লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলে গত এক সপ্তাহে অন্তত ১৫ জন অভিবাসীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে একজন নারীও রয়েছেন। অভিবাসীদের বহনকারী একটি নৌকা ডুবে যাওয়ার পর এসব মরদেহ সমুদ্রপথে ভেসে উপকূলে এসেছে বলে জানিয়েছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী, নৌবাহিনী এবং হাসপাতাল সূত্র।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার নৌবাহিনীর একটি সূত্র জানায়, নৌকাডুবির ঘটনায় বেঁচে যাওয়া ১০ জনের সাক্ষ্য অনুযায়ী, নৌকাটিতে প্রায় ৬১ জন যাত্রী ছিলেন। ফলে এখনো বহু মানুষ নিখোঁজ থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলো মিশর সীমান্তসংলগ্ন লিবিয়ার তবরুক শহরের উপকূলের বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের ভাষ্য, মরদেহগুলোর বেশিরভাগই দীর্ঘ সময় সমুদ্রে থাকার কারণে মারাত্মকভাবে পচে গেছে।
নিরাপত্তা বাহিনীর দুই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সমুদ্রের স্রোতের কারণে আগামী দিনগুলোতেও আরও মরদেহ ভেসে আসতে পারে। ফলে হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তবরুক রেড ক্রিসেন্টের প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, স্বেচ্ছাসেবীরা সাদা সুরক্ষা পোশাক পরে পাথুরে উপকূল থেকে মরদেহ উদ্ধার করছেন। পরে সেগুলো সাদা প্লাস্টিকের ব্যাগে সংরক্ষণ করে শনাক্তকরণের জন্য পাঠানো হয়।
লিবিয়া বহু বছর ধরেই আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের অভিবাসীদের জন্য ইউরোপে যাওয়ার অন্যতম প্রধান ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ২০১১ সালে মুয়াম্মার গাদ্দাফির সরকারের পতনের পর দেশটিতে দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়। সেই সুযোগে মানবপাচারকারী চক্রগুলো অভিবাসীদের ইউরোপে পাঠানোর জন্য লিবিয়ার উপকূলকে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করছে।
দারিদ্র্য, সংঘাত, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং উন্নত জীবনের আশায় প্রতিবছর হাজারো মানুষ মরুভূমি পেরিয়ে লিবিয়ায় পৌঁছান। এরপর ছোট ও ঝুঁকিপূর্ণ নৌকায় ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু প্রায়ই এসব যাত্রা প্রাণঘাতী দুর্ঘটনায় পরিণত হয়।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ভূমধ্যসাগর বিশ্বের অন্যতম বিপজ্জনক অভিবাসন পথ। প্রতি বছর শত শত মানুষ নৌকাডুবি, ঝড় কিংবা অতিরিক্ত যাত্রী বহনের কারণে প্রাণ হারান।
এদিকে লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলিভিত্তিক স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন জরুরি চিকিৎসা ও সহায়তা কেন্দ্র জানিয়েছে, খুমস শহরের উপকূলে পৃথক আরেকটি নৌকাডুবির ঘটনায় অন্তত ১৩ জন অভিবাসীকে উদ্ধার করে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই নৌকাটিও সমুদ্রে উল্টে গিয়েছিল। তবে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের পরিচয় বা তারা কোন দেশের নাগরিক, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
সাম্প্রতিক এই দুটি ঘটনা আবারও ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টায় অভিবাসীদের জীবন কতটা ঝুঁকির মুখে থাকে, তা সামনে এনে দিয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসন পথ তৈরির দাবি জানিয়ে আসছে, যাতে মানুষকে এমন প্রাণঘাতী যাত্রার ঝুঁকি নিতে না হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো। আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে। আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন। ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
