বিশ্ব

যুদ্ধে জয় নেই, কৌশলগতভাবে সবচেয়ে বড় ধাক্কা নেতানিয়াহুর

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাতে কোনো পক্ষই সুস্পষ্ট জয় পায়নি। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ও কৌশলগত ধাক্কা লেগেছে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu-এর নেতৃত্বে থাকা সরকারের ওপর।

 

বছরের পর বছর ধরে ইরানকে প্রধান হুমকি হিসেবে তুলে ধরে আন্তর্জাতিক পরিসরে কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন নেতানিয়াহু। কিন্তু বাস্তবে এই সংঘাতে ইসরায়েল তাদের ঘোষিত লক্ষ্যগুলোর কোনোটিই অর্জন করতে পারেনি বলে বিভিন্ন মহলে মত উঠে এসেছে।

 

ইসরায়েলের বিরোধীদলীয় নেতা Yair Lapid এই পরিস্থিতিকে দেশের ইতিহাসে এক বড় রাজনৈতিক ব্যর্থতা হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের সময় ইসরায়েল কার্যত আলোচনার বাইরে ছিল এবং সরকার কৌশলগতভাবে ব্যর্থ হয়েছে।

 

বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলের পরিকল্পনা ছিল স্বল্পমেয়াদি একটি সামরিক অভিযান। কিন্তু যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় সেই হিসাব ভেঙে পড়ে। একই সঙ্গে ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন কিংবা তাদের সামরিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল করার লক্ষ্যও অর্জিত হয়নি।

 

ইসরায়েলের আরেক রাজনৈতিক নেতা Yair Golan এই যুদ্ধবিরতিকে ‘কৌশলগত পরাজয়’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, সরকার যে ‘ঐতিহাসিক বিজয়’-এর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, বাস্তবে তার উল্টো চিত্র দেখা গেছে।

 

সামরিক বিশ্লেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইসরায়েল ইরানের ইউরেনিয়াম কর্মসূচি থামাতে পারেনি, এমনকি তেহরানের সামরিক শক্তিও পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। বরং ইরান আক্রমণের মুখেও টিকে থেকে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে পেরেছে।

 

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। যুদ্ধের চূড়ান্ত পর্যায়ে এসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump যুদ্ধবিরতির পথে হাঁটেন, যা ইসরায়েলের প্রত্যাশার সঙ্গে পুরোপুরি মিলেনি বলে বিভিন্ন সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

 

অন্যদিকে, লেবানন সীমান্তে হামলা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়ে নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছেন নেতানিয়াহু। সেখানে হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংঘর্ষ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

 

বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধের প্রভাব শুধু সামরিক নয়, কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও গভীর। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও চাপ বাড়ছে।

 

সব মিলিয়ে, ঘোষিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থতা, আন্তর্জাতিক সমালোচনা এবং অভ্যন্তরীণ চাপ—এই তিন দিক থেকে বর্তমান পরিস্থিতিকে নেতানিয়াহুর জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

Advertisement

বিশ্ব

View more
ছবি: সংগৃহীত
যুদ্ধে জয় নেই, কৌশলগতভাবে সবচেয়ে বড় ধাক্কা নেতানিয়াহুর

ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাতে কোনো পক্ষই সুস্পষ্ট জয় পায়নি। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ও কৌশলগত ধাক্কা লেগেছে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu-এর নেতৃত্বে থাকা সরকারের ওপর।   বছরের পর বছর ধরে ইরানকে প্রধান হুমকি হিসেবে তুলে ধরে আন্তর্জাতিক পরিসরে কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন নেতানিয়াহু। কিন্তু বাস্তবে এই সংঘাতে ইসরায়েল তাদের ঘোষিত লক্ষ্যগুলোর কোনোটিই অর্জন করতে পারেনি বলে বিভিন্ন মহলে মত উঠে এসেছে।   ইসরায়েলের বিরোধীদলীয় নেতা Yair Lapid এই পরিস্থিতিকে দেশের ইতিহাসে এক বড় রাজনৈতিক ব্যর্থতা হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের সময় ইসরায়েল কার্যত আলোচনার বাইরে ছিল এবং সরকার কৌশলগতভাবে ব্যর্থ হয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলের পরিকল্পনা ছিল স্বল্পমেয়াদি একটি সামরিক অভিযান। কিন্তু যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় সেই হিসাব ভেঙে পড়ে। একই সঙ্গে ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন কিংবা তাদের সামরিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল করার লক্ষ্যও অর্জিত হয়নি।   ইসরায়েলের আরেক রাজনৈতিক নেতা Yair Golan এই যুদ্ধবিরতিকে ‘কৌশলগত পরাজয়’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, সরকার যে ‘ঐতিহাসিক বিজয়’-এর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, বাস্তবে তার উল্টো চিত্র দেখা গেছে।   সামরিক বিশ্লেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইসরায়েল ইরানের ইউরেনিয়াম কর্মসূচি থামাতে পারেনি, এমনকি তেহরানের সামরিক শক্তিও পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। বরং ইরান আক্রমণের মুখেও টিকে থেকে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে পেরেছে।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। যুদ্ধের চূড়ান্ত পর্যায়ে এসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump যুদ্ধবিরতির পথে হাঁটেন, যা ইসরায়েলের প্রত্যাশার সঙ্গে পুরোপুরি মিলেনি বলে বিভিন্ন সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।   অন্যদিকে, লেবানন সীমান্তে হামলা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়ে নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছেন নেতানিয়াহু। সেখানে হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংঘর্ষ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।   বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধের প্রভাব শুধু সামরিক নয়, কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও গভীর। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও চাপ বাড়ছে।   সব মিলিয়ে, ঘোষিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থতা, আন্তর্জাতিক সমালোচনা এবং অভ্যন্তরীণ চাপ—এই তিন দিক থেকে বর্তমান পরিস্থিতিকে নেতানিয়াহুর জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

