যুক্তরাষ্ট্রে এক নবজাতক শিশুর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় রহস্য তৈরি হয়েছে। গোপনে সন্তান জন্ম দেওয়ার পর শিশুটির কোনো খোঁজ না পাওয়ায় তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা-মায়ের বক্তব্য নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অঙ্গরাজ্যে। তদন্তকারীদের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শিশুটির জন্মের বিষয়টি আগে থেকে পরিবার বা সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়নি। প্রসবের পর নবজাতকটির অবস্থান সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য না পাওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অনুসন্ধান শুরু করে।
পুলিশের অভিযোগ, শিশুটির বাবা-মা প্রথমে নবজাতকের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেন। পরে তারা দাবি করেন, শিশুটিকে নিয়ে করা কথাবার্তা নাকি ‘মজা’ বা কৌতুকের অংশ ছিল।
তবে তদন্তকারীরা বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। কারণ নবজাতকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শিশুটির প্রকৃত অবস্থান খুঁজে বের করাই এখন প্রধান লক্ষ্য বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ঘটনার পর পুলিশ শিশুটির জন্ম, প্রসবের পরিস্থিতি এবং এরপর কী ঘটেছে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করছে। পাশাপাশি পরিবারের সদস্য ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
কোনো নবজাতকের অবস্থান গোপন করা বা শিশুর নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলার অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে গুরুতর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
বর্তমানে তদন্তকারীরা শিশুটিকে দ্রুত খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন। তবে শিশুটির বর্তমান অবস্থা বা অবস্থান সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইস পরিচালিত ডিটেনশন সেন্টারগুলো নিয়ে গুগল ম্যাপসে থাকা হাজারো রিভিউ আর দেখা যাচ্ছে না। একই সঙ্গে দেশের অধিকাংশ আইস ডিটেনশন সেন্টারে নতুন রিভিউ দেওয়ার ব্যবস্থাও বন্ধ করে দিয়েছে গুগল। তুলেন ইউনিভার্সিটির এক গবেষকের অনুসন্ধানে এ তথ্য উঠে আসার পর প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটির কনটেন্ট মডারেশন নীতি এবং ডিটেনশন সেন্টারের ভেতরের অভিজ্ঞতা জনসমক্ষে প্রকাশের সুযোগ নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তুলেন ইউনিভার্সিটির কমিউনিকেশন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মুইরা ম্যাকক্যামনের গবেষণাটি ২০২৬ সালের জুনে একাডেমিক জার্নাল নিউ মিডিয়া এন্ড সোসাইটিতে প্রকাশিত হয়। গবেষণার অংশ হিসেবে তিনি আইস ডিটেনশন সেন্টারগুলোর গুগল রিভিউ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করেন। ২০২৫ সালের আগস্টে ম্যাকক্যামন ২৬টি আইস ডিটেনশন সেন্টারের গুগল ম্যাপস পেজ থেকে মোট ১ হাজার ৬৩৬টি রিভিউ সংগ্রহ করেছিলেন। ওই সময় আরও ৯১টি ইমিগ্রেশন ডিটেনশন সেন্টারে রিভিউ দেওয়ার সুবিধা ইতোমধ্যে বন্ধ ছিল। কিন্তু এক বছরেরও কম সময়ের ব্যবধানে পরিস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বদলে যায়। গবেষকের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি যে রিভিউগুলো সংরক্ষণ করেছিলেন, সেগুলোর প্রায় সবই এখন আর গুগল ম্যাপসে পাওয়া যাচ্ছে না। বর্তমানে মাত্র চারটি আইস স্থাপনায় রিভিউ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। রিভিউগুলোর একটি অংশে ডিটেনশনে থাকা ব্যক্তি এবং তাদের স্বজনদের অভিজ্ঞতার বর্ণনা ছিল। সেখানে চিকিৎসাসেবা না পাওয়া, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, কর্মীদের আচরণ, অতিরিক্ত ঠান্ডা, ভাষাগত সমস্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগ উঠে এসেছিল। কিছু রিভিউ অবশ্য সরাসরি কোনো ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার পরিবর্তে আইস বা যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন নীতির বিরোধিতা করে লেখা হয়েছিল। গবেষক ম্যাকক্যামনের মতে, বিষয়টি সাধারণ অনলাইন রেটিং বা রিভিউ হারিয়ে যাওয়ার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ। ডিটেনশন সেন্টারে থাকা মানুষের বাইরের জগতের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ সীমিত হওয়ায় গুগল ম্যাপসের মতো প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত এসব অভিজ্ঞতা অনেক ক্ষেত্রে সেখানকার পরিস্থিতি সম্পর্কে জনসাধারণকে জানার একটি মাধ্যম হয়ে উঠেছিল। তবে গুগল বলছে, আইস বা ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির অনুরোধে এসব রিভিউ সরানো হয়নি। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এটি তাদের বিদ্যমান কনটেন্ট মডারেশন নীতির প্রয়োগ। গুগল ২০২৩ সালে তাদের নীতিমালা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জানিয়েছিল, যেসব স্থানে মানুষ সাধারণত নিজের পছন্দে যায় না অথবা নির্দিষ্ট দায়িত্ব বা পরিস্থিতির কারণে যেতে হয়, সেখানে রিভিউ সীমিত করা হতে পারে। উদাহরণ হিসেবে কারাগার ও পুলিশ স্টেশনের কথা উল্লেখ করেছিল প্রতিষ্ঠানটি। গুগলের মতে, এ ধরনের স্থানের রিভিউ অনেক ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সহায়ক নয় এবং সেখানে অপ্রাসঙ্গিক বা ক্ষতিকর কনটেন্ট জমা হওয়ার ঝুঁকিও থাকে। গুগলের মুখপাত্র জেনেভিভ পার্ক সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, রিভিউ মূলত মানুষকে কোথায় যাবেন সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করার জন্য তৈরি। যেসব স্থানে মানুষ নিজের ইচ্ছায় যায় না, এমন কয়েক ধরনের স্থানে গুগল রিভিউ প্রদর্শন করে না। ফলে গুগল ট্রাম্প প্রশাসন বা আইস এর নির্দেশে নেতিবাচক রিভিউগুলো মুছে দিয়েছে, এমন দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং গুগল স্পষ্টভাবে বলেছে, সরকারি সংস্থার অনুরোধে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তবে ম্যাকক্যামন গুগলের নীতির প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তার গবেষণায় বলা হয়েছে, একটি বেসরকারি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের কনটেন্ট মডারেশন সিদ্ধান্তের কারণে কারাগার ও ডিটেনশন ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং ডিজিটাল রেকর্ড জনসাধারণের নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে। বিষয়টি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন আইস ডিটেনশন সেন্টারের পরিস্থিতি নিয়ে আদালত, মানবাধিকার সংগঠন এবং আটক ব্যক্তিদের পরিবারের পক্ষ থেকে নানা অভিযোগ উঠছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে কয়েকটি ডিটেনশন সেন্টারে চিকিৎসাসেবা, খাবার এবং আটক শিশুদের পরিস্থিতি নিয়েও আইনি লড়াই হয়েছে। আইস ও ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভিন্ন সময়ে এসব অভিযোগের জবাবে জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসহ নির্ধারিত মান অনুযায়ী সেবা দেওয়া হচ্ছে। গবেষণাটি এখন আরও বড় একটি প্রশ্ন সামনে এনেছে। কারাগার বা ইমিগ্রেশন ডিটেনশন সেন্টারের মতো জায়গায় সাধারণ গ্রাহক রিভিউ ব্যবস্থা উপযুক্ত কি না, সেটি একদিকে যেমন বিতর্কের বিষয়, অন্যদিকে সেখানে থাকা মানুষ ও তাদের পরিবারের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতের জন্য কোথায় এবং কীভাবে সংরক্ষিত থাকবে, সেই প্রশ্নও ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
তুরস্কের কাছে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির সম্ভাব্য সিদ্ধান্তে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর আপত্তি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র কী বিক্রি করবে, সে সিদ্ধান্ত অন্য কোনো দেশের নেতা নির্ধারণ করবেন না। একই সঙ্গে তুরস্ককে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সোমবার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কী বিক্রি করবে, তা তাঁকে কেউ বলে দিতে পারে না। তিনি তুরস্ককে একটি গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, সিরিয়াসহ আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয়ে দেশটি ভালো ভূমিকা পালন করেছে। ট্রাম্প স্বীকার