলা যাচ্ছে না। তা সত্ত্বেও, কয়েক মাসের সংঘাতের পর ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আনুষ্ঠানিক সমঝোতার পথে অগ্রসর হওয়াকে কূটনৈতিক অঙ্গনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
দীর্ঘ এক দশকের রাজনৈতিক আলোচনা, বিতর্ক ও সমঝোতার পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নতুন অভিবাসন ও আশ্রয় নীতি “মাইগ্রেশন অ্যান্ড অ্যাসাইলাম প্যাক্ট” কার্যকর হয়েছে। শুক্রবার (১২ জুন) থেকে ইউরোপজুড়ে এই নীতির বাস্তবায়ন শুরু হয়, যার মাধ্যমে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, আশ্রয় আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি এবং সদস্য দেশগুলোর মধ্যে দায়িত্ব ভাগাভাগির নতুন কাঠামো চালু করা হয়েছে। ইউরোপীয় কমিশনের মতে, অভিবাসন ব্যবস্থাপনাকে আরও সমন্বিত, কার্যকর ও নিয়ন্ত্রিত করাই এই নতুন চুক্তির মূল উদ্দেশ্য। বিশেষ করে ২০১৫ সালের শরণার্থী সংকটের পর ইউরোপজুড়ে যে রাজনৈতিক চাপ ও মতবিরোধ তৈরি হয়েছিল, তার প্রেক্ষাপটেই এই সংস্কার আনা হয়েছে। নতুন নীতির আওতায় ইইউর বাহ্যিক সীমান্ত দিয়ে অনিয়মিতভাবে প্রবেশকারী ব্যক্তিদের জন্য বাধ্যতামূলক স্ক্রিনিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এতে অভিবাসীদের পরিচয়, জাতীয়তা, স্বাস্থ্যগত অবস্থা এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি যাচাই করা হবে। প্রাথমিক যাচাই সাধারণত সাত দিনের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। যেসব আশ্রয়প্রার্থীর আবেদন গ্রহণের সম্ভাবনা কম বলে বিবেচিত হবে, তাদের আবেদন সীমান্ত পর্যায়েই দ্রুত নিষ্পত্তি করা হবে। এতে দীর্ঘ সময় ধরে চলমান আশ্রয় প্রক্রিয়া কমবে বলে আশা করছে ইউরোপীয় কর্তৃপক্ষ। ইতালি, গ্রিস, স্পেন ও মাল্টার মতো সীমান্তবর্তী দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত অভিবাসন চাপের মুখে ছিল। নতুন চুক্তির অধীনে অন্যান্য সদস্য দেশকে আশ্রয়প্রার্থী গ্রহণ, আর্থিক সহায়তা অথবা প্রশাসনিক সহযোগিতার মাধ্যমে দায়িত্ব ভাগাভাগি করতে হবে। এই ব্যবস্থাকে “সংহতি প্রক্রিয়া” বলা হচ্ছে। চুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে ইউরোড্যাক ডাটাবেজ আরও উন্নত করা হয়েছে। এতে আঙুলের ছাপ, মুখাবয়বের ছবি এবং অন্যান্য বায়োমেট্রিক তথ্য সংরক্ষণ করা হবে, যাতে একজন ব্যক্তি একাধিক দেশে একাধিকবার আশ্রয় আবেদন করতে না পারেন এবং প্রক্রিয়া আরও কার্যকরভাবে পরিচালিত হয়। তবে নতুন ব্যবস্থার প্রথম দিনেই ইউরোড্যাক সিস্টেমে কিছু প্রযুক্তিগত ত্রুটি দেখা দেয়, যা কয়েকটি সদস্য দেশের কার্যক্রমে সাময়িক প্রভাব ফেলে। ইউরোপীয় কমিশন একে প্রাথমিক প্রযুক্তিগত সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো নতুন নীতির কিছু দিক নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের আশঙ্কা, সীমান্ত পর্যায়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের কারণে অনেক আশ্রয়প্রার্থী যথাযথ আইনি সহায়তা ও ন্যায্য শুনানির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই সংস্কার ইউরোপের অভিবাসন ব্যবস্থাকে আরও কঠোর ও নিয়ন্ত্রিত কাঠামোর দিকে নিয়ে যাবে। তবে এর কার্যকারিতা নির্ভর করবে সদস্য দেশগুলোর প্রস্তুতি, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং মানবাধিকার সুরক্ষার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার ওপর। