সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
বিশ্ব

শান্তিচুক্তির পরও দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি হামলা, নিহত ৪; কঠোর হুঁশিয়ারি ইরানের

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৬, ২০২৬ ২৩:৫১
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা এবং যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এলেও দক্ষিণ লেবাননে সামরিক অভিযান অব্যাহত রেখেছে ইসরাইল। নতুন করে একাধিক ড্রোন হামলায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম। এ ঘটনার পর ইসরাইলকে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরান।

 

আল জাজিরা ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (১৭ জুন) লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের নাবাতিয়েহ গভর্নরেটে একাধিক হামলা চালায় ইসরাইলি বাহিনী। হামলাগুলো সংঘটিত হয় এমন এক সময়ে, যখন অঞ্চলজুড়ে যুদ্ধবিরতি ও উত্তেজনা প্রশমনের প্রচেষ্টা নিয়ে আলোচনা চলছে।

 

লেবাননের জাতীয় বার্তাসংস্থা এনএনএ জানিয়েছে, মাইফাদুন এলাকায় দুটি গাড়িকে লক্ষ্য করে পৃথক ড্রোন হামলা চালানো হয়। একই সময়ে শৌকিন গ্রামেও একটি গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। এসব হামলায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। তবে নিহতদের পরিচয় এবং তারা কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্য ছিলেন কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

 

সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলা আলোচনার পুরো সময়জুড়ে তেহরান বারবার বলে এসেছে, যে কোনো যুদ্ধবিরতি বা শান্তি চুক্তির অংশ হিসেবে দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি সামরিক অভিযান বন্ধ করতে হবে।

 

যদিও দুই দেশের মধ্যে হওয়া সমঝোতা স্মারকের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি, তবে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সম্প্রতি দাবি করেন, চুক্তির আওতায় লেবাননসহ সংঘাতের সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান বন্ধ করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

তবে বাস্তবে দক্ষিণ লেবাননে নতুন হামলার ঘটনায় সেই প্রত্যাশা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

 

ইরানের শীর্ষ সামরিক সমন্বয় কেন্দ্র খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স এক বিবৃতিতে সতর্ক করে বলেছে, দক্ষিণ লেবাননে হামলা অব্যাহত থাকলে ইসরাইলকে এর পরিণতি ভোগ করতে হবে। বিবৃতিতে বলা হয়, লেবাননে সামরিক অভিযান বন্ধ না হলে ইরানি সশস্ত্র বাহিনী প্রয়োজনীয় প্রতিক্রিয়া জানাতে প্রস্তুত রয়েছে।

 

এদিকে লেবাননের পার্লামেন্ট স্পিকার নাবিহ বেরির সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মুহাম্মাদ বাঘের গালিবাফ। আলোচনায় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানান, যাতে ইসরাইলকে লেবাননে সামরিক অভিযান বন্ধ করতে এবং দখল করা অঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহারে চাপ দেওয়া হয়।

 

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতার ঘোষণার পর ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলের নিরাপত্তা নীতি এবং সামরিক উপস্থিতি অব্যাহত থাকবে।

 

এ অবস্থায় অঞ্চলটির ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা এগোলেও মাঠের পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্থিতিশীল হয়নি। ফলে সংঘাত পুনরায় বিস্তৃত হওয়ার ঝুঁকি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

 

এদিকে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, ইরান তাদের আশ্বস্ত করেছে যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরবর্তী আলোচনায় লেবাননের ভূখণ্ড থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উত্থাপন করা হবে।

 

পর্যবেক্ষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলেও দক্ষিণ লেবাননের সাম্প্রতিক হামলা দেখিয়ে দিচ্ছে যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ এখনো অনেকটাই অনিশ্চিত।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বিশ্ব

View more
হিজাব না খোলায় বেলজিয়ামে শিক্ষিকা বরখাস্ত
হিজাব না খোলায় বেলজিয়ামে শিক্ষিকা বরখাস্ত, চাকরি হারিয়েও আপোষ করেননি তিনি