ইরানের সঙ্গে চূড়ান্ত সমঝোতা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন না হলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র টোল বা চলাচল ফি আরোপ করতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সপ্তাহান্তে ক্যাম্প ডেভিডে অবস্থানকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তিনি জানান, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ-পরবর্তী প্রাথমিক সমঝোতার অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে ৬০ দিনের জন্য টোলমুক্ত ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ট্রাম্প বলেন, “বর্তমান ব্যবস্থায় ৬০ দিন পর্যন্ত কোনো টোল নেই। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যদি চূড়ান্ত চুক্তি না হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের স্বার্থে এবং আমাদের মাধ্যমে পরিচালিত ব্যবস্থার আওতায় টোল আরোপ করতে পারে।” তার এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। কারণ হরমুজ প্রণালি বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুটগুলোর একটি। প্রতিদিন বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অপরিশোধিত তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই পথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে যেকোনো ধরনের শুল্ক বা অতিরিক্ত ব্যয় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও পরিবহন খরচে প্রভাব ফেলতে পারে। ট্রাম্প দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র যে নিরাপত্তা ব্যয় বহন করেছে, তার একটি অংশ পুনরুদ্ধারের বিষয়ও বিবেচনায় রয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা বহু বছর ধরে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর জন্য অভিভাবকের ভূমিকা পালন করেছি। অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যতের সেই ব্যয়ের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া উচিত।” তবে ট্রাম্পের এই অবস্থান নিজ দেশেই সমালোচনার মুখে পড়েছে। বিরোধী রাজনৈতিক মহল এবং কিছু নীতিনির্ধারক প্রশ্ন তুলেছেন, হরমুজ প্রণালি সংক্রান্ত সাম্প্রতিক সমঝোতায় ভবিষ্যতে টোল আরোপের সম্ভাবনা পুরোপুরি বন্ধ করা হয়নি কেন। সমালোচকদের মতে, বর্তমান সমঝোতা কেবল ৬০ দিনের জন্য টোলমুক্ত চলাচলের নিশ্চয়তা দিয়েছে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে শুল্ক বা ফি আরোপের সুযোগ উন্মুক্ত রেখেছে, যা ভবিষ্যতে নতুন বিরোধের কারণ হতে পারে। হরমুজ প্রণালি দীর্ঘদিন ধরেই মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতির অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে রপ্তানিকৃত তেলের বড় অংশ এই জলপথ দিয়েই বিশ্ববাজারে যায়। ফলে এই প্রণালিকে ঘিরে যেকোনো সিদ্ধান্ত শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। এদিকে ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনার অগ্রগতি এবং সম্ভাব্য চূড়ান্ত চুক্তির দিকে নজর রাখছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। পর্যবেক্ষকদের মতে, আগামী ৬০ দিনের আলোচনা শুধু ওয়াশিংটন ও তেহরানের সম্পর্কের ভবিষ্যৎই নির্ধারণ করবে না, বরং হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনাও অনেকাংশে এর ওপর নির্ভর করবে।
গাজা উপত্যকায় শনিবার ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুই শিশু এবং কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার একজন ক্যামেরাপারসনও রয়েছেন বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও গাজায় প্রায় প্রতিদিনই ইসরায়েলি হামলা চলছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, যুদ্ধবিরতির পর থেকে এসব হামলায় এক হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। শনিবার দিনের প্রথম হামলাটি ঘটে গাজা সিটিতে। স্থানীয় সময় রাত প্রায় ২টার দিকে একটি আবাসিক ভবনে আঘাত হানে হামলা। ঘটনাস্থলে উপস্থিত সংবাদকর্মীরা ধ্বংসস্তূপ, রক্তমাখা কংক্রিটের টুকরো এবং বিধ্বস্ত ভবনের চিত্র দেখতে পান। এই হামলায় নিহত দুই বোনের পরিচয় জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তারা হলো চার বছর বয়সী জেইনা সাফাদি এবং ১৪ বছর বয়সী লানা সাফাদি। তাদের মরদেহ গাজা সিটির শিফা হাসপাতালের মর্গে নেওয়া হয়, যেখানে স্বজনরা শেষবারের মতো তাদের দেখতে ভিড় করেন। নিহত শিশুদের চাচাতো ভাই মোহাম্মদ সাফাদি বলেন, “আমরা ঘরের ভেতরে ছিলাম। কোনো সতর্কতা ছাড়াই ক্ষেপণাস্ত্র এসে আঘাত হানে।” হামলায় তিনি নিজেও আহত হয়েছেন। তার স্ত্রীরও আঘাত লেগেছে বলে জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, “যে যুদ্ধবিরতির কথা বলা হচ্ছে, সেটি কি সত্যিই যুদ্ধবিরতি? আমরা সাধারণ মানুষ। আমি কখনো অস্ত্র ধরিনি।” এই ঘটনার