করেন, তুরস্ক ইসরায়েল বা বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ নয়। তবে এ বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে দুর্বল করেনি বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এর আগে তুরস্কে অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলনে ট্রাম্প বলেছিলেন, তুরস্কের কাছে আবারও এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির বিষয়টি তিনি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবেন। সে সময় তিনি মন্তব্য করেন, তুরস্ক অনেক দেশের তুলনায় বেশি বিশ্বস্ত। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানও জানিয়েছেন, তুরস্কের কাছে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান সরবরাহের বিষয়ে ট্রাম্প ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন। এদিকে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, তুরস্কের কাছে যুদ্ধবিমান বিক্রির সম্ভাবনা নিয়ে নেতানিয়াহুর প্রকাশ্য সমালোচনায় ট্রাম্প অসন্তুষ্ট ছিলেন। তাঁর সর্বশেষ মন্তব্য সেই প্রতিবেদনগুলোকেই আরও জোরালো করেছে। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে রাশিয়ার এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার কারণে তুরস্ককে এফ-৩৫ কর্মসূচি থেকে বাদ দেয় যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের দাবি ছিল, ওই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তবে তুরস্ক বরাবরই এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে এসেছে এবং বলেছে, দুটি ব্যবস্থার মধ্যে কোনো সংঘাত নেই। পাশাপাশি আঙ্কারার দাবি, এফ-৩৫ কর্মসূচি থেকে তাদের বাদ দেওয়া নিয়মবহির্ভূত ছিল এবং এ যুদ্ধবিমান তুরস্কের পাশাপাশি ন্যাটোকেও আরও শক্তিশালী করবে।
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির দাম ও সুদের হার বাড়তে থাকায় নতুন বাড়ি কেনার আগে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—মাসিক মর্টগেজের কিস্তি কত হলে একজন ক্রেতার আর্থিকভাবে নিরাপদ থাকা সম্ভব। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু বাড়ির দাম নয়, আয়, ঋণ, সুদের হার এবং অন্যান্য খরচ বিবেচনা করেই বাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। রিয়েল এস্টেট বিশ্লেষকদের মতে, অনেক ক্রেতাই বাড়ির মোট দামের দিকে বেশি মনোযোগ দেন, কিন্তু প্রকৃত চাপ আসে মাসিক মর্টগেজ পেমেন্ট, সম্পত্তি কর, বাড়ির বীমা এবং রক্ষণাবেক্ষণ খরচ থেকে। সাধারণভাবে আর্থিক বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, একজন ব্যক্তির মাসিক আয়ের একটি নির্দিষ্ট অংশের বেশি আবাসন খাতে ব্যয় করা উচিত নয়। আয় ও ঋণের ভারসাম্য ঠিক না থাকলে বাড়ি কেনার পর আর্থিক চাপ তৈরি হতে পারে। মর্টগেজ ক্যালকুলেটরের মাধ্যমে সম্ভাব্য ক্রেতারা বাড়ির দাম, ডাউন পেমেন্ট, সুদের হার এবং ঋণের মেয়াদ অনুযায়ী প্রতি মাসে কত টাকা দিতে হবে তা আগে থেকেই হিসাব করতে পারেন। বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে সুদের হার বাড়লে একই দামের বাড়ির জন্যও মাসিক কিস্তি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে। ফলে অনেক ক্রেতাকে আগের তুলনায় বেশি আয় বা বড় ডাউন পেমেন্টের প্রয়োজন হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাড়ি কেনার আগে শুধু ব্যাংক থেকে কত টাকা ঋণ পাওয়া যাবে তা দেখা উচিত নয়। বরং নিজের দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সক্ষমতা, জরুরি সঞ্চয় এবং ভবিষ্যৎ খরচ বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উচ্চ বাড়ির দাম ও মর্টগেজ সুদের হার ক্রেতাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে প্রথমবারের মতো বাড়ি কিনতে যাওয়া মানুষদের জন্য সঠিক বাজেট পরিকল্পনা এখন আগের চেয়ে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি বাড়ি শুধু বিনিয়োগ নয়, এটি দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক দায়িত্ব। তাই বাড়ি কেনার আগে মাসিক কিস্তি নিজের আয় ও জীবনযাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।