আমেরিকা

চারবার এইচ-১বি ভিসা লটারিতে ব্যর্থ, আজ তিনি গ্রিন কার্ডধারী উদ্যোক্তা

যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি প্রকাশ: জুন ২০, ২০২৬ ২৩:৩৫
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা ও কর্মজীবনের স্বপ্ন নিয়ে আসা হাজারো অভিবাসীর মতোই অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হতে হয়েছিল নেপালে জন্ম নেওয়া প্রযুক্তি পেশাজীবী প্রতীক কার্কিকে। চারবার এইচ-১বি ভিসা লটারিতে ব্যর্থ হওয়ার পর অনেকেই হয়তো যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার প্রস্তুতি নিতেন। কিন্তু তিনি বেছে নিয়েছিলেন ভিন্ন পথ।

 

গুগলের প্রায় তিন লাখ ডলার বার্ষিক বেতনের চাকরি ছেড়ে নিজের স্বপ্নের পেছনে ছুটেছিলেন প্রতীক। সেই সিদ্ধান্তের দুই বছর পর তিনি এখন যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারী, পাশাপাশি একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের সহ-প্রতিষ্ঠাতা।

 

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের এই যাত্রার গল্প শেয়ার করেন প্রতীক। তার সেই পোস্ট ইতোমধ্যে এক লাখের বেশি মানুষের নজর কেড়েছে।

তবে এই গল্পের শুরু তার নিজের নয়, বরং তার বাবাকে দিয়ে। প্রতীকের বাবা যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড ও ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, বার্কলেতে পোস্টডক্টরাল গবেষণা করেছিলেন। কিন্তু পারিবারিক পরিস্থিতির কারণে দুই সন্তানকে একা বড় করার দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে তাকে যুক্তরাষ্ট্রের জীবন ছেড়ে নেপালে ফিরে যেতে হয়।

 

প্রতীক লেখেন, “নেপাল ছাড়ার পর থেকে আমার প্রতিটি পদক্ষেপই ছিল বাবার অসমাপ্ত স্বপ্নকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা।”

পরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসেন এবং প্রযুক্তি জায়ান্ট গুগলে চাকরি পান। কিন্তু তার যুক্তরাষ্ট্রে থাকা নির্ভর করছিল এইচ-১বি ভিসা লটারির ওপর। এই ব্যবস্থায় প্রতিবছর লটারির মাধ্যমে সীমিতসংখ্যক কর্মভিসা অনুমোদন দেওয়া হয়।

 

একবার নয়, টানা চারবার আবেদন করেও নির্বাচিত হতে পারেননি প্রতীক। তখন তার সামনে দুটি পথ খোলা ছিল, অন্য দেশে চলে যাওয়া অথবা নেপালে ফিরে যাওয়া।

সেই সময়ের অনুভূতির কথা বলতে গিয়ে তিনি লেখেন, “আমার সঙ্গী এখানে ছিল, আমাদের গড়ে তোলা জীবন এখানে ছিল। অথচ একটি লটারির ফল সবকিছু বদলে দিতে পারত।”

 

প্রতীক জানান, সেদিন রাতে স্ত্রী তাকে সাহস জুগিয়েছিলেন। তাদের কিছু সঞ্চয় ছিল এবং স্ত্রী তাকে মনে করিয়ে দেন, এটি তার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন।

এরপর মাত্র ২৭ বছর বয়সে বড় সিদ্ধান্ত নেন তিনি। গুগলের চাকরি ছেড়ে উদ্যোক্তা হওয়ার পথে হাঁটেন।

চাকরি ছাড়ার পরের সময়টা সহজ ছিল না। সান ফ্রান্সিসকোতে বন্ধু, পরামর্শক ও অন্যান্য উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কাজ করে তিনি বিভিন্ন ব্যবসায়িক ধারণা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। দীর্ঘ আলোচনা ও অনিশ্চয়তার মধ্যেই তিনি বুঝতে পারেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা সমাধানের সুযোগ রয়েছে।

 