বেলজিয়ামের পূর্ব ফ্ল্যান্ডার্স প্রদেশে কর্মরত শিক্ষিকা হাজিয়া আমাজুদ কর্মস্থলে হিজাব খুলতে অস্বীকার করায় চাকরি হারিয়েছেন। আসেনেডে শহরের কিয়েমপুন্ট ক্যাম্পাস নামের বিশেষায়িত প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০২২ সাল থেকে শিক্ষকতা করে আসছিলেন তিনি। প্রদেশের স্কুলগুলোতে দৃশ্যমান ধর্মীয় ও জীবনদর্শনভিত্তিক প্রতীক নিষিদ্ধ করার নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর হিজাব না খোলায় তার বিরুদ্ধে শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।    আমাজুদ স্কুলে যোগ দেওয়ার সময় থেকেই হিজাব পরতেন। ২০২৪ সালে পূর্ব ফ্ল্যান্ডার্স প্রদেশের কর্মীদের বিধিমালা পরিবর্তন করে দৃশ্যমান ধর্মীয় ও জীবনদর্শনভিত্তিক প্রতীক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা যুক্ত করা হয়। ধর্মীয় বা জীবনদর্শনভিত্তিক বিষয় পড়ানো শিক্ষকদের ক্ষেত্রে অবশ্য ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে। নতুন বিধিমালা কার্যকর হওয়ার পরও আমাজুদ হিজাব পরেই শিক্ষকতা চালিয়ে যাওয়ার অবস্থান নেন।    এ নিয়ে প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তার বিরোধের পর একাধিক শৃঙ্খলামূলক প্রক্রিয়া শুরু হয়। চলতি বছরের ৩ সেপ্টেম্বর তিনি পূর্ব ফ্ল্যান্ডার্সের শৃঙ্খলামূলক কমিটির সামনে হাজির হন। পরে ১৪ সেপ্টেম্বর প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষ তার চাকরি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়।    আমাজুদের দাবি, তিনি দায়িত্ব পালনের সময় আগে থেকেই হিজাব পরতেন এবং তার কাজের দক্ষতা নিয়ে নেতিবাচক মূল্যায়ন ছিল না। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে তিনি স্থায়ী নিয়োগও পেয়েছিলেন। চাকরি হারানোর প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, এর ফলে শুধু চাকরিই নয়, তার আয়, নিরাপত্তা এবং স্থায়ী নিয়োগও হারাতে হচ্ছে।    অন্যদিকে পূর্ব ফ্ল্যান্ডার্সের প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষ বলছে, কর্মীদের জন্য অনুমোদিত বিধিমালা কার্যকর করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শিক্ষা বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা কার্ট মোয়েন্সের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রাদেশিক স্কুলে শিক্ষা কার্যক্রম একটি নিরপেক্ষ পরিবেশে পরিচালনার নীতির সঙ্গে এই বিধিমালা সম্পর্কিত।    এর আগে চলতি বছরের মে মাসে পূর্ব ফ্ল্যান্ডার্সের একটি আদালত আমাজুদের হিজাব পরার অধিকার নিয়ে করা কয়েকটি দাবি খারিজ করেছিল। আদালতের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রাদেশিক স্কুলের কর্মীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নিয়ম মেনে চলার বিষয়টি তখন গুরুত্ব পায়। আদালতের ওই সিদ্ধান্তের পরও বিষয়টি নিয়ে আইনি বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।    আমাজুদের পক্ষে থাকা সমাজতান্ত্রিক ইউনিয়ন ACOD চাকরি বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ব্রাসেলসের আপিল চেম্বারে যাওয়ার কথা জানিয়েছে। ইউনিয়নটির মতে, এই মামলার রায় বেলজিয়ামের স্কুলে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতার নীতির মধ্যে ভারসাম্য নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।    ঘটনাটি বেলজিয়ামে শিক্ষক ও সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহারের সীমা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। একদিকে প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিরপেক্ষতার নীতি ও অভিন্ন কর্মবিধির কথা বলছে, অন্যদিকে আমাজুদ ও তার ইউনিয়ন ব্যক্তিগত ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রশ্নটি সামনে এনেছে। এখন আপিল প্রক্রিয়ায় এই দুই নীতির মধ্যে আইনি সীমারেখা কীভাবে নির্ধারিত হয়, সেদিকেই নজর থাকবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ৪:৫৯
ব্রিকস নিরাপত্তা ডিউটিতে স্নাইপার নিয়ে ইনস্টাগ্রাম রিল ডিউটিরত পুলিশ কনস্টেবল

