শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে বিএনপিও জামায়াতে ইসলামীর কর্মী-সমর্থকদের সংঘর্ষে শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিম নিহত হয়েছেন। বুধবার২৮ জানুয়ারি রাত পৌনে ১০টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনে নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মঞ্চে চেয়ার বসানোকে কেন্দ্র করেএ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।।এতে উভয় পক্ষের অন্তত৩০ জন আহত হন। পাশাপাশি ভাঙচুর করা হয় বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল।
বুধবার দুপুরে ঝিনাইগাতী উপজেলা মিনি স্টেডিয়াম মাঠে ইশতেহার অনুষ্ঠান শুরুর আগেই উত্তেজনার সূত্রপাত হয়। উপজেলা প্রশাসনের পূর্বঘোষণা অনুযায়ী ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনেএ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।সকাল থেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন।
অনুষ্ঠানের সভাপতি হিসেবে উপজেলা নির্বাহীও কর্মকর্তা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেল মঞ্চে উপস্থিত হয়ে অন্যান্য প্রার্থীদের সঙ্গে বসেন।এসময় স্থানীয় বিএনপি ওজামায়াতের কয়েকজন কর্মী-সমর্থক সমান সারিতে চেয়ার বসাতে না পারাকে কেন্দ্র করে হট্টগোল শুরু করেন। একপর্যায়ে কথাকাটাকাটি থেকে দু’পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এসময় মঞ্চের সামনে রাখা কয়েকশ,চেয়ার ভাঙচুর করা হয়। সংঘর্ষে আহতদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সও জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। উত্তেজিত জনতা অনুষ্ঠানে থাকা কয়েকটি মোটরসাইকেলও ভাঙচুর করে।
খবর পেয়ে পুলিশও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এবিষয়ে জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী নূরুজ্জামান বাদল অভিযোগ করে বলেন, পূর্বপরিকল্পিতভাবে বিএনপিও তাদের সমর্থকরা আমাদের কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা করে। এতে আমাদের দলের কমপক্ষে ১৫জন কর্মী-সমর্থক আহত হয়েছে। আমরা প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।
অন্যদিকে বিএনপির মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল দাবি করেন, “উগ্রবাদী,জঙ্গি জামাতিরা পরিকল্পিতভাবে ষড়যন্ত্র করছে। তারা দেশকে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে চাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় ঝিনাইগাতীর ইশতেহার অনুষ্ঠান শুরুর প্রাক্কালে পূর্বপ্রস্তুতি নিয়ে হামলা চালিয়েছে।এতে আমাদের দলের অনেক নেতাকর্মী আহত হয়েছে। বর্তমানে তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছেন।
ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেল সাংবাদিকদের জানান, “সকল প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিয়ে আমরা ইশতেহার অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলাম। কিন্তু সেখানে বসাকে কেন্দ্র করে একটু ঝামেলা হয়েছে। পরিস্থিতি আমরা নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছি।একইসাথেএ ঘটনাটি আমরা উধ্বর্তনকে জানিয়েছি। এ ঘটনায় পরবর্তী যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন পঅর্থ) মো. মিজানুর রহমান ভূঁঞা বলেন, “পুলিশও সেনাবাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে সব স্বাভাবিক রয়েছে।ঘটনায় এখনো কোন মামলা হয়নি। অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে সিটি করপোরেশনগুলোতে এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে জামায়াতে ইসলামী। দলটি ইতোমধ্যে ১২টি সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে সম্ভাব্য ১২ জন প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এ ক্ষেত্রে তরুণ নেতৃত্বকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ১১–দলীয় ঐক্যের অংশ হিসেবে অংশ নেয় জামায়াত। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন, বিশেষ করে সিটি করপোরেশনে দলটি এককভাবেই অংশ নিতে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন নেতারা। দলীয় সূত্রগুলো জানায়, একসময় কেবল রুকনদের মনোনয়ন দেওয়া হলেও এখন সেই নীতিতে পরিবর্তন এসেছে। সাম্প্রতিক সংসদ নির্বাচনে কর্মী-সমর্থক এমনকি ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদেরও মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও একই নীতি অনুসরণ করা হতে পারে। এবারের নির্বাচনে তরুণ নেতৃত্বকে সামনে আনার পরিকল্পনা করেছে দলটি। ২০২৪ সালের ছাত্র গণ–অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রনেতাদের প্রার্থী হিসেবে বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক নেতাদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে এই পরিকল্পনায়। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ ১০ মে বলেন, “পৌরসভা, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের জন্য বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই প্রার্থী চূড়ান্ত করা হচ্ছে। প্রার্থী বাছাইয়ে অভিজ্ঞতা, গ্রহণযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে জোটের শরিকদের সঙ্গে সমঝোতা হতে পারে, তবে সিটি করপোরেশনে এককভাবে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।” দলটির আরেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানান, সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জোটভুক্ত দলগুলো নিজ নিজ প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত বহাল রয়েছে। ইতোমধ্যে চারটি সিটিতে প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জে দলের মহানগর আমির আবদুল জব্বারকে প্রার্থী করা হচ্ছে। গাজীপুরে প্রার্থী হচ্ছেন তুরস্কপ্রবাসী শিক্ষাবিদ ও ছাত্রশিবিরের সাবেক নেতা হাফিজুর রহমান। চট্টগ্রামে সাংগঠনিক সম্পাদক শামসুজ্জামান হেলালী এবং রংপুরে মহানগর আমির এ টি এম আজম খানকে প্রার্থী করা হচ্ছে। ঢাকার দুই সিটিতেও সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা চলছে। ঢাকা উত্তরে মহানগর উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন এবং দক্ষিণে ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক কায়েমের নাম আলোচনায় রয়েছে। দক্ষিণ সিটিতে আবু সাদিক কায়েমকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা তৈরি হলেও