মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের আসন্ন সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক মনোনয়ন প্রত্যাশী আবদুল এল-সায়েদ তার প্রথম নির্বাচনী বিজ্ঞাপন প্রকাশ করেছেন। “ক্ষমতাবানদের বিরুদ্ধে লড়াই” স্লোগানকে সামনে রেখে প্রকাশিত এই বিজ্ঞাপনে তিনি নিজেকে সাধারণ মানুষের পক্ষে এবং প্রভাবশালী স্বার্থগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াই করা একজন প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরেছেন।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ডেট্রয়েট নিউজ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন এই বিজ্ঞাপনটি এল-সায়েদের নির্বাচনী প্রচারণার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এতে তিনি তার ব্যক্তিগত জীবন, পেশাগত অভিজ্ঞতা এবং রাজনৈতিক দর্শনের কথা তুলে ধরেছেন।
বিজ্ঞাপনে আবদুল এল-সায়েদ বলেন, তিনি এমন একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থার পক্ষে কাজ করতে চান যেখানে সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠান বা বিশেষ স্বার্থগোষ্ঠীর প্রভাবের কাছে চাপা পড়বে না। একই সঙ্গে তিনি স্বাস্থ্যসেবা, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং কর্মজীবী পরিবারের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়েছেন।
মিশিগানের ডেট্রয়েটে জন্ম নেওয়া আবদুল এল-সায়েদ একজন চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ। তিনি আগে মিশিগানের জনস্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং ২০১৮ সালে গভর্নর পদে ডেমোক্র্যাটিক মনোনয়নের জন্যও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। প্রগতিশীল রাজনৈতিক অবস্থানের জন্য তিনি জাতীয় পর্যায়েও পরিচিত একটি মুখ।
২০২৬ সালের সিনেট নির্বাচনকে ঘিরে মিশিগানে ইতোমধ্যে রাজনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে। বর্তমান সিনেটর গ্যারি পিটার্স পুনর্নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর আসনটি উন্মুক্ত হয়ে পড়ে। ফলে ডেমোক্র্যাটিক ও রিপাবলিকান—উভয় দলের মধ্যেই সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে প্রতিযোগিতা তীব্র হয়ে উঠেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এল-সায়েদের প্রচারণা মূলত তরুণ ভোটার, প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাট এবং কর্মজীবী পরিবারগুলোর সমর্থন অর্জনের দিকে কেন্দ্রীভূত। তার নতুন বিজ্ঞাপনেও সেই বার্তাই স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। নির্বাচনী প্রচারণার এই পর্যায়ে বিজ্ঞাপনটি কতটা ভোটারের কাছে সাড়া ফেলতে পারে, সেটিই এখন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু।
মিশিগানের সিনেট নির্বাচন শুধু অঙ্গরাজ্যটির জন্যই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় রাজনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ সিনেটে কোন দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে পারবে, তার ওপর এই নির্বাচনের ফলাফল প্রভাব ফেলতে পারে। সেই বাস্তবতায় আবদুল এল-সায়েদের প্রথম প্রচার বিজ্ঞাপন ইতোমধ্যেই রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না। নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার। তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।
ইরানকে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পুনর্গঠন তহবিল দেওয়ার খবর সম্পূর্ণভাবে নাকচ করে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, ওয়াশিংটন সরাসরি তেহরানকে কোনো অর্থ দিচ্ছে না; বরং সম্ভাব্য চুক্তির শর্ত পূরণ সাপেক্ষে অন্য দেশগুলোর বিনিয়োগের পথ খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির অংশ হিসেবে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল গঠনের খবর বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ প্রেক্ষাপটে মার্কিন সংবাদমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেডি ভ্যান্স বিষয়টি পরিষ্কার করেন। ‘দ্য মেগান কেলি শো’-তে সাংবাদিক মেগান কেলির প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইরান যদি চুক্তির শর্ত মেনে চলে এবং তাদের আচরণে পরিবর্তন আনে, তাহলে দেশটির ওপর থেকে কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হবে। এতে করে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি হবে এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রম বাড়বে। ভ্যান্স উদাহরণ দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র সংযুক্ত আরব আমিরাত যদি ইরানে কোনো পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিনিয়োগ করতে চায়, তাহলে বর্তমান নিষেধাজ্ঞা কাঠামোর কারণে তা সম্ভব নয়। তবে ইরান শর্ত পূরণ করলে এই বাধাগুলো শিথিল হতে পারে। তিনি আরও বলেন, “যারা বলছেন আমরা ইরানকে অর্থ দিচ্ছি, তারা ভুল ব্যাখ্যা দিচ্ছেন। আমরা কেবল এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে চাই, যেখানে ইরান তাদের নীতিতে পরিবর্তন আনলে অন্যান্য দেশ সেখানে বিনিয়োগ করতে পারবে এবং দেশের পুনর্গঠন ও জনগণের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারবে।” এদিকে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান কাঠামোগত চুক্তির অংশ হিসেবে একটি বেসরকারি বিনিয়োগ তহবিল গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে, যার আকার হতে পারে প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলার। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, এই তহবিলের অর্ধেকেরও বেশি অর্থ ইতোমধ্যে বিভিন্ন বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে প্রতিশ্রুত হয়েছে। তবে এই তহবিল সরকারি নয় বলে স্পষ্ট করা হয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কোনো অর্থ বা অনুদান থাকবে না। বরং যুক্তরাষ্ট্র, উপসাগরীয় দেশসমূহ, এশিয়া, দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকার বেসরকারি কোম্পানিগুলো এতে বিনিয়োগ করবে। জ্বালানি, পরিবহন, উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থার মতো খাতে এসব অর্থ ব্যয় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ‘রিকনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফান্ড’ নামে পরিচিত এই তহবিলের মূল লক্ষ্য হচ্ছে—ইরানের অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে উভয় পক্ষকে অর্থনৈতিক প্রণোদনা দেওয়া। একটি ইরানি সূত্র জানিয়েছে, যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ হিসেবে তেহরান প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ৪০০ বিলিয়ন ডলার দাবি করেছিল। কিন্তু ওয়াশিংটন সরাসরি সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করে। পরিবর্তে বিনিয়োগনির্ভর পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার প্রস্তাব সামনে আনে। দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরান বৈশ্বিক বিনিয়োগ থেকে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন ছিল। যদিও দেশটি প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ—বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ গ্যাস ও তেলের মজুদ রয়েছে সেখানে। পাশাপাশি বড় জনসংখ্যা ও সম্ভাবনাময় শিল্পখাত থাকলেও বিদেশি বিনিয়োগের অভাবে সেসব সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি। সূত্রগুলো আরও জানায়, সম্ভাব্য এই তহবিল গঠন এবং কার্যক্রম শুরু হবে চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের পর। সমঝোতা স্মারক সইয়ের পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে বিনিয়োগ কাঠামো চূড়ান্ত করা হতে পারে। এই সময়ের মধ্যে প্রকল্প নির্ধারণ ও বিনিয়োগ পরিকল্পনা নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে আলোচনা চলবে। এর আগে গত রোববার (১৪ জুন) যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তারা যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি প্রাথমিক কাঠামোতে সম্মত হওয়ার কথা জানান। একই সঙ্গে ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করার বিষয়েও সমঝোতা হয়েছে বলে জানানো হয়। বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি অর্থ সহায়তার পরিবর্তে বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করা হলে তা ইরানের অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে চুক্তির বাস্তবায়ন ও আঞ্চলিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপরই এর সাফল্য অনেকাংশে নির্ভর করবে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ঘোষণার পরও বাস্তবে এই কৌশলগত নৌপথে জাহাজ চলাচল এখনো স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরেনি। শত শত তেলবাহী ট্যাংকার ও কার্গো জাহাজ উপসাগরীয় অঞ্চলে অপেক্ষা করলেও খুব সীমিত সংখ্যক জাহাজই প্রণালি অতিক্রম করতে পেরেছে। বিবিসির বিশ্লেষণ বলছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতার ঘোষণা আসার পর থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে মাত্র কয়েকটি জাহাজ চলাচল করেছে। অন্যদিকে উপসাগরীয় অঞ্চলে অপেক্ষমাণ রয়েছে প্রায় ৫৮০টি জাহাজ। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, প্রণালি খোলার ঘোষণা সত্ত্বেও কেন স্বাভাবিক হয়নি আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিরাপত্তা ঝুঁকি, সমুদ্রে পেতে রাখা মাইনের আশঙ্কা এবং সম্ভাব্য টোল বা সেবা ফি—এই তিনটি বড় কারণই বর্তমানে হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচলের পথে প্রধান বাধা হয়ে আছে। হরমুজ প্রণালি বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই নৌপথ দিয়েই পরিবহন করা হয়। তাই প্রণালিতে যেকোনো ধরনের অস্থিরতা বিশ্ববাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলে। গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালিতে চলাচল সীমিত করে দেয়। এরপর অঞ্চলটিতে সামরিক উত্তেজনা দ্রুত বেড়ে যায়। যদিও সম্প্রতি সমঝোতার ঘোষণা এসেছে, তবে পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্থিতিশীল হয়নি। নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ কাটেনি সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, সবচেয়ে বড় বাধা হচ্ছে নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তা। ইওএস রিস্ক গ্রুপের বিশেষজ্ঞ মার্টিন কেলি বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে হলে একজন জাহাজের অধিনায়ককে যথেষ্ট ঝুঁকি নিতে হবে। সংঘাতের সময় অনুমতি ছাড়া চলাচলকারী জাহাজের ওপর ইরানি বাহিনীর গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছিল। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানি বন্দরগুলো ঘিরে নৌ অবরোধ কার্যকর করে। ফলে অনেক জাহাজ মাঝপথে আটকা পড়ে। যদিও ট্রাম্প অবরোধ শিথিল করার কথা বলেছেন, তবু চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত অনেক জাহাজমালিক, ক্যাপ্টেন এবং বীমা কোম্পানি অপেক্ষার অবস্থানে রয়েছে। বাণিজ্যিক বিশ্লেষক নবীন দাস বলেন, “এখনো কেউ প্রথম হয়ে ঝুঁকি নিতে চাইছে না। সবাই অন্যদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছে।” স্যাটেলাইট চিত্রেও দেখা গেছে, ওমান উপসাগরের প্রবেশমুখে এখনো মার্কিন যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতি রয়েছে, যা পরিস্থিতির সংবেদনশীলতার ইঙ্গিত দেয়। সমুদ্র মাইনের আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্বিতীয় বড় বাধা হচ্ছে সমুদ্রে পেতে রাখা মাইনের সম্ভাবনা। সংঘাত চলাকালে ইরান সতর্ক করেছিল, তাদের উপকূল বা দ্বীপে হামলা হলে তারা উপসাগরীয় জলসীমায় বিভিন্ন ধরনের নৌ-মাইন পেতে দিতে পারে। পরে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা সম্ভাব্য মাইনসদৃশ ভাসমান বস্তুর বিষয়ে সতর্কবার্তা জারি করে। মার্কিন কর্মকর্তারাও দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালির কিছু অংশে মাইন থাকার আশঙ্কা রয়েছে। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার মহাসচিব আর্সেনিও ডোমিঙ্গেজ বলেছেন, নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে হলে প্রথমেই সম্ভাব্য মাইন অপসারণ করতে হবে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, পুরো এলাকা নিরাপদ ঘোষণা করতে ৩০ দিন থেকে ছয় মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। কারণ মাইন শনাক্তকরণ ও অপসারণ অত্যন্ত ধীর এবং ঝুঁকিপূর্ণ প্রক্রিয়া। ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স সম্ভাব্য মাইন অপসারণ কার্যক্রমে সহায়তার জন্য অঞ্চলে নৌবাহিনীর বিশেষ জাহাজ পাঠিয়েছে। নতুন টোল বা সেবা ফি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৃতীয় বড় উদ্বেগ হলো ভবিষ্যতে জাহাজ চলাচলের ওপর কোনো ধরনের ফি বা টোল আরোপ করা হবে কি না। ঐতিহাসিকভাবে হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক নৌপথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে এবং এখানে চলাচলের জন্য কোনো অর্থ দিতে হতো না। তবে সংঘাতের সময় ইরান ‘পারস্য উপসাগর প্রণালি কর্তৃপক্ষ’ নামে একটি নতুন সংস্থা গঠন করে এবং নিরাপদ যাতায়াতের অনুমতিপত্র ব্যবস্থার কথা জানায়। ইরানের রাষ্ট্রীয় ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ভবিষ্যতে ওমানের সঙ্গে সমন্বয় করে জাহাজ চলাচলের জন্য বিশেষ সেবা ফি আরোপের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। যদিও ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন যে হরমুজ প্রণালি ‘টোলমুক্ত’ থাকবে, তবু সম্ভাব্য নতুন অর্থপ্রদানের ব্যবস্থা নিয়ে শিপিং খাতে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষক নবীন দাসের ভাষায়, “যদি নতুন কোনো ফি চালু হয়, তাহলে সেটি কীভাবে কার্যকর হবে, কে আদায় করবে এবং অন্যান্য উপসাগরীয় দেশগুলো কী অবস্থান নেবে—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়।” স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজনৈতিক সমঝোতা হয়ে গেলেই যে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হয়ে যাবে, বিষয়টি এতটা সহজ নয়। নিরাপত্তা নিশ্চয়তা, মাইন অপসারণ এবং বাণিজ্যিক আস্থার পুনরুদ্ধার—এই তিনটি ধাপ সম্পন্ন না হলে আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন ব্যবস্থা আগের অবস্থায় ফিরবে না। ক্লেপলারের বিশ্লেষক দিমিত্রিস আমপাৎজিদিস বলেন, “রাজনৈতিকভাবে প্রণালি দ্রুত খুলে যেতে পারে, কিন্তু বাণিজ্যিকভাবে পুরো ব্যবস্থাকে স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগবে।” তাই বিশ্বের জ্বালানি বাজারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে পূর্ণাঙ্গ স্বাভাবিকতা ফিরতে এখনো কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পোল্যান্ডে আশ্রয় নেওয়া রুশ ভিন্নমতাবলম্বী শিল্পী ও কার্টুনিস্ট সেমিওন স্ক্রেপেটস্কি গুলিতে নিহত হয়েছেন। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ক্রেমলিনপন্থী নেতৃত্বের কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত এই শিল্পীর মৃত্যু ঘিরে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ ও নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। পোলিশ গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ৪৪ বছর বয়সী স্ক্রেপেটস্কি সোমবার সকালে পূর্ব পোল্যান্ডের বিয়ালা পোডলাস্কা শহরে হামলার শিকার হন। বেলারুশ সীমান্তের কাছাকাছি ওই শহরের একটি সড়কে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর হামলাকারীরা দ্রুত পালিয়ে যায়। স্থানীয় পুলিশ প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটিকে পরিকল্পিত ও নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে চালানো হামলা হিসেবে বিবেচনা করছে। পুলিশের মুখপাত্র আন্দ্রে ফিজোলেক জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য এখনো স্পষ্ট নয়, তবে ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি পূর্বপরিকল্পনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এদিকে কয়েকটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ঘটনার পর একজন বেলারুশ নাগরিককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি পোলিশ কর্তৃপক্ষ। স্ক্রেপেটস্কি দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ব্যঙ্গচিত্রের মাধ্যমে পুতিন, চেচেন নেতা রমজান কাদিরভসহ রাশিয়ার শীর্ষ নেতৃত্বের সমালোচনা করে আসছিলেন। রাজনৈতিক চাপ ও নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে ২০২১ সালে তিনি রাশিয়া ছেড়ে পোল্যান্ডে আশ্রয় নেন। জানা গেছে, মৃত্যুর কিছুদিন আগে তিনি জার্মানির বার্লিনে রুশ দূতাবাসের সামনে অনুষ্ঠিত একটি সরকারবিরোধী সমাবেশে অংশ নেন। সেখানে তার একটি বিতর্কিত রাজনৈতিক চিত্রকর্ম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দেয়। ঘটনার পর পোল্যান্ডের রাষ্ট্রীয় প্রসিকিউটর ও পুলিশ যৌথভাবে তদন্ত শুরু করেছে। এখন পর্যন্ত কোনো রাষ্ট্রীয় সংস্থার সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে ইউরোপে অবস্থানরত রুশ ভিন্নমতাবলম্বীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।