বিশ্ব

বেঙ্গালুরুর পাথরখাদানে শিলাধস, নিহত ৭ শ্রমিক

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২, ২০২৬ ৪:১
বেঙ্গালুরুর পাথরখাদানে শিলাধস, নিহত ৭ শ্রমিক
বেঙ্গালুরুর পাথরখাদানে শিলাধস, নিহত ৭ শ্রমিক

ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের রাজধানী বেঙ্গালুরুর উপকণ্ঠে একটি পাথরখাদানে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় অন্তত সাত শ্রমিক নিহত হয়েছেন। নিহত সবাই বিহার রাজ্যের বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন শ্রমিক আহত হয়েছেন, যাদের স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

 

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ভোরে বেঙ্গালুরু দক্ষিণ তালুকের মাদাপাটনা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো ভোরে শ্রমিকরা পাথর উত্তোলনের কাজে নিয়োজিত ছিলেন। এ সময় হঠাৎ করেই প্রায় ৪০ ফুট ওপর থেকে একটি বিশাল শিলাখণ্ড ভেঙে নিচে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে সেখানে কাজ করা কয়েকজন শ্রমিক পাথরের নিচে চাপা পড়েন। ঘটনাস্থলেই সাতজনের মৃত্যু হয়।

দুর্ঘটনার পরপরই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

 

খবর পেয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস এবং উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে অন্য কেউ আটকা পড়ে আছেন কিনা তা খতিয়ে দেখা হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে পুরো এলাকা ঘিরে ফেলা হয়।

 

ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক শ্রমিক জানান, দুর্ঘটনার সময় সেখানে প্রায় ১৮ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন। আচমকা ওপর থেকে বড় পাথর ভেঙে পড়ায় কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই কয়েকজন চাপা পড়ে যান। অনেকে প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে নিরাপদ স্থানে সরে যান।

 

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানিয়েছে, নিহত শ্রমিকরা সবাই বিহারের বিভিন্ন এলাকা থেকে জীবিকার সন্ধানে কর্ণাটকে এসেছিলেন এবং ওই পাথরখাদানে দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে কাজ করতেন। নিহতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

 

আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। চিকিৎসকেরা তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। আহতের সঠিক সংখ্যা নিশ্চিত করতে কাজ করছে প্রশাসন।

 

দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে। পাথরখাদানে নিরাপত্তাবিধি যথাযথভাবে মানা হয়েছিল কিনা, অথবা কোনো ধরনের অবহেলা ছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে নির্মাণকাজ, খনি ও পাথরখাদানে বিপুলসংখ্যক অভিবাসী শ্রমিক কাজ করেন। নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠলেও এ ধরনের দুর্ঘটনা মাঝেমধ্যেই ঘটছে। বেঙ্গালুরুর এ মর্মান্তিক ঘটনায় নিহত শ্রমিকদের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

বিশ্ব

View more
বেঙ্গালুরুর পাথরখাদানে শিলাধস, নিহত ৭ শ্রমিক
বেঙ্গালুরুর পাথরখাদানে শিলাধস, নিহত ৭ শ্রমিক

ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের রাজধানী বেঙ্গালুরুর উপকণ্ঠে একটি পাথরখাদানে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় অন্তত সাত শ্রমিক নিহত হয়েছেন। নিহত সবাই বিহার রাজ্যের বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন শ্রমিক আহত হয়েছেন, যাদের স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।   বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ভোরে বেঙ্গালুরু দক্ষিণ তালুকের মাদাপাটনা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ।   পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো ভোরে শ্রমিকরা পাথর উত্তোলনের কাজে নিয়োজিত ছিলেন। এ সময় হঠাৎ করেই প্রায় ৪০ ফুট ওপর থেকে একটি বিশাল শিলাখণ্ড ভেঙে নিচে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে সেখানে কাজ করা কয়েকজন শ্রমিক পাথরের নিচে চাপা পড়েন। ঘটনাস্থলেই সাতজনের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পরপরই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।   খবর পেয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস এবং উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে অন্য কেউ আটকা পড়ে আছেন কিনা তা খতিয়ে দেখা হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে পুরো এলাকা ঘিরে ফেলা হয়।   ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক শ্রমিক জানান, দুর্ঘটনার সময় সেখানে প্রায় ১৮ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন। আচমকা ওপর থেকে বড় পাথর ভেঙে পড়ায় কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই কয়েকজন চাপা পড়ে যান। অনেকে প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে নিরাপদ স্থানে সরে যান।   প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানিয়েছে, নিহত শ্রমিকরা সবাই বিহারের বিভিন্ন এলাকা থেকে জীবিকার সন্ধানে কর্ণাটকে এসেছিলেন এবং ওই পাথরখাদানে দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে কাজ করতেন। নিহতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।   আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। চিকিৎসকেরা তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। আহতের সঠিক সংখ্যা নিশ্চিত করতে কাজ করছে প্রশাসন।   দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে। পাথরখাদানে নিরাপত্তাবিধি যথাযথভাবে মানা হয়েছিল কিনা, অথবা কোনো ধরনের অবহেলা ছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।   ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে নির্মাণকাজ, খনি ও পাথরখাদানে বিপুলসংখ্যক অভিবাসী শ্রমিক কাজ করেন। নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠলেও এ ধরনের দুর্ঘটনা মাঝেমধ্যেই ঘটছে। বেঙ্গালুরুর এ মর্মান্তিক ঘটনায় নিহত শ্রমিকদের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২, ২০২৬ ৪:১
অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভে উত্তপ্ত দক্ষিণ আফ্রিকা

অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভে উত্তপ্ত দক্ষিণ আফ্রিকা, ৯০০-এর বেশি আটক

দারায় কৃষিজমিতে ইসরায়েলের গোলাবর্ষণ

দারায় কৃষিজমিতে ইসরায়েলের গোলাবর্ষণ, আকাশে ড্রোন নজরদারি

আইভরি কোস্টে বন্যায় নিহত ৫৯, বাড়তে পারে প্রাণহানি

আইভরি কোস্টে বন্যায় নিহত ৫৯, বাড়তে পারে প্রাণহানি; ঘানা-আক্রাতেও ভয়াবহ পরিস্থিতি

খামেনির জানাজা উপলক্ষে ইরানজুড়ে কঠোর সামরিক সতর্কতা
খামেনির জানাজা উপলক্ষে ইরানজুড়ে কঠোর সামরিক সতর্কতা

সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজা ও অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ইরানজুড়ে জারি করা হয়েছে সর্বোচ্চ সামরিক সতর্কতা। বহুজাতিক অংশগ্রহণে আয়োজিত এই দীর্ঘ কর্মসূচি নির্বিঘ্ন রাখতে দেশটির স্থল, নৌ ও বিমান বাহিনীকে সীমান্তজুড়ে সক্রিয়ভাবে মোতায়েন করা হয়েছে।   ইরানি সামরিক বাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া জানিয়েছেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে শীর্ষ পর্যায়ের সরকারি প্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের আগমন উপলক্ষে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বহুগুণে জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি দেশের আকাশসীমায় সার্বক্ষণিক নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী।   উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলায় আয়াতুল্লাহ খামেনি নিহত হন বলে ইরানি সূত্রে দাবি করা হয়েছে। তাঁর স্মরণে দেশটির ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার আয়োজন করা হচ্ছে।   ছয় দিনব্যাপী এই ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় আয়োজন ইরান ও প্রতিবেশী ইরাকের মোট পাঁচটি প্রধান শহরে অনুষ্ঠিত হবে। আগামী শনিবার তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রার্থনা কমপ্লেক্সে খামেনির মরদেহ জনসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হবে। এরপর সোমবার রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোতে বিশাল শোক মিছিলের আয়োজন করা হয়েছে।   পরবর্তী ধাপে ৭ জুলাই পবিত্র কোয়ম শহরে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর কর্মসূচি ইরাকের নাজাফ ও কারবালায় গড়াবে। সবশেষে ৯ জুলাই মরদেহ পুনরায় ইরানে ফিরিয়ে এনে তাঁর নিজ শহর মাশহাদে চূড়ান্তভাবে দাফন সম্পন্ন করা হবে।   ইরানি প্রশাসনের ধারণা, এই দীর্ঘ আনুষ্ঠানিকতায় দেশ-বিদেশ মিলিয়ে প্রায় দেড় থেকে দুই কোটি মানুষ অংশ নিতে পারেন। এ কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।   সরকারি সূত্র জানায়, রাশিয়া, চীন, পাকিস্তান, ভারত, জর্জিয়া ও কিউবাসহ বিশ্বের ৩০টিরও বেশি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও উচ্চপদস্থ প্রতিনিধি এই অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। এছাড়া প্রায় ৯০টি দেশের শীর্ষ ধর্মীয় নেতাদের উপস্থিতির সম্ভাবনা রয়েছে।   এদিকে, চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক উদ্যোগে সক্রিয় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও এই জানাজা অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন। চলতি মাসের শুরুতে দেশটির সংসদে দেওয়া ভাষণে তিনি বিষয়টি উল্লেখ করেন।   বিশ্লেষকদের মতে, এই আয়োজন শুধু একটি ধর্মীয় বা রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং বর্তমান আঞ্চলিক ভূরাজনীতির প্রেক্ষাপটে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সমাবেশেও রূপ নিতে পারে।   এই প্রতিবেদনটি আল জাজিরার তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২, ২০২৬ ২:৮
আফগানিস্তানে ৫.৫ মাত্রার ভূমিকম্প, পাকিস্তানেও কম্পন অনুভূত