লেবাননে ইসরায়েলের হামলা ‘নৃশংস’, উদ্বেগ জানালেন জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ছবি: রয়টার্স ফাইল ছবি

ইরান আলোচনায় ট্রাম্পের প্রতিনিধিদল, ইসলামাবাদে যাচ্ছেন ভ্যান্স–কুশনাররা

ব্রিটেনের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে অস্ট্রেলিয়ান এসএএস কর্পোরাল বেন রবার্টস-স্মিথ (বাঁয়ে)। অস্ট্রেলিয়ার সর্বোচ্চ সামরিক সম্মাননা ভিক্টোরিয়া ক্রসে ভূষিত হওয়ার পর তিনি রানির সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পান। ১৫ নভেম্বর ২০১১। ফাইল ছবি:

যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তার, কারাগারেই থাকছেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক সেনা রবার্ট-স্মিথ

ছবি: সংগৃহীত।
১১ হাজার বছরের প্রাচীন রহস্যের সমাধান: ব্রিটেনের গুহায় মিলল আদিম শিশুর দেহাবশেষ

১১ হাজার বছর আগের এক বিষাদময় উপাখ্যান! শেষ তুষারযুগের বরফ যখন গলতে শুরু করেছে, ঠিক সেই সময়ে উত্তর ব্রিটেনের এক অন্ধকার গুহায় সমাহিত করা হয়েছিল তিন বছরের এক ছোট্ট শিশুকে। দীর্ঘ গবেষণার পর বিজ্ঞানীরা উন্মোচন করেছেন মানব ইতিহাসের এক বিস্ময়কর অধ্যায়। কামব্রিয়ার ‘হিনিং উড বোন কেভ’ থেকে উদ্ধার হওয়া এই দেহাবশেষটি বর্তমানে উত্তর ব্রিটেনের ইতিহাসে আবিষ্কৃত প্রাচীনতম মানুষের নিদর্শন। বিজ্ঞানীদের তথ্যানুযায়ী, শিশুটি খ্রিস্টপূর্ব ৯২৯০ থেকে ৮৯২৫ অব্দের মাঝামাঝি সময়ে মারা গিয়েছিল। আধুনিক ডিএনএ বিশ্লেষণ এবং রেডিওকার্বন ডেটিং প্রযুক্তির মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, শিশুটির বয়স ছিল মাত্র আড়াই থেকে সাড়ে তিন বছর। স্থানীয়ভাবে তাকে ‘অসিক ল্যাস’ নামে অভিহিত করা হয়েছে। গবেষণায় উঠে এসেছে এক আবেগঘন সত্য। আজ থেকে হাজার হাজার বছর আগেকার সেই আদিম মানুষগুলোও যে তাদের প্রিয়জনদের প্রতি কতটা যত্নশীল ছিল, তার প্রমাণ মেলে এই সমাধিতে। শিশুটিকে গুহার ভেতর অত্যন্ত সম্মানের সাথে সমাহিত করা হয়েছিল। তার দেহের সাথে পাওয়া গেছে পাঁচটি ছিদ্রযুক্ত ঝিনুকের পুঁতি, যা তৎকালীন সময়ের গয়না বা বিশেষ উপহার হিসেবে ব্যবহৃত হতো। এটি প্রমাণ করে, প্রাচীনকালেও মৃতদেহ সৎকারে শোক এবং ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটানো হতো। দীর্ঘ ১০ বছর ধরে এই গুহায় খননকাজ চালিয়েছেন প্রত্নতাত্ত্বিক মার্টিন স্টেবেলস। তার মতে, গুহাটি সম্ভবত তৎকালীন মানুষের কাছে কোনো পবিত্র বা আধ্যাত্মিক স্থান ছিল। ল্যাঙ্কাশায়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান গবেষক ডক্টর রিক পিটারসন এই আবিষ্কারকে বিজ্ঞানের এক অভাবনীয় জয় হিসেবে দেখছেন। তিনি জানান, এত প্রাচীন দেহাবশেষ থেকে লিঙ্গ ও বয়স নির্ভুলভাবে শনাক্ত করা ব্রিটেনের আদিম জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রা বুঝতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করল।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।