গুগলে কাজ করার সময় তিনি লক্ষ্য করেছিলেন, উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রকল্পে নির্ভরযোগ্য মানব-তথ্য ব্যবস্থাপনার ঘাটতি রয়েছে। এই সমস্যা সমাধানের লক্ষ্য নিয়েই এক সহ-প্রতিষ্ঠাতার সঙ্গে মিলে তিনি ‘অ্যানথ্রোমাইন্ড’ নামে একটি নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন।

 

গুগলের চাকরি ছাড়ার পর ভিসা-সংক্রান্ত নতুন চ্যালেঞ্জও সামনে আসে। প্রচলিত এইচ-১বি পথ বাদ দিয়ে তিনি ও-১ ভিসার জন্য আবেদন করেন। অসাধারণ দক্ষতা বা বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এই ভিসা দেওয়া হয়।

 

প্রতীক জানান, গুগলে কাজের অভিজ্ঞতা, বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিযোগিতার বিচারক হিসেবে ভূমিকা এবং তার প্রকাশিত লেখাগুলো আবেদন প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শেষ পর্যন্ত তার আবেদন অনুমোদিত হয়।

এরপর তিনি ইবি-১ ক্যাটাগরির গ্রিন কার্ডও লাভ করেন। সম্প্রতি তিনি ও তার স্ত্রী দুজনই গ্রিন কার্ড হাতে পেয়েছেন।

নিজের সাফল্যের কথা জানাতে গিয়ে প্রতীক লেখেন, “দুইজন অভিবাসী, একটি কোম্পানি এবং রান্নাঘরের টেবিলে হওয়া একটি কথোপকথন সবকিছু বদলে দিয়েছে। বাবা, এই অর্জন তোমার জন্য।”

 

প্রযুক্তি খাতে কর্মরত অভিবাসীদের জন্য প্রতীকের গল্প এখন অনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়ে উঠেছে। ভিসা অনিশ্চয়তা, কর্মজীবনের ঝুঁকি এবং নতুন উদ্যোগের চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে তিনি দেখিয়েছেন, ব্যর্থতা কখনও কখনও নতুন পথেরও সূচনা হতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যুর পর বাবারও মরদেহ উদ্ধার , একসঙ্গে দাফন করা হবে বাবা-মেয়েকে

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা   পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন।   ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন।   এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।   ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের   তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।   ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

Advertisement

আমেরিকা

View more
ছবি: সংগৃহীত
চারবার এইচ-১বি ভিসা লটারিতে ব্যর্থ, আজ তিনি গ্রিন কার্ডধারী উদ্যোক্তা

যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা ও কর্মজীবনের স্বপ্ন নিয়ে আসা হাজারো অভিবাসীর মতোই অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হতে হয়েছিল নেপালে জন্ম নেওয়া প্রযুক্তি পেশাজীবী প্রতীক কার্কিকে। চারবার এইচ-১বি ভিসা লটারিতে ব্যর্থ হওয়ার পর অনেকেই হয়তো যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার প্রস্তুতি নিতেন। কিন্তু তিনি বেছে নিয়েছিলেন ভিন্ন পথ।   গুগলের প্রায় তিন লাখ ডলার বার্ষিক বেতনের চাকরি ছেড়ে নিজের স্বপ্নের পেছনে ছুটেছিলেন প্রতীক। সেই সিদ্ধান্তের দুই বছর পর তিনি এখন যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারী, পাশাপাশি একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের সহ-প্রতিষ্ঠাতা।   সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের এই যাত্রার গল্প শেয়ার করেন প্রতীক। তার সেই পোস্ট ইতোমধ্যে এক লাখের বেশি মানুষের নজর কেড়েছে। তবে এই গল্পের শুরু তার নিজের নয়, বরং তার বাবাকে দিয়ে। প্রতীকের বাবা যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড ও ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, বার্কলেতে পোস্টডক্টরাল গবেষণা করেছিলেন। কিন্তু পারিবারিক পরিস্থিতির কারণে দুই সন্তানকে একা বড় করার দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে তাকে যুক্তরাষ্ট্রের জীবন ছেড়ে নেপালে ফিরে যেতে হয়।   প্রতীক লেখেন, “নেপাল ছাড়ার পর থেকে আমার প্রতিটি পদক্ষেপই ছিল বাবার অসমাপ্ত স্বপ্নকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা।” পরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসেন এবং প্রযুক্তি জায়ান্ট গুগলে চাকরি পান। কিন্তু তার যুক্তরাষ্ট্রে থাকা নির্ভর করছিল এইচ-১বি ভিসা লটারির ওপর। এই ব্যবস্থায় প্রতিবছর লটারির মাধ্যমে সীমিতসংখ্যক কর্মভিসা অনুমোদন দেওয়া হয়।   একবার নয়, টানা চারবার আবেদন করেও নির্বাচিত হতে পারেননি প্রতীক। তখন তার সামনে দুটি পথ খোলা ছিল, অন্য দেশে চলে যাওয়া অথবা নেপালে ফিরে যাওয়া। সেই সময়ের অনুভূতির কথা বলতে গিয়ে তিনি লেখেন, “আমার সঙ্গী এখানে ছিল, আমাদের গড়ে তোলা জীবন এখানে ছিল। অথচ একটি লটারির ফল সবকিছু বদলে দিতে পারত।”   প্রতীক জানান, সেদিন রাতে স্ত্রী তাকে সাহস জুগিয়েছিলেন। তাদের কিছু সঞ্চয় ছিল এবং স্ত্রী তাকে মনে করিয়ে দেন, এটি তার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। এরপর মাত্র ২৭ বছর বয়সে বড় সিদ্ধান্ত নেন তিনি। গুগলের চাকরি ছেড়ে উদ্যোক্তা হওয়ার পথে হাঁটেন। চাকরি ছাড়ার পরের সময়টা সহজ ছিল না। সান ফ্রান্সিসকোতে বন্ধু, পরামর্শক ও অন্যান্য উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কাজ করে তিনি বিভিন্ন ব্যবসায়িক ধারণা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। দীর্ঘ আলোচনা ও অনিশ্চয়তার মধ্যেই তিনি বুঝতে পারেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা সমাধানের সুযোগ রয়েছে।   গুগলে কাজ করার সময় তিনি লক্ষ্য করেছিলেন, উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রকল্পে নির্ভরযোগ্য মানব-তথ্য ব্যবস্থাপনার ঘাটতি রয়েছে। এই সমস্যা সমাধানের লক্ষ্য নিয়েই এক সহ-প্রতিষ্ঠাতার সঙ্গে মিলে তিনি ‘অ্যানথ্রোমাইন্ড’ নামে একটি নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন।   গুগলের চাকরি ছাড়ার পর ভিসা-সংক্রান্ত নতুন চ্যালেঞ্জও সামনে আসে। প্রচলিত এইচ-১বি পথ বাদ দিয়ে তিনি ও-১ ভিসার জন্য আবেদন করেন। অসাধারণ দক্ষতা বা বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এই ভিসা দেওয়া হয়।   প্রতীক জানান, গুগলে কাজের অভিজ্ঞতা, বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিযোগিতার বিচারক হিসেবে ভূমিকা এবং তার প্রকাশিত লেখাগুলো আবেদন প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শেষ পর্যন্ত তার আবেদন অনুমোদিত হয়। এরপর তিনি ইবি-১ ক্যাটাগরির গ্রিন কার্ডও লাভ করেন। সম্প্রতি তিনি ও তার স্ত্রী দুজনই গ্রিন কার্ড হাতে পেয়েছেন। নিজের সাফল্যের কথা জানাতে গিয়ে প্রতীক লেখেন, “দুইজন অভিবাসী, একটি কোম্পানি এবং রান্নাঘরের টেবিলে হওয়া একটি কথোপকথন সবকিছু বদলে দিয়েছে। বাবা, এই অর্জন তোমার জন্য।”   প্রযুক্তি খাতে কর্মরত অভিবাসীদের জন্য প্রতীকের গল্প এখন অনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়ে উঠেছে। ভিসা অনিশ্চয়তা, কর্মজীবনের ঝুঁকি এবং নতুন উদ্যোগের চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে তিনি দেখিয়েছেন, ব্যর্থতা কখনও কখনও নতুন পথেরও সূচনা হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি প্রকাশ: জুন ২০, ২০২৬ ২৩:৩৫
ছবি: সংগৃহীত