ব্রিকস নিরাপত্তা ডিউটিতে স্নাইপার নিয়ে ইনস্টাগ্রাম রিল ডিউটিরত পুলিশ কনস্টেবল, অতঃপর বরখাস্ত

মক্কায় ড্রোন হামলার চেষ্টা ‘কালো অধ্যায়’ হয়ে থাকবে

মক্কায় ড্রোন হামলার চেষ্টা ‘কালো অধ্যায়’ হয়ে থাকবে: সৌদি আরব

৩১ বছরের জেমি বিটন বিশ্বের সবচেয়ে শিক্ষিত ব্যক্তি

হার্ভার্ড, থেকে অক্সফোর্ড, ৩১ বছরের জেমি বিটন বিশ্বের সবচেয়ে শিক্ষিত ব্যক্তি

পাকিস্তানে ‘ফুল ফান্ডেড’ বৃত্তি নিয়ে বিপাকে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা
পাকিস্তানে ‘ফুল ফান্ডেড’ বৃত্তি নিয়ে বিপাকে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা, দিচ্ছে না বৃত্তির অর্থ

পাকিস্তানের উচ্চশিক্ষা কমিশনের ঘোষিত ‘ফুললি ফান্ডেড’ বৃত্তিতে নির্বাচিত হওয়ার পর শেষ ধাপে গিয়ে সুবিধা কমে যাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা। মাস্টার্স পর্যায়ের কয়েকজন নির্বাচিত শিক্ষার্থীর দাবি, শুরুতে টিউশন ফি, আবাসন, মাসিক ভাতা, বিমানভাড়াসহ বিভিন্ন সুবিধার কথা বলা হলেও তাদের হাতে আসা অফার লেটারে এসবের বড় অংশের উল্লেখ নেই। ফলে পাকিস্তানে পড়তে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েও এখন অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তারা।   পাকিস্তান-বাংলাদেশ নলেজ করিডোরের আওতায় ২০২৫ সালের আগস্টে পাকিস্তানের তৎকালীন উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের ঢাকা সফরের সময় পাঁচ বছরে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ৫০০টি বৃত্তির ঘোষণা দেওয়া হয়। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং উচ্চশিক্ষা কমিশন বা এইচইসির তথ্য অনুযায়ী, বৃত্তিগুলো আল্লামা মুহাম্মদ ইকবাল স্কলারশিপের আওতায় দেওয়ার কথা। এর এক-চতুর্থাংশ চিকিৎসাশিক্ষায় দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছিল।   পাকিস্তানের এইচইসির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বৃত্তিটি পূর্ণ অর্থায়িত এবং এর আওতায় টিউশন ফি, স্টাইপেন্ড, হোস্টেল ও মেসের খরচ, সেটেলমেন্ট অ্যালাউন্স, বিমানভাড়া এবং বই ও স্টেশনারির খরচ অন্তর্ভুক্ত থাকার কথা। এই তথ্য এখনো এইচইসির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বৃত্তির বিবরণে রয়েছে।   তবে মাস্টার্সে নির্বাচিত কয়েকজন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর অভিযোগ, দীর্ঘ আবেদন, পরীক্ষা ও যাচাই-বাছাই শেষে পাওয়া অফার লেটারে ঘোষিত সুবিধাগুলোর সঙ্গে মিল পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, অফার লেটারে শুধু টিউশন ফি ও আবাসন ফি মওকুফের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। মাসিক ভাতা, খাবার, যাতায়াত, বিমানভাড়া ও চিকিৎসাসহ অন্যান্য খরচ নিজেদের বহন করতে হবে বলে তাদের জানানো হয়েছে।   