একই দিনে দ্বিতীয়বার ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল উত্তর কোরিয়া, উপদ্বীপে বাড়ছে উত্তেজনা

সিনেট মাইনোরিটি লিডার চাক শুমার। ছবি: সংগৃহীত

ট্রাম্পের লাগাম টানতে মরিয়া ডেমোক্র্যাটরা: যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা সীমিত করার প্রস্তাব সিনেটে

ছবি: সংগৃহীত

যুদ্ধবিরতির পরও হরমুজ প্রণালি আবার বন্ধ, বিশ্ববাজারে তেলের অনিশ্চয়তা

ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাজ্যে নারীদের জন্য ‘উইমেন ইন স্টেম’ বৃত্তি: ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত আবেদন

বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত (স্টেম) বিষয়ে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে আবারও সম্পূর্ণ অর্থায়িত বৃত্তি দিচ্ছে British Council। টানা ষষ্ঠবারের মতো চালু হওয়া ‘উইমেন ইন স্টেম’ শীর্ষক এ কর্মসূচি তাদের ‘গোয়িং গ্লোবাল পার্টনারশিপস’ উদ্যোগের অংশ।   এই বৃত্তির আওতায় বাংলাদেশসহ নির্ধারিত দেশের নারী শিক্ষার্থীরা যুক্তরাজ্যের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে এক বছর মেয়াদি স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ পাবেন। আগ্রহীরা আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।   ব্রিটিশ কাউন্সিল জানিয়েছে, বিজ্ঞান ও উদ্ভাবন খাতে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং লিঙ্গ বৈষম্য কমানোই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। ইতিমধ্যে যুক্তরাজ্যের ৪৩টি স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় এই কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এবং প্রায় ৫০০ নারী শিক্ষার্থী এ বৃত্তির মাধ্যমে উপকৃত হয়েছেন।   ২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষে প্রতিটি বৃত্তির আর্থিক মূল্য ন্যূনতম ৪০ হাজার পাউন্ড। এর আওতায় টিউশন ফি, জীবনযাপন ভাতা, যাতায়াত ও ভিসা ব্যয়, স্বাস্থ্যসেবা ফি এবং ইংরেজি ভাষা সহায়তা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা পরিবেশে কাজ করার সুযোগ পাবেন এবং বৈশ্বিক অ্যালামনাই নেটওয়ার্কে যুক্ত হতে পারবেন।   এ বছর বিশ্বব্যাপী মোট ৯০টি বৃত্তি প্রদান করা হবে, যেখানে ৩০টি দেশের শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। দক্ষিণ এশিয়ার জন্য বরাদ্দ রয়েছে ২৫টি বৃত্তি, যার মাধ্যমে অঞ্চলটির শিক্ষার্থীরা যুক্তরাজ্যের পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সুযোগ পাবেন।   ব্রিটিশ কাউন্সিলের গ্লোবাল হেড অব এনাবলিং রিসার্চ অ্যান্ড সায়েন্স ড. জেন বার্ডসলি বলেন, এই কর্মসূচি স্টেম খাতে নারীদের অগ্রযাত্রার পথে থাকা প্রতিবন্ধকতা দূর করতে সহায়তা করছে এবং আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক গবেষণা পরিবেশ গড়ে তুলছে।   বাংলাদেশে ব্রিটিশ কাউন্সিলের শিক্ষা বিভাগের প্রধান তৌফিক হাসান বলেন, স্টেম খাতে নারী-পুরুষের বৈষম্য কমাতে ধারাবাহিক বিনিয়োগ প্রয়োজন। এই বৃত্তি উদীয়মান নারী শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক গবেষণা ও উদ্ভাবনের সঙ্গে যুক্ত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করছে।   এ কর্মসূচির একজন স্কলার সাদিয়া জামান জানান, এই বৃত্তি তার গবেষণা দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি নেতৃত্ব ও আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলতে বড় ভূমিকা রেখেছে। তিনি বলেন, এটি তার জন্য জীবন বদলে দেওয়া অভিজ্ঞতা।   বৃত্তি সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য, যোগ্যতা এবং অংশগ্রহণকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তালিকা জানতে ব্রিটিশ কাউন্সিলের গ্লোবাল ওয়েবসাইট এবং বাংলাদেশ অফিসের ওয়েবসাইটে ভিজিট করা যাবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।

১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ হচ্ছে গ্রিসে

ফাইল ছবি

ভিসা নিয়ে ১৩ দেশের সতর্কবার্তা; প্রতারক ও জাল নথি থেকে সাবধান

ছবি: সংগৃহীত।

ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভ: ‘আল্লাহু আকবার’ ধ্বনিতে উত্তাল লন্ডন

0 Comments