আফগানিস্তানে ৫.৫ মাত্রার ভূমিকম্প, পাকিস্তানেও কম্পন অনুভূত

গান্ধীর মূর্তির মুখ-হাতে কালো কাপড়

গান্ধীর মূর্তির মুখ-হাতে কালো কাপড়, কাটোয়ায় চাঞ্চল্য

রাখাইনে ফের বিমান হামলা, সাগাইংয়ে জান্তাবিরোধী গোষ্ঠীর সংঘর্ষে প্রাণহানি

রাখাইনে ফের বিমান হামলা, সাগাইংয়ে জান্তাবিরোধী গোষ্ঠীর সংঘর্ষে প্রাণহানি; কয়েক লাখ মানুষ দেশ ছাড়ছে

গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
দোহা বৈঠকে ইতিবাচক অগ্রগতি, ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চালু হচ্ছে সরাসরি ‘যোগাযোগ চ্যানেল’

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় নতুন অগ্রগতির ইঙ্গিত মিলেছে। দুই সপ্তাহ আগে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বাস্তবায়ন নিয়ে বুধবার কাতারের রাজধানী দোহায় পরোক্ষ কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত এই বৈঠকের পর সমঝোতা স্মারক-সংক্রান্ত অভিযোগ ও বিভিন্ন বিষয় দ্রুত আদান-প্রদানের জন্য তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে একটি সরাসরি ‘যোগাযোগ চ্যানেল’ চালুর ঘোষণা দিয়েছে ইরান।   আলোচনা শেষে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি বলেন, সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘনের অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্ট বিষয় দ্রুত জানাতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হবে। সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলার পর উত্তেজনা কমানো এবং আলোচনাকে এগিয়ে নেওয়ার অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।   দোহার বৈঠকে মূলত হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং গত মাসে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের পর বিভিন্ন লঙ্ঘনের মধ্যেও যুদ্ধবিরতি কার্যকর রাখার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া ওই সমঝোতা স্মারকে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা, যুদ্ধ স্থায়ীভাবে শেষ করার উদ্যোগ এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর সময়সূচি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।   তবে সমঝোতা স্মারকের ব্যাখ্যা নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দেওয়ায় গত এক সপ্তাহে উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলার ঘটনাও ঘটেছে। একই সময়ে হরমুজ প্রণালিতে আংশিকভাবে জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু হয়েছে।   বুধবার কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন। পরে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, সমঝোতা স্মারক-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনায় ‘ইতিবাচক অগ্রগতি’ হয়েছে।   তিনি বলেন, দুই পক্ষ আলোচনা অব্যাহত রাখতে সম্মত হয়েছে এবং ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া শেষে যত দ্রুত সম্ভব পরবর্তী বৈঠকের সময় নির্ধারণ করা হবে। অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার আনুষ্ঠানিকতা ৪ থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।   একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের অ্যাডাম ক্যানক্রিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দোহার আলোচনা ভালোভাবে এগোচ্ছে এবং শিগগিরই পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হবে।   ভ্যান্স বলেন, প্রযুক্তিগত পর্যায়ের আলোচকেরা ইরানি ও কাতারি প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করছেন এবং বর্তমানে আলোচনার প্রধান বিষয় পারমাণবিক ইস্যু। তবে পরে ভার্জিনিয়ার ভার্জিনিয়া বিচ সফরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আগামী মাসে সমঝোতা স্মারকের সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্র আর সামরিক পদক্ষেপ নেবে না, এমন নিশ্চয়তা দেওয়া সম্ভব নয়।   তিনি বলেন, ‘আমি কোনো প্রতিশ্রুতি দিতে পারি না। কারণ শেষ পর্যন্ত ইরান কী করবে, তার ওপর বিষয়টি নির্ভর করছে। তবে প্রেসিডেন্ট প্রয়োজন ছাড়া আবার সেনাবাহিনী পাঠাবেন না। স্পষ্ট উদ্দেশ্য থাকলেই তা করা হবে।’ এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ইসরায়েলের উদ্দেশে কঠোর বার্তা দিয়ে বলেন, ইসরায়েল নতুন হামলা চালালে ইরান ‘তাৎক্ষণিক ও শক্তিশালী জবাব’ দেবে। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের মিত্রকে নিয়ন্ত্রণে রাখার আহ্বান জানান।   অর্থনৈতিক বিষয়েও আলোচনায় অগ্রগতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। কাজেম গারিবাবাদি জানান, জব্দ অবস্থায় থাকা ইরানের ৬০০ কোটি ডলার সম্পদের একটি অংশ প্রয়োজনীয় পণ্য কেনার জন্য ব্যবহারের বিষয়টি কাতারের কর্মকর্তাদের, বিশেষ করে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠকে পর্যালোচনা করা হয়েছে।   তিনি বলেন, ইরানের চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পণ্য কেনা হবে এবং সেগুলো দেশটিতে সরবরাহ করা হবে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, এই অর্থ কেবল যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য কেনার ক্ষেত্রেই ব্যবহার করা যাবে। কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সামরিক ও বাণিজ্যিক তৎপরতাও অব্যাহত রয়েছে। মেরিনট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ৩৫টি বাণিজ্যিক জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে এবং সেখানে জাহাজ চলাচল মোটামুটি স্বাভাবিক রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে দায়িত্বপ্রাপ্ত মার্কিন সামরিক কমান্ডার বুধবার আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে অন্যান্য সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। সেখানে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা পরিস্থিতিও গুরুত্ব পেয়েছে। একই দিনে আরব সাগরে একটি এমএইচ-৬০ এস সি হক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার পর নিখোঁজ এক বিমানকর্মীকে উদ্ধারে অভিযান শুরু করেছে মার্কিন নৌবাহিনী। দুর্ঘটনার কারণ এখনো জানা যায়নি।   অন্যদিকে বুধবার ভোরে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, তেহরানের অনুমোদিত রুট ব্যবহার না করায় একটি বিদেশি কনটেইনারবাহী জাহাজ আটকে গেছে। ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান ব্রডকাস্টিংয়ের (আইআরআইবি) প্রতিবেদনে বলা হয়, কম গভীরতার জলপথ ব্যবহার করায় জাহাজটি আর যাত্রা চালিয়ে যেতে পারেনি। বিশ্লেষকদের মতে, এই বার্তার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণের অবস্থান তুলে ধরতে চাইছে তেহরান।   দিনের শেষ ভাগে দোহায় কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হাম্মাদ আল সানি যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে বৈঠক করেন। তিনি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বন্ধে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। পরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও আলোচনার অগ্রগতিকে ইতিবাচক বলে উল্লেখ করেন। কাতারের উপহার হিসেবে পাওয়া নতুন এয়ার ফোর্স ওয়ানে প্রথম সফরের প্রস্তুতিকালে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘খুব ভালো বৈঠক হয়েছে।’   তিনি আরও বলেন, ‘ইরানের নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া ভালোভাবেই এগোচ্ছে। আমরা তাদের খুব কঠোরভাবে আঘাত করেছি, কিন্তু এখন আমরা ভালোভাবে এগোচ্ছি।’ আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতির প্রভাব আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতার আশাবাদ তৈরি হওয়া এবং সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ কমে যাওয়ায় বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ২ শতাংশ কমে ফেব্রুয়ারির পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২, ২০২৬ ০:৫৩
রাতভর রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় কিয়েভের বিভিন্ন এলাকায় আগুন ও ক্ষয়ক্ষতি হয় । ছবি: এএফপি

ইউক্রেনে রাশিয়ার রাতভর ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা, নিহত ২

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। ছবি: রয়টার্স

ট্রাম্প তেল আবিবের ‘পোষ্যদের’ সামলাতে না পারলে শিক্ষা দেবে ইরান: আরাগচি

ছবি: রয়টার্স

ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ইতিবাচক ধারায় এগোচ্ছে: ট্রাম্প

0 Comments