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভিবাসন নীতিতে এটি অন্যতম বড় সংস্কার হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা আগামী দিনে ইউরোপের সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও অভিবাসন নীতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি চুক্তির রূপরেখা সামনে আসার আগেই ইসরায়েলে তীব্র রাজনৈতিক অসন্তোষ ও বিরোধিতা দেখা দিয়েছে। দেশটির জনপ্রিয় হিব্রু দৈনিক ‘ইয়েদিওত আহরোনত’-এর রোববার সংখ্যার প্রধান শিরোনামে এই সম্ভাব্য চুক্তিকে দুই শব্দে আখ্যা দেওয়া হয়েছে—“বাজে চুক্তি”, যা ইসরায়েলের বর্তমান জনমত ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি প্রাথমিক সমঝোতা স্মারকের কাঠামোতে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করা, মার্কিন অবরোধ শিথিল এবং ইরানি বন্দরের ওপর থেকে বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। একই সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ৬০ দিন পর্যন্ত বাড়ানোর কথাও আলোচনায় রয়েছে। এই সময়ে দুই দেশ ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ইস্যুতে বিস্তারিত আলোচনায় বসবে বলে জানা গেছে। তবে এসব আলোচনায় ইসরায়েলের প্রত্যাশিত মূল নিরাপত্তা ইস্যুগুলো অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় দেশটির নীতিনির্ধারক মহলে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন বন্ধের বিষয়টি আলোচনার প্রাথমিক কাঠামোতে না থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইসরায়েলি কর্মকর্তারা। ইসরায়েলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাকব নাগেল এক ভিডিও ব্রিফিংয়ে বলেন, শেষ পর্যন্ত যাই ঘটুক, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এটিকে নিজের কূটনৈতিক অর্জন হিসেবে উপস্থাপন করবেন। তিনি আরও বলেন, চুক্তির যেসব সম্ভাব্য বিষয় সামনে এসেছে, সেখানে ইরানের ব্যালিস্টিক সক্ষমতা বা আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রসঙ্গ স্পষ্টভাবে নেই। অন্যদিকে ইসরায়েলের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী অ্যাভিগডোর লিবারম্যান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে এটিকে দেশের নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় হিসেবে উল্লেখ করেন। বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদও সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এটি ইসরায়েলের পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা নীতির ইতিহাসে একটি বড় ব্যর্থতা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। বর্তমান সরকারে উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা এ বিষয়ে প্রকাশ্যে খুব বেশি মন্তব্য করছেন না। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের সঙ্গে সরাসরি বিরোধে না গিয়ে কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে ইসরায়েলি প্রশাসন। চুক্তির সম্ভাব্য কাঠামো অনুযায়ী ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা, আঞ্চলিক মিত্রবাহিনীর প্রতি সমর্থন বন্ধ এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের শর্তগুলো এখনো স্পষ্ট নয়। এই অনিশ্চয়তা ইসরায়েলের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত চুক্তিতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণ, আঞ্চলিক গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রম বন্ধ এবং দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চয়তার বিষয়ে পর্যাপ্ত কাঠামো নেই বলে ইসরায়েল মনে করছে। এর আগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বারবার দাবি করেছেন, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না। তবে চলমান আলোচনায় সেই অবস্থান কতটা প্রতিফলিত হবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপও এই বিতর্ককে আরও জোরদার করেছে। ক্ষমতাসীন জোটের ভেতর থেকে শুরু করে বিরোধী শিবির পর্যন্ত, যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সিদ্ধান্তে ইসরায়েলের অবস্থান দুর্বল হচ্ছে বলে সমালোচনা উঠছে।