শিক্ষার্থীদের আরও অভিযোগ, আবেদন করার সময় তারা যে বিশ্ববিদ্যালয় পছন্দ করেছিলেন, চূড়ান্ত পর্যায়ে তাদের সম্মতি ছাড়াই সেই পছন্দ পরিবর্তন করা হয়েছে। ফলে যারা পূর্ণ অর্থায়নের ওপর নির্ভর করে পাকিস্তানে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন, তারা এখন নতুন করে হিসাব কষতে বাধ্য হচ্ছেন। বিশেষ করে মাসিক ভাতা ও অন্যান্য জীবনযাত্রার খরচ না থাকলে বিদেশে অবস্থান করে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া অনেকের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।   এদিকে পাকিস্তানের এইচইসি জানিয়েছে, নলেজ করিডোরের আওতায় দেওয়া বৃত্তি সম্পূর্ণ অর্থায়িত। তাদের প্রকাশিত শর্তে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের প্লেসমেন্ট এইচইসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হবে। ২০২৬ সালের মে মাসে পাকিস্তানের শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এইচইসি জানিয়েছিল, প্রথম ধাপে ৭৪ জন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ইতোমধ্যে পাকিস্তানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শুরু করেছেন। প্রকৌশল, মেডিকেল সায়েন্স, কম্পিউটার সায়েন্স, সাইবার সিকিউরিটি ও বায়োলজিক্যাল সায়েন্সসহ বিভিন্ন বিষয়ে তারা ভর্তি হয়েছেন।   নলেজ করিডোরের দ্বিতীয় ধাপও ২০২৬ সালে চালু করা হয়েছে। ঢাকায় পাকিস্তান এডুকেশন এক্সপোর মাধ্যমে ২০টি পাকিস্তানি বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সামনে বিভিন্ন উচ্চশিক্ষার সুযোগ তুলে ধরে। ওই সময়ও ৫০০টি ফুললি ফান্ডেড আল্লামা মুহাম্মদ ইকবাল স্কলারশিপের কথা প্রচার করা হয়। ফলে ঘোষিত সুবিধা ও নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের হাতে থাকা অফার লেটারের শর্তের মধ্যে পার্থক্যের অভিযোগটি এখন বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।   শিক্ষার্থীদের অভিযোগের বিষয়ে পাকিস্তানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ব্যাখ্যা পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হতে পারে। কারণ, সরকারি বৃত্তির প্রকাশিত শর্তে যে সুবিধাগুলোকে পূর্ণ অর্থায়নের অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলো চূড়ান্ত অফার লেটারে কীভাবে প্রযোজ্য হচ্ছে, সেটিই এখন নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের প্রধান প্রশ্ন। আপাতত এ নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন মাস্টার্স পর্যায়ের কয়েকজন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ১:৫৬
মক্কাকে লক্ষ্য করে হুতিদের ড্রোন

মক্কাকে লক্ষ্য করে হুতিদের ড্রোন, আকাশেই ধ্বংস করল সৌদি প্রতিরক্ষা

প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশে পাওয়া গেল বিপুল পরিমাণে সোনা-রুপার উচ্চ ঘনত্বের খনিজভান্ডার

প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশে পাওয়া গেল বিপুল পরিমাণে সোনা-রুপার উচ্চ ঘনত্বের খনিজভান্ডার

ঘুমের গভীরতা ও মান যাচাই করে বিজয়ী নির্ধারণ করা হবে জাপানের এই ব্যতিক্রমী প্রতিযোগিতায়। ছবি: সংগৃহীত