বিষয়ে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। দিনের পরবর্তী সময়ে আরও তিনটি পৃথক হামলায় চারজন নিহত এবং অন্তত এক ডজন মানুষ আহত হন। গাজার মধ্যাঞ্চলের বুরেইজ শরণার্থী শিবিরে একটি বাড়িতে চালানো হামলায় তিনজন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ছিলেন আল জাজিরার ক্যামেরাপারসন আহমেদ উইশাহ। আল-আকসা হাসপাতাল ও আল জাজিরা কর্তৃপক্ষ তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। আহমেদ উইশাহর পরিবারের জন্য এটি দ্বিতীয় বড় শোক। তার ভাই মোহাম্মদ উইশাহ, যিনি আল জাজিরার একজন সংবাদদাতা ছিলেন, গত এপ্রিলে আরেকটি ইসরায়েলি হামলায় নিহত হন। এদিকে দক্ষিণ গাজার মাওয়াসি এলাকার বিস্তৃত তাঁবুশিবিরে জড়ো হওয়া একদল মানুষের ওপর চালানো আরেক হামলায় একজন নিহত এবং অন্তত আটজন আহত হন। আহতদের নাসের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গাজা সিটিতে আরেকটি হামলায় কয়েকজন মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে শিফা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এসব হামলার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। তবে এর আগে ইসরায়েল বলেছে, তারা হামাস এবং নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকেই লক্ষ্যবস্তু করছে। ইসরায়েলি বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির পর থেকে তাদের পাঁচজন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। গাজা যুদ্ধের সূচনা হয়েছিল ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বাধীন যোদ্ধাদের দক্ষিণ ইসরায়েলে হামলার মাধ্যমে। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ মানুষ নিহত হন এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করে নিয়ে যাওয়া হয়। এর জবাবে ইসরায়েল গাজায় ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে যুদ্ধবিরতির পর নিহত ব্যক্তিরাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা এবং স্বাধীন গবেষকদের মতে, গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য সংগ্রহ ব্যবস্থা সাধারণত নির্ভরযোগ্য বলে বিবেচিত হয়। তবে মন্ত্রণালয় নিহতদের মধ্যে বেসামরিক ও যোদ্ধাদের আলাদা পরিসংখ্যান প্রকাশ করে না। তাদের দাবি, নিহতদের প্রায় অর্ধেকই নারী ও শিশু। নতুন এই হামলাগুলো এমন এক সময়ে ঘটল, যখন গাজায় দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধবিরতি এবং মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো দেখাচ্ছে, সংঘাতপূর্ণ এই অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ এখনো অনেক দূরের।
বিলিয়নিয়ার উদ্যোক্তা ইলন মাস্কের সাবেক সঙ্গী অ্যাশলি সেন্ট ক্লেয়ার দাবি করেছেন, সন্তান জন্ম দেওয়ার পর মাস্কের পক্ষ থেকে দেওয়া একটি বহু-মিলিয়ন ডলারের নন-ডিসক্লোজার এগ্রিমেন্ট (এনডিএ) তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন। সম্প্রতি একটি পডকাস্টে দেওয়া বক্তব্যে সেন্ট ক্লেয়ার বলেন, মাস্কের সম্পদ ব্যবস্থাপক জ্যারেড বার্চাল তার সঙ্গে একটি গোপন চুক্তির বিষয়ে যোগাযোগ করেন। শুরুতে তাকে ১৫ মিলিয়ন ডলার এবং বাড়ি কেনার জন্য অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পরবর্তীতে আরও বড় একটি প্রস্তাবে ১৫ মিলিয়ন ডলার এবং ২০ বছরের জন্য প্রতি মাসে ১ লাখ ডলার দেওয়ার কথা বলা হয়, শর্ত ছিল ব্যক্তিগত বিষয় ও সম্পর্ক সংক্রান্ত তথ্য গোপন রাখতে হবে। সেন্ট ক্লেয়ার জানান, তিনি ওই এনডিএ স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানান। তার মতে, চুক্তিতে মাস্ক, তার কর্মী এবং সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে কোনো মন্তব্য না করার শর্ত ছিল, যা তাকে নৈতিকভাবে অস্বস্তিতে ফেলেছিল। তিনি আরও দাবি করেন, বিষয়টি মূলত সিগন্যাল অ্যাপে গোপন বার্তা এবং ফোনকলের মাধ্যমে আলোচিত হয়। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে সেন্ট ক্লেয়ার প্রথম জানান, ইলন মাস্ক তার সন্তানের পিতা—যার নাম রোমুলাস। পরবর্তীতে মাস্কও বিষয়টি নিশ্চিত করেন যে তার আরেকটি সন্তান রয়েছে। সেন্ট ক্লেয়ারের দাবি, এনডিএ প্রত্যাখ্যানের পর থেকে তিনি মাস্কের সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ রাখেননি।