টেক্সাসে বাড়িতে ঢুকে পড়ল টেসলা গাড়ি, ঘরের ভেতরে থাকা নারীর মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কের এক ব্যক্তি রাতারাতি কোটিপতি, লটারিতে জিতলেন ৩৪ লাখ ডলার

ছবি: সংগৃহীত

ক্যালিফোর্নিয়ায় দ্রুত বাড়ছে প্রবীণ গৃহহীন মানুষের সংখ্যা, আবাসন সংকটে উদ্বেগ

ছবি: সংগৃহীত
একটি ফোন কলেই উধাও হতে পারে সারা জীবনের সঞ্চয়, প্রতারণার নতুন কৌশল নিয়ে সতর্ক করল এফবিআই

যুক্তরাষ্ট্রে প্রযুক্তিনির্ভর প্রতারণার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। বিশেষ করে ফোন কলের মাধ্যমে পরিচয় গোপন করে কিংবা ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ ও ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে দেশটির কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই (FBI) নাগরিকদের বেশ কয়েকটি বহুল প্রচলিত ফোনভিত্তিক প্রতারণা সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।   সংস্থাটির বিভিন্ন জনসচেতনতামূলক নির্দেশনা ও সাম্প্রতিক সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, প্রতারকরা সাধারণত ভয়, আতঙ্ক বা জরুরি পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে মানুষকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করার চেষ্টা করে। অনেক ক্ষেত্রেই তারা সরকারি সংস্থা, ব্যাংক বা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি পরিচয়ে যোগাযোগ করে।   এফবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি দেখা যায় সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বরকে কেন্দ্র করে প্রতারণা। এ ধরনের ফোন কলে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর স্থগিত করা হবে অথবা তার নামে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তদন্ত চলছে। এরপর ব্যক্তিগত তথ্য কিংবা অর্থ দাবি করা হয়। তবে বাস্তবে যুক্তরাষ্ট্রের সোশ্যাল সিকিউরিটি প্রশাসন সাধারণত ফোনে কাউকে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ বা ব্যক্তিগত তথ্য চায় না।   আরেকটি পরিচিত প্রতারণা হলো ট্যাক্স সংক্রান্ত ভুয়া কল। প্রতারকরা নিজেদের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বিভাগের (IRS) কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে দাবি করে যে ভুক্তভোগীর বকেয়া কর রয়েছে এবং তা দ্রুত পরিশোধ না করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অথচ আইআরএস সাধারণত কর সংক্রান্ত বিষয়ে প্রথম যোগাযোগ ডাকযোগে বা আনুষ্ঠানিক নোটিশের মাধ্যমে করে থাকে।   ব্যাংকিং খাতকেও লক্ষ্যবস্তু করছে প্রতারকরা। অনেক সময় ফোন করে বলা হয়, গ্রাহকের ব্যাংক হিসাব ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বা সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত হয়েছে। এরপর ওটিপি, যাচাইকরণ কোড কিংবা অনলাইন ব্যাংকিং সংক্রান্ত তথ্য চাওয়া হয়। ব্যাংকিং নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করে আসছেন যে কোনো বৈধ ব্যাংক কখনো ফোনে গ্রাহকের পাসওয়ার্ড, ওটিপি বা নিরাপত্তা কোড জানতে চায় না।   প্রযুক্তি সহায়তার নামে প্রতারণাও বাড়ছে। এ ধরনের কলে বলা হয়, ব্যবহারকারীর কম্পিউটার বা মোবাইল ফোনে ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে এবং তা সমাধানের জন্য দূর থেকে ডিভাইসে প্রবেশাধিকার দিতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের অনুরোধ গ্রহণ করলে ব্যক্তিগত তথ্য, ছবি, আর্থিক তথ্য বা অনলাইন অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। অ্যাপল বা মাইক্রোসফটের মতো প্রতিষ্ঠান সাধারণত বিনা কারণে গ্রাহকদের ফোন করে এ ধরনের সতর্কবার্তা দেয় না।   সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে উদ্বেগজনক হিসেবে উঠে এসেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে পরিচালিত ভয়েস প্রতারণা। এ ক্ষেত্রে প্রতারকরা পরিবারের সদস্য, বন্ধু বা পরিচিত কারও কণ্ঠস্বর নকল করে জরুরি পরিস্থিতির কথা বলে অর্থ পাঠানোর অনুরোধ করে। এফবিআই সম্প্রতি এ ধরনের ঘটনার বিষয়ে বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে। সংস্থাটি বলছে, কোনো জরুরি আর্থিক অনুরোধ পাওয়া গেলে অর্থ পাঠানোর আগে অন্য কোনো মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া উচিত।   সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, ফোনে কেউ যদি অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে, ভয় দেখায়, দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে বলে অথবা অর্থ ও ব্যক্তিগত তথ্য দাবি করে, তাহলে সেটিকে সন্দেহজনক হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। প্রয়োজনে কলটি কেটে দিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার অফিসিয়াল নম্বরে যোগাযোগ করে তথ্য যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সচেতনতা ও সতর্কতাই এ ধরনের প্রতারণা থেকে সুরক্ষার সবচেয়ে কার্যকর উপায়। একটি অসতর্ক মুহূর্তেই ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হওয়ার পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন যে কেউ।

যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি প্রকাশ: জুন ২০, ২০২৬ ২০:৫০
ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কের আবাসিক বিদ্যালয়ে ভয়াবহ নির্যাতন, ‘নিজের কবর খুঁড়তে বাধ্য করা হতো শিশুদের’

জর্জিয়ার বিলাসবহুল ম্যানশন বিক্রি করছেন কার্ডি বি l ছবি: সংগৃহীত

৬ মিলিয়ন ডলারের জর্জিয়ার বিলাসবহুল ম্যানশন বিক্রি করছেন কার্ডি বি

ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

বাসর রাতেই স্ত্রীকে খুন করে মেক্সিকোতে পলায়ন, ১০ বছর পর এফবিআইয়ের হাতে ধরা পলাতক স্বামী

ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
৭০০ ডলারের বিল, তবু নেই এক ডলার টিপস! বিশ্বকাপ পর্যটকদের নিয়ে ক্ষুব্ধ মার্কিন রেস্তোরাঁকর্মীরা

বিশ্বকাপ ফুটবলের উন্মাদনায় নিউইয়র্ক শহর যখন এক বিশাল আন্তর্জাতিক উৎসবের রূপ নিয়েছে, তখন স্থানীয় রেস্তোরাঁকর্মী ও বারটেন্ডাররা পড়েছেন নতুন এক বিড়ম্বনায়। বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আসা ফুটবলপ্রেমীরা আমেরিকার বকশিশ বা 'টিপিং' সংস্কৃতির সঙ্গে খুব একটা পরিচিত নন।   নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফিফা বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখতে অঞ্চলটিতে প্রায় ১২ লাখ দর্শকের সমাগম ঘটছে। সকালের কিকঅফ থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত বার ও রেস্তোরাঁগুলো কানায় কানায় পূর্ণ থাকছে। বিক্রি বাড়লেও, কর্মীদের প্রাপ্ত বকশিশের পরিমাণ হতাশাজনক। তবে এর সমাধানে আমেরিকার বেশ কয়েকটি শহরের রেস্তোরাঁ মালিকরা ইতোমধ্যে পাল্টা ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছেন।   রেস্তোরাঁ শিল্প সংশ্লিষ্ট গ্রুপগুলো জানিয়েছে, টুর্নামেন্ট চলাকালীন ক্যানসাস সিটি, আটলান্টা এবং ফিলাডেলফিয়ার মতো শহরের অনেক রেস্তোরাঁ গ্রাহকদের বিলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ২০ শতাংশ বকশিশ বা গ্র্যাচুইটি যোগ করতে শুরু করেছে। রেস্তোরাঁ মালিকদের মতে, এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো সেসব মার্কিন সার্ভারদের সুরক্ষা দেওয়া, যাদের আয়ের একটি বড় অংশ আসে এই বকশিশ থেকে। এর পাশাপাশি, আমেরিকার টিপিং নিয়মনীতি সম্পর্কে অপরিচিত বিদেশি পর্যটকদের বিভ্রান্তি এড়াতেও এটি সাহায্য করবে।   