দলীয় নেতারা বলছেন, নির্বাচনের সময় তাঁর ছাত্রত্ব শেষ হয়ে যাবে এবং প্রার্থী হতে সাংগঠনিক কোনো বাধা থাকবে না। জামায়াত সূত্র জানায়, ঢাকা দক্ষিণে জোটের শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টির পক্ষ থেকে আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়াকে প্রার্থী করার প্রস্তাব ছিল। তবে দলটির শীর্ষ পর্যায়ে এ প্রস্তাবে আপত্তি ওঠে। এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “তাঁর কিছু কর্মকাণ্ড নিয়ে জনমনে প্রশ্ন রয়েছে। তাঁকে সমর্থন দিলে রাজনৈতিক দায়ভার আমাদের ওপর আসতে পারে।” জামায়াত নেতাদের মতে, অতীতে চার–দলীয় জোটে থেকেও আলাদাভাবে নির্বাচন করে তুলনামূলক ভালো ফল পাওয়া গিয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা এবং বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় এবার এককভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী তারা। নিজেদের জনসমর্থন বেড়েছে বলেও মনে করছেন নেতারা। এদিকে ১১–দলীয় ঐক্যের আরেক শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টিও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে একক প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইতোমধ্যে ঢাকার দুই সিটিসহ পাঁচ সিটিতে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করেছে দলটি। পাশাপাশি শতাধিক উপজেলা ও পৌরসভায় সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকাও প্রকাশ করা হয়েছে। তবে জোটগতভাবে নির্বাচন হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন দলটির নেতারা। স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে জামায়াত সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাসও জোরদার করেছে। সারা দেশকে ১৪টি অঞ্চলে ভাগ করে অঞ্চল পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রার্থী যাচাইয়ের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। দলটির নেতারা জানিয়েছেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন এবং গণসংযোগ শুরু হবে। ইতোমধ্যে ৫০ শতাংশের বেশি ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা ও পৌরসভায় প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে। জামায়াত দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানিয়েছে। তাদের মতে, বর্তমানে প্রশাসক দিয়ে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করছে না। সংবিধানের ৫৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে দায়িত্ব ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন নেতারা। স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে হবে, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্টতা নেই। নির্বাচন কমিশন ও সরকারের বিভিন্ন পর্যায় থেকে ভিন্ন সময়সীমার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের এক সদস্য বলেছেন, ঈদের পর থেকে সারা বছর নির্বাচন চলতে পারে। অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে চলতি বছরের শেষ দিকে নির্বাচন শুরুর সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলো ইতোমধ্যে মাঠ গোছাতে শুরু করেছে। শেষ পর্যন্ত জোটগত সমঝোতা হবে কি না, তা নির্ভর করবে নির্বাচনের তফসিল ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর।
জ্বালানি খাতে চলমান সীমাহীন চুরি, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। বুধবার (২২ এপ্রিল ২০২৬) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, এই খাতের লুটপাট ও সিস্টেম লস মাত্র ১০ শতাংশ কমিয়ে আনতে পারলে জ্বালানির দাম বাড়ানোর কোনো প্রয়োজন হবে না। তিনি অবিলম্বে জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। বিবৃতিতে সাইফুল হক বলেন, দেশের গ্রামাঞ্চলে বর্তমানে ভয়াবহ লোডশেডিং চলছে, যার ফলে ধানসহ গ্রামীণ উৎপাদনশীল খাতগুলো মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হলেও সাধারণ মানুষ ও কৃষকরা সময়মতো তেল পাচ্ছেন না। বিশেষ করে ডিজেলের তীব্র সংকটের কারণে অধিকাংশ জেলায় সেচযন্ত্র বন্ধ হয়ে গেছে, যা বোরো চাষকে বড় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ডিজেল সংকটে হাওর অঞ্চলসহ বিভিন্ন স্থানে কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিন নামানো যাচ্ছে না, ফলে ধান কাটাও ব্যাহত হচ্ছে। একইসঙ্গে টিএসপি ও ইউরিয়া সারের সংকট এবং চড়া দাম কৃষকদের নাজেহাল করে তুলেছে। এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়বে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন। সাইফুল হক সরকারকে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, কেবল দাম বাড়িয়ে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়, বরং সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি ও আমদানিতে আরও তৎপর হওয়া জরুরি। বিশেষ করে সেচ কাজে ডিজেলের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে তিনি সরকারের কাছে জোর দাবি জানান।
সংরক্ষিত নারী আসনে জামালপুর জেলা থেকে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় নেত্রী এবং সাবেক সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মণি। সোমবার (২০ এপ্রিল ২০২৬) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে নারী প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী। নিলোফার চৌধুরী মণি বর্তমানে বিএনপির স্বনির্ভরবিষয়ক সহসম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী তরুণ প্রজন্ম দলের প্রধান সমন্বয়ক হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। এর আগে তিনি নবম জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তাঁর এই মনোনয়নের খবরে জামালপুর জেলা বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। জেলা বিএনপির সহসভাপতি শামিম আহমেদ এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, নিলোফার চৌধুরী মণির মতো একজন অভিজ্ঞ ও শিক্ষিত নেত্রীকে মনোনয়ন দেওয়া একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ। উল্লেখ্য, নিলোফার চৌধুরী মণি রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার পাশাপাশি একজন প্রথিতযশা টকশো ব্যক্তিত্ব। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ও এলএলবি করার পর ২০১১ সালে নারীর ক্ষমতায়ন বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।