জাপানে ঘুমের প্রতিযোগিতা, ৯০ মিনিট ঘুমিয়ে জেতা যাবে প্রায় ১৬ লাখ টাকা

তুরস্কের মারদিনে ইসলাম গ্রহণের পর দক্ষিণ কোরীয় পর্যটক শায়েভন, যিনি ‘আবদুল্লাহ’ নাম গ্রহণ করেছেন। ছবি: সংগৃহীত
তুরস্ক ভ্রমণে এসে ইসলাম গ্রহণ করলেন দক্ষিণ কোরীয় পর্যটক, নিলেন ‘আবদুল্লাহ’ নাম

তুরস্কের ঐতিহাসিক শহর মারদিন ভ্রমণে গিয়ে ইসলাম গ্রহণ করেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার পর্যটক শায়েভন। ইসলাম গ্রহণের পর তিনি ‘আবদুল্লাহ’ নাম বেছে নিয়েছেন। মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর তাঁর ইসলাম গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে মারদিনের আরতুকলু জেলা মুফত কার্যালয়।   দক্ষিণ-পূর্ব তুরস্কের মারদিন শহরটি ঐতিহাসিক স্থাপনা ও বহু শতাব্দীর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের জন্য পরিচিত। ভ্রমণের উদ্দেশ্যে শহরটিতে আসা শায়েভন ইসলাম সম্পর্কে জানার পর নিজ ইচ্ছায় মুসলিম হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন বলে আরতুকলু জেলা মুফত কার্যালয়ের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।   পরে শায়েভনের জন্য আরতুকলু জেলা মুফত কার্যালয়ে ইসলাম গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়। অনুষ্ঠানে আরতুকলু জেলা মুফতি সুলেমান বারান উপস্থিত ছিলেন এবং ইসলাম ধর্মের মৌলিক বিষয়গুলো সম্পর্কে তাঁকে জানানো হয়। এরপর শায়েভন কালেমা শাহাদাত পাঠ করেন এবং মুসলিম হন।   ইসলাম গ্রহণের পর তিনি আবদুল্লাহ নামটি গ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানের শেষে মুফতি সুলেমান বারান তাঁর হাতে পবিত্র কোরআনের একটি কপি তুলে দেন। তুরস্কের সংবাদমাধ্যম দেমিরোরেন নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন নাম গ্রহণের পর শায়েভন মুফতি বারানের সঙ্গে আলিঙ্গন করে নিজের আনন্দ প্রকাশ করেন।   মারদিন তুরস্কের এমন একটি শহর, যার স্থাপত্য ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ে বিভিন্ন সভ্যতার প্রভাব রয়েছে। শহরটির ঐতিহাসিক স্থাপনা ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের কারণে তুরস্কসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে পর্যটকেরা এখানে আসেন।   শায়েভনের ইসলাম গ্রহণের খবরটি মারদিনের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও তুরস্কের ধর্মবিষয়ক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। তবে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন, ইসলাম সম্পর্কে আগ্রহ তৈরির নির্দিষ্ট কারণ বা কতদিন ধরে তিনি এ বিষয়ে জানাশোনা করছিলেন, সে বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।   সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি, দেমিরোরেন নিউজ এজেন্সি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ ২২:১৬
তুরস্কের আঙ্কারায় এলজিবিটিকিউ অধিকারকর্মীদের বিক্ষোভ থেকে কয়েকজনকে আটক করছে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

তুরস্কে এলজিবিটিকিউ অধিকারকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযান, গ্রেপ্তার কয়েক ডজন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ন্ত্রণের দাবিকে খাটো করে দেখিয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত

মানবসভ্যতার ঝুঁকি তুলে এআই নিয়ন্ত্রণের আহ্বান জাতিসংঘের, আপত্তি ট্রাম্প-চীনের

দীর্ঘায়ুর রেকর্ড জাপানে, শতবর্ষী মানুষের সংখ্যা পেরোল ১ লাখ

দীর্ঘায়ুর রেকর্ড জাপানে, শতবর্ষী মানুষের সংখ্যা পেরোল ১ লাখ - ৮৮ শতাংশই নারী

0 Comments