ওয়েস্ট ৪৬ নম্বর স্ট্রিটে অবস্থিত ম্যাকার্থি'স পাবের ওয়েট্রেস লুইস ড্যাগেট জানান, আন্তর্জাতিক দর্শকদের সেবা দেওয়াটা যেমন ক্লান্তিকর, তেমনি বেশ আনন্দদায়কও। তিনি বলেন, দর্শকরা অত্যন্ত উচ্ছ্বসিত ও অমায়িক হলেও বিল পরিশোধ এবং বকশিশ হিসাব করার মার্কিন রীতিতে তারা বেশ বিভ্রান্ত হচ্ছেন। অনেক গ্রাহক কয়েক ঘণ্টা ধরে পানীয় পান করে প্রায় ৭০০ ডলারের বিশাল বিল তুললেও কোনো বকশিশ রেখে যাচ্ছেন না।   ড্যাগেট অবশ্য এর জন্য পর্যটকদের অভদ্রতাকে দায়ী করছেন না, বরং তিনি মনে করেন, এখানকার রীতি সম্পর্কে তারা সত্যিই অজ্ঞ। পর্যটকরা যখন এই প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চান, তখন ড্যাগেট হাসিমুখে তাদের বুঝিয়ে বলেন যে, নিউইয়র্কে টিপিং একটি প্রচলিত ও প্রশংসনীয় সংস্কৃতি।   কয়েক ব্লক দূরে অবস্থিত হার্লে'স সেলুনের সহ-মালিক অ্যান ক্যালিম্যানো জানান, এই বিশ্বকাপ শহরের সাধারণত ধীরগতির ব্যবসায়ের মৌসুমকে একটি নিরবচ্ছিন্ন পার্টিতে পরিণত করেছে। ব্যবসা চমৎকার হলেও বকশিশের হার একেবারেই স্বাভাবিক নয়। এর কারণ হিসেবে তিনি সাংস্কৃতিক পার্থক্যকেই তুলে ধরেন। ইউরোপের অনেক দেশে রেস্তোরাঁর বিলেই সার্ভিস চার্জ অন্তর্ভুক্ত থাকে, তাই পর্যটকরা ধরে নেন এখানেও তার ব্যতিক্রম নয়।   পর্যটকদের এই সংস্কৃতির সঙ্গে কর্মীরাও এখন মানিয়ে নিচ্ছেন। অন্যদিকে, গার্ভে'স আইরিশ পাবের বারটেন্ডার ক্যাথাল রেনল্ডসও বর্তমান পরিস্থিতিতে বেশ সন্তুষ্ট। তিনি জানান, পর্যটকরা এমনিতেই অনেক অর্থ ব্যয় করে এখানে এসেছেন, তাই বকশিশের বিষয়ে তিনি খুব একটা মাথা ঘামাচ্ছেন না। তবে তিনি নতুন পর্যটকদের স্থানীয় মার্কিন সংস্কৃতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন, যাতে তাদের ভ্রমণের অভিজ্ঞতা আরও আনন্দদায়ক হয়।

যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি প্রকাশ: জুন ২০, ২০২৬ ১৭:৪১
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় কর্মস্থলে দুর্বৃত্তের হামলায় প্রবাসী বিএনপি নেতার মৃত্যু l ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় কর্মস্থলে দুর্বৃত্তের হামলায় প্রবাসী বিএনপি নেতার মৃত্যু

কমলা হ্যারিসের নতুন ঠিকানা মালিবু l ছবি: সংগৃহীত

কমলা হ্যারিসের নতুন ঠিকানা মালিবু, ৮১ লাখ ৫০ হাজার ডলারে কিনলেন সমুদ্রতীরবর্তী বিলাসবহুল বাড়ি

ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সিতে চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার সাবেক মাফিয়া কাউন্সিলম